আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

ঢেঁড়শ একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সি রয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত আয়োডিন, ভিটামিন এ এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। ফলে ঢেঁড়শ চাষ করলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক উপকারিতাও রয়েছে। তাই আসুন জেনে নেই ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম-

মাটি
দো-আশ ও বেলে দো-আশ মাটি ঢেঁড়শ চাষের জন্য ভালো। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকলে এটেল মাটিতেও চাষ করা যায়।

জাত
শাউনি, পারবনি কানি, বারি ঢেঁড়শ, পুশা সাওয়ানি, পেন্টা গ্রিন, কাবুলি ডোয়ার্ফ, জাপানি প্যাসিফিক গ্রিন চাষ উপযোগী জাত।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

সময়
ঢেঁড়শ সারা বছর চাষ করা যায়। তবে গ্রীষ্মকাল চাষের উপযুক্ত সময়। ফাল্গুন-চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজ
প্রতি শতকে ২০ গ্রাম এবং প্রতি হেক্টরে ৪-৫ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

বপণ
বীজ বপণের আগে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হয়। মাটি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৭৫ সেন্টিমিটার। বীজ সারিতে ৪৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে ২-৩টি করে বীজ বুনতে হয়। জাত অনুযায়ী চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার কমানো-বাড়ানো যায়। শীতকালে গাছ ছোট হয় বলে দূরত্ব কমানো যেতে পারে। চারা গজানোর পর প্রতি গর্তে একটি করে সুস্থ চারা রেখে বাকি চারা গর্ত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হয়।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

সার
প্রতি শতকে গোবর ৭৫ কেজি, সরিষার খৈল ১.৭৫ কেজি, ইউরিয়া ২৩০ গ্রাম, টিএসপি ৩৫০ গ্রাম, এমওপি ২৩০ গ্রাম।

প্রয়োগ
জমি তৈরির সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানোর ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়শ বীজ বপণ করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু’ কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর।

পরিচর্যা
মাটির উপরিভাগ মাঝে মাঝে আলগা করে দিতে হবে। জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাটির প্রকারভেদ অনুযায়ী ১০-১২ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। প্রতি কিস্তিতে সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।

পোকামাকড়
ঢেঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এছাড়া জাব পোকা, সাদা মাছি, ছাতরা পোকা, লাল গান্ধি ইত্যাদিও ক্ষতি করে।

 জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম
জেনে নিন ঢেঁড়শ চাষের নিয়ম

রোগ
হলদে শিরা স্বচ্ছতা ঢেঁড়শের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। এছাড়া মোজেইক ও পাতায় দাগ রোগও দেখা যায়।

সংগ্রহ
বীজ বপণের ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে এবং ফুল ফোটার ৩-৫ দিনের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। জাতভেদে ফল ৮-১০ সেন্টিমিটার লম্বা হলেই সংগ্রহ করতে হয়।

উপকারিতা
ঢেঁড়শ নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এটি মানুষের হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে থাকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বাংলাদেশ

বারোমাসি লাউ বিক্রি করে লাখপতি রাশেদ

করোনা পরিস্থিতিতে মৌসুমি সবজি চাষ করে মাগুরার কৃষকরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মধ্যে রাশেদ মোল্যা অন্যতম। তিনি বারোমাসি সবজি হিসেবে লাউ, করলা, কলা চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন।

.

কৃষক রাশেদ মোল্যা জানান, ১০ বছর ধরে তিনি নানামুখী সবজি চাষ করছেন। কিন্তু করোনাকালে তিনি সবজি চাষে বিভিন্ন ভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। চাষের বীজ, সার সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে তার। তাছাড়া চাষের বীজ ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। এ বছর তার করলা চাষে ক্ষতি হলেও বর্তমানে লাউ চাষে আলোর মুখ দেখছেন তিনি। তার নিজের কোনো জমি নেই। বর্তমানে তিনি পারনান্দুয়ালী পূর্বপাঠ পাড়ায় ৫০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে বারোমাসি এ লাউ চাষ করছেন।

লাউ চাষের জন্য জমি তৈরি, জমিতে বাঁশের টাল তৈরি, সার ও বীজ দিয়ে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তিনি চাষাবাদে খরচ করেন। প্রতি ১৫ দিন অন্তর জমিতে সার দিতে হয়। এতে তার খরচ হয় ১ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, বর্তমানে বারোমাসি লাউ চাষে লাভবান হয়েছেন। দুদিন পর পর ক্ষেত থেকে ৮০-১০০ পিস লাউ সংগ্রহ করেন। এ লাউ পাইকারি হিসেবে কাঁচাবাজারে প্রতি পিস ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতি মাসে তার বিক্রি ৩০-৩২ হাজার টাকা।

