আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

মোবাইল আসক্তি অনেকের এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কেউ কেউ টয়লেটেও মোবাইল চালান। তবে এতে করে মারাত্মক অসুখ হতে পারেন।

  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

    টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

    টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

    টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

    টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

    টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

    টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?

  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?
  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?
  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?
  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?
  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?
  • টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে কী হয়?
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

ধর্ষণ বাংলাদেশ ছাড়া আরও যেসব দেশে এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড

গত ১২ই অক্টোবর বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।

এর পরদিন এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশে সই করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, যার ফলে সংশোধিত আইনটি কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণ, ধর্ষণ জনিত কারণে মৃত্যুর শাস্তি প্রসঙ্গে ৯(১) ধারায় এতদিন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তবে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দল বেধে ধর্ষণের ঘটনায় নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা আহত হলে, সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সেই সঙ্গে উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম এক লক্ষ টাকা করে অর্থ দণ্ডের বিধানও রয়েছে।

সেই আইনে পরিবর্তন এনে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধানও থাকছে।

এর ফলে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দেয়া সপ্তম দেশ হলো বাংলাদেশ।

বিবিসি বাংলায় আর পড়তে পারেন:

মৃত্যুদণ্ডের আইন কি বাংলাদেশে ধর্ষণ বন্ধের সমাধান?

ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ নিয়ে আইন যা রয়েছে

এডিটার’স মেইলবক্স: ধর্ষণ নিয়ে ক্ষোভ, ক্রসফায়ার নিয়ে বিতর্ক আর রোহিঙ্গা নিয়ে প্রশ্ন

ধর্ষণ প্রতিরোধে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে এত আলোচনা কেন?

বাংলাদেশ ছাড়া আর যেসব দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

ভারত

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে পাস করা এক নির্বাহী আদেশে ভারতে ১২ বছরের কম বয়সী মেয়ে শিশু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়। ওই সময়ে ভারতজুড়ে চলতে থাকা ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ভারতের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের কারণে যদি ভুক্তভোগী মারা যান অথবা এমনভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন যে তিনি কোনো ধরণের নাড়াচাড়া করতে অক্ষম, সেই ক্ষেত্রেও অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমাণিত হলে ন্যুনতম দশ বছর শাস্তির বিধান রয়েছে ভারতের আইনে।

পাকিস্তান

পাকিস্তানের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ধর্ষণ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। ভারতের মত পাকিস্তানের আইনেও ধর্ষণ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন ১০ বছর কারাদণ্ডের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া দুই বা অধিক ব্যক্তি একই উদ্দেশ্য নিয়ে ধর্ষণের মত অপরাধ সংঘটন করলে বা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করলে, প্রত্যেকের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে পাকিস্তানের পেনাল কোডে।

গত মাসে একটি হাইওয়েতে হওয়া এক ধর্ষণের ঘটনায় পাকিস্তানে তোলপাড় তৈরি হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ধর্ষকদের জনসম্মুখে হত্যা কিংবা রাসায়নিক প্রয়োগ করে খোজা করার পক্ষে তার মতামত প্রকাশ করেছিলেন।

ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখার পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হলেও তিন বছর পর্য্ত কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে পাকিস্তানে।

সৌদি আরব

সৌদি আরবের শরিয়া আইনে ধর্ষণ একটি ফৌজদারী অপরাধ এবং এর শাস্তি হিসেবে দোররা মারা থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সৌদি আরবে ১৫০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার মধ্যে আটটি ছিল ধর্ষণ অপরাধের জন্য।

ইরান

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ইরানে মোট ২৫০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে ধর্ষণের দায়ে।

অ্যামনেস্টি বলছে, চীনের পর পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে ইরানে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, কোন নারীর সঙ্গে জবরদস্তিমূলক যৌনমিলনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

তবে দেশটির আইনে অপরাধ সংঘটনেরর সময় ভুক্তভোগীর বয়স ১৪ বছরের নিচে হলেই কেবল সেটিকে জোরপূর্বক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মৃত্যদণ্ড কার্যকর করা না হলেও অন্তত ১৮ জনকে হত্যা, ধর্ষণ ও সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে।

