আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

জেনে নিন আলু চাষের সহজ পদ্ধতি

জেনে নিন আলু চাষের সহজ পদ্ধতি

আলু এক অত্যন্ত সহজলভ্য সবজি | পশ্চিমবঙ্গের অর্থকরী ফসলও (Cash Crop farming) বটে | প্রতি বছর এ দেশে আলুর উৎপাদন যে পরিমাণে হিমাগারে রাখা যায় তার চেয়েও বেশি। তার পরও খাদ্য হিসেবে আলুর ব্যবহার দিন দিন এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, বাজারে আলুর দাম কখনোই আর কম থাকছে না। সে জন্য প্রতি বছরই আলুর মৌসুম শুরুর আগে শুধু কৃষকরাই নয়, যারা কৃষি কাজের সাথে জড়িত নন এমন অনেকেই আলু চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ আলু চাষে স্বল্প সময়ে লাভ বেশি। অনেক সময় কৃষকবন্ধুরা আলু চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাই আলু  চাষের বিশেষ কিছু তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন,

জমি নির্বাচন(Land):

বেলে বা বেলে দো-আঁশ মাটিতে আলু ভালো হয়। সূর্যের আলো প্রচুর পড়ে এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি আলু চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত। জমিতে জল সেচ দেওয়া ও জল নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্খা থাকাও প্রয়োজন। এ জন্য জমি সমতল করতে হয়।

জমি তৈরী:

আলু মাটির নিচের ফসল, তাই জমি গভীর চাষ দিতে হয়। জমি চাষ দেওয়ার পর ৭ থেকে ১৫ দিন রোদে ফেলে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে মাটির নিচে থাকা বিভিন্ন পোকা, পোকার কিড়া ও পুত্তলী এবং রোগজীবাণু রোদের আলো ও তাপের সংস্পর্শে এসে নষ্ট হয়। আড়াআড়ি চাষ দিয়ে মাটি এমনভাবে  ঝুরঝুরে করতে হয় যেন মাটির মধ্যে বাতাস চলাচল ভালোভাবে করতে পারে, যাতে আলুর টিউবার গঠন কাজটি সহজ হয়। চাষের শেষে জমির সব আগাছা ও আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে দূরে কোথাও পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হয়।

মাটি শোধন:

মাটি শোধন করে নিলে আলুর ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধ করা যায়। আগের বছর ঢলে পড়া রোগ হয়নি বা রোগ হয়েছে এমন যেকোনো জমিতেই মাটি শোধন করে নিতে হয়। শেষ চাষের আগে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে চাষ দিয়ে সেচ দিতে হয়। ব্লিচিং পাউডার জমির মাটির সাথে মেশানোর পর জমিতে অবশ্যই জো অবস্খা থাকতে হয়। এভাবে ২৮ থেকে ৩০ দিন জমি ফেলে রাখতে হয়। এতে জমির মাটি শোধন হয় অর্থাৎ মাটির বিশেষ বিশেষ রোগ জীবাণু ধ্বংস হয় বা তাদের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

চাষের সময়:

আলু রোপণের উপযুক্ত সময় হলো নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শেষ পর্যন্ত। ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আলুবীজ রোপণ করা যায়, তবে ফলনও আনুপাতিক হারে কমে যায়।

বীজ ব্যবস্থাপনা:

হিমাগারে সংরক্ষিত অনুমোদিত জাত যেমন- কার্ডিনাল, ডায়মন্ড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি শতকে ৬-৮ কেজি বীজের দরকার হবে। ২৫-৩০ গ্রাম ওজনের ছোট আলু বা বড় আলুর কমপক্ষে দুই চোখ বিশিষ্ট কাটা অংশই আলুর বীজের জন্য ভাল। কাটা অংশে ছাই লাগিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। রোপণের আগে এসব বীজ অনুমোদিত ছত্রাকনাশক (যেমন-ব্যাভিস্টিন বা ডাইথেন এম-৪৫) দিয়ে শোধন করে নেয়া ভাল। ২০ ইঞ্চি দূরে সারি করে ১০ ইঞ্চি দূরে প্রতিটি বীজ আঙুলের চাপ দিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। যদি মাটি কিছুটা শক্ত হয় তবে হাত লাঙল টেনে ১০ সেঃ মিঃ গভীর করে নালায় বসিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

