আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা
জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

চিনা সভ্যতায় বাঁশ শুভশক্তির প্রতীক। বাড়ির আশেপাশে বা ভেতরে বাঁশ রোপণ তাদের ঐতিহ্য। তবে বাঙালি বাঁশ নিয়ে খুব সংবেদনশীল। সহজে বাঁশের ধারেকাছে যান না। আসুন তবে দেখে নেই বাঁশ রোপণের উপকারিতা।

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা
জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

১. বাড়িতে বাঁশ রোপণ করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়।
২. কচি বাঁশের সবুজ রং দৃষ্টিশক্তি সতেজ রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে স্নিগ্ধতা দেয়।
৩. সেরিব্রাল কর্টেক্স ও রেটিনার পক্ষে এ রং অতি উপকারী।
৪. বাঁশও এক ধরনের গাছ। বাঁশও অক্সিজেন ত্যাগ করে বাতাস শুদ্ধ করে।
৫. ভেতরে ফাঁপা ও বাইরে শক্ত এ গাছ নেগেটিভ এনার্জিকে প্রতিহত করে।
৬. ৩৫-১২০ বছরে বাঁশগাছে ফুল আসে। এ ফুল সৌভাগ্যের প্রতীক।
৭. ঋতু অনুযায়ী বাঁশের রং বদল ঘরের একঘেয়েমি দূর করে। মনকে সতেজ রাখে।
৮. বাড়ির ভেতরে বাঁশ রোপণ করলে তা অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করে।

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা
জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস লকডাউন: এত মানুষ ঘরে যে পৃথিবী এখন কাঁপছে কম

 ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন 'নাটকীয় মাত্রায়' কমে গেছে।
ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন ‘নাটকীয় মাত্রায়’ কমে গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি মানুষ এখন কাজকর্ম ছেড়ে ঘরে বসে আছে। এর ফলে এই পৃথিবীর গতিবিধিও বদলে গেছে।

কারণ, মানুষ বাইরে যাচ্ছেনা বলে গাড়ি-ট্রেন চলছে খুবই কম, লাখ লাখ ভারি শিল্প-কারখানা এখন বন্ধ।

আর এর ফলে, ভূ-পৃষ্টের ওপর চাপ কমে গেছে অনেক। ফলে পৃথিবী কাঁপছে কম।

পৃথিবীর ওজন ছয় বিলিয়ন ট্রিলিয়ন টন। সেই বিবেচনায় এই পরিবর্তন বিস্ময়কর।

নাটকীয় পরিবর্তন

পৃথিবীর কাঁপুনি যে কমে গেছে তা প্রথম লক্ষ্য করেন বেলজিয়ামের রয়্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানীরা। তারা বলেন – “লকডাউনের আগের তুলনায় ১-২০ হার্টস ফ্রিকোয়েন্সিতে (বড় একটি অর্গানের আওয়াজের যে ফ্রিকোয়েন্সি) ভূ-পৃষ্ঠের দুলুনি এখন অনেক কম।”

শুধু বেলজিয়াম নয়, পৃথিবী পৃষ্ঠের ই পরিবর্তন সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ভূকম্পন কমার বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নেপালের ভূকম্প-বিদরা একই প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। প্যারিস ইন্সটিটিউট অব আর্থ ফিজিক্সের একজন গবেষক বলেছেন, ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন ‘নাটকীয় মাত্রায়’ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস শহরে কাঁপুনি কমে যাওয়ার মাত্রা দেখে বিস্মিত হয়েছেন ক্যাল টেক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

পরিষ্কার বাতাস, শান্ত সমুদ্র

লকডাউনে যে ভূকম্পন কমেছে তাই নয়, প্রকৃতিও বদলে গেছে।

স্যাটেলাইটের চিত্রে দেখা গেছে, পরিবেশ দূষণের পেছনে যার বড় ভূমিকা রয়েছে সেই নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস এখন বাতাসে অনেক কম। কারণ বাস-ট্রাক-গাড়ি, কারখানার ধোঁয়া এখন অনেক কম।

 জাহাজ চলাচল কমে গেছে অনেক। ফলে, সাগর-মহাসাগরে এখন শব্দ অনেক কম।
জাহাজ চলাচল কমে গেছে অনেক। ফলে, সাগর-মহাসাগরে এখন শব্দ অনেক কম।

