আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

জীবন থেকে বাজার, পড়ছে প্রভাব

জীবন থেকে বাজার, পড়ছে প্রভাব
জীবন থেকে বাজার, পড়ছে প্রভাব: চলছে চাষের কাজ। কালনার বাঘনাপাড়ায়।

দিনে দিনে কমছে চাষের আয়। এই পরিস্থিতিতে জেলার নানা প্রান্তের চাষিরা জানান, দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ছে। চাষ-পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে জেলার সামাজিক ও গ্রামীণ অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রেও, দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

কালনা-বৈঁচি রোডে একটি চায়ের দোকানে বসে বৃদ্ধ চাষি মণিরুল শেখ জানান, একসময়ে ফসল বিক্রির টাকায় পাকা বাড়ি তুলেছেন। কেনা হয়েছে মোটরবাইকও। কিন্তু এখন চাষের খরচই উঠছে না। তাঁর দাবি, ‘‘পরিস্থিতি এমন যে, অনেকেই জমি বিক্রি করার কথাও ভাবছেন!’’ চাষের আয়ের প্রভাব পড়ায় নাতির ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের খরচ জোগাড় করতে নাভিশ্বাস উঠছে, জানান মেমারির চাষি হরেকৃষ্ণ ঘোষ। তাঁদের মতে, অতীতে চাষের আয়েই বদলে গিয়েছে জীবনযাত্রা। কিন্তু গত তিন বছরের পরিস্থিতি যেন সব কিছুকেই সংশয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে।

সংশয়ে গ্রামের নানা সমবায়গুলিও। চাষের সামগ্রীর পাশাপাশি চাষি ঋণও পান নানা সমবায় থেকে। অতীতে চাষ ভাল হওয়ায় সমবায়গুলির পরিকাঠামোর উন্নতি হয়েছে। মাঠে মাঠেও গভীর নলকূপ, গুদামঘর তৈরি হয়েছে। কিন্তু কালনার এক সমবায়ের কর্তা ‘শিয়রে সঙ্কট’ দেখছেন। তাঁর কথায়, ‘‘গত তিন বছরে পরিস্থিতি এমনই যে, চাষিদের একাংশ ঋণ শোধ করতে পারছেন না। সমবায়ের আয় কমছে। চাষেও নতুন পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে না।’’

এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন জেলার একশোর বেশি হিমঘর কর্তৃপক্ষও। তাঁরা জানান, টানা তিন বছর ধরে মজুত আলুর দাম তলানিতে ঠেকায় পুঁজিতে টান পড়ছে। তাঁদের দাবি, ‘‘মজুত আলুর উপরে অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু আলুর দর না মেলায় অনেকেই ঋণের টাকা মিটিয়ে আলু নিতে পারেননি। ওই আলু নিলামে বিক্রি করেও বকেয়া টাকা মেটেনি।’’ এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ব্যাঙ্ক-ঋণ বাড়ছে, দাবি বেশ কয়েকটি হিমঘর কর্তৃপক্ষের।

এখানেই শেষ নয়। চাষাবাদের করুণ পরিস্থিতির আঁচ পড়ছে নানা বাজারেও। শপিংমল থেকে শুরু করে জুতো, জামাকাপড়, মুদিখানা-সহ নানা ধরনের দোকানের ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘‘গত দু’-তিন বছরে নজরে পড়ার মতো ক্রেতা কমেছে।’’ সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তাঁতিরাও। সমুদ্রগড়, ধাত্রীগ্রাম, শ্রীরামপুর, পাটুলির মতো এলাকাগুলিতে ফি বছর পুজোর আগে কয়েক কোটি টাকার তাঁতের শাড়ির ব্যবসা হয়। পূর্বস্থলীর তাঁত ব্যবসায়ী অমিয় দেবনাথ বলেন, ‘‘পুজোর মাস তিনেক আগে থেকে তাঁতের শাড়ির ভাল চাহিদা থাকে। অনেক দোকানদার আগেভাগে নকশাও জানিয়ে দেন। এ বার তাঁতের শাড়ির চাহিদা কিন্তু বেশ কম।’’ কেন এই হাল? কালনার বস্ত্র-ব্যবসায়ী গোবিন্দ দেবনাথের দাবি, ‘‘চাষিদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা নেই। গত বছর শারদোৎসব, ইদ-সহ নানা উৎসবের সময়েও বাজারের পরিস্থিতি ভাল ছিল না। এ বার তো চার দিকে চাষের যা হাল তাতে পুজোয় বেশি মালপত্র আনব কি না, ভাবছি।’’ বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ীর আবার দাবি, দোকানে এসে গ্রামের কয়েক জন পুরনো ক্রেতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ধারে পুজোর জামাকাপড় বিক্রি করার জন্য আর্জি জানিয়েছেন!

এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সময়োপযোগী হতে হবে চাষিদের, পরামর্শ কৃষি বিশেষজ্ঞদের। জেলার এক সহ কৃষি আধিকারিক পার্থ ঘোষ বলেন, ‘‘খরচ কমাতে চাষিরা আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার করুন। মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করতে হবে। এমন জাতের ফসল চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে, যেটির ভাল বাজারদর রয়েছে। বাড়াতে হবে সরু ধানের চাষ। বাড়াতে হবে বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষের এলাকাও।’’ 

ফসল

জেনে নিন কিভাবে করবেন বিরল প্রজাতির কালো গম চাষ

বিরল প্রজাতির কালো গম
বিরল প্রজাতির কালো গম

কৃষিতে গবেষনা চলে নিরন্তর। সেই সাথে চলে নিত্য নতুন জাতের উদ্ভাবন। তেমনই একটি গমের জাতের কথা আজ জানবো। বাংলাদেশে কালো রংয়ের গমের চাষ এখন পর্যন্ত শুরু না হলেও ভারতের উত্তর প্রদেশের কৃষকরা ধুমায়ে চাষ করছেন কালো রংয়ের এই গম। সাধারনত কৃষকরা রবি মৌসুমে এই গম চাষ করেন। বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত কৃষ্ণ বর্ণের এই গমের চাষ কেবল কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করবে না, মানুষকে মারাত্মক রোগ থেকেও বাঁচাবে।

কালো গম চাষ
কালো গম চাষ

কালো গম দেখতে আসলে কেমন

কালো গম দেখতে আসলে কালোই হয়। তবে গম পিষে ময়দা বের করার পর রঙ কুচকুচে কালো না হলেও এই আটার রুটি দেখতে হয় গোলাপি বর্ণের। তবে কালো গমের আটার বিস্কুট বা ব্রেড বানালে সেটার রং পুরোই কালো হয়। আর গমের রং কালো হওয়ার জন্য যেটি কাজ করে তার নাম হলো এন্থোসায়ানিন। এন্থোসায়ানিন শুধু গম নয় অন্যান্য ফলের রংয়ের জন্য দায়ী।

কালো গম
কালো গম

কালো গমের উপকারিতা

বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ গমের চেয়ে কালো গম বেশি পুষ্টিকর। এই গম মানুষকে অনেক মারাত্মক রোগ যেমন, ক্যান্সার, সুগার, কোলেস্টরল, হৃদরোগ, স্ট্রেস রক্ষা করতে পারে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । এই প্রজাতির গমে উচ্চ প্রোটিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা আমাদের খাদ্যের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। তাই দিন দিন এই গমের চাহিদা বেড়েই চলছে। তাছাড়া কৃষকরা যদি কালো গম চাষ করেন, তবে এটি তার জন্য খুব উপকারী হবে। কারন এই গম একদিকে যেমন কৃষকরা ভাল দামে বিক্রি করতে পারবেন, অন্যদিকে তা স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভালো।

কালো গম
কালো গম

কালো গম চাষের সময়

এটি সাধারণত নভেম্বর মাসে বপন করা হয়। এই প্রজাতির সাধারণ উত্পাদন প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ কুইন্টাল হয়।

আপাতত এই গম শুধু ভারতেই পাওয়া যাচ্ছে এবং সেখানেই চাষ হচ্ছে। তবে হয়ত অদুর ভবিষ্যতে কালো গমের চাষ বাংলাদেশে শুরু হবে বলেও আমরা আশা রাখি।