বছরে তিনি বিক্রি করছেন প্রায় ৩ লাখ টাকা। বছরে তার উৎপাদন খরচ বাদে ২ লাখ টাকা থাকছে। লাউ চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষক রাশেদ মোল্যা জানান, মাগুরা কৃষি অফিস থেকে আমাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক জানান, কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে মাঠ তদারকি করছে এবং প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, লাউয়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন আছে যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি ও ফাইবার। লাউ সুগার ফ্রি, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি উপকারি সবজি। লাউয়ে পানি থাকে বিধায় খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। লাউ চাষ অল্প খরচে অধিক লাভজনক বলে কৃষকদের লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কোন রঙের ক্যাপসিকাম বেশি উপকারী?

কোন রঙের ক্যাপসিকাম বেশি উপকারী?

দেখতে অনেকটা টমেটোর মতো, তবে টমেটো নয়। যেন বড়সড় এক মরিচ! নজরকাড়া রঙের এই সবজির নাম ক্যাপসিকাম। ক্যাপসিকাম লাল, সবুজসহ বেশ কয়েক রঙের হয়ে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত লাল ও সবুজ ক্যাপসিকাম বেশি দেখা যায়। বিদেশি সবজি হলেও এর চাহিদা দিনদিন বেড়ে চলেছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে এর চাষও।

ক্যাপসিকামের অনেক গুণ। এতে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি। তাই এই সবজি কখনোই অতিরিক্ত তাপমাত্রায় রান্না করা উচিত নয়। এতে এর ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে চাইলে কাঁচা খেতে পারেন।

ক্যাপসিকামে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। ভিটামিন ই, এ-ও পাওয়া যায় ক্যাপসিকামে। চোখ ভালো রাখতেও এটি উপকারী। চুল ও ত্বকের জন্যও খুব ভালো এই সবজি। পাশাপাশি ভালো রাখে হাড় ও হার্ট।

ক্যাপসিকামে পটাসিয়াম, ফোলেট ইত্যাদি উপাদানও প্রচুর পাওয়া যায়। তাই এটি খেলে শরীরের আয়রন গ্রহণ করার ক্ষমতাও বাড়ে। ক্যাপসিকাম দীর্ঘদিন ফ্রিজে রেখে না খাওয়াই ভালো। কিনে আনার দুই-তিন দিনের মধ্যে খেয়ে নিলেই উপকার বেশি। কোন ক্যাপসিকামে উপকার বেশি, সবুজ না-কি লাল? বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

লাল ক্যাপসিকাম
লাল ও সবুজ ক্যাপসিকামের মধ্যে লালটি বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন। এতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও বেশি থাকে। লাল ক্যাপসিকাম খেলে ত্বক সুন্দর থাকে। চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। চোখ ভালো থাকে। এতে কোলেস্টেরল কম থাকার কারণে মোটা হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

ত্বক পরিষ্কার রাখতে ক্যাপসিকাম বেশ উপকারী। ত্বকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত রোগের ক্ষেত্রে ক্যাপসিকাম রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে ত্বকের ব্রণ ও র্যাশের হাত থেকে রক্ষা করে। লাল ক্যাপসিকাম যেকোনো ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক।

ক্যাপসিকাম খেলে মাথার তালুর রক্ত চলাচল বজায় রাখতে সাহায্য করে। নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এই সবজি। খনিজের অভাব পূরণ করে। পটাশিয়াম বেশি থাকার কারণে বয়স্কদের জন্য লাল ক্যাপসিকাম খাওয়াই ভালো। বিভিন্ন উপকরণ বেশি থাকার কারণে বাজারে লাল ক্যাপসিকামের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

সবুজ ক্যাপসিকাম
সবুজ ক্যাপসিকামও বিভিন্ন পুষ্টি উপকরণে ভরপুর। এই ক্যাপসিকাম অল্পবয়সীদের জন্য বেশি উপকারী। এতে ক্যাপসাইসিনস নামক উপাদান ডিএনএর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের সংযুক্ত হওয়াতে বাধা দেয়। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

সবুজ ক্যাপসিকাম মাইগ্রেন, সাইনাস, ইনফেকশন, দাঁতে ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ইত্যাদি ব্যথা দূর করতে কাজ করে। এটি শরীরের বাড়তি ক্যালরি পূরণে কাজ করে। ফলে চর্বি জমে না, একই সঙ্গে ওজনও বৃদ্ধি পায় না। সবুজ ক্যাপসিকাম রক্তের অণুচক্রিকা উদ্দীপিত করে সংক্রমণ রোধ করে থাকে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সব রঙের ক্যাপসিকামই পাতে রাখুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