পৃথিবীতে শব্দও এখন অনেক কম।

যে বিজ্ঞানীরা শব্দদূষণ মাপেন বা মহাসাগরের শব্দ নিয়ে গবেষণা করেন, তারা একবাক্যে বলছেন পৃথিবীতে আওয়াজ এখন অনেক কম।

পরিষ্কার সিগন্যাল

পৃথিবীর কম্পন কমলেও একদম যে স্থির হয়ে গেছে তা বলা যাবেনা। তবে গতিবিধির এই পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা।

মানুষের নানা গতিবিধির কারণে এত শব্দ তৈরি হয় যে পৃথিবী ও প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ তাদের জন্য কষ্টকর।

 ভূপৃষ্ঠ ৭০কিমি পুরু। তারপরও মানুষের গতিবিধিতে এটি কাঁপে।
ভূপৃষ্ঠ ৭০কিমি পুরু। তারপরও মানুষের গতিবিধিতে এটি কাঁপে।

“এখন আপনি এমন সিগন্যাল পাচ্ছেন যাতে কোলাহল অনেক কম। ফলে ঐ সব সিগন্যালের ডেটা বিশ্লেষণ এখন সহজতর হচ্ছে,” বলছিলেন ওয়াশিংটনে ইনকর্পোরেটেড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর সিসমোলজির বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি ফ্রাসেটো।

কিছু বিজ্ঞানী সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছেন যে কেন একটি এলাকায় ভূকম্পন কমেছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের স্টিভেন হিক্স বলছেন লন্ডন এবং ওয়েলসের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মহাসড়ক এম-ফোরের ওপর গাড়ি চলাচল কমে যাওয়ায় ঐ মহাসড়কের দুই ধারের এলাকাগুলোতে ভূকম্পন অনেক কমে গেছে।

মৌসুমি পরিবর্তন

তবে শব্দ এবং ভূকম্পনের ওঠা-নামা একদম নতুন কিছু নয়।

বছরের একেক সময়, দিনের একেক সময় মানুষের গতিবিধি বাড়ে-কমে। উৎসব চলাকালীন বা ছুটি চলাকালীন শব্দ বা ভূ-পৃষ্ঠের দুলুনি কমে যায়। তেমনি দিনের চেয়ে রাতের বেলা এগুলো কমে যায়।

তবে এখন যেটা হচ্ছে তা হলো সারা পৃথিবীব্যাপী কয়েক সপ্তাহ বা কোথাও কোথাও মাস জুড়ে মানুষের গতিবিধি অনেকটা কম। আর তাতে পৃথিবীর ওপর যে চাপ কমেছে তার নজির বিরল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সুপার পিংক মুন: অতিকায় গোলাপি এই চাঁদ কেমন এবং কীভাবে ও কখন তা দেখতে পাব?

 গত মাসের পূর্ণ চন্দ্রের ছবি। এ মাসের পূর্ণ চন্দ্রও কিন্তু খুব গোলাপি রঙের হবে না।
গত মাসের পূর্ণ চন্দ্রের ছবি। এ মাসের পূর্ণ চন্দ্রও কিন্তু খুব গোলাপি রঙের হবে না।

এ সপ্তাহে পূর্ণিমার চাঁদ হবে এ বছরের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে উজ্জ্বল চাঁদ।

এই চাঁদ কীভাবে দেখ যাবে তা নির্ভর করবে আবহাওয়া এবং আপনি পৃথিবীর কোন্ দেশে আছেন তার ওপর। বলা হচ্ছে মঙ্গলবার ৭ই এপ্রিল এবং বুধবার ৮ই এপ্রিলের মধ্যে এই চাঁদ আমরা দেখতে পাব।

যদিও এর নাম দেয়া হয়েছে সুপার পিংক মুন বা অতিকায় গোলাপি চাঁদ, কিন্তু এর রং আসলেই গোলাপি নয়।

তাহলে এই চাঁদের নাম সুপার পিংক মুন কেন?

