আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস টাকার মাধ্যমে ছড়ানোর সম্ভাবনা কতটা, কী করবেন?

ব্যাংক নোটের মাধ্যমে সংক্রামক নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ব্যাংক নোটের মাধ্যমে সংক্রামক নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ব্যাংক নোট বা টাকায় নানা ধরণের জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত করার ঘটনা নতুন নয়। এমনকি ব্যাংক নোটের মাধ্যমে সংক্রামক নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কথাও বলেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৫ সালে দিল্লির ইন্সটিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি-র বিজ্ঞানীরা তাদের এক গবেষণার ফলে জানান, ভারতের বাজারে চালু নোটগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করে তাতে অন্তত ৭৮ রকম বিপজ্জনক মাইক্রোবের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন – যা থেকে মারাত্মক সব রোগ ছড়াতে পারে।

এমনকি বাংলাদেশের একদল গবেষক গত বছরের অগাস্ট মাসে বলেছিলেন, তারা বাংলাদেশি কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রায় এমন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছেন, যা সাধারণত মলমূত্রের মধ্যে থাকে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্রী নিশাত তাসনিম প্রায় ছয় মাস ধরে বাজারে প্রচলিত টাকা ও কয়েন নিয়ে গবেষণা করে বলেন, এসব মুদ্রায় তিনি ই-কোলাই জাতীয় ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন।

১৫টি উৎস থেকে নেয়া কাগজের টাকার নোট ও কয়েনে এক হাজারের চেয়ে আরো অনেক বেশি মাত্রায় ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেখেছেন তারা। এক হাজার মাত্রা পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়াকে সহনশীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী টাকা নিয়ে করা ওই গবেষণাটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।

এর আগে তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, “এ পরীক্ষায় আমরা যা পেয়েছি তা জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে ভয়াবহ। কারণ সাধারণ ব্যাকটেরিয়া তো আছেই, সাথে পাওয়া গেছে মানুষের মল মূত্র থেকে আসা ব্যাকটেরিয়া, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক”।

ফলে এসব মুদ্রার মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

ড. চৌধুরী বলেন, যেহেতু আমরা গবেষণা করে টাকায় বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া পেয়েছি যা মানুষের অন্ত্রে নানা ধরণের রোগ সৃষ্টি করে তাই এর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

টাকা বা ডলারের ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক বিনিময়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস শুধু একটি দেশের মধ্যে নয় বরং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
টাকা বা ডলারের ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক বিনিময়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস শুধু একটি দেশের মধ্যে নয় বরং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

তার মতে, টাকা বা ডলারের ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক বিনিময়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস শুধু একটি দেশের মধ্যে নয় বরং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

“যেহেতু এটা সরাসরি মানুষ হাত দিয়ে ধরে, অনেক সময় মুখের থুথু নিয়ে কাউন্ট করে। তাই এর মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেখান থেকে এটা হতে পারে যদি মানুষ সে হাতে খায়, মুখে দেয়।”

তিনি জানান, ভাইরাস বাহকের শরীরে সক্রিয় হয়, অন্যত্র নিষ্ক্রিয় থাকে। টাকায় থাকলে সে হয়তো নিষ্ক্রিয় থাকে, কিন্তু মানুষের সংস্পর্শে এলে সেটি করোনাভাইরাসের উপসর্গ বা রোগের সৃষ্টি করতে পারে, এই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এমন আশঙ্কায় চলতি বছরের গতমাসে ভাইরাসে উপস্থিতি নিয়ে টাকা বা ব্যাংক নোট জীবাণুমুক্ত করার একটি উদ্যোগ দেখা যায় চীনে।

দেশটিতে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর সেখানে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে বাজার থেকে ব্যাংক নোট সরিয়ে নিয়ে তা আবার জীবাণুমুক্ত করে বাজারে ছাড়ে দেশটি।

বাংলাদেশে অবশ্য এখনো করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ পর্যন্ত একশোটিরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করলেও তাতে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি।

