আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

জিলকদ মাসের আমল ও ইবাদতের তাৎপর্য

আরবি চান্দ্রবর্ষের একাদশ মাস জিলকদ। এটি হজের তিন মাস—শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজের দ্বিতীয় মাস। হারাম বা নিষিদ্ধ চার মাসের দ্বিতীয় মাস হলো এই মাস। হারাম চার মাস হলো মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মাঝামাঝিতে এর অবস্থান হওয়ায় এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জিলকদ মাসের আরবি নাম ‘জুলকাআদাহ’। ফারসিতে ‘জিলকাআদা’; উর্দুতে ‘জিলকাআদ’; বাংলায় ‘জিলকদ’ রূপ ধারণ করেছে। ‘জুলকাআদাহ’ বা ‘জিলকদ’ অর্থ হলো বসা বা স্থিত হওয়া, বিশ্রাম নেওয়া। জিলকদ মাসের আগের চার মাস ধারাবাহিক নির্ধারিত ইবাদতে ব্যস্ততম মাস। অনুরূপ জিলকদ মাসের পরের দুই মাস জিলহজ ও মহররম ইবাদতে ব্যস্ততম মাস। মাঝের একটি মাস জিলকদ, যেহেতু মুমিন সামান্য বিশ্রামের ফুরসত পেয়ে থাকেন, তাই এই মাসের নাম জুলকাআদাহ বা বিশ্রামের মাস।

ঈদুল ফিতর বিগত ও ঈদুল আজহা সমাগত, মাঝে এই জিলকদ মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুআক্কা আমল নেই বিধায় এটি জিলকদ মাস বা বিশ্রামের মাস। এই সময় আরবরা বাণিজ্য থেকে ফিরে আসত, যুদ্ধ থেকে ফিরে আসত, তাই এই মাস বিশ্রামের মাস। এসব কারণে এ মাসের নাম জিলকদ। (লিসানুল আরব, ইবনে মানযূর)।

জিলকদ মাসে নির্ধারিত ইবাদত না থাকলেও কিছু কিছু নফল ইবাদত করা বাঞ্ছনীয় ও শ্রেয়। হাদিস শরিফে আছে: পরকালে নেককার, পরহেজগার, দ্বীনদার লোকদের কোনো আক্ষেপ থাকবে না; তবে একটি বিষয় তাঁদের আক্ষেপ থাকবে, তা হলো যে সময়টা তাঁরা ইবাদত ছাড়া কাটিয়েছেন, সেই সময়টার বিষয়ে তাঁদের অনুশোচনা থাকবে যে কেন তাঁরা এই সময়টাও নেক আমল দ্বারা পরিপূর্ণ করলেন না। তাহলে তাঁরা আরও বেশি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারতেন। এই একটি মাস ইবাদতে কাটাতে পারলে বছরের ১২টি মাসের মধ্যে রজব থেকে মহররম পর্যন্ত আটটি মাস একটানা ইবাদতে শামিল হয়ে যায়, যা পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখনই অবসর পাও দাঁড়িয়ে যাও, তোমার রবের ইবাদতে মশগুল হও।’ (সুরা-৯৪ ইনশিরাহ, আয়াত: ৭-৮)।বিজ্ঞাপন

সময় মানবজীবনের মূলধন। এই মহামূল্যবান সম্পদ হেলায় নষ্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শপথ! সময়ের, নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; তবে তারা নয় যারা ইমান আনে, সৎকর্ম করে, সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উৎসাহ প্রদান করে।’ (সুরা-১০৩ আসর, আয়াত: ১-৩)। হাদিসে আছে: তোমরা পাঁচটি জিনিসের পূর্বে পাঁচটি জিনিসকে গুরুত্ব দাও; ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে, অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে, দারিদ্র্যের পূর্বে প্রাচুর্যকে, বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকে, মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে। (মুসলিম ও তিরমিজি)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিনে হাশর ময়দানে কোনো আদমসন্তান পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এক কদমও নড়তে পারবে না। সে প্রশ্ন পাঁচটি হলো: জীবন কী কাজে ব্যয় করেছে, যৌবন কী কাজে লাগিয়েছে; কোন পথে আয় করেছে, কোন পথে ব্যয় করেছে এবং নিজের জ্ঞানমতো আমল করেছে কি না।’ (তিরমিজি,২/৬৭; আরবাঈন, নববি: ১৯, ২০ ও ২১)।