এপ্রিল মাসের পূর্ণিমার চাঁদকে “সুপার” নাম দেয়ার কারণ আকাশে এই চাঁদের আকৃতি হবে বিশাল।

সুপারমুন হয় যখন চাঁদ পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করার সময় পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসে অর্থাৎ যখন কক্ষপথে চাঁদ পৃথিবীর ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কাছাকাছি দিয়ে প্রদক্ষিণ করে।

চাঁদ যখন পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে তখন তার এই কক্ষপথ বৃত্তাকার নয়। যেহেতু সেটা উপবৃত্তাকার কাজেই চাঁদের অবস্থান অনুযায়ী পৃথিবীর থেকে তার দূরত্ব কম বেশি হয়। কখনও চাঁদ থাকে অনেক দূরে – কখনও অনেক কাছে।

চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের পয়েন্টে পৌঁছয় এবং সেটা যদি হয় পূর্ণিমার পূর্ণচাঁদ তখন তাকে বলা হয় সুপারমুন। অতি বৃহৎ চাঁদ।

 নিউ ইয়র্কের আকাশে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির পেছনে ইকুইনক্সের চাঁদ ২০শে মার্চ ২০১৯ সালে।
নিউ ইয়র্কের আকাশে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির পেছনে ইকুইনক্সের চাঁদ ২০শে মার্চ ২০১৯ সালে।

এপ্রিল মাসের সুপারমুনের দূরত্ব হবে পৃথিবী থেকে ৩৫ লক্ষ ৭ হাজার কিলোমিটার দূরে। সাধারণত পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব হয় ৩৮ লক্ষ চার হাজার ৪০০ কিলোমিটার।

সুপার পিংক মুন কি আসলেই গোলাপি রঙের হবে?

না। আমেরিকার উপজাতিয় সংস্কৃতি সহ পৃথিবীর অনেক সংস্কৃতিতে, সারা বছর জুড়ে পূর্ণ চাঁদের নানা নামকরণ করা হয়েছে। হয়ত বছরের সময়ের হিসাব রাখার জন্য এই প্রথার প্রচলন হয়েছিল।

এপ্রিলের পূর্ণ চন্দ্রের নাম সেই হিসাবে গোলাপি চাঁদ বা পিংক মুন হলেও এই চাঁদের রং গোলাপি নয়।

 এটি গত বছর ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে ফেব্রুয়ারি মাসের সুপার স্নো মুন
এটি গত বছর ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে ফেব্রুয়ারি মাসের সুপার স্নো মুন

আমেরিকা ও কানাডায় এপ্রিল মাসে বসন্তের শুরুতে ফ্লক্স নামে একধরনের বুনো ফুল ফোটে যার রং গোলাপি আর সেখান থেকেই এপ্রিলের পূর্ণ চাঁদের নাম পিংক মুন।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এপ্রিলের পূর্ণ চন্দ্রের হরেক রকম নাম আছে- যেমন গ্রাস মুন (ঘাস-চাঁদ), এগ মুন (ডিম-চাঁদ) এবং ফিশ চাঁদ (মাছ-চাঁদ)।

সুপার পিংক মুন কি আমি দেখতে পাব?

নির্ভর করবে পৃথিবীর কোন্ দেশে আপনার বাস। যেমন বিশেষজ্ঞরা বলছেন অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার অনেক জায়গায় এই চাঁদ সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে বুধবার ৮ই এপ্রিল।

কিন্তু যারা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় থাকেন, এবং ইউরোপ ও আফ্রিকায় যাদের বাস তাদের জন্য এই চাঁদ দেখার সবচেয়ে ভাল সময় মঙ্গলবার ৭ই এপ্রিল থেকে।

আপনি পৃথিবীর যে দেশেই থাকুন না কেন, এই দুই তারিখের একদিন আগে বা পরেও আপনি সুপার মুনের দারুণ জ্যোতি ও দৃশ্য দেখতে পারবেন।

আপনি যেখানে আছেন সেখানে চাঁদ ওঠার ও অস্ত যাবার সময় জেনে নিন। আরও জেনে নিতে পারেন আপনার জন্য চাঁদ কোন দিকে যাচ্ছে সেই দিকের নিশানা।

 ফ্রান্সের প্যারিস থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সুপার মুন
ফ্রান্সের প্যারিস থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সুপার মুন

জ্যোতির্বজ্ঞানীরা বলেন রাতের আকাশে ভাল করে চাঁদ দেখতে চাইলে ঘরের বাইরে থেকে তা দেখা উচিত। তবে এই সুপার পিংক মুন আপনি ঘরে বসেও দেখতে পারবেন। যদি না আপনার জানালার বাইরে উঁচু দালানকোঠা বা বিশাল গাছ প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

