আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প

 জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প
জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প

জয়পুরহাটের ১০ হাজার মুরগি খামারের অধিকাংশই কখনো লাভে আবার কখনো লোকসানে পড়ে যায়। লাভ-লোকসানের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এ শিল্পে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানে থাকা লক্ষাধিক মানুষের উপার্জনের পথও চলছে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে আড়াই হাজার নিবন্ধিত খামারসহ ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার মুরগির খামার রয়েছে। প্রতিমাসে এ খামারগুলো থেকে গড়ে ১ কোটিরও বেশি ডিম ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন হয়। এতে জেলার ১০ লাখ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করার পরও প্রতিদিন ট্রাক ও পিক-আপ মিলে ১৫-২০ গাড়ি মুরগি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। জেলায় পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মুরগির বাচ্চার চাহিদা পূরণ করতে এখানে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ১টি সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩৯টি হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। ৪০টি হ্যাচারি থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৪০ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়।

জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প
জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প

জয়পুরহাট পূরবী এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হক, পল্লী ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের সত্ত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন জাহাঙ্গীরসহ মুরগির খাদ্য প্রস্তুতকারকরা জানান, জেলায় বিপুল পরিমাণ পোল্ট্রি খামার গড়ে ওঠার কারণে বর্তমানে মুরগির খাদ্য কারখানা গড়ে উঠেছে ১১টি। যেখান থেকে প্রতিমাসে গড়ে ১৪ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করা হয়ে থাকে। তবে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগি খামারকে কেন্দ্র করে এখানে পোল্ট্রি জোন গড়ে ওঠার পর দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নানা প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে এখানকার পোল্ট্রি শিল্প।

পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিক্স লিমিেটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু, শেফালী পোল্ট্রি ফার্ম প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আলমসহ পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অনেকে এ শিল্পের অস্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন। কারণগুলো হলো- কাঁচামালের শতকরা ৮০ ভাগ আমদানি নির্ভর হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশি, মুরগি ও ডিম রফতানি না হওয়া, চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের সমন্বয়হীনতা, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকা, খাদ্য-ওষুধ-ভিটামিনের দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি, অনেক সময় নিম্নমানের, খাদ্য-ওষুধ-ভিটামিন খাওয়ানোর ফলে রোগ-ব্যাধি মুক্ত না হয়ে বরং মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়া বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক ওজন না হওয়া, মধ্যসত্ত্বভোগী ফরিয়া বা দালালদের দৌরাত্ম্য, পাইকারি ও খুচরা বাজার মূল্যের বড় পার্থক্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুরগি ও ডিম সরবরাহ বন্ধ হওয়া, মুরগির বাচ্চা-খাদ্য-ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণ বাকিতে বেচা-কেনা, দরিদ্রসহ নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দেশের মধ্যেই মুরগি ও ডিমের বাজার সীমিত হয়ে পরায় স্থানীয় বাজারগুলোতে বাড়তি চাপে মুরগি ও ডিমের বাজার অধিকাংশ সময় অস্থিতিশীল থাকে।

জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প
জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প

জয়পুরহাট শহরের আদর্শপাড়া এলাকার বাবু হোসেন, জামালগঞ্জ এলাকার সাহাদত হোসেন, পুরানাপৈল এলাকার খোরশেদ আলমসহ মাঝারি ধরনের অনেক খামারি জানান, মাংসের জন্য প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ১২০-১২৫ টাকা খরচ হলেও খামারিরা ২-৪ টাকা কমবেশি পাচ্ছেন, সেখানে খুচরা বাজার মূল্য কেজি প্রতি ১৪৫-১৫০ টাকা পর্যন্ত। সোনালি জাতের মুরগি উৎপাদনে প্রতিকেজি ১৯০-১৯৫ টাকা খরচ হলেও খামারিরা লোকসান দিয়ে পাচ্ছেন ১৫০-১৬০ টাকা, আর খুচরা মূল্য বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়।

বর্তমানে মুরগির বাজারে ধ্স নামায় বিপাকে পড়েছেন হ্যাচারি মালিকরাও। জয়পুরহাট পদ্মা ফিডস অ্যান্ড চিক্স লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুজ্জামান জানান, এখন প্রতিটি মুরগি বাচ্চার উৎপাদন খরচ ১৪-১৫ টাকা হলেও বিক্রি ৬-৭ টাকায়, তা-ও বাকিতে। চাহিদা না থাকায় বিপুলসংখ্যক একদিনের উৎপাদিত বাচ্চা নিয়ে আমাদের মতো অনেক হ্যাচারি মালিকই মহা বিপাকে পড়েছেন।

জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প
জয়পুরহাটে উত্থান-পতনে পোল্ট্রি শিল্প

জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সহ-সভাপতি ও কিষাণ পোল্ট্রি হ্যাচারি অ্যান্ড ফিড লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী জিয়াউল হক জিয়া ও পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে পোল্ট্রি শিল্প স্থবির, না হয় ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর তা হলে পোল্ট্রি শিল্পে কর্মরত জেলায় প্রায় ১ লাখসহ সারা দেশে ৩০ লাখেরও বেশি নারী-পুরুষ বেকার হবে। তাই পোল্ট্রি শিল্পের এ দূরাবস্থা থেকে রক্ষা করতে এখানে মুরগির মাংস প্রসেসিং প্ল্যান্টসহ হিমাগার প্রয়োজন।

এছাড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ভর্তুকিসহ রফতানির জন্য সরকারের পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি করেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সালম সোনার কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে এ সমস্যা সমাধানে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এ শিল্পে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

এগ্রোবিজ

করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন

 করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন
করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন

করোনাভাইরাসের থাবায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে ভয়ঙ্করতম বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে যাওয়ার প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়তে শুরু করেছে। বড় বড় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান, বিমান পরিবহন সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। পর্যটন ও ভারি শিল্প সমৃদ্ধ দেশগুলো একদিকে যেমন প্রতিদিন লোকসান দিচ্ছে; সাথে সাথে শেয়ার বাজারে ক্রমাগত দর পতনে মূলধন পুনর্গঠনও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক পরামর্শক সংস্থা ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির মতে, করোনা সংকটের পর বৈশ্বিক বিমান পরিবহন, জ্বালানি এবং তৈরি পোশাক খাত তার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। প্রাইসমার্কের মতো ইউরোপের তৈরি পোশাক বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। মূলধন সংকটে দেউলিয়ত্বের পথে আরও ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বের প্রতিটি দেশ তার জিডিপির ১০ শতাংশ লোকসানের সম্মুখীন হবে। এই হিসাবে বাংলাদেশর ক্ষতি হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকারও বেশি।

বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার ঢেউ বাংলাদেশেও লাগতে শুরু করেছে। রেমিটেন্স আয় কমে গেছে। এপ্রিলে আরও কমবে। আগামী দিনগুলোতে যে এই আয় কমতে থাকবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক রফতানি খাতও।

বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল করেছে তৈরি পোশাক রফতানি প্রতিষ্ঠানগুলো। সামনে ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থার উন্নতি না হলে সংখ্যা আরও বাড়বে। পঞ্চাশ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের খাত কর্মী ছাটাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে অনেক ছোট-বড় কারখানা।

বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর করোনা ঝড়ের মধ্যেও আমাদের টিমটিম করে আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষি খাত। একদা দেশের মোট জিডিপির ৬৫ ভাগ জোগান দেওয়া এই খাত বর্তমানে ১৩ থেকে ১৪ ভাগ জিডিপি জোগান দিলেও করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কৃষি খাত হতে পারে আমাদের অন্ধের যষ্টি।

কৃষি ব্যবস্থার হালচাল: আদিকাল থেকে কৃষি এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আমাদের অর্থনীতির বড় হাতিয়ার হলেও বরাবরই এ খাত চরম অবহেলার শিকার। দালাল ও মুনাফা ভোগী লোভী ব্যবসায়ী চক্রের যাতাকলে পিষ্ট হয় দরিদ্র কৃষক। বর্তমান যুগের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায়ও এর খুব উন্নতি হয়নি। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ায় কৃষকের সামাজিক অবস্থা দিনকে দিন উন্নত হওয়ার পরিবর্তে খারাপ হয়েছে।