প্রতি মাসের মতো জিলকদ মাসেও বিশেষ কিছু আমল রয়েছে, যেমন ১ তারিখ, ১০ তারিখ, ২০ তারিখ, ২৯ তারিখ ও ৩০ তারিখ নফল রোজা পালন করা। চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিদের সুন্নাত রোজা, প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সুন্নাতে নববি রোজা রাখা। সলাতুত তাসবিহ নামাজ এবং প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নফল নামাজ-তাহাজ্জুত, ইশরাক, চাশত বা দুহা, জাওয়াল ও আউওয়াবিন পড়া। বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা, নফল নামাজ পড়া ও দানখয়রাত করা। জিলহজ মাসের ৯টি সুন্নাত রোজা ও মহররম মাসের ১০টি রোজার প্রস্তুতি হিসেবে এই মাসে কিছু হলেও নফল রোজা রাখা। হজের ও কোরবানির প্রস্তুতি নেওয়া।

অবসর সময়গুলোতে আমরা ধর্মীয় ও পেশাগত নানা বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে পারি, আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নিতে পারি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারি। সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রতি যত্নশীল হতে পারি। বিশেষত, শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার, রোগীদের সেবা করার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে সচেতন করার এটি একটি অনন্য সুযোগ।

ইসলাম

অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার ফজিলত

নামাজসহ অনেক ইবাদত-বন্দেগির জন্য অজু করা শর্ত। অজু ছাড়া অনেক ইবাদত করা মারাত্মক গোনাহ। বিশেষ করে নামাজের জন্য ৪টি ফরজ নির্দেশনা মেনে অজু করতে হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার কথা বলেছেন। অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা কী? এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনাই বা কী?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এ নামাজকি অজু করার সঙ্গে সঙ্গেই পড়তে হবে না বিলম্ব হলেও চলবে? অজুর পর এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে যা জানা যায়; তাহলো-

১. হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুক্ত করে দেওয়া গোলাম হজরত হুমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছেন যে, ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু (অজুর জন্য) পানির পাত্র আনতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি দুই কব্জির ওপর তিনবার পানি ঢেলে উভয়টি (হাত কব্জি পর্যন্ত) ধুয়ে নিলেন। তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রের ভেতর প্রবেশ করিয়ে কুলি ও নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে নিলেন। দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। এরপর উভয় পা তিনবার ধুয়ে নিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

 مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যাক্তি আমার মত অজু করে এমনভাবে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে, সে যাতে মনে মনে ভিন্ন কোনও চিন্তা-ভাবনা না করবে; তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের সময় বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন-

‏ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عِنْدَكَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِي الْجَنَّةِ

‘হে বেলাল! তুমি আমাকে বল, ইসলামের পর তুমি এমন কোনো আমল করেছ; যার উপকারের ব্যাপারে তুমি বেশি আশাবাদী? কেননা আজ রাতে (মেরাজের রাতে) আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-

مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِي الإِسْلاَمِ أَرْجَى عِنْدِي مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّي لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللَّهُ لِي أَنْ أُصَلِّيَ ‏

ইসলামের মধ্যে এর চেয়ে বেশি লাভের আশা আমি অন্য কোনো আমলে করতে পারি না যেআমি দিন-রাত যখনই পূর্ণ অজু করিতখনই আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেনততক্ষণ ওই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করে থাকি।’ (মুসলিম)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, অজুর পর ২ রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা ও ফজিলত অনেক বেশি। তবে হাদিস বিশারদ ও ইসলামিক স্কলারগণ এ ২ রাকাআত নামাজ পড়াকে মোস্তাহাব বলেছেন।

১. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাহিয়্যাতুল অজু সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ্য করার পর বলেন, ‘এই হাদিসে অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব হওয়ার দলিল রয়েছে।’

২. ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস থাকায় প্রমাণিত হয়, অজুর পরপরই দুই রাকাত নামাজ পড়া মোস্তাহাব।’ (আল মাজমু শারহিল মুহাযযাব)

৩. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ عَقِبَ الْوُضُوءِ وَلَوْ كَانَ وَقْتَ النَّهْيِ ، وَقَالَهُ الشَّافِعِيَّةُ ” انتهى . (الفتاوى الكبرى)

‘অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব যদিও তা নিষিদ্ধ সময়ে হয়। শাফেয়ীগণও এমনটি বলেছেন।’ (আল ফাতাওয়া আল কুবরা)

৪. আল্লামা জাকারিয়া আল আনসারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করবে তার জন্য অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব; তা যে কোনও সময় হোক না কেন।’ (আসনাল মাতালিব)

