আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

টবে গোলাপ চাষের নিয়ম

টবে গোলাপ চাষের নিয়ম
টবে গোলাপ চাষের নিয়ম

শহরে কিংবা গ্রামে বাড়ির ছাদে বা আশেপাশে শখ করে অনেকেই টবে ফুল চাষ করেন। সেই ক্ষেত্রে বেশির ভাগেরই পছন্দ গোলাপ। আপনি যদি টবে গোলাপ চাষ করতে চান তাহলে আপনাকে গোলাপ চাষ সম্পর্কে কিছু বিষয় জেনে নিতে হবে।

চারা রোপণ
নতুন চারা না লাগিয়ে একবছরের পুরনো চারা লাগাতে পারেন। চারাটি সোজাভাবে গর্তের মধ্যে লাগাতে হবে। চারার শেকড় ভালোভাবে মাটি দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দিতে হবে। জোড় কলমের মাধ্যমে উৎপাদিত চারার জোড়ের স্থানটি মাটি থেকে অন্তত ৩-৪ সেন্টিমিটার উপরের দিকে রাখতে হবে।

টবে গোলাপ চাষের নিয়ম
টবে গোলাপ চাষের নিয়ম

গাছ ছাঁটাই
নতুন শাখা ভালোভাবে বিস্তৃত করার জন্য পুরনো ডাল, ক্ষত ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে বাদ দিতে হয়। বড় গোলাপ পেতে হলে গাছ নিয়মিত ছাঁটাই করতে হয়। আশ্বিন মাসকে গাছ ছাঁটাইয়ের উপযুক্ত সময় ধরা হয়।

সার প্রয়োগ
গাছ ছাঁটাইয়ের ১০-১২ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছ প্রতি ২-৩ কেজি পঁচা শুকনো গোবরের সঙ্গে ৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম পটাশ দিতে হবে। টবের উপর থেকে ১০ সেন্টিমিটার মাটি সরিয়ে নিচের মাটি কিছুটা আলগা করে সারগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এসময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে শিকড়ের কোন ক্ষতি না হয়। হাঁস-মুরগি বা কবুতরের বিষ্ঠা সার হিসেবে গোলাপ গাছে দেওয়া যেতে পারে।

টবে গোলাপ চাষের নিয়ম
টবে গোলাপ চাষের নিয়ম

পানি
• চারা লাগানোর পরে চারার গোড়ায় প্রথম দিকে ঘন ঘন পানি দিতে হবে।
• টবের মাটিতে ভালোভাবে চারা গজালে এবং নতুন ডালপালা ছাড়ার পরে খরা মৌসুমে প্রতি ১০ দিন পর পর একবার করে সেচের মতো পানি দিতে হবে।
• প্রত্যেকবার পানি সেচের পরে গাছের গোড়ার মাটি ঝরঝরে করে দিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ
টবে চাষ করার সময় পোকা আক্রমণ করলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন।

টবে গোলাপ চাষের নিয়ম
টবে গোলাপ চাষের নিয়ম

পরিচর্যা
১. চারার জোড়া জায়গাটির নিচে কোন প্রকার ডালপালা বের হলে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দিন।
২. বড় আকারে ফুল পেতে হলে প্রথম দিকে বের হওয়া পুষ্পকুড়ি ভেঙে দিন।
৩. মার্চ-এপ্রিল মাসে পঁচা গোবর এবং কম্পোস্টের মালচ গাছের গোড়ায় দিন।
৪. পুরান ডালে ফুল ভালো হয় না। তাই ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে।
৫. ছাঁটাইকৃত ডালের সামনে ছত্রাকনাশক ঘন করে গুলে লাগিয়ে দিন।
৬. গাছের গোড়া থেকে ২০ সেন্টিমিটার দূরে গোল করে মাটি খুঁড়ে শেকড় বের করে দিন।
৭. ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংস করতে এভাবে মাটি খুঁড়ে ৮-১০ দিন রাখতে পারেন।

