আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

ঢেঁড়শ একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সি রয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত আয়োডিন, ভিটামিন এ এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। ফলে ঢেঁড়শ চাষ করলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক উপকারিতাও রয়েছে। তাই আসুন জেনে নেই ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম-

মাটি
দো-আশ ও বেলে দো-আশ মাটি ঢেঁড়শ চাষের জন্য ভালো। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকলে এটেল মাটিতেও চাষ করা যায়।

জাত
শাউনি, পারবনি কানি, বারি ঢেঁড়শ, পুশা সাওয়ানি, পেন্টা গ্রিন, কাবুলি ডোয়ার্ফ, জাপানি প্যাসিফিক গ্রিন চাষ উপযোগী জাত।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

সময়
ঢেঁড়শ সারা বছর চাষ করা যায়। তবে গ্রীষ্মকাল চাষের উপযুক্ত সময়। ফাল্গুন-চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজ
প্রতি শতকে ২০ গ্রাম এবং প্রতি হেক্টরে ৪-৫ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

বপণ
বীজ বপণের আগে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হয়। মাটি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৭৫ সেন্টিমিটার। বীজ সারিতে ৪৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে ২-৩টি করে বীজ বুনতে হয়। জাত অনুযায়ী চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার কমানো-বাড়ানো যায়। শীতকালে গাছ ছোট হয় বলে দূরত্ব কমানো যেতে পারে। চারা গজানোর পর প্রতি গর্তে একটি করে সুস্থ চারা রেখে বাকি চারা গর্ত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হয়।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

সার
প্রতি শতকে গোবর ৭৫ কেজি, সরিষার খৈল ১.৭৫ কেজি, ইউরিয়া ২৩০ গ্রাম, টিএসপি ৩৫০ গ্রাম, এমওপি ২৩০ গ্রাম।

প্রয়োগ
জমি তৈরির সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানোর ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়শ বীজ বপণ করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু’ কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর।

পরিচর্যা
মাটির উপরিভাগ মাঝে মাঝে আলগা করে দিতে হবে। জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাটির প্রকারভেদ অনুযায়ী ১০-১২ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। প্রতি কিস্তিতে সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।

পোকামাকড়
ঢেঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এছাড়া জাব পোকা, সাদা মাছি, ছাতরা পোকা, লাল গান্ধি ইত্যাদিও ক্ষতি করে।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

রোগ
হলদে শিরা স্বচ্ছতা ঢেঁড়শের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। এছাড়া মোজেইক ও পাতায় দাগ রোগও দেখা যায়।

সংগ্রহ
বীজ বপণের ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে এবং ফুল ফোটার ৩-৫ দিনের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। জাতভেদে ফল ৮-১০ সেন্টিমিটার লম্বা হলেই সংগ্রহ করতে হয়।

উপকারিতা
ঢেঁড়শ নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এটি মানুষের হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে থাকে।

এগ্রোবিজ

কৃষকের লাভই সবচেয়ে কম

সবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।


চট্টগ্রামের শঙ্খ নদের তীরে দোহাজারী ও সাতকানিয়ার নলুয়া, চাগাচর, মুন্সিজরসহ বেশ কিছু এলাকায় চাষ হয় নানা জাতের সবজি। এসব সবজি নৌকায় করে পাইকারি বিক্রির জন্য কৃষকেরা নিয়ে যান দোহাজারীর সবজিবাজারে। গত বৃহস্পতিবার সকালে। ছবি: সৌরভ দাশসবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২০১৭–১৮ অর্থবছরে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, কৃষক যে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৯ টাকারও কম পান, সেটি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম হয় ২২ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে ৩৮ লাখ টনের কিছু বেশি সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৩ লাখ টন শীত ও ১৫ লাখ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি। অবশ্য হিসাবের মধ্যে আলু নেই। বিবিএসের হিসাবে, গত অর্থবছরে প্রায় ৯৭ লাখ টন আলু উৎপাদন করেছেন দেশের কৃষকেরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় হয় ৭ টাকা ৬০ পয়সা। গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে ওই আলু কৃষক বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী একই আলু কিনে বিক্রি করেন ১২ টাকা ২০ পয়সা দরে। এতে তাঁর ব্যয় হয় ১ টাকা ১০ পয়সা, লাভ হয় সোয়া ২ টাকা। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হয় ১৭ টাকা ১৫ পয়সা কেজিতে। পাইকার ১ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করে লাভ করেন ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। খুচরা বিক্রেতা কেজিতে ৯০ পয়সা ব্যয় ও ৩ টাকা ৯৫ পয়সা লাভ করে আলু বিক্রি করেন প্রতি কেজি ২২ টাকায়।