আলু চাষে একর প্রতি ইউরিয়া ১১২ কেজি, টিএসপি ৭৫ কেজি, এমওপি ১১২ কেজি, জিপসাম ৪০ কেজি, জিংক সালফেট ৫ কেজি এবং বোরণ সার ৪ কেজি ব্যবহার করতে হয়। অর্ধেক ইউরিয়া, অর্ধেক এমওপি ও সম্পূর্ণ টিএসপি এক সাথে মিশিয়ে বীজ আলু বপনের পাশে সারের নালায় দিতে হয়। বাকি সার রোপণের ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। আর জিপসাম, জিংক সালফেট এবং বোরণ সার শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। যেসব অঞ্চলের মাটিতে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি আছে সেসব অঞ্চলে ম্যাগনেশিয়াম সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হয়।

সেচ:

আলু চাষে সেচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোপণের সময় জমির জো অবস্খা থাকতে হয় এবং রোপণের পর ১ থেকে ২টি গাছ যখন মাটির ওপরে উঠে আসে তখন প্রথমবার সার উপরি প্রয়োগের পর একটি হালকা সেচ দিতে হয়। এটি সাধারণত রোপণের ৭ দিনের মধ্যে দিতে হয়। এবপর মাটির প্রকার ও প্রয়োজন অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ বার সেচ দিতে হয়। তবে টিউবার গঠনের শুরুর সময় অর্থাৎ ৪০ থেকে ৪৫ দিনের সময় মাটিতে রস না থাকলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বা ফলন কমে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফুল

জেনে নিন সহজ উপায়ে জুঁই ফুলের চাষ পদ্ধতি

খুব সহজেই স্বল্প পরিশ্রমে সুগন্ধি জুঁই ফুলের চাষ সম্ভব | জুঁই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুল | এই ফুলের অনেকগুলো প্রজাতি পাওয়া যায় ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে | এই গাছগুলির উচ্চতা ১০-১৫ ফুট পর্যন্ত হয় | এর পাতা চিরসবুজ যা কিনা আড়াই ইঞ্চি লম্বা, সবুজ ও সরু কান্ডযুক্ত এবং এটি সাদা বর্ণের ফুল ধারণ করে। ফুলগুলি মূলত মার্চ থেকে জুন মাসে ফোটে। এটি মূলত মালা তৈরির জন্য, ফুল সজ্জায় এবং উপাসনার ডালা সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর দৃঢ় এবং সুগন্ধযুক্ত সুবাসের কারণে এটি আতর তৈরিতে এবং সাবান, ক্রিম, তেল, শ্যাম্পু এবং ওয়াশিং ডিটারজেন্টগুলিতে সুগন্ধ যোগ করতে ব্যবহৃত হয়। সারাবছর এই ফুলের চাহিদা থাকায় এই ফুল বেচে প্রচুর লক্ষ্মীলাভও হয় কৃষকদের৷

মাটি(Soil):

যেকোনও মাটিতে জুঁই গাছের চাষ করা সম্ভব৷ তবে কাঁকরযুক্ত মাটি না হওয়াই শ্রেয়৷ জল সুনিষ্কাশিত জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি থেকে শুরু করে বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালভাবে জন্মাতে পারে। তবে এটি ভাল ফলাফল দেয় যখন সমৃদ্ধ বেলে দোআঁশযুক্ত মাটিতে জল সুনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকে। সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য মাটিতে গোবর সার পর্যাপ্ত পরিমাণে মিশ্রিত করে নিতে হবে। গাছ লাগানোর জন্য, মাটির পিএইচ 6.5 এর বেশি হওয়া উচিত নয়।

জমি তৈরী:

ভাল চাষ উপযোগী করার জন্য প্রথমে চারা রোপণের জমিটিকে আগাছামুক্ত করতে হবে। ক্ষেতের আগাছা মুক্ত করার জন্য এক-দু’টি প্রাথমিক চাষ প্রয়োজন। লাঙল করার পরে গর্তগুলি রোপণের এক মাস আগে ৩০ ঘনসেমি আকারে প্রস্তুত করা হয় এবং সূর্যের আলোর নিচে রেখে দিতে হবে। জমি তৈরির সময় ১০ কেজি গোবর সার মাটির সাথে মিশ্রিত করতে হয়।

বপণের সময়(Time of planting):