চলমান লকডাউনে সব উৎপাদন খাত হুমকির মুখে পড়লেও কৃষকের কোনো নিস্তার নেই। কৃষক ঠিকই তার উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। পরিবহন ব্যবস্থা স্থবিরতার জন্য বিপণনে ব্যাঘাত ঘটছে। খামারে উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পারায় ফেলে দিতে হচ্ছে। ডিম ও পোল্ট্রি খামারে নামমাত্র মূল্যে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় পথে বসেছে প্রান্তিক ক্ষুদ্র খামারী। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় উৎপাদিত সবজি ঢাকায় আসতে পারছে না। ঢাকার পাইকাররা পণ্য সংগ্রহ করে সরবরাহে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ফলে একদিকে যেমন খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বেড়েই চলেছে; অপরদিকে লোকসানের সম্মুখীন হয়ে উৎপাদন খরচ তুলতেও হিমশিম খাচ্ছে কৃষক। মধ্যস্বত্ত্বভোগী দালাল, ফড়িয়া বা আড়তদার কেন্দ্রীক কৃষি বিপণন ব্যবস্থার ফলে কৃষক তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবহন সংকটের জন্য উৎপাদিত পণ্য পচে নষ্ট হচ্ছে। তাই আধুনিক ও সময়োপযোগী কৃষি বিপণন ব্যবস্থা সময়ের দাবি।

করোনা পরবর্তী সম্ভাবনা: করোনায় অধিকাংশ দেশে উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। উৎপাদনমুখী অর্থনীতির জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ চীনের উপর অধিকতর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একক চীন নির্ভরশীলতা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ, ভারত বা ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি বড় সুযোগ হতে পারে।

বৈশ্বিক দুর্যোগের এই ধাক্কা আমাদের দেশে লাগলেও সরকারের সময়োপযোগী এবং কৃষি বান্ধব পদক্ষেপের ফলে দুর্যোগকালীন সার, বীজ ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা থমকে যায়নি। আগামী দিনগুলোতে কৃষককে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যদি ইউরোপীয় মানের খাদ্যশস্য, সবজি আমরা উৎপাদন করতে পারি। তবে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক খাদ্য ঘাটতির সুযোগে রফতানিমুখী বিপণন ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে; তেমনি বছর বছর মৌসুমে উদ্ধৃত পণ্য পচনের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’

  • চার বিঘা জমি দিয়ে কলার চাষ শুরু সামাদের
  • বর্তমানে ৪০০ বিঘা জমিতে কলার বাগান
  • সামাদের সঙ্গে রয়েছেন আরও চার অংশীদার
  • সামাদ কাজী সফল কলাচাষি, এলাকায় সুনাম

‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’—খনার বচন হিসেবে পরিচিত এ কথাগুলো সত্য হয়ে উঠেছে সামাদ কাজীর জীবনে। বাড়ির পাশে চার বিঘা জমি (প্রতি বিঘা ৩৩ শতাংশ) ইজারা নিয়ে তিনি কলার চাষ শুরু করেছিলেন। এরপর শুধু তাঁর সাফল্যের গল্প। কলা বিক্রি করে তাঁর ভাগ্য বদলে গেছে।গত আট বছরে তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিক্রির চর ও ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন এবং পাশের গোয়ালন্দ এলাকার অন্তত ৪০০ বিঘা জমিতে কলার বাগান গড়ে তুলেছেন। এ কাজে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরও চার অংশীদার।


  • চার বিঘা জমি দিয়ে কলার চাষ শুরু সামাদের
  • বর্তমানে ৪০০ বিঘা জমিতে কলার বাগান
  • সামাদের সঙ্গে রয়েছেন আরও চার অংশীদার
  • সামাদ কাজী সফল কলাচাষি, এলাকায় সুনাম

‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’—খনার বচন হিসেবে পরিচিত এ কথাগুলো সত্য হয়ে উঠেছে সামাদ কাজীর জীবনে। বাড়ির পাশে চার বিঘা জমি (প্রতি বিঘা ৩৩ শতাংশ) ইজারা নিয়ে তিনি কলার চাষ শুরু করেছিলেন। এরপর শুধু তাঁর সাফল্যের গল্প। কলা বিক্রি করে তাঁর ভাগ্য বদলে গেছে।

গত আট বছরে তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিক্রির চর ও ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন এবং পাশের গোয়ালন্দ এলাকার অন্তত ৪০০ বিঘা জমিতে কলার বাগান গড়ে তুলেছেন। এ কাজে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরও চার অংশীদার।

সামাদ কাজী (৪৫) ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মান্নান কাজীর ছেলে। ২০১১ সালে বাড়ির পাশে ৪ বিঘা জমি ৫ বছরের জন্য ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে তিনি কলা চাষ করেন। ওই জমিতে দেশি জাতের ১ হাজার ২০০টি সবরি কলার চারা রোপণ করেন তিনি। নিজেই জমি তৈরি করা, চারা রোপণ, সার দেওয়া ও পরিচর্যা করেন। এক বছরে সব খরচপাতি বাদ দিয়ে তাঁর দুই লাখ টাকা লাভ হয়। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চর এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় তিনি ৪০০ বিঘা জমিতে কলা চাষ করছেন। পরে তাঁর সঙ্গে চারজন অংশীদার যুক্ত হয়েছেন।