ফুল

চাষ করতে পারেন খোঁপায় গোঁজা বেলি ফুল

ফুলের চাষবাস এদেশে অনেক আগেই শুরু হয়েছে। অর্থকরী ফসল হিসেবে বেশ সাফল্যও এসেছে। বেশিরভাগ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া, মালায় সুগন্ধি ফুল হিসেবে বেলি ফুলের কদর আছে। তাই এটি একটি অর্থকরী ফুল। ফলে আপনিও চাষ করতে পারেন খোপায় গোঁজা বেলি ফুল।

জাত
তিন জাতের বেলি ফুল দেখা যায়। যথা- সিঙ্গেল ও অধিক গন্ধযুক্ত, মাঝারি ও ডাবল ধরনের এবং বৃহদাকার ডাবল ধরনের।

বংশবিস্তার
বেলি ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়।

চাষ ও সার
বেলে মাটি ও ভারি এঁটেল মাটি ছাড়া সবধরনের মাটিতে বেলি ফুল চাষ করা যায়। জমিতে পানি সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকা ভালো। জমি ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরা ও সমান করতে হবে। জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট এবং এমপি প্রয়োগ করতে হবে। প্রায় ১ মিটার অন্তর চারা রোপণ করতে হবে। চারা লাগানোর পর ইউরিয়া প্রয়োগ করে পানি সেচ দিতে হবে।

কলম বা চারা
গ্রীষ্মের শেষ থেকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলি ফুলের কলম বা চারা তৈরি করা যায়। চারা থেকে চারা ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেমি হতে হবে। চারা লাগানোর জন্য গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটির রোদ খাইয়ে, জৈব সার ও কাঠের ছাই গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। এরপর প্রতি গর্তে বেলির কলম বসাতে হবে। বর্ষায় বা বর্ষার শেষের দিকে কলম বসানোই ভালো। তবে সেচের ব্যবস্থা ভালো হলে বসন্তকালেও কলম তৈরি করা যায়।

টব
জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার পরিমাণমতো মিশিয়ে টবে বেলি ফুলের চাষ করা যায়। টব ঘরের বারান্দা বা ঘরের ছাদে রেখে দেওয়া যায়।

সেচ
বেলি ফুলের জমিতে সবসময় রস থাকা দরকার। গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পরপর শীতকালে ১৫-২০ দিন পরপর ও বর্ষাকালে বৃষ্টি সময়মতো না হলে জমির অবস্থা বুঝে ২-১ টি সেচ দেওয়া দরকার।

আগাছা
জমি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। খড় কেটে কুচি করে জমিতে বিছিয়ে রাখলে সেচের প্রয়োজন কম হয় এবং আগাছাও বেশি জন্মাতে পারে না।

ছাঁটাই
প্রতিবছরই বেলি ফুলের গাছের ডাল-পালা ছাঁটাই করা দরকার। শীতের মাঝামাঝি সময় ডাল ছাঁটাই করতে হবে। মাটির ওপরের স্তর থেকে ৩০ সেমি উপরে বেলি ফুলের গাছ ছাঁটাই করতে হবে। অঙ্গ ছাঁটাইয়ের কয়েকদিন পর জমিতে বা টবে সার প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ-বালাই
বেলি ফুল গাছে ক্ষতিকারক কীট তেমন দেখা যায় না। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে। আক্রান্ত পাতাগুলো কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাকিয়ে যায়। গন্ধক গুঁড়া বা গন্ধকঘটিত মাকড়নাশক ওষুধ যেমন সালট্যাফ, কেলথেন ইত্যাদি পাতায় ছিটিয়ে মাকড় দমন করা যায়। বেলি ফুলের পাতায় হলদে বর্ণের ছিটেছিটে দাগযুক্ত একপ্রকার ছত্রাক রোগ দেখা যায়। এগ্রোসান বা ট্রেসেল-২ প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায়।