একইভাবে প্রতি কেজি বেগুনে কৃষকের ১ টাকা ৮৯ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর আড়াই টাকা, পাইকারের ৪ টাকা ১৩ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার ৯ টাকা ৩৬ পয়সা লাভ থাকে। প্রতি কেজি টমেটোতে কৃষকের লাভ ২ টাকা ১০ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর লাভ ৩ টাকা, পাইকারের লাভ ৬ টাকা ৬০ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার লাভ ৭ টাকা ২৮ পয়সা।

জানতে চাইলে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন ফুলকপি ৫ টাকা দরে বিক্রি করি, বগুড়া শহরে গিয়ে সেই ফুলকপিই ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখি।’ তিনি বলেন, কৃষিতে যে পরিমাণ ঝুঁকি, বিনিয়োগ ও পরিশ্রম, তাতে লাভ বেশি নয়। পরিবারের কেউ চাকরি না করলে, অথবা বিদেশে না থাকলে কৃষিকাজ করে মোটামুটি সচ্ছল জীবনযাপন করা সম্ভব নয়।  

বেগুনে লাভ বেশি

অবশ্য সার্বিকভাবে সবজি চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমীক্ষায় বিভিন্ন ফসলে কৃষকের মুনাফার চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৫ সাল থেকে ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা চাষের ওপর সমীক্ষা করে দেখেছে, এসব ফসল আবাদে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে তার বিপরীতে প্রায় শতভাগ লাভ হয়।

অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭–১৮ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। বিপরীতে তাঁর মুনাফা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৬৬ টাকা। এক একর জমিতে রসুন আবাদ করলে মুনাফা হয় ৫৪ হাজার ৪৯৮ টাকা। আলুতে লাভ কম, ৩৫ হাজার টাকার মতো। বেগুনে অবশ্য মুনাফা বেশি, একরে প্রায় ৯৯ হাজার টাকা। টমেটো চাষে লাভ একরপ্রতি ৬৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।

এবার শীত খারাপ কাটল

এবার শীত মৌসুমে বাড়তি সবজি আবাদ করে মন্দ সময় কেটেছে চাষিদের। প্রতিবার শীতে কখনো দাম বেশ বেড়ে যায়, কখনো কম থাকে। এবার পুরো শীতেই সবজির দর তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও আলুচাষিরা খরচের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক, ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুমে আগাম ও স্বাভাবিক সময় মিলিয়ে এ বছর সবজির আবাদ আগের বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এ কারণে শীত মৌসুমের পুরোটা সময়ই বাড়তি সরবরাহ ছিল। ফলে দামের খুব একটা ওঠানামা হয়নি। পুরোটা সময় দাম বেশ কম ছিল।

রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজির দর কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কারওয়ান বাজারের আড়তে এসব সবজি মিলছে আরও কম দামে। কৃষক পর্যায়ে দাম একেবারেই নগণ্য। বগুড়ার মহাস্থানহাটে গত রোববার পাইকারি দোকানে প্রতিটি ফুলকপি ৭–৯ টাকা, বাঁধাকপি ৫–৬ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০ টাকা, শিম ১২–১৫ টাকা, মুলা ৫–৬ টাকা, আলু ৫–৬ টাকা ও ক্ষীরা ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

মহাস্থানহাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছুদিন আগে দাম আরও অনেক কম ছিল। সে তুলনায় এখন কিছুটা বাড়তি। কারণ মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। জানতে চাইলে মহাস্থানহাটের আড়ত মালিক মো. ফারুক মিয়া বলেন, হাটে যে দামে সবজি বিক্রি হয়, তার চেয়েও কিছুটা কম দাম পান কৃষক। কারণ, তাঁর পরিবহন ও তোলার খরচ দিতে হয়। সব মিলিয়ে এবার বাজার খারাপ গেছে। চাষিরা দাম পাননি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের চাই লাভ


• কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি
• একই সঙ্গে সুলভ দামে নিরাপদ খাদ্য দিতে হবে ভোক্তাকে