সামাদ কাজী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাঁরা পাঁচ ভাই–বোন ছিলেন। অভাবের কারণে তিনি পড়ালেখা করতে পারেননি। সামাদ কাজীর ভাষায়, ‘আমি অত্যন্ত ঠেকা (দরিদ্র) মানুষ ছিলাম। লেখাপড়া করিনি। কোনো জমিজিরাত ছিল না। মানুষের জমিতে কৃষাণ দিয়া সংসার চালাইতাম। একসময় আমার মনে হইল, এভাবে দিন কাটে না। কাটতে পারে না। তাই কলা চাষের দিকে মন দিই।’

তবে সামাদ কাজী ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা শিখিয়েছেন। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। তাঁর স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, তিনি নিজে পড়াশোনা করেননি, তবে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপারে সব সময়ই আন্তরিক। তিনি সব সন্তানকে পড়াশোনা করাচ্ছেন।

কলা বিক্রি করে সামাদ কাজী দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ৩৭ শতাংশ জমি কিনে একটি সেমিপাকা ঘর তুলেছেন। কলা চাষ লাভজনক হওয়ায় তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এলাকার আরও চারজন। ব্যাপারীরা এসে বাগান ধরে কলা কিনে নিয়ে যান। সামাদ বলেন, ‘আমার বাগানের কলা খুব সুস্বাদু। গাছে কোনো রাসায়নিক সার দিই না। জৈব সার ব্যবহার করি। এর ফলে কলার মূল স্বাদ অপরিবর্তিত থাকে।’

তাঁদের বাগান থেকে কলা সংগ্রহ করে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন আরিফ বাজার এলাকার তারা শেখ নামের এক ব্যাপারী। তারা শেখ বলেন, দেশি জাতের কলা চাষ করেন সামাদ। তাঁর কলার স্বাদ ভালো। বাজারে চাহিদাও বেশি। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এই কলা নিয়ে গেলে বিক্রি করতে একটুও বেগ পেতে হয় না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জেলার ৮৬০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়। কলা উৎপাদিত হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, সামাদ কাজী সফল কলাচাষি। এলাকায় কলা চাষের ব্যাপারে তাঁর সুনাম রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অন্যতম উপার্জনের পথ প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য

 প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

আম বাংলাদেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ফল। এটি খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টি সমৃদ্ধ বলে আমকে ফলের রাজা বলা হয়। আম পাঁকা ও কাঁচা দুই ভাবে খাওয়া হয় এবং প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আমের বহুমুখী প্রয়োগ পৃথিবীর অনেক দেশেই খাদ্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তা ব্যবহার করছে। ফলে আম উৎপাদনের সাথে জড়িত কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যেক্তা ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান সকলেই লাভবান হচ্ছে। এতে করে কৃষক তার কষ্ট করে ফলানো পণ্য নিয়ে কোন উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকে না বরং এই ব্যবসার সম্প্রসারণ নিয়ে স্বপ্ন দেখে ও উৎসাহিত হয়ে থাকে।

একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, তা হলো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই কৃষি পণ্য উৎপাদনের সাথে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি লিংকেজ বা সংযোগ থাকে যা দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না বা নেই বললেই চলে যদিও বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার এবং মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মহোদয় একজন কৃতি কৃষিবিদ হওয়ায় বিষয়টিকে বর্তমানে খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের বিভিন্ন প্রয়াস বা কৃষি পণ্য বাণিজ্যিকীকরণ করতে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন নিয়ে কাজ চলমান আছে যা কৃষক, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা সকলেই লাভবান হবে বলে আশা করা যায় এবং এটি পৃথিবীর অনেক দেশেই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

