আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

প্রাকৃতিক কীটনাশক ও জৈব সার নিয়ে মজিদের যুদ্ধ

নিজের সবজি বাগানে আবদুল মজিদ সরদার। সম্প্রতি যশোরের কেশবপুরের সন্যাসগাছা গ্রামে।
নিজের সবজি বাগানে আবদুল মজিদ সরদার। সম্প্রতি যশোরের কেশবপুরের সন্যাসগাছা গ্রামে।

কয়েক ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করেন কীটনাশক। কচুরিপানা, গোবর ও পাতা–লতা পচিয়ে বানান জৈব সার। এ দুটিই তাঁর মূল হাতিয়ার। এ নিয়েই ‘যুদ্ধে’ নামেন রোজ। মাঠের পর মাঠ চষে বেড়ান। চাষিদের বোঝান, রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। জৈব পদ্ধতির চাষাবাদ, নিরাপদ খাদ্যের চিন্তা ছড়িয়ে দেন তিনি কৃষক থেকে কৃষকের মধ্যে।

এক যুগ ধরে কাজটি করছেন তিনি। নিজ বাড়ির আঙিনায় সবজি ও ফলের আদর্শ এক বাগান গড়েছেন। তাঁর ব্যতিক্রমী এই চাষবাস দেখতে লোকজন আসেন দূরদূরান্ত থেকে, পরামর্শ নেন। ভেজাল পণ্য, ভেজাল খাবার নিয়ে মানুষ যখন চিন্তিত, তখন নিরাপদ খাদ্যের এই চিন্তা নতুন পথ দেখায়। তাঁর দেখানো পথ ধরে সাফল্যও পেয়েছেন অনেকে। নতুন পথের এই দিশারি আবদুল মজিদ সরদার (৬২)। বাড়ি তাঁর যশোরের কেশবপুর উপজেলার সন্যাসগাছা গ্রামে।

শুরুর কথা
উচ্চমাধ্যমিক পাস করে জীবিকার তাগিদে চলে যান ঢাকায়। ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেননি। ফিরে আসেন গ্রামে। চাষাবাদ শুরু করেন। ২০০২ সাল থেকে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি তাঁর মাথায় ঢোকে। জৈব পদ্ধতির চাষাবাদ শুরু করেন। একসময় প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে সেই নির্যাস থেকে কীটনাশক তৈরি করে ফেলেন। নিজে ব্যবহার করে ভালো ফল পান। আশপাশের কৃষকেরা শুরুতে তাঁকে পাগল ঠাওরাতে লাগলেন। কিন্তু তিনি দমার পাত্র নন। একে লড়াই মনে করে চালিয়ে গেছেন নিরাপদ খাদ্যের সংগ্রাম। এখন সন্যাসগাছা ও তার আশপাশের গ্রামের কৃষকেরা উল্টো তাঁর কাছে আসেন জৈব পদ্ধতির চাষাবাদ সম্পর্কে জানতে।

সন্যাসগাছা গ্রামের কৃষক কামরুল ফকির বলেন, মজিদ ভাইয়ের পরামর্শে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন তিনি। কৃষক বেল্লাল হোসেনের ভাষ্য, আবদুল মজিদের পরামর্শে ধনে চাষে জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে গত বছর ভালো ফলন পেয়েছেন।

আবদুল মজিদের কাজ-কারবার সম্পর্কে কৃষি বিভাগও জানে। কৃষি নিয়ে নানা সভা-সেমিনারে ডাকা হয় তাঁকে। সেখানে তিনি কৃষকদের জৈব পদ্ধতির চাষ তথা নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে পরামর্শ দেন। কেশবপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন কুমার দে বলেন, আবদুল মজিদ একজন কৃষিপ্রেমী মানুষ। তাঁর বানানো জৈব সার ব্যবহারে ফলন বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর আঙিনার সবজি ও ফলের বাগান এলাকার মধ্যে আদর্শ বাগান।

কীটনাশক ও জৈব সার তৈরির প্রণালি
কীটনাশক বানানোর জন্য আড়াই ফুট লম্বা প্লাস্টিকের ড্রাম নিতে হবে। ভেতরে ৪০-৫০টি মেহগনির ফল টুকরো টুকরো করে মাড়াই করে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। দেড় কেজি নিম ফল, দুই কেজি নিমপাতা, আধা কেজি নিমের ছাল ড্রামের ভেতরে দিতে হবে। আতাগাছের পাতা, মূল এবং ছাল, বিষকাঁটালিগাছ, ধুতরার পাতা, নিম ফল, গাঁদা ফুলের পাতা, দূর্বা, গরুর মূত্র, লাল বিশালিগাছ পিষে ওই ড্রামে দিতে হবে। মিশ্রণটি ১৫ থেকে ২০ দিন পচতে দিতে হবে। ড্রামের মুখ পলিথিন দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। এমনভাবে বাঁধতে হবে যেন পাত্রটি বায়ুশূন্য হয়। তারপর পচে যাওয়া উপাদান থেকে রস বা নির্যাস বের করে নিতে হবে। সুতি কাপড় দিয়ে আরও কয়েকবার ছেঁকে নিলেই এটি ফসলের ওপর স্প্রে করার উপযোগী হবে। একটি ড্রাম থেকে ৩৫ লিটারের মতো কীটনাশক পাওয়া যায়। ১ বিঘা জমিতে আড়াই লিটার কীটনাশক ছিটালেই চলে।

জৈব সার তৈরির প্রণালিটি সহজ। গোবর ও ফসলের ফেলে দেওয়া অংশ যেমন বাঁধাকপির পাতা, ফুলকপির ডাঁটার অংশ, রাস্তার পাশে জন্মানো লতাজাতীয় গাছ ও ফসলের বর্জ্য, কলাগাছের পাতা একসঙ্গে ৮ হাত দৈর্ঘ্য, ৬ হাত প্রস্থ ও ৪ ফুট গভীর একটি গর্তে ১০-১২ দিন পচাতে হবে। গর্তটি বায়ুশূন্য হওয়ার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এরপর গর্ত থেকে মিশ্রিত উপাদান তুলে ৪-৫ দিন রোদে শুকাতে হবে। পরে দলাগুলো ভেঙে নেট দিয়ে ছেঁকে জমিতে ব্যবহার করতে হবে। ওই পরিমাণ গর্ত থেকে ৪ থেকে সাড়ে ৪ মণ জৈব সার পাওয়া যায়। ১ বিঘা জমিতে ২১ কেজির মতো জৈব সার হলেই চলে।

পারিবারিক বাগান
মজিদ তাঁর বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন ফল ও সবজির চমৎকার একটি বাগান। এই বাগান থেকে পাওয়া সবজি নিজে খান এবং কিছু বিক্রি করেন। তাঁর সবজিবাগানে রয়েছে স্ট্রবেরি, টমেটো, আলু, লেটুসপাতা, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, ড্রাগন রসুন, পেঁয়াজ, ধনেপাতা, থানকুনি ও সরিষা। বাগানটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসেন। তাঁর পরামর্শ নিয়ে অনেকে এই আদলে বাগান করছেন।

মজিদ তাঁর উদ্ভাবনী শক্তির জোরে পরিচিত হয়ে উঠছেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খালেদ মো. আরাফাত বলেন, আবদুল মজিদের আবিষ্কৃত জৈব কৃষি সাফল্যের মুখ দেখেছে। অনেক কৃষক তা গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোস্তফা কামাল বলেন, মজিদ ভাইয়ের জৈব সার ও কীটনাশক খুবই ভালো। তাঁর উপাদান ব্যবহার করে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বেগুন চাষ করে তিনি সাফল্য পেয়েছেন।

মজিদের স্বপ্ন
‘আবদুল মজিদের একটি গবেষণার মন আছে। তিনি ফোন করেন তাঁর চিন্তা ও ভাবনা বিনিময় করেন। তাঁর উদ্যোগটি ভালো।’ বলছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম।

কিন্তু কৃষির জন্য সব সময় ভাবলেও অর্থাভাবে অনেক কাজ করে উঠতে পারেন না মজিদ। তাঁর ১ একর জমির ওপরে ফসলের খেত, সবজিবাগান, দুটি পুকুর থেকে যা পান তা দিয়ে সংসার কোনোরকমে চলে। আবদুল মজিদ বলেন, আর্থিক কষ্টের কারণে তাঁর ভাবনার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন না। একটি অর্গানিক ফার্ম করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দীনও মজিদ সম্পর্কে জানেন। তাঁর ভাষ্য, ‘সব ধরনের অর্গানিক কর্মকাণ্ডকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। বর্তমান সরকার একে গুরুত্বসহকারে দেখছে। আবদুল মজিদকে আমি কারিগরি সহায়তা দিই। তাঁর বিকল্প বালাইনাশনক বা কীটনাশক উদ্ভাবন অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।’