কৃষকের চাই ফসলের ন্যায্যমূল্য। ভোক্তার চাই সুলভ মূল্যে নিরাপদ খাদ্য। মোটা দাগে এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেশ অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে।

উৎপাদন বাড়লে দাম কমে। ভোক্তা সস্তায় খাবার পান, কিন্তু কৃষক ফসলের ভালো দাম পান না। উৎসাহ হারিয়ে পরের মৌসুমে কৃষক আবাদ কমিয়ে দেন, খাবারের দাম যায় বেড়ে।

কিন্তু এই হিসাবটা এত সহজ না। চ্যালেঞ্জটিও তাই জটিল। দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে, উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। গবেষক ও পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, সরকারকে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে অবাধ আমদানি না করা, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব আমদানি শুল্ক বসানো এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার।

কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা চালানো কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বেশির ভাগই কৃষিকাজে থাকতে চায় না।

সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট জমিতে কৃষিকাজ হতো। পরে সেটা বাণিজ্যিক রূপ পায়। কৃষকেরা একত্র হয়ে চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আসে ও উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য বিমাও চালু হয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই যেতে হবে।’

দেশের সাধারণ কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় ফসল ধান। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। এতে চাহিদা প্রায় মিটে যায়। তবে দুর্যোগে ফসলহানি হলে আমদানি করতে হয়।

আলু হয় চাহিদার অনেক বেশি। সবজি, মাছ, মাংস, ডিমও আমদানি করতে হয় না। দেশি পেঁয়াজেই চাহিদার বেশির ভাগ মেটে। তবে গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি আর আদা-রসুনের বড় অংশই আমদানিনির্ভর।

কৃষকেরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত আমন মৌসুমে তাঁরা ধানের দাম কম পেয়েছেন। কয়েক বছর ধরে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। দুই মৌসুম হলো পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

সবজি আবাদ মোটের ওপর লাভজনক। তবে দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পাটের দাম নিয়ে হতাশা ফিরে ফিরে আসে।

মাছ চাষে লাভ আছে, বিনিয়োগও লাগে। পাঙাশ, তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছে মুনাফা খুবই কম থাকে। দামের ওঠানামায় টিকতে না পেরে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু আর দুধের চাহিদা আর দামও ওঠানামা করে, প্রায়ই খামারিরা দুধ ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ধান নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা
দেশের খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি চাল ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজিতে ৩৪ টাকা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ২৪ টাকা। কৃষকেরা ধান বিক্রি করে ২৫ টাকা বা তার কিছুটা কম দাম পেয়েছিলেন।

কৃষক যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। ফসল ওঠার মৌসুমে মন্ত্রণালয় উৎপাদন খরচ বের করে কৃষকের জন্য লাভজনক একটা দাম ঠিক করে দেয়। তারপর মন্ত্রণালয় সেই দামে সরকারি গুদামের জন্য ধান-চাল সংগ্রহ করে। আমদানি শুল্ক ধার্য করার সময় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ দেখে পরামর্শ দেওয়ার কাজটিও তাদের।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম, মজুত ও আমদানির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নেতৃত্বে দক্ষতারও ঘাটতি ছিল। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রীর সে পরিকল্পনা থাকা দরকার।

২০১৩ সাল থেকে দেশের বাজারে চালের দাম মোটামুটি একই ছিল। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়ীরা চালের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন।

সে সময় দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা দরে চাল দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারি গুদামে মজুত ছিল কম। সরকার তখন নিজেরা চাল আমদানি করে। আর বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়াতে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেয়।

আমদানি বাড়ে, তবে চালের দাম তেমন কমে না। ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদ ও ফলন হলে ধানের দাম পড়ে যায়। সরকার তখন চালের আমদানি শুল্ক আবার বাড়িয়ে দেয়। তখন আমদানি কমে গেলে দাম আবার বাড়ে। তবে লাভ করেন ব্যবসায়ীরা, কৃষকের জন্য ধানের দাম এখনো লাভজনক হয়নি।

