আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ডুমুরে লাভের আশায় বাণিজ্যিক চাষ

‘অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে/ চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে ব’সে আছে ভোরের দয়েলপাখি’- জীবনানন্দ দাশের অনেক কবিতায় নানাভাবে উঠে এসেছে ডুমুরের কথা। একসময় গ্রামবাংলার রাস্তার ধারে, ঝোপঝাড়ে প্রচুর দেখা মিলত ডুমুরগাছের। দুই ধরনের ডুমুর ছিল। যেটার পাতা খসখসে, সেটা জংলি; খাওয়ার অযোগ্য। যে গাছের পাতা মসৃণ, সেই ডুমুরই কেবল খাওয়া যেত, খেত শিশু-কিশোররা, পেকে লাল হলে। বড়দের কাছে অবহেলিতই ছিল। সেই ডুমুরেই এখন মানুষের আগ্রহ বেড়েছে, এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণের কারণে। বিশেষত আরব দেশের মরুভূমির ডুমুরে, যেই ডুমুরের কথা পবিত্র কোরআনে আছে, সুরা ত্বীন-এ। ত্বীন মানে ডুমুর।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আরব দেশের এই ডুমুরের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। মতিউল মান্নান নামের এক উদ্যোক্তা আরবের ডুমুর ফলের বাগান করে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন। কিছুদিনের মধ্যে তার বাগান থেকে ডুমুর বাজারজাত শুরু হবে।

উপজেলার মালারপাড়া গ্রামের মতিউল মান্নান পেশায় ব্যবসায়ী। করোনাকালে অবসরে গাজীপুরের একটি বাগান থেকে প্রতিটি চারাগাছ ৫২০ টাকা মূল্যে কিনে আনেন। এরপর তার চার বিঘা জমিতে ৯০০টি চারাগাছ লাগান। গাজীপুরের পর দিনাজপুর জেলায় এটিই হচ্ছে প্রথম বাগান। তার বাগানের নাম ‘ফাতেমা এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নিউট্রিশন’। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বাগানে শোভা পাচ্ছে আরব দেশের জনপ্রিয় এই ত্বীন ফল বা ডুমুর। চারা রোপণের সময় থেকে তিন মাসেই ফল ধরা শুরু করেছে, যার একেকটির ওজন ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম। ফল ধরে ৭০ থেকে ৮০টির মতো। বর্তমানে তার বাগান দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন।

উপজেলার দাউদপুর গ্রামের সাগর হোসেন বলেন, ত্বীন ফলের বাগান দেখে খুব ভালো লেগেছে। শুনেছি, এই ফল খুব সুস্বাদু ও ঔষধি গুণসম্পন্ন। আগে কখনও এই ফল দেখিনি। বাগান মালিকের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। আমার একটি বাগান করার ইচ্ছা আছে।

বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। মাঝেমধ্যে পানি ও কম পরিমাণে সার দিলেই হয়। চারা লাগানোর চার মাস হলেও কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পেলে গাছগুলো অল্প সময়ে বেড়ে ওঠে।

ডুমুরে আছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, কপার, আয়রন ইত্যাদি। এ ফল ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগ, ক্যান্সার, পাইলস, দুর্বলতাসহ নানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। পাকা ফল সুমিষ্ট। কাঁচা ডুমুর তরকারি রান্না করে খাওয়া যায়। জ্যাম, জেলি, পুডিং ও আচারও হয় ডুমুর দিয়ে।

সৌদি আরবে ত্বীন ফল নামে পরিচিত হলেও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, তুরস্ক, আফগানিস্তান, ইরান, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যে ডুমুরকে ‘আঞ্জির’ বলে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ফাইকাস ক্যারাইকা’। একেকটি গাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত একটানা ফল দেয়। বাঁচে ১০০ বছর পর্যন্ত।

ফাতেমা এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মতিউল মান্নান বলেন, করোনাকালে কী করব ভাবছিলাম। পরে ছোট বোনের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে ত্বীন ফলের বাগান করার উদ্যোগ নিই। গত অক্টোবরে চার বিঘা জমিতে ৯০০টি চারাগাছ লাগিয়েছি। তিন মাসের মাথায় গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এখন ফল বড় হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে বাজারে বিক্রি শুরু করতে পারব। আশা করছি, প্রতি কেজি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হবে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে কোথাও ত্বীন ফলের বাগান নেই। আমিই প্রথম বাগান করেছি। এই বাগানের কথা শুনে প্রতিদিন অনেক মানুষ দেখতে আসছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আরবের ডুমুর বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন। আমাদের আবহাওয়ায় এ ফল চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাগান মালিককে আমরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। বাণিজ্যিকভাবে এই ফলের চাষ দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে একসময় বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

