আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

জীবন রাঙাতে রঙিন মাছ চাষ

জীবন রাঙাতে রঙিন মাছ চাষ
জীবন রাঙাতে রঙিন মাছ চাষ: শিহাব উদ্দিনের মাছের খামার

পানিতে ভাসছে, ডুব দিচ্ছে নানা রঙের মাছ। লাল, নীল, কমলা, কালো, বাদামি, হলুদ রঙের মাছের ছড়াছড়ি। গোল্ড ফিশ, কমেট, কই কার্ভ, ওরেন্টা গোল্ড, সিল্কি কই, মলি, গাপটি, অ্যাঞ্জেল প্রভৃতি বর্ণিল মাছ দেখলে চোখ জুড়ায়, মন ভরে যায়। বাসাবাড়ির অ্যাকুরিয়ামে শোভা পেয়ে থাকে এই মাছ।

এসব মাছের চাষ করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তা শিহাব উদ্দিন। রঙিন মাছের চাষ তাঁর জীবনকে রাঙিয়ে দেবে বলে আশাবাদী শিহাব। এই মাছের চাষের মাধ্যমে তিনি নিজের পাশাপাশি ভাইবোনেরপড়ালেখার খরচ জোগাচ্ছেন। ফলে দরিদ্র বাবাকে আর কষ্ট করে সন্তানদের পড়ার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে না।

শিহাবের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের হাসানহাটি গ্রামে। তিনি যশোর এম এম কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বোন ফারজানা ইয়াসমিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। আর ছোট ভাই ফরহাদ উদ্দিন নবম শ্রেণির ছাত্র।

শিহাব জানান, ২০১৮ সালের শুরুতে বাড়ির আঙিনায় একটি পরিত্যক্ত জমিতে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলেন অরনামেন্টাল ফিশ ফার্ম। পোনা কেনা, খাবার দেওয়াসহ নানা কাজে তাঁর খরচ হয়েছিল ৩৪ হাজার টাকা। বছর ঘুরতেই মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় এক লাখ টাকার। এ বছর মা মাছ ছেড়েছেন পুকুরে। বাচ্চা তৈরি করবেন। ব্যবসা আরেকটু সম্প্রসারিত করবেন। তিনি জানান, অ্যাকুরিয়ামের দোকানে রঙিন মাছ দেখে ভালো লাগে তাঁর। কৌতূহলী হয়ে মাছের দাম জানতে চান। জানতে পারেন মাছগুলো বেশ দামি। দোকানি জানান, রঙিন মাছগুলো বিদেশ থেকে আনা হয়। বর্তমানে দেশেও এই মাছের চাষ হচ্ছে। সেখান থেকেই রঙিন মাছ চাষের পরিকল্পনা মাথায় আসে।

বছরের শুরুতে গর্ত খুঁড়ে পলিথিন বিছিয়ে একটি চৌবাচ্চা তৈরি করে অল্প কয়েকটি রঙিন মাছ ছাড়েন শিহাব। দুই মাসের মধ্যে মাছগুলো বেশ বড় হয়ে যায়। রঙিন মাছগুলো বড় হওয়ার পর তাঁর উৎসাহ বেড়ে যায়। তখন আরও মা মাছ সংগ্রহ করেন সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে। বিভিন্ন প্রজাতির ১৬০টি মাছ নিয়ে আসেন। এই মাছ বড় করতে তাঁকে আরও পাঁচটি চৌবাচ্চা তৈরি করতে হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ছয়টি চৌবাচ্চায় রেণু ছাড়া হয়। অধিকাংশ চৌবাচ্চা ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের। এরপর মাছগুলো বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে ডিম দেয়। ডিম থেকে রেণু–পোনা উৎপাদিত হয়, যা বাজারে বিক্রি করেন। যাঁরা অ্যাকুরিয়াম ব্যবসা করেন, তাঁরা এখন তাঁর থেকে এই মাছ কেনেন।

শিহাব বলেন, চলতিমাসের শুরুতেতিনি ছয়টি চৌবাচ্চার পাশাপাশি আরও একটি পুকুরে এই মাছের চাষ করছেন। যেখানে তিনি দেড় হাজার মা মাছ আর দেড় শ পুরুষ মাছ ছেড়েছেন। তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এগুলো বড় হবে। তখন চৌবাচ্চায় দিয়ে ডিম ফোটাবেন। তারপর রেণু বিক্রি করবেন। আশা করছেন, এবার কয়েক লাখ টাকার রঙিন মাছ বিক্রি করতে পারবেন।