২০১৯ সালের গোড়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে।

সবজিতে লাভ বেশি, তবে…
সবজিসহ দেশের অন্যান্য প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজটি বাজারের নিয়মে ঘটে। সেসব ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে ফারাক কমানোর কোনো চেষ্টা সরকারকে করতে দেখা যায় না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৭-১৮) তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও দাম বাড়ার তথ্য দেওয়া আছে। এতে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। কৃষক সেটা স্থানীয় ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছেন গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে। আরও দুই হাত ঘুরে সেই আলু ভোক্তার কাছে যাচ্ছে। ভোক্তা কিনছেন ২২ টাকা কেজি দরে। প্রতি ধাপেই বিক্রেতার লাভের পরিমাণ কৃষকের চেয়ে বেশি। একই দশা বেগুন ও টমেটোতেও।

দেশে বছরে আলু উৎপাদিত হয় ৯৫ লাখ টনের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে আলুর চাহিদা ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে বাজারে এখন আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকায় নেমেছে। কৃষক পর্যায়ে এ দর চার থেকে ছয় টাকা। অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭ টাকার মতো।

পেঁয়াজেও একই চিত্র। ভরা মৌসুমে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। কৃষক পাচ্ছেন ১০-১২ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় এখন বাজারে আলুর দর ৪০ শতাংশ ও পেঁয়াজের দর ৫২ শতাংশ কম। আলু-পেঁয়াজের দর এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। কৃষক লোকসান গুনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিরাপদ খাদ্য
দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাব আছে। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে।

সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (ভালো কৃষির চর্চা—গ্যাপ) নিশ্চিত করা, যেখানে পরিমিত মাত্রায় সঠিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হবে। কৃষি দপ্তর ‘বাংলা গ্যাপ’ পরিকল্পনা করেছে। এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

পরিবেশদূষণের কারণে অনেক সময় মাটি ও পানি থেকে ভারী ধাতু ফসলে ঢুকছে। সেটা খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে ধাতু বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত গবেষণা দরকার।

বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সরকারের আত্মতৃপ্তি আছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এম এম শওকত আলী। তিনি বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব আরও বলেন, কৃষক নিজের উদ্যোগে সবজি ও মাছ চাষে যে বিশাল বিপ্লবটি করে ফেললেন, তা যাতে টেকসই হয় সে জন্য তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের উৎপাদিত খাদ্যকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
কৃষির নতুন প্রযুক্তিতে নজর দিতে হবে
কে এ এস মুরশিদ
মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি এখনো বড় ভূমিকা রাখে। কৃষির যে উন্নতি আমরা ১০-১২ বছর ধরে দেখছি, তার গতি এখন ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

চালের দাম নিয়ে নীতি নির্ধারকসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রথাগত মানসিকতা রয়েছে। সবাই মনে করে, চালের দাম কম থাকলে ভালো। চালের দাম নিয়ে এত সংবেদনশীল হওয়ার কিছু নেই। যারা হতদরিদ্র, তাদের বিষয় আলাদা। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাওয়া দরকার। সাধারণভাবে বাজারে চালের দাম দু-এক টাকা বেড়ে গেলেই উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এটি ঠিক নয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করাটা জরুরি।

গ্রামে কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ, মোবাইলের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন থেকে শুরু করে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ বড় ভূমিকা রাখছে। এসব প্রযুক্তি কৃষকের জন্য সংযোগ ও নানা সুবিধা এনে দিচ্ছে। এমন কোনো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে কৃষকের সুযোগগুলো সংকুচিত হয়। সরকারি পর্যায়ে কৃষি পণ্যের বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে।

আমাদের জাতীয় ও গৃহস্থ পর্যায়ে খাদ্যসংকট একসময় নিয়মিত ব্যাপার ছিল। এখন আমরা সেই স্তর অতিক্রম করেছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের প্রধান খাদ্য চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটি স্বস্তির পরিস্থিতি দিয়েছে, যার ওপর ভর করে আমরা এখন আরও সামনের দিকে এগোচ্ছি। এখন আমাদের নিরাপদ খাদ্যের কথা চিন্তা করতে হবে। খাদ্যে যাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কিছু না থাকে। অনিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দেবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকেও এখন সময় উপযোগী করতে হবে। আগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যে কাজ করছে না তার বড় প্রমাণ হচ্ছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কৃষকের ধান চাষে ভর্তুকি দেব, না অন্য কোথাও দেব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বিটি বেগুনে পোকার আক্রমণ বন্ধ হয়নি


কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) থেকে বিটি বেগুনের চারটি জাত ছাড় করার সময় বলা হয়েছিল এটি ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী জিন সমৃদ্ধ। এই বেগুন চাষ করলে ওই দুইটি পোকার আক্রমণ হবে না। এতে কীটনাশকের ব্যবহারে সাশ্রয় হবে। কিন্তু খাদ্য নীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণায় দেখা গেছে, দেশি অন্য জাতের বেগুনের তুলনায় ওই দুই পোকার আক্রমণ ৯০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু এখনো ১০ শতাংশ বেগুনে পোকার আক্রমণ হচ্ছে। একই ভাবে ৪৭ শতাংশ বেগুন গাছের পাতা ভক্ষণকারী পোকা, প্রায় ৫০ শতাংশে সাদা ফড়িং জাতীয় পোকা ও প্রায় ৩৬ শতাংশে পাতা পোকার আক্রমণ বন্ধ হয়নি। তবে সামগ্রিকভাবে পোকার আক্রমণ কিছুটা কমেছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিটি বেগুনের ওপরে করা ওই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন ইফপ্রি, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আখতার আহমেদ। ওই কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ দেশের বিশিষ্ট কৃষি গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যের উৎপাদন জরুরি। হালনাগাদ কৃষি নীতিতে জৈবপ্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়নেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার জিএমওসহ কৃষি রূপান্তর, হাইব্রিড জাত নিয়ে এসেছে।


কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) থেকে বিটি বেগুনের চারটি জাত ছাড় করার সময় বলা হয়েছিল এটি ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী জিন সমৃদ্ধ। এই বেগুন চাষ করলে ওই দুইটি পোকার আক্রমণ হবে না। এতে কীটনাশকের ব্যবহারে সাশ্রয় হবে। কিন্তু খাদ্য নীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণায় দেখা গেছে, দেশি অন্য জাতের বেগুনের তুলনায় ওই দুই পোকার আক্রমণ ৯০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু এখনো ১০ শতাংশ বেগুনে পোকার আক্রমণ হচ্ছে। একই ভাবে ৪৭ শতাংশ বেগুন গাছের পাতা ভক্ষণকারী পোকা, প্রায় ৫০ শতাংশে সাদা ফড়িং জাতীয় পোকা ও প্রায় ৩৬ শতাংশে পাতা পোকার আক্রমণ বন্ধ হয়নি। তবে সামগ্রিকভাবে পোকার আক্রমণ কিছুটা কমেছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিটি বেগুনের ওপরে করা ওই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন ইফপ্রি, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আখতার আহমেদ। ওই কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ দেশের বিশিষ্ট কৃষি গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যের উৎপাদন জরুরি। হালনাগাদ কৃষি নীতিতে জৈবপ্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে নারীর ক্ষমতায়নেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার জিএমওসহ কৃষি রূপান্তর, হাইব্রিড জাত নিয়ে এসেছে।

‘বাংলাদেশে কৃষির রূপান্তর: জৈবপ্রযুক্তি ও পুষ্টিকর কৃষি’ থেকে পাওয়া প্রমাণ শীর্ষক ওই কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে উদ্ভাবিত বিটি বেগুন কৃষক-ভোক্তা সবাই গ্রহণ করেছে। এর উৎপাদন ভালো এবং বেশ লাভজনক। কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন জাত নিয়ে বিরোধিতা করছে। তারা কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কথা বলছে। এসব ফসলে কোনো ক্ষতিকর কিছু নেই। আমাদের কৃষকেরা এসব উন্নত জাতের স্বত্ব হারাবে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, তাও ঠিক নয়।’

কর্মশালায় কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবীর বলেন, ‘ভারত ও ফিলিপাইনে বিটি বেগুন চাষে সফলতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, ভোক্তারা যেন সচেতনভাবে এই বেগুন কিনতে পারে। এ জন্য এর গায়ে লেবেল থাকার কথা। এই বেগুন চাষের সময় জমির চারপাশে অন্য ফসলের গাছ থাকতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি থেকে এটি সঠিকভাবে অনুমোদন পেল কিনা, তাও দেখা উচিত। বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য রক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কার্টেহানা প্রটোকলে সাক্ষর করেছে। এই বেগুন চাষের ক্ষেত্রে ওই চুক্তির ধারাগুলো আমাদের মনে রাখতে হবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক জনাব ড. মো. আবুল কালাম আযাদ, ইউএসএআইডি-এর ভারপ্রাপ্ত মিশন ডিরেক্টর জিনাহ সালাহী প্রমুখ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অসময়ের বৃষ্টিতে মাথায় হাত সবজিচাষিদের