জৈব

আমের জন্য কেঁচোসার

উর্বর মাটিতে পাচঁ ভাগ জৈব পদার্থ থাকতে হয়। মাটির পানি ধারণক্ষমতা ও বায়ু  চলাচল বাড়াতে পাঁচ ভাগ জৈব পদার্থ থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশের মাটিতে রয়েছে এক দশমিক আট থেকে দুই ভাগ। জৈব পদার্থের পরিমান বাড়াতে কম্পোষ্ট সার, পচা আবর্জনা, সবুজ সারের যেমন ভূমিকা, কেঁচো সারের ভূমিকাও তেমনি অসামান্য। 

কেঁচো সারঃ কেঁচো খাবার খেয়ে মল হিসাবে যা ত্যাগ করে তাই কেঁচোসার। তরিতরকারির ফেলে দেওয়া অংশ,ফলমূলের খোসা,উদ্ভিদের লতাপাতা,পশুপাখির নাড়িভুঁড়ি হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, ছোট ছোট করে কাটা খড়কুটো খেয়ে কেঁচো জমির জন্য সার তৈরি করে। এ সার সব ধরণের ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা যায়।


কী আছে কেঁচোসারেঃ ‘ভার্মি কম্পোষ্ট’ বা কেঁচোসারে মাটির পানি ধারণ করার ক্ষমতা ও মাটি নরম করার ক্ষমতা তো আছেই,এ ছাড়া আছে আটাশি দশমিক ৩২ ভাগ জৈব পদার্থ, এক দশমিক ৫৭ ভাগ নাইট্রোজেন, এক দশমিক ২৬ ভাগ বোরন-যেগুলো অন্যান্য জৈব সারে এত বেশি পরিমাণে নেই।

কেঁচোসার ব্যবহার করলে চাষের খরচ কম হয়। প্রাকৃতিক লাঙ্গল যে কেঁচো তারও সংখ্যা বাড়ে মাটিতে। উৎপাদিত ফসলের বর্ণ, স্বাদ, গন্ধ হয় আকর্ষণীয়। ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।


সহজ উপপায়ে কেঁচো সার উৎপাদনঃকেঁচোসার উৎপাদন করতে গভীর মাটিতে যে ছাই রঙের কেঁচো পাওয়া যায়  সেগুলো না নিয়ে বরং মাটির ওপর স্তরে থাকা লাল রঙের কেঁচো খুবই ভালো। এছাড়া সার উৎপাদনের আলাদা কেচোঁও পাওয়া যায়।
কেঁচো সার উৎপাদনের জন্য ছায়াযুক্ত স্থানে প্রথমে কোমর সমান গর্ত করে তাতে দুটো রিং স্লাব বসায়ে দিতে হয়। গর্তের তলায় শুকানো ঝরা মাটি দিয়ে কিছু অংশ ভরে দিতে হয় এরপর। তার ওপর বিছাতে হয় কুচি কুচি করে কাটা খড়কুটো, তার উপর আবার ঝুরা মাটি। ঝুরা মাটির উপর পচাঁ আবর্জনার স্তর। আর্বজনার উপর ঝুরা মাটির স্তর দিতে হবে আরো একবার। এবার মুরগির বিষ্ঠার একটি স্তর করে নিতে হয়। বিষ্ঠার উপর আবার ঝুরা মাটি দিতে হয়। শেষের স্তর এ গোবর। এই গোবরে দিতে হয় কেঁচো ছেড়ে। ঝড়-বাতাস আর বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে ওপরে দিতে হবে ছাউনি। এভাবে তিন মাস রেখে দিলেই পাওয়া যাবে কেচোঁ সার।

অন্যভাবেও কেঁচো সার উৎপাদন করা যায়। এক্ষেত্রে ছায়াযুক্ত স্থানে পলিথিন ব্যাগে আবর্জনা রেখে দিতে হয়, যাতে আবর্জনা পচঁতে পারে। সাত-আট দিন পর পলিথিন বিছিযে দুটি রিং স্লাব পরপর সাজিয়ে তার ভেতর পচাঁ এই আবর্জনা দ্বিগুণ পরিমাণ গোবরের সঙ্গে মিশিয়ে রেখে দিতে হয়। যাতে পঁচা আবর্জনার রস মাটিতে চুয়ে যেতে না পারে। এরপর গোবর মেশানো আবর্জনায়কেঁচো ছেড়ে দিতে হয়। ঝড়-বাতাস, বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে রিং স্লাবের ওপর দিতে হবে ছাউনি।



কেঁচোসার তৈরি করতে দুটি রিং স্লাব ১০০ থেকে ২০০টি কেঁচোই যথেষ্ট। আর সময় লাগবে তিন মাস।। এরই মধ্যে পাওয়া যাবে ফসলের জন্য চমৎকার সার। সচেতন থাকতে হবে রিং স্লাবে যেন কীটনাশক কিংবা ছত্রাকনাশকের মতো কোনো বিষ না পড়ে।
লেখক: সিদ্দিকুর রহমান শাহীন

কেঁচো কম্পোস্ট

মাটির লাল কেঁচো খড়কুটো, ফসলের অবশিষ্টাংশ, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট এবং মাটির সমন্বয়ে যে জৈব সার তৈরি হয় তাকে বলা হয় কেঁচো কম্পোস্ট সার এবং এ কৌশলকে বলা হয় কম্পোস্ট সার তৈরির কৌশল। এটি সহজ একটি পদ্ধতি যেখানে আবর্জনা দিয়ে ব্যবহার উপযোগী উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরি করা যায়।

সার তৈরির কৌশল : কেঁচো কম্পোস্ট সার জমির এক কোণায়, গাছের নিচে এমনকি ঘরের ভেতর বড় বাক্সে তৈরি করা যায়। খোলা জায়গায় তৈরি করতে হবে। মাটি ও জৈব আবর্জনার স্তূপের সাথে কেঁচো মেশাতে হবে। এরপর স্তূপ ঢেকে রাখতে হবে। কেঁচো দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে এবং কয়েক মাসেই তা কেঁচো কম্পোস্ট সারে রূপ নেয়। ঘরের ভেতর বাক্সে তৈরি করতে হলে বাক্সের ভেতর পুরানো খবরের কাগজ বিছিয়ে তা পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। তারপর জৈব মাটি বিছিয়ে দিয়ে কেঁচো ছেড়ে দিতে হবে। মাটি এবং তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে কেঁচো মারা যেতে পারে এ জন্য বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।


কেঁচো কম্পোস্ট সারের উপকারিতা : উৎপাদন ও ফসলের গুণাগুণ বৃদ্ধি পায়। তুলনামূলকভাবে উৎকৃষ্ট ও বড় আকারের ফল বা সবজি পাওয়া যায়। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে কেঁচো সার ব্যবহারে সেচের পানি কম লাগে। ক্ষারীয় লবণাক্ত মাটিতেও চাষাবাদ সম্ভব। রোগ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছার ঝামেলা কম হয়। ফসলের বীজের অংকুরোদগম ক্ষমতা বাড়ে। অধিক কুশি, অধিক ছড়া ও দানা গঠন হয়। মাটির বুনট উন্নত হয়। রাসায়নিক সারের চাইতে খরচ অনেক কম হয়। পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে।

ফসলে কেঁচো সারের ব্যবহার : বৃষ্টিনির্ভর ফসল তিল, মুগ ছোলা, মাসকলাই, জোয়ার, বাজরা, সরিষা এসব কম পুষ্টি চাহিদা সম্পন্ন ফসলে রাসায়নিক সার ছাড়াই একর প্রতি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ কেজি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে অধিক ফলন পাওয়া যায়। সূর্যমুখী, বার্লি, ভুট্টা ও গম এসব ফসলে কৃষকরা সাধারণত হালকা সেচ, রাসায়নিক সার ব্যবহার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে একরপ্রতি মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে অধিক ফলন পাওয়া যায়। পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গাজার, আলু, মিস্টি আলু, ঢেঁড়শ, বেগুন, শসা ইত্যাদি ফসলে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে একরপ্রতি মাত্র ১০০০ কেজি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে কৃষকরা অধিক ফলন পাচ্ছেন। ফুলকপি, বাধাকপি, আলু, মরিচ, ধান, টমেটো, রসুন, আদা, হলুদ এসবের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রাসায়নিক সারের অর্ধেক মাত্রার সাথে একরপ্রতি মাত্র ১টন কেঁচো কম্পোস্ট সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। বিশেষত ফল বাগানে গাছপ্রতি ১ থেকে ১৫ কেজি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে অধিক ফল পাওয়া যায়।