চীন

চীনে কোন নারীকে ধর্ষণ কিংবা ১৪ বছরের কম বয়সী কোন মেয়ের সঙ্গে যৌনমিলনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে যদি ঘটনার শিকার মারা যান অথবা মারাত্মকভাবে আহত হন।

সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে, ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী মারা গেলে বা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে, অথবা পাবলিক প্লেসে ধর্ষণ হলে বয়স বিবেচনা ছাড়া মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে দেশটিতে। এছাড়া, অপরাধী একাধিক ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায়।

সাধারণ ক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম তিন বছর থেকে ১০ বছর কারাদণ্ডের শাস্তি রয়েছে চীনের আইনে।

মৃত্যুদণ্ড বিধানের সমালোচনা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা মন্তব্য করেছে ‘চরম শাস্তি সহিংসতাকে অব্যাহত রাখে, তা প্রতিরোধ করে না।’

সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিশোধের দিকে মনোনিবেশ না করে যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীর সুবিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্ষণ মহামারি নির্মূলে এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে দীর্ঘমেয়াদে সংস্কার করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

একই সাথে অপরাধীদের শাস্তি যেন নিশ্চিত হয় এবং শাস্তি থেকে দায়মুক্তির সংস্কৃতি যেন বন্ধ হয়, সেদিকেও নজর দেয়ার তাগিদ দিয়েছে অ্যামনেস্টি।

যে কারণে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিরোধিতা করছে অ্যামনেস্টি

অ্যামনেস্টি’র সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, “পৃথিবীর কোনো বিচার ব্যবস্থাই ত্রুটিমুক্ত নয়। যার ফলে বিচার ব্যবস্থার ত্রুটিতে একজন মানুষের প্রাণ নিয়ে নেয়ার পর যদি জানা যায় যে ঐ ব্যক্তি নির্দোষ, তখন আসলে কিছু করার থাকে না।”

আর বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্ষণ এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলোর সাথে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো বা কমানোর সম্পর্ক খুব সামান্য বলে মনে করেন তারা।

“আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সমস্যাটা পদ্ধতিগত। অর্থাৎ, আমাদের এখানে আইনে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা আছে। আর এই বিচার প্রক্রিয়া সংশোধন করা না হলে শাস্তি বাড়িয়ে-কমিয়ে আসল পরিস্থিতির উন্নয়ন করা সম্ভব না”, বলেন মি. জাকারিয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ভিকটিম ব্লেমিং কতটা প্রভাব ফেলে?

সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর এই অপরাধটি নিয়ে নানা ধরণের তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

একদিকে যেমন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি উঠেছে ঠিক তেমনি অন্যদিকে আবার ধর্ষণের পেছনে ভুক্তভোগীদের ভূমিকা বা পরোক্ষ ইন্ধন থাকার মতো বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলছেন অনেকে।

এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তারকা অনন্ত জলিলের একটি ভিডিও। যেখানে তিনি নারীদেরকে টি-শার্টের মতো পোশাক পরা নিয়ে কটাক্ষ করেন।

তার মতে, নারীদের এ ধরণের পোশাক ধর্ষণের মতো অপরাধকে উস্কানি দেয়।

তার এই পোস্ট নিয়ে নানা ধরণের ট্রলসহ এর বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছেন অনেকে।

অনেকে বলছেন যে, পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে মি. জলিল ধর্ষণের মতো অপরাধের শিকার ব্যক্তিদেরকেই আসলে দোষারোপ করছেন।

তিনি ভিকটিম ব্লেমিং করছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন।

ভিকটিম ব্লেমিং কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিকটিম ব্লেমিং হচ্ছে এক ধরণের চর্চা। এটা সাধারণত যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি শুনতে পাওয়া যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, “পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এবং এতো বছর ধরে চলে আসা নারী বিদ্বেষ, আমাদের সংস্কৃতিতে অনেক শক্তিশালী।”

