আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

টমেটো চাষে কৃষক হাসে

জামালপুর সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের গ্রামগুলোয় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে এর দামও ভালো মেলায় কৃষকের মুখের হাসি আরও চওড়া হয়েছে। টমেটো চাষ করে পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ছয় হাজার কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

ইউনিয়নগুলো হলো তুলসীরচর, রানাগাছা, লক্ষ্মীরচর, শরিফপুর ও নরুন্দি। এসব ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের চরের ১ হাজার ৭ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। গত বছর এসব গ্রামে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়। এ বছর ৪০০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে।

কয়েকজন চাষি বলেন, পূর্বাঞ্চলের গ্রামের লোকজন টমেটো চাষকে তাঁদের অন্যতম পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এতে সফলতা পাওয়ায় প্রতিবছর গ্রামের পর গ্রামে এর চাষ বাড়ছে। টমেটোর বাজারখ্যাত নান্দিনা বাজার থেকে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মণ টমেটো ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। মৌসুমের শুরুর দিকে হওয়ায় বাজারে এখন ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে টমেটো বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে।

লক্ষ্মীরচর এলাকার বুলবুল আহম্মেদ বলেন, তিনি এবার এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এতে তাঁর ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিছুদিন ধরে টমেটো বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজারে এখন দাম খুব ভালো। এ পর্যন্ত তিনি পাঁচ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। তাঁর জমিতে যে পরিমাণ টমেটো রয়েছে, তা আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে তাঁর ২০ হাজার টাকা লাভ হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর বাজারে টমেটোর দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষক। প্রতি বিঘায় একজন চাষি খরচ বাদে এ বছর ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

আড়ত থেকে সরে গেল আলু!

সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দরে বিক্রি না করতে কুষ্টিয়া পৌর বাজারের আড়ত থেকে আলু সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু আলু থাকলেও সেগুলোও সরকারনির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়নি। এতে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন।

আজ রোববার এখানকার খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি আলু বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচ, বেগুন, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজিও ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করা হয়। এতে ক্রেতাদের মাথায় হাত পড়েছে।

হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আলু সরবরাহ কমে যায়। কেন এটা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রবিউল ইসলাম, বাজার তদারক কর্মকর্তা

গত বুধবার তিন পর্যায়ে আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কেজিপ্রতি খুচরায় ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগারে ২৩ টাকা করে আলু বিক্রি করতে বলা হয়। এরপর গত শনিবার কুষ্টিয়া পৌর বাজারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার তদারকি করেন। তিনি সরকারনির্ধারিত দামে আলু বিক্রির কড়া হুঁশিয়ারি দেন। আজ সকাল থেকে সেটা বাস্তবায়নের কথা।

আজ সকাল নয়টায় পৌর বাজারে গিয়ে আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। জানা গেল, প্রতিদিন এ বাজারে অন্তত ৩০ টন আলু কেনাবেচা হয়। সেখানে আজ মাত্র ৫ টন আলু রয়েছে। সেগুলো ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

বাজারের নূর ভান্ডারে গিয়ে দেখা যায়, আড়তে কোনো আলু নেই। সেখানে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারে দাম বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা আলু আনছেন না। হিমাগারেই ৩১ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। সরকার যদি বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) থেকে আলু সরবরাহ করে, তাহলে ভালো হয়।বিজ্ঞাপন

আড়তে দাম কমাচ্ছে না। তাই কাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবু জরিমানা দিতে রাজি না।

ইনসান আলী, আলুর খুচরা বিক্রেতা

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গতকাল সকালে ম্যাজিস্ট্রেট কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বিকেলে আড়ত থেকে তিনটি ট্রাকে করে আলু সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর যে পরিমাণ আলু রয়ে যায়, সেগুলো আড়তে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতারা সেই আলু ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, অনেক আড়তদার বিক্রি করা আলুর মেমো দিতে রাজি হননি। এ জন্য খুচরা বিক্রেতারা অনেকে আলু কেনেননি। অনেকে জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি করেননি।

