আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

ফলন ভালো, দাম কম

পাবনার চাটমোহর উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে চলতি মৌসুমে রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে।জমি থেকে রসুন তোলা, বিক্রির জন্য প্রস্তুত করাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। তবে বাজারে রসুনের দাম কম থাকায় এবার কৃষক একটু অখুশি।

মৌসুমের এই সময়ে রসুন আমদানি বন্ধ থাকলে কৃষকেরা লাভের মুখ দেখতে পারতেন বলে মনে করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলনবিল অঞ্চলে প্রতিবছর রসুনের আবাদ ও ফলন বাড়ছে। গত মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছিল ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয় ৫২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।

চলতি মৌসুমে আবাদ ও উৎপাদন দুটিই বেড়েছে। এ মৌসুমে ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২০০ হেক্টরে। ৫৫ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার জায়গায় উৎপাদন হয়েছে ৫৭ হাজার ৪০ মেট্রিক টন। বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোথর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতেই একযোগে চলছে রসুন তোলার কাজ। পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবাই মাঠে। রিকশা ভ্যান, মহিষের গাড়িতে সে রসুন নেওয়া হচ্ছে বাড়িতে।

চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমি থেকে গড়ে ১৮ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত রসুন মিলছে। তবে বাজারে আমদানি করা রসুন থাকায় এবার দাম বেশ কম। আকার অনুযায়ী প্রতি মণ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকছে না।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ জানান, বর্তমান বাজারে আমদানি করা রসুন আছে, এটা ঠিক। এ ছাড়া উৎপাদন মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যায়। এ কারণেও দাম কিছুটা কমে। তবে লাভ পেতে কৃষককে রসুন সংরক্ষণ করতে বলা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সেচ খরচ অর্ধেক, কমে লবণাক্ততা

খুলনার উপকূলীয় এলাকায় ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে তরমুজ চাষ। কিন্তু লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সেচের অভাবে চাষাবাদ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে কৃষকদের পথ দেখাচ্ছে মালচিং পদ্ধতি। এতে জমির লবণাক্ততা ও পানির ব্যবহার অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

মালচিং পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছে খুলনা মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্র। ইতিমধ্যে মিষ্টিকুমড়া চাষে সফল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির সহায়তায় বটিয়াঘাটা উপজেলার এক কৃষক ওই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন।

ওই কৃষকের নাম তারেক মাহমুদ (২৮)। তিনি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে ছিলেন। তিন বছর আগে দেশে ফিরে চাষাবাদ শুরু করেন। বটিয়াঘাটায় অবস্থিত লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রের পাশে ঘাগড়ামারী বিলে সাড়ে চার বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন তিনি। আর পাশের দেড় বিঘা জমিতে চাষ করছেন মালচিং ছাড়াই।বিজ্ঞাপন

গত বুধবার দুপুরে তারেক মাহমুদের তরমুজখেতে গিয়ে দেখা যায়, মালচিং ছাড়া যে দেড় বিঘা জমি রয়েছে, তাতে সেচ দেওয়ায় ব্যস্ত তিনি। তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন দুজন শ্রমিক। ওই বিলে যত দূর চোখ যায়, তত দূরই তরমুজের খেত। তারেক মাহমুদের মতো সবাই ব্যস্ত সেচ নিয়ে। তবে পুরো বিলের মধ্যে মালচিং দেওয়া সাড়ে চার বিঘা জমির তরমুজগাছ সবচেয়ে সতেজ ও বড়।

তারেক মাহমুদ বলেন, দেশে ফেরার পর প্রতিবছর তরমুজ মৌসুমে জমি ইজারা নিয়ে তরমুজ চাষ করছেন তিনি। তবে এবার চাষ মৌসুম শুরু হওয়ার আগে লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটি মালচিং পদ্ধতিতে মিষ্টিকুমড়ার চাষ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ওই পদ্ধতিতে চাষ করার সুবিধাগুলো জেনে নেন তিনি। পরে সাড়ে চার বিঘা জমিতে ওই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন।