কালো গম
কালো গম

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

কম খরচে এলাচ চাষ করে আয় করুন অধিক অর্থ

আমাদের রাজ্যে এলাচ খুব বেশি পরিমানে চাষ না হলেও দেশে এবং বিদেশে যেমন আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহা-সাগরীয় দীপপুঞ্জের শীতপ্রধান অঞ্চলে এটি প্রচুর জন্মায়। বড় এলাচের ৫০ প্রজাতির মধ্যে এই উপমহাদেশে বহু আগে থেকে বেশ কয়েকটি প্রজাতি ফলন হয়।ছোট ও বড় উভয় প্রকারের এলাচ উৎপাদনের জন্য দেশের পরিবেশ, জলবায়ু এবং আবহাওয়া উপযোগী।

এলাচের চাষের জমি (Soil preparation) – 

উর্বর মাটি এবং হালকা রোদ্র-ছায়া যুক্ত জায়গায় এলাচ গাছ ভালো জন্মায়। ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ছায়ার মধ্যে এলাচ গাছের ফলন ভালো হয়। এলাচ চাষের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো জমির প্রয়োজন হয় না।

অন্য গাছের ছায়ার নিচে অর্থাৎ মেহগনি, আকাশমনি বা এ জাতীয় বাগানের ভিতর (গাছের ছায়াযুক্ত স্থানে) অথবা বাড়ির আঙ্গিনা অথবা ফলদ বৃক্ষের বাগানে এলাচ চাষ করলে এলাচের ভালো ফলন হয়। অন্য ফসলের মাঠে এলাচ চাষ করলে ফলন ভালো পাওয়া যায় না।

চারা রোপনের হার – 

শতক প্রতি ১৪ টি এলাচের চারা লাগে অর্থাৎ বিঘা প্রতি ( ৩৩ শতকে ) ৪৬০ টি চারা রোপণ করা যায়।

চারা রোপণের দূরত্ব (Plantation) –

এলাচের চারা লাইনে রোপণের জন্য চারা থেকে চারার দুরত্ব হবে  ৪ হাত এবং লাইন থেকে লাইনের দুরত্ব হবে ৩.৫ ( সাড়ে তিন) হাত। এই রোপণ দূরত্ব অনুসারে এলাচের চারা রোপণ করা ভালো।

জমি তৈরি ও সার ব্যবস্থাপনা – 

এক বিঘা বা তার উপরে জমি তৈরি করতে হলে অবশ্যই মাটির ৩ ধরনের পরীক্ষা করে নিতে হবে । প্রতিটি জেলায় সরকারি মাটি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে মাটি পরীক্ষা করএ নিতে হবে। কৃষক পর্যায়ে মাটির প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ৩০ টাকা ফি দিতে হবে। সেই হিসাবে ৩ টি পরীক্ষায় মোট ৯০ টাকা খরচ হবে। (ক) মাটির পিএইচ (খ) মাটিতে বলি বা স্যান্ডের পরিমাণ  (গ) মাটিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ – এই ৩ টি তথ্য অবশ্যই জানতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক পরিমাণ মতো থাকলে এলাচ উৎপাদনে তেমন কোন খরচ হয় না। শুধু মাত্র প্রথম বছরে চারা কেনার খরচ হয়, তবে পরের বছরগুলোতে আর চারার টাকা লাগে না।  মাটিতে পিএইচ এর পরিমাণ ৬ এর বেশি হলে মাটির সাথে পরিমাণ মতো চুন মিশাতে হবে। যদি এটেল মাটি হয় এবং জমিতে বালির পরিমাণ কম থাকে তাহলে অতিরিক্ত বালি মেশাতে হবে। কিন্তু দোআঁশ মাটিতে কোন কিছু করতে হবে না। মাটিতে জৈব উপদানের পরিমাণ কম থাকলে পচা গোবর বা কেঁচো কম্পষ্ট সার অতিরিক্ত প্রয়োগ করতে হবে।

এছাড়াও জমি তৈরির সময় চাষের সঙ্গে টিএসপি, প্রতি শতকে মাটিতে ৫০০ গ্রাম, পটাশ প্রতি শতকে ৫০০ গ্রাম। দানাদার কীটনাশক যেমন (ফুরাডান বা কার্বফুরান) ১ বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ২ কেজি পরিমাণ প্রয়োগ করতে হবে। তারপর ১ দিন পর সেচ দিয়ে জমি ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। যেন জমির সাথে সারগুলো ভালোভাবে মিশে যেতে পারে। ভালো ফলন পেতে হলে এর ১৪ দিন পরে ২ ফিট চওড়া ও দেড়ফিট গভীর গর্ত করে গোবর সার বা জৈব সার প্রয়োগ করে সাথে দানাদার কীটনাশক ( প্রতি গর্তের গোবরের সাথে ২০০ গ্রাম ) অবশ্যই দিতে হবে।এছাড়াও চারা রোপণের ২০-২৫ দিনের মধ্যে একই হারে ইউরিয়া- পটাশ সার দিতে হবে। তবে পরবর্তীতে কেবল ডিএপি সার প্রযোজ্য।