পাহাড়ে মুখীকচু চাষে কৃষকের মুখে হাসি

পাহাড়ে মুখীকচু চাষে কৃষকের মুখে হাসি

সবুজ পাহাড়ে মুখীকচুর বাম্পার ফলনে আর্থিক সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছে প্রান্তিক কৃষকরা। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পাহাড়ের বুক চিড়ে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে পাহাড়ের সাদা সোনা খ্যাত মুখীকচু। বিস্তীর্ণ উঁচু-নিচু পাহাড় জুড়ে সবুজ কচু গাছে শুধুই সাদা সোনার হাতছানি।

খাগড়াছড়ির সব উপজেলায় মুখীকচুর চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয় মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও রামগড়ের ছোট-বড় পাহাড়ের ঢালে। সরেজমিনে ঘুরে উঁচু-নিচু পাহাড় জুড়ে দেখা মিলে কচু গাছের। সবুজ কচু গাছেই যেন সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা।

স্থানীয় চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধান ও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি খাগড়াছড়ির কৃষকরা পাহাড়ের ঢালুতে মুখীকচুর চাষ করছেন। মুখীকচু চাষে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরেছে পাহাড়ের কৃষক পরিবারে। মুখীকচু চাষে গত কয়েক বছরে বদলে গেছে এলাকার অর্থনীতি। এ সবজি লাভজনক হওয়ায় চাষের পরিধি বাড়ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, মুখীকচু বাংলাদেশে গুঁড়াকচু, ছড়াকচু, দুলিকচু, বিন্নিকচু নামেও পরিচিত। পোকা ও রোগবালাই তেমন না থাকায় খরচ কম সে কারণেই স্থানীয় কৃষকরা মুখীকচুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কচুগোত্রীয় সবজির মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় মুখীকচু। মুখীকচুর ছড়া বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মুখীকচুর গাছ হলদে হয়ে শুকিয়ে গেলে এ কচু তুলতে হয়।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চৈত্র মাসের শুরুতেই পাহাড়ের আগাছা পরিষ্কার করে মাটি কুপিয়ে চাষযোগ্য করে তোলা হয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি প্রথম বৃষ্টি হলেই মাটিতে মুখীকচুর বীজ বপন করা হয়। চারা গজানোর পরে আগাছা পরিষ্কার, কেইল বা লাইন করা (দুপাশ থেকে মাটি গাছের গোড়াতে দেওয়া) ও প্রয়োজন মতো কয়েকবার সার প্রয়োগ করতে হয়। সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে মুখীকচু জমি থেকে উত্তোলন ও বিক্রি শুরু হয়।

ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘লৌহ’ গুণসম্পন্ন মুখীকচু পাহাড়ের চাহিদা মিটিয়ে জায়গা করে নিয়েছে নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ সমতলের বড় বড় পাইকারি হাটে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা দুর্গম তবলছড়ির কৃষক মো. আবুল হোসেন জানান, উচুঁ-নিচু পাহাড়ের ঢালু ছাড়াও সমতলে মুখীকচু চাষ করা হয়। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মুখীকচু চাষের পরিধি বাড়ছে পাহাড়ের পর পাহাড়ে। রামগড়ের কচু চাষি মো. আব্দুল করিম বলেন, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কচু চাষে লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় চাষিরা।

মুখীকচুর পাইকারি ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলাম ও গিয়াসুদ্দিন জানান, গত কয়েক বছরে মুখীকচু পাহাড়ের চাহিদা মিটিয়ে জায়গা করে নিয়েছে নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বড় বড় পাইকারি বাজারে। মানিকছড়ির হাতিমুরা, গচ্ছাবিল, রামগড়ের নাকাপা, মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ও তাইন্দংয়ে রয়েছে মুখীকচুর আড়ত। এখানে দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তারা।

পাহাড়ের আবহাওয়া ও উর্বর মাটির ফলে মুখীকচুর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মর্তুজ আলী বলেন, প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ লাভ হয় বলে পাহাড়ের কৃষকরা মুখীকচু চাষে আগ্রহী হচ্ছে। পাহাড়ে দিন দিন বাড়ছে কৃষকদের সফলতার হাড়। পরিত্যক্ত পাহাড়ের ঢালুতে মুখীকচু চাষে সোনা ফলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চলতি বছর খাগড়াছড়িতে ৮৭০ হেক্টর জমিতে মুখীকচুর চাষ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