দক্ষিণাঞ্চলে সুগন্ধি তুলসীমালা ধান চাষ

ধানের নাম তুলসীমালা। স্থানীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় অত্যন্ত উচ্চমানের সুগন্ধি ধানের জাত এটি। ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলা ও আশপাশের কিছু এলাকায় চাষিরা শখের বসে জামাই বা আত্মীয়স্বজন আপ্যায়নে এই সুগন্ধি ধান চাষ করে থাকেন। তবে, পদ্মার এপার ২০টি জেলার মধ্যে তুলসীমালা ধানের এই জাতটি গত আমন মৌসুমে প্রথম চাষ হয় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দাউনিয়াফাদ গ্রামে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাব মতে, দেশে মাত্র ২০-২৫ হাজার হেক্টর জমিতে এই ধান চাষ হয়। এর শতকরা ৫০ ভাগই আবাদ হয় শেরপুর জেলায়। উচ্চফলনশীল না হলেও এই ধানের চালের কদর এখনো বেশি। সুগন্ধি কালোজিরা ধানের চালের চেয়েও আকারে ছোট সুগন্ধি তুলসীমালা ধানের চালের যে কোনো পদের খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু হয়। ধান, ধানের খড় থেকে শুরু করে মাঠময় সুগন্ধ ছড়ায়।

পদ্মার এপার ২০টি জেলায় তুলসীমালা ধানের এই জাতটি গত আমন মৌসুমে প্রথম চাষ হয় বটিয়াঘাটার দাউনিয়াফাদ গ্রামে। পাশের গুপ্তমারী গ্রামের রণজিৎ মণ্ডল পাঁচ শতক জমিতে এই ধান চাষ করেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক এস এম আতিয়ার রহমান শখের বশে শেরপুর থেকে এই ধানের মাত্র দুই কেজি বীজ সংগ্রহ করে ঐ কৃষককে দেন এবং চাষ তত্ত্বাবধান করেন।

তিনি বলেন, এই ধানটি লবণাক্ত উপকূলীয় এলাকায় হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ ছিল। কিন্তু বাস্তবে ভালো হয়েছে। তুলসীমালা এতটাই ছোট আকারের এবং রং পাকলে ধানের ছড়া দেখে সত্যিই মনে হয় তুলসীর কাঠ দিয়ে গাঁথা মালার মতো।

তিনি জানান, এই ধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ধানের ফুল আসার পর থেকে পাকা পর্যন্ত পাঁচ বার রং পালটায়। প্রথমে হালকা সবুজাভ, এরপর কিছুটা ছাইরঙা, এরপর হালকা জাম রং, এরপর গাড় জাম রং এবং শেষে কালো ও ছাই রং মিলিয়ে নতুন একটি রং ধারণ করে। ধানের গাছের উচ্চতা ৫০-৫২ ইঞ্চির মতো। ধানের আয়ুষ্কাল ১১০-১২০ দিন। একটি শিষে ৯০-১২০টি ধান পাওয়া যায়। পাঁচ শতক জমিতে দেড় মণ ধান পাওয়া গেছে। সে হিসেবে একর প্রতি ৩০ মণ ধানের ফলন হয়েছে। সবটুকু ধানই বীজ হিসেবে আগামী আমন মৌসুমে লাগানোর জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তুলশীমালা ধান দেখে অনেকেই চাষ করতে বীজের চাহিদা জানিয়েছেন। অত্যন্ত প্রাচীন জাতের স্থানীয় জলবায়ু সহিষ্ণু এই ধানের চাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এছাড়াও মূল্যবান ভিটামিন ও মিনারেলসহ অন্যান্য গুণ রয়েছে। বাজারে তুলসীমালা ধানের চাল খুব কম পাওয়া যায়। তবে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগে পাওয়া যায় বেশি। প্রতি কেজি চাল ১২০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তুলসীমালা ধানের চালই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মনিরুল ইসলাম তার ল্যাবে এই ধান নিয়ে অধিকতর গবেষণা করে চালের কিছু বৈশিষ্ট্য অন্য কোনো জাতে প্রবেশ করানো যায় কি না, সে ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