তিনি বলেন, যখনই কোন ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তখন সমাজের বেশিরভাগ মানুষের নজর চলে যায় যে এটা কেন হল, কনটেক্সটা কোথায়। “প্রশ্ন আসে যে, শাড়ি কিভাবে পড়েছে, শাড়িটা কেমন ছিল, ওড়না ছিল না, এতো রাতের বেলা বের হয়েছে কেন-এগুলো সবই ভিকটিম ব্লেমিং। এর ফলে অ্যাটেনশনটা আর অপরাধীর উপর থাকে না। ভিকটিমের স্বভাব চরিত্রের উপর গিয়ে পড়ে।”

এ বিষয়ে মানবাধিকার আইনজীবী এলিনা খান বলেন, ভিকটিম ব্লেমিং দুই ধরণের হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন:

প্রথম ক্ষেত্রে বলা হয় ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে যে, ভিকটিম চরিত্রহীন, লম্পট, খারাপ- যার কারণে সে মিথ্যা কথা বলছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে সেটা মিথ্যা। সে হয়তো নিজের ইচ্ছায় গেছে। ব্ল্যাক মেইলিং করতে না পেরে অভিযোগ এনেছে।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, জমি-জমা কিংবা পূর্ব শত্রুতার জেরে কোন নারীর স্বজন কিংবা স্বামী কোন কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা মামলা দায়ের করে ওই নারীকে জড়িয়ে। আর সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর ওই নারীকেই দোষারোপ করা হয় যে, সে মিথ্যা বলেছে। অথচ এক্ষেত্রে সে নিজেও স্বজনদের ষড়যন্ত্রের কারণে ভিকটিম।

আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন মনে করেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের চর্চা সামাজিক অবস্থার সাথে সাথে বিচার ব্যবস্থা বা বিচার প্রক্রিয়াতেও প্রতিফলিত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমাজের যে পিতৃতান্ত্রিক মন-মানসিকতা তার অংশ সমাজের সব মানুষ। আর সেই সাথে বিচার ব্যবস্থা ও এর বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা রয়েছে তারাও এটার অংশ।

অভিযোগকারীকে সন্দেহ করার এবং অপরাধীকে নিরপরাধ ভাবার যে প্রবণতা, বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে একজন ভুক্তভোগীকে তার মুখোমুখি হতে হয়।

মিজ ইয়াসমিন বলেন, সাধারণ কোন অপরাধের মামলায় একজন অভিযোগকারীকে যত না প্রমাণ দিতে হয়, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মামলায় তাকে আরো অনেক বেশি প্রমাণ হাজির করে তারপর অভিযোগ প্রমাণ করতে হয়।

“তখন তাকেও অপরাধীর মতোই তাকে গণ্য করা হয়।”

ভিকটিম ব্লেমিং কেন হয়?

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী সাদেকা হালিম বলেন, আমরা এখনো নারীদের সমাজে অধস্তন হিসেবে ভাবি।

এক ধরণের মনোভাব আছে যে, নারীরা নিজেরা নিজেদের দায়-দায়িত্ব নিয়ে চলাফেরা করবে। কী ধরণের পোশাক পড়বে, কেমন আচরণ করবে, কেমন করে চলাফেরা করবে-তার সবকিছুর দায় দায়িত্ব তাকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, এ ধরণের বিষয়গুলোর সাথে ধর্ষণের ঘটনাকে এক করে ফেলা হয়। সেটাকেও তার দায় বলে ধরে নেয়া হয়।

অনন্ত জলিলের ভিডিওর কথা উল্লেখ করে সাদেকা হালিম বলেন, “অনন্ত জলিল যেসব মন্তব্য করেছে, সে তো ভিকটিম ব্লেমিংকে রি-ইনফোর্স করেছে তার কমেন্ট দিয়ে।”