আমাদের দেশের কৃষক ভাইরা কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে কম খরচে অধিক ফলন ঘরে তুলতে পারেন। এতে জমি রাসায়নিক সারের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং উর্বরতা বজায় থাকবে।
লেখক: এম এ কিসমত খান, পাউবো, পাবনা

কেঁচো সার চাষ পদ্ধতি

উৎপাদন বাড়ির সব ধরনের জৈব আবর্জনা যেমন-কলাগাছ, কচুরিপানা, গাছের ঝরাপাতা, আগাছা প্রভৃতির সঙ্গে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ গোবর মিশিয়ে কুচি কুচি করে কেটে পলিথিন ব্যাগে ভর্তি করে ছায়াযুক্ত স্থানে ১০-১২ দিন রেখে দিন। একটি ছায়াযুক্ত উঁচু স্থানে ৫ ফুট বাই ৭ ফুট উচ্চতার ইট-বালু দিয়ে হাউস তৈরি করুন। আবর্জনা মেশানো গোবর হাউসের ভেতর ঢেলে আনুমানিক ৫০০ কেঁচো ছাড়ুন। ওপরে কিছু নারিকেল পাতা দিয়ে তার ওপর চট দিয়ে ঢেকে দিন। শুকনো মৌসুমে প্রয়োজনে ছয়-সাত দিন পর পর এক থেকে তিন কেজি পানি ছিটিয়ে দিন। এ অবস্থায় পরিচর্চা করলে কেঁচোগুলো আবর্জনা খেয়ে কেঁচো সারে পরিণত করবে। হাউস থেকে সার উঠিয়ে শূন্য দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা ১ ইঞ্চির পাঁচ ভাগের এক ভাগ ছিদ্রযুক্ত চালনি দ্বারা চেলে সার ও কেঁচো আলাদা করতে হবে। সারকে ফসলে এবং কেঁচোকে আবার নতুন সার তৈরির কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া গামলা পদ্ধতি, ঘের পদ্ধতি, রিং পদ্ধতিতে কেঁচো সার উৎপাদন সম্ভব।


সাবধানতা পিঁপড়া, উইপোকা, তেলাপোকা, গুবরেপোকা, মুরগি ও বিভিন্ন পাখি কেঁচোর শত্রু। এগুলো কোনো কীটনাশক দিয়ে মারা যাবে না। তবে হাউসের চারদিকে কীটনাশক দেওয়া যাবে। ব্যবহৃত গোবরের সঙ্গে ছাই, বালু, ভাঙা কাচ ইত্যাদি রাখা যাবে না। মুরগি ও পাখির আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য হাউসের ওপর ঢাকনা দিয়ে রাখবেন। কেঁচোকে জীবিত ও সক্রিয় রাখতে হাউসে বেশি পানি দেওয়া যাবে না, আবার পানি শুকিয়ে ফেলাও যাবে না। চালনি দিয়ে চালার সময় হাউসে নির্দিষ্ট জাত ছাড়া অন্য জাতের কেঁচো থাকলে তা আর পরে সার তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে না।

বৈশিষ্ট্য এ সারে গাছের অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি খাদ্য উপাদানের ১০টিই বিদ্যমান। এ ছাড়া এর মধ্যে গাছের অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি হরমোন ও এনজাইম রয়েছে, যা গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ফলের বর্ণ, গন্ধ, স্বাদসহ অন্যান্য গুণগত মান উন্নত রাখে। কেঁচো সার বীজের অঙ্কুরোদ্গমে সহায়ক। এ সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন খরচ কমে। সব ফসলেই ব্যবহারযোগ্য। বেলে-দোআঁশ মাটিতে এর কার্যকারিতা বেশি। ফলদ গাছ বা উঁচু জমির ফসলে পর পর তিনবার কেঁচো সার ব্যবহার করলে ডিম থেকে উৎপন্ন কেঁচো ওই স্থানে নিজে থেকেই সার উৎপাদন করতে থাকে। ফলে পরবর্তী দু-তিনটি ফসলে সার ব্যবহার না করলেও চলে।


পুষ্টিমান জৈব পদার্থ দিয়ে সাধারণ সার তৈরির পরিবর্তে কেঁচো সার তৈরি করলে এর পুষ্টিমান সাত থেকে ১০ গুণ বাড়ে। সুহৃদ বাংলাদেশ কর্তৃক কুমিল্লা জেলায় উৎপাদিত কেঁচো সারের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর মধ্যে জৈব পদার্থ ২৮ দশমিক ৩২ ভাগ, নাইট্রোজেন ১ দশমিক ৫৭ ভাগ, ফসফরাস ১ দশমিক ২৬ ভাগ, পটাশিয়াম ২ দশমিক ৬০ ভাগ, ক্যালসিয়াম ২ ভাগ, ম্যাগনেসিয়াম দশমিক ৬৬ ভাগ, সালফার দশমিক ৭৪ ভাগ, আয়রন ৯৭৫ পিপিএম, ম্যাংগানিজ ৭১২ পিপিএম, বোরন ০.০৬ ভাগ, জিঙ্ক ৪০০ পিপিএম, কপার ২০ পিপিএম রয়েছে।

ব্যবহার পেঁপে, কলা, লেবু, পেয়ারা প্রভৃতি ছোট আকারের ফলদ গাছে বছরে একবার প্রতি গাছের গোড়ায় চারদিকে গোল নালা কেটে গাছপ্রতি পাঁচ কেজি কেঁচো সার দিয়ে ওপরে মাটিচাপা দিতে হবে। শাকসবজির জমিতে কেঁচো সার মিশিয়ে বীজ বা চারা লাগাতে হবে। ধান, পাট প্রভৃতি জলাবদ্ধ অবস্থায় জন্মানো ফসলে বিঘাপ্রতি ৫০ কেজি কেঁচো সার শেষ চাষ-মইয়ের আগে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। ফুল গাছে গাছপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ গ্রাম সার চারা লাগানোর সময় গাছের গোড়ায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে চারা লাগাতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

মেহগনির বীজ থেকে জৈব কীটনাশক ও সার উদ্ভাবন

খুলনা-মংলা মহাসড়ক ধরে আট কিলোমিটার যেতেই ভরসাপুর বাজার। এখান থেকে মংলার দিকে আরেকটু এগোতেই চোখে পড়ল ফিউচার অর্গানিক ফার্মের সাইনবোর্ড। ঔৎসুক্য নিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। ৩ জাতের ধান, ১৪ রকমের সবজি, ৬ জাতের ফল ও ৪ জাতের শাকের চাষ হচ্ছে সেখানে। উদ্যোক্তা সৈয়দ আবদুল মতিন এগিয়ে এসে জানালেন, কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করেন না তিনি। পোকামাকড় দমন করেন মেহগনির বীজ থেকে তৈরি তেল দিয়ে। সার হিসেবেও ব্যবহার করেন মেহগনির বীজের গুঁড়া বা কেক। আর মেহগনির পাতার নির্যাস থেকে তৈরি করেন একধরনের পানীয়। ভবিষ্যতের এই জৈব খামারে ছোট্ট একটি টিনের ঘরও চোখে পড়ল। ওটাই আবদুল মতিনের জৈব প্রযুক্তির গবেষণাগার। সেখানে ড্রামে মেহগনির তেল রাখা। বস্তায় রাখা মেহগনির বীজ থেকে তৈরি জৈব সার। বিভিন্ন বয়ামে ফসলের বীজও রাখা আছে। খুলনা শহরের তাঁর ছোট্ট বাসা থেকে প্রতিদিন বাসে করে এই খামারে আসেন সৈয়দ আবদুল মতিন। সারা দিন কাজ করে সন্ধ্যায় ফিরে যান। আবদুল মতিন জানালেন, মেহগনির বীজ ও পাতার স্বাদ নিমের মতোই তিতা।