এলাচ চাষে সতর্কতাঃ

  • চারা রোপণের পর জমিতে সেচ দিতে হবে। তবে জমিতে জল জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
  • অতিরিক্ত জল জমিতে জমে থাকলে ড্রেনের ব্যবস্থা করে পানি নিস্কাশন করতে হবে।
  • ঘন বর্ষায় চারা লাগানো যাবে না।
  • চারা রোপণের পর পর কার্বান্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক জলের সাথে পরিমাণমতো মিশিয়ে গাছের একেবারে গোড়ায় স্প্রে করতে হবে। গোল্ডাজিম এলাচ গাছের জন্য ভালো কাজ করে।

গাছ প্রতি ফলনঃ

এলাচের চারা রোপণের ২য় বৎসরে কিছু গাছে এলাচ ধরা শুরু করলেও রোপণের ৩য় বৎসর থেকে এলাচের গাছে ফলন দেওয়া শুরু হবে। প্রায় প্রতি ঝোপ থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম এমনকি ১ কেজির উপরে ফলন পাওয়া যাবে। ৩ বৎসর পরে ১ বিঘা বা ৩৩ শতক জমি থেকে ৯০০ থেকে ১০০০ কেজি বা ১ টন ফলন পাওয়া যাবে। সেই হিসাবে ১ বিঘা জমি থেকে বছরে ১০ লক্ষ টাকার এলাচ উৎপাদন করা সম্ভব।

পরিশেষে বলা যায়, এলাচের আমদানি নির্ভরতা কমাতে হলে নিজেদেরকে এলাচ চাষে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই অদূর ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আর এলাচ আমদানি করতে হবে না। দেশের মাটিতে উৎপাদিত এলাচ  খুব অল্প সময়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। সরকার যদি বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষে আগ্রহীদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন তবেই এলাচ চাষে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

শিখে নিন শিম বা বিন চাষের কৌশল

শিম জমিতে থাকা মানেই কৃষকদের পকেটে টাকার জোগান অব্যাহত থাকা। শিম খুবই পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় সব্জি | গ্রামবাংলার লোকেরা এই সব্জিটি খুবই পছন্দ করে থাকেন | কারণ শিম প্রোটিন সমৃদ্ধ সবজি। এর বিচিও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এটি জমি ছাড়াও রাস্তার ধারে, পথের আলে, ঘরের চালে, গাছেও ফলানো যায়। এ রাজ্যে মুর্শিদাবাদ জেলার চাষীরা সারাবছর শিম চাষ করছেন |

প্রতি বছর জেলাজুড়ে প্রায় দেড় থেকে দু হাজার হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়। ডোমকল মহকুমায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করা হয়। বাজারে বিভিন্ন প্রকার শিমের চাহিদা থাকায় এই চাষে কৃষকেরা এখন খুবই আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে, দেখে নিন শিম চাষের (Bean Cultivation) সহজ পদ্ধতি;

চাষের সময়(Farming Time):

শ্রাবণ-ভাদ্র মাস থেকে এই সবজির বীজ পুঁততে শুরু করেন কৃষকেরা। তবে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত বীজ লাগানো যায়। এজন্য জমিতে চাষ দিয়ে তৈরি রাখতে হয়। কোনও কোনও চাষি আবার শিমের বীজ পোঁতার আগে ওই জমিতে আলুর বীজ বপন করে নেন। অর্থাৎ আলু চাষের সাথে সাথী ফসল হিসাবে শিম চাষ বেশ লাভজনক | আলু বেড়িয়ে গেলে দুই আলের ফাঁকে ফাঁকে গোল করে শিমের বীজ পুঁতে থাকেন। এ ক্ষেত্রে বীজ থেকে গাছ বের হয়ে একটু বড় হতেই আলু তোলার সময় হয়ে যায়। আবার অনেকে শুধু মাত্র শিম চাষের জন্যই জমি তৈরি করে নেন। তাতে আগাম শিম পাওয়া যায়। বাজারে ভাল দামও পাওয়া যায়।