তিনি বলেন, ধর্ষণ যেমনই হোক না কেন তার বিচার হতে হবে। এক্ষেত্রে সন্ধ্যা সাতটার সময় একজন নারী কোথায় ছিল, সেকি বন্ধুর সাথে ছিল কিনা, সে সিনেমা দেখতে গেছে কিনা-এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ এগুলো তার সাংবিধানিক অধিকার।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. কাবেরী গায়েন বলেন, এক সময় নারীরা ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করতে চাইতো না লুকিয়ে রাখতো। যার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতো।

কিন্তু এখন নারীরা আওয়াজ তুলছে এবং ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগ করছে। যার কারণে অপরাধীর অপরাধ ভিন্ন পথে ঘুড়িয়ে দেয়ার জন্য ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করা হয়।

বলা হয় যে, তার পোশাক ভাল ছিল না, ও রাতের বেলা গিয়েছিল, ছেলে বন্ধুর সাথে ছিল ইত্যাদি নানা ধরণের পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়।

“যাতে করে অপরাধটাকে অপরাধীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে ভিকটিমের দিকে দিয়ে অপরাধীকে আড়াল করা যায় বা অপরাধীর অপরাধকে লঘু করা যায়। আর এই ক্যাচালের মধ্য থেকে অপরাধী পার পেয়ে যায়,” তিনি বলেন।

তিনি মনে করেন, এই ধরণের চর্চা চলতে থাকলে, ভুক্তভোগী আরো বেশি করে শিকার হওয়ার ভয়ে অভিযোগ বা প্রতিবাদ করবে না, পাশাপাশি যে অপরাধী সে নিশ্চিন্ত মনে অপরাধ চালাতে থাকবে।

“ফলে অপরাধের যে অভয়ারণ্য সেটি মুক্ত হয়ে যাবে। আর এর ফলাফল হবে মারাত্মক।”

এটা বিচার ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন বলেন, বাংলাদেশের আইনে বলা আছে যে যদি কোন বিচারক মনে করেন যে কোন ভিকটিমের জবানবন্দীই বিচারের জন্য যথেষ্ট, তাহলে তিনি সেই জবানবন্দী অনুযায়ী রায় দিতে পারেন। এটা নিয়ে আইনে কোন বাধা নেই।

কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোন কিছু তো হয়ই না, বরং উল্টো জবানবন্দী ছাড়াও তাকে নানা ধরণের প্রমাণাদি দিয়ে সেটা প্রমাণ করতে হয়। যার কারণে ধর্ষণ মামলার বিচারের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশে।

জবানবন্দীতে যখন সন্দেহ এতো বেশি, এটা হয়ে থাকে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিষয়টি থেকে। এটা শুধু সামাজিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে তা নয় বরং বিচার ব্যবস্থার উপরও প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, সামাজিক প্রভাবটা বিচার ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। এটা যখন বিচারে ঢুকে যায় তখন তার প্রভাব ন্যায়বিচার পাওয়ার উপরও থাকে। যখন জবানবন্দীর উপর সন্দেহ থাকে তখন প্রমাণাদির গুরুত্ব বাড়ে। আর তখন একটু এদিক-সেদিক হলেই অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মানবাধিকার আইনজীবী এলিনা খান বলেন, এক সময় বাংলাদেশে তোলপাড় হয়েছিল যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলা হয়েছিল।

তিনি জানান, তখন তারা একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছেন যে, এই অভিযোগের কারণে অনেক নারীই আসলে আইনের আশ্রয় নিতে পারছে না।

তিনি বলেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের কারণে প্রথমত থানায় কর্মকর্তারা অনেক সময় ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মামলা নিতে গড়িমসি করে।

দ্বিতীয়ত এটি যখন আদালতে গড়ায়, তখন আসামীপক্ষের আইনজীবী ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, আসামীপক্ষের আইনজীবীর অবাধ স্বাধীনতা থাকে ভুক্তভোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার। তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার।

যার কারণে সাক্ষীর উপর চাপ পড়ে এবং মামলাটি অনেক সময় দুর্বল হয়ে যায় বলে জানান আইনজীবী এলিনা খান।