খুবির গবেষণায় সাফল্য, দেশি পেঁয়াজ উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব

খুলনা: আমাদের দেশে যে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তার আকার ও ওজন কম। সাধারণভাবে গড় ওজন ২০ থেকে ৫০ গ্রাম।

ফলে সামগ্রিক উৎপাদন কম হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের গবেষকরা মাটি, জৈব সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফরিদপুরী দেশি জাতের পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন।  

সম্প্রতি এ গবেষণার কাজ শেষ হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল গবেষণায় মাঠের পেঁয়াজ উত্তোলন করে দেখা যায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এ গবেষণা প্লটের গড় পেঁয়াজের আকার বড় এবং ওজন ৬০ থেকে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত। এ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষ করলে বর্তমান পেঁয়াজের ফলন শতকরা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে সয়ম্ভর, এমনকি উদ্বৃত্ত হতে পারে।

পেঁয়াজ চাষের গবেষক ছিলেন ওই ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নিশান।  

গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের প্রফেসর মো. সানাউল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বাৎসরিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। পচনসহ ঘাটতি ধরা হয় সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন। মাটি, জৈব সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ১০ লাখ টন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।  

এছাড়া একই জমিতে আগামী ও নাবি দু’জাতের পেঁয়াজ চাষ করলে ৪ থেকে ৫ লাখ টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত উৎপাদন সম্ভব। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং চাষ পদ্ধতির উন্নতি করতে পারলে দেশ অচিরেই চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পেঁয়াজ উৎপাদনে সক্ষম হতে পারে। তিনি আগামী বছর এ মৌসুমে উপকূলীয় লবণাক্ত বটিয়াঘাটা-দাকোপ এলাকাতে গবেষণা চালাবেন।  

সানাউল ইসলাম বলেন, গবেষণা প্লটের মধ্যে মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নেওয়ায় উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ১৫ টন। উৎপাদিত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পেঁয়াজের প্রতিটির গড় ওজন ছিল ৭০ থেকে ৯০ গ্রাম।

তিনি বলেন, ২৮ দিন বয়সের চারা ফরিদপুর থেকে এনে ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে লাগানো হয়। শুষ্ক মৌসুমে (এপ্রিল-মে) গবেষণা প্লটের লবণাক্ততার মাত্রা ছিল ৪ ডেসিসিমেন্স/মিটার। প্লটের পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয় গত ৫ এপ্রিল। ১৮টি পর্যবেক্ষণ প্লটে এ গবেষণা চালানো হয়। সঠিক চারা ও সারি ঘনত্ব, যথযাথ মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে আশাতীত ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

চিটা ধরেছে কৃষকের স্বপ্নের ধানে, ঋণ নিয়ে দিশেহারা

রাজশাহী: অতিরিক্ত গরমে মানুষ যেমন হিটস্ট্রোক করে, তীব্র তাপদাহে ধানগাছও এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেটাকে ‘হিটশক’ বলা হয়।

তীব্র তাপমাত্রা বা লু হাওয়ায় ধানগাছ শুকিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকেই ‘হিটশক’ বলা হয়ে থাকে।

রাজশাহীতে চলমান দাবদাহে ‘হিটশকে’ পুড়ে গেছে ২৮ হেক্টর জমির ১৬৮ মেট্রিক টন ধান। ধানের শীষ নষ্ট হয়ে চিটায় পরিণত হয়েছে মাঠের পর মাঠের ফসল। কষ্টার্জিত সোনার ফসল হারিয়ে তাই এখন ক্ষতিগ্রস্ত ও দিশেহারা কৃষক।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, দিনদিন বাড়ছে ‘হিটশকে’ ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ।