জাত:

শিমের মরসুম ভিত্তিক দু’ধরনের জাত রয়েছে। সেগুলি আবার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন পুসা আর্লি প্রলিফিক, পুসা শিম-২, জেডিএল-৩৭ ইত্যাদি। এগুলি বাহান বা মাচান পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। এছাড়া, কিছু জাত আছে যেমন আর্কা জয়, আর্কা বিজয়, ইত্যাদি। এগুলি বছরভরই চাষ করা যায়। এই সব জাতের শিমের গাছ ঝোপের আকারে হয়। তা থেকে ভাল ফলনও পাওয়া যায়।

বপন পদ্ধতি:

লতানো জাতের শিম বীজ বিঘা প্রতি তিন থেকে পাঁচ কিলোগ্রাম আর ঝোপালো জাতের জন্য ৫ থেকে ৭ কিলোগ্রাম পর্যন্ত বীজ লাগানো যেতে পারে। এগুলি নির্দিষ্ট দূরত্বে সারিবদ্ধভাবে লাগানো দরকার। লতানো জাতের গাছগুলি ৫ ফুট বাই ৩ ফুট দূরত্বে এবং ঝোপ বা বেঁটে জাতের জন্য কম দূরত্বে লাগানো দরকার। তার মাপ আড়াই ফুট বাই আড়াই ফুট দূরত্ব হলেই চলবে।

চাষ পদ্ধতি(Farming Process):

জমি তৈরির সময় প্রাথমিক সার হিসেবে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ কুইন্টাল গোবর সার এবং ৪০ থেকে ৫০ কিলোগ্রাম নিম খোলের সঙ্গে ২ কিলোগ্রাম অ্যাজোফস জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। বীজ লাগানোর আগে ১০:২৬:২৬ অনুপাতে ১২ থেকে ১৫ কিলোগ্রাম সার হিসেবে মাটিতে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। পরে গাছ বের হওয়ার পর ৩ সপ্তাহ বয়সে ও ৬ সপ্তাহ বয়সে চাপান সার হিসেবে ৫ কিলোগ্রাম ইউরিয়া, ৩ কিলোগ্রাম পটাশ সার জমিতে দিয়ে সেচ দিতে হবে। এর সঙ্গে অনুখাদ্য হিসেবে বোরোন, জিংক, মিক্সচার দেড় থেকে ২ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে গাছের পাতায় সরাসরি স্প্রে করে দেওযা যায়। প্রয়োজন মতো জল সেচ ও রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধও দেওয়া যেতে পারে। মাঝে মধ্যে প্রয়োজন বুঝে জমিতে হালকা জলসেচ দিতে হবে |

রোগবালাই দমন(Disease management system):

ছত্রাকঘটিত রোগ যেমন পাউডারি মাইল্ড, ফাইটোপথোরা পোড্রট-এর আক্রমণ বেশি দেখা যায়। এছাড়া, ছত্রাক জাতীয় হলদে দাগ লাগার আক্রমণের ফলে ফসলের ক্ষতি হয়। আর পোকার মধ্যে থাকে স্টেমফ্লাই, থ্রিপস এবং মাইটের আক্রমণ। যেগুলি সুসংহত প্রক্রিয়ায় রোগ পোকা দমনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এক্ষেত্রে ট্রাইকোডারমা ভিরিডি ৩ গ্রাম অথবা সাফ পাউডার ২ গ্রাম প্রতি লিটার জলে সঙ্গে আঠা মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। আবার পোকা দমনের জন্য নিম তেল ৩  মিলিলিটার প্রতি লিটার জলে গুলিয়ে স্প্রে করা যায়।

ফসল সংগ্রহ:

বীজ বোনার ৪৫ থেকে ৫০ দিন বাদে ফসল তোলা শুরু করা যেতে পারে। গাছে ফুল আসার পর ৭ থেকে ১২ দিনের মাথায় শিম সবুজ ফসল হিসেবে তোলা যায়। লতানো জাতের শিম বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ কুইন্টাল আর হাইব্রিড দশ বা ঝোপ ধরনের গাছে ৪০ থেকে ৪৫ কুইন্টাল পর্যন্ত শিম পাওয়া যায়। সময় মতো বাজার ধরতে পারলে কৃষকেরা এক এক বিঘা জমির উৎপাদিত শিম থেকে সমস্ত খরচ খরচা বাদ দিয়ে বীজ বোনার ৩ মাসের মধ্যেই ১৮ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বিনা খরচে ধানের ক্ষতিকারক পোকা দমন করুন