বিচার শেষ হওয়ার পর যদি আসামী পার পেয়ে যায় প্রমাণাদির অভাবে তাহলে সব দোষ তখন ভুক্তভোগীর উপর এসে পরে এবং ওই নারী সম্পর্কে সবার খারাপ ধারণা জন্মায়। কিন্তু সে যে একই সাথে ভিকটিম এবং বিচারও পায়নি সেটি কেউ বিবেচনায় নেয় না।

সমাজবিজ্ঞানী সাদেকা হালিম মনে করেন, ভিকটিম ব্লেমিং যে কোন অপরাধের ঘটনাকে হালকা করে দেয়।

তিনি বলেন, এর কারণে কোন অপরাধের তদন্ত, তার বিচার এবং অন্য আইনি বিষয়গুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে ভিকটিম ব্লেমিং। এমনকি তদন্তের মোড়ও অনেক সময় এর কারণে ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, বিচার ব্যবস্থার সাথে যারা জড়িত তাদের ধর্ষণের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়াতে হবে। প্রো-ভিকটিম অ্যাপ্রোচ বা অভিযোগকারীর প্রতি সহানুভূতিশীলতা বাড়ানো দরকার। আর এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করেন তারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

রোহিঙ্গা ভাসানচরে না যেতে ক্যাম্পে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী

বাংলাদেশ সরকার অনেকদিন যাবৎ নানাভাবে রোহিঙ্গাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে ভাসানচরে নিয়ে যেতে। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৎপর কিছু গোষ্ঠী সাধারণ রোহিঙ্গাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ভাসানচরে যেতে নিরুৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি ৪০জন রোহিঙ্গা নেতাকে বাংলাদেশ সরকার ভাসানচর দেখিয়ে এনেছে। তারা ফিরে এসে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে যেতে বোঝানোর চেষ্টা করার কথা থাকলেও তাতে মোটেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজার থেকে বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিবিসির আকবর হোসেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা তৈরি হতে পারে

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলতি বছর জেএসসি ও এসএসসি’র ফলাফলের গড়ের মাধ্যমে এইচএসসির ফল নির্ধারণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের জটিলতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় যে কোনো শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা আছে কি না। আর অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফলও নির্ভর করে এই দুই পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

পাশাপাশি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেলে পড়তে চাইলে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিতের মত কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ন্যুনতম গ্রেড প্রয়োজন হয়।

তাই পরীক্ষা না নিয়ে জেএসসি ও এসএসসি’র ফলের ওপর ভিত্তি করে এইচএসসি’র ফলাফল দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে।

যে ধরণের জটিলতা তৈরি হতে পারে

বর্তমান নিয়মে বাংলাদেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া মোট নম্বরের ৪০ ভাগ এসএসসি ও এইচএসসি’র ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে। তাই এই নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে না বলে মন্তব্য করেন শিক্ষা গবেষক সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “এসএসসি’র ১০%, এইচএসসি’র ৩০% ও ভর্তি পরীক্ষার ৬০% নিয়ে পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ করা হতো। কিন্তু এবার এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় ঐ ৩০% আর থাকছে না, কাজেই ভর্তি পরীক্ষার ওপর জোর বেশি দিতে হবে।”

এইচএসসি’র ফল এসএসসি ও জেএসসি’র ফলের গড়ের মাধ্যমে হওয়ায় ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসি’র ফল গণনা করা যুক্তিযুক্ত হবে না বলে মনে করেন মি. রহমান।

আরো পড়তে পারেন:

জেএসসি পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীদের একই বিষয় পড়তে হয়। এসএসসি’তে বিভাগ আলাদা হওয়ার পাশাপাশি আলাদা আলাদা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয় বলে এইচএসসি’র সব বিষয়ের ফল এই দুই পরীক্ষার গড়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “যেই বয়সে শিক্ষার্থীরা জেএসসি পরীক্ষা দেয়, সেই বয়সে তাদের মানসিক পরিপক্কতা আসে না। ঐ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এইচএসসি’র ফল নির্ধারণ করা যুক্তিসঙ্গত বা বিজ্ঞানসম্মত নয়।”