বর্তমানে খামারে গোল্ড ফিশ, কমেট, কই কার্ভ, ওরেন্টা গোল্ড, সিল্কি কই, মলি, গাপটি, প্লাটিসহ ১৬ প্রজাতির মা মাছ রয়েছে। একটি মাছ বছরে প্রায় ৩ হাজার রেণু–পোনা দেবে। ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি বড় হলে এই মাছ বিক্রি করা যাবে। শিহাব বলেন, ‘শুরুতে এলাকার মানুষ এই চাষ দেখে হাসাহাসি করতেন। সবাই মনে করতেন এটা আমার খেয়ালিপনা। কিন্তু হাল ছাড়িনি। এখন এলাকার মানুষ ছাড়াও মৎস্য কর্মকর্তারা তাঁর এই মাছ দেখতে আসছেন। অনেকে খামার দেখতে এসে মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’

ঝিনাইদহ থেকে বদলি হয়ে যাওয়া মেহেরপুর সদরের জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) রবিউল ইসলাম এই উদ্যোগকে ভালো উল্লেখ করে প্রথম আলোকে বলেন, এর চাষপ্রণালি অন্য মাছের মতো। শুধু আলাদা কিছু খাবার দিতে হয়। তবে রবিউল ইসলাম এ মাছের বাজার সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, অনেকে এই মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ কম। কারণ, ঘরের শোভা বাড়ানো ছাড়া এসব মাছের তেমন কোনো উপযোগিতা নেই। ফলে বাজারও খুব বেশি বড় নয়।

একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিহাবকে এই মাছ চাষে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন। সরকারিভাবে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয় বলে জানান শিহাব উদ্দিন। সব ঠিকঠাক থাকলে এই খামারই জীবনকে বদলে দেবে এমনটি আশা তাঁর।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শিহাবের রঙিন মাছের চাষ দেখেছেন। ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তাঁর ভালো লেগেছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের আবহাওয়ায় এই মাছ চাষ সম্ভব। শিহাবকে পরামর্শ, ঋণসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

মৎস্য

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন
কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

কৈ মাছ একটি সুস্বাদু মাছ। সবারই খেতে ভালো লাগে মাছটি। বাসায় মেহমান এলে আপ্যায়নের তালিকায় কৈ মাছ থাকা চাই। তাই এ মাছের কদরও বেশি। আর সে কারণেই কৈ মাছের যত্ন নিতে হয়। জানতে হয় এর রোগ-বালাই এবং প্রতিকার সম্পর্কে।

রোগ-বালাই
কৈ মাছের ক্ষতরোগ ছাড়া আর কোনো রোগ দেখা যায় না। সাধারণত নমুনায়ন পরীক্ষার সময় পুকুরে ছাড়া মাছগুলোই পরবর্তীতে ক্ষতরোগে আক্রান্ত হয়। যা পরবর্তীতে ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। এ ছাড়া ঘন ঘন জাল টানলেও এ রোগ দেখা দিতে পারে।

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন
কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

প্রতিকার
কৈ মাছের ক্ষতরোগ খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিতে হয়। এ রোগের জন্য শতাংশপ্রতি ১ কেজি লবণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এভাবে এক সপ্তাহ পর আরেকবার একই হারে প্রয়োগ করতে হবে।

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন
কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

পরিচর্যা
থাই কৈ সাধারণত শীতকালে ক্ষতরোগে আক্রান্ত হয়। তাই শীতকাল আসার আগেই মাছ বাজারজাত করতে হবে। তবে ভালো ব্যবস্থা নিলে শীতকালেও মাছ মজুদ রাখা যায়।

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন
কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

পদ্ধতি
• সপ্তাহে অন্তত একদিন পানি পরিবর্তন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ২ ফুট পানি কমিয়ে নতুন পানি দিতে হবে।
• প্রতি ১৫ দিন পর পর শতাংশপ্রতি এক কেজি লবণ পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
• মাছের ঘনত্ব প্রতি শতাংশে ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে আনতে হবে।
• শীতকালে অবশ্যই ভাসমান খাবার প্রয়োগ করতে হবে। খাবারের অপচয় থেকেও রোগ-বালাই হতে পারে।
• ১৫ দিন পর পর মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
• মাছের গায়ে কোনো রোগের লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে বাজারজাত করতে হবে। রোগ থাকলে মূল্য নেই।
• বাজারজাত ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ব্যাপকহারে জাল টানা যাবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছকে আমরা ‘রাক্ষুসে মাছ’ বলে থাকি। শোল মাছ বাজারের দামি মাছ। এই মাছ দামি হলেও চাষে খরচ খুবই কম। শোল মাছ সব ধরনের দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। মা শোল মাছই নিজেদের মতো করে ডিম নার্সিং ও পোনা লালন করে।

