আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

টবে ফুলের চাষ কেন করবেন

টবে ফুলের চাষ কেন করবেন
টবে ফুলের চাষ কেন করবেন

শহরে যারা থাকেন, তাদের জন্য ফুলের বাগান করার সুযোগ কম। কেবল বিল্ডিংয়ের ছাদ, বারান্দা, সিঁড়িঘরই ভরসা। তাই টবে দু-চারটা ফুলগাছ লাগানো যেতে পারে। সব ফুলের গাছ আবার টবে ভালো হয় না। সেজন্য জেনে নিন টবে চাষের উপযোগী ফুলগাছ কোনগুলো।

টবের উপযোগী
বৃক্ষজাতীয় দীর্ঘজীবী ফুলগুলো টবে রোপণ না করাই ভালো। বিভিন্ন মৌসুমী ফুল টবের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে যে ফুলগাছই রোপণ করা হোক না কেন, সেগুলো যেন রোদ পায়। একটু পরিকল্পনা করে টবে ফুলগাছ রোপণ করলে সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল পাওয়া যাবে।

টবের ফুলগাছ
গ্রীষ্মকালে গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা, সূর্যমুখী, জিনিয়া, পিটুনিয়া, মোরগঝুঁটি, দোপাটি, মণিকুন্তলা, বিচিত্রা ইত্যাদি চাষ করা যায়। বর্ষায় ভালো হবে হাইড্রেঞ্জিয়া, বেলি, জুঁই, চাঁপা, পত্রলেখা, তুষারমোতি, দোপাটি, জিনিয়া, সূর্যমুখী (ছোট), স্থলপদ্ম, মালতীলতা প্রভৃতি। শীতকালে গাঁদা, গোলাপ, ন্যাস্টারশিয়াম, প্যানজি, পিটুনিয়া, ভারবেনা, ক্যামেলিয়া, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কারনেশন, স্যালভিয়া, গোলাপ, জারবেরা, এজালিয়া ইত্যাদি। সারা বছর কাঞ্চন (সাদা), জবা, কামিনী, করবী, অলকানন্দা, জয়তী, হাজারপুটিয়া, নয়নতারা, সন্ধ্যামালতী বা সন্ধ্যামণি ইত্যাদি। দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে বেলি, জুঁই, বাগানবিলাস, গোলাপ, জবা, করবী, গন্ধরাজ, কাঞ্চন, কুন্দ, চাঁপা, মুসেন্ডা, কামিনী, অ্যালামন্ডা, স্থলপদ্ম, পোর্টল্যান্ডিয়া, ব্রানফেলসিয়া, ক্যামেলিয়া, টগর, শিউলি, পয়েনসেটিয়া উল্লেখযোগ্য।

টবে ফুলের চাষ কেন করবেন
টবে ফুলের চাষ কেন করবেন

সহজে মরে না
সহজে মরে না বা একটু কম যত্ন নিলেও ফুল ফোটে এমন গাছ রোপণ করতে চাইলে নয়নতারা, সন্ধ্যামণি, দোলনচাঁপা, কলাবতী, অ্যালামন্ডা, গাঁদা, বেলি, নাইটকুইন, হাসনাহেনা, রঙ্গন, মুসেন্ডা, কুঞ্জলতা, টাইমফুল প্রভৃতি পছন্দ করতে পারেন। লাগাতে পারেন ফুল দেওয়া বিভিন্ন ক্যাকটাস, এগুলো সহজে মরে না।

রোপণের নিয়ম
প্রথমে গাছের সঙ্গে মানানসই সাইজের টব সংগ্রহ করতে হবে। তবে ছোট গাছের জন্য বড় টব হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু বড় গাছের জন্য ছোট টব চলবে না। প্রতি টবের জন্য দো-আঁশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের একভাগ পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। এরসঙ্গে একমুঠো হাড়ের গুড়ো, দুই চা-চামচ চুন, দু’মুঠো ছাই মেশাতে পারলে ভালো হয়। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকে।