৫. হজরত তানাজি শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘এই হাদিস থেকে অজু শেষ করার পর এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অমনোযোগী (অন্য কাজে ব্যস্ত) হওয়ার আগে অজুর দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’ (নেহায়তুয যায়ন)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, অজু করার পর মসজিদে প্রবেশ করে (দুখুলুল মসজিদ/তাহিয়াতুল মসজিদের) দুই রাকাআত নামাজের নিয়ত করলে আল্লাহ তাআলা উভয় নামাজের সাওয়াব দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অজু করার পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কোনো কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হলে যে দোয়া পড়বেন

মানুষ এখন মহামারি করোনার কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। একদিকে মহামারি করোনার ভয়াল থাবা অন্যদিকে মানুষ জীবন-জীবিকার টানে না বসে থাকতে পারছে, না কাজে যেতে পারছে। মানুষের জন্য সব দিক বিবেচনায় এটি এক কঠিন পরিস্থিতি।

হ্যাঁ, মানুষের এ রকম কঠিন বিপদের মুহূর্ত কিংবা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ই আসতে পারে। কঠিন পরিস্থিতি যে শুধু ক্ষতিকর বিপদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটি নয়; বরং দুনিয়ার রোগ-ব্যাধি, মহামারি, ঝড়-তুফান, বন্যা-বজ্রপাত, চাকরি-বাকরি, পড়া-শোনা, পরীক্ষা-ইন্টারভিউ, ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ কিংবা দেশ-বিদেশে যে কোনো বিষয়েই হতে পারে।

তাই যদি কেউ যে কোনো বিষয়ে কঠিন পরিস্থিতি বা বিপদে পড়ে যায়; তবে তার উচিত হাদিসের অনুসরণে এ দোয়াটি বেশি পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। যা পড়তেন স্বয়ং বিশ্বনবি। কারণ তিনি নিজেও এ রকম অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
اَللَّهُمَّ لَا سَهْلَ اِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهُلَا وَ أَنْتَ تَجْعَلُ الْحُزْنَ اِذَا شِئْتَ سَهْلَا
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা ঝাআলতাহু সাহলা ওয়া আংতা তাঝআলুল হাযনা ইজা শিতা সাহলা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! কোনো কিছুই সহজ নয়; তুমি যেটিকে সহজ করে দাও; সেটি ছাড়া। তুমি যখন চাও, পেরেশানিকে সহজ করে দাও।’ (ইবনু হিব্বান)

সুতরাং পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার বিকল্প নেই। মানুষ যত বড় ক্ষমতার অধিকারীই হোক না কেন; মহান আল্লাহর ক্ষমতার কাছে কিছুই নয়; আবার আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিকল্প কোনো ক্ষমতা বা সাহায্যও নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব কঠিন পরিস্থিতি ও বিষয়ে তাঁর কাছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো ভাষায় সাহায্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যে আমল-ইসতেগফারে আসবে না অভাব

ইসতেগফার বা ক্ষমা জীবিকা অর্জনের অন্যতম উপায়। এটি উত্তম রিজিক লাভের দুর্দান্ত কার্যকরী আমল হিসেবেও বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে জীবিকা বা রিজিক লাভে ইসতেগফারের বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন-
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّاراً*يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَاراً*وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَاراً
অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

হাদিসে পাকে এসেছে, ‘অভাব মানুষকে কখনও কখনও কুফরের কাছাকাছি নিয়ে যায়।’ অনেক সময় এ অভাব মানুষের ঈমান-আকিদাকেও দুর্বল করে দেয়। শুধু ক্ষমা প্রার্থনাই নয় বরং উত্তম রিজিক দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা ফর্মুলা ও আমল বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাহলো-
১. বেশি বেশি তাওবাহ-ইসতেগফার করা
তাওবাহ-ইসতেগফারে বান্দার অভাব মোচন হয়। গোনাহ মাফ হয়। সন্তান-সন্তুতির অভাব যেমন থাকে না তেমিন রিজিকেও আসে পরিপূর্ণ বরকত। অভাবমুক্ত থাকতে কুরআনুল কারিমে বেশি বেশি ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করার এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছে। যার ফলে আল্লাহ তাআলা মানুষকে উত্তম রিজিকসহ অসংখ্য নেয়ামতে ধন্য করবেন বলেও জানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘অতপর বলেছি- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

> أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

> أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

> رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’
অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’

> أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।’
অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

> رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى فَٱغْفِرْ لِى
উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জলামতু নাফসি ফাগফিরলি’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)
অর্থ : হে আমার রব! নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’