ফলন
ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গাছে ফুল ফোটে। ফলন প্রতিবছর বাড়ে। লতানো বেলিতে ফলন আরও বেশি হয়। সাধারণত ৫-৬ বছর পর গাছ কেটে ফেলে নতুন চারা লাগানো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জবা ফুল চাষের পদ্ধতি শিখে হয়ে উঠুন লাভবান কৃষক

পুজো হোক বা উপাসনা, আয়ুর্বেদ হোক বা ভেষজ ওষধি- জবা ফুল বাঙালি জীবনে অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাহিত্য অথবা গানের লাইনেও বারংবার প্রতিফলিত হয়েছে জবার সৌন্দর্য্যের বিভিন্ন দিক। বিভিন্ন রঙের জবা পাওয়া গেলেও লাল জবা অথবা রক্তজবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বেশিরকমের গুরুত্ব পেয়েছে। গোটা বছর ধরেই জবার ভীষণ ভাবে চাহিদা থাকার জন্য এই ফুল বাণিজ্যিক ভাবে প্রচুর চাষ হয়। বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরের উঠোনেও এই ফুল ফুটতে প্রচুর পরিমানে দেখা যায়। পুষ্পধারী গুল্ম জাতীয় এই উদ্ভিদের মূলত পূর্ব এশিয়াতেই উদ্ভব। বলা চলে ভাদ্র-অশ্বিন মাসেই এই ফুলের চাষের সবথেকে ভালো সময়। চাষিরাও এই ফুল চাষ করে ভীষণই আর্থিক ভাবে উপকৃত হন। বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় জবা ফুল চাষ যথার্থ ভাবেই একটি অর্থকরী চাষ। জেনে নেওয়া যাক, জবা ফুলের চাষের সহজতম পদ্ধতি।

মাটি (Soil)

বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে জবা ফুল ভালো ফুটলেও, প্রায় সব মাটিতেই এই চাষ সম্ভব। জেনে রাখা ভালো সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করলে ফুলের গুনগত মান ভালো হয়।

রোপন পদ্ধতি(Planting)

জবা গাছ বসানোর ক্ষেত্রে প্রতি সারিতে ৩-৪ মিটার অন্তর দেড় ফুট ঘন গভীর গর্ত করতে হবে। চারা লাগিয়ে গোড়ার মাটি চেপে দিতে হবে। জলও দিতে হবে প্রয়োজন মতো। মাটির পাশাপাশি টবেও এই গাছ লাগানো যেতেই পারে। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে টবটিতে যেন জল দাঁড়াতে না পারে। উপযুক্ত রোদ লাগে, এমন জায়গাতেই টবটি রাখতে হবে। পাঁচ-ছ’ঘণ্টা রোদ থাকে, এমন জায়গায় জবা গাছ বসানো সবসময় উচিত। গাছে ফুল আসার সময়ে প্রতি লিটার জলে ২৫ মিলিলিটার ল্যানোফিক্স মিশিয়ে দৈনিক হারে স্প্রে করে দিতে হবে। 

সার প্রয়োগ (Fertilizer)

জবা গাছের গোড়ায় মাটি খুঁড়ে সার বর্ষার আগে ও শীতের মরশুমে দেওয়া উচিত। পুকুরের জলজ পাঁকও জলজ সার হিসাবে দেওয়া যায়। জবা গাছ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ার জন্য এই চাষ নিয়ে চাষিদের কোনও মাথাব্যথা থাকারও কথা নয়।

রোগবালাই প্রতিকার (Disease Management)

পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া জবা গাছের অন্যতম অসুখ হিসাবে গণ্য করা হয়। জল দেওয়ার ফলে মূলত শীতকালে এই সমস্যা দেখা যায় বলে অনেকে মনে করেন।  গ্রীষ্মকালে অত্যন্ত তাপে অনেক সময় পাতা শুকিয়েও যায়। এছাড়া পাতায় মাঝে মাঝে সাদা দাগ দেখা যায়। ওই সমস্যা দেখা দিলে সাবান দিয়ে পাতা ধুয়ে দেওয়া উচিত। গাছের গোড়ায় যাতে সাবান জল যাতে না পৌঁছায় তাতে খেয়াল রাখতে হবে।