গদখালীতে ফুল আর সবজি চাষে নতুন মাত্রা

ফাইল
ফাইল

• ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী
• এলাকায় ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে
• পদ্ধতিতে ফুল–সবজি উৎপাদনে খরচ কম
• ফুল ও সবজির ফলন অনেক বেশি হয়

সৌরশক্তিচালিত পাম্পের সাহায্যে পাতকুয়া থেকে তোলা হচ্ছে পানি। প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে সেই পানি চলে যাচ্ছে ট্যাংকে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে আসছে সোজা ফুল ও সবজিখেতে। পথে পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিক সার। ফুল ও সবজিগাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে সারমিশ্রিত পানি।

‘ড্রিপ ইরিগেশন’ নামের এই সেচপদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে। ফুল ও সবজিচাষিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী এবং এর আশপাশের এলাকায় এই পদ্ধতি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগ এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল ও সবজি উৎপাদন সম্প্রসারণে ড্রিপ ইরিগেশন কর্মসূচি’।

চাষিরা জানান, এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজি উৎপাদনে খরচ অনেক কম। কীটনাশকের কোনো ব্যবহার নেই। পানি আর্সেনিকমুক্ত। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়। গাছ প্রয়োজনীয় পানি ও সার পায়। এতে ফুল ও সবজির ফলন অনেক বেশি হয়। এ পদ্ধতিতে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন।

যশোর সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকা। গদখালী এবং এর আশপাশের গ্রামের একরের পর একর জমিতে বছরজুড়ে উৎপাদন হচ্ছে দেশি–বিদেশি নানা জাতের ফুল। এসব ফুল সারা দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

বিএডিসি সূত্র জানায়, তিন বছর মেয়াদি এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের জুন মাসে। কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে পানিসরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা। কর্মসূচির আওতায় খনন করা হয়েছে সৌরচালিত ডাগ ওয়েল (পাতকূয়া), নির্মাণ করা হয়েছে পলিহাউস ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। পানিসারা গ্রামের ৩০ জন ফুল ও সবজিচাষি কোনো রকম সেচ খরচ ছাড়াই সেখান থেকে আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহার করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ৫৫ বিঘা জমিতে বিষমুক্ত ফুল ও সবজি চাষ করছেন। কৃষকেরা সুফল পাওয়ায় উপজেলার গদখালী, পানিসারা, নাভারণ, শিমুলিয়া ও নির্বাসখোলা ইউনিয়নে আরও ১৫টি সৌরশক্তিচালিত ডাগ ওয়েল ও ড্রিপ ইরিগেশন এবং সাতটি পলিহাউস (পলিথিন দিয়ে তৈরি শেড) নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ৪৫০ জন ফুল ও সবজিচাষি সুফল পাবেন।

সরেজমিনে পানিসারা গ্রামে দেখা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় এক বিঘা জমির ওপর সাদা পলিথিন দিয়ে লোহার কাঠামোর ওপর ১০০৮ বর্গফুটের একটি পলিহাউস। তার সামনে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্য, ২২ ফুট প্রস্থ এবং ৭ ফুট গভীর একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। কিছুটা দূরে ১৪২ ফুট গভীর একটি পাতকূয়া। পাতকূয়ার ৭৫ ফুট গভীরে স্থাপন করা হয়েছে পাম্প। ওপরে তৈরি করা হয়েছে গোলাকৃতির টিন দিয়ে সোলার প্যানেল। তার ওপর ৩ হাজার ধারণক্ষমতার একটি পানির ট্যাংক। সৌরশক্তির মাধ্যমে ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পাম্প চালানোর পর ১০ মিনিটের মধ্যে ট্যাংক পানিতে পূর্ণ হচ্ছে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে যাচ্ছে পলিহাউস এবং আশপাশের ৫৫ বিঘা জমির ফুল ও সবজিখেতে। সরবরাহ লাইনের মধ্যে চাষি পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন রাসায়নিক সার। ফোঁটায় ফোঁটায় সারমিশ্রিত পানি গিয়ে পড়ছে ফুল ও সবজিগাছের গোড়ায়। ১৮টি ফসেট (টিপকল) দিয়ে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পলিহাউসের মধ্যে চাষ করা হচ্ছে জারবেরা ও গোলাপ ফুল এবং তরমুজ ও স্কোয়াশ। পলিথিন ওঠানো–নামানো করে পলিহাউসে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।