গত ৪ এপ্রিল রাতের কালবৈশাখীর পর বয়ে যাওয়া ঝড়ো গরম বাতাসে কৃষকদের ক্ষেতের ধানের এই ক্ষতি হয়। ধানের এমন ক্ষতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।
দূর থেকে ক্ষেতের ধানগাছগুলোকে স্বাভাবিক মনে হলেও ছড়ায় থাকা ধানগুলো চিটে ধরে গেছে। আবার বাতাসের তোড়ে কিছু ক্ষেতের ধান মাটির সাথে মিশে গেছে। ফলে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বোরো আবাদ করা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রাজশাহীতে চলতি বোরো মৌসুমে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধানচাষ হয়েছে। কিন্তু তাপদাহ ও লু হাওয়ায় ২৮ হেক্টর জমির ধানগাছ পুড়েছে। হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিক টন ধান হিসেবে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬৮ মেট্রিক টন।  

 রাজশাহীর পবা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এসব এলাকায় বিরাজ করছে শুষ্ক বাতাস।
প্রতিদিন তাপমাত্রা থাকছে ৩৫-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। তাই মাঝেমধ্যেই দেখা দিচ্ছে লু হাওয়া।  

জানতে চাইলে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মো. ফজলুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, লু হাওয়ার কারণেই এটা হয়েছে। চলতি মৌসুমে দীর্ঘসময় ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় আবহাওয়া রুক্ষ। ৪ এপ্রিল সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ছাড়া ঝড় শুরু হয়। সেদিন বাতাস ছিল অতিরিক্ত গরম।
বাতাসের আর্দ্রতা ছিল না বললেই চলে। প্রায় শূণ্যের কাছাকাছি আদ্রতা থাকার ফলে অতিরিক্ত গরমে সেদিন যেসব ধানের শীষ বের হয়েছিল সেগুলো হিটশক হয়ে ঝরে গেছে। তবে বৃষ্টি হলে এমনটা হতো না।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কেজেএম আবদুল আউয়াল বলেন, ৪ এপ্রিল তীব্র বেগে ঝড় বাতাস প্রবাহিত হয়। তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ও বাতাসে আর্দ্রতা না থাকায় বোরো ধানের ক্ষেতের শীষ মরে গেছে।  

তিনি আরও বলেন, লু হাওয়ায় এখন পর্যন্ত রাজশাহীর ২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান হিটশকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। এটি মোট আবাদ করা জমির ধানের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। এটি খুব কম।

তবে হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিকটন ধান হিসেবে ১৬৮ মেট্রিক টন ধানের ক্ষতি হয়েছে। কিছু দিন পর ক্ষতি ভালোভাবে বোঝা যাবে। তখন ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

পতিত জমিতে সজিনা চাষ করে সফল কৃষকরা

মাগুরায় পতিত ও অনাবাদি জমিতে সজিনা চাষ করে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের বাড়ির পাশের অনাবাদি ও পতিত জমিতে সজিনা চাষ করে পুষ্টির পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন জেলার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সজিনার বাম্পার ফলনের আশ করছেন এলাকার কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

এখানকার সজিনা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। এ ছাড়া সজিনা বিক্রি করে অনেকেই অর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছেন। সজিনা চাষ ইতোমধ্যেই অর্থকরী ফসল হিসেবে সকলের কাছে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার সজিনা বাম্পার ফলন হবে বলে আশ করছেন এলাকার সজিনা চাষিরা।

সদর উপজেলার ইছাখাদা, হাজীপুর, হাজরাপুর ও আঠারোখাদাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বাড়ির পাশের অনাবাদি ও পতিত জমিতে সজিনার চাষ হচ্ছে। স্কুল, কলেজের মাঠে এবং রাস্তার দুপাশে অকৃষি বা পতিত জমিতে পুষ্ঠিগুণে ভরপুর ও আশঁজাতীয় সবজি সজিনার সারি সারি গাছগুলো এখন সজিনার ভারে হেলে পড়ছে এলাকায়।

সদর উপজেলার নড়িহাটি এলাকার সজিনা চাষি মফিজ শেখ বলেন, বাড়ির সমনে রাস্তার দুই ধারে ১০টি সজিনার গাছ লাগানো হয়েছিল। গত বছর ওইসব সজিনার গাছ থেকে প্রায় ৬ মণ সজিনা বিক্রি করা হয়েছে। আশা করছি এবারও সজিনার বাম্পার ফলন পাব। বাজারে প্রথম দিকে ১০০ টাকা কেজি সজিনা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, জেলায় এবার ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সজিনা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা কয়েছে। এতে সজিনার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। সজিনা একটি অর্থকরী আশঁজাতীয় সবজি। এটি বাড়ির পাশের অনাবাদি ও পতিত জমিতেও চাষ করা যায়। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায় বলেও জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভাঙা বেড়ি বাঁধে কোটি টাকার ফসল নষ্ট