টবে ফুলের চাষ কেন করবেন
টবে ফুলের চাষ কেন করবেন

পরিচর্যা
মৌসুমী ফুলের ক্ষেত্রে মাসখানেক বয়সের ফুলের চারা টবে রোপণ করা উচিত। অন্য চারার বেলায় অল্পবয়সী ভালো ও তরতাজা, গাট্টাগোট্টা দেখে চারা বা কলম লাগানো ভালো। চারা লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে দিতে হবে। লাগানোর পর গোড়ায় পানি দিতে হবে। গাছকে খাড়া রাখার জন্য অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। গাছের চারা অবস্থা থেকেই এ ব্যবস্থা করতে হয়। এ কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা যেতে পারে। সদ্য লাগানো ফুলের চারা কয়েক দিন ছায়ায় রেখে সহনশীল করে নিতে হয়। এ অবস্থায় সকালে ও বিকেলে রোদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুড়ো না করে চাকা চাকা করে খুঁচে দেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে মাটি খোঁচানোর গভীরতা হবে ৩-১০ সেন্টিমিটার বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চি। এ কাজটি প্রতি ১০ দিনে একবার করে করতে হবে।

সার
কুঁড়ি আসার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ৫০ গ্রাম টিএসপি (কালো সার), ১০০ গ্রাম ইউরিয়া (সাদা সার) ও ২৫ গ্রাম এমওপি (লাল সার) একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতি গাছে এক চা-চামচ করে ১০ দিন অন্তর দিতে হবে। তবে এক মৌসুমে এই রাসায়নিক সার তিনবারের বেশি দেওয়া যাবে না। তবে রাসায়নিক সার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সার কোনোক্রমেই শেকড়ের ওপর না পড়ে। ট্যাবলেট সার দিলে এসব সার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

টবে ফুলের চাষ কেন করবেন
টবে ফুলের চাষ কেন করবেন

বেশি ফুল চাইলে
বেশিদিন ফুল ফোটাতে চাইলে গাছে ফুল শুকাতে দিবেন না। ফুল শুকানো শুরু হলেই ফুল কেটে দিতে হয়। এতে ভালো ফুল পাওয়া যায়। গাঁদা, অ্যাস্টার, চন্দ্রমল্লিকা প্রভৃতি গাছ থেকে বেশি ফুল বেশিদিন পেতে চাইলে প্রথম দিকে আসা কিছু কুঁড়ি চিমটি দিয়ে ছেঁটে দিতে হয়।

পরিবেশ

মশিউরের পর্তুলিকার রাজত্ব

ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ছাদবাগানে পর্তুলিকা ফুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত মশিউর রহমান। মঙ্গলবার সকালে তোলা। ছবি: প্রথম আলো
ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ছাদবাগানে পর্তুলিকা ফুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত মশিউর রহমান। মঙ্গলবার সকালে তোলা। ছবি: প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের যুবক মশিউর রহমান। নিজের ছাদবাগানে সংগ্রহ করেছেন প্রায় এক শ ধরনের পর্তুলিকা। সারা দেশের সংগ্রাহকদের মধ্যে সেসব পর্তুলিকা বিলিয়ে দিচ্ছেন বিনা মূল্যে। সব প্রাণীর জন্য বাসযোগ্য সমাজ গড়তে গ্রামের ফাঁকা জায়গায় নিজ উদ্যোগে রোপণ করেছেন হাজারো ফলদ গাছ।

জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মিরকুটির ছেও গ্রামের মকবুল হোসেনের সন্তান মশিউর রহমান। একটি বেসরকারি কলেজের তড়িৎ প্রকৌশলের শিক্ষক তিনি। প্রকৃতি রক্ষায় নানান কাজের পাশাপাশি বসতবাড়ির ছাদে চমৎকার এক বাগান গড়ে তুলেছেন। সেই বাগানে ঠাঁই পেয়েছে নানান রঙের পর্তুলিকা।

