আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

জেনে নিন পুকুরে মলা মাছের চাষ পদ্ধতি

দেশীয় প্রজাতির মাছ মলা। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি এ মাছ বেশ পুষ্টি সমৃদ্ধ। তাই ডাক্তাররা মলা মাছ খেতে রোগীদের পরামর্শ দেন। আমাদের দেশের খাল-বিল কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে এখন মলা মাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার ফলে মলা মাছ এখন বড় পরিসরে চাষাবাদ শুরু হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবার জেনে নিন পুকুরে মলা মাছ চাষ পদ্ধতি।

মলা মাছের একক চাষ পদ্ধতি

মলা মাছের পোনা পরিবহন করা একটা জটিল পদ্ধতি এবং রেনু পরিবহন করা অত্যন্ত সহজ তাই রেনু নিয়ে নিজে পোনা তৈরি করে চাষাবাদ করাই উত্তম। এতে খরচ ও ঝুঁকি দুটোই কম। যারা অল্প খরচে মলা মাছ চাষ করতে চান তারা নিচের পদ্ধতি ভালোভাবে জেনে নিন।

মাছ ছাড়ার আগে পুকুর প্রস্তুতকরণ

প্রথম দিন হতে ৭ থেকে ৮ দিন পর রেনু ছাড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রথমে পুকুরে বিষটোপ ব্যবহার করে সব রাক্ষুসে মাছ মেরে ফেলতে হবে। তারপর পুকুরের সব পানি সেচ দিয়ে ফেলে দিতে হবে। যদি পুকুর আকৃতিতে বড় হয় তাহলে সব পানি অপসারণ করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে। এক্ষেত্রে অর্ধেক পানি ফেলে দিয়ে পরিস্কার পানি দিয়ে ভরে দিতে হবে। যদি কোনো পানি পরিবর্তন করার সুযোগ না থাকে তাহলেও চলবে, সেক্ষেত্রে চুনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। বিষটোপ প্রয়োগের দ্বিতীয় দিন শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন পানিতে গুলে ছিটিয়ে দিতে হবে।

যদি পুকুর বেশি পুরাতন হয় এবং পানি পরিবর্তন করার সুযোগ না থাকে সেক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি ১ কেজি পরিমাণ চুন দেয়া ভালো। বিষটোপ প্রয়োগের ষষ্ঠ দিনে হাসপোকা মারার জন্য সুমিথিয়ন ব্যবহার করতে হবে পুকুরে। ০.৩ পিপিএম মাত্রায় সুমিথিয়ন ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই হাসপোকার মারার জন্য অন্য ঔষধ ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মলা মাছের ক্ষেত্রে সুমিথিয়ন ভালো। সুমিথিয়ন সন্ধ্যা বেলায় প্রয়োগ করতে হবে। এর দুদিন পর পুকুরে রেনু ছাড়তে হবে।

পুকুরে রেনু ছাড়ার পদ্ধতি

প্রথমে পানি ভর্তি রেনুর ব্যাগ পুকুরের পানিতে আধাঘণ্টা ভাসিয়ে রাখতে হবে পুকুরের পানির তাপমাত্রা সামঞ্জস্য হওয়ার জন্য। আধাঘণ্টা পর ব্যাগের মুখ খুলে ব্যাগের পানির ভিতর হাত ঢুকিয়ে এবং পরে পুকুরের পানিতে হাত ঢুকিয়ে ব্যাগ ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা একই মনে হবে তখন পুকুরের পানি দিয়ে অল্প অল্প করে ব্যাগে ঢুকিয়ে আবার বের করে এভাবে রেনু ধীরে ধীরে ছাড়তে হবে। এভাবেই রেনু ছাড়ার কাজ শেষ করতে হবে।