বোরো ধানের (Paddy Farming) ক্ষতিকারক পোকা দমনে জৈব বালাই দমন পদ্ধতি বা পার্চিং পদ্ধতি কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পরিবেশবান্ধব (Environment-friendly) এ পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কীটনাশক ছাড়াই পোকা দমনে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ।

ফসলের সর্বোচ্চ উচ্চতা থেকে কমপক্ষে এক ফুট উচ্চতায় পার্চিং করা উচিত। পার্চিং মানে ক্ষেতে ডালপালা পুঁতে দেওয়া। ফসলের জমিতে ডাল, কঞ্চি, বাঁশের খুঁটি এগুলো পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করলে পাখি ক্ষতিকারক পোকার মথ, বাচ্চা, ডিম খেয়ে পোকা দমন করে।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

মূলত ফিঙে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল, সাত ভায়রা এসব পাখি পার্চিংয়ে বসে পোকা ধরে খায়। ফসলের পোকা দমনের এ পদ্ধতি বলতে গেলে ব্যয়বিহীন ও পরিবেশবান্ধব। ফসলের ক্ষেতে ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং দুটিই করা যায়। মরা ডালপালা পুঁতে দিলে তা হবে ডেড পার্চিং। আর ধঞ্চে, অড়হর এসব জীবন্ত গাছ জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে লাগিয়ে দেওয়া হলো লাইভ পার্চিং। প্রতি বিঘাতে অন্তত ৪-৫ টি বাঁশের আগা, কঞ্চি বা ডাল পুঁততে হয়। ফসল রোপণের পরপরই পার্চিং স্থাপন করতে হয়।

ক্ষতিকর পোকা বিশেষ করে মাজরা পোকা ধানের ক্ষতিকর আর পাখিদের প্রিয় খাবর এই মাজরা পোকা তাই পার্চিং পদ্ধতি খুব কার্যকর। এই পদ্ধতি কাজে লাগালে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যায়। উৎপাদন খরচ কমে।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। এ পদ্ধতি ক্রমেই বাড়ছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ জমি পার্চিংয়ের আওতায় এসেছে। কিছুদিনের মধ্যে সেটা শতভাগের কাছাকাছি যাবে।

পাতা মোড়ানো পোকা ও লেদা পোকা দমনে কার্যকর(Disease management system):

পাতা  মোড়ানো পোকা:

এরা পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পাতায় সাদা লম্বা দাগ দেখা যায়। খুব বেশি ক্ষতি করলে পাতাগুলো পুড়ে পাওযার মত দেখায়। ক্ষতিগ্রস্থ  পাতার কিনার দিয়ে বিশেষ করে পাতার লালচে রেখা রোগ শুরু হতে পারে।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী পোকা পাতার মধ্য শিরার কাছে ডিম পাড়ে। কীড়াগুলো পাতার সবুজ অংশ খায় এবং বড় হবার সাথে সাথে তারা পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে একটা নলের মত করে ফেলে। মোড়ানো পাতার মধ্যেই কীড়াগুলো পুত্তলীতে পরিণত হয়।

দমন ব্যবস্থাপনা:

১)আলোক ফাঁদের সাহায্যে পূর্ণবয়স্ক মথ ধরে মেরে ফেলা।

২) জমিতে ডালপালা পুঁতে পোকাখেকো পাখির সাহায্যে পূর্ণ বয়স্ক মথ দমন করা।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

লেদা পোকা:

লেদা পোকা কেটে কেটে  খায়  বলে ইংরেজীতে এদের কাটওয়ার্ম বলে। এই প্রজাতির পোকারা সাধারণত, শুকনো ক্ষেতের জন্য বেশী ক্ষতিকর। কারণ এদের জীবন চক্র শেষ করার জন্য শুকনো জমির দরকার হয়। পার্শ্ববর্তী ঘাসের জমি থেকে লেদা পোকার কীড়া নীচু, ভিজা জমির ধানক্ষেত আক্রমণ করে। প্রথমাবস্থায় কীড়াগুলো শুধু পাতাই খায়, কিন্তু বয়স্ক কীড়া সম্পূর্ণ পাতাই খেয়ে ফেলতে পারে। এরা চারা গাছের গোড়াও কাটে।