ওই তিতা স্বাদের কারণেই এত সব গুণ এর মধ্যে। রাস্তায়, বাগানে অবহেলায় পড়ে থাকা মেহগনির বীজ থেকে এত কিছু উদ্ভাবন করেই থেমে থাকেননি তিনি। দেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চারটি গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীদের হাতে তাঁর উদ্ভাবন তুলে দিয়েছেন। এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করিয়েছেন। সবাই পরীক্ষা করে এর সফলতা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। শুধু গবেষণা করেই থেমে থাকেননি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই সাবেক উপসহকারী কৃষি কর্মী। মেহগনি বীজ থেকে তৈরি ওই তিনটি উদ্ভাবন রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত সংস্থা মেধাস্বত্ব, নকশা ও ট্রেডমার্ক বিভাগ থেকে পেয়েছেন মেধাস্বত্ব। ভেষজ পানীয় ও জৈব সারের স্বীকৃতি পেয়েছেন ২০১৩ সালে আর জৈব বালাইনাশকের মেধাস্বত্বের প্রাথমিক স্বীকৃতি মিলেছে এ বছর। মেহগনির বিজ নিয়ে গবেষণার আগ্রহ কেন হলো—জানতে চাইলে আবদুল মতিন স্মৃতি হাতড়ে বলতে থাকলেন, ‘১৯৭৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে কৃষির ওপর ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৭৮ সালের মার্চে যোগ দিলাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে। পদের নাম গ্রাম কৃষি কর্মী। গ্রামের বাড়ি রামপাল, তাই সেখানেই পোস্টিং দেওয়া হলো।’ কথা থামিয়ে আবারও জানতে চাইলাম মেহগনির প্রতি আগ্রহ কেন বা এর গুণাগুণ সম্পর্কে জানলেন কী করে? বললেন, ‘তখন রামপালে কাজ করি। ১৯৯৯ সালে একবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে গেলাম সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে। সেখানে আমাকে জৈব বালাইনাশকের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো। বালাইনাশক হিসেবে নিমের নানা গুণ সম্পর্কে সেখান থেকেই জানলাম।’ কিছুটা থেমে আবারও বলা শুরু করলেন, ‘কিন্তু এলাকায় এসে দেখি, নিমগাছ তেমন নেই। তাহলে কী দিয়ে হবে জৈব বালাইনাশক? একদিন পাশের গ্রামের কৃষক আবদুল গনি আরেক কৃষক মারুফের দিকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, “তুই যদি তিনটি মেহগনির বীজ খাতি পারিস, তাহলে ৫০০ টাকা পাবি।” যুবক চ্যালেঞ্জটি নিয়ে একে একে তিনটি মেহগনির বীজ চিবিয়ে খেয়ে ফেলল। এরপর মুখ বিকৃত করে বমি করে দিল। পরে তাকে ধরে বাসায় দিয়ে আসলাম।’

মেহগনির বীজের তিতা স্বাদ নিমগাছের সন্ধানে থাকা মতিনকে পথ দেখাল। রামপাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের পাশের সড়কের মেহগনিগাছগুলো খেয়াল করে দেখলেন, এর পাতাগুলো স্বরূপেই আছে, কোথাও পোকায় খায়নি। ইন্টারনেটে গিয়ে গুগলে ইংরেজিতে মেহগনি ট্রি লিখে সার্চ দিতেই জানতে পারলেন, আফ্রিকা এবং পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের আদিবাসীরা এই গাছের পাতা ও বীজ দিয়ে ভেষজ ওষুধ তৈরি করে। একটি জার্নালে প্রকাশিত লেখা থেকে আবদুল মতিন জানতে পারলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার আদিবাসীরা মাথার উকুন দূর করতে মেহগনির বীজের তেল ব্যবহার করে। এ তথ্য জানতে পেরে তিনি গাছের পোকার ওপরে ওই তেল ছিটিয়ে দিয়ে দেখেন, সেগুলো মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে ধানের ক্ষেত্রে দিয়ে দেখলেন, ক্ষতিকারক মাজরা পোকা, পাতা পোড়ানো পোকা ও বাদামি ঘাসফড়িংয়ের আক্রমণ হলো না। তবে অন্য ক্ষতিকারক পোকার ডিম খেয়ে তাদের বংশবৃদ্ধি রোধ করে এমন পোকামাকড়গুলো মারা যায়নি। বছর শেষে মতিন খেয়াল করলেন, মেহগনির তেল ছিটানো হয়েছে এমন ফসলগুলোকে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকানো গেছে। পরের বছর মেহগনি বীজের গুঁড়া গাছের গোড়ায় দিয়ে দেখলেন, অন্য সার ছাড়াই ফলন ভালো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁরা উৎসাহ দিলেন এবং পরামর্শ দিলেন আরও ফসলের ওপর এটা পরীক্ষা করার জন্য। পরে আরও খোঁজ নিয়ে আবদুল মতিন জানতে পারলেন, চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, গাম্বিয়া ও নাইজেরিয়ার আদিবাসীরা মেহগনির পাতার রস জ্বর-টাইফয়েডসহ বিভিন্ন অসুখের সময় সেবন করে। আবদুল মতিনও মেহগনির পাতার নির্যাস বের করে একধরনের পানীয় তৈরি করলেন।

তারপর জ্বরে আক্রান্ত মানুষকে তা খাইয়েও দেখলেন। ফলাফল সন্তাষজনক বলে তাঁর মনে হয়েছে। আবদুল মতিন জানান, সাড়ে তিন কেজি মেহগনির বীজকে ১০ লিটার পানি ও ১০ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে তিন-চার দিন ভিজিয়ে রাখা হয়। বীজ নরম হলে যন্ত্র দিয়ে পিষে রস বের করেন। এতে এক লিটার তেল পাওয়া যায়। মেহগনি বীজের ছোবড়া ও বের হওয়া গাদকে তিনি সার হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০০০ সালে মেহগনির তেল থেকে ওই বালাইনাশক তৈরির পর বিভিন্ন সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের লোকজন তাঁর ওই খামার পরিদর্শনে যান। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোলায়মান ফকির গবেষণা করে দেখেন, এটি ব্যবহারে ধানের পোকা নির্মূল হয়। বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের গবেষক নেসার আহমেদ গবেষণা করে দেখেছেন, মাছের রেণুতে আক্রমণকারী পোকা ও শুঁটকির পোকা দূর করার ক্ষেত্রে এই তেল কার্যকরী। বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি বোর্ডের রুহুল আমীন এবং হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিজাম উদ্দিন সবজির পোকা নির্মূলে এই তেলের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁরা ইতিবাচক ফল পেয়েছেন বলে প্রথম আলোকে জানান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক এস এস কে চৌধুরী এই তেল ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে দেখেছেন, এতে ইঁদুরের কোনো শারীরিক ক্ষতি হয় না। আবদুল মতিন খেয়াল করলেন, মেহগনির তেল ছিটালে শুধু ফসলের ক্ষতিকর পোকাই দমন হয় না, মশাও বিতাড়ন হয়।

এ ছাড়া মেহগনির নির্যাস খেলে গবাদিপশু তো বটেই, মানুষের শরীরে ছোটখাটো ঘা বা কেটে গেলে মেহগনির তেল দিলে তা অ্যান্টিসেপটিকের মতো কাজ করে। পিঁপড়া ও উইপোকা দমনেও মেহগনি তেলের কার্যকারিতা পেয়েছেন মতিন। আবদুল মতিন বলেন, ভারতে নিমের কার্যকারিতা নিয়ে হাজার হাজার গবেষণা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সেখানে নিমকে জনপ্রিয় করার অনেক উদ্যোগ আছে। তারা নিমের প্যাটেন্টও নিজ দেশের নামে করে নিয়েছে। আমাদের দেশে এত নিমগাছ নেই। কিন্তু কোটি কোটি মেহগনি গাছ আছে। গাছ থেকে পেড়ে আনার জন্য শ্রমিকদের মজুরি ছাড়া এর আর কোনো খরচ নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল মতিনের এই উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে মেহগনির তেলকে জৈব কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দুই বছর ধরে আবদুল মতিনের কাছ থেকে এই তেল নেওয়া হচ্ছে। আবদুল মতিন বলেন, মেহগনির বীজের তেল ও জৈব সারকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশবাসীকে বিষমুক্ত সবজি ও ফসল উপহার দেওয়া যাবে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বাবদ বাড়তি খরচ কমে যাবে। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি জাতীয়ভাবে এই প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দিতে চায়, আমি আমার নিজের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সরকারের হাতে তুলে দেব। এতে পরবর্তী প্রজন্ম বিষমুক্ত