মুদ্রার মাধ্যমে সংক্রমণ এড়াবেন যেভাবে

বিশ্বজুড়ে এমন আশঙ্কার পর বিশেষজ্ঞরা, ব্যাংক নোট এড়িয়ে স্পর্শবিহীন মাধ্যম বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেনাকাটা বা লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্পর্শবিহীন লেনদেন বা প্রযুক্তি বলতে, ব্যাংক নোট ছাড়া অন্য মাধ্যম যেমন কার্ড, বিভিন্ন ধরণের অ্যাপ যেমন বিকাশ বা নগদ অথবা অন্য কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেনদেনের কথা বোঝানো হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের মতো দেশ যেখানে প্রায় শতভাগ লেনদেন হয় ব্যাংক নোটের মাধ্যমে সেখানে কিভাবে এই পরামর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা, ব্যাংক নোট এড়িয়ে স্পর্শবিহীন মাধ্যম বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেনাকাটা বা লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন
বিশেষজ্ঞরা, ব্যাংক নোট এড়িয়ে স্পর্শবিহীন মাধ্যম বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেনাকাটা বা লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরণের পরামর্শ মেনে চলা কঠিন।

তবে এক্ষেত্রে ব্যাংক নোট ব্যবহারের বিষয়ে তারা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

জাতীয় রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু এখনো করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি তাই এখনই এ বিষয়ে বলাটা কঠিন।

তবে যদি শনাক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে ভাইরাসটি যাতে অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ব্যাংক নোট ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।

এক্ষেত্রে কিছু পরামর্শের কথা বলছেন মাহমুদুর রহমান:

  • অবশ্যই টাকা গোনার সময় হাত দিয়ে মুখের লালা নেবেন না
  • ব্যাংক নোট বা টাকা নাড়াচাড়ার পরপরই অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • যারা অত্যধিক মুদ্রা নাড়াচাড়া করেন, যেমন ব্যাংক কর্মী বা মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীরা, তাদেরকে অবশ্যই অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। তারা দস্তানা বা গ্লাভস পরে নিতে পারেন।
  • সতর্কতা হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করতে পারেন।
  • টাকা ধরা বা ব্যবহারের পর পরই চোখ, নাক বা মুখে হাত দেয়া যাবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বাংলাদেশ

খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

 খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বড় আকারের দুর্ভিক্ষ হতে পারে এবং এতে প্রায় তিন কোটি মানুষ অনাহারে প্রাণ হারাতে পারে। তাই আগামীতে যাতে খাদ্যের কোনো সংকট না হয়, সেজন্য সরকারি গুদামেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুত করছে সরকার। পাশাপশি আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটেও খাদ্য ও কৃষিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বাবদ রাখা হচ্ছে ১৫ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের চেয়ে ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছ।

করোনাভাইরাসের কারণে থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

এদিকে নতুন বাজেটে মোট ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দও বাড়াচ্ছে সরকার। এ খাতে এবারই প্রথমবার ৫২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের থেকে পাঁচ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা বেশি। একইসঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ছয় অর্থবছর ধরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। তবে এবার পরিমাণ অন্যবারের তুলনা অনেক বেশি বাড়ছে। মূলত খাদ্য ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্যই বরাদ্দটা একটু বেশি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪৭ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এটা চলতি বাজেটের সংশোধনীতে বাড়িয়ে ৪৮ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা করা হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে থমকে গেছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বাংলাদেশে করোনার যে আচমকা আঘাত সেটার রেশ টানতে হবে অনেক বছর। অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে থাকবে। এ বিরূপ প্রভাব কটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করতে ভর্তুকি, প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণায় সূত্রে জানা গেছে।

খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণত ভর্তুকি বেশি দেয়া হয় কৃষি ও খাদ্য খাতে। আর প্রণোদনা বেশি দেয়া হয় কৃষি, পোশাক রফতানি ও পাট খাতে। এ ছাড়া নগদ ঋণ দেয়া হয়ে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য সংস্থাকে। তবে বিপিসি, পিডিবিকে যে নগদ ঋণ দেয়া হয় সেগুলোকে একধরনের ভর্তুকি হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। কারণ, এসব ঋণ সাধারণত সরকার ফেরত পায় না। যে কারণে পরে পুরো ঋণই অনুদান, ভর্তুকিতে রূপান্তরিত হয়। বেসরকারি খাত থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিদ্যুৎ পেতে পিডিবিকে ঋণ দেয় সরকার।