সাধারণত, জুন থেকে নভেম্বর মাসে বপণ করা হয় | বিভিন্ন ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়। সাধারণত গড়ে ১.৮*১.৮ মিটার ব্যবধান প্রয়োজন।

সার প্রয়োগ:

জমি তৈরির সময়, নাইট্রোজেন ৬০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ, পটাশিয়াম ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ এবং ফসফরাস ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ আকারে সারের মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হবে । এই স্যারের মিশ্রণটি সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করতে হবে | প্রথম ভাগটি জানুয়ারী মাসে দিতে হবে এবং দ্বিতীয় ভাগটি জুলাই মাসে দিতে হবে। অতিরিক্ত জৈব সার হিসাবে, নিমের খোল, সরিষার খোল  ইত্যাদি দেওয়া খুবই ভাল। এদেরকে ১০০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদে দেওয়া হয়। ফুলের ফলন বাড়াতে জিঙ্ক ০.২৫% এবং ম্যাগনেসিয়াম ০.৫% হরে স্প্রে করতে হবে । লৌহের  ঘাটতি থেকে রক্ষা পেতে, মাসিক বিরতিতে ফেরাস সালফেটের বড়ি ৫ গ্রাম প্রতি লিটারে স্প্রে করতে হবে |

আগাছা দমন:

ফসলের ভাল বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য আগাছা দমন অতি প্রয়োজনীয়।  রোপণের ৩-৪ সপ্তাহ পরে প্রথম আগাছা তোলা উচিত এবং তারপরে প্রতি ২-৩ মাসে একবার করে আগাছা পরিষ্কার করা উচিত।

সেচ:

ফুলের যথাযথ বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য সময়ের ব্যবধানে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। গ্রীষ্ম কালে সেচ সপ্তাহে একবার করা হয়। ফুল আসার পরে, পরবর্তী সার দেওয়া এবং ছাঁটাই পর্যন্ত কোনও সেচের প্রয়োজন হয় না।

রোগবালাই ও দমন:

শিকড় পচা রোগ:

এই রোগের লক্ষণগুলি হল বাদামি বর্ণের ফুসকুড়ি পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায় এবং কখনও কখনও কান্ড এবং ফুলেও দেখা যেতে পারে।

প্রতিকার:

শিকড়ের পচা রোগ থেকে নিরাময় পেতে কপার oxychloride ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটারে মিশিয়ে মাটিতে  প্রয়োগ করতে হয় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

বর্ণিল চিংড়ি ফুল

লেখক

ফুলটি প্রায় দুই দশক আগে ঢাকায় একটি বাগানে দেখেছি। প্রকৃতিতে তখন শরতের আবহ। গাঢ়-গোলাপি রঙের ফুলগুলোর পাপড়ি দেখতে অনেকটা পাখির পালকের মতো। দূর থেকে বাগানবিলাসও মনে হতে পারে। বর্ণবৈচিত্র্য তৈরির জন্য অনেকেই ব্যক্তিগত সংগ্রহে রেখেছেন। শোভাবর্ধনের জন্য ধীরে ধীরে সংগ্রহের পরিমাণ আরও বাড়ছে। ফুলটি আমাদের দেশি না হলেও এরই মধ্যে পুষ্পপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। সেদিন ফুলটি বেশ চেনা মনে হলেও সঠিক শনাক্তের জন্য অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার শরণাপন্ন হয়েছিলাম। তিনি জানালেন, গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম  Justicia brandegeeana (Syn. Beloperone guttata).. প্রচলিত কোনো বাংলা নাম নেই।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বারিয়ামের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘এটি আলঙ্কারিক বৃক্ষ হিসেবেই অনেকে ঘরের বারান্দায় কিংবা একচিলতে বাগানে চাষ করছেন। এ গাছ আমাদের দেশে এসেছে অতি সম্প্রতি।’ এদের আদি আবাস মেক্সিকো, গুয়েতেমালা ও হন্ডুরাস। ইংরেজি নাম Maxican Shrimp Plant বা Shrimp Plant. অর্থ চিংড়ি গাছ। ফুলের গড়ন চিংড়ি মাছের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় সম্ভবত এমন নামকরণ। তবে আমরা চিংড়ি গাছ নামটি গ্রহণ করব কিনা তা বিষয়-বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করবেন। সারা পৃথিবীতে এদের অনেক আবাদিত জাত দেখা যায়। তাতে বর্ণবৈচিত্র্যও অঢেল।