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

আমের জন্য জৈব সার তৈরির প্রস্তুত প্রনালী

বসত বাড়ীর জৈব সার কারখানা
মাটির গঠন ও গুণাগুণ ঠিক রাখতে হলে জৈব সার ব্যবহার করেই একে উৎপাদনক্ষম করতে হবে। তাই জৈব সার তৈরী ও সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রত্যেক কৃষক ভাইয়ের যত্নবান হওয়া উচিত। সামান্য উদ্যোগ নিয়ে নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে প্রায় বিনা খরচে জৈব সার তৈরী করা সম্ভব। নিজস্ব শ্রম ও গৃহস্থলী থেকে প্রাপ্ত খড়কুটা লতাপাতা, কচুরিপানা, ছাই, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা,
গোবর গো-চনা, বাড়িঘর ঝাড়ু দেয়া আবর্জনা ইত্যাদি পচিয়ে বা সংরক্ষণ করে প্রত্যেক কৃষক বাড়িতে ছোটখাটো একটি সার কারখানা গড়ে তুলতে পারে। এই জৈব সার ব্যবহারে মাটির উৎপাদিকা শক্তি যেমন ঠিক থাকবে ঠিক থাকবে অন্যদিকে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা হ্রাস পাবে।

গোবর সার সংরক্ষণ পদ্ধতি
গরুর মলমূত্র একত্রে মিশিয়ে ও পঁচিয়ে যে সার তৈরী করা হয় তাই গোবর সার। এই সার বাংলাদেশের কৃষকের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও উত্তম মানের সার। এত অধিক পরিমাণ জৈব সার অন্য কোনো গৃহপালিত পশুপাখি থেকে পাওয়া যায় না। কিন্তু উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে এত মূল্যাবান সারটির বিরাট অংশ বিনষ্ট হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় অযত্ন ও অনিয়মে গোবর জড় করে রাখা হয়। অনেকে গর্ত করে গোবর সংরক্ষণ করেন ঠিকই কিন্তু উপরে আচ্ছাদন না থাকায় রোদ ও বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই এভাবে যে সার তৈরী করা হয় তা মাটি বা ফসলের জন্য কোনো কাজে আসে না। এ ছাড়া আজকাল গোবরকে জ্বালানি হিসাবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সম্পদের একক ব্যবহারে জমিতে সারের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। অথচ এই গোবরকে বায়ো-গ্যাম হিসাবে ব্যবহার করার পরেও সার হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব। সরাসরি গোবরকে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করার ফলে এক-তৃতীয়াংশ গোবর সার বিনষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন যেটুকু গোবর পাওয়া যায় তা সযত্নে সংরক্ষণ করা উচিত। কারন কাঁচা গোবর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবার সাধারণত গোবর জমা করে রাখলেও সারের গুণগত মান নষ্ট হয়।

উন্নত পদ্ধতিতে যেভাবে গোবর সার তৈরী করবেন
১। গোয়াল ঘরের কাছাকাছি সামান্য উঁচু স্থান বেছে নিয়ে ১.৫ মিটার চওড়া, ৩ মিটার লম্বা ও ১মিটার গভীর গর্ত তৈরী করুন। গোবরের পরিমাণ বুঝে গর্ত ছোট, বড় বা একাধিক গর্ত করতে পারেন।
২। গর্তের তলা ভালোভাবে পিটিয়ে সেখানে খড়/কাঁকর/বালি বিছিয়ে নিন যাতে পানি সহজে শুষে নিতে পারে অথবা গর্তের তলা এবং চারপাশে গোবর দিয়ে ভালভাবে লেপে নিতে পারেন। গর্তের চারিদিকেই তলদেশের দিকে একটু ঢালু রাখতে হবে এবং গর্তের উপরে চারপাশে আইল দিয়ে উঁচু করে রাখতে হবে যেন বর্ষার পানি গর্তে যেতে না পারে।
৩। গর্তের পাশ থেকে গোবর ফেলে গর্তটি ভরতে থাকুন অথবা গর্তটিকে কয়েকটি ভাগেভাগ করে কয়েক দিনে এক একটি অংশ ভরে পুরো গর্ত ভরাট করা ভালো।
৪। গর্তে গোবর ফলার ফাঁকে ফাঁকে পুকুর বা ডোবার তলার মিহি মাটি ফেলুন, এতে স্তর আঁটসাট হয় এবং সার গ্যাস হয়ে উবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
৫। প্রায় দেড় মাস পর সারের গাদা ওলটপালট করে দিতে হবে। যদি গাদা শুকিয়ে যায় তবে গো-চনা দিয়ে ভিজিয়ে দিন কারণ, গো-চনাও একটি উৎকৃষ্ট সার।
৬। গোবরের সাথে টিআসপি (ঞঝচ) ব্যবহার করলে জৈব সারের মান ভালো হয়। গোবরের গাদার প্রতি টনের জন্য ১৫-২০ কেজি টিএসপি ব্যবহার করতে পারেন।
৭। কড়া রোদে গোবর যেন শুকিয়ে না যায় আবার বৃষ্টিতে ধুয়ে না যায় সে জন্য গাদার ওপরে চালা দিয়ে দিন। খড়, খেজুর পাতা কিংবা তালপাতা দিয়ে কম খরচে এই চালা তৈরী করতে পারেন।

এমনিভাবে সংরক্ষণের ২ মাসের মধ্যেই গোবর পচে উত্তম মানের সার তৈরী হয় যা পরবর্তীতে জমিতে ব্যবহার করার উপযোগী হয়। জৈব সার ব্যবহার করে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভশীলতা কমিয়ে আনুন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট হন।

প্রফেসর ডঃ মোঃ সদরুলআমিন উদ্ভাবিত বায়োএক্টিভেটেড পদ্ধতিতে সহজেই ২৮ দিনে উন্নত মানের কম্পোস্ট তৈরী করা।

কচুরি পানা দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরী
কম্পোস্ট তৈরীর আসল কাঁচামাল কচুরিপানা ছাড়াও খড়কুটা, ঝরাপাতা, আগাছা, আবর্জনা, ফসলের অবশিষ্টাংশ একত্রে মিশিয়ে পচানো হয়-যা থেকে উৎকৃষ্ট মানের কম্পোস্ট উৎপাদন সম্ভব। বর্ষায় বাংলাদেশে ডোবা-নালাসহ জালাঞ্চলগুলো কচুরিপানায় ভরে ওঠে। যার ফলে পানি দূষিত হয় এবং মশার উপদ্রব বাড়ে। অথচ এই কচুরিপানাকেই আমরা কম্পোস্টের আসল কাঁচামাল হিসাবে গণ্য করতে পারি। আমরা সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরী করতে পারি-

১। স্তূপ পদ্ধতি
২। গর্ত পদ্ধতি

স্তূপ পদ্ধতি
অতিবৃষ্টি ও বন্যাযুক্ত এলাকার জন্য স্তূপ বা গাদা পদ্ধতিতে কম্পোস্ট সার তৈরী করতে হবে। বসতবাড়ির আশপাশে, পুকুর বা ডোবার ধারে কিংবা ক্ষেতের ধারে যেখানে বন্যার কিংবা বৃষ্টির পানি দাঁড়াবার কোন সম্ভাবনা নেই এমন জায়গাকে স্তূপ পদ্ধতিতে কম্পোস্ট সার তৈরীর স্থান হিসাবে নির্বাচন করতে হবে। স্তূপের উপরে চালা দিতে হবে অথবা গাছর নিচে স্থান নির্বাচন করতে হবে যাতে রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়।

স্তূপের আকার
এই পদ্ধতিতে গাছের ছায়ায় মাটির ওপর ৩ মিটার দৈর্ঘ্য ১.২৫ মিটার প্রস্থ ও ১.২৫ মিটার উচুঁ গাদা তৈরী করুন। আপনার সুবিধা অনুযায়ী এই মাপ কম-বেশি করতে পারেন। প্রথমত কচুরিপানা অথবা অন্যান্য আবর্জনা ফেলে ১৫ সে. মিটার স্তূপ তৈরী করুন। স্তর সাজানোর আগে কচুরিপানা টুকরা করে ২/৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এবার সাজানো স্তরের ওপর ২০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ২০০ গ্রাম টিএসপি ছিটিয়ে দেয়ার পর স্তরের উপরিভাগে ২.৫/৫ সে. মি. পুরু করে কাদা ও গোবরের প্রলেপ দিয়ে দিন। এতে পচন ক্রিয়ার গতি যেমন বাড়বে অন্যদিকে সুপার কম্পোস্ট তৈরী হবে। এভাবে ১.২৫ মিটার উঁচু না হওয়া পর্যন্ত ১৫ সে. মি. পুরু স্তর সাজানোর পর পর ইউরিয়া ও টিএসপি দিয়ে তার ওপর গোবর ও কাদা মাটির প্রলেপ দিন। গাদা তৈরী শেষ হয়ে গেলে গাদার ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে ছাউনির ব্যবস্থা করুন।