প্রাকৃতিক র্দুযোগ আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই বিভিন্ন ঝড়, অতি বৃষ্টি অথবা খড়া ও অন্যান্য মহামারি আমরা মোকাবিলা করছি এবং সরকার এ ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য এবং ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত হওয়া নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েই গিয়েছে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ’আম্ফান’ নামক সুপার সাইক্লোন এর প্রভাবে অনেক কৃষি পণ্যের ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে খবরের শিরোনাম হয়েছে। বিশেষ করে এখন দেশের অন্যতম একটি উচ্চ মূল্যের ফসল আম যে ফলের স্বাদ নিতে দেশের ভোক্তা তথা প্রবাসী অনেক বাংলাদেশিও এ মধু মাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। স্বাদ, ঘ্রাণ ও পুষ্টি গুন অধিক পরিমাণে বিদ্যমান হওয়ায় দেশের আপামর প্রায় সকলেই আম খেতে অত্যন্ত পছন্দ করে। 

সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে
সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে

এই ফলটিতে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান, ফ্ল্যাবোনয়েড, ফাইবারসহ অন্যান্য পুষ্টিগুন যথেস্ট পরিমাণে থাকে। আমাদের দেশে প্রতি বছর ঝরে, ঝড়ে ও শিলা বৃষ্টির ফলে অধিক পরিমাণে আম গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যায়। অনেক সময় গাছ থেকে পড়া আম ফেটে যায়। ফলে বিভিন্ন দাগ বা কষ আমের গায়ে লেগে থাকায় আমের গুনগত মান (ফলের রং) দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় আম উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত কৃষক ও ব্যবসায়ী খুব অল্প মূল্যে বিশেষ করে কাঁচা আম বাজারে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়ে থাকে কিন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে আমের অপচয় বহুলাংশে কমানো যায়। আমের বহুমুখী ব্যবহার হিসেবে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা যায়।

আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের জেলাগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, যশোর, রাজশাহী, চাপাঁইনবাবগঞ্জসহ অন্যান্য জেলাতে ’আমপান’ সুপার সাইক্লোন এর প্রভাবে গত দুই দিনে ব্যাপকভাবে আম ঝরে পড়ে।

পত্রিকার তথ্য মতে শুধু আম ফলটিরই ১৫০ কোটির সমপরিমাণ ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং বর্তমানে কৃষক ২ – ১০ টাকা কেজি দরে এই ঝরে পড়া আম বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। অধিকাংশ আমই (ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ক্ষীরসাপাত ইত্যাদি) ছিল পরিপুষ্ঠ এবং হার্ভেস্টিং বা গাছ হতে ১ – ৪ সপ্তাহের মধ্যে পাড়ার উপযোগী বলে জানা যায়। এই ঝরে পড়া কাচাঁ বা পরিপ্ষ্ঠু আম প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অপচয় অনেকটা রোধ করা সম্ভব। 

রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব
রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব

বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, দেশে আমের সংগ্রহোত্তর অপচয়ের পরিমান শতকরা ২৫ – ৪৪ ভাগ। অপচয় তথা ক্ষতি কমানোর অন্যতম একটি পদ্ধতি হলো প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাপনার প্রয়াগ করা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে, রকমারি খাদ্য সামগ্রী বা সহজ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হলে প্রক্রিয়াজাতকরণে যা বিনিয়োগ করা হয় রিটার্ন বা ফেরত হিসেবে তার ২ গুণ বা অনেক সময় ২.৫ – ৩ গুণ বা তারঁও অধিক পরিমাণ লাভ পাওয়া যায়। মৌসূমের শুরুতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ব্যক্তি,গ্রুপ, উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান নিজেরাই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সহজ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে বিপণন করতে সক্ষম হবে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তা সরবরাহ করতে পারে।

অব্যশই এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনাসহ দেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে বিপণনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যা প্রস্তুতকৃত খাদ্য সামগ্রীটি নিজেকে ব্রান্ড হিসেবে পরিচিত করবে। ফলে ভোক্তার আস্থা উক্ত পণ্যের প্রতি যেমন অনেক বেড়ে যাবে তেমনি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে খুব সহজেই খাবারের টেবিলে আমের তৈরিকৃত পণ্যের স্বাদ সারা বছরই নেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে এই ফলের অপচয় অনেকাংশে রোধ করা যাবে।  

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গাজীপুরস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএআরআই) এর পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ আমের পরিচর্যা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞান সম্মত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই সব প্রযুক্তি খুব সহজেই ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কাচাঁ আম দীর্ঘ সময় (৬ – ৮ মাস পর্যন্ত) পরিমিত লবণ ও এসিটিক এসিড বা ভিনেগার মিশ্রিত দ্রবণে সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়াও এই সংরক্ষিত আম দিয়ে সারা বছর আমসত্ত্ব, আমচুর, ম্যাংগো বার, আমের জুস সহ রকমারী খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা যাবে আবার বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে রান্না করে খাওয়া যাবে।  

