আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু
বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

কৃষির ওপর নির্ভরশীল উত্তরের জেলা জয়পুরহাট। এখানে মোট কৃষি জমির ৮০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেন কৃষকরা। আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাটে এবারও আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু উৎপাদনের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং রোগবালাই কম হওয়াসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আলুর ভালো ফলন হয়েছে। যার ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু জেলা ও উপজেলায় সরবরাহসহ বিভিন্ন দেশেও রফতানি করা হচ্ছে। বাজারে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় চাষিরা।

জয়পুরহাটে যেসব আলু উৎপাদন হয় সেগুলো হচ্ছে- উফশী জাতের মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, রোজেটা, ক্যারেজ, স্থানীয় পাকড়ী জাতের তেল-পাকড়ী, পাহাড়ী-পাকড়ী, বট-পাকড়ী ও ফাটা-পাকড়ী। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, ও রোজেটা জাতের আলু চাষ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, জেলায় এবার ৩৮ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন ধরা হলেও এটি অতিক্রম করবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু
বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

জেলায় পাঁচ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয় কালাই উপজেলায়। কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর ও আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২০০ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের আলু এবং স্থানীয় ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাকড়ী জাতের আলু চাষ হয়েছে। আলু উৎপাদনের জন্য এবার কৃষকদের জমি লিজসহ, বীজ, জমি চাষ, সার-ওষুধ, সেচ, নিড়ানি, বাঁধাই, আলু উত্তোলনসহ প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে খরচ হয়েছে গড়ে ১২-১৪ হাজার টাকা।

জয়পুরহাটের বিভিন্ন বাজারে আগাম জাতের আলু জাতভেদে প্রতি মণ সর্বোচ্চ ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বাজারে আমদানি বেশি হওয়ায় তা কিছুটা নেমে ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে খুচরা বাজারে আলু জাত ভেদে ৬০০-৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে বাজার থাকলে বিঘা প্রতি আলুতে ১৮-২৫ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন কৃষকরা।

জয়পুরহাটে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও কালাইয়ের আলু মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে।

কালাই উপজেলার ১০-১৫টি স্থান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ হাজার মণ বিভিন্ন জাতের আলু কিনছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে রফতানিকারকদের প্রতিনিধিরা পরিপক্ক আলু সংগ্রহ করে তা বাছাই করে নেটের হলুদ প্যাকেটে প্যাকেটজাত করছেন। এখানকার আলু বিদেশে রফতানি হওয়ায় বাজারে আলুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। আলুর ভালো দাম পাওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু
বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

কালাই উপজেলার আপলাপাড়া গ্রামের আলুচাষি আব্দুল কাদের বলেন, ৮ বিঘা জমিতে এস্টোরিক্স ও কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছি। বিঘা প্রতি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় আলু পেয়েছি প্রায় ১০০ মণ। বিদেশি এক কোম্পানির এজেন্টের কাছে ওইসব আলু বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমানে আলুর বাজার দর অনুযায়ী প্রতি বিঘায় লাভ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা।

কালাই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আলুচাষি রাজ্জাক বলেন, মালয়েশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির এজেন্টের কাছে প্রতি মণ ৫৫০ টাকা দরে দুই বিঘা জমির মিউজিকা জাতের আলু বিক্রি করেছি। এবার বাজারে আলুর দাম ভালো পাওয়ায় অনেক খুশি হয়েছি।

কালাই উপজেলার নান্দাইলদীঘি গ্রামের মালয়েশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির আলু কেনার এজেন্ট মো. বাশেদ ও রফিকুল বলেন, মালয়েশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬টাকা কেজি দরে প্রায় ৪০০ মণ বিভিন্ন জাতের আলু কিনতে হচ্ছে। আর এভাবে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত আলু কিনতে হবে।

জয়পুরহাট সদরের বম্বু গ্রামের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন, ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ হোসেন, আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের কৃষক লোকমান মিয়া, পাঁচবিবি ফিসকাঘাটের একাধিক কৃষক জানান, প্রতি বিঘা জমিতে জাতভেদে ৭০-১০০ মণ পর্যন্ত আলু উৎপাদন হয়েছে।

বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু
বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

জয়পুরহাট পৌর এলাকার নতুনহাট বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আহম্মদ হোসেন, মাছুয়াবাজারে খুচরা আলু বিক্রেতা বদিউজ্জামানসহ জেলার অনেক আলু বিক্রেতা জানান, আলুর সরবরাহ বাড়ায় আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। মার্চের মধ্যেই আলুর মূল ফলন উঠলে দাম আরও কমে যেতে পারে।

কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ উপজেলায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে আলুর দাম ভালো পেয়ে কৃষকরা অনেক খুশি হয়েছে। তাছাড়া এখানকার আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এর ফলে আগামীতে আরও বেশি আলু চাষ হবে বলেও তিনি জানান।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য) মো. আখতারুজ্জামান জানান, আলু স্বল্পমেয়াদি ফসল। গত মৌসুমে আলু চাষ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছিলেন। এবারও আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা দামও ভালো পাচ্ছেন।

  • বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

    বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

  • বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

    বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

  • বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

    বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

  • বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

    বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

  • বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু
  • বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু
  • বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু
  • বিদেশ যাচ্ছে জয়পুরহাটের আলু

এগ্রোবিজ

ঈদের এক মাস আগেই আড়াই হাজার টাকার এলাচ সাড়ে ৩ হাজার!

ঈদুল আজহার এখনও এক মাসের বেশি সময় বাকি। কিন্তু পবিত্র কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের প্রধান ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েই চলছে সব ধরনের মসলার দাম। এ কারণে বাজার স্থিতিশীল রাখতে তদারকি শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে নগরের খাতুনগঞ্জের মসলার বাজারে প্রথম দিনের অভিযানেই চার ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে আজকের অভিযানে বেশ কয়েকটি মসলার আড়তে লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। যেখানে দেখা যায়, কয়েকজন আড়তদারের টাঙিয়ে রাখা বিক্রয় মূল্যের তালিকার সঙ্গে এ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট ও ক্রয়মূল্যে অনেক পার্থক্য। তালিকায় লাভসহ বিক্রয় মূল্য ২ হাজার ৪১০ টাকা দেখানো হলেও পাইকারিতে ব্যবসায়ীদের কাছে এলাচ বিক্রি করা হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকার বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযান চলাকালীন অনেক ব্যবসায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সাঁটানো মূল্যতালিকায় রাখা মূল্য কাটাছেঁড়া করে কমিয়ে রাখেন, যা তাৎক্ষণিক নজরে আসে। দেখা যায় ২ হাজার ৪১০ টাকার এলাচ বিক্রয় মূল্য তালিকায় লেখা ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ২৪০ টাকার দারুচিনি ৩৭০-৪০০ টাকা, ৪২০ টাকার গোলমরিচ ৬২০ টাকা, ৬৮০ টাকার লবঙ্গ ৯০০ টাকা, ২৭৫ টাকার জিরা ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করতে দেখা যায়। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট দেখে তারা দাম অনেক কমিয়ে লিখে রাখে যে বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, মূল্যতালিকায় হেরফের ও ঘষামাজা করার কারণে খাতুনগঞ্জের চার ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এর মধ্যে মেসার্স নারায়ণ ভাণ্ডারকে ২০ হাজার টাকা, মেসার্স চিটাগং ফ্রেন্ডস ট্রেডার্সকে ১০ হাজার, আল্লাহর দান স্টোরকে ১০ হাজার, মেসার্স অনিল দেব স্টোরকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মসলাজাতীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তাই বাজার মনিটরিংয়ের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঈদ সামনে রেখে যাতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম অস্থিতিশীল না করতে পারে সেজন্য এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক দম্পতি শামসুল ইসলাম ও মাজেদা বেগম। কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে এলাকায় বেশ নাম করেছেন তারা। তাদের সফলতা এখন জেলার সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনে বলরামপুর গ্রামে তারা এখন আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