কম্পোস্ট স্তূপ পরীক্ষা
কম্পোস্ট স্তূপ তৈরী করার এক সপ্তাহ পর শক্ত কাঠি গাদার মাঝখানে ঢুকিয়ে দেখুন গাদা অতিরিক্ত ভেজা কিনা। যদি ভেজা হয় তবে গাদার উপরিভাগে বিভিন্ন অংশে কাঠি দিয়ে ছিদ্র করে দিনে যেন বাতাস ঢুকতে পারে। ২/৩ দিন পর গর্ত বা ছিদ্রগুলো মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিন।
আবার গাদা অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে ছিদ্র করে পানি অথবা গো-চনা ঢেলে দিন। এতে সার ভালো হবে। কম্পোস্ট তাড়াতাড়ি পচে সার হওয়ার জন্য স্তর সাজানোর ১ মাস পর প্রথমবার এবং ২ মাস পর দ্বিতীয় বার গাদার স্তরগুলো উল্টিয়ে দিন। এ সময় কম পচা আবর্জনাগুলো গাদার মাঝখানে রাখুন। আবর্জনা সার ঠিকমতো পচলে ধূসর বা কালো বর্ণ ধারণ করবে এবং আঙ্গুলে চাপ দিলে যদি গুঁড়া হয়ে যায় তবে মনে করবেন মাঠে ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে। উল্লেখিত পর্দাথের মাপগুলো যদি ঠিকমত দেয়া হয় তবে এ জাতীয় কম্পোস্ট গাদা ৩ মাসের মধ্যে উন্নতমানের সারে রূপান্তরিত হয়।

গর্ত পদ্ধতি
পানি দাঁড়ায় না কিংবা কম বৃষ্টিপাত এলাকা কিংবা শুকনো মৌসুমে গর্ত পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরী করা যঅয়। গাছের ছায়ার নিচে বাড়ির পেছন দিকে অথবা গোশালার পাশেই কম্পোস্ট গর্ত তৈরী করা সব দিক থেকে সুবিধাজনক।
আপনার প্রাপ্ত স্থানের সাথে সঙ্গতি রেখে গর্ত তৈরী করুন। তবে ১.২৫ মিটার প্রস্থ, ১ মিটার গভীর ও ২.৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গর্ত তৈরী করুন।
গর্তের তলায় বালু অথবা কাঁকর দিয়ে দরমুজ করে দিন যাতে জলীয় পদার্থ শোষণ করে নিতে পারে। প্রয়োজনে ধানের খড়ও বিছিয়ে দিতে পারেন, তাও সম্ভব না হলে গোবর কাদার সাথে মিশিয়ে গর্তের তলা এবং চারপাশে লেপে দিন। মনে রাখবেন গর্তের ওপর দিকে ভুমি থেকে খানিকটা উঁচু করে আইল তৈরী করে দিতে হবে যাতে কোন রকমে পানি গড়িয়ে গর্তে পড়তে না পারে।
এবার গাদা পদ্ধতির মতো করে গর্তে কচুরিপানা স্তরে স্তরে সাজিয়ে কম্পোস্ট তৈরী করুন। অথবা গোয়াল ঘরে গোবর, গো-চনা, পাতা, আখের ছোবড়া, কলাপাতা যাবতীয় উচ্ছিষ্ট অংশ গর্তে ফেলুন। সম্ভব হলে গো-চনার সাথে কাঠের গুঁগা মিশিয়ে দিতে পারলে ভাল হয়।
এমনি এক একটি স্তরের ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে দিন। মনে রাখবেন, মাটির প্রলেপ দেয়ার আগে স্তর ভালভাবে ঠেসে দিতে হবে। গর্ত ভরাট না হওয়া পর্যন্ত এমনিভাবে স্তর তৈরী করুন।
প্রত্যেকটি স্তর তৈরীর পর মাটির প্রলেপ দেয়ার আগে পরিমান মতো ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দিন। এরূপ একটি গর্তে তিন টন আবর্জনার জন্য ১/২ কেজি ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হবে। গর্ত ভরাট হয়ে যাওয়ার পর গোবর ও মাটি মিশিয়ে উপরিভাগে প্রলেপ দিয়ে দিন।
সার যাতে শুকিয়ে না যায় তা পরীক্ষা করতে হবে। গর্তের মাঝখানে ছিদ্র করে দেখতে হবে, যদি শুকনো মনে হয় তবে ছিদ্র দিয়ে পানি ঢালতে হবে। জৈব পদার্থে পানির পরিমাণ ৬০-৭০ ভাগ থাকা বাঞ্ছনীয়।
এভাবে তিন মাস রাখার পর এই সার ব্যবহার উপযোগী হবে।

কম্পোস্ট ব্যবহারের নিয়ম
ধান পাট, আলু, গম ও শাকসবজির মাঠে কম্পোস্ট ব্যবহার করা যায়। বেলে দোআঁশ, বারিন্দ্র ও লালমাটি এবং মধুপুরগড় এলাকার জন্য কাম্পোস্ট বেশ কার্যকারী। কম্পোস্ট জমিতে ছিটিয়ে দেয়ার সাথে চাষ দিয়ে মাটির সাথ মিশিয়ে দিন।

প্রত্যেক বাড়িতে জৈব সার কারখানা গড়ে তুলুন

লতাপাতা ও গাছগাছলি দিয়ে সবুজ সার তৈরী
সবুজ সার কী? এরকম প্রশ্ন উথাপিত হওয়া স্বাভাবিক। এ প্রশ্নের সহজতর জবাব হচ্ছে-কোনো উদ্ভিদকে সবুজ অবস্থায় চাষ দিয়ে মাটির সাথে মেশানোর ফলে পচে গিয়ে যে সার তৈরী হয়, তাকেই সবুজ সার বলে। অন্য কথায় বলা যায় যে, মাটির জৈব পদার্থের ক্ষয়পূরণ বা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একই স্থানে কোনো ফসল জন্মিয়ে সবুজ গাছগুলোকেব মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়াকে সবুজ সার বলে। জমিতে এই পদ্ধতিতে সবুজ সার ব্যবহারের ইতিহাস স্মরণাতীতকাল থেকেই চলে আসছে। রোমানগণ সর্বপ্রথম মিশ জাতীয় শস্য সবুজ সার হিসাবে ব্যবহার করেছেন।

সবুজ সার জাতীয় গাছর পরিচিতি
শুঁটি এবং অশুঁটি উভয় জাতীয় গাছ দ্বারাই সবুজ সার করা যায়। সবুজ সারের উপযোগী প্রায় ৩০টির মতো শুটি এবং ১০টির মতো অশুঁটি জাতীয় শস্য রয়েছে। আমাদের দেশে সচরাচর শুঁটি জাতীয় গাছই সবুজ সার হিসাবে ব্যবহারের জন্য চাষ করা যায়। এগুলোর মধ্যে ধৈঞ্চা, বরবটি, শণই প্রধান। এ ছারা শিম, খেসারি, মাশকলাই, মুগ, মটর, মসুর, ছোলা, সয়াবীন, চীনাবাদাম, অরহর প্রতৃতিও শুটি জাতীয় শস্য। অশুঁটি জাতীয় গাছের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, ধান, গম, খোয়ার, ইক্ষু, সূর্যমুখী, বাজরা, তুলা, তামাক প্রভৃতি।

কিভাবে সবুজ সার প্রস্তুত করবেন
বাংলাদেশে ব্যবহার উপযোগী দু্’একটি আদর্শ সবুজ সার জাতীয় ফসালের চাষ ও সবুজ সার প্রস্তুত প্রণারী সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক।

শুঁটি জাতীয় সবুজ সার
শুঁটি জাতীয় সবুজ সারের উপযোগী গাছ সারা বছরই চাষ করা যায়, তবে শীতের সময় এর বাড় বাড়তি কম হয়।