গুল্ম শ্রেণির গাছ। শাখাগুলো ছড়ানো ধরনের। ৩০ থেকে ৯০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কাণ্ড কাষ্ঠল ও দাগবিশিষ্ট। পাতা ডিম্বাকৃতির, ২ থেকে ৫ সেমি হতে পারে। পত্রবৃন্ত আকস্মিকভাবে ক্রম সূক্ষ্ণ থেকে সরু, গাঢ় সবুজ রঙের, উভয় পিঠই রোমশ, শিরা ৬ থেকে ৭ জোড়া। মঞ্জরিপত্র ডিম্বাকৃতির, প্রায় দেড় সেমি সাদা রোমযুক্ত গোলাপি লাল রঙের। বৃত্যংশ ৫টি, ৬ মিমি লম্বা, নিম্নাংশে যুক্ত, হালকা সবুজাভ-সাদাটে। পুংকেশর ২টি, দেড় সেমি লম্বা, নলাকার ও সাদা, ভেতরের দিকে বিন্দুর মতো রক্তাভ বর্ণের, উপরে ২-খণ্ডিত, নিচে ৩-খণ্ডিত, ভেতর এবং বাইরের পিঠ রোমশ। এদের দলনল, পরাগধানীকোষ দুটি প্রশস্ত যোজনীর মাধ্যমে সংযুক্ত, একটির উচ্চতা অন্যটির চেয়ে বেশি। গর্ভদণ্ড প্রায় আড়াই সেমি লম্বা, অবিভক্ত ও হালকা রোমশ।

জন্মস্থানে ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি হলেও আমাদের দেশে বর্ষা থেকে হেমন্ত অবধি বিস্তৃত। এ ফুল পাখি ও প্রজাপতিকে আকৃষ্ট করে। অসংখ্য জাস্টিসিয়া প্রজাতির ফাইটোকেমিক্যাল উপাদানগুলোর ওপর গবেষণা করা হয়েছে, তাতে অ্যান্টিটিউমার, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিডায়াবেটিক উপাদান রয়েছে। বংশবৃদ্ধি কন্দ ও বীজে। সাধারণত টবেই চাষ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ফুলদানিতে ফুল দীর্ঘদিন তাজা রাখার কৌশল

ফুল দিয়ে ঘর সাজাতে কে না ভালোবাসে? আর তাইতো ফুলদানিতে ঠাঁই পায় নানা ধরনের ফুল। কিন্তু সেই ফুল কিনে আনার কয়েক ঘণ্টা পরই মিইয়ে যায়। জেনে নিন ফুলদানিতে ফুল দীর্ঘদিন তাজা রাখার কৌশল।

১. বাহারি গোলাপ ফুল দিয়ে ফুলদানি সাজাতে পছন্দ করেন? তাহলে অতি অবশ্যই খেয়াল রাখুন, গোলাপ ফুলের পুরো কাণ্ডটি যেন কোনওভাবেই পানির তলায় ডুবে না থাকে। গোলাপ ফুলের কাণ্ড বেশি ছোট করে কাটবেন না। তাহলে দীর্ঘ দিন তাজা থাকবে।

২) ফুল ভাল রাখতে মাঝেমাঝেই ফুলদানিতে রাখা ফুলের উপর পানি স্প্রে করুন। এতে ফুল দেখতে তাজা লাগবে। সহজে নষ্টও হবে না।

৩) ফুলদানিতে ফুল রাখার সময়ে যে পানি রাখেন, তাতে সামান্য পরিমাণ লবণ মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে ফুল ভাল থাকে।

৪) যে ফুলগুলো ফুলদানিতে রাখছেন, সেগুলোর সঙ্গে রাখা পাতাগুলোকে আগেই ছেঁটে ফেলে দিন। পাতা ছাড়া রাখলে ফুল বেশি ভাল থাকে।

৫) ফুলদানির পানি পাল্টানোর অভ্যাস নেই তো? ফুল কিন্তু এইকারণেও শুকিয়ে যেতে পারে। দুইদিন অন্তর ফুলদানির পানি পাল্টে ফেলুন।

৬) ফুল বাছার সময়ে বড় ফোটা ফুল না বেছে, কুঁড়ি বাছুন। তা বেশিদিন থাকবে। আলো-বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ফুলদানি রাখলে ফুল ভাল থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