জানা যায়, এ দম্পতি নিজ বাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে জৈব সার ও বালাইনাশক তৈরি করছেন। তাদের রয়েছে ৩ শতাধিক মাটির তৈরি চাড়ি যার মধ্যে গোবর, পচা লতাপাতায় ভরা। এছাড়া কেঁচোর মলই শুকিয়ে তৈরি করছেন অধিক উর্বরাক্ষম কম্পোস্ট সার। অপরদিকে, ঘরের এক কোণে রয়েছে মাটির তৈরি বড় বড় পাত্রে ভেজানো বিভিন্ন গাছের পাতা, বাকল, কাণ্ড ও বীজ চূর্ণ। কম্পোস্ট সারের পাশাপাশি এই দম্পতি উৎপাদন করছেন বিষমুক্ত সবজি ও পুদিনা পাতা।

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কৃষক শামছুল ইসলাম জানান, তারা ভূমিহীন। প্রথমে অন্যের ২৫ শতাংশ জমি বর্গা নেন। ১২ শতাংশ জমিতে কম্পোস্ট সার তৈরির কারখানা আর বাকি ১৩ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন। পরে সফলতা পেলে আরও ২ বিঘা জমি বর্গা নেন। আর এখন নতুন করে প্রায় ৪ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তিনি পুদিনা পাতা চাষ করছেন।

স্ত্রী মাজেদা বেগম জানান, ৪ বছর আগে একমাত্র ছেলে পান্নু মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় যখন পঙ্গু প্রায় তখন নতুন করে আবারও অভাবের সংসারের হাল ধরেন। ২০১১ সাল থেকে বাড়িতে শুরু করেন কয়েকটি মাটির চাড়ি নিয়ে। আর এখন তারা ৩শ চাড়িতে কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন। একটি চাড়ি থেকে ১০ কেজি করে একবারে মোট ৩০০ কেজি কম্পোস্ট সার উৎপাদিত হচ্ছে। তাদের ৩শ মাটির চাড়িতে ৫শ গ্রাম করে কেঁচো আছে। সেই হিসাবে প্রায় ১৫০ কেজি কেঁচো আছে তাদের কাছে।

তিনি বলেন, এক কেজি কেঁচোর বাজার দর ১ হাজার ৫শ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকার কেঁচো আছে। প্রতি কেজি সার বিক্রি করেন ১০ টাকা দরে। আর ৫০ কেজির এক বস্তা কম্পোস্ট সার বিক্রি করেন ৫০০ টাকায়। চাহিদা বেশি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে কম্পোস্ট সার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গেল ডিসেম্বরে প্রায় ১০০ বস্তা সার বিক্রি করেছেন তারা। প্রতি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের আয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে প্রকৃতপক্ষে জমির উর্বরাশক্তি কমে যায়। তাই তারা অল্প রাসায়নিক সারের সঙ্গে কম্পোস্ট সার ব্যবহারের জন্য কৃষকদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষি জমিতে এই কেঁচো কম্পোস্ট সার পরপর ৩ থেকে ৪ বছর ব্যবহার করলে আর রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে মধু সংগ্রহের সময় একটি রানী মৌমাছি বাড়ি নিয়ে এসে বাক্সে রেখে দেন। পরে সেই বাক্সে হাজারো মৌমাছি জমা হতে থাকে। সেখান থেকেই প্রথম মধু আহরণ। এভাবে একটি রানী মৌমাছি থেকেই আশপাশের ৩০টি গ্রামের ৪ শতাধিক মুধু চাষি বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ ছোট ছোট বনে নানা প্রজাতির গাছ রয়েছে। এই এলাকায় প্রায় চার শতাধিক চাষি বাড়িতে মধু চাষ করে সফল হয়েছেন। পাঁচ-ছয় বছর আগেও মধু চাষের বিষয়ে এ উপজেলার কেউ কল্পনা করেনি। অথচ আজ সেখানকার মধু চাষিরাই তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাত করে বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আয় করছেন। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ কিংবা সরকারি আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই তারা নিজেদের স্বল্পপুঁজি খাটিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এ উপজেলা হয়ে উঠতে পারে মধুচাষের অন্যতম একটি ক্ষেত্র।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি একটি মৌচাক দিয়ে প্রথম মধু চাষের সূচনা করলেও বর্তমানে আদমপুর ও পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ কালারায়বিল, ছয়ঘরি, কাঠালকান্দি, কোনাগাঁও, কানাইদাশী, রাজকান্দি, আধকানি, পুরানবাড়ি, নয়াপত্তনসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের ৪ শতাধিক লোক মধু চাষের সঙ্গে জড়িত। এখানকার চাষিদের উৎপাদিত মধু মৌলবীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন কি প্রবাসীরাও মধু কিনে বিদেশ নিয়ে যাচ্ছেন।