তবে যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি থেকে এইচএসসি’তে বিভাগ পরিবর্তন করেছে, তাদের ফল নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জটিলতা তৈরি হবে বলে মনে করেন মি. রহমান।

“কেউ হয়তো এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ছিল, কিন্তু এইচএসসির সময় পরিবর্তন করে মানবিক বিভাগ নিয়েছে। ঐ বিভাগের নম্বরের ভিত্তিতে বর্তমান বিভাগে ফলাফল দেয়া হলে তা একেবারেই যুক্তিযুক্ত হবে না।”

আর এই জটিলতার ফলে সরকারি প্রকৌশল এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন মি. রহমান।

এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার পর যেসব শিক্ষার্থী দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সিদ্দিকুর রহমান।

“পরীক্ষা না নিয়েই মূল্যায়ন করার ফলে বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই হয়তো এই শিক্ষার্থীদের নিতে চাইবে না। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতির উপর নির্ভর করে।”

পরামর্শক কমিটি কী বলছে?

গত ৭ই অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন জেএসসি ও এসএসসি’র ফলের ভিত্তিতে কীভাবে এইচএসসি’র ফল ঠিক করা হবে, তা নির্ধারণ করবে এই বিষয় সংক্রান্ত একটি পরামর্শক কমিটি।

এই পরামর্শক কমিটির একজন সদস্য ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক জানান, ঠিক কোন নীতি অনুসরণ করে ফলাফল নির্ধারিত হবে সেবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া না হলেও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের কাজ করা হচ্ছে।

মি. হক বলেন, “কীভাবে জেএসসি পরীক্ষা ও এসএসসি পরীক্ষার বিষয়গুলো যুক্ত করে এইচএসসি’র বিষয়গুলোর সাথে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে পরামর্শক কমিটির পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব টেকনিক্যাল কমিটিও কাজ করছে।”

তিনি জানান, এসএসসি থেকে এইচএসসি’তে যেসব শিক্ষার্থী বিভাগ পরিবর্তন করেছে, তাদের বিষয়টিও পর্যালোচনা করছে কমিটি।

“শুধু বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা ব্যবসা শিক্ষায় নয়, কারিগরি শিক্ষা বা মাদ্রাসা থেকে সাধারণ শিক্ষায় যোগ দেয় শিক্ষার্থীরা। আবার প্রাইভেট, মান উন্নয়ন শিক্ষার্থীও আছে। এই প্রতিটি ক্ষেত্রই আমরা শনাক্ত করেছি এবং একটার সাথে আরেকটাকে সম্পৃক্ত করতে যা করা দরকার তা নিয়ে কাজ করছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

‘৩০ তারিখের ভেতরে না গেলে কফিল ভিসা রিনিউ করবে না। চাকরি চলে যাবে’

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৫শে মার্চ থেকে সৌদি আরব সরকার সব দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে করে বাংলাদেশে আটকা পড়েন ছুটি কাটাতে আসা বহু প্রবাসী কর্মী।

আবার চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত শুধু সৌদি আরবের ৭৭,৪০০ নতুন ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। এসব ভিসার মেয়াদ তিন মাস হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে সব ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

সম্প্রতি লকডাউন উঠে যাওয়ার পর সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই নানা ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হন প্রবাসে গমনেচ্ছুরা।

সৌদি আরবে যেতে ইচ্ছুক এমন কয়েকজন প্রবাসী জানিয়েছেন তাদের পাঁচটি সংকটের কথা।

ভিসার মেয়াদ নবায়নে জটিলতা

প্রায় ১২ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন।

পরে করোনাভাইরাসের কারণে সৌদি সরকার সব দেশের সাথে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিলে তিনি বাংলাদেশে আটকা পড়ে যান। এরই মধ্যে শেষ হয়ে যায় তার ভিসার মেয়াদ।

এখন নতুন করে ভিসার সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখেন তাকে পাসপোর্টের সাথে নিয়োগকর্তা বা কফিলের রিক্রুটিং এজেন্সির নামে আসা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির সনদ, বিএমইটি থেকে নিবন্ধন পত্র জমা দিতে হবে।