জবা গাছের পরিচর্যা (caring)

শীতকালে অন্যান্য ঋতুর তুলনায় কম জল প্রয়োজন হয় জবা গাছের। এই সময়ে গাছের গোড়া বেশি ভিজে থাকলে অনেক সময় মরে যায় জবা গাছ ৷ বছরে দু’বার করে এই গাছ ছাটাই করা উচিত। ফাল্গুন-চৈত্র ও ভাদ্র-আশ্বিন মাসে গাছ ছেটে দেওয়ার সবথেকে উত্তম সময়। মনে রাখতে হবে জবা চাষ করার সময় যাতে আগাছা না বাড়তে পারে। আগাছা হলে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিষ্কার করে দেওয়া আশু কর্তব্য। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

আধুনিক পদ্ধতিতে জিনিয়া ফুলের চাষ করে দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করুন

জিনিয়া শীতকালীন ফুল হলেও সারাবছর চাষ করা যায়। বীজের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা যায়। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর মাসে এ ফুলের বীজ বপন এবং চারা উত্পাদনের উপযুক্ত সময়। রৌদ্রোজ্জ্বল সুনিষ্কাশিত উর্বর দো-আঁশ মাটি এ ফুল উত্পাদনের জন্য বেশি উপযোগী। স্যাঁতসেঁতে জমিতে এর উৎপাদন ভালো হয় না।

জিনিয়ার জাত (Variety) :

জিনিয়ার সবচাইতে জনপ্রিয় জাত হচ্ছে ডাবল ফুল । এটি পুরোপুরি চন্দ্রমল্লিকার মতই দেখতে। বাণিজ্যিকভাবে এই জাতের ফুলটির চাহিদা বেশি থাকায় এর বীজ সব জায়গায়  পাওয়া যায় ।

জিনিয়া ফুল চাষের জন্য জমি তৈরি ও টবের মাটি তৈরি:

জমিতে চাষ করলে লাঙ্গল দিয়ে খুব ভালো ভাবে চাষ দিয়ে নিতে হবে এবং মাটিতে উপস্থিত জৈব উপাদানের পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজন মতো পচা গোবর ও পাতা পচা সার প্রয়োগ করতে হবে। জিনিয়ার জমিতে হাড়ের গুড়া বা সুপার ফসফেট এর প্রয়োজন হয়।

জমিতে চাষ করলে প্রয়োজনমতো হাড়ের গুরো বা সুপার ফসফেট যথেষ্ট পরিমাণে মিশিয়ে দিতে হবে।

টবে জিনিয়া ফুল চাষ করলে মাটি তৈরির সময় ৪০% পরিমাণ জৈব সার ৬০ % দোআঁশ মাটি দিয়ে টপ বোঝাই করতে হবে । এরপর টবের প্রতি ফুট মাটির সাথে (মানে ২০ কেজি মাটির) সাথে ৭ চা চামচ পরিমান হাড়ের গুড়া বা সুপার ফসফেট সার প্রয়োগ করে নিতে হবে। এছাড়াও টপ ভরাট করার সময় মাটিতে দুই থেকে তিন চামচ কলিচুন এবং একমুঠো রেড়ির খৈল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর এই টপ টি কে অন্তত এক মাস ঐ অবস্থায় মাটি সহ রেখে দিতে হবে।

জিনিয়া ফুল গাছের চারা রোপন:

জমিতে রোপণ করলে চারাগুলো ৫ থেকে ৮ সেন্টিমিটার পরিমাণ লম্বা হলেই ২০ তলা থেকে তুলে রোপন করে দিতে হবে সে ক্ষেত্রে চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে দেড় ফিট বা ৪৫ সেন্টিমিটার। টবে জিনিয়া ফুলের চারা রোপন করলে টব প্রতি একটি বা দুটি করে চারা রোপণ করতে পারেন।