পর্তুলিকার রাজত্ব
দোতলা ভবনের ছাদজুড়ে সারি সারি টব। আপেল, কমলা, ব্লু ডেইজ, অর্কিড, শাপলা, এমারলিস লিলি, গোলমরিচ, চুইঝাল, চন্দন, এলাচি, আলু বোখারাসহ নানান জাতের প্রায় ৫০০ গাছ মাথা উঁচু করে আছে এসব টবে। চার বছর ধরে মশিউর তাঁর বাড়ির ছাদে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। ছাদের এক পাশে ককশিটের তৈরি টবে হাজারো ছোট ছোট ফুল। সবুজ লতানো ঘাসের বুকে যেন লাল, গোলাপি, সাদা, খয়েরি, বেগুনির মতো অজস্র রঙের মেলা বসেছে। মুখভর্তি হাসি নিয়ে মশিউর পরিচয় করিয়ে দেন, ‘এই আমার পর্তুলিকার রাজত্ব’। পার্সোলিন, ডায়মন্ড রিং, মসরোজ, জায়ান্ট ও টায়রা প্রজাতির প্রায় ৯৮ ধরনের পর্তুলিকা মশিউরের রাজত্বে। তিন বছর আগে শখের বশে পর্তুলিকা সংগ্রহ শুরু হলেও বর্তমানে তা নেশায় পরিণত হয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে ৬০ ধরনের পর্তুলিকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সংগ্রাহকের কাছ থেকে নিয়েছেন আরও ৩৮ ধরনের পর্তুলিকা। এসব সংগ্রহ করতে গিয়ে শুরুতে পরিবারের বাধার মুখে পড়লেও এখন তাদের কাছেই সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পান তিনি।

পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার
ছেলেবেলা থেকেই প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে মশিউরকে চেনেন আশপাশের লোকজন। তবে পর্তুলিকার বড় সংগ্রাহক হিসেবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে চেনেন সবাই। মশিউর বলেন, ‘দেশের প্রায় দুই হাজার মানুষকে বিনা মূল্যে পর্তুলিকা দিয়েছি। এতে দেশব্যাপী একটা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। মানুষের মনে সৌন্দর্যবোধ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা থেকে পর্তুলিকা বিলানো শুরু করলেও এই পর্তুলিকা এখন আমার পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বন্ধুদের সামাজিক বনায়নে অর্থায়নের আহ্বান জানাচ্ছি। পরিচিতির কারণে তারা আমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে। এভাবে অর্থ সংগ্রহ করে গত বর্ষায় গ্রামের বিভিন্ন সড়কের পাশে প্রায় এক হাজার ফলের গাছ লাগিয়েছি।’

আয়ের পথ
স্নাতক শেষে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে হবিগঞ্জ চলে যান মশিউর। তখন বাগান ও পর্তুলিকা দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তাঁর ছোট ভাই মেহেদী হাসান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী সে সময় থেকেই পর্তুলিকা বিক্রি শুরু করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মেহেদি জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অনেক কিছু বিক্রি করে। ভাইয়ার সংগ্রহ থেকে আমিও পর্তুলিকা বিক্রি শুরু করি। প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার পর্তুলিকা বিক্রি করেছি।’

এদিকে চাকরিতে মন টেকেনি মশিউরের। নিজের বাগানের টানে আবারও গ্রামে ফিরে আসেন। অনেকেই বাড়তি আয়ের জন্য পর্তুলিকা বিক্রি করছেন বলে জানান মশিউর। তাঁদের মধ্যে গৃহিণীরা এগিয়ে। পর্তুলিকা চাষকে পেশা হিসেবে নেওয়া সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

গড়তে চান বাসযোগ্য সমাজ
মশিউরের বারান্দায় আসা পাখিদের জন্য খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি। পশুপাখির বাসস্থান ও খাবার জোগানের জন্য গ্রামের ফাঁকা জায়গা ও সড়কের পাশে কয়েক হাজার ফলদ গাছ রোপণ করেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েক শ তালের আঁটি সংগ্রহ করেছেন সড়কের পাশে রোপণের জন্য। গ্রামের যুবকদের সঙ্গে মিলে সড়কের পাশে রোপণ করেছেন শত শত সুপারিগাছ। মশিউর মনে করেন, মানুষের মতো অন্যান্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গেরও এই সমাজে সমান অধিকার আছে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে মানুষ নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংস করছে। ফলে পরিবেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পোকামাকড় ও পশুপাখি হারিয়ে যাচ্ছে। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে পৃথিবী। মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায় সমাজকে সব প্রাণের জন্য বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব বলে বিশ্বাস মশিউরের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