আগামী বাজেটে ভর্তুকি

অন্যবারের মতো আগামী অর্থবছরেও ভর্তুকিতেই বেশি বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ২৩ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৭৬১ কোটি টাকা বেশি। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৪ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে করা হয় ২৩ হাজার ১৯২ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে ভর্তুকির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেয়া হবে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছর থেকে আগামী অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা কমছে। চলতি অর্থবছর এ খাতে ভর্তুকি রয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৫ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। খাদ্যে চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে সেটা কমিয়ে ৪ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা করা হয়।

এ ছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে যা ছিল ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে সেটি কমিয়ে রাখা হয় ৯ হাজার কোটি টাকা।

প্রণোদনা

আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনার টাকা চলতি সংশোধিত বাজেটের চেয়ে বাড়ছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ হচ্ছে ২২ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা, যা চলতি সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১৮ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। অবশ্য চলতি মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৯ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমানো হয়।

খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তায় ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ থাকছে ১৫৪৫৩ কোটি টাকা

আগামী অর্থবছরে কৃষি খাতের জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনার রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে যা রাখা হয়েছিল ৯ হাজার কোটি টাকা। তবে পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে রাখা হয় ৮ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি বাজেটের সমান পরিমাণ ৬ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে রফতানি নগদ প্রণোদনার জন্য। এ ছাড়া পাট খাতের জন্য রাখা হচ্ছে চলতি বাজেটের ন্যায় ৫০০ কোটি টাকা এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনার জন্য রাখা হচ্ছে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

নগদ ঋণ

আসছে বাজেটে নগদ ঋণ খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে এই ছয় হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরেও এ দুই খাতে কোনো বরাদ্দ রাখেনি সরকার। আগামী বাজেটেও অন্যান্য খাতে ছয় হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে ৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

আগামী বাজেটে ভর্তুকি-প্রণোদনার বিষয়ে জানাতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আগামী বাজেটে কৃষি ও খাদ্য খাতে যে ভর্তুকি বাড়ানো হচ্ছে, এটা যুক্তিযুক্ত। করোনা প্রভাব মোকাবিলায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই এ খাতে বরাদ্দ বেশি দিতেই হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতে গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকি বাড়ানোটা যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করি।

এদিকে আগামীতেও যাতে খাদ্যের কোনো সংকট না হয় তাই সরকারি গুদামেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুত করছে সরকার। ইতোমধ্যে পূর্বনির্ধারীত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত দুই লাখ টন চাল দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস হতে সংগ্রহ করেছে সরকার। পাশাপশি দুই লাখ টন গম দেশের বাইরে থেকে আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস ‘হয়তো কখনোই নির্মূল হবে না’- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মায়ামি অঙ্গরাজ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে পৃথিবী থেকে নভেল করোনাভাইরাস ‘হয়তো কখনোই নির্মূল হবে না।’

এই ভাইরাস কবে নির্মূল হবে, বুধবার সেবিষয়ে ধারণা প্রকাশ করার ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি বিষয়ের পরিচালক ডা. মাইক রায়ান।

তিনি বলেছেন যে প্রতিষেধক যদি পাওয়াও যায়, তবুও এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ‘ব্যাপক প্রচেষ্টা’ চালাতে হবে।

এখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে ৪৩ লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ মারা গেছে।

জেনেভার ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে ডা. রায়ান বলেন, “এই ভাইরাসটি আমাদের জাতিগত রোগ হিসেবে আমাদের সাথেই থাকতে পারে এবং হয়তো কখনোই শতভাগ নির্মূল হবে না।”

“এইচআইভি’ও নির্মূল হয়নি। কিন্তু আমরা ঐ ভাইরাসের সাথে সহাবস্থান অজর্ন করতে পেরেছি।”

ডা রায়ান আরো বলেন যে ‘এই ভাইরাস কবে নির্মূল হবে’ সেই ধারণা যে কেউ করতে পারে – তাও বিশ্বাস করতে চান না তিনি।