দমন ব্যবস্থাপনা

১) আলোক ফাঁদের সাহায্যে পূর্ণবয়স্ক  মথ ধরে মেরে ফেলুন।

২) ধান কাটার পর ক্ষেতের নাড়া পুডিয়ে দিলে বা জমি চাষ করে এ পোকার সংখ্যা অনেক কমিয়ে ফেলা যায়।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

৩) আক্রান্ত ক্ষেত সেচ দিয়ে ডুবিয়ে দিয়ে এবং পাখির খাওয়ার জন্য ক্ষেতে ডালাপালা পুঁতে দিয়েও এদের সংখ্যা কমানো যায়।

৪) শতকরা ২৫ ভাগ পাতার ক্ষতি হলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ছাদে সহজেই করুন করলা চাষ, দেখে নিন পদ্ধতি

করলা আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি। এখন সারা বছরই করলা চাষ হয়। করলা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী সবজি। এটাকে ভাজি করে অথবা তরকারি হিসেবে রান্না করেও খাওয়া যায়। এই নিবন্ধে কীভাবে ছাদে বা টবে (Terrace farming) করলা চাষ করবেন তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,

মাটি তৈরি(Soil):

করলা প্রায় সব মাটিতেই চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থসমৃদ্ধ দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে চাষ করলে ফলন ভালো হয়। করলা চাষ করার জন্য প্রথমে দুই ভাগ দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২০-৩০ গ্রাম টিএসপি সার, ২০-৩০ গ্রাম পটাশ একত্রে মিশিয়ে ড্রামে ভরে জলে ভিজিয়ে সপ্তাহখানেক রেখে দিতে হয়। তারপর মাটি কিছুটা ওলটপালট করে বা ঝরঝরে করে আবার চার-পাঁচ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে।

বীজ বপন:

করলার বীজ বপনের একদিন অথবা ২৪ ঘণ্টা আগে ড্রাম বা টবের মাটি জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজ বপন করার পর মাটি হাত দিয়ে সমতল করে চেপে দিতে হবে।

সেচ:

করলার বীজ বপন করার পর এতে নিয়মিত জল দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, টবে বা গাছের গোড়ায় যেন কোনোভাবেই জল জমে না থাকে। তাহলে গাছের গোড়া পচে যাবে। সঠিক পরিমাপে জল  দিতে হবে।

পরিচর্যা:

করলা গাছ বড় হলে অপ্রয়োজনীয় বা মরা লতাপাতা বেছে ফেলে দিতে হবে। টব বা ড্রামের মাটি হালকা নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে, তাহলে শেকড় বাড়বে। আগাছা জন্মালে তা উপড়ে ফেলতে হবে। গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখলে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উৎপাত কম হয়। গাছ একটু বড় হলে মাচা করে দিতে হবে। গাছে নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

সঠিক পরিমাণ সার দিতে হবে। করলার বীজ থেকে চারা বেরোনোর পর মাঝে মধ্যে পানি দিতে হবে। চারার যত্ন নিতে হবে। করলা ধরা শুরু করলে সরিষার খৈল পচা পানি পাতলা করে গাছে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর নিয়মিত দিতে হবে। টবে জৈব সার দিতে হবে, যেন গাছ মাটি থেকে খাদ্য উৎপাদন করে বাড়তে পারে। প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যায়।

রোগবালাই দমন(Disease management):

করলা গাছে মাছিপোকা, পামকিন বিটলসহ বিভিন্ন পোকা ও ভাইরাসজনিত মোজাইক রোগ, পাউডারি মিলডিউসহ বিভিন্ন বালাইয়ের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। গাছে রোগ বা পোকামাকড় আক্রমণ করলে কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সেক্স ফেরোমন ও বিষটোপ ফাঁদের যৌথ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফল সংগ্রহ:

করলা ছোট অবস্থায়ও সংগ্রহ করতে পারেন অথবা বড় হলেও সংগ্রহ করতে পারেন। তবে করলা কাঁচা থাকতেই সংগ্রহ করতে হবে। পাকা করলা তরকারি হিসেবে খাওয়া যায় না। ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই সংগ্রহ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com