সহজ উপায়ে যেভাবে বেলি ফুল চাষ করবেন

সুবাসের জন্য বেলি ফুলের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া, ফুলের মালায় সুগন্ধী ফুল হিসেবে বেলির বেশ কদর রয়েছে। শুধু সৌন্দর্য বর্ধনই নয়, এটি বর্তমানে একটি অর্থকরী ফুল হিসেবে বিবেচিত। এটি এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন নার্সারিতে।

আমাদের দেশে তিন জাতের বেলি ফুল দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে সিঙ্গেল ও অধিক গন্ধযুক্ত, মাঝারি আকার ও ডবল এবং বৃহদাকার ডবল ধরনের।

বেলি ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়। জমি চাষ ও সার প্রয়োগ বেলে মাটি ও ভারী এঁটেল মাটি ছাড়া সব ধরনের মাটিতে বেলি ফুল চাষ করা যায়। জমিতে পানি সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকা ভালো।

জমি চার-পাঁচবার চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরা সমান করতে হবে। জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট এবং এমপি প্রয়োগ করতে হবে। প্রায় ১ মিটার অন্তর চারা রোপণ করতে হবে। চারা লাগানোর পর ইউরিয়া প্রয়োগ করে পানি সেচ দিতে হবে।

গ্রীষ্মের শেষ হতে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলি ফুলের কলম বা চারা তৈরি করা যায়। চারা থেকে চারা ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেন্টিমিটার হতে হবে। চারা লাগানোর জন্য গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটির রোদ খাইয়ে, জৈব সার ও কাঠের ছাই গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। এরপর প্রতি গর্তে বেলির কলম বসাতে হবে। বর্ষায় বা বর্ষার শেষ দিকে কলম বসানোই ভালো। তবে সেচের ব্যবস্থা ভালো হলে বসন্তকালেও কলম তৈরি করা যায়।

জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার পরিমাণ মতো মিশিয়ে টবে বেলি ফুলের চাষ করা যায়। টব ঘরের বারান্দা বা ঘরের ছাদে রেখে দেওয়া যায়।

যেভাবে বেলি ফুলের গাছের পরিচর্যা করবেন
বেলি ফুলের চাষে জমিতে সব সময় রস থাকা দরকার। গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পরপর শীতকালে ১৫-২০ দিন পর পর ও বর্ষাকালে বৃষ্টি সময়মতো না হলে জমির অবস্থা বুঝে দু-একটি সেচ দেওয়া দরকার।

বেলি ফুলের বাগানে আগাছা দমনের দিকেও নজর দিতে হবে। জমি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। খড় কেটে কুচি করে জমিতে বিছিয়ে রাখলে সেচের প্রয়োজন কম হয় এবং আগাছাও বেশি জন্মাতে পারে না।

অন্যদিকে প্রতি বছরই বেলি ফুলের গাছের ডালপালা ছাঁটাই করা দরকার। শীতের মাঝামাঝি ডাল ছাঁটাই করতে হবে। মাটির উপরের স্তর থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উপরে বেলি ফুলের গাছ ছাঁটাই করতে হবে। অঙ্গ ছাঁটাইয়ের কয়েক দিন পর জমিতে বা টবে সার প্রয়োগ করতে হবে।

রোগবালাই দূর করবেন যেভাবে

বেলি ফুল গাছে ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গ তেমন দেখা যায় না। মাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে, আক্রান্ত পাতাগুলো কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাঁকিয়ে যায়।

গন্ধক গুঁড়া বা গন্ধকঘটিত মাকড়নাশক ওষুধ যেমন- সালট্যাফ, কেলথেন পাতায় ছিটিয়ে মাকড় দমন করা যায়। বেলি ফুলের পাতায় হলদে বর্ণের ছিটে ছিটে দাগযুক্ত এক প্রকার ছত্রাক রোগ দেখা যায়। এগ্রোসান বা ট্রেসেল-২ প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায়।

ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গাছে ফুল ফোটে। সাধারণত ৫-৬ বছর পর গাছ কেটে ফেলে নতুন চারা লাগানো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

