আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

দেশের চাষিদের কাছে ড্রাগন ফলের ব্যপক পরিচিতি নয়। তবে বাগেরহাটে ভিয়েতনামের জাতীয় ফল ড্রাগন চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেতে শুরু করেছে। এক মৌসুমে ৫ বার ফলন হওয়ায় ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। টক-মিষ্টি ও মিষ্টি স্বাদের ড্রাগনে চায় করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান।

২০ একর জমির উপর বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন ভিয়েতনামী ফল ড্রাগনের এক বিশাল খামার। করোনার মধ্যে তিনি কয়েকবার ড্রাগন ফল বিক্রির পাশাপাশি দেশের কৃষকদের মাঝে এই ফলের চাষ ছড়িয়ে দিয়েছেন।

নতুন ফল ড্রাগন চাষে সফলতা পাওয়া উৎকুল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান জানান, ২০১৫ সালে ড্রাগন বাগানের সূচনা করেন মাত্র ১৬০টি চারা দিয়ে। ৫ বছরে এখন তিনি নিজের ২০ একর জমির উপরে বাণিজ্যিক ভাবে ড্রাগন খামারে এখন গাছের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। তার ড্রাগন খামার দূর থেকে দেখলে মনে হয় স্বযত্নে ক্যাকটাস লাগিয়েছে কেউ। একটু কাছে যেতেই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে অন্য রকম দেখতে ফুল ও এক লাল ফলে ভরা খামার। প্রতিটি গাছে রয়েছে ফুল, মুকুল এবং পাকা ড্রাগন। এ দেশের আবহাওয়া লাল, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী হলেও তিনি গড়ে তুলেছেন লাল ড্রাগনের খামার।

নতুন ফল ড্রাগন চাষে সফলতা পাওয়া উৎকুল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান জানান, ২০১৫ সালে ড্রাগন বাগানের সূচনা করেন মাত্র ১৬০টি চারা দিয়ে। ৫ বছরে এখন তিনি নিজের ২০ একর জমির উপরে বাণিজ্যিক ভাবে ড্রাগন খামারে এখন গাছের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। তার ড্রাগন খামার দূর থেকে দেখলে মনে হয় স্বযত্নে ক্যাকটাস লাগিয়েছে কেউ। একটু কাছে যেতেই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে অন্য রকম দেখতে ফুল ও এক লাল ফলে ভরা খামার। প্রতিটি গাছে রয়েছে ফুল, মুকুল এবং পাকা ড্রাগন। এ দেশের আবহাওয়া লাল, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী হলেও তিনি গড়ে তুলেছেন লাল ড্রাগনের খামার।

ড্রাগন লতানো কাটাযুক্ত গাছ, যদিও এর কোনো পাতা নেই। গাছ দেখতে অনেকটা সবুজ ক্যাকটাসের মতো। ড্রাগন গাছে শুধু রাতে স্বপরাগায়িত হয়ে ফুল ফোটে। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙের হয়। তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকা-মাকড় পরাগায়ন ত্বরান্বিত করে। কৃত্রিম পরাগায়নও করা যায়। এ গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের কিংবা বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ওপরের দিকে তুলে দেওয়া হয়। ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়।

এপ্রিল থেকে মে মাসে ফুল আসে আর শেষ হয় নভেম্বর মাসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা এবং ফল ধরা অব্যাহত থাকে। এক একটি ফলের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে এক কেজিরও বেশি হয়ে থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০০ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে একটি গাছ হতে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

এবার ফজলুর রহমানের খামারে ড্রাগনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন প্রতি সপ্তাহে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ মন করে। যা বাজারে পাইকারি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪ শত টাকা থেকে শত ৭ টাকা দরে। এখন প্রতিদিন তার খামার থেকে বিক্রি হচ্ছে ড্রাগ গাছের চারা। প্রতিটি ড্রগনের চারা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। কোন বেকার যুবক বা সরকারি অফিসগুলোতে বিনা মূল্যে বিতরণ করছেন ড্রাগনের চারা। তিনি আরও বলেন এবছর করোনার মধ্যে এতো পরিমাণ চাহিদা ক্রেতাদের যা আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। অনেকেই আমার কাছ থেকে চারা কিনছে, ছোট-বড় খামার করছে। ড্রাগন চাষ বিশেষ করে করোনাকালে বিদেশ ফেরতদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ফজলুর রহমানের ড্রাগন চাষের সফলতা দেখে জেলায় অনেকেই এখন ড্রাগন ফলের চাষ করছেন। বিদেশি এ ফসল দেশের মাটিতে চাষ বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। করোনার কারণে স্থানীয় বাজার সৃষ্টি হওয়ায় এ ফল চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।

  • ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

    ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

  • ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

    ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

  • ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

    ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

  • ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

    ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান

  • ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান
  • ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান
  • ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান
  • ড্রাগন চাষে সফল ফজলুর রহমান
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