ধৈঞ্চা
ধৈঞ্চা বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়াতে ভাল জন্মায়। দু-একটি চাষ ও মই দিয়ে ধৈঞ্চার বীজ বৈশাখ/জ্যৈষ্ঠ মাসে ঘন করে বুনে দিন। বীজ বোনার আগে শিকড়ের শুঁটির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য হেক্টরপ্রতি ২০ কেজি বীজ ঘন করে ছিটিয়ে বুনে তা হালকা চাষ দিয়ে বীজগুলো মাটির নিচে ফেলে দিন। কোনো প্রকার যত্ন ছাড়াই দেখবেন দু’মাসের মাধ্যে গাছে ফুল দেখা দিয়েছে। তখনই গাছ সবুজহ সার তৈরীর উপযুক্ত হয়েছে ধরে নেবেন। গাছ বেশি লম্বা হয়ে গেলে ২/৩ টুকরা করে কেটে নিয়ে ঐ ক্ষেত্রে মই দিয়ে গাছ মাটির সাথে মিশিয়ে দিন ক্ষেত্রে সামান্য পানি থাকলে ধৈঞ্চা মই দেয়ার পর খুব সহজে কাদামাটির সাথে মিশে যায়। সাধারণত প্রথম চাষ দেয়ার ১০/১২ দিনের মাথায় পুনরায় চাষ ও মই দিন। দেখবেন মোট ১০/১৫ দিনের মাথায় ধৈঞ্চা গাছ মাটির সাথে মিশে গিয়ে সুবজ সারে পরিণত হয়েছে। ধৈঞ্চা সারের পর রোপা আমন ভালো জন্মায়- তাই ধৈঞ্চা চাষের পর রোপা আমনের চাষ করুন।

শণ
শণ একটি উৎকৃষ্ট সবুজ জাতীয় সার। ধৈঞ্চার অনুরূপ পদ্ধতিতে হেক্টরপ্রতি ৪০/৫০ কেজি বীজ ঘন করে উঁচু জমিতে বপন করুন। শণ গাছ দাঁড়ানো পানি সহ্য করতে পারে না। তাই ক্ষেতে নালা রাখুন। গাছ ১.২/১.৫ মিটার উঁচু বা ৭/৮ সপ্তাহ পর ফুল দেখা দিলেই ধৈঞ্চার মতো মই দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন। ১৫ দিন পর আবার মই দিয়ে ক্ষেতের পানির সাথে মিশিয়ে দিন। এমনি গাছ পচে যেতে সময় লাগকেব এক মাস। শণ গাছ পচে গিয়ে মাটিতে উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার প্রস্তুত করে।

বরবটি
বরবটিও সবুজ সার হিসাবে চাষ করা যায়। যদিও বরবটি মানুষ ও পশুখাদ্য হিসাবেই বেশি চাষ হয় তথাপি চীনে সবুজ সার হিসাবে চাষে এর ফলন বেশি।
বরবটি উঁচু জমির শস্য। পানি দাঁড়ালে ভাল কখনও হয় না। লাল মাটির জন্য খাড়টি অত্যন্ত উপযুক্ত সবুজ সার। অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল বরবটি গাছে মাত্র ছয় সপ্তাহের মাঝেই ফুল আসে এবং তখনই তা সবুজ সার হিসাবে ব্যবহারের উপযুক্ত হয়। ঐ সময় চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে সবুজ সার প্রস্তুত করতে হয়।

জৈব সারের উপকারিতা
এখন কৃষি ক্ষেত্রের প্রেক্ষাপট অনেক বদলেছে। ৬০-এর দশকের আগে এদেশে দেশী জাতের ধান আবাদ হতো। তখন যা উৎপাদন ছিল তাতেই আমাদের চলে যেত। জনসংখ্যা বাড়ছে, খাদ্যের প্রয়োজন বাড়ছে, তাই ৬০-এর দশক থেকে আস্তে আস্তে শুরু হল সেচ আর রাসায়নিক সার ব্যবহারের।
গত ৩০ বছর থেকে পর্যায়ক্রমে একই জমিতে একই ফসলের চাষ, রাসায়নিক সার ব্যবহার, জৈব সারের ঘাটতি- সব কিছু মিলে মাটি আজ তার উর্বরা শক্তি একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে। আমরা উচ্চ ফলনশীল শস্যের চাষ করতে গিয়ে শস্য বেড়ে ওঠার জন্য তার যত্ন নিচ্ছি। খাবার দিচ্ছি এবং পরবর্তীতে তার কাছ থেকে কাঙ্খিত ফলন পাচ্ছি। কিন্তু মাটির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করছি কি?


মাটির খাদ্য হচ্ছে জৈব সার বা জৈব মিশ্রণ। গোবর একটি জনপ্রিয় বহুল প্রচলিত এবং উৎকৃষ্টমানের জৈব সার। জ্বালানি ঘাটতির কারণে মূল্যবান এই সার এখন জ্বালানি কাজে ব্যবহার হয়। ফসল সংগ্রহের পর খড় নাড়া কিংবা মোচা জমিতে রেখেই পুড়িয়ে মাটির সাথে মিশ্রিত দেয়া হত। পরবর্তীতে সেখান থেকে তৈরী হত মাটির খাদ্য। আজ এগুলো সবই ব্যবহার করা হয় অন্য কাজে। তাহলে মাটির খাদ্যের রইল কি? আমরা যদি গত ৩০ বছর ধরে রাসায়নিক সার ব্যবহারের পাশাপাশি জমির জন্য প্রয়েজনীয় পরিমাণজৈব সার ব্যবহারের ধারা অব্যাহত রাখতে পারতাম তবে সম্ভবত বলা যেত যে, আগামী ২০ বছরে বাংলাদেশের আবাদি জমিগুলো থেকে ফসল উৎপাদনের মাত্রা বর্তমানের মতোই অব্যঅহত রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু একথা বলার মতো প্রেক্ষাপট আর নেই। বহু দিন ধরে প্রচেষ্টার পর কৃষি বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বর্তমান সময়ে এসে আমরা খাদ্যে হয়তো স্বয়ংসম্পূর্ণ হবার পথে- এটি একটি বিরাট সাফল্য। ৫৬ হাজার বর্গমাইল ভূমির এই দেশে প্রায় ১৫ কোটি মানুষের খাদ্যের উৎপাদন চাট্টিখানি কথা নয়। উৎপাদন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। শস্যের সাথে মাটির সমন্বয় মোটামুটি ঠিক থাকলেও এর পর থেকে উৎপাদন হবে নিম্নমূখী। ফসলের এই উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২৫-৩০ বছর আগে যে ফল আমরা ভোগ করছি আজ। আজ যে পরিকল্পিত প্রক্রিয়া শুরু হবে সেই ফলাফল আসবে আগামী এক দু’দশক পর। কৃষি ক্ষেত্রের এ জাতীয় পরিবর্তন আসতে ২০-২৫ বছর সময় লেগে যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

গ্রীষ্মকালীন সবজির সার ব্যবস্থাপনা

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বেগুন, ঢেঁড়স, মিষ্টিকুমড়া, কাকরোল, করলা, পটল, শসা, পুঁইশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, গীমা কলমি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব সবজির বীজ বপন ও চারা রোপণের আগে কী পরিমাণ সার দিবেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো। তবে সবজি ভেদে সার ব্যবহারের ক্ষেত্র কম-বেশি হয়ে থাকে। নিচে কয়েকটি সবজির সার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারনা দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ্ ।

বেগুন চাষে সার ব্যবস্থাপনা : জমি তৈরির শেষ ধাপে অর্ধেক গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট গোবর এবং সমুদয় টিএসপি/ডিএপি, জিপসাম, জিংক ও বোরন সার চারা রোপণের ১ সপ্তাহ আগে গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে জিংক ও বোরন সার না দিলে স্প্রে আকারে চিলেটেড জিংক যেমন লিবরেল জিংক এবং সলিউবর বোরন যেমন-লিবরেল বোরন ব্যবহার করা যায়। মূল জমিতে চারা রোপণের ৩ সপ্তাহ পর থেকে সমান তিন কিস্তিতে গাছের গোড়ার চারপাশে রিং প্রকৃতিতে ইউরিয়া ও মিউরেট অব পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। এরপর ১০-১৫ দিন অন্তর সেচ প্রদান করতে হবে।

ঢেঁড়স চাষে সার ব্যবস্থাপনা : জমি তৈরির শেষ ধাপে অর্ধেক ইউরিয়া, সমুদয় গোবর, টিএসপি/ডিএপি, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম, জিংক ও বোরন সার ছিটিয়ে প্রয়োগ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। মাটিতে জিংক ও বোরন সার না দিলে স্প্র্রে আকারে চিলেটেড জিংক যেমন-লিবরেল জিংক এবং সলিউবর বোরন যেমন—লিবরেল বোরন ব্যবহার করা যায়। অবশিষ্ট ইউরিয়া সার দুটি সমান কিস্তিতে বীজ বপনের যথাক্রমে ৩য় ও ৫ম সপ্তাহে গাছের গোড়ার চারপাশে প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে রস কম থাকলে সেচ প্রদান করতে হবে।