রেনুর উপর খাবার প্রয়োগ পদ্ধতি

রেনু ছাড়ার ২ ঘণ্টা পর খাবার দিতে হবে। দিনে দুইবার খাবার দিতে হবে। সকাল ১০টার দিকে এবং বিকাল ৫টার সময়। খাবার হিসেবে প্রথম ২ দিন ডিম ( সাদা অংশসহ) খেতে দিতে হবে। এ জন্য প্রথমে হাঁসের ডিম সিদ্ধ করে ব্লেন্ডার দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে পলেস্টার কাপড় দিয়ে ছেঁকে মিহি মতো করে পানির সাথে মিশিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।

প্রতি ৫ শতাংশে একটি করে ডিম দিতে হবে। তৃতীয়দিন থেকে নার্সারি পাউডার ৩-৬ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। প্রতি ১০ শতাংশে ১ কেজি খাবার দিতে হবে দিনে দুইবার ভাগ করে। ১০ দিন পর খাবার প্রতি ১০ শতাংশে ১.৫ কেজি খাবার দিতে হবে। এভাবে চলবে ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত। এরপর খাদ্য প্রয়োগের কৌশল বদলাতে হবে।

পরিবর্তিত খাদ্য প্রয়োগ পদ্ধতি ২৫ দিন পর থেকে এক সপ্তাহের খাবার এক সাথে পুকুরে ভিজিয়ে রেখে খাওয়াতে হবে। যেহেতু মলা মাছ ফাইটোপ্লাংকটন ভোজী তাই একটু ভিন্নভাবে খাবার দেয়া দরকার। ধরা যাক ১ সপ্তাহের জন্য ১০০ কেজি খাবার প্রয়োজন।

এখন আর নার্সারি পাউডারের মতো দামি খাবার খাওয়াবেন না। তাই ১০০ কেজি সরিষার খৈলকে সাতটা বস্তায় সমান ভাগ করে প্রতি বস্তায় ৪ কেজি ইউরিয়া সার খৈলের সাথে মিশিয়ে পানিতে খুঁটিতে বেঁধে রাখলে তিনদিন পর এই খৈলের বস্তা পানিতে ভেসে উঠবে।

তারপর এক এক বস্তার খৈল প্রতিদিন দুই বেলা দিতে হবে। এতে প্লাংকটনের বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের খাবার ভালো মানের হবে। এভাবে সাড়ে তিন মাস থেকে ৪ মাসেই বাজারজাত করা যায় মলা মাছ।

মৎস্য

জোড়া বাঘাইড়ে ৩১ কেজি

নাটোরের সিংড়ায় ৩১ কেজি ওজনের দুটি বাঘাইড় মাছ বিক্রির জন্য বাজারে উঠেছে। মাছ দুটি এক নজর দেখার জন্য ভিড় করে উৎসুক জনতা। বুধবার সকালে উপজেলা চত্বরে মাছ দুটি বিক্রি করতে আসেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন।

জানা যায়, মাছ দুটি যমুনা নদীতে ধরা পড়ে। পরে ইসমাইল হোসেন ক্রয় করে সিংড়ায় নিয়ে আসেন। বড় মাছ ২০ কেজি ওজনের এবং ছোট মাছ ১১ কেজি ওজনের। ছোট মাছটি ৮০০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করেন শহরবাড়ি গ্রামের আব্দুস সোবাহান নামের এক ব্যক্তি। অপরদিকে বড় মাছটি এক হাজার টাকা কেজি দরে কয়েকজন মিলে ক্রয় করেন।

মাছ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৫৫ বছর যাবৎ মাছের ব্যবসা করে আসছি। বাঘাইরসহ বড় বড় মাছ সিংড়ায় নিয়ে আসি। মাছ দুটি বিক্রি হওয়ায় আমি খুব খুশি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

২২ দিন পর কাল থেকে আবার ইলিশ ধরা শুরু

নদী পাড়ে জেলে পাড়ায় চলছে উৎসবের আমেজ। ইতোমধ্যে জাল ও নৌকা মেরামত করে প্রস্তুতি নিয়েছেন জেলেরা। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে আবারও ইলিশ মাছ ধরা শুরু হবে। ৭১টিভি