বর্তমানে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রতিষেধক তৈরির অন্তত ১০০ টি প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে প্রতিষেধক আবিষ্কারই যে ভাইরাসের বিলুপ্তি নিশ্চিত করে না, তা মনে করিয়ে দেন ডা রায়ান।

লকডাউনের কড়াকড়ি কমিয়ে আনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন ডা রায়ান ও ডা টেড্রোস

তিনি উল্লেখ করেন যে হামের টিকা বহুদিন আগে আবিষ্কার হলেও হাম এখনও বিলুপ্ত হয়নি পৃথিবী থেকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস অবশ্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

“এর গতিপথ আমাদের হাতে এবং এটি আমাদের সবার মাথাব্যাথা। এই মহামারি থামাতে আমাদের সবার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগতত্ববিদ মারিয়া ভ্যান কারখোভ ব্রিফিংয়ে বলেন: “এই মহামারি পরিস্থিতি থেকে বের হতে আমাদের সময় লাগবে, আমাদের মানসিকভাবে এর জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারার এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন বিভিন্ন দেশ পর্যায়ক্রমে তাদের লকডাউনের কড়াকড়িতে শৈথিল্য আনছে এবং আরো অনেক দেশের নেতাই তাদের নিজ নজি অর্থনীতি উন্মুক্ত করে দেয়ার চিন্তা করছে।

ডা. টেড্রোস সতর্ক করেছেন যে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিলে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়।

“অনেক দেশই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ শিথিল করতে চাইবে। কিন্তু আমাদের সুপারিশ, এখনও যে কোনো দেশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকা উচিত।”

ডা. রায়ান সতর্ক করেছেন: “অনেকেই চিন্তা করছেন লকডাউন শতভাগ কার্যকর ছিল এবং লকডাউন উঠিয়ে নিলে পরিস্থিতি ভাল হবে। এই দুইটি ধারণাই ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

তথ্য মহিলারা তথ্য-পরিষেবা বিপ্লব নিয়ে আসে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস: অতিরিক্ত ওজন কেন কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি বাড়ায়?

আইসিইউতে থাকা স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা ও কিডনির কার্যক্রম চালানোর জন্য সহায়তা বেশি প্রয়োজন হয়।

স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং টাইপ টু ডায়াবেটিস সহ বেশ কিছু রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে জানা গেছে। প্রাথমিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে তাদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কিন্তু এরকম হওয়ার কারণ কী?

স্থূলতা কি আসলেই করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ায়?

বেশ কিছু গবেষণাতেই এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন গবেষকরা।

  • যুক্তরাজ্যের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ১৭ হাজার কোভিড-১৯ রোগীকে নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা যায় অপেক্ষাকৃত কম ওজনের ব্যক্তিদের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে যাদের, – বডি ম্যাস ইনডেক্স ৩০ এর ওপর – তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৩% বেড়ে যায়।
  • যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ইলেকট্রনিক রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ এ মারা যাওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আর ঐ রোগীর যদি ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মত সমস্যা থাকে তাহলে ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • যুক্তরাজ্যের আইসিইউ’তে থাকা জটিল ভাবে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা যায় আইসিইউ’তে থাকা রোগীদের ৭৩% অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছিলেন।

যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার ৬৪% মানুষের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে।

কোনো ব্যক্তির ওজন এবং উচ্চতার অনুপাতে পরিমাপ করা হয় তার বডি ম্যাস ইনডেক্স বা বিএমআই।

স্থূলতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফাউন্ডেশন আগেই সতর্ক করেছিল যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়া ব্যক্তিদের একটা বড় অংশের ‘বিএমআই ২৫ এর বেশি হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র, ইটালি ও চীনও প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনা করে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

এছাড়াও বয়স বেশি হলে, অন্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে এবং পুরুষদের জন্য কোভিড-১৯ এ জটিলভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কি প্রভাবিত হয়?