অধিকন্ত পরিপক্ক বা পরিপুষ্ঠ আম দিয়ে আচার, চাটনী, জ্যাম, জেলী, ম্যাংগো জুস, নেকটার, বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্য সামগ্রী, মোরব্বা, অসমোটিক ডিহাইড্রেটেড পণ্য, আমকে পাউডারে রুপান্তরিত করার মাধ্যমে সারা বছর জুস তৈরিতে ব্যবহার করা, আমের পাল্প সংরক্ষণ, আমের ফ্রোজেন খাদ্য সামগ্রী, ফ্রেশকাট ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান, কোরিয়া, চীন, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশেই আমের ক্যান প্রডাক্ট, ম্যাংগো বার, ম্যাংগো জুস, অসমোটিক ডিহাইড্রেটেড পণ্য ও আমের ফ্রেশকাট পণ্য খুবই জনপ্রিয়। সে সব দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়) নিজেরাই আমের বিভিন্ন খাদ্য পণ্য প্রস্তÍত করে ও বিদেশে রপ্তানী করে থাকে যা আমাদের দেশের অনেক সুপার শপেই এখন ভোক্তাকে ক্রয় করতে দেখা যায়। 

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর মধ্যে ড্রাইড পণ্যগুলো কেজি প্রতি ১৫০০ টাকা হতে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে বলে বিভিন্ন সুপার শপ হতে জানা যায়। কাজেই আম বিভিন্ন পরিপক্কতায় গাছ হতে পাড়া বা ঝরে পড়া আমকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্য পণ্য তৈরি করা গেলে এ ফলটি হতে পারে একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল।

ফলটি বেশ সুস্বাদু হওয়ায় বিদেশে তথা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো (সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদিআরব), ইউরোপ, যুক্তরাস্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশে প্রস্তুতকৃত খাদ্য পণ্য হিসেবে রপ্তানীর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। 

লেখক : উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিলন মিয়া এখন নিজেই চাকরি দেন

* বেকার থেকে উদ্যোক্তা
* চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছিলেন, কিন্তু পাননি
* এখন গরু ও সমন্বিত কৃষি খামার করে ভাগ্য বদলে গেছে তাঁর

স্নাতকোত্তর পাস করার পর একটি চাকরি পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। চাকরির জন্য অসংখ্য মানুষের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আর চাকরি হয়নি। এতে হতাশ হননি। আয়ের পথ খুঁজতে থাকেন। অবশেষে পেয়েও যান। প্রথমে প্রশিক্ষণ নিয়ে গরুর খামার গড়ে তোলেন। পরে সমন্বিত কৃষি খাবার। এতে ভাগ্য বদলে গেছে তাঁর। তিনি এখন আর চাকরি খোঁজেন না; বরং বেকারদের চাকরি দেন।

এই পরিশ্রমী ও সাহসী ব্যক্তির নাম মিলন মিয়া। বয়স ৪০ পেরিয়েছে অনেক আগেই। বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অনদানগর গ্রামে। দুই খামার থেকে মাসে তিনি সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। নিজ বাড়ি পীরগাছায় হলেও তিনি খামারগুলো গড়ে তুলেছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুটা একদমই ভালো ছিল না। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের এই শক্তিশালী অবস্থানে এসেছেন মিলন মিয়া। ২০০৫ সালে নিজ বাড়ি পীরগাছা উপজেলার অনদানগর গ্রামে গাভি পালন শুরু করেন। ছোট্ট আকারে গাভির খামার গড়ে তোলেন। কিন্তু মূলধনের অভাবে কয়েক বছর পর সেই খামার বন্ধ হয়ে যায়। পরে মামা গোলাম রব্বানীর সহায়তায় পুনরায় গাইবান্ধার উত্তর হাটবামুনি গ্রামে গরুর খামার দেন তিনি।

সম্প্রতি মিলন মিয়ার সঙ্গে তাঁর খামার শুরু করার বিষয়ে কথা হয়। তিনি তাঁর ব্যবসা শুরুর গল্পটা বললেন এভাবে: সাদুল্যাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত উত্তর হাটবামুনি গ্রাম। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। প্রথমে ছয়টি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি দিয়ে খামার শুরু করা হয়। খামারের জন্য উত্তর হাটবামুনি গ্রামে নয় বিঘা জমি বেছে নেন। এর মধ্যে প্রায় দুই বিঘায় গাভির শেড নির্মাণ করেন। খামারের নাম দেন ডিজনি ডেইরি ফার্ম। প্রথমে ছয়টি গাভি দিয়ে শুরু।

এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাঁর ব্যবসার খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানালেন, বর্তমানে তাঁর ১৩টি গাভি ও ৯টি বাছুর রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি গাভি দুধ দেয়। দৈনিক ১১২ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার দুধ ৩৮ টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টাকার দুধ বিক্রি করেন। দৈনিক গাভির খাদ্য ও মজুরির জন্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় হয়। দৈনিক দুধ বিক্রি করে আয় ৯০০ টাকা। মাসিক ২৭ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। দৈনিক উৎপাদিত দুধের অর্ধেক স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। অর্ধেক বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ডেইরি প্রকল্প আড়ং দুধ নিয়ে যায়। এ ছাড়া প্রতিবছর একটি করে বাছুর বিক্রি করা হয়। এ থেকে বার্ষিক ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, খামারের গোবর থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে বায়োগ্যাস। এই বায়োগ্যাস দিয়ে খামারের শ্রমিকসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে দৈনিক রান্নার কাজ হচ্ছে। বায়োগ্যাসের উচ্ছিষ্ট অংশ দিয়ে জৈব সার তৈরি হচ্ছে। এসব জৈব সার নিজের কৃষিজমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত জৈব সার বিক্রি করে বেশ আয় হচ্ছে। এ ছাড়া তিনজন শ্রমিক খামারে চাকরি করছেন। এতে তাঁদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আয়ের বিভিন্ন উৎস সৃষ্টির বিষয়ে মিলন মিয়া বলেন, সমন্বিত খামারে শুধু দুধ ও বাছুর থেকেই আয় হচ্ছে না। গাভির খাবারের জন্য খামারে প্রায় তিন বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হয়েছে। ঘাস বিক্রি করেও আয় হচ্ছে। এ ছাড়া খামারের এক বিঘায় পেঁপে, এক বিঘায় মিষ্টিকুমড়া ও দুই বিঘায় লিচু ও আমবাগান করা হয়েছে। আমের মুকুল এসেছে। এবার আম বিক্রি করেও তাঁর অনেক টাকা আয় হবে। খামারের নেপিয়ার ঘাস, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া ও জৈব সার বিক্রি করেও মাসিক ১২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

মিলন মিয়ার সমন্বিত কৃষি খামারের তদারকি করছেন কামারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর হাটবামুনি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, সমন্বিত কৃষি খামার প্রতিষ্ঠায় মিলন মিয়াকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিদিন তাঁকে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা এবং বাস্তবায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বেকার যুবকদের চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিলন মিয়া বলেন, ‘২০০১ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাস করেছি। দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও চাকরি পাইনি। কিন্তু আমি হতাশ হইনি। চাকরির পেছনে না ঘুরে পরিশ্রম করে এ অবস্থায় এসেছি।’ ভবিষ্যতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে বড় আকারে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

মিলনের মামা গোলাম রব্বানী বলেন, ‘চাকরি ছাড়াও নিজের প্রচেষ্টায় সমন্বিত খামার স্থাপন করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, তার প্রমাণ মিলন মিয়া। তাই তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা
পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

পেয়ারা অন্যতম জনপ্রিয় ফল। দেশের সর্বত্রই এ ফল জন্মে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এলাকায় চাষ হয়ে থাকে। পেয়ারা গাছ কম সময়ের মধ্যে ফল দেয় এবং চাষের জন্য বেশি জায়গা প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনায় দু’একটি গাছ থাকলে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বিক্রিও করা যায়।

পুষ্টিমান: পেয়ারাকে অনেকে বলে থাকেন ‘গরিবের আপেল’। পেয়ারার গুণাগুণ আপেলের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। পেয়ারায় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ছাড়াও প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে, যা মানবদেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পেয়ারা পরিণত হলে কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। টাটকা অবস্থায় পরিপক্ক পেয়ারা থেকে সালাদ, পুডিং প্রভৃতি তৈরি করা যায়। ভিটামিন ‘সি’সহ অন্যান্য পুষ্টিমানের বিবেচনায় আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারা উৎকৃষ্ট। নিচের ছকে আপেল ও কমলার সাথে পেয়ারার পুষ্টিমান তুলনা করে দেখানো হলো-

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা
পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