[৩] দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় চাঁদপুর মাছ ঘাটেও ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য। বিগত বছরের মতো এবছরও কর্মসূচি সফল হয়েছে দাবি মৎস্য বিভাগের। সমকাল

[৪] ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর ২২দিন চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজেন্ডার পর্যন্ত চলে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম। কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ ছিলো তৎপরত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তাড়াশে ড্রামের ভেলায় চড়ে মাছ চাষ

তাড়াশে প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে ভেলা বানিয়ে পুকুরের মাছের খাবার দেওয়ার কাজে লাগাচ্ছেন চাষিরা। ডিঙ্গি নৌকার পরিবর্তে ড্রামের ভেলার প্রচলন দিনকে দিন বেড়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, আরঙ্গাইল গ্রামীণ সড়কের সঙ্গের একটি পুকুরে ড্রামের ভেলায় বসে মাছের খাবার দিচ্ছেন একজন মাছচাষি। নাসির উদ্দিন নামের ঐ মাছচাষি বলেন, ডিঙ্গি নৌকার কাঠ এক থেকে দুই বছরে নষ্ট হয়ে যায়। পুকুরে মাছ চাষের জন্য ড্রামের ভেলার ব্যবহার অতি সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী একটি মাধ্যম। এ ভেলা টিকেও বহুদিন। বর্তমানে আমার মতো অধিকাংশ মাছচাষি পুকুরে ড্রামের ভেলা ব্যবহার করে মাছ চাষ করছেন।

জানা গেছে, চারটি প্লাস্টিকের ফাঁকা ড্রামের ওপর বাঁশের মাচা দিয়ে ড্রামের ভেলা বানানো হয়। এর পর সেই ভেলা পুকুরে ভাসিয়ে লাইলন সুতা ধরে মাছের খাবার দেওয়া হয়। যেমন করে গুণ টেনে নৌকা চালানো হয়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, ডিঙ্গি নৌকার তুলনায় ড্রামের ভেলার ব্যবহার মাছচাষিদের জন্য সাশ্রয়ী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কুমিল্লায় পদুয়ার মাছের হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম

লেখক

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লার পদুয়ার বাজার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাজারটির কাঁচাবাজার ও মাছবাজার অংশ প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার দীর্ঘ। এ বাজারের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছবাজার। সপ্তাহের রোব ও বৃহস্পতিবারে বসে এটি।


বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিন সারিতে বসেছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। তাজা মাছ লাফাচ্ছে বিক্রেতার ঢালার ওপরে। বড় সাইজের মাছ দেখতে ও কিনতে বেশি ভিড় দেখা যায়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর চারপাশ। কুমিল্লার শাকতলা, জাঙ্গালিয়া, কচুয়া চৌমুহনী, রাজাপাড়া, দিশাবন্দ, নোয়াগাঁও, মোস্তফাপুর, বেলতলি, কোটবাড়ি,  সুয়াগাজী, মিয়াবাজার, চৌয়ারা, কালিকাপুর, লালমাই, বাগমারা, বিজয়পুর, বিজরা, মুদাফফরগঞ্জ, পিপুলিয়া গ্রাম ও এর আশেপাশের সৌখিন ক্রেতারা মাছ কিনতে আসেন এখানে। সড়কের পাশে গাড়ি রেখে মাছ কিনেন অনেকে। বিয়ে, জন্মদিনসহ বড় অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার ও জেলার অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো পাইকারিতে মাছ সংগ্রহ করেন পদুয়ার বাজার থেকে।
ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, এখানে প্রতিদিন আড়াই শ’ দোকান বসে। দৈনিক ১০০ মেট্রিক টন মাছ বিক্রি হয় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে। টাকার অংকে যা আড়াই কোটি টাকার বেশি। সপ্তাহে দুদিন করে মাসে আট থেকে দশটি বাজার বসে পদুয়ায়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, মৃগেল, গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, বিগহেড ও কমনকার্প মাছ। বিক্রি হওয়া মাছের ৫০ শতাংশই এগুলো। অন্যান্য মাছের মধ্যে ২০ শতাংশ ইলিশ, ১০ শতাংশ দেশি ও ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ। রুই, কাতলা, মৃগেল ও কার্প জাতীয় মাছগুলো সংগ্রহ করা হয় কুমিল্লার দাউদকান্দি, মেঘনা ও তিতাস উপজেলার প্লাবন ভূমিখ্যাত জলাশয় থেকে। ইলিশ আসে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে। সামুদ্রিক মাছের বেশিরভাগ সংগ্রহ করা হয় চট্টগ্রাম থেকে। কিছুসংখ্যক মাছ আনা হয় কক্সবাজার থেকে।
সামুদ্রিক মাছের মধ্যে রয়েছে চাপিলা, লইট্যা, সুরমা, কোরাল, টুনা, রূপচাঁদা, বাটা, বাইলা ও চিংড়ি। সামুদ্রিক কাঁকড়াও বিক্রি হয় এখানে। দেশি মাছ আসে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিং, মাগুর, কৈ, টাকি, শোল, টেংরা, পাবদা, পুঁটি, কাচকি, বোয়াল, আইড়, বাইন, গজার প্রভৃতি।