ফলের রসের চেয়ে ফল বেশি স্বাস্থ্যকর

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাবারের কোনো বিকল্প নেই। ভিটামিনস ও মিনারেলসের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পৃথিবীতে অনেক রকমের ফল পাওয়া যায়। তবে দেশভেদে ভিন্ন রকম ও স্বাদের ফল দেখা যায়। ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস এই ফল থেকে আরও অনেক রকম পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ফলে শর্করা অনেক। তাই ক্যালরিও পাওয়া যায় ফল থেকে। শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও আরও অনেক কাজ করে থাকে ফল। রান্না করে খাওয়ার প্রয়োজন হয় না, তাই ফল থেকে এর পুরো পুষ্টি পাওয়া যায়।

ফল দুভাবে আমরা খেয়ে থাকি—তাজা আস্ত ফল আর ফলের জুস। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে ফলের জুস দুই রকম—বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি ফলের জুস ও ঘরে হাতে বানানো ফলের জুস। ফলের রসের চেয়ে ফল অনেক স্বাস্থ্যকর। সুস্থতা রক্ষায় সবাইকে ফলের জুস না খেয়ে ফল খেতে বলা হয়। এর মূল কারণ হলো, ফলের ফাইবার বা খাদ্য আঁশ। মূলত ফল আস্ত খেলে অনেক ফাইবার বা খাদ্য আঁশ পাওয়া যায়। কিন্তু ফল থেকে জুস করা হলে তার আঁশ অনেক নষ্ট হয়। এ ছাড়া ফলে ন্যাচারাল সুগার থাকে কিন্তু বেশির ভাগ জুস বানাতে পানি দেওয়া হয়, ফলে এর স্বাদ বজায় রাখার জন্য চিনি যুক্ত করায় এর পুষ্টিগুণ অনেক নষ্ট হয়।

ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে ফলের জুসের তুলনায়। অর্থাৎ, ফল খেলে ফলের ভেতরকার শর্করা ধীরে ধীরে ভাঙে, এতে রক্তে দ্রুত সুগার বৃদ্ধি পায় না। কিন্তু ফলের জুসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকায়, জুস খাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত এর সুগার শরীরে যায়। তাই ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ফলের জুস স্বাস্থ্যকর নয়।

কমার্শিয়াল ফলের জুসের সংরক্ষণের জন্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যকর নয়। তবে ঘরে বানানো ফলের জুসে এই প্রিজারভেটিভ থাকে না। তাই ঘরে বানানো ফলের জুস কিছুটা হলেও বাণিজ্যিক ভাবে প্রস্তুত জুসের তুলনায় ভালো। যদিও আজকাল বড় কোম্পানিগুলো মানুষের স্বাস্থ্য বিবেচনায় অরগানিক ফলের জুস তৈরি করছে, কিন্তু তা ব্যয়বহুল।

ফল অবশ্যই সঠিক মাত্রায় খেতে হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগ ভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমিত ফল সঠিক সময়ে খেতে হয়। মনের রাখবেন, অতিরিক্ত ফল খেলে তা থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ক্যালরি ওজন বাড়িয়ে ফেলতে পারে। আবার ফল অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায় অনেকের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাই ফল পরিমিত বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো খেতে হয়। যেমন কিডনি রোগীরা সব ফল খেতে পারে না। ডায়াবেটিসের রোগীদের অতিরিক্ত মিষ্টি ফল মেপে খেতে হবে। যারা মোটা, তাদেরও ফল বুঝে পরিমিত পরিমাণে খেতে হয়। হার্টের রোগীর জন্য টক ও টক-মিষ্টি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাতলা পায়খানা হলে পাকা কলা, আপেল ও নাশপাতি খুব ভালো।

আবার যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, তাদের জন্য পেঁপে, আম, বেল ভালো। রক্তের পটাশিয়াম কমে গেলে ডাবের পানি ও কলা ওষুধের কাজ করে। রক্তস্বল্পতায় বেদানা, কমলা, লাল আঙুর ভালো। ফলও প্রয়োজনে ওষুধের মতো কাজ করে। ফলের চেয়ে ফলের জুসের হেলথ বেনিফিট কম হলেও কিছু শারীরিক কন্ডিশনে ফলের চেয়ে ফলের জুস উপকারী, যেমন সার্জারির পর, গলায় অস্ত্রোপচার হলে বা গলানালিজনিত যেকোনো সমস্যায়। আবার ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি চলাকালীন অনেকের নিউট্রোফিল কাউন্ট কমে গেলে তাদের জন্য কাঁচা ফল বা ফলের জুস মানা করা হয়। তাদের বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত ফলের রস বা অরগানিক ফলের রস দিয়ে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করা হয়। বাচ্চারা নিতান্তই ফল খেতে না চাইলে তাদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ফলের জুস দেওয়া হয়।