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজ মধু, দাশকুলি মধু, মাছি মধু, ঘামি মধু ও মধু মালতি এই পাঁচ জাতের মধুর উৎপাদন হলেও এ উপজেলায় দাশকুলি মধুর বাক্স (অ্যাপিস সেরেনা) স্থাপনের মাধ্যমে মধু চাষ হয়। প্রতিটি বাড়িতে ২-৩টি করে মধু উৎপাদনকারী কাঠের বাক্স স্থাপন করা আছে। এসব বাক্স থেকে বছরে তিন থেকে চারবার মধু সংগ্রহ করেন চাষিরা। স্বল্প খরচে এক একটি বাক্স থেকে ২৫-৩০ কেজি মধু আহরণ করা হয়। বছরে সংগৃহীত মধু বিক্রি করে চাষিরা জনপ্রতি ৩০-৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। সে হিসাবে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কেজি মধু উৎপাদন করছেন তারা। যার বাজার মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। আর এই মধু চাষের কারণে তাদের ঘরে এখন আর অভাব-অনটন নেই। প্রতিটি পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।

কমলগঞ্জ উপজেলার প্রথম মধুচাষি কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে তিনি রাজকান্দি পাহাড় থেকে পাহাড়ি মধু সংগ্রহের সময় হঠাৎ একটি রানি মৌমাছি ধরা পড়ে। তিনি রানী মৌমাছিকে তার বাড়ি নিয়ে এসে একটি বাক্সে রেখে দেন। পরে বাক্সে হাজারো মৌমাছি জমা হয়। কয়েক দিন তিনি দেখেন মৌমাছিরা সেখানে মধু আহরণ করেছে। তখন থেকেই তিনি মধু সংগ্রহ শুরু করেন এবং ক্রমশ তা নেশায় ও পেশায় পরিণত হয়ে ওঠে। বর্তমানে ২০টি বাক্সে মধু সংগ্রহ করছেন তিনি। এই ২০টি বাক্স ছাড়াও পাহাড় থেকে মৌমাছি ও বিভিন্ন ব্যক্তির বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করেন। তার এই মধু চাষের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্যরা মধু চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

আজাদ মিয়া বলেন, মধু চাষের চেয়ে উন্নতমানের আর কোনো চাষাবাদ নেই। অল্প খরচেই লাখ লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। মধু চাষে শুরুতে শুধুমাত্র একটি বাক্সে মৌমাছি সংগ্রহে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। এক একটি বাক্সে বছরে চারবারে ২৫ থেকে ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। বাজারে প্রতি কেজি মধুর দাম ৮শ টাকা হিসাবে বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

মধুচাষি মোস্তাফিজুর রহমান, বাবুল মিয়া, মাওলানা মছব্বির, জমসেদ মিয়াসহ অনেকে বলেন, কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজেদের চেষ্টায় তারা মধু চাষ করছেন। সরকারি উদ্যোগে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা হলে আরও অধিক মধু উৎপাদন সম্ভব হতো। চাষিরা দামও বেশি পেতেন।

কমলগঞ্জ মধুচাষি উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শিক্ষক আলতাফ মাহমুদ বাবুল বলেন, এলাকায় মধু চাষের নীরব বিপ্লব ঘটছে। এই এলাকায় মধু চাষের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারিভাবে পুঁজির ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও সরিষার চাষাবাদ বৃদ্ধি করা হলে মধু চাষে আরও বিপ্লব হবে।