মাছ বিক্রেতাদের মধ্যে বেশিরভাগের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, ঢাকার কারওয়ান বাজারের মৌসুমী ব্যবসায়ী, পদুয়ার বাজারের নিকটবর্তী অঞ্চল, বৃহত্তর কুমিল্লার বেশিরভাগ উপজেলার মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ বিক্রি করতে আসেন এ বাজারে।  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম খুব সহজ হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের দুইদিন বাজার বসে।  দ্রুত সব মাছ বিক্রি হয়ে যায়। তাছাড়া আড়তদারের কোনো ঝামেলা নেই। ব্যবসা যা-ই হয়, তাতে লোকসানের মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে না। ক্রেতারাও বেশ খুশি। যাতায়াত সহজ, হাতের নাগালে পাওয়া যায় সব রকমের মাছ। দাউদকান্দির সুমন বিক্রি করেন রুই-কাতলাসহ কার্প জাতীয় মাছ। তিনি জানান, দাউদকান্দির প্লাবনভূমি থেকে মাছ সংগ্রহ করি। প্রতি বাজারে দুই লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। দাউদকান্দির রায়পুর থেকে আসা কবির নামে এক বিক্রেতা জানান, দৈনিক গড়ে দেড় লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় তার। চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ী তসলিম মিয়া জানান, ২০ বছর ধরে চাঁদপুর থেকে ইলিশ সংগ্রহ করে এ বাজারে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ৫৫-৬০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয় তার। বরুড়ার সুমন জানান, দেশি শিং ও চিংড়ি মাছ বিক্রি করি। গড়ে ৪০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়। ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে আসা ব্যবসায়ী আরমান জানান, ঢাকায় মাছ বিক্রির পাশাপাশি সপ্তাহে দুইদিন কুমিল্লায় চলে আসি। এখানে মাছ বিক্রি করা লাভজনক, বিক্রি অনেক বেশি। আলী আকবর নামের এক ক্রেতা জানান, চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার থেকে অনেক সময় মাছ কিনতে আসি। বাড়ি ২০ কিলোমিটার দূরে হলেও মহাসড়ক দিয়ে আসতে বেশি সময় লাগে না। পছন্দের সব তাজা মাছ পাওয়া যায়। ফারুক আহমেদ নামের অপর এক ক্রেতা জানান, আমাদের বাড়ি পদুয়ার বাজার এলাকাতেই। বাবা-চাচারা মাছ কিনতেন এ বাজার থেকে। আমরাও কিনছি। ঘরের কাছে এমন মাছের মেলা দেখতে বেশ লাগে।