খুচরা বিক্রেতা ইনসান আলী বলেন, আড়তে দাম কমাচ্ছে না। তাই কাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবু জরিমানা দিতে রাজি না।

জানতে চাইলে বাজার তদারক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আলু সরবরাহ কমে যায়। কেন এটা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

কয়েক বছর আগেও লাভজনক মাল্টার আবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। এখন সে শঙ্কা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তারা। কম জায়গায় এবং অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছে বেকার যুবকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় এ বছর ৬৩ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। আগামীতে মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক সেলিম উদ্দিন ও জাকির হোসেন নামে দুই যুবক দুই বছর আগে দুই বিঘা জমিতে শুরু করেছিলেন মাল্টার আবাদ।

এ বছর প্রথম ফল এসেছে তাদের গাছে। এ বাগানের বিক্রির উপযোগী ফলের মান ভালো রাখতে নিচ্ছেন বাড়তি পরিচর্যা। এখন পর্যন্ত বাগানে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফল বিক্রিতে লাভের আশা করছেন কয়েকগুণ। ইতিমধ্যে তারা এ বাগান থেকে লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রিও করেছেন। এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষক পেয়ারার সাথে মিশ্র পদ্ধতিতে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বাগান দেখতে আসা সাহেব আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, গ্রামে বিদেশি ফল মালটার আবাদ করেছে দুই যুবক- এটা জানতে পেরে আমি বাগানটি দেখতে এসেছি। এসে দেখি খুবই সুন্দর ফল ধরেছে। একটি ফল খেয়ে দেখেছি বাজারে যে ফল পাওয়া যায় তার থেকে অনেক বেশি সুস্বাদু।

মাল্টা চাষি জাকির হোসেন জানান, মাল্টা একটা বিদেশি ফল। আমাদের দেশের ফলের মার্কেট ভালো এবং মাল্টা চাষ অনেক লাভবান। আমার বাগানে প্রথম ফল এসেছে, ফল ইতিমধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়েছে। অনেক পাইকার ফল কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন। ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে তারা বলছেন। কিন্তু আমি চাচ্ছি আরেকটু বেশি।

মাল্টা চাষি সেলিম উদ্দিন জানান, আমরা দুজন মিলে দুই বছর আগে মাল্টা বাগান করেছি। এ বছর প্রথম ফল এসেছে। ফলের মান অনেক ভালো। এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। কিছুদিন পরই এগুলো বিক্রি করার উপযুক্ত হবে। তিনি জানান, অন্যান্য ফলের তুলনায় একটা মাল্টা বাগানের খরচ খুবই কম। যেমন আপনি এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ করেন সেখানে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করতে পারেন।

এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক চাষিই মিশ্র পদ্ধতিতে এ চাষ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে মসলেম হোসেন জানান, গ্রামের পাশের দুটি ছেলে মাল্টা বাগান করেছে। পাশাপাশি তারা চারা বিক্রির জন্য নার্সারি গড়ে তুলেছে। আমি তাদের কাছ থেকে কিছু চারা কিনে আমার পেয়ারা বাগানের সাথে মিশ্র চাষ শুরু করেছি।

আরেক মাল্টা চাষি রেজুয়ান বলেন, আমি ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। চাকরি না পেয়ে গ্রামের জাকির ও সেলিম ভাইয়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা দরে মাল্টার চারা কিনে ৮ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বেলে দো-আঁশ মাটিসমৃদ্ধ এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টা চারা রোপণ করে একটানা ২০ বছর ফল সংগ্রহ করা যায়।

প্রতিটা গাছ থেকে প্রথম বছর ১০ থেকে ২০ কেজি হারে ফল পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকে গড়ে এক মণের বেশি ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত চারা রোপণের দুই বছর পর গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

নওগাঁয় করলা চাষে সফল জলিল

এক সময় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন আব্দুল জলিল। পরিবার পরিজন ছেড়ে ঢাকায় থাকতে হতো। একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর গ্রামের বাড়িতে আসতেন। আসা-যাওয়ায় কাজে মন টিকতো না। এক প্রকার বাধ্য হয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ ছেড়ে দিয়ে গত জানুয়ারি মাসে নিজ গ্রাম নওগাঁর মান্দা উপজেলার বড়পই চলে আসেন।