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কৈয়া বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে কয়েক কিলোমিটার গেলেই উত্তর শৈলমারী বিল। বিশাল ওই বিলের কিছু অংশজুড়ে রয়েছে সবুজ ধানখেত। বাকি অংশ শুধুই ধু-ধু মাঠ। সেখানে কোনো ফসলের চিহ্ন নেই।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সেচ দেওয়ার সুবিধা আছে এমন জমিতে বোরো ধান লাগানো হয়েছে। আর বিলের অন্য জমিতে আবাদ করা হয়েছিল তরমুজসহ বিভিন্ন সবজির। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে সব চারা মরে গেছে। এখন নতুন করে কোনো ফসল লাগানোরও সময় নেই। তাই জমিগুলো ওভাবেই পড়ে আছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। প্রায় এক সপ্তাহ চলা ওই বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রথম দিকে বৃষ্টিকে আশীর্বাদ মনে করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা পরিণত হয় অভিশাপে। ওই বৃষ্টি বোরো ধানচাষিদের জন্য উপযোগী হলেও সর্বনাশ হয়েছে সবজিচাষিদের।

শৈলমারী বিলটি খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের উত্তর শৈলমারী গ্রামে অবস্থিত। ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিলের পশ্চিম পাশের সামান্য কিছু জমিতে লাগানো হয়েছে বোরো ধান। গ্রামের কৃষক রিপন বৈরাগীর গভীর সেচযন্ত্র ঘিরেই ওই ধানের চাষ। এ ছাড়া বিলের অন্যান্য অংশের মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় দেখা গেছে জমি চাষ করা। কিন্তু সেখানে কোনো ফসলের চিহ্ন নেই। বাকি অংশে কেটে নেওয়া আমন ধানগাছের গোড়া এখনো রয়ে গেছে। বিশাল বিলের মাঝ বরাবর কাটা হচ্ছে খাল। একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ওই মৃতপ্রায় খালটি কাটা হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, খননের কাজ চলায় খালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অসময়ের বৃষ্টিতে পানি আর সরতে পারেনি। তাই বিলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে তাঁদের লাগানো সব সবজির গাছ মারা গেছে। ধানগাছের ফাঁকে ফাঁকেও ঢ্যাঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির বীজ বপন করা হয়েছিল। সঞ্জয় বৈরাগী বলেন, আমান ধান তোলার পর তিনি ওই বিলের প্রায় চার বিঘা জমিতে চাষ করেছিলেন উচ্ছে, করলা, তরমুজ, ঝিঙে, মিষ্টিকুমড়া ও শিমের। গাছে যখন তিন থেকে চারটি পাতা বের হয়েছে, তখনই শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথম দিন বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি না হলেও পরপর কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সব গাছ চলে যায় পানির নিচে। এ কারণে গাছগুলো মারা গেছে।

বটিয়াঘাটা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপবিভাগীয় কৃষি কর্মকর্তা জীবানন্দ রায় বলেন, ওই বিলের খালটি খনন হচ্ছে। এ কারণে খালের দুই মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে কয়েক দিনের একটানা বৃষ্টিতে বিলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ কারণে যাঁরা সবজির চাষ করেছিলেন, তাঁরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার বলেন, অসময়ের বৃষ্টিতে সবজি, তরমুজ ও মসুরের সামান্য ক্ষতি হয়েছে, এটা ঠিক। তবে বোরো ধানচাষিরা ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। গত বছর বৃষ্টি অনেক কম হয়েছিল। এ কারণে চলতি বছরের শুরুতে সব খাল-বিল শুকিয়ে যায়। তাই বোরো আবাদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের বৃষ্টিতে সেই আশঙ্কা কেটে গেছে। বোরো ধানের জমিতে সেচের ব্যবস্থা হয়েছে। এবার খুলনায় ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সবজিতে সেরা রাজশাহী

কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে। তিনি আগে সব জমিতেই বোরোর আবাদ করতেন। কয়েক বছর ধরে সবজি চাষ করছেন। এবার তিন বিঘা জমিতে পাতাকপি, এক বিঘায় টমেটো, ১৫ কাঠা জমিতে ঢ্যাঁড়স এবং এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করছেন। তিনি একা নন, ওই গ্রামের সব চাষিই বোরো বাদ দিয়ে সবজি চাষ করছেন। কারণ, বোরো আবাদ করে কৃষকের খরচের টাকাই ওঠে না। আর সবজি চাষে তাঁরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

এদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে আট বছর ধরে রাজশাহীতে বোরো ধান ছেড়ে অন্য ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষিবিদেরা বলছেন, পানিসাশ্রয়ী ফসলের চাষ বাড়াতে গিয়ে এবার রাজশাহী সবজি উৎপাদনে দেশসেরা হয়েছে। গত মাসের শেষ সপ্তাহে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক দেশসেরা পুরস্কার পেয়েছেন। সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয় হয়েছে সাতক্ষীরা এবং তৃতীয় হয়েছে কক্সবাজার জেলা।

শামছুল হক জানান, গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় খামারবাড়িতে অধিদপ্তরের হর্টিকালচার শাখা আয়োজিত অনুষ্ঠানে শাকসবজি উৎপাদনে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁদের একটি ক্রেস্ট এবং একটি সনদ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, পানিসাশ্রয়ী ফসল খুঁজতে গিয়ে একদিকে বোরোর বদলে সবজির চাষ বেড়েছে, অন্যদিকে উন্নত জাতের প্রচলন, সারের সুষম ব্যবহার এবং সময়মতো রোগবালাই দমনে সফলতার কারণে সবজি চাষে সাফল্য এসেছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজশাহীতে ২২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন হয়েছে ১৮ দশমিক ১২ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন। আট বছরে রাজশাহী জেলায় ২ হাজার ৮২৭ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ বেড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এখানে সবজি চাষ হয়েছে ১৯ হাজার ৪০৮ হেক্টর জমিতে। তখন গড় উৎপাদন ছিল ১৭ দশমিক ৪২ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন। আট বছরে সবজির গড় উৎপাদন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭০ মেট্রিক টন।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সূত্রে জানা গেছে, বরেন্দ্র এলাকায় বোরো মৌসুমে ১ কেজি চাল উৎপাদনে ২ থেকে ৩ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন পড়ে। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করেই বোরো ধান করা হয়। ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি শাসন ব্যবস্থা ও টেকসই উন্নয়ন’ বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) রাজ্জাকুল ইসলাম। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর প্রতিবছর প্রায় দেড় ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। ২০০৪ সালের পর থেকে নেমে যাওয়া পানির স্তর আর আগের জায়গায় উঠে আসছে না।

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় আট বছর আগেই বোরো থেকে সরে আসার জন্য ‘ক্রপস ডাইভারসিফিকেশন’ বা শস্য বহুমুখীকরণ নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন বোরোর আবেদন কমছে। চাষিরা পানিসাশ্রয়ী ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজশাহীতে টমেটোর মোট উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ৬২৪ মেট্রিক টন। বেগুন হয়েছে ৭১ হাজার ৭০৫ মেট্রিক টন, ফুলকপি হয়েছে ১৭ হাজার ৪০৪ মেট্রিক টন, বাঁধাকপি হয়েছে ১৬ হাজার ৮০৬ মেট্রিক টন। রাজশাহীতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা না হলেও ব্যাপকভাবে শজনে চাষ হয়। এই মৌসুমে শজনে হয়েছে ২ হাজার ৬১৮ মেট্রিক টন।

রাজশাহী পবা উপজেলার পদ্মা নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরখিদিরপুর গ্রাম। ছোট্ট এই গ্রামজুড়ে চাষিরা এখন শুধুই সবজি চাষ করে থাকেন। সবজির মধ্যে বেগুনই বেশি। কয়েক দিন আগে ওই গ্রামে গিয়ে মাঠজুড়ে শুধু বেগুনখেত দেখা গেল। বাড়ির আনাচে–কানাচেও বেগুনের গাছ। গ্রামের মিন্টু শেখ এবার চার বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বেগুন চাষ এখন লাভজনক। প্রথম দুই সপ্তাহেই উৎপাদন খরচ উঠে আসে। তবে এবার দাম কম। ৬০ থেকে ৬৫ কেজি ওজনের এক ডালি বেগুন আগে খেতেই ৮০০ টাকায় বিক্রি করেছেন, এখন ৩০০ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com