বাজার কমিটির সভাপতি রোটারিয়ান আব্দুল মালেক ভূঁইয়া বাসসকে বলেন, ফুট ওভারব্রিজ থেকে শুরু করে বিএডিসি ভবন পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছবাজারটি বসত। এখন আঞ্চলিক মহাসড়কে ফোরলেনের কাজ চলায় বাজারটি কিছুটা সংকীর্ণ করা হয়েছে। মাছবাজারটি কুমিল্লার সর্ববৃহৎ। আড়তদারের কোনো ঝামেলা নেই বলে ব্যবসায়ীরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে মাছ বিক্রি করেন। কুমিল্লার ব্যবসায়ীরা ছাড়াও চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকার ব্যবসায়ীরা এখানে মাছ বিক্রি করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মাছের টিকা উদ্ভাবন করলেন সিকৃবি শিক্ষক ড. মামুন

দেশে মাছের রোগ প্রতিরোধী প্রথম টিকা উদ্ভাবন করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। টিকাটি মাছের রোগ প্রতিরোধে ৮৪ শতাংশ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই মৎস্যবিজ্ঞানী। টিকাটি শরীরে পুশ করে নয় খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে মাছকে খাওয়াতে হবে।

মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মামুনের উদ্ভাবিত টিকাটি মাছের ব্যাকটেরিয়াজনিত একাধিক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া মাছের মৃত্যুহার কমিয়ে উৎপাদন বাড়াবে।

এমন আশার কথা জানিয়ে টিকার উদ্ভাবক জাগো নিউজকে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে মাছের টিকা উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করছিলেন তিনি। ২০২১ সালে এসে তিনি এর সফলতার মুখ দেখেন।

ড. মামুন জানান, এরোমোনাস হাইড্রোফিলা নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাছের ক্ষত রোগ, পাখনা পচাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এতে প্রতি বছর প্রচুর মাছ মারা যায়। তবে এই উপমহাদেশে মাছের টিকা নিয়ে তেমন কাজ হয়নি।আব্দুল্লাহ আল মামুন তার উদ্ভাবিত এই টিকার নাম দিয়েছেন বায়োফ্লিম।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে কিছু পাঙ্গাশ মাছের শরীরে এই টিকা প্রবেশ করিয়ে ৮৪ শতাংশ সফলতা পেয়েছি। এরপর মাঠপর্যায়ে এটি প্রয়োগ করা হবে।

‘আগামী মার্চ থেকে সিলেটের বিভিন্ন পুকুরের মাছের শরীরে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে কয়েকটি পুকুরও নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফলতা মিললেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ড. মামুন বলেন, এই টিকা ব্যাপকভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের যে সক্ষমতা আছে তাতে প্রতি মাসে ১০০ মিলিলিটার উৎপাদন করতে পারবো। এই পরিমাণ টিকা এক কেজি মাছের খাবারের সঙ্গে মেশানো যাবে।

‘এই গবেষণা কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মাছই ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগকে মাছের ক্যান্সার হিসাবে দেখা হয়। প্রতি বছর অনেক মাছ ক্ষত রোগে মারা যায় বা পচে নষ্ট হয়।

তিনি বলেন, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে মাছের শরীরে টিকা প্রয়োগ করা হলেও বাংলাদেশে এখনও শুরু হয়নি। ক্ষত রোগ থেকে মাছ মুক্ত রাখতে আমরা সাধারণত জলাশয়ে চুন ও লবণ ব্যবহার করে থাকি। মাছের টিকাটি উদ্ভাবন পুরোপুরি সফল হলে মাছের উৎপাদন অনেক বাড়বে।

সিকৃবির মৎস্য অনুষদ সূত্রে জানা যায়, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, চিলিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছের জন্য ২৮ ধরনের টিকা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের টিকা উদ্ভাবন হলো। স্বাদু পানিতে চাষযোগ্য মাছে এই টিকা প্রয়োগ করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান হাওলাদার জানান, মাছের এই টিকা তৈরিতে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। আশা করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদিত টিকা মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে বিভিন্ন রোগের কারণে প্রচুর পরিমাণ মাছ মারা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com