সেইসঙ্গে ঢাকার অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ এমনকি বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকার পরেও আলাদা করে পুলিশের ছাড়পত্র দিতে হবে।

এত কাগজপত্র জোগাড় করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে রফিকুল ইসলাম এবং তার মতো আরও অনেক প্রবাসীকে।

এই ভিসা নবায়ন করতে সৌদি দূতাবাস যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো অনেক সময়স্বাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল বলে জানিয়েছে বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী।

এ কারণে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কর্মীকে সৌদি আরবে পাঠানো রীতিমত অসম্ভব বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর ভিসা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে সেটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও।

এদিকে টাঙ্গাইলের আরেক বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম তার কোম্পানির কফিলের কাছে অনুরোধ করে ভিসার মেয়াদ ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একবার বাড়িয়েছিলেন।

কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তিনি টিকেট না পাওয়ায় যেতে পারেন নি।

পরবর্তীকালে এই মেয়াদ আরেক দফা বাড়াতে অস্বীকৃতি জানায় তার কফিল।

এই অবস্থায় সৌদি আরবে থাকা বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের সাহায্য নিয়ে ২০০ রিয়েল খরচ করে তিনি আরও এক মাসের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নেন।

কিন্তু টানা কয়েকদিন সকাল থেকে বিকেল লাইনে দাঁড়িয়েও টিকেট পাননি তিনি।

এমন অবস্থায় শেষ এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় কিনা সেই শঙ্কায় আছেন মি.ইসলাম।

পাসপোর্ট নবায়নে অতিরিক্ত টাকা দাবি

রফিকুল ইসলামের কোম্পানির নিয়োগকারী কর্মকর্তা তাকে পুনরায় সৌদি আরবে কাজ দেয়ার আশ্বাস দিলেও তার পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় তিনি ভিসা নিতে পারছেন না।

এখন জরুরি ভিত্তিতে এই পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে গিয়ে নানা ভোগান্তির কথা জানান তিনি।

প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে এক অসাধু কর্মকর্তা তার কাছে ৪০,০০০ টাকা দাবি করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “সে আমারে বলল, পাসপোর্টে ডেট (তারিখ) বহায় দিব কম্পিউটারে। বলল যে, আমি কাজ কইরা দিতে পারমু আমার ৪০ হাজার টাকা লাগবো। সৌদি আরবে থাকলে এই পাসপোর্ট রিনিউ করতে ১০০ রিয়েল খরচ হইতো, বাংলাদেশে ২২০০ টাকার একটু বেশি। আর তারা এতো টাকা চাইতাসে।”

সরকার যদি অটোমেটিক পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়িয়ে দিলে প্রবাসীদের এই ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো না বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা

এদিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বরিশালের বাসিন্দা এমদাদ হোসেন।

বিদেশ যাত্রীদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ নিতে হয় ঢাকার মহাখালীর একমাত্র অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে।

কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পর পর দু’দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারেননি।

বরং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওই কেন্দ্রে মানুষের ভিড় দেখে তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়েই শঙ্কায় পড়ে যান।

মি. হোসেন বলেন, “মাস্ক পরসে ঠিক আছে, কিন্তু সামাজিক দূরত্ব নাই। এখন আমরা করোনাভাইরাস না থাকলেও তো আমার ওইখানে করোনা হয়ে যাইবে।”

আবার এই মেডিকেল পরীক্ষা হতে হবে ভ্রমণের সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা আগে। রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে ২৪ ঘণ্টা আগে।

কিন্তু ভিড় ঠেলে তিনি পরীক্ষা করাতে পেরেছিলেন যাত্রার আগের দিন। এ কারণে রিপোর্টও হাতে পাননি। পরে রিপোর্ট ছাড়াই তিনি বিমানবন্দরের পথে রওনা হন।

টিকেট পাসপোর্ট সব হাতে থাকা সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের পরীক্ষার ফলাফল না থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত বিমানে উঠতে পারেননি।