মালচিং পদ্ধতিতে মাটিতে পচনশীল একধরনের পলিথিন দিয়ে চাষের মাদাটি (বেড) ঢেকে দেওয়া। আর মালচিং কাগজ হলো প্লাস্টিকের মতো একধরনের কাগজ, যার এক পাশে কালো ও অন্য পাশে রুপালি রং করা থাকে। কালো পাশ নিচে ও রুপালি পাশ ওপরের দিকে দিয়ে মাদাটি ঢেকে দিতে হয়। এভাবে মাটি ঢেকে দেওয়ার ফলে কালো রঙের প্রভাবে প্রচণ্ড সূর্যের তাপেও মাটির আর্দ্রতা শুকিয়ে যেতে পারে না। এ কারণে মাটিতে পানির পরিমাণ কম লাগে। অন্যদিকে মাটি ঢেকে থাকায় আগাছাও হয় না। এ ছাড়া রুপালি পাশ ওপরে থাকায় পোকামাকড়ের উপদ্রবও তুলনামূলক অনেক কম হয়।

তারেক মাহমুদ জানান, তরমুজের চারা রোপণ করে একবার ও ১৯ দিন পর আরেকবার পানি দিয়েছিলেন। বর্তমানে ওই চারার বয়স প্রায় দেড় মাস। ওই জমিতে তেমন নজর দেওয়ারই প্রয়োজন হয় না। জমিতে কোনো আগাছা ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি। তবে মালচিং ছাড়া যে দেড় বিঘা জমি চাষ করছেন, সেখানে সপ্তাহে একবার পানি দিতে হচ্ছে। ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ায় ৬০০টির মতো চারা উপড়ে ফেলতে হয়েছে। তিনি আশা করছেন, মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা জমি থেকে ভালো ফলন পাবেন।

লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রটি বিভিন্ন ধরনের সবজি ও শস্য উৎপাদন নিয়ে গবেষণা করে। ওই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে প্রায় ১০ কাঠা জমিতে মিষ্টিকুমড়ার গবেষণা প্লট তৈরি করা হয়েছে। নয়টি গবেষণা প্লটের তিনটিতে মালচিং কাগজ, তিনটিতে খড়ের মালচিং ও তিনটি প্লট সাধারণভাবে চাষ করা হয়েছে। যে তিনটি প্লটে মালচিং কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে, তার গাছগুলো বেশ তরতাজা।

ওই কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, সাধারণ প্লটে লবণাক্ততার পরিমাণ প্রতি মিটারে ৮ থেকে ১০ ডেসি সিমেন (ডিএস)। মালচিং কাগজ দিয়ে মোড়ানো প্লটে যা মাত্র ৩ থেকে ৪ ডিএস। আর খড়ের প্লটে ৬ থেকে ৭ ডিএস। মালচিং কাগজে মোড়ানো প্লটে মাটির আর্দ্রতা তুলনামূলক অনেক বেশি।

অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস আরও বলেন, প্রাথমিক গবেষণায় ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। তরমুজ চাষে প্রচুর মিঠাপানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু খুলনার উপকূল এলাকায় মিঠাপানির খুব অভাব। সে ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করলে কম সেচে ভালো ফলন পাওয়া যেতে পারে।

খুলনা মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, বছর শেষে প্রাপ্ত ফলাফল মূল্যায়ন করে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে পদ্ধতিটি মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এটি দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকার কৃষিতে বিপ্লব আনতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রোজায় দাম বাড়ার ধারা কি চলতেই থাকবে

করোনা মহামারিতে বেকার হয়েছেন অনেকে। আবার চাকরি থাকলেও আয়-রোজগার কমেছে অনেকের। ফলে, বর্তমান বাজারদর যদি স্থিতিশীলও থাকে, তারপরও সাধারণ মানুষের চলা দায়। এর মধ্যে পবিত্র রমজানে আরেক দফা মূল্যবৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের জন্য যা হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। স্বাধীন বাংলায় সবাই যার যার স্বাধীন মতো চলছে, চলবে। তাহলে স্বাধীন দেশের ব্যবসায়ীরা কেন নন? তাঁরাও নানা ছুতোয়, বাহানায় স্বাধীনভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো গণতান্ত্রিক অধিকার বলে মনে করছেন!

পৃথিবীব্যাপী ধর্মীয় উপলক্ষ বা দেশীয় উৎসবের সময় জিনিসপত্রের দাম কমে। উৎসব ঘিরে ইউরোপ-আমেরিকায় ছাড়ের হিড়িক পড়ে যায়। অনেকে বছরভর এ সময়টার জন্যই অপেক্ষা করে। সারা বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখে। ছাড় আর সেলের এ রীতি দুনিয়াজোড়া, ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ! এখানে সব রকম উৎসবের আগে পণ্যের দাম বাড়ে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সারা বছরই ভেজাল মিশিয়ে কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ক্রেতাসাধারণের পকেট কাটেন। রোজার সময় তাঁদের অপতৎপরতা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সরকারি নিয়ন্ত্রণের অভাবে তাঁরা মুনাফা শিকারে চরম বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁদের অতি মুনাফালোভী মনোবৃত্তির কারণে রমজানে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।বিজ্ঞাপন