তাই পেয়ারা উৎপাদনে যত্নবান হতে হবে এবং এর আহরণ মৌসুম দীর্ঘায়িত করতে সচেষ্ট হতে হবে।

ব্যবহার: পেয়ারার শিকড়, গাছের বাকল, পাতা এবং অপরিপক্ক ফল কলেরা, আমাশয় ও অন্যান্য পেটের পীড়া নিরাময়ে ভালো কাজ করে। ক্ষত বা ঘাঁয়ে থেতলানো পাতার প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। পেয়ারা পাতা চিবালে দাঁতের ব্যথা উপশম হয়। পেয়ারায় প্রচুর পেকটিন থাকায় জ্যাম, জেলি তৈরিতে অদ্বিতীয়। তৈরি জেলী সংরক্ষণ করে অমৌসুমে খেয়ে ভিটামিন ‘সি’র অভাব পূরণ করা যায়। শহর ও গ্রামের নারীরা ঘরে বসে পেয়ারার জেলি তৈরী করে পরিবারের চাহিদা মিটানোর পর বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারে। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পেয়ারা থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু শরবত, আচার, আইসক্রিম প্রভৃতি। জাপানে পেয়ারার পাতা থেকে চা তৈরি করা হচ্ছে এবং তা ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।

পেয়ারার রোগবালাই: পেয়ারা উৎপাদনের মূল অন্তরায় হচ্ছে পোকামাকড়ের আক্রমণ যা উৎপাদনকে ব্যহত করে। তাই গাছ থেকে শতভাগ উৎপাদন পেতে গাছের ক্ষতিকর পোকামাকড় থেকে বাঁচার উপায় জানা প্রয়োজন। নিচে পেয়ারা গাছের কিছু রোগ, ক্ষতিকর পোকামাকড় এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বর্ণনা করা হলো-

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা
পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

উইল্ট রোগ: এ রোগের কারণ ছত্রাক। রোগাক্রান্ত গাছের পাতা এবং ডগা উপর থেকে প্রথমে হলুদ হয়ে শুকিয়ে মারা যায় এবং ১০-১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ গাছ ঢলে পড়ে। অম্লীয় মাটিতে এ রোগের আক্রমণ বেশি হতে দেখা যায়।

দমনব্যবস্থা:
ক. পেয়ারার বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
খ. মাটিতে ব্রাসিকল প্রয়োগ করে জীবাণুমুক্ত করলে এ রোগের আক্রমণ কিছুটা কমানো যেতে পারে।
গ. পলি, আঙুর ও স্ট্রবেরি জাতের পেয়ারার ওপর যে কোন জাত গ্রাফটিং করলে এ রোগ সম্পূর্ণভাবে দমন সম্ভব।

স্যুটি মোল্ড রোগ: এ রোগের কারণ ছত্রাক। সাধারণত পাতায় এ রোগ হয়ে থাকে। পাতার উপরিভাগ কালো পাউডারি আস্তরণে ঢেকে যাওয়াই হচ্ছে এ রোগের লক্ষণ। সাদামাছি পোকা নিঃসৃত মধুতে ছত্রাক এঁটে যায়। ওই অবস্থায় ছত্রাক কর্তৃক উৎপাদিত প্রচুর কালো স্পোর পত্র পৃষ্ঠে লেগে যায় এবং কালো আস্তরণের সৃষ্টি করে। সবুজ পাতা কালো আবরণে ঢাকা থাকে বিধায় সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়। পাতা ক্রমশ শুকিয়ে ঝরে পড়ে এবং গাছ উপর থেকে শুকাতে থাকে।

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা
পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

সাদা মাছি পোকা: ১-২ সে.মি. লম্বা পোকাটি পেয়ারা গাছের পাতায় আক্রমণ করে। পাতার নিচের পিঠে প্যাঁজা তুলার মতো সাদা থোকা থোকা পোকা দেখা যাবে। বয়স্ক ও বাচ্চা পোকা পাতার রস চুষে খায়। গাছের পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ে। চারাগাছে আক্রমণ বেশি হলে গাছ মারাও যেতে পারে। বয়স্ক গাছ আক্রান্ত হলে ফুল ও ফলের সংখ্যা কমে যায়। বয়স্ক পোকা ও নিষ্ফ (বাচ্চা) প্রচুর পরিমাণে মধু নিঃসরণ করে, যার জন্য পাতার ওপর কালো আবরণ পড়ে। একে স্যুটি মোল্ড বলে। এতে গাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটে। অর্থ্যাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।

দমনব্যবস্থা: প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা সহজেই দমন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com