এখন সৌদিয়া এয়ারলাইন্স যেন তাকে পুরানো টিকেটেই পরবর্তীতে ভ্রমণ করতে দেন সেজন্য তিনি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

না হলে পুনরায় তাকে পূর্ণ খরচে টিকেট কিনে দ্রুত সৌদি আরবের পথে যাত্রা করতে হবে বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কেন্দ্র আরও বাড়ানোর প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

“বাংলাদেশের সব মানুষ কি ঢাকায় থাকে? ঢাকার বাইরে কয়েকটা সেন্টার করলে বা ঢাকার ভেতরেই কয়েকটা সেন্টার করলে তো মানুষের এতো কষ্ট হয় না। আমার টিকেট যদি নতুন কাটা লাগে, এই খরচাটা আমারে কে দিবে?” বলেন মি. হোসেন।

পুলিশ ভেরিফিকেশন

বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে যে প্রত্যেক যাত্রীকে পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট বা পুলিশের ছাড়পত্র সনদ জমা দিতে হবে।

যেখানে বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় সেখানে আলাদাভাবে এই ছাড়পত্র জমা দেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই বলে জানিয়েছে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন-বায়রা।

তাছাড়া এই পুলিশ ভেরিফিকেশন মানেই অতিরিক্ত খরচ বলে জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশে আটকে পড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি প্রবাসী কর্মী জানান, যে “পুলিশ ভেরিফিকেশনে গেলে যেটা দুই হাজার টাকার কাজ, সেটার জন্য ২০ হাজার টাকা চাইবো। কারণ হেরাও জানে আমার ১৫-২০ দিনের মধ্যে যাইতে হইবো, ইমার্জেন্সি কাজ। যার যেমন মন চায় টাকা নেয়।”

টিকেট বিড়ম্বনা

শুক্রবার ছুটির দিনেও ঢাকার কারওয়ান বাজারে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সে ও মতিঝিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অফিসের বাইরে ভিড় করেছেন টোকেন ও টিকেট নিতে আসা অনেক সৌদি প্রবাসী কর্মী।

তবে সেখানে শুধু তারাই এসেছেন যারা তাদের ভিসার মেয়াদ ২০ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত বাড়াতে পেরেছেন। বাকিরা এখন মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষায় আছেন।

করোনাভাইরাসের কারণে অনেক সৌদি আরবের অনেক নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কিছু প্রকল্পে জনবল অর্ধেকে নামিয়ে আনায়, সময় মতো সৌদি আরব যেতে না পারলে চিরতরে কাজ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কায় আছেন প্রবাসীরা।

আরও পড়তে পারেন:

নরসিংদীর বাসিন্দা আপেল হায়াত জাকি গত ১৫-২০ দিন ধরে প্রতিদিন সকাল থেকে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন টোকেন এবং টিকেটের অপেক্ষায়। কিন্তু আজও দেখা মেলেনি টিকেটের।

এদিকে, সৌদি আরবে তার নিয়োগকারী কর্মকর্তা বা কফিল ভিসার মেয়াদ ৩০শে অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ালেও এই সময়ে মধ্যে না আসলে এই মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

এমন অবস্থায় সময় মতো কর্মক্ষেত্রে ফিরবেন কিনা সেই শঙ্কায় আছেন তিনি।

“৩০ তারিখের ভেতরে না গেলে কফিল আমাদের ভিসা রিনিউ করবে না। চাকরি চলে যাবে। আর সৌদি আরব যাইতে পারবো না।” বলেন, তিনি।

টিকেটের এই দীর্ঘ লাইন ও ভিড়ভাট্টার মধ্যে নগদ টাকা ও মোবাইল চুরির অভিযোগও করেছেন অনেক প্রবাসী।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম আরোপ করলেও বাংলাদেশ চাইলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার বা এক জায়গাতেই সব কাজ সম্পন্ন করার সেবা চালু করে এই প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও কম সময়ের মধ্যে করতে পারে বলে জানিয়েছে বায়রা।

এদিকে, সব কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল হাসান বাদল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com