গোলাপের রাজ্যে তামাকের আগ্রাসন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলীতে গোলাপের জায়গায় এখন তামাকের চাষ হচ্ছে। বরইতলী ইউনিয়নের মাইজপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায়। প্রথম আলো
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলীতে গোলাপের জায়গায় এখন তামাকের চাষ হচ্ছে। বরইতলী ইউনিয়নের মাইজপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায়। প্রথম আলো

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী নামটি সারা দেশে পরিচিত গোলাপের গ্রাম হিসেবে। সেই পরিচয় এখন ম্লান হতে চলেছে। গোলাপের রাজ্যে চলছে এখন তামাকের আগ্রাসন। বরইতলী গ্রামে গোলাপ আর তামাকের অবস্থান পাশাপাশি।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার মধ্যে শুধু বরইতলী ইউনিয়নে গোলাপের চাষ হয়। এই ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে বর্তমানে ৫০ একর জমিতে গোলাপের চাষ হচ্ছে। তামাকের চাষ হচ্ছে পাঁচ একর জমিতে। গোলাপ চাষের সঙ্গে অন্তত ৩০০ জন চাষি ও শ্রমিক জড়িত আছেন। 

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছর উপজেলায় তামাকের চাষ কমেছে বলে দাবি করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায়নি বরইতলী এলাকায় গিয়ে। সেখানে গত বছরের চেয়ে এবার তামাকের চাষ বেশি দেখা গেছে। স্থানীয় চাষিরা বলছেন, বাজারে কাগজের ফুল ও চীনা ফুলের কদর বেড়ে যাওয়ায় আসল গোলাপের চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে প্রতিবছর লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা। অন্যদিকে তামাকে গোলাপ চাষের চেয়ে লাভ বেশি। এ কারণে চাষিরা তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। 

তামাকচাষি ছৈয়দুল আলম বলেন, ‘১০ বছর ফুলের চাষ করেছি। শেষের তিন বছর ফুল চাষ করে সুবিধা করতে পারিনি। এ কারণে এখন তামাকের চাষ করছি। ছৈয়দুল চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে তামাকের চাষ করেছেন।’ 

ফুলচাষিরা জানিয়েছেন, বরইতলী থেকে চাষিরা সরাসরি চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়, ঢাকার শাহবাগ ও সাভার এবং কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন আড়তে গোলাপ ও গ্ল্যাডিওলাস ফুল সরবরাহ করেন। এবার আড়তদারদের কাছে প্রতিটি গোলাপ সাড়ে আট টাকা ও গ্ল্যাডিওলাস ১১-১২ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। 

উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের দরগাপাড়া, মাইজপাড়া, আলমনগর, হিন্দুপাড়া, বড়পাড়া, ওপরঘোনা, খয়রাতিপাড়া এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ করেছেন চাষিরা। ওই এলাকার জমিগুলোতে গ্ল্যাডিওলাস, গোলাপ, চায়না গাঁদা, হলুদ গাঁদা, জারবেরা, জিপসিসহ নানান প্রজাতির ফুল ফুটেছে।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাইজপাড়া এলাকায় গোলাপ বাগানের পাশেই তামাকের চাষ করা হয়েছে। এই গোলাপ বাগানটি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের। তিনি বলেন, তাঁর বাগানের চারপাশে গত দুই বছর আগেও গোলাপ ও গ্ল্যাডিওলাস ফুলের চাষ হতো। এখন শুধু তাঁর বাগানটি ছাড়া চারপাশের সব জমিতে তামাকের চাষ করা হয়েছে। বিষয়টি এখন এমন যে, গোলাপের রাজ্য যেন তামাক দখল করে নিয়েছে। 