পোনা মজুত
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে। বৈশাখ মাস শোল মাছের প্রজনন মৌসুম। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে শোল মাছ বাচ্চা দিতে শুরু করে। বাচ্চাগুলো এক ঝাঁকে থাকে। সেই সময় হাওর-বাঁওড়, পুকুর থেকে সপ্তাহখানেক বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। পোনা পাওয়া না গেলে বড় শোল মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। এককভাবে প্রতি শতাংশে ১০টি দেয়া যেতে পারে। মিশ্র পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রতি শতাংশে ৪টি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক শোল মাছ লম্বায় ২.৫-৩ ফুট হতে পারে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুর প্রস্তুতি
যেকোনো পুকুরেই শোল মাছ চাষ করা যায়। তবে তাকে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। যে পুকুরে শোল চাষ হবে সে পুকুরে কচুরিপানা অথবা কলমিলতা থাকলে ভালো হয়। কারণ শোল মাছ আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। তবে কচুরিপানায় যেন পুকুর ভরে না যায়। পুকুরের চারদিকে কমপক্ষে ৫ ফুট উচ্চতায় জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে। তা না হলে বর্ষাকালে শোল মাছ লাফিয়ে চলে যাবে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

খাদ্য
শোল মাছ সাধারণত খৈল বা কুড়া দিয়ে বানানো খাবার খায় না। ছোট মাছই এর প্রধান খাদ্য। পোনা মাছের প্রিয় খাদ্য শুঁটকির গুঁড়া। সেজন্য পোনা মাছকে খাবার হিসেবে চিংড়ি শুঁটকির গুঁড়া ভালোভাবে পিষে দিতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো প্রায় ২/৩ ইঞ্চি হবে। ২/৩ ইঞ্চি পোনা মজুদের পর খাদ্য হিসেবে কার্পজাতীয় মাছের ধানীপোনা দেয়া যেতে পারে; সঙ্গে ছোট ছোট ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি দেয়া যেতে পারে। আর বড় মাছের জন্য ছোট ছোট মাছ, তবে মরা টাটকা মাছ খেতে দিলে এরা খুব খায়।

মিশ্র চাষ
আমাদের দেশে শোল মাছের একক চাষের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এত কাঁচা মাছ, শুঁটকি, ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই মিশ্র মাছের সঙ্গে শোল মাছের চাষ করা যেতে পারে। ৬ মাসে একেকটি শোল মাছের ওজন ৭০০-১০০০ গ্রাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

রোগ
শীতকালে শোল মাছে ক্ষত রোগ দেখা দেয়। তাই ওই সময় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারেন।

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। না হলে আগামী কয়েক বছর দেশীয় মাছের চিহ্ন খুঁজে পাবে না জনগণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কার্প মাছের পোনার খোঁজ-খবর

কার্প মাছের পোনার খোঁজ-খবর
কার্প মাছের পোনার খোঁজ-খবর

ব্ল্যাক কার্প, বিকেট কার্প এবং মিরর কার্প মাছ চাষ করা সহজ। এ মাছগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। লাভজনকও বটে। এই তিন কার্পের খোঁজ-খবর জেনে নিন আজ।

ব্ল্যাক কার্প মাছ

ব্ল্যাক কার্প মাছ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১ বছরে ৫-৭ কেজি ওজন হয়। এই মাছের প্রধান খাবার ছোট ঝিনুক ও শামুক। এটি একটি শক্তিশালী মাছ। এপ্রিল-অক্টোবর মাস পর্যন্ত এ মাছের পোনা পাওয়া যায়। ৩-৪ ইঞ্চি পোনার দাম ১৫ টাকা এবং ৫-৬ ইঞ্চি পোনার দাম ২০ টাকা।

বিকেট কার্প মাছ

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

মাছের সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ১ কেজি পোনার দাম ২৫০-৩০০ টাকা। ২০০-২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিকেট কার্প মাছের পোনা জীবিত পরিবহন করা যায়। কার্প জাতীয় মাছের মধ্যে এ মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানি উপরের স্তরের মাছ বিকেট কাপ। এ মাছ সাধারণত পানির উপরের স্তরের খাবার খায়। এ মাছ মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করাই উত্তম ।

মিরর কার্প মাছ

বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য গুণগত মানের মিরর কার্প মাছের পোনা বিক্রি করা হয়। বড় পুকুর বা বিলে এই মাছ চাষ করলে মাত্র ৬ মাসে ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত বড় হয়। এ মাছ মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করা উত্তম। এ পোনা মাছ কেজি হিসেবে বিক্রি হয়। মাছের সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। ৩০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত জীবিত মাছের পোনা পানি ভর্তি ড্রামে ট্রাকে করে পরিবহন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

মাছে-ভাতে বাঙালি আমরা। ভাতের সঙ্গে মাছও আমাদের প্রধান খাদ্য। তাই মাছের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মাছ চাষ জরুরি। আর কার্প জাতীয় মাছের মধ্যে বিগহেড কার্প মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে এই মাছ চাষ করা প্রয়োজন। তবে এই মাছ মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করাই উত্তম।