অপূর্ব বুনো শিম

ছেলেবেলায় গ্রামবাংলায় পথে-মাঠে ফুটে থাকা শিম ফুলের থোকা এবং এর মিষ্টি রং দারুণ মোহিত করত। শিমলতায় ফুল ফুটলে ফুলের থোকায় আনাগোনা করত পিঁপড়ার দল। তা ছাড়া মৌমাছি, ভ্রমর, দুর্গাটুনটুনি শিম ফুলের থোকায় মধু নিতে উড়ে আসত। শিম ফুল বা ফল পাড়তে গিয়ে পিঁপড়ার কামড় খাওয়ার অভিজ্ঞতাটা হয়তো অনেকেরই আছে। দুরন্ত ছেলেবেলায় কয়েকটি শিম ফুলের থোকা হাতে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ফুলের নানান অংশ ছিঁড়ে দেখতে ভালো লাগত। ফুলের মিষ্টি রং এবং গঠন এ কাজ করতে উৎসাহ দিত।

শরতের কোনো এক দুপুরে সাগরপাড় ধরে হেঁটে চলেছি। ঝকঝকে নীল আকাশ।কিছু দূরের সাগরের জলও নীল। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে পথ হাঁটার ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। বঙ্গোপসাগরের তীরের গাছপালা ও পাখি দেখার জন্য টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে হাঁটা শুরু। পুরো কক্সবাজার জেলার উপকূলেই প্রায় এক সপ্তাহ পথ চলতে হবে। সেই পথে দেখা হয়েছিল প্রকৃতির নানান অনুষঙ্গের সঙ্গে। সাগরের ঢেউয়ের আবেদন, উপকূলের ঘাসবন, ঝোপঝাড়, মহিষের পাল, শঙ্খচিলের ডাক এবং অজানা কিছু ফুলের রঙের সঙ্গে। যাদের সঙ্গে আগে কখনোই দেখা হয়নি! তবে তারা কলমি, ঝুমকো এবং শিম ফুল গোত্রীয় সদস্য।

টেকনাফ থেকে হিমছড়ি সৈকতে আসার পথেই সাগরতীরে দেখা হয় মিষ্টি গোলাপি রঙের এক ফুলের সঙ্গে। কী অপূর্ব তার রং এবং সৌন্দর্য। সে ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Canavalia rosea। ফুলের রঙের সঙ্গে মিল রেখেই ল্যাটিন নামের শেষে রোসিয়া জুটেছে। ইংরেজি নাম বিচ-বিন, বে বিন, সি-সাইড জ্যাকবিন ও কোস্টাল জ্যাকবিন। সাগরের বেলাভূমিতে জন্মে যে কারণেই এ নাম। ফলের বীজ ভেসে থাকার উপযোগী, সমুদ্রস্রোতের মাধ্যমে বীজ নানা প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। যে কারণে এটি ছড়িয়ে পড়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায়। বাংলাদেশে এটির উপস্থিতি ঠিক কখন বলা মুশকিল। কেবল দেশের কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকত এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপেই আমি দেখেছি। উপকূলের অন্যান্য জেলায় চোখে পড়েনি।বিজ্ঞাপন

বিচ বিন একটি প্যানট্রপিক্যাল প্রজাতি। উদ্ভিদ বীরুৎ এবং ভূমির ওপর লতা ছেয়ে যায়। পাতা যৌগিক এবং তিনটি পত্রকে সন্নিবেশিত। এটি অত্যন্ত লবণ সহনশীল একটি ধাবমান বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। উত্তর এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বেলেময় ও পাথুরে সমুদ্রতীরই এদের আদর্শ বাসস্থান। কোনো স্থানীয় নাম জানা যায়নি। তবে এটাকে বুনো শিম বলা যেতে পারে।

বিচ বিন ভূমিক্ষয় রোধের জন্য উপকারী। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে গবেষণা করা যায়। পাতা, ফুল ও বীজের ভেষজ গুণ রয়েছে। বীজ আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিম আফ্রিকা এবং নাইজেরিয়ার অধিবাসীরা। প্রজাতিটির সঙ্গে কিছু ব্যাকটেরিয়ার মিথোজীবী সম্পর্ক রয়েছে। এসব ব্যাকটেরিয়া শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়, যা ভূমিতে বায়বীয় নাইট্রোজেন আত্তীকরণে কাজ করে ভূমির উর্বরতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে লতাটির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং কাছে জন্মানো উদ্ভিদেরও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কচি শিম সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। কোথাও ফুলের পাপড়িও খাওয়ার চল রয়েছে। শুকনো পাতা চাটনির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com