অথচ সব মুসলিম রাষ্ট্রে রমজান মাসে পণ্যের দাম কমাতে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। আমাদের দেশে কিন্তু পুরো উল্টো। অন্য মুসলিম দেশের ব্যবসায়ীরা ১১ মাস ব্যবসা করে রোজার মাসে পণ্যের দাম কমিয়ে রোজাদারদের সেবা করেন। পবিত্র রমজানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র জিনিসপত্রের মূল্য কমিয়ে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা ও অফার দিয়ে থাকে। তারাও মুসলমান, আমরাও মুসলমান, বিষয়টা ভাবতেও লজ্জার করে। আসবে রোজা বাড়বে দাম—এটাই বাংলাদেশের ৫০ বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস। সব মিলিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর হাতে গোনা একশ্রেণি ভালো থাকলেও ভালো নেই বেশির ভাগ নাগরিক! নীরবে–নিবৃত্তে কাঁদছে কোটি কোটি মানুষ!

দীর্ঘদিন ধরে চালের দাম বেশি, যা কোনোভাবেই কমল না। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের সংসারে চলছে অস্থিরতা। দেশের পরিস্থিতি এমন যে নিম্নবিত্তের উচ্চদামে পণ্য ক্রয়ের কষ্ট বোঝার বা দেখার কেউ নেই। কোনো কিছুর দাম একবার বাড়লে আর কমে না। পরিবহন খাতের মতোই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে সর্বসাধারণ যেন অসহায়।

রোজা এলেই কেন জিনিসপত্রের দাম বাড়বে? এ তো জানা কথাই যে রোজায় কিছু পণ্যের চাহিদা বাড়ে। এর মধ্যে আছে পেঁয়াজ, ছোলা, ডাল, চিনি, দুধ, তেল, আটা, মুড়ি, খেজুর, আলু, বেগুন, শসা ইত্যাদি। এসব পণ্য কী পরিমাণ লাগবে, তাও আমাদের জানা আছে। আগেভাগেই কেন আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারি না। নির্দিষ্ট একটি পণ্য দেশে কতটুকু আছে, কতটুকু উৎপাদিত হয়েছে, বাড়তি কতটুকু আমদানি করতে হবে, তার হিসাব কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অবশ্যই থাকতে হবে। প্রতিবছরই তাহলে কেন এ অনিয়ম? এ ধারা কি যুগ যুগ ধরেই চলবে?

তথ্য অনুযায়ী রমজানে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২ লাখ টন, পেঁয়াজ ৫ লাখ টন, চিনি ১ লাখ ৩৬ হাজার টন, ছোলা ৮০ হাজার টন। তাহলে কী কী দরকার, কখন দরকার, আর কতটুকু দরকার, এসব তথ্য বাজার–সংশ্লিষ্টদের অজানা নয়। তারপরও কেন পণ্যের আকাল পড়ে, দাম বাড়ে? প্রশাসন থেকে বলা হয়, পণ্যের ঘাটতি নেই, বিপরীতে আমরা দেখছি দামেরও মাত্রা নেই! অথচ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়সহ নানা পর্যায়ের মাথাভারী বোঝা রয়েছে; জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে যাঁদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। তাহলে সংশ্লিষ্টজন ব্যক্তিরা কে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছেন?

বাংলাদেশে অনেক দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যের গ্লানি থেকে বেরোতে পারছে না শুধু নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে। মানুষ যেকোনো কিছুর বিনিময়ে পরিবারের সদস্যদের সুস্থ দেখতে চায়, কিন্তু দেশে খাদ্যের দাম-মান, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং পরিবেশদূষণের প্রভাব এত বেশি যে সুস্থ থাকাটা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছে। সাধারণত, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম দিয়ে মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হয়। আর মূল্যস্ফীতির প্রভাব গরিব মানুষের ওপরই বেশি পড়ে। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই চলে যায় খাদ্যপণ্য কিনতে। আর খাদ্যপণ্য কিনে যত টাকা খরচ হয়, এর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ চলে যায় চালের পেছনে। তাই মোটা চালের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর বেশি প্রভাব পড়ে। ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়লে গরিবেরা সবচেয়ে বেশি চাপে থাকবে। এমন উন্নয়ন নয়, যেখানে নিম্নমধ্যবিত্তদের জীবনের আহার জোগাতে হিমশিম খেতে হয়! কৃষিপ্রধান দেশে চালের কেজি ৬০ আর ভোজ্যতেলের কেজি ১৩০ চাকার বেশি—এভাবে কি মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারের জীবন চালানো সম্ভব?