মিষ্টিকুমড়া ও লাউ চাষে সার ব্যবস্থাপনা : চারা লাগানোর ৫-৭ দিন আগে গর্ত তৈরি করে তার মধ্যে সমুদয় টিএসপি/ডিএপি, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম, জিংক, বোরন ও জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।

কাকরোল ও করলা চাষে সার ব্যবস্থাপনা : চারা রোপণের ৪-৫ দিন আগে গর্তে সমুদয় টিএসপি/ডিএপি, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম, জিংক, বোরন এবং জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে জিংক ও বোরন সার না দিলে স্প্রে আকারে চিলেটেড জিংক যেমন-লিবরেল জিংক এবং সলিউবর বোরন যেমন—লিবরেল বোরন ব্যবহার করা যায়। ইউরিয়া সার দুটি সমান কিস্তিতে যথাক্রমে অংকুরোদগমের ২ এবং ৫ সপ্তাহ পর প্রয়োগ করে সেচ দিতে হবে।

পটল চাষে সার ব্যবস্থাপনা : চারা রোপণের ৪-৫ দিন আগে গর্তে সমুদয় টিএপি/ডিএপি, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম, জিংক এবং জৈবসার প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে জিংক ও বোরন সার না দিলে স্প্রে আকারে চিলেটেড জিংক যেমন-লিবরেল জিংক এবং সলিউবর বোরন যেমন—লিবরেল বোরন ব্যবহার করা যায়। মূল জমিতে চারা রোপণের ৩য় সপ্তাহ পর থেকে প্রতি ৩ সপ্তাহ অন্তর ৪টি সমান কিস্তিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।

শসা চাষে সার ব্যবস্থাপনা : চারা রোপণের ৪-৫ দিন আগে গর্তের মধ্যে অর্ধেক ইউরিয়া এবং সমুদয় গোবর, টিএসপি/ডিএপি, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম প্রয়োগ করে মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। মাটিতে জিংক ও বোরন সার না দিলে স্প্রে আকারে চিলেটেড জিংক যেমন-লিবরেল জিংক এবং সলিউবর বোরন যেমন-লিবরেল বোরন ব্যবহার করা যায়। অবশিষ্ট ইউরিয়া বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োগ করে পানি দিতে হবে।

পুঁইশাক চাষে সার ব্যবস্থাপনা : সমুদয় গোবর/কম্পোস্ট, টিএসপি/ডিএপি, জিপসাম, অর্ধেক ইউরিয়া এবং মিউরেট অব পটাশ সার জমি তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিটিয়ে প্রয়োগ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। মাটিতে জিংক ও বোরন সার না দিলে স্প্রে আকারে চিলেটেড জিংক যেমন—লিবরেল জিংক এবং সলিউবর বোরন যেমন—লিবরেল বোরন ব্যবহার করা যায়। অবশিষ্ট ইউরিয়া ও মিউরেট অব পটাশ সার দুটি সমান কিস্তিতে যথাক্রমে চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে রস কম থাকলে সেচ দিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কেঁচো সার বিক্রি করে স্বাবলম্বী মাকসুদা

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মাকসুদা আক্তার (২৮) কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) উৎপাদন করে এখন স্বাবলম্বী। এ সারকে ভার্মিকম্পোস্ট বলা হয়। ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে ক্রমেই চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। স্বল্প মূলধনের এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে চান মানুষের মাঝে। প্রতি মাসে এ সার বিক্রি তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা উপার্জন করছেন।

সম্প্রতি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামে মাকসুদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে একচালা টিনের ঘর। ওই ঘরেতে তিনি কেঁচো সার উৎপাদন করে থাকেন। ঘরের মেঝেতে নিজের হাতে বানানো ৫টি মাটির চারি (পাত্র) ও ৬ টি রিং স্লাব রয়েছে।

jagonews24

মাকসুদা আক্তার বলেন, ২০১৫ সালে তিনি কুয়াকাটায় এক উদ্যেক্তার ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন দেখে অনুপ্রাণিত হন। তারপর কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিতে বলি। ওই সময় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিলে অল্প পরিসরে ছোট একটা পাত্রে কেঁচো সার তৈরি করি।

তিনি কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন। প্রথমদিকে একটু কষ্ট হলেও এখন ভালোই বিক্রি হচ্ছে। কোঁচো সার উৎপাদনে উপকরণ হিসেবে থাকছে কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈর, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাকসবজির উচ্ছিষ্ট। আমার চারি (পাত্র) বেশ বড় আকারের। প্রতি চারিতে প্রায় ৬ মণ সার রাখা যায়। আমার এখানে কেঁচোর বংশবিস্তার হচ্ছে। তাই বাহির থেকে আমার আর কেঁচো সংগ্রহ করতে হয় না।

তিনি জানান, প্রথমে গোবর সংগ্রহ করে ১০ দিন যাবত পচাতে হবে। গোবরে যদি পানি থাকে তাহলে রোদে শুকাতে হবে। তারপর ওই গোবর ঠান্ডা করে চারিতে (পাত্র) রাখতে হবে। তারপরে কেঁচো দিতে হবে। তারপর কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈল, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাক-সবজির উচ্ছিষ্ট মিশিয়ে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।

jagonews24

কেঁচো আবার ছায়া বা অন্ধকার জায়গা পছন্দ করে। এভাবে ১ মাসের মধ্যে তৈরি হয় ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার। আমার এখানে এখন ৩ লাখ টাকার কেঁচো সার রয়েছে। প্রতি কেজি সার ১৫ টাকা করে বিক্রি করি। ১ কেজি কেঁচো ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। এ ছাড়াও কেঁচো ২ টাকা পিচ হিসেবে বিক্রি করি। আমার সংসার ভালোই চলতেছে। ভবিষ্যতে আমার খামারে আরো বেশি পরিমাণ কোঁচো সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আমি ব্লু গোল্ড প্রেজেক্টের আওতার আমি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।

কিভাবে কেঁচো সার করি তা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে আমার এ খামার মানুষ আসতেছে। এটা আমার কাছে ভালোই লাগে। আমি চাই নারীরা এগিয়ে আসুক। এ সার উৎপাদন করে আমার মত তারা স্বাবলম্বী হোক। সহজেই কম পুঁজিতে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। এখন বাজারে রাসায়নিক সারের মান খুবই খারাপ। আবার দামও বেশি। সেখানে ভার্মিকম্পোষ্ট পুরোপুরি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি একটি সার। এ সারের দামও কম। তাই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

jagonews24

বহালগাছিয়া এলাকার কবির হোসেন জানান, আমাদের এলাকার মাকসুদা ঘরে বসে সার বিক্রি করে টাকা উপার্জন করছে। এটা আমাদের কাছে প্রশংসার। আমরা চাই তিনি আরও বড় উদ্যোক্তা হোক।

কৃষক বাতেন জানান, আমার একটি সবজি বাগান রয়েছে। আমি শুনতে পাই কেঁচো দিয়ে মাকসুদা নামের এক নারী প্রাকৃতিক উপায়ে সার তৈরি করছেন। আমি সেখান থেকে সার নিয়ে এসে সবজি বাগানে দেই। এবার সবজি বাগানে ফলন ভালোই এসেছে। এই সারটি প্রকৃতিক একটা সার কোনো ভেজাল নেই দামও কম।

jagonews24

স্বামী নুরুজ্জামান খান জানান, নারীরা যদি ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে পারে তা তো ভালোই। এ সারটি যে কোন নারী তার ঘরে বসে উৎপাদন করতে পারবে। আমি আমার স্ত্রীকে সার তৈরিতে যথেষ্ট সাহায্য করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ। ক্রমেই মাটির প্রাণ হ্রাস পাচ্ছে তাই আমরা জৈব সার প্রয়োগের উপরে জোর দিচ্ছি। কেঁচো সারে ফলন ভালো হয় এটা প্রমাণিত। তাই আমরা চাষিদের সবজি খেতে ও ফলের বাগানে ভার্মিকম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে বলি।

jagonews24

স্বল্প পরিসরে হলেও এখানে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হচ্ছে। ভার্মিকম্পোস্টকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের। পাশাপাশি এ জেলাকে ভার্মিকম্পেস্ট সম্পন্ন জেলা হিসেবে পরিণত করা। এ সারের যতই ব্যাবহার বাড়বে ততই ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসবে বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com