তবে হ্যাঁ- পৃথিবীর অনেক জায়গায় এখন করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলছে লকডাউন। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পরামর্শ না শুনে সরকারের পরামর্শ মেনে ঘরে বসেই চাঁদ দেখা হয়ত ভাল হবে।

এ মাসের পূর্ণ চন্দ্রের বিশেষত্ব

অসাধারণ ঔজ্জ্বল্য আর বিশাল আয়তন ছাড়াও এপ্রিল মাসের পূর্ণিমার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব।

খ্রিস্টানদের ইস্টার পালিত হবে পূর্ণিমার পরের রোববারে। সেইদিন দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারের দৈর্ঘ্য হবে সমান যাকে বলা হয় বসন্তকালীন ইকুইনক্স।

ভারতের হিন্দুরা এই সময় উদযাপন করে হনুমান জয়ন্তী।

এপ্রিলের পূর্ণিমার দিন শুরু হয় ইহুদীদের পাসওভার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

২০ বছরে ২০ লাখ ইঁদুর নিধন

২০ বছরে ২০ লাখ ইঁদুর নিধন
২০ বছরে ২০ লাখ ইঁদুর নিধন: এই যন্ত্র দিয়েই ২০ বছরে ২০ লাখ ইঁদুর মেরেছেন মাগুরার হান্নান।

জানা যায়, প্রতিদিন একটি ইঁদুর ২৭ গ্রাম খাবার খায়। এছাড়া, প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাবার নষ্ট করে।

২০ বছরে ২০ লাখ ইঁদুর নিধন করেছেন মাগুরার কাঠমিস্ত্রী আব্দুল হান্নান। আর এর মাধ্যমে তিনি উপকার করে যাচ্ছেন কৃষকদের।

হান্নানের গল্পের শুরুটা এমন- একবার ১৫ মণ ধান কিনে ঘরে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু মাস পাঁচেক পরে মেপে দেখলেন সেখানে চার মণ ধান কম! বাড়িতে ইঁদুরের আনাগোনা দেখে যা বোঝার বুঝে গেলেন তিনি। 

এরপর থেকে তার মাথায় ঘুরতে লাগলো ইঁদুর নিধনের পরিকল্পনা। কাঠমিস্ত্রির কাজের অভিজ্ঞতা থেকে দিন কয়েকের চেষ্টায় একটি ইঁদুর মারার যন্ত্র বানিয়েও ফেলেন হান্নান। যন্ত্রের কার্যকারিতা বোঝা গেল মাত্র একমাসেই। এই ব্যবধানে তার বাড়ি হয়ে গেলো ইঁদুর মুক্ত। 

এ সাফল্য হান্নানকে ভাবালো অন্যভাবে। এবার তিনি শুরু করলেন এলাকার বাড়ি ও ফসলের মাঠগুলোর ইঁদুর নিধন। ৬ মাসের মধ্যে তার গ্রাম বড়খড়ি হলো ইঁদুর মুক্ত। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে ডাক আসতে শুরু কর হান্নানের। এখন হান্নানের এ সাফল্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মাগুরা জেলায়।

হান্নান জানান, ২০১০ সালে সে ১ লাখ ৯০ হাজার ইঁদুর মেরে পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। পরের বছর আবারও তার এ সম্মান মেলে ২ লাখ ১০ হাজার ইঁদুর নিধনের জন্য। গত ২০ বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ ইঁদুর নিধন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

হান্নানের গ্রাম বড়খড়ির বাসিন্দা সাগর হোসেন বলেন, হান্নান একেবারেই নিঃস্বার্থভাবে সমাজের বিশেষ করে কৃষকদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শুধু নিজ গ্রাম নয়, যখন যেখান থেকে ডাক আসে, ছুটে যান হান্নান। 

তিনি আরও বলেন, কোনও অ্যাকাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও কাঠমিস্ত্রী হান্নান সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ। পুরো কাজটাই তিনি করেন কোনও রকম বিনিময় ছাড়া। নিজের বানানো যন্ত্রগুলোও তিনি রেখেছেন সবার জন্য উন্মুক্ত।

এ বিষয়ে হান্নান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, এ কাজ আমার পেশা নয়, নেশা। সমাজের মানুষের জন্য সামান্য উপকারে আসতে পারলেই আমি নিজেকে ধন্য মনে করব। এভাবেই ফসলের শত্রু ইঁদুর নিধন করে মাধ্যমে সমাজের উপকার করতে চাই।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হান্নানের অনেক বড় কাজ করছে। প্রতিদিন একটি ইঁদুর ২৭ গ্রাম খাবার খায়। এছাড়া, প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাবার নষ্ট করে। 

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সারাদেশে প্রতিবছর ইঁদুর ৫৪ লাখ মানুষের খাদ্যশস্যের ক্ষতি করে। 

তাই হান্নানের এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করে দেশব্যাপী তার উদ্যোগের প্রচারণা প্রয়োজন বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

করোনাভাইরাস মহামারির উৎস কি চীনে চোরাচালান হওয়া প্যাঙ্গোলিন থেকে?