নামকরণ
বিদেশি সিলভার কার্প মাছের মতো এই মাছের মাথা সম্ভবত বড় বলেই এর নাম বিগহেড কার্প।

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

বর্ণনা
চাপা রুপালি বর্ণের শরীর ছোট ছোট আঁশ দিয়ে ঢাকা। পৃষ্ঠদেশ ধূসর কালো। পৃষ্ঠদেশে কালো কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পাখনার বর্ণ গাঢ় লাল।

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

উৎস
এই মাছের আদি নিবাস চীন হলেও ১৯৮১ সালে প্রথম নেপাল থেকে এ দেশে আনা হয়। হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদন করা যায়। সাধারণত ৩-৪ বছরেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। প্লাবিত নদীতে স্রোত রয়েছে এমন স্থানে প্রজনন করে থাকে।

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

বসবাস
এরা জলাশয়ের স্বাদুপানির উপরিভাগে থাকতে পছন্দ করে। এদের খাবার উদ্ভিদকণা ও প্রাণিকণা। ছোট ছোট আর্থোপোডস খেয়ে থাকে।

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

দরদাম
মাছের সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ১ কেজি পোনার মূল্য ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিগহেড কার্প মাছের পোনা জীবিত পরিবহন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ

নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ
নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ

পাবদা মাছ বাংলাদেশের ছোট মাছের মধ্যে অন্যতম। মিঠাপানির এ মাছ নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। পাবদা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু মাছ। বর্তমানে পাবদা মাছ আমাদের দেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পাবদা মাছ রক্ষা করা সম্ভব। তাই নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ।

পুকুর নির্বাচন

এ মাছ চাষের জন্য ৭-৮ মাস পানি থাকে এমন ১৫-২০ শতাংশের পুকুর বা জলাশয় নির্বাচন করুন। তবে পুকুরটি বন্যামুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মাছ বাছাই

পাবদা মাছের পুরুষ ব্রুড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ মাছটি আকারে তুলনামূলকভাবে স্ত্রী মাছের চেয়ে ছোট। পুরুষ মাছের প্রজনন ঋতুতে পেট চাপা থাকে এবং পুরুষ মাছের বুকপাখনা খাঁজকাটা থাকে। স্ত্রী ব্রুড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রী মাছটি আকারে তুলনামূলকভাবে পুরুষ মাছ থেকে বড় হয়। স্ত্রী মাছের প্রজনন ঋতুতে পেট ফোলা ও নরম থাকে এবং স্ত্রী মাছের বুকপাখনা তেমন খাঁজকাটা থাকে না।

জেনে নিন পাবদা চাষে করণীয় কী
জেনে নিন পাবদা চাষে করণীয় কী

পুকুর প্রস্তুত

শুকনো মৌসুমে পুকুর থেকে জলজ আগাছা পরিষ্কার ও পাড় মেরামত করুন। তবে ছোট মাছ চাষের ক্ষেত্রে পুকুর শুকানো উচিত নয়। তাই বারবার ঘন ফাঁসের জাল টেনে রাক্ষুসে মাছ ও ক্ষতিকর প্রাণী অপসারণ করে নিন। এরপর প্রতিশতকে ১-২ কেজি পাথুরে চুন প্রয়োগ করুন। মাটির গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে চুনের মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। পোনা ছাড়ার আগে সার প্রয়োগ করুন, যাতে পুকুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মাতে পারে। এছাড়া প্রতিশতকে ৪-৬ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি প্রয়োগ করতে পারলে ভালো হয়। মনে রাখবেন, পানির রং সবুজ বা বাদামি-সবুজ হলে পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময়।

পোনা মজুদ

ভালো জাতের সুস্থ, সবল ও সঠিক পোনা সঠিক সংখ্যায় মজুদ করতে হবে। পুকুরে পোনা ছাড়ার আগে পরিবহনকৃত পোনা পুকুরের পানির তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এর জন্য ১০ লিটার পানি ও ১ চামচ পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট অথবা ১০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করতে হবে। এরপর তাতে ১-২ মিনিট গোসল করিয়ে পোনা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। শতাংশ প্রতি ৩-৪ গ্রাম ওজনের সুস্থ্য-সবল ২০০-২৫০টি পোনা মজুদ করা যেতে পারে।

নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ
নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ

খাদ্য ও সার

চুন প্রয়োগের ৩ দিন পর প্রতিশতাংশে ৭-৮ কেজি গোবর প্রয়োগ করতে হবে। সম্পূরক খাদ্য হিসেবে দেহ ওজনের ৫-১০ ভাগ হারে ২৫-৩০% আমিষ সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন ২ বার প্রয়োগ করতে হবে। প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য ১৫ দিন অন্তর ৪ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে।

মাছ আহরণ

পুকুরের মাছ ৭-৮ মাসের মধ্যে ৩০-৩৫ গ্রাম ওজনের হলে আহরণ করা যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com