সুস্থ থাকার জন্য ফলের পুষ্টি খুব জরুরি। তাই নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখা জরুরি।

১. ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ছোটবেলায় জুস দিলে বাচ্চা বড় হলে আর ফল খেতে চায় না।

২. একান্তই ফলের জুস খেতে হলে বাড়িতে বানানো ফলের জুসে প্রাধান্য দিন। ব্লেন্ডারে না করে হাতে কচলে বা ম্যানুয়ালি জুস বানানো হলে তাও কিছুটা উপকারী।

৩. ঘরে জুস বানালে কম পানি দিন, তাতে ফলের ন্যাচারাল স্বাদ বজায় থাকবে। আর পাল্পসহ জুস করুন অর্থাৎ না ছেঁকে, তাতে কিছুটা ফাইবার পাওয়া যাবে।

৪. ফলের জুস বানাতে চিনি বা মধু না দেওয়াই ভালো। তাতে ফলের ন্যাচারাল মিষ্টি বজায় থাকে। বাড়তি ক্যালরি যুক্ত হবে না।

৫. দেশি ও মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ও নিরাপদ। মৌসুমি ফল খেলে পুষ্টি শরীরে কাজে লাগে।

৬. ডেসার্ট হিসেবে ফলের জুড়ি নেই। ফলের কাস্টার্ড, সালাদ, স্মুদি ও ফল নিজেই মিষ্টান্ন হিসেবে কাজ করে।

৭. ফল বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হয়। ফলের খোসাসহ খেলে অনেক ফাইবার বা আঁশ পাওয়া যাবে; যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

নানা রঙের ফল আমাদের নানা রকম পুষ্টির জোগান দেয়। তাই সুস্থ থাকতে ফলের কোনো জুড়ি নেই। রোজ ফল খান ও সুস্থ থাকুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পেয়ারার পর এবার মাল্টায় মার

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জামদহ গ্রামের কৃষক মেরাজুল ইসলামকে (৫৫) তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাল্টার চারা দেওয়া হয়েছিল। ১৫ কাঠা জমিতে তিনি ৭০টি গাছ লাগিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, একটি গাছও নেই। বাগানের জমিতে কপি চাষ করা হয়েছে। মেরাজুলের ছেলে রাকিবুল ইসলাম বললেন, এক বছর পর গাছগুলোতে ফল এসেছিল। কিন্তু পাতা হলুদ হয়ে গাছ মরে যেতে লাগল। আরও ক্ষতির আশঙ্কায় তাঁর বাবা বাগান ভেঙে দিয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাল্টার বিশেষ যত্ন নিতে হয়। আমগাছের মতো মাটিতে পুঁতে দিলেই ফল ধরে না। যাঁরা সেই যত্ন নিচ্ছেন, তাঁদের বাগান ভালো আছে। রাজশাহীর বাজারে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে এই মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে। খুব বেশি মিষ্টি না হলেও টক নয়। বাজারে এর বেশ চাহিদা আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে মেরাজুলের মতো জেলার ৩০০ চাষিকে প্রদর্শনী খেত করার জন্য ২০১৭ সালে বারি মাল্টা-১ জাতের চারা দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের কারও বাগানের গাছ আছে, কারও বাগানে নেই। তবে আরও ভয়ের ব্যাপার, ইউটিউব দেখে উৎসাহিত হয়ে অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় চাষিরা ঝাঁপিয়ে পড়েন এই মাল্টা চাষে। জেলায় বর্তমানে প্রায় এক হাজার চাষি মাল্টা চাষ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারেননি, কারও সর্বনাশের শুরু, আর কারও সর্বনাশ হয়ে গেছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে একসময় ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচ দিয়ে ধান চাষ করা হতো। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যেতে থাকে। যে পরিমাণ পানি তোলা হয়, বৃষ্টিপাত সেই পরিমাণ না হওয়ার কারণে পানির স্তর আর আগের জায়গায় ওঠে না। এ জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শস্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ নেয়। পানি কম লাগে এমন ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। শুরু হয় নতুন জাতের ফসল চাষের আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় টমেটো, আপেলকুল, বাউকুল, পেয়ারা, পাম, কমলা, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম, রামবুটান, পার্সিমন, অ্যাভোকাডো, কফি, বিচিবিহীন কুল, বলসুন্দরী কুল, বিচিবিহীন লেবু, চায়না লেবু ও মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। তবে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে মাল্টা চাষ। এর আগে শুরু হওয়া কুল চাষ থেমে গেছে। তিন–চার বছরের মাথায় মড়কে গাছ মরে যাওয়ায় পেয়ারাবাগান কমে এসেছে। ভালো বাজার না পেয়ে প্রতিবছর টমেটো রাস্তায় ফেলে দিতে দেখা যায়। ২০১৭ সালে নকল বীজে প্রতারিত হয়ে বীজ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে আজও ক্ষতিপূরণ পাননি টমেটোচাষিরা। বাণিজ্যিকভাবে বাজার না পাওয়ায় স্ট্রবেরি চাষ বন্ধের পথে। অন্য ফলগুলো নিয়ে চাষিরা অস্বস্তির মধ্যে আছেন। আর এবার মাল্টা চাষে মার খেয়েছেন চাষিরা।

রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় মাল্টার বাগান করেছেন অভিজিৎ গুহ (৫২)। তাঁর বাড়ি রাজশাহী নগরের কেদুর মোড় এলাকায়। তিনি একজন স্কুলশিক্ষক। ইউটিউব দেখে তিনি মাল্টা চাষে উৎসাহিত হন। তিনি আরও কয়েকজন অংশীদার নিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বামনইল ও তানোরের চান্দুড়িয়া এলাকায় প্রায় ১৫০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে মাল্টাবাগান করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর বিনিয়োগ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তাঁর গাছের বয়স প্রায় ১ বছর ৮ মাস। এই পর্যায়ে এসে তিনি দেখছেন তাঁর বাগানের ২৫ শতাংশ গাছের পাতা হুলুদ হয়ে যাচ্ছে। হলুদ পাতার গাছটি কিছুদিন পরেই মারা যাচ্ছে। মাল্টা চাষ করে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন নিয়ে তিনি দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মাল্টাবাগান দেখতে ছুটে বেড়ান। তাঁর তথ্যমতে, শুধু চুয়াডাঙ্গার একটি বাগানের গাছ সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। অভিজিৎ বলেন, তিনি ফল গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে গেছেন, যে যা পরামর্শ দিয়েছেন, তাই করে দেখেছেন। কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজশাহীর পবা উপজেলার রনহাট এলাকার চাষি নূরুজ্জামানকে কৃষি বিভাগ থেকে মাল্টার চারা দেওয়া হয়েছিল। দেড় বিঘা জমিতে তিনি ১৯৪টি গাছ রোপণ করেছিলেন। এর মধ্যে ১৪০টি গাছই রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে। পাতা হলুদ হয়ে গাছের ডাল মরে যাচ্ছে। আক্রান্ত গাছের ফলগুলো আকারে ছোট হয়ে আসছে। কয়েক দিন আগে তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ৫০টি গাছ মোটামুটি সুস্থ আছে। নূরুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে যে ৫৫টি চারা দিয়েছিল, সেগুলোই আগে আক্রান্ত হয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার বামনইল এলাকার চাষি মঞ্জুর রহমান ১২ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বাগান ভালো আছে। ৫ শতাংশ গাছ রোগাক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ গাছের পাতাই হলুদ হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোদাগাড়ীর কমলাপুর এলাকায় সারিকুল নামের একজন চাষি তাঁর মাল্টাবাগান পুড়িয়ে দিয়েছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, পাতা হলুদ হওয়ার পরেও চিকিৎসা আছে। তাঁরা চাষিদের সেই পরামর্শ দিচ্ছেন। যাঁরা পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছেন, তাঁদের বাগান ভালো আছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামছুল হক বলেন, মাল্টাগাছের পাতা হলুদ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত। বিষয়টি তিনি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকেও জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, সেখানেও এই রোগ দেখা দিয়েছে। মাল্টা ধান, পাট আমের মতো নয়। বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তা ছাড়া হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সবুজ পাহাড়ে কমলা

বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাহাড়ের কমলা বাজারে আসতে শুরু করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে এই কমলা। খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের কমলা ১ কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকা নিয়ে এবারের ছবির গল্প।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পাহাড়ি লেবু

সিলেট অঞ্চলের পাহাড়-টিলায় বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ করা হয়। স্থানীয়ভাবে লেবুর চাহিদা মিটিয়ে সিলেট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নেওয়া হয় এই লেবু। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লেবুর ফলন সবচেয়ে বেশি হয়। ফলনও বেশ ভালো। পাহাড়-টিলার ভাঁজে ভাঁজে সারা বছরেই লেবুর ফলন হয়। এসব পাহাড়ি লেবু নেওয়া হয় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। বাজারে প্রতি হালি লেবু আকার ভেদে বিক্রি হয় ১০-১৪ টাকায়। সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার ছবির গল্প

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ড্রাগন ফলের চাষ

>সবুজ পাহাড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। গাছে ফল এসেছে। বাগান থেকে ড্রাগন ফল বিক্রি করতে ফল সংগ্রহ করছেন হ্লাশিং মং চৌধুরী। প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। গড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে এ ফল রপ্তানি করা হয়। খাগড়াছড়ি মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকা থেকে তোলা কিছু ছবি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com