ফুল বাগানের শ্রমিক বেলাল উদ্দিন বলেন, ভালোবাসা দিবস, পয়লা বৈশাখ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও  বর্ষবরণের রাতে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। এসব দিবসকে ঘিরে অগ্রিম প্রস্তুতিও থাকে ফুলচাষিদের। তবে এ বছর গত বছরের তুলনায় দিবসগুলোতে ফুল বিক্রি কম হয়েছে।

বরইতলী ফুল বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম বলেন, ৩৫ বছর ধরে বরইতলী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফুল যাচ্ছে। তবে প্রতিবছর ফুলের চাষ কমছে। এসব এলাকায় সবজি ও তামাকের চাষ বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাজারে প্লাস্টিকের ফুলের কদর  বাড়ছে। সামাজিক অনুষ্ঠানে এখন কৃত্রিম ফুল ব্যবহার করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

অদ্ভুত কিছু ফুল

পৃথিবীর সব মানুষই কম বেশি ফুল ভালোবাসেন। পরিচিত ফুলের বাইরেও রয়েছে অনেক রকমের অদ্ভুত ফুল। এমন কিছু অদ্ভুত ফুল নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের অ্যালাবাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ফুলচাষিদের দুর্ভোগ: এখনই তাকানোর সময়

ফুলচাষিদের দুর্ভোগ: এখনই তাকানোর সময়

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ

জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ
জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ

বেনজীর আহমেদ সিদ্দিকী

বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষার শেষে এবং শরতের শুরুতে বিল-ঝিল, পুকুরে সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্ত থেকে ফুটতে শুরু করে মনোমুগ্ধকর জলজ ফুলের রানি ‘পদ্ম’! সারারাত ধরেই একে একে পাল্লা দিয়ে সৌরভ ছড়িয়ে ফুটতে থাকে পদ্মফুল। তাই এক বিল বা পুকুর পদ্ম যেন গভীর সৌন্দর্যের আধার। তবে কালের পরিক্রমায় বাংলাদেশে পদ্ম বিল ও পুকুর অনেক কমে এসেছে।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ঘাগুটিয়ার পদ্মের বিল, ফরিদপুরের বিল গজারিয়া ও সদরের ঝিলটুলি এলাকায় সিভিল সার্জনের সরকারি বাসভবনের পুকুর, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার রাবান এলাকার বিল, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার খইলাপুরী বিল, গোপালগঞ্জের করপাড়ার বলাকইর বিল, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জাদুরতাইর ও ঝারাবর্ষা বিল, নাটোরের বড়াই গ্রামের বিল, রাজশাহীর মোহনপুরের সাবাই বিল, নড়াইলের রামগর চরের বিল এবং বরিশালের বিআইডব্লিউটিএ’র পুকুরে বসে পদ্মের মেলা।

জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ
জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ

কমল, শতদল, সহস্রদল, উৎপল, মৃণাল, পঙ্কজ, অব্জ, অম্বুজ, নীরজ, সরোজ, সররুহ, নলিনী, অরবিন্দ, ইন্দিরা, কুমুদ ইত্যাদি সমার্থক নামের পদ্ম সৌন্দর্য, বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার প্রতীক। পদ্মের সৌন্দর্য ও বৈচিত্র মানুষকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে, তাই বাংলা প্রবাদেও পাওয়া যায় ‘কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন’।

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পদ্মের ব্যবহার হয়ে আসছে। উপমহাদেশে পদ্মফুলের একেক স্তরের পাপড়ি ধর্মীয় শিক্ষা বা সংস্কারে বিভিন্ন অর্থ বহন করে। হিন্দু বা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম জীবন, উর্বরতা ও পবিত্রতার প্রতীক। হিন্দু ধর্মমতে, নারায়ণের নাভি থেকে নির্গত পদ্ম ব্রহ্মার আসন আর শ্বেতপদ্ম বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আসন।

জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ
জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ

হিন্দু ধর্মে বলা হয়, প্রত্যেক মানুষের মাঝেই পদ্মের পবিত্র আত্মা রয়েছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, পদ্মফুলের কুঁড়ি যেমন কোমল, ঈশ্বরের স্পর্শ আর দর্শনও সেরকম। পদ্মকে পবিত্র বলে মনে করে বৌদ্ধরাও। পদ্মফুলকে অনেক দেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। গোলাপি পদ্ম গৌতম বুদ্ধের কিংবদন্তির ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়।

