আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক

ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক
ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক

পাহাড়ের পর পাহাড়। যেখানে পানির সংকট মোকাবেলায় মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করছে। সেখানে ফলদ বাগান সৃষ্টি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই অসাধ্যকে সাধন করে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪শ’ ফুট উপরে পাহাড়ের চূড়ায় ড্রাগন চাষ করে আশা জাগিয়েছেন এক প্রান্তিক চাষি। শুধু ড্রাগন চাষই নয়, মহালছড়ির ধুমনীঘাট এলাকায় ৪০ একর টিলা ভূমিতে প্রচলিত, অপ্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় সব ধরনের ফলদ গাছ সৃষ্টি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

গল্পের শুরুটা ২০১৬ সালে। দেশি-বিদেশি ৫০০ আমের চারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা রোপণের মধ্যদিয়ে শখের বসে শুরু করেন বাগান। এ শখই মাত্র তিন বছরে তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। খাগড়াছড়িতে প্রচলিত, অপ্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় ফলদ বাগান সৃষ্টি করে জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন সফল ফলদ বাগানীর স্বীকৃতি। জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে পাহাড়কে নতুনভাবে পরিচিত করেছেন হ্লাশিং মং চৌধুরী। চলতি বছরের ১৮ জুন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে তিনি এ স্বীকৃতি লাভ করেন।

ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক
ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক

২০১৭ সালের শুরুর দিকে ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের’ অধীনে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। শুরুতে প্রণোদনা হিসেবে পাওয়া ৫০০ ড্রাগন গাছের চারা দিয়ে শুরু করেন। শুরুতেই পানি সংকটের মুখে পড়লেও সে প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে এগিয়ে গেছেন। বছর ঘুরতেই তার বাগানে ড্রাগন গাছের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই সহস্রাধিক। বর্তমানে তার বাগানে ২ হাজার ২শ’ ড্রাগন গাছে ঝুলছে ফল। সম্প্রতি মহালছড়ি উপজেলা সদর থেকে ৭ কিমি দূরে মহালছড়ি-সিন্ধুকছড়ি সড়কের পাশে ধুমনীঘাট এলাকার ‘তরু-বীথি মিশ্র ফলদ বাগানে’ জাগো নিউজকে ড্রাগন সাফল্যের কথা জানান সফল চাষি হ্লাশিং মং চৌধুরী।

বছর না ঘুরতেই ২০১৮ সালের শেষ দিকে লাখ টাকা উপার্জন করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে আরও লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রির কথা জানিয়ে এ বছর ড্রাগন বিক্রি থেকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় হবে বলে জানান তিনি। হ্লাশিং বলেন, প্রতি কেজি ৪৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। একেকটি ড্রাগন গাছ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফলন দেবে। দাম কিছুটা বেশি হলেও কোন সমস্যা হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই বাগান থেকেই ফল কিনে নিয়ে যায়।

ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক
ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক

নিবিড় যত্ন ও নিয়মিত সূর্যের আলো পাওয়ায় পাহাড়ের চূড়ায় ড্রাগনের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে দাবি এ কৃষকের। প্রতিটি গাছ থেকে ৪-৫ কেজি ড্রাগন ফল পাওয়া যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪শ’ ফুট উঁচুতে হওয়ায় সেচ নিয়ে বিপত্তি ঘটে। বর্ষায় সেচ দেওয়ার দুশ্চিন্তা না থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে বিপাকে পড়তে হয়। এমনটাই জানিয়েছেন হ্লাশিং মং চৌধুরী। প্রথম দিকে শ্রমিক দিয়ে ঝিরি থেকে পানি তুললেও পরবর্তীতে পানির সংকট মোকাবেলায় হর্টিকালচার সেন্টারের সহায়তায় বসানো হয়েছে ৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার পানির ট্যাংক।

নিজের এ সাফল্যের জন্য খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, ‘তার উৎসাহে এবং হর্টিকালচার সেন্টার থেকে পাওয়া প্রণোদনায় আমি এ পাহাড়ের চূড়ায় ড্রাগন চাষ করেছি।’ বর্তমানে তার বাগানে আরও প্রায় ১ হাজারের মতো ড্রাগন গাছ রোপণের প্রস্তুতি চলছে। তার এ ড্রাগন বাগানে প্রতিদিন ৮-১০ জন নিয়মিত শ্রমিক কাজ করে জানিয়ে হ্লাশিং মং চৌধুরী বলেন, ‘এতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে।’

ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক
ড্রাগন চাষে লাখপতি পাহাড়ের কৃষক

পাহাড়ের চূড়ায় ড্রাগন চাষে সফল হ্লাশিং মং চৌধুরী তিন বছরের মধ্যেই বাগানীদের আদর্শ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাকে দেখে অনেকেই মিশ্র ফলদ বাগানে উৎসাহী হচ্ছেন জানিয়ে খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘হ্লাশিং মং চৌধুরী একজন মডেল কৃষক। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আর ভালোবাসায় নিজের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তার এ সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।’