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার যে সক্ষমতা শরীরের থাকে – যেটিকে আমরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হিসেবে জানি – সেই ক্ষমতা স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় স্থূলকায় ব্যক্তিদের শরীরে কম থাকে।

আমাদের শরীরের চর্বিতে থাকা ম্যাক্রোফেইজ নামক কোষ যখন অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়, তখন এই সমস্যা তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর ফলে শরীরে ‘সাইটোকাইন ঝড়’ তৈরি হতে পারে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার এক ধরণের প্রতিক্রিয়া যার ফলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।

ডাক্তার সেলায়া বলেন, “অতিরিক্ত ওজনের মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ নিষ্ক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হয়তো এর ফলেই কৃষ্ণাঙ্গ, এশিয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের মধ্যে ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হার বেশি দেখা যাচ্ছে।”

শরীরের অ্যাডিপোস টিস্যুতে চর্বির কোষ

কেন অতিরিক্ত ওজন ঝুঁকি তৈরি করছে?

আপনার ওজন অতিরিক্ত হওয়া মানে আপনি দেহে অতিরিক্ত চর্বি বহন করছেন। অর্থাৎ আপনি শতভাগ ফিট নন।

আর আপনার ফিটনেস যত কম হবে, আপনার ফুসফুসের কর্মক্ষমতা তত কমবে। এর ফলে আপনার রক্তে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হবে। এর ফলে শরীরে রক্ত চলাচল এবং আপনার হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাভিদ সাত্তার বলেন, “অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা বেশি থাকে। তার মানে, তাদের শরীর যথেষ্ট চাপের মধ্যে দিয়ে কাজ করে।”

করোনাভাইরাসের মত একটি ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় এই বিষয়টি গুরুতর হতে পারে।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার ডিয়ান সেলাইয়াহ বলেন, “শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোয় যথেষ্ট অক্সিজেন না যাওয়ায় স্থূল দেহ এক পর্যায়ে চাপ নিতে পারে না।”

এ কারণে আইসিইউতে থাকা স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা ও কিডনির কার্যক্রম চালানোর জন্য সহায়তা বেশি প্রয়োজন হয়।

স্থূলতার সাথে সাধারণত দুর্বল হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস, যথাযথভাবে কাজ না করা কিডনি এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি হয়।

অন্য সমস্যা থাকার সম্ভাবনা কতটা?

স্থূলতার সাথে সাধারণত দুর্বল হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস, যথাযথভাবে কাজ না করা কিডনি এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি হয়।

কিন্তু কোভিড-১৯ এর মত রোগে আক্রান্ত হলে ঐ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো প্রাধান্য পায় না এবং শরীরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে তারা।

স্থূল দেহে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনাও তৈরি হয়, তবে এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।

হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী সমস্যা হয়?

অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রেও নানারকম চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের শরীরে টিউব বা ভেন্টিলেটর প্রবেশ করানোতে অনেকসময় সমস্যা তৈরি হয়।

আবার ওজনের মাত্রা নির্দিষ্ট থাকার কারণে তাদের স্ক্যান করার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অপেক্ষাকৃত বেশি ওজনের রোগীদের শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা করার জন্য পাশ ফিরিয়ে শোয়ানো অথবা উপুড় করে শোয়ানোর ক্ষেত্রেও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয় চিকিৎসকদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন

 করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন
করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন

করোনাভাইরাসের থাবায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে ভয়ঙ্করতম বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে যাওয়ার প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়তে শুরু করেছে। বড় বড় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান, বিমান পরিবহন সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। পর্যটন ও ভারি শিল্প সমৃদ্ধ দেশগুলো একদিকে যেমন প্রতিদিন লোকসান দিচ্ছে; সাথে সাথে শেয়ার বাজারে ক্রমাগত দর পতনে মূলধন পুনর্গঠনও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক পরামর্শক সংস্থা ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির মতে, করোনা সংকটের পর বৈশ্বিক বিমান পরিবহন, জ্বালানি এবং তৈরি পোশাক খাত তার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। প্রাইসমার্কের মতো ইউরোপের তৈরি পোশাক বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। মূলধন সংকটে দেউলিয়ত্বের পথে আরও ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বের প্রতিটি দেশ তার জিডিপির ১০ শতাংশ লোকসানের সম্মুখীন হবে। এই হিসাবে বাংলাদেশর ক্ষতি হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকারও বেশি।

বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার ঢেউ বাংলাদেশেও লাগতে শুরু করেছে। রেমিটেন্স আয় কমে গেছে। এপ্রিলে আরও কমবে। আগামী দিনগুলোতে যে এই আয় কমতে থাকবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক রফতানি খাতও।

বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল করেছে তৈরি পোশাক রফতানি প্রতিষ্ঠানগুলো। সামনে ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থার উন্নতি না হলে সংখ্যা আরও বাড়বে। পঞ্চাশ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের খাত কর্মী ছাটাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে অনেক ছোট-বড় কারখানা।

বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর করোনা ঝড়ের মধ্যেও আমাদের টিমটিম করে আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষি খাত। একদা দেশের মোট জিডিপির ৬৫ ভাগ জোগান দেওয়া এই খাত বর্তমানে ১৩ থেকে ১৪ ভাগ জিডিপি জোগান দিলেও করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কৃষি খাত হতে পারে আমাদের অন্ধের যষ্টি।

কৃষি ব্যবস্থার হালচাল: আদিকাল থেকে কৃষি এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আমাদের অর্থনীতির বড় হাতিয়ার হলেও বরাবরই এ খাত চরম অবহেলার শিকার। দালাল ও মুনাফা ভোগী লোভী ব্যবসায়ী চক্রের যাতাকলে পিষ্ট হয় দরিদ্র কৃষক। বর্তমান যুগের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায়ও এর খুব উন্নতি হয়নি। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ায় কৃষকের সামাজিক অবস্থা দিনকে দিন উন্নত হওয়ার পরিবর্তে খারাপ হয়েছে।

চলমান লকডাউনে সব উৎপাদন খাত হুমকির মুখে পড়লেও কৃষকের কোনো নিস্তার নেই। কৃষক ঠিকই তার উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। পরিবহন ব্যবস্থা স্থবিরতার জন্য বিপণনে ব্যাঘাত ঘটছে। খামারে উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পারায় ফেলে দিতে হচ্ছে। ডিম ও পোল্ট্রি খামারে নামমাত্র মূল্যে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় পথে বসেছে প্রান্তিক ক্ষুদ্র খামারী। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় উৎপাদিত সবজি ঢাকায় আসতে পারছে না। ঢাকার পাইকাররা পণ্য সংগ্রহ করে সরবরাহে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ফলে একদিকে যেমন খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বেড়েই চলেছে; অপরদিকে লোকসানের সম্মুখীন হয়ে উৎপাদন খরচ তুলতেও হিমশিম খাচ্ছে কৃষক। মধ্যস্বত্ত্বভোগী দালাল, ফড়িয়া বা আড়তদার কেন্দ্রীক কৃষি বিপণন ব্যবস্থার ফলে কৃষক তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবহন সংকটের জন্য উৎপাদিত পণ্য পচে নষ্ট হচ্ছে। তাই আধুনিক ও সময়োপযোগী কৃষি বিপণন ব্যবস্থা সময়ের দাবি।

করোনা পরবর্তী সম্ভাবনা: করোনায় অধিকাংশ দেশে উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। উৎপাদনমুখী অর্থনীতির জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ চীনের উপর অধিকতর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একক চীন নির্ভরশীলতা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ, ভারত বা ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি বড় সুযোগ হতে পারে।

বৈশ্বিক দুর্যোগের এই ধাক্কা আমাদের দেশে লাগলেও সরকারের সময়োপযোগী এবং কৃষি বান্ধব পদক্ষেপের ফলে দুর্যোগকালীন সার, বীজ ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা থমকে যায়নি। আগামী দিনগুলোতে কৃষককে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যদি ইউরোপীয় মানের খাদ্যশস্য, সবজি আমরা উৎপাদন করতে পারি। তবে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক খাদ্য ঘাটতির সুযোগে রফতানিমুখী বিপণন ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে; তেমনি বছর বছর মৌসুমে উদ্ধৃত পণ্য পচনের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com