২. যথা সময়ে জাকাত আদায়
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে জাকাত ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। তাই অভাবমুক্ত সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে যথা সময়ে নিজ উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় তথা নির্ভরযোগ্য জাকাত ফাণ্ডে জাকাতের টাকা জমা দেওয়া। জাকাতের অর্থ সুষম বণ্টনের জন্য কারা এ অর্থ পাবে তার সুস্পষ্ট বর্ণনাও এসেছে কুরআনে।
যাদের সম্পদ অর্জনের কোনো যোগ্যতা বা সামর্থ্য নেই। জীবন পরিচালনায় উত্তরাধিকার সূত্রেও কোনো সম্পদ পায়নি। আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য ধনী-সম্পদশালীর অর্থে অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। এসব লোক সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
’জাকাত হল কেবল ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন (নব মুসলিম) তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৬০)

আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত বিধান গরিবের অধিকার জাকাত আদায়ে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা যারা জাকাত আদায় করবে না তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,(কিছু কথপোকথনের পর) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন! যে ব্যক্তি এ ধরনের উট অথবা গরু রেখে মৃত্যুবরণ করল, যার জাকাত সে দেয়নি, কেয়ামতের দিন সেগুলো পূর্বাবস্থা থেকে বেশি মোটাতাজা হয়ে তার কাছে আসবে এবং নিজেদের পায়ের ক্ষুরা দ্বারা তাকে দলিত (আঘাত) করবে এবং শিং দ্বারা গুঁতা মারবে। (এভাবে) শেষের জন্তুটি চলে যাওয়ার পর আবার প্রথম জন্তুটি ফিরে আসবে। মানুষের সম্পূর্ণ বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তির এ ধারা চলতে থাকবে।’ (তিরমিজি)

আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জাকাত আদায়ে অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। আর সে কারণেই ইসলামি খেলাফতের সফল খলিফা দ্বিতীয় ওমর খ্যাত হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের সময়ে এসে জাকাতের অর্থ গ্রহণের জন্য কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৩. সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়াও অন্যতম একটি। মদিনায় হিজরতকালীন সময়ে মহাজিরদের আর্থিক সংকটে আনসারদের সহযোগিতাই এর অন্যতম উদাহরণ। সর্ব কালের সর্ব যুগের জন্য এ সহযোগিতার উদ্যোগ প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হাদিসে সে সময়ের একটি ঘটনা এভাবে উঠে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার আনসার সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমাদের ও আমাদের ভাই (মুহাজির)-দের মধ্যে খেজুরের বাগান ভাগ করে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ’না’। তখন তাঁরা (মুহাজিরদের) বললেন, আপনারা আমাদের (আনসারদের) বাগানে (আমাদের সঙ্গে) কাজ করুন, আমরা আপনাদের (মুহাজিরদের) ফল-ফলাদির অংশীদার করব। তাঁরা বলল, আমরা শুনলাম এবং মানলাম।’ (বুখারি)

৪. আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখা
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে একে অন্যের প্রতি সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখা। আত্মীয়তার বন্ধ ঠিক রাখা কুরআনুল কারিমের নির্দেশও বটে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যক্তিদের রিজিক বেড়ে যাবে বলেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, সে যেন আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করে।’ (বুখারি)

৫. দোয়ার আমল
অভাব থেকে মুক্তি ও উত্তম রিজিকের জন্য বেশি বেশি দোয়া করার বিকল্প নেই। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে অভাবমুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিশেষ আবেদন শিখিয়েছেন। যাতে তাঁর উম্মত অভাবের কারণে কুফরির দিকে চলে না যায়। হাদিসে এসেছে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফিকরি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনা আজিবল ক্বাবরি লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ (আবু দাউদ)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার নিকট কুফরী ও দরিদ্রতা হতে আশ্রয় চাইছি। হে আল্লাহ! আমি কবরের আজাব থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি, আপনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই।’

অভাবমুক্ত থাকতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকনির্দেশনা মুমিন মুসলমানসহ সবার জন্য খুবই জরুরি। আর তা পালনে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র হবে নিঃসন্দেহে অভাবমুক্ত।

আল্লাহ তাআলা কুরআন-সুন্নাহর এসব দিকনির্দেশনা মেনে অভাবমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের তাওফিক দিন। অভাবের কারণে মুমিন মুসলমানকে কুফরির দিকে ধাবিত হওয়া থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

বিদেশিদের ওমরাহ শুরু হলেও নিষেধাজ্ঞায় থাকবে ৯ দেশ

সৌদি আরব আগামী ১ মুহাররম (১০ আগস্ট) থেকে বিদেশিদের জন্য ওমরাহ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ৯টি দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এবারও ৯ দেশের উপর ওমরাহ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