এরপর থেকে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। জমানো টাকায় পৌনে তিন বিঘা জমি ইজারা (চুক্তি) নিয়ে রানী জাতের করলার আবাদ করে তার ভাগ্য বদলেছে। বাজারে ভালো দাম পেয়ে খুশি তিনি।

চাষি আব্দুল জলিল বলেন, গত ১৩ বছর ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেছেন। সেখানে স্বল্প পরিসরে খাবার জন্য শাক-সবজির আবাদ করতেন। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে হতো। এবার আর ঢাকায় কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জমি বন্ধক নিয়ে গ্রামে তিনি শাক-সবজি চাষ করছেন। দুই দফায় পৌনে তিন বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন। ২২ কাঠা জমি ২ বছরের জন্য নিয়েছেন ৩২ হাজার টাকায়। বাকি জমি ১৪ হাজার এবং ১৬ হাজার টাকা বছর। মোট জমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এ বছর এক বিঘা জমির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জমি প্রস্তুত করে গত ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিতে করলার চারা রোপণ করেন। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে এরই মাঝে মাচা তৈরি করে চারা রোপণ করেন। এক বিঘা জমিতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাঁচা তৈরিতে এবং শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে ২৬-২৭ হাজার টাকা। মোট জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে ফুল এবং ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে ফল ধরা শুরু হয়।

সপ্তাহে ২ দিন ক্ষেত থেকে প্রায় সাড়ে ৭ মণ করলা উঠানো হয়। যেখানে প্রথম দিকে ৩ হাজার টাকা মণ পাইকারী দাম পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে ২৪শ-২৬শ টাকা মণ। সর্বোচ্চ সাড়ে তিনমাস পর্যন্ত এ মাচায় করলা থাকবে। এরপর পটল। সব খরচ বাদ দিয়ে করলা মৌসুমে সাড়ে তিন মাসে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ থাকবে।

ইতোমধ্যে করলার মধ্যে পটলের গাছ লাগানো হয়েছে। করলা শেষ হওয়ার পর পটলের গাছ মাচায় উঠে যাবে। একই মাচায় পটলের আবাদ করা হলে মাচা তৈরির খরচটা লাগবে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার কারণে সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৌত্রিক সূত্রে পাওয়া ২ কাঠা জমিতে বসত বাড়ি। ৫ জন ছেলে এবং বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৯ জন। বড় দুই ছেলে শ্রমিকের কাজ করে এবং ছোট তিন ছেলে পড়াশুনার পাশাপাশি তাকে সহযোগীতা করে।

তিনি মনে করেন ধানের আবাদের চেয়ে সবজির আবাদ লাভজনক। স্বল্প সময়ে সবজি বাজারজাত করা যায় এবং নিয়মিত টাকা পাওয়া যায়।

মান্দা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

‘রূপভান’, ‘রানী’- দুটি আগাম জাতের শিমের নাম। চলতি মৌসুমে রূপভান ও রানীর মতো বিস্কুট, অটো, ইপসা-১,২ এবং বারী-১, ২ ও ৪ এ আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি হিসেবে শিমের আবাদ করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে শাদা ও বেগুনি ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাচা। এর মাঝে মাঝে
উঁকি দিচ্ছে নতুন শিম।

চোখ জুড়ানো দৃশ্য। আসি আসি করছে শীত। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় শীতকালীন সবজি হিসেবে শুরু হয়েছে শিমের আবাদ শিমের মাচা ভরে গেছে শাদা-বেগুনি ফুলে। আসতে শুরু করেছে শিমও। এসব আগাম জাতের শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা অনুকূল আবহাওয়ায় শিমের ভালো ফলন ও বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় বেশ খুশি চাষিরাও।