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রশিদ আহমেদ বলেন, ‘পাহাড়ের এতো উঁচুতে ড্রাগন চাষের নজির এটাই প্রথম। সব ধরনের প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে পাহাড়ের চূড়ায় ড্রাগন চাষের বিপ্লব ঘটিয়েছেন হ্লাশিং মং চৌধুরী। পানি সংকট আর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে ড্রাগন চাষে লাভের মুখ দেখবে কৃষক।’

এগ্রোবিজ

আরও কমেছে পেঁয়াজের দাম

লেখক

আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দামে। বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ আরও কম দামে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অক্টোবরের প্রথম থেকেই বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। ৬ অক্টোবর আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে যা তার আগের সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল। আর দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয় যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতেও   ক্রেতাদের এই দামে পেঁয়াজ কিনতে হয়। 

যদিও এই সময়ে পাশের দেশ মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে দেশের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। দাম স্বাভাবিক রাখতে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি বাড়িয়েছে টিসিবি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নিম্ন আয়ের মানুষের কপাল থেকে উঠে যাচ্ছে মাংস!

সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম না বাড়লেও রাজধানীর বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সেই সঙ্গে মুরগির দাম নিয়ে অস্বস্তিতো রয়েই গেছে। ফলে সবজি ও মুরগির দাম নিম্ন আয়ের মানুষদের বেশ ভোগাচ্ছে। এমন কী কেউ কেউ অভিযোগ করছেন ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক দামের কারণে তারা মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

অবশ্য আগেই অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম শুনে হতাশ হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রামপুরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা হাসিবুল বলেন, মাসে এক-দুদিন পরিবার নিয়ে মাংস ভাত খাওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের পক্ষে তো গরু বা খাসির মাংস কেনা সম্ভব না। তাই ব্রয়লার মুরগিই ভরসা। তবে এটাও মনে হচ্ছে কপাল থেকে উঠে যাবে।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার বাজারে এসে দেখি ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা। দামাদামি করে কেউ কেউ ১৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। এমন দাম হওয়ায় গত সপ্তাহে মুরগি না কিনে ফিরে গিয়েছিলাম। আজও মুরগির দাম একই চাচ্ছে। অনেকদিন মাংস খাওয়া হয় না। বাসার সবাই মাংসের জন্য অপেক্ষা করে আছে। তাই বাড়তি দাম দিয়েই একটি মুরগি কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

মালিবাগ বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন রিকশা চালক সালাম। তিনি বলেন, অনেকদিন মাংস খাওয়া হয়নি। তাই বাজারে এসেছিলাম একটা মুরগি কিনতে। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দামও অস্বাভাবিক। তাই মুরগি না কিনে ফিরে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, গরু ও খাসির মাংস কিনে খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি কয়েক বছর হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত কোরবানির ঈদে কিছু মাংস পেয়েছিলাম। এরপর আর গরুর মাংস খাওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে ব্রয়লার মুরগি কিনে খাই। এখন ব্রয়লার মুরগির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। মনে হচ্ছে মাংস আমাদের মতো গরিব মানুষের কপালে নেই।

মুরগির পাশাপাশি সবজির দামও বেশ ভোগাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আগের মতই সব থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন গাজর ও টমেটো। মান ভেদে এক কেজি গাজর ১০০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এই সবজি দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এই দুই সবজির পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য সবজি। শীতের আগাম সবজি শিম গত সপ্তাহের মতো কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ছোট ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে খুব একটা হেরফের হয়নি।

এছাড়া চিচিঙ্গা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল, করলার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে, বরবটির কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

এছাড়া কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাক, কলমিশাকের আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

কারওয়ানবাজারে সবজি কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে কোনো কিছুতে এখন স্বস্তি নেই। সবকিছুর দাম চড়া। তবে মহল্লার বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে সবজি পাওয়া যায়। তাই একটু কষ্ট করে এখানেই সবজি কিনতে আসি।

তিনি বলেন, চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক। মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী কারসাজি করে এমন দাম বাড়াচ্ছে। পেঁয়াজের দামের ওঠা-নামা বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। দেখেন কোনো কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা হয়ে গিয়েছিল। সরকার শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতেই এখন ৬০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। এটা কি ভাবে স্বাভাবিক হতে পারে। আসলে বাজারে কারো কোনো নজরদারি নেই, যার সুযোগ নিচ্ছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা।

এদিকে গত সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা কমে পেঁয়াজের কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় নেমে আসে। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে আরও ৫ টাকা কমে এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, বাজারে পেঁয়াজের অভাব নেই। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ কম আসায় হুট করে দাম বেড়ে যায়। তবে সরকার আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করায় দাম কিছুটা কমেছে। নতুন আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম আরও একটু কমতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের দাম কমলেও অন্য পণ্যে আগুন

টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিকোচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে মাছ-মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কমেনি। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছাড়িয়ে গিয়েছিল ৮০ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা প্রতিকেজি, লেয়ার মুরগি ২৩০ টাকা। এই দাম শীঘ্রই কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। গরু ও খাসির মাংসের কেজিপ্রতি দাম আগের সপ্তাহের মতোই যথাক্রমে ৬৫০ এবং এক হাজার টাকা।

পেঁয়াজের দাম কমলেও অন্য পণ্যে আগুন

সবজির মধ্যে সবচেয়ে দামি এখন শীতের আগাম সবজি। শিমের দাম কেজিতে এখনো ১০০ টাকার আশেপাশে, টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। ফুলকপি প্রতি পিস বিকোচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, করলা ও পটোল ৬০ টাকায়।

গত সপ্তাহের দামই এখনই ধরে আছে মাছবাজার। এক কেজি থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের রুইমাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে। দেড় কেজির আশপাশের বোয়াল মাছের কেজি চাওয়া হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কাতল মাছ ৪০০ টাকা। এমনকি ছোট আকারের পাঙ্গাস মাছের দামও দুইশ ছুঁই ছুঁই।

বেসরকারি চাকরিজীবী মুশফিকুর রহমান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, শীতের সবজির দাম কেন বেশি বুঝলাম না। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই সবজি তোলা শুরু হয়ে গেছে, বাজারেও আছে। তবুও দাম কমছে না।

মুরগির ব্যবসায়ী হাসান আলি বলেন, মুরগির সরবরাহ এখনো কম থাকায় দাম বেশি। সাপ্লাই কবে বাড়বে তা বলা যাচ্ছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

সরবরাহ সংকটে বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের দাম মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমে আসলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে।

এ বছর ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বলানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার থাকলেও আগামী বছর গড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গতকাল প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ত্রৈ-মাসিক ভিত্তিতে সংস্থাটি এ পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবারের প্রতিবেদনে অবশ্য আশা করা হয়েছে আগামী বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস উল্লেখ করেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সেক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে।

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০১১ সালের তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা এখন করোনার আগের পর্যায়ে ফিরেছে, তাই জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। আগামী বছর অর্থাত্ ২০২২ সালে চাহিদা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরো বেড়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর (ব্রেন্ট, ডব্লিউটিআই এবং দুবাই) এ বছর গড়ে ৭০ ডলার (প্রায় ৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী বছর এই দাম গড়ে ৭৪ ডলার (প্রায় ৬ হাজার ৩০০ টাকা) থাকতে পারে। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তর তর করে নামতে থাকে। চাহিদা না থাকায় এক পর্যায়ে ঋণাত্মক পর্যন্ত হয়ে যায়। গত বছর গড়ে যে দামে বিক্রি হয় এবছর সেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে এসেছে। তবে দ্রুত দর বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। করোনার প্রকোপ কমতে থকায় এখন বিশ্ব অর্থনীতি ঘুড়ে দাঁড়াচ্ছে। সরবরাহ সংকট কেটে গেলে আগামী বছর বিশ্ববাজারে ধাতব পণ্যের দাম ৫ শতাংশ কমে আসতে পারে। তবে এ বছর ধাতব পণ্যের মূল্য গড়ে ৪৮ পর্যন্ত বেড়েছে। অবশ্য আগের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছিল গড়ে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে ধাতব পণ্যের দাম। গত বছর ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল এ বছর চাহিদা বাড়বে। কিন্তু ধারণার চেয়েও বেশি হারে চাহিদা বেড়েছে।

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

বিশ্বব্যাংকের জেষ্ঠ্য অর্থনীতিবিদ জন বাফেস উল্লেখ করেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তাছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে সার উত্পাদনের খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও বাড়ে। উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে এলুমিনিয়াম এবং জিংকের উত্পাদন কমে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আবারও বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

লিটারপ্রতি ৭ টাকা বেড়ে এখন থেকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৬০ টাকা দরে

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও অপরিশোধিত পাম তেলের দাম বাড়ায় দেশে আবারও বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। লিটারপ্রতি ৭ টাকা বেড়ে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৬০ টাকা দরে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তেলের এই দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ৫ লিটারের এক বোতল তেল পাওয়া যাবে ৭৬০ টাকায়। পূর্বে যা ছিল ৭২৮ টাকা। এছাড়া, লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেল ১৩৬ টাকা ও বোতলজাত পাম সুপার তেল ১১৮ টাকায় কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

অবিলম্বে নতুন মূল্য কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। তবে পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে পুরনো মজুতের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।

২০২০ সালের পর থেকে ভোজ্য তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির জন্য দেশে কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। এর আগে গত ২৭ মে  লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ৯ টাকা বাড়ানো হয়। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সয়াবিন তেলে লিটারপ্রতি ৩ টাকা ছাড় দেওয়ায় সেবার সব মিলিয়ে দাম বাড়ে ১২ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com