পদ্মফুল নিয়ে একধরনের মিথ আছে, এর সৌরভে না-কি সাপ চলে আসে এবং পাতার আড়ালে লুকিয়ে ফুলের সৌরভ উপভোগ করে। বিষয়টি মিথ হলেও একেবারেই ফেলনা নয়। আসলে সাপ আসে ইঁদুরের লোভে। পদ্মফুলের গোড়ায় এর বীজ (পদ্ম খোঁচা) হয়। এই বীজ খেতে ইঁদুর আসে। আর তাকে ধরতে মাঝে মাঝে আগমন ঘটে সাপের।

জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ
জেনে নিন পদ্মের যত ওষুধি গুণ

পদ্মের বীজ বেশ সুস্বাদু, ফ্যাট, মিনারেল ও ট্রেস উপাদানযুক্ত। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ বীজ দ্রুত ক্ষুধা নিবারণ করতে পারে। তাই ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় এ বীজ খেয়ে কয়েকদিন না খেয়ে থাকত গেরিলা এবং সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া পদ্মের আছে অনেক ওষুধি গুণাবলী। ভেষজ ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নিম্নোক্ত গুণাগুণ পাওয়া যায়-

১. শ্বেতী বা ভিটিলিগো রোগে পদ্মপাতার নির্যাসের কার্যকারিতা আছে।
২. পদ্মের পাতা শরীরের নানা ধরনের প্রদাহ ও জ্বরের তাপমাত্রা কমাতে প্রাচীনকালে ব্যবহৃত হতো।
৩. এখনো অনেক গ্রামে গেলে দেখা যায়, জ্বর হলে বাচ্চাদের পদ্মপাতায় শুইয়ে রাখতে।
৪. অর্শ্ব বা গেজ রোগে পদ্মপাতা ও মূল ব্যবহৃত হয়।
৫. পদ্মের পাপড়ির নির্যাস হৃদশূলের (এনজাইনা পেকটোরিস) যন্ত্রণা কমায়।
৬. প্রসবের পর মায়েদের নাড়ি সরে এলে (প্রোলাপ্স অব ইউটেরাস) সারাতে ভূমিকা রাখে।
৭. শুষ্ক কাশি নিরাময়ে বাসক পাতা ও মধুর সাথে পদ্মের মূল ও কেশর ভালো কার্যকারিতা দেয়।

৮. নারীদের অনিয়মিত ঋতুস্রাবে পদ্মের মূল ও বীজ বেশ কাজের।
৯. পদ্মবীজ দেহের ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সহায়তা করে।
১০. পদ্মবীজের প্রোটিন ও কার্বহাইড্রেট ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারী।
১১. পদ্মবীজ দেহের ওজন কমাতে সহায়তা করে।
১২. এর বীজ গ্যাস্ট্রাইটিস ও রক্তপাতজনিত সমস্যা দূর করতে সহায়ক।
১৩. পদ্ম মধু থেকে চোখের ওষুধ তৈরি হয়।
১৪. ত্বক সুন্দর করতে পদ্মপাতা, ফুলের পাপড়ি ও বীজের নানা ভূমিকা আছে।
১৫. ‘সুগন্ধি’ বা ‘অ্যারোমা’ হিসেবে প্রসাধনী শিল্পে পদ্ম ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

একসময় গ্রামবাংলার হাট-বাজারে গুঁড়া মসলা, গুড়, চিনি, লবণ, অন্য জিনিসপত্র এবং বিভিন্ন মেলায় বাতাসা, মোয়া, মুড়ি, মুড়কি, নাড়ু, লাড্ডু ইত্যাদি পদ্মপাতায় সুন্দরভাবে বেঁধে বিক্রি করা হতো। সহজলভ্য ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এর ব্যবহার ছিল অসাধারণ। এখনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় প্রথাগত নিয়ম অনুযায়ী পদ্মপাতায় খাবার পরিবেশন করা হয়। দৈনন্দিন নানা কাজে এর পাতা ও ফুল ব্যবহার করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com