লেখক

সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ভুলুয়া নদীর পার্শ্ববর্তী বেড়ি বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে দু’টি গ্রামের ফসলি জমি। জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়েছে প্রায় এক শত একর জমির রবিশস্য তরমুজ, ঢেঁড়স, সয়াবিন, মরিচ, আলু, ডাল। এতে ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্থদের দাবী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে এ বাঁধটি সঠিক সময় মেরামত না করায় গত ৩-৪বছর ধরে তারা বার বার ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবী বাঁধটি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সরজমিনে মধ্যম ও দক্ষিণ চর ব্যাগগা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও ল²ীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মধ্যবর্তী সীমানায় ভুলুয়া নদী। পশ্চিমে রামগতির চর রমিজ ও পূর্বে সুবর্ণচরের চর ব্যাগগা গ্রাম। পশ্চিমে চর জেগে উঠায় সীমাহীন ভাঙনের কবলে পড়ে পূর্বাঞ্চল। উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজনের সুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯৮৬ সালে চর ব্যাগগা গ্রামে ভুলুয়া নদীর পাড়ে বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সময় বন্যা ও প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাসের সময় ক্ষতিগ্রস্থ হয় বাঁধটি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের দিকে তা মেরামত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষের দিকে ও ২০১৮ সালের প্রচন্ডভাবে ভাঙতে শুরু করে বেড়ি বাঁধটি। গত তিন বছর বাঁধের ভাঙাংশ দিয়ে আশপাশের বাড়ী ঘর, মাছের পুকুর ও ফসলি জমিতে ডুকে পড়ে নদীর লবণাক্ত পানি। আর চলতি বছরে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় প্রচন্ড জোয়ারে বেড়ি বাঁধের অন্তত ৩শ মিটার ভেঙে গিয়ে ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকতে শুরু করে। আর এ জোয়ারের পানিতে গত ২৬মার্চ থেকে প্রতি বারো ঘন্টায় এক বার জমিগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এতে দুই তিন ঘন্টা স্থায়ীভাবে কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকার পর ক্ষেতে থাকা ফসল নিয়ে নদীতে নেমে যাচ্ছে জোয়ারের পানি। বেড়ি বাঁধ মেরামত না করায় শুকনো মৌসুমে যে পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছে তা বর্ষায় আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশংকা করছে স্থানীয়রা।

৫নং ওয়ার্ডের সবজি চাষী পারুল আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, গত দুই বছর বড় লোকের জমিতে বর্গাচাষ করে ক্ষতির মুখে পড়ে স্বামী আবদুর রব কুমিল্লার লালমাই এলাকার একটি ইটভাটায় কাজে চলে গেছেন। চলতি বছরে আবহাওয়া ভালো থাকায় তিন একর জমি বর্গা নেন তিনি। এরপর বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় কয়েকজন থেকে সুদে ২লাখ টাকা নিয়ে তিন একর জমিতে সয়াবিন ও ঢেঁড়স চাষ করেন। গাছের বৃদ্ধি ও ফুল দেখে তার পরিচর্যায় খরচ করেন আরও কয়েক হাজার টাকা। ফলন বড় হওয়ার আগ মুহুর্ত্বে পার্শ্ববর্তী ভুলুয়া নদী থেকে বেড়ি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ডুকে পড়ে ফসলের ক্ষেতে। গত কয়েকদিনে একাধিক বার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় তার জমিগুলো। বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেতের গাছ গুলো লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। নিজের ৫ মেয়ে ও ২ ছেলেকে নিয়ে একদিকে যেমন মানবেতর জীবন কাটছে অন্যদিকে এনজিওর ঋণ ও সুদের টাকা কিভাবে শোধ করবেন তার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না এ পরিশ্রমী নারী। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি সহযোগিতার আবেদন করেছেন পারুল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন উর রশিদ জানান, খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি ক্ষেতগুলো তিনি পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থার আবেদন করা হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন কৃষকদের ফসলের ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, ব্যাগগা গ্রামের ভুলু নদীর পাড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ি বাঁধটির মেরামতের জন্য সিডিএসপি আওতায় ৫কোটি ৬০লাখ টাকা ব্যায়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ ৩শ মিটার মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com