ইতোমধ্যেই আগাম জাতের শিম উঠতে শুরু করেছে বাজারে। ভালো দামও মিলছে। পুষ্ট গাছ ও প্রচুর ফুল ফোটায় চলতি মৌসুমে শিমের ভালো ফলন হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। ফলে করোনার দুঃসময়েও তাদের মুখে এখন মিষ্টি হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বছর জেলার চার উপজেলায় মোট ৭১৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শিমের আবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ৬৮ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৭১ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩০ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ১১২ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করেছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিম তুলতে ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে চাষিদের। গ্রামীণ সড়কে দাঁড়িয়ে যতো দূর চোখ যায় শুধুই শিমের সবুজ ক্ষেত। সবুজ পাতা আর বেগুনি ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে আদিগন্ত মাঠ।

ক্ষেতের পরিচর্যা ও নতুন শিম তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। শিম বিকিকিনির জন্য গ্রামে গ্রামে বসেছে অস্থায়ী বাজার। এসব বাজার থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমন ও ট্রাকবোঝাই করে শিম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে। এখানে বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। প্রথম দিকে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরেও শিম বিক্রি করেছেন বলে জানান কৃষকরা।

দামুড়হুদা উপজেলার ভগিরথপুর গ্রামের চাষি বাদশা মন্ডল বলেন, তার ২ বিঘা জমিতে শিমের লতায় ও ফুলে ভরে গেছে মাচা। ফুল ভরে গেছে প্রতিটি ডগা। ইতোমধ্যে শিম আসতে শুরু করেছে গাছে। প্রথম দিকে প্রচন্ড রোদ ও পোকার আক্রমণের কারণে ফুলে পঁচা লাগতো।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে কঠোর পরিশ্রম, নজরদারি, সার ও বালাইনাশক স্প্রে করার পর ফল দেখা দিয়েছে। এখন আর পঁচা লাগে না। একই উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, শিম মূলত শীতকালীন সবজি। বেশি দামের আশায় একটু আগেভাগে শিমের আবাদ করেছেন তিনি।

বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি শিম বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। বর্তমানে উৎপাদন বাড়ায় কিছুটা কমেছে শিমের দাম। নতিপোতা গ্রামের পাইকারি শিম ব্যবসায়ী সোলায়মান হক জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে শিম কিনে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়।

ইতোমধ্যেই নতুন শিম পাঠানো শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারেও চাহিদা ও দাম ভালো আছে শিমের। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষকরা এখন সচেতন হওয়ায় যেকোনো সমস্যায় সরাসরি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নেন তারা। সাধারণত আগাম সবজি চাষ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে, অসময়ে এ আবাদ থেকে চাষিরা বাড়তি আয় করতে পারেন। এসময় পোকা মাকড়, শাদা মাছি, শিম ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ বেশি থাকে।

নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারিতে রেখে বালাই নাশক স্প্রে করলে ফলন ভালো পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও জানান, এবার চলতি মৌসুমেরর শুরুতেও শিম ক্ষেতে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সুষ্ঠু পরিচর্যায় শেষ পর্যন্ত শিমের ফলন ভালো হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার দামও ভালো। শিমের উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়াল সরকার

কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন করে আলুর দাম নির্ধারণ করল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার অধিদপ্তরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় আলুর দাম খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

নতুন দর অনুযায়ী, হিমাগারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হবে ২৭ টাকা দরে। পাইকারি এ আলু ৩০ টাকায় বিক্রি করবেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত ৭ অক্টোবর আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা ও খুচরায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদিও এই দাম কোথাও কার্যকর হয়নি।

বাজারে ব্যাপকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় আলুর দর নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। গত সপ্তাহে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়।

যা স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৭ অক্টোবর দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর আলু কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয় ঢাকার বাজারে। দাম নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর গত দুই দিন ঢাকার কারওয়ান বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ ছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করা হয়নি।

আজ বিকেলে দাম নির্ধারণ নিয়ে সভার পর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কর্মকর্তাসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসন আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিজ্ঞপ্তিতে আলুর নতুন দাম কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ সভাপতিত্ব করেন। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com