জিনিয়া ফুল গাছের পরিচর্যা:

জিনিয়া ফুল চাষ পদ্ধতিতে এদের পরিচর্যা এবং সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টবে গাছ রোপন করলে আপনাকে সাত দিন পর পর টবের গোড়ায় তরল সার দিতে হবে। তরল সার তৈরীর জন্য প্রতি লিটার পানির সাথে ২০০ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল অথবা গোবর ভিজিয়ে রাখতে হবে দুই থেকে তিন দিন।

এরপর এর সাথে ১ চা চামচ পরিমাণ মিশ্র সার প্রয়োগ করে গাছের গোড়ায় এই তরল সার ঢেলে দিতে হবে। জিনিয়া ফুল চাষ পদ্ধতিতে তরল সার ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে , এতে গাছের গোড়ায় শুধু শুধু খোঁড়া খুড়ির করে শেখর নষ্ট হয় না । শুধু টবে তরল সার ঢেলে দিলেই গাছ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

‘কাঠ গোলাপ’ নামের ফুলটির সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। গোলাপের মত নয়, আবার কাঠের সঙ্গেও সে ধরনের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ফুলটির নাম ‘কাঠ গোলাপ’ দেওয়া হয়েছে। সে যা-ই হোক, আমরা বরং জেনে নেব কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

কাটিং: কাটিং করার জন্য নেওয়া ডাল কমপক্ষে ১২ ইঞ্চি লম্বা হওয়া উচিত। নির্বাচিত ডালটি ধারালো কিছু দিয়ে কেটে নিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, কাঁটা অংশে যেন ময়লা না থাকে। তাতে কাটিং পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরপর ডালের পাতাগুলো গোড়ার কাছ থেকে কেটে দিন। টেনে একদম গোড়া থেকে ছিঁড়ে ফেলবেন না। ডালটিকে ছায়াযুক্ত স্থানে ৭-৮ দিন রেখে দিন। এ কয়দিনে ডালের কাটা অংশ শুকিয়ে কালো বা খয়েরি হয়ে যাবে এবং কেটে দেওয়া পাতার বোঁটার থেকে যাওয়া অংশও ঝরে যাবে।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

রোপণ: এবার ডালটি রোপণের জন্য উপযুক্ত। রোপণের জন্য মাটি প্রস্তুত করে যে পাত্রে লাগাবেন তা ভরাট করুন। মিনারেল ওয়াটারের পাঁচশ’ মিলির বোতলের মাথা কেটে এবং তার নিচে বেশকিছু ছিদ্র করে পাত্র তৈরি করা যায়। স্বচ্ছ পাত্র নিলে সুবিধা হচ্ছে- রুটিং হলে দেখতে পাবেন। এবার ডালটির গোড়ার চার ইঞ্চি মতো রুটিং হরমোন মাখিয়ে মাটিতে রোপণ করে দিন। রুটিং হরমোন না থাকলে মধু ও দারচিনি গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

পরিচর্যা: রোপণ করা ডালটি আলো-বাতাস যুক্ত স্থানে রেখে দিন। পানি এমন মাত্রায় দিবেন যেন পানি জমে না থাকে। এক মাসের মধ্যেই রুট আর পাতার দেখা পাবেন। তিন-চার মাস পর গাছটি বড় কোনো পাত্রে বা মাটিতে রোপণ করে দিন। ফুল ফোটার জন্য কাঠ গোলাপের প্রচুর রোদের প্রয়োজন হয়। দৈনিক কমপক্ষে চার-পাঁচ ঘণ্টা সরাসরি রোদ লাগে এমন জায়গায় গাছ লাগানো উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জেনে নিন চন্দ্রমল্লিকা ফুল চাষে রোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি

চন্দ্রমল্লিকা, জনপ্রিয়তার দিক থেকে গোলাপের পরই এর স্থান। এটি বিভিন্ন বর্ণ ও রঙের হয়ে থাকে। চন্দ্রমল্লিকা জাপানের জাতীয় ফুল। বিভিন্ন জাতের চন্দ্রমল্লিকার ফুলের আকার, রঙ ইত্যাদির প্রকারভেদ আছে। এর মধ্যে তামাটে, সোনালি, হলুদ, বেগুনি, লাল, খয়েরি এবং “গ্রিন গডেস” নামের সবুজ চন্দ্রমল্লিকা অত্যন্ত জনপ্রিয়। চন্দ্রমল্লিকা ফুলের বাজারে চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদনের (Chrysanthemum Farming) সম্ভাবনা রয়েছে। 

রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা (Disease Management) :

পাউডারী মিলডিউ: এ রোগ হলে গাছের পাতার উপর সাদা থেকে ধূসর গুঁড়ার মতো আবরণ পড়ে এবং আস্তে আস্তে পাতা কুকড়িয়ে নষ্ট হয়ে যায়। বেশি আক্রমণে পাতা শুকিয়ে গাছ মারা যায়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

রোগ দমন –

মাঠে যথাযথ রোপণ দূরত্ব অনুসরণ করে গাছের জন্য পর্যাপ্ত আলো বাতাস সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (যেমন-বেকিং সোডা) ১ লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৫ বার স্প্রে করতে হবে।

আক্রমণ বেশি হলে জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন-থিয়োভিট ৮০ ডব্লিউজি বা কুমুলাস ডিএফ) ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে অথবা প্রোপিকোনাজোল (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

পাতায় দাগ পড়া বা ঝলসানো রোগ –

এ রোগের আক্রমণে প্রথমে নিচের পাতায় হলদে দাগ পড়ে এবং আক্রমণের মাত্রার উপর নির্ভর করে বাদামী থেকে কালো দাগে পরিণত হয়।

রোগ দমন –

গাছের গোড়াতে খড় জাতীয় মালচ্ ব্যবহার করলে তলার পাতার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম থাকে।

পরিমিত সেচ প্রদান করতে হবে এবং সেচের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গোড়ার পাতা না ভিজে।

আক্রমণ বেশি হলে কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন বা নোইন বা এমকোজিম বা বেনলেট) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম অথবা ট্রাই ব্যাসিক কপার সালফেট (যেমন-কিউপ্রোক্স্যাট ৩৪৫ এসসি) ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।

গ্রে মোল্ড:

এ রোগের আক্রমণে ফুলের পাঁপড়ি, পাতা এমনকি কাণ্ডেও বাদামী পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত গাছে ধূসর থেকে বাদামী পাউডারের মত আস্তরণ পড়ে। দীর্ঘকালীন আর্দ্র ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া এ রোগ বিস্তারে খুবই সহায়ক।

রোগ দমন –

এ রোগ দমনে রোপণ দূরত্ব অনুসরণ করে গাছকে পর্যাপ্ত আলো বাতাস সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

আক্রমণ বেশি হলে রোভানন বা রোভরাল (০.২%) স্প্রে করা যেতে পারে।

পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা: চন্দ্রমল্লিকা ফুলে সাধারণত জাব পোকার আক্রমণ বেশি দেখা যায়।

জাবপোকা:

এ পোকা খুব ছোট আকৃতির, নরম ও কালো-সবুজ বর্ণের। শীতকালে এর প্রকোপ খুব বেড়ে যায়। এ পোকা গাছের পাতা, ডগা এবং ফুল থেকে রস চুষে খেয়ে গাছের ক্ষতি করে। আক্রান্ত নতুন কুঁড়ি ও পাতা কুঁকড়ে যায়।

দমন ব্যবস্থা –

এ পোকা দমনে প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত পাতা বা ফুল ছিঁড়ে ফেলে পোকাসহ ধ্বংস করা উচিত।

সাবান গুঁড়া ৫ গ্রাম/লিটার হারে পনিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করেও এ পোকা দমন করা যেতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com