২০ বছর ধরে ফুলের চাষ করছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি ১৬ বিঘা জমিতে পালাক্রমে সারা বছর ফুল ও সবজির চাষ করছেন। তিনি বলেন, সৌরচালিত পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগারের কারণে কোনো সেচ খরচ নেই। পলিথিন ওঠানো–নামানো করে পলিহাউসের তাপমাত্রা এবং ফসেট দিয়ে পানির ফোঁটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই। কীটনাশক লাগে না। এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজি চাষ লাভজনক।

ফুলচাষি আবদুল হক ঢালী বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে ঝাও এবং পাতাবাহারের চারা তৈরি করছি। বিনা মূল্যে আর্সেনিকমুক্ত পানি পাচ্ছি। এতে খুব সুবিধা হচ্ছে।’

ফুলচাষি আবদুল হামিদ গাজী বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা এবং গ্লডিওলাস ফুলের চাষ করছি। এই পদ্ধতিতে কোনো সেচ খরচ নেই। গাছে প্রয়োজনীয় পানি দেওয়া যায়। ফলনও খুব ভালো।’

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, এই কর্মসূচিতে চাষি উপকৃত হচ্ছেন। ফুল ও সবজি চাষে খরচ এবং ঝুঁকি কমছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও কর্মসূচি পরিচালক মো. মাহাবুব আলম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ জন চাষি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে গদখালী এলাকার আরও ৪২০ জন ফুল ও সবজিচাষি এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজির চাষ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

আগাম শিমে লাভবান নওগাঁর চাষিরা

নওগাঁর বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম নতুন শিম। আগাম জাতের শিমের ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন এ জেলার কৃষকরা। শিমের আবাদ কৃষকদের কাছে ভাদ্রা শিম (ভাদ্র মাসের শিম) নামে পরিচিত। কৃষকরা জানিয়েছেন, শিমের পোকা দমন করতে গিয়ে লাভের একটি অংশ চলে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় ৩শ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। আগাম জাতের শিমের মধ্যে কার্তিকা, কাজলা ও চালতা নামে পরিচিত।

সবুজ পাতার মধ্যে লকলক করছে শিমের শীষ। শীষে ধরে আছে বেগুনি ও হালকা সাদা ফুল। কিছু কিছু শীষে উঁকি দিচ্ছে তরতাজা শিম। আগাম জাতের শিমের আবাদের জন্য জ্যৈষ্ঠ মাসে জমি প্রস্তুত করে রোপণ করতে হয়।

সদর উপজেলা বর্ষাইল ইউনিয়নের ঝিকরা গ্রামের চাষি আজিজার মন্ডল বলেন, তিনি ৮ কাঠা জমিতে ভাদ্র্রা শিমের আবাদ করেছেন। এ পরিমাণ জমিতে শিমের আবাদ করতে তার বাঁশ ৪ হাজার, নিড়ানি খরচ এক হাজার, ওষুধ ৮০০ টাকাসহ প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগাম জাতের শিম পেতে জ্যৈষ্ঠ মাসে লাগানো হয়েছে। ভাদ্র থেকে মাঘ পর্যন্ত শিম উঠানো হবে। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে শিম উঠানো শুরু করবো। প্রথম দিকে সাড়ে তিন থেক চার হাজার টাকায় শিমের মণ বিক্রি হয়। যখন শিম ওঠা শুরু হয় তখন দাম একটু কম হয়। তারপরও সর্বনিম্ন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ বিক্রি হয়। প্রতি সপ্তাহে এক মণ করে শিম উঠবে। সে হিসাবে মাসে চার মণ। দাম পাওয়া যাবে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

কেশবপুর গ্রামের চাষি সিরাজ বলেন, গত চারদিন আগে ক্ষেত থেকে পাঁচ কেজি শিম তুলেছি। পাইকারি বিক্রি করেছি ১০০ টাকা কেজি দরে। বাজারে শিমের পরিমাণ কম হওয়ায় দামও তুলনামূলক বেশি। ভালো দামের আশায় আগাম জাতের শিমের আবাদ করা হয়।

ঝিকড়া গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন ও আবুল কাশেমসহ কয়েকজন বলেন, তারা আগাম জাতের লাল শিমের আবাদ করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শিম ওঠা শুরু হবে। এবার ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে শিম গাছ পচে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তারপরও আশা করছেন ভালো দাম পাবেন।

নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বর্ষাইল, তীর্ত্তিপুর ও বক্তারপুর ইউনিয়নে প্রচুর সবজির আবাদ হয়। ধানের পরিবর্তে তারা বেশি লাভের আশায় সবজির আবাদ করেন। আগাম শিমের আবাদ করায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। তবে বন্যাকবলিত যেসব এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে সেসব এলাকায় সবজির বীজের প্রণোদনা দেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com