কমলগঞ্জের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই এলাকা মধু চাষের চিহ্নিত জোন হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। বিশেষত আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নে মধু চাষে একটা ব্র্যান্ড তৈরি হতে পারে। এখানে একটি স্থায়ী মধু চাষ উন্নয়নে বিসিক বা সরকারের উদ্যোগে স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, মধুচাষিদের বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তারা মধু চাষ করতে পারছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁয় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো কাটা-মাড়াই। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ধানে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে অর্ধেক ধান চিটায় পরিণত হয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন কৃষকরা। অপরদিকে কৃষি অফিস থেকে কোন পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের দাবি, লোকসান ঠেকাতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে।

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াই। ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এ বছর ইবি-বোরো রোপণের সময় থেকে কয়েক দফা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। গাছ থেকে ধান বের হওয়ার সময় শিলাবৃষ্টি হয়। এতে ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া দেখা দেয় পোকার আক্রমণ। কোনভাবেই পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে লোকসানের মুখে পড়ছে কৃষকরা।

সদর উপজেলার চকচাপাই গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার ও মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রতিবিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে প্রায় ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর প্রতিবিঘায় ফলন হয়েছে ১৫-১৭ মণ। যেখানে গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ২৫-৩০ মণ। বর্তমানে বাজার দর ৬০০-৬৫০ টাকা। ফলে ধান উৎপাদনের খরচই উঠবে না।’

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

শৈলগাছী গ্রামের কৃষক কৃষ্ণ ও চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক হাসান মোল্লা বলেন, ‘পরামর্শ নেওয়ার জন্য কৃষি অফিসের কোন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। এ বছর আমাদের লোকসানে পড়তে হবে।’

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রায় চার শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রেহাই পেতে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে কোন সময় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ

চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ
চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ (ফাইল ছবি)

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য দেয়া ঋণের জামানত গ্রহণে নমনীয় হতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ/বিনিয়োগ পুনঃতফসিল প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই জারি করা সার্কুলারে বর্ণিত ‘চামড়া ব্যবসায়ী’ বলতে কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সংশ্লিষ্ট ট্যানারি শিল্পসহ চামড়া খাতের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকে বোঝাবে।

আসন্ন কোরবানিতে চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান যাতে কাঁচা চামড়া ক্রয় করতে সক্ষম হয় সে লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত গ্রহণের বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখার জন্য পরামর্শ দেয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক জারি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ৫ জুলাই (রোববার) কোরবা‌নির কাঁচা চামড়া ক্রয়ে ব্যবসায়ী‌দের ব্যাংক ঋণে বিশেষ সু‌বিধা প্রদানের বিষয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সু‌বিধার কথা বলা হয়েছে। মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ২ শতাংশের বেশি হলেও এর কমে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে না। তবে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে নতুন করে ঋণ আবেদন করতে পারবেন গ্রাহক।

বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাংকগু‌লোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলা‌রে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২০ তারিখ ভিত্তিক ঋণ/বিনিয়োগ স্থিতির ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নগদে আদায় সাপেক্ষে পুনঃতফসিলের বিষয়ে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকসমূহ নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবে আদায়কৃত কিস্তি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে না।

>> ঋণগ্রহীতাদের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হয়ে থাকলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল থাকলে এ সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল সুবিধা প্রদান করা যাবে।

>> কেইস-টু-কেইস ভিত্তিতে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ তলবি ও চলমান ঋণ সর্বোচ্চ ছয় বছর মেয়াদে এবং মেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ আট বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে।

>> কোরবানিকৃত পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট গ্রহণের শর্ত শিথিল করা যাবে।

৩০ জুলাই, ২০২০ তারিখের মধ্যে স্ব-স্ব ব্যাংকের কাছে এ সার্কুলারের আওতায় ঋণ গ্রহীতাদের তাদের ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com