প্যাঙ্গোলিন
প্যাঙ্গোলিন

প্যাঙ্গোলিন নামে একটি প্রাণী যা চোরাই পথে চীনে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয় – তার দেহে এমন একটি ভাইরাস পাওয়া গেছে যা কোভিড নাইনটিনের সাথে ‘ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।’

প্যাঙ্গোলিন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চোরাই পথে পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী।

এটা খাদ্য হিসেবে যেমন ব্যবহৃত হয়, তেমনি ব্যবহৃত হয় ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরির জন্য। ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে প্যাঙ্গোলিনের গায়ের আঁশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং তাদের মাংসও চীনে একটি উপাদেয় খাবার বলে গণ্য করা হয়।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যাম বলেছেন, চীনে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের মধ্যে এমন দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে – যা মানুষের মধ্যে দেখা দেয়া মহামারির সাথে সম্পর্কিত।

নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব প্রাণী নিয়ে নাড়াচাড়া করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, এবং ভবিষ্যতে করোনাভাইরাসের মতো কোন মারাত্মক রোগ বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে হলে বুনো প্রাণীর বাজারে প্যাঙ্গোলিনের মত জন্তু বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।

তারা এটাও বলছেন যে , মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির ক্ষেত্রে প্যাঙ্গোলিনের ভুমিকা বুঝতে হলে আরো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা প্রয়োজন।

“যদিও সার্স-কোভ-টু-র প্রাদুর্ভাবের সরাসরি ‘হোস্ট’ হিসেবে প্যাঙ্গোলিনের ভুমিকা আরো নিশ্চিত হবার দরকার আছে, তবে ভবিষ্যতে যদি এরকম প্রাণী-থেকে-মানুষে মহামারি ছড়ানো ঠেকাতে হয় তাহলে বাজারে এসব প্রাণীর বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত” – বলেন ড. ল্যাম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাদুড়ের দেহেও করোনাভাইরাস আছে, এবং তার সাথে মানুষের দেহে সংক্রমিত ভাইরাসের আরো বেশি মিল আছে। কিন্তু একটি অংশ – যা মানুষের দেহের কোষ ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে ভাইরাসটিকে সহায়তা করে – তার সাথে এর মিল নেই।

করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাস

সহ-গবেষক সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডওয়ার্ড হোমস বলেন, এর অর্থ হলো বন্যপ্রাণীদের মধ্যে এমন ভাইরাস আছে যা মানুষকে সংক্রমিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।

তিনি বলছেন,”করোনাভাইরাসের সাথে বাদুড়ের নিশ্চয়ই সম্পর্ক আছে, হয়তো প্যাঙ্গোলিনও সম্পর্কিত, তবে অন্য কোন প্রাণীর জড়িত থাকারও জোর সম্ভাবনা আছে।”

ঠিক কীভাবে ভাইরাসটি একটি জন্তুর দেহ থেকে বেরিয়ে অন্য একটি প্রাণীর দেহে এবং তার পর সেখান থেকে মানুষের দেহে ঢুকলো – তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য হয়েই রয়েছে।

খুব সম্ভবত: হর্সশু প্রজাতির বাদুড় এবং প্যাঙ্গোলিন – দুধরণের প্রাণীই এতে জড়িত কিন্তু এর ঘটনাক্রম এখনো অজানা।

ডা. ল্যাম বলছেন, চোরাই পথে আসা মালয়ান প্যাঙ্গোলিনে এ ভাইরাস পাওয়া যাবার পর এই প্রশ্নটাও উঠছে যে – এই প্যাঙ্গোলিনের দেহেই বা ভাইরাস ঢুকলো কীভাবে? সেটা কি পাচারের সময় আশপাশে থাকা বাদুড় থেকে এসেছিল – নাকি দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ায় তাদের যে প্রাকৃতিক আবাসস্থল সেখানেই ঘটেছিল?