তেলের দাম যত বাড়ছে, এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ছে। কারণ, আমদানির করকাঠামো এমন যে আমদানিতে ব্যয় বাড়লে সরকারের রাজস্বও বাড়ে। ‘রাজার রাজস্ব, গরিবেরা নিঃস্ব!’ যদিও ব্যবসায়ীরা দুই বছর ধরে ভোজ্যতেলের তিন স্তরের বদলে এক স্তরে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আদায়ের অনুরোধ জানিয়ে আসছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও একাধিকবার এ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেয়; যদিও ভ্যাটছাড় মেলেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাতে ভর্তুকি দিলে সাধারণ মানুষ একটু স্বস্তি পাবে বলে আমরা মনে করি।

অর্থনীতি বিষয়ের সুপরিচিত গবেষণা সংস্থা সানেম বলছে, দেশে দারিদ্র্যের সার্বিক হার বেড়েছে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরিচালিত জরিপ থেকে পাওয়া তাদের হিসাবে দেশে দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগের চেয়ে দারিদ্র্য পরিস্থিতি প্রায় দ্বিগুণ দেখা যাচ্ছে জরিপে। আমরা ধারণা করছি, মহামারির আঘাত এটি। কিন্তু মহামারির মধ্যেই দেশে ছয় মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৪ হাজার ৮৬৩টি। ২০২০ সালের মার্চে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫। সেপ্টেম্বরে তুমুল করোনার মধ্যে সেটা দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪৮৮। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাওয়া ছয় মাসের এসব তথ্য পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। সানেমের খানাজরিপে দেখা গেছে, করোনার প্রভাবে উপায়হীন বিপুল মানুষ খাবারের বাইরে অন্য অনেক খরচ বাদ দিচ্ছে। খাবারের তালিকাও কাটছাঁট করেছে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙেছে এবং ভাঙছে। মানুষ বাজার ও চিকিৎসা খরচ সামলাতে পারছে না। সানেমের জরিপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে মনে হয় দেশে দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি সম্পদও ব্যাপক হারে বাড়ছে। তবে গুটিকয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে সেসব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বোয়ালটির ওজন ২২ কেজি

ফেনীর পরশুরামে মুহুরি নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ। রোববার দুপুরে উপজেলার ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন কালিকাপুর এলাকায় মাছটি ধরা পড়ে। জেলেরা পরশুরাম উপজেলা সদরের বাজারে তুলে মাছটির দাম হাঁকেন ২৫ হাজার টাকা।

জেলে ও স্থানীয় লোকজন জানান, রোববার দুপুরে বেশ কয়েকজন জেলে জাল নিয়ে পরশুরাম উপজেলার ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন মুহুরি নদীর কালিকাপুর এলাকায় মাছ ধরতে যান। নদীতে জাল ফেললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে ২২ কেজি ওজনের বোয়াল মাছটি ধরা পড়ে।

মাছ ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান বলেন, মুহুরি নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া ২২ কেজি ওজনের বোয়ালটি তিনি ২০ হাজার টাকায় কিনেছেন। পরে তিনি মাছটি বিক্রির জন্য পরশুরাম বাজারে নিয়ে যান। সেখানে মাছটির দাম হাঁকেন ২৫ হাজার টাকা। বাজারে বড় মাছ আসার খবর পেয়ে আশপাশের ক্রেতারা ভিড় জমান। সন্ধ্যায় মাছটি ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কর প্রত্যাহারেও কমছে না ভোজ্যতেলের দাম

ভোজ্যতেল আমদানিতে বিদ্যমান ৪ শতাংশ আগাম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স বা এটি) প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ টাকা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এনবিআরের হাতে আটকে থাকবে না। রবিবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে এনবিআর।

তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোজ্যতেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চেয়েছিলো, বিদ্যমান তিন স্তরের বদলে এক স্তরে ভ্যাট আরোপের জন্য। সেক্ষেত্রে দাম কমার সুযোগ ছিলো। কিন্তু এনবিআর ওই পথে হাঁটেনি।

বর্তমানে আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট দিতে হয়। অবশ্য অতীতে ভোক্তাদের দেখিয়ে কর কমানোর সুযোগ নেওয়া হলেও সেই সুবিধা ভোক্তার বদলে ব্যবসায়ীদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com