আল আরাবিয়া সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ সংস্থা ও ঠিকাদারকে আগামী মহররম মাসের ১ তারিখ থেকে বিদেশিদের ওমরাহ পালনের সুবিধার্থে নিজেদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে যারা মহামারি করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়া সম্পন্ন করেছে তারাই কেবল ওমরাহ করার অনুমতি পাবে।

তবে এবারও ওমরাহ করতে বিশ্বের ৯টি দেশের ওপর থাকছে নিষেধাজ্ঞা। ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং লেবানন থেকে কোনো ওমরাহ পালনকারী ওমরাহ পালনে যেতে পারবে না।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওমরাহ করার সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত নিয়ম-কানুন নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য সফলভাবে ১৪৪২ হিজরির পবিত্র হজ সম্পন্ন হওয়ার পর যথারীতি গত ২৫ জুলাই মোতাবেক ১৫ জিলহজ (সৌদিতে) রোববার শুরু হয়েছে পবিত্র ওমরাহ। এ ধারাবাহিকতায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১ মহররম ১৪৪৩ হিজরি মোতাবেক সম্ভাব্য ১০ আগস্ট থেকে মুসলিমরা করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ ও শর্তসাপেক্ষে ওমরাহ পালন করতে পারবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

বিশ্বনবির সুপারিশ ও সাক্ষাৎ পাওয়ার উপায়

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বমানবতার জন্য সুসংবাদদাতা, সাক্ষী ও সতর্ককারী। তাঁকে মহান আল্লাহর প্রেরিত নবি ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করাই ঈমানের অন্যতম শর্ত। তার প্রতি দরূদ পড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য নির্দেশ। এ সবের বিনিময়ে রয়েছে মহাপুরস্কার। কী সেই পুরস্কার?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তাঁকে সুসংবাদদাতা, সাক্ষী ও সতর্ককারী হিসেবে জানা, বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁর প্রতি দরূদ পড়ার মহাপুরস্কার হচ্ছে- তাঁর সাক্ষাৎ ও সুপারিশ পাওয়া। এটি মুমিন মুসলমানের একান্ত চাওয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ পাওয়ার, পরকালের সুপারিশ পাওয়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে, তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরূদ শরিফ পড়া। আর যে দরূদটি পড়তে সহজ এবং ছোট তাহলো-
صَلِّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم
উচ্চারণ : ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’

বিশ্বনবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের, তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠানোসহ তাঁর প্রতি দরূদ পড়ার নির্দেশ এসেছে একাধিক আয়াতে। তাহলো-
১ .‘আমি আপনাকে (নবি করে) পাঠিয়েছি (বিশ্ববাসীর জন্য) সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। যাতে তোমরা (মানুষ) আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তোমরা রাসুলকে শক্তি যোগাও, তাঁকে সম্মান কর।’ (সুরা ফাতাহ : আয়াত ৮ ও ৯)

২. ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নবির প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তার ফেরেশতারাও নবির জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবির জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৬)

সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠানো হলো মুমিন মুসলমানের জন্য ইবাদত ও অনেক ফজিলতপূর্ণ কাজ। এতে একদিকে যেমন তাঁর সাক্ষাৎ লাভ হয় তেমনি পরকালে তার জন্য সুপারিশও সুনিশ্চিত। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা সুস্পষ্ট-
১. যে ব্যক্তি হাশরের ময়দানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে থাকতে চায়, সে যেন বেশি বেশি দরূদ পড়ে।
২. যে ব্যক্তি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বতে বেশি বেশি দরূদ পড়বে, তাঁর জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ আবশ্যক হয়ে যায়।
৩. যে ব্যক্তি মহব্বতের সঙ্গে বেশি বেশি দরূদ পড়বে, দরূদের বরকতে ওই ব্যক্তি স্বপ্নযোগে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করবেন।
৪. বেশি বেশি দরূদ পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন।

মনে রাখা জরুরি
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম না পড়ায় রয়েছে মারাত্মক ক্ষতি। হাদিসে এসেছে-
‘তিন শ্রেণির ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা ধ্বংসের অভিশাপ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একশ্রেণি হলো- যারা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম শোনার পরও তার প্রতি দরূদ পড়ে না।’ (নাউজুবিল্লাহ)

সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম পড়া ক্ষতিকর কোনো কাজ নয় বরং দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে ছোট কিংবা বড় দরূদ বেশি বেশি পড়ায় দুনিয়া ও পরকালের সবচেয়ে বেশি কল্যাণ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়ার তাওফিক দান করুন। দরূদের যথাযথ ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com