প্রাণী সংরক্ষণবিদরা বলছেন, এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার রোধের জন্য সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

চীন অবশ্য কোভিড নাইনটিন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে, এবং ভিয়েতনামেও এমন কিছু পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটির অধ্যাপক এন্ড্রু কানিংহ্যাম বলছেন, এই গবেষণাপত্র থেকে একলাফে কোন সিদ্ধান্তে পৌছে যাওয়া ঠিক হবে না। তার কথায়, কোভিড নাইনটিনের উৎস আসলে এখনো অজানা। হয়তো এটা কোন প্রাকৃতিক প্যাঙ্গোলিন ভাইরাসই ছিল, বা হয়তো প্যাঙ্গোলিন ধরা এবং হত্যা করার সময় অন্য কোন প্রাণী থেকে এসেছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সাদা রঙের বিরল প্রজাতির এই জিরাফটি পৃথিবীতে এখন একা

সাদা রঙের বিরল প্রজাতির এই জিরাফটি পৃথিবীতে এখন একা
সাদা রঙের বিরল প্রজাতির এই জিরাফটি পৃথিবীতে এখন একা

সাদা রঙের এই বিরল প্রজাতির জিরাফ কয়েকদিন আগেও সংখ্যায় তিনটি ছিল। এদের মধ্যে দুটিকে শিকারিরা মেরে ফেলেছে। মা জিরাফ ও তার শাবককে কেনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর গারিসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিরল প্রজাতির এই সাদা জিরাফ শুধু কেনিয়াতেই আছে। এতদিন তারা সংখ্যায় তিনটি ছিল। শিকারিরা তার সঙ্গীকে আর বাচ্চাকে মেরে ফেলায় এখন পৃথিবীতে একা পুরুষ জিরাফটি।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা কেনিয়ার ইশাকবিনি হিরোলা কমিউনিটি কনজারভেন্সি নামের একটি সংগঠন বৃহস্পতিবার জানায়, সশস্ত্র শিকারিদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে সাদা প্রজাতির দুটি জিরাফ। জিরাফ দুটির কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সংগঠনটির ম্যানেজার মোহাম্মদ আহমেদনূর বলেছেন, ইজারা (গারিসার একটি অঞ্চল) ও সমগ্র কেনিয়াবাসীর জন্য এটা একটি দুঃখজনক ঘটনা। আমরাই একমাত্র জাতি যারা বিরল প্রজাতির এই জিরাফের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছি।

তিনি বলেন, বিরল ও একক প্রজাতির এই জিরাফের হত্যাকাণ্ড প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টার পদক্ষেপের ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক আঘাত। একই সঙ্গে, এটি কেনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পর্যটন ও গবেষণা শিল্পের জন্য চরম আঘাত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের যেমন শ্বেত রোগের কারণে শরীরের রঙ সাদা হয়ে যায়, এই জিরাফের গায়ের রঙ কিন্তু সেভাবে সাদা হয়নি।

লিউসিজম প্রক্রিয়ায় এই সাদা রঙ পেয়েছে বিরল প্রজাতির এই জিরাফ। লিউসিজম প্রক্রিয়ার কাজ হলো টিস্যুর অভ্যন্তরে উজ্জ্বল রঙ তৈরি করা, যেমন-সাদা, ফ্যাকাশে ইত্যাদি।

বিরল প্রজাতির দুটি জিরাফকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হিরোলা কমিউনিটি কনজারভেন্সির কর্মীরা। কারণ তারাই দেখভাল করছিলেন জিরাফ তিনটিকে। তারা বলেন, ‘তারা খুবই শান্ত প্রকৃতির ছিল এবং খুব কাছাকাছি গেলেও বিরক্ত হতো না। আমাদের কয়েক গজের মধ্যেই পায়চারী করতে মা জিরাফ আর এ সময় ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে পড়ত জিরাফ শাবক।’

এর আগে ২০১৬ সালে তানজানিয়ার একটি জাতীয় পার্কে সাদা রংয়ের জিরাফের দেখা পাওয়া যায় বলে কথিত রয়েছে। তবে ওই প্রাণীটির ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দ্য জিরাফ কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ১৯৮০ সালের পর থেকে আফ্রিকায় জিরাফের সংখ্যা ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং কিছু কিছু অঞ্চলে ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com