আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলো খিরসাপাত আম

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলো খিরসাপাত আম
জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলো খিরসাপাত আম

এই আম হিমসাগর নামেও পরিচিত।

দেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে এবার নিবন্ধন পেল সুমিষ্ট আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘খিরসাপাত’ আম। আজ রোববার সকালে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ন এই সনদ প্রদান করেন। 

সনদপত্র গ্রহণ করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতাধীন উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের(গাজীপুর) পরিচালক ড. মোদন গোপাল সাহা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  ড. মো. শফিকুল ইসলাম। 

ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে আমের রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমের অনুকূলে নিবন্ধন সনদ প্রদান করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)। 

এদিকে, জিআই পণ্য হিসেবে ‘খিরসাপাত আম’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এবং এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় আনন্দিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা।   

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘খিরসাপাত’ নামের পরিচিতির পাশাপাশি এখন বিশ্ববাজারে এই আম রপ্তানি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এ অঞ্চলের আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জিআই সনদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডিং হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমের। পরবর্তীতে এই পরিচিতি দিয়ে মেধাসত্ত্ব পাওয়া যাবে। এতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে লাভবান হবে জেলার খিরসাপাত আম।

শফিকুল আরও বলেন, এখন থেকে এই আম অন্য নামে কেউ বাজারজাত করতে পারবে না এবং ক্রেতারাও প্রতারিত হবেন না। বাণিজ্যিক ও আরও মানসম্মতভাবে এই আমের উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ এবং চাষিদের মাঝে সদনপত্র দেওয়া হবে।  

কেবল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে প্রতিবছর ৩৫ হাজার টন খিরসাপাত আম উৎপদন হয় বলেও জানান শফিকুল ইসলাম।

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আড়ই’শ জাতের আমের মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু ও জনপ্রিয় জাত হচ্ছে এই ‘খিরসাপাত’। জেলার বাইরে এই আম হিমসাগর নামেও পরিচিত। মাঝারি আকারের এবং অনেকটা ডিম্বাকৃতির এই আম লম্বায় গড়ে ৮ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন হয় আড়াইশো গ্রাম থেকে সাড়ে তিনশো গ্রাম। পাকা আমের ত্বকের রঙ সামান্য হলদে এবং শাসের রঙ হলুদাভ। শাস-আঁশবিহীন, রসাল ও আকর্ষণীয় গন্ধযুক্ত এবং গড় মিষ্টতা ২৩ শতাংশ। 

বাণিজ্যিকভাবে চাষ হওয়া সুস্বাদু জাতের এই আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে গত চার বছর ধরে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। তাই আমচাষী, বাগানমালিক, আমব্যবসায়ী ও সংগঠনগুলো ‘খিরসাপাত আম’ কে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির দাবী করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।  

অবশেষে এই আমের স্বত্ব সুরক্ষার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও আঞ্চলিক উদ্যাণতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘খিরসাপাত, ল্যাংড়া ও আশ্বিণা আমকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করা হয়। আর এই তিন জাতের আমের মধ্যে ‘খিরসাপাত’ আমকেই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। 

শুরুটা প্রায় ২০০ বছর আগে। ময়মনসিংহের মহারাজা সুতাংশু কুমার আচার্য্য বাহাদুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গড়ে তোলেন একটি আমবাগান। সেই বাগানইে অন্যান্য উৎকৃষ্ট জাতের আমের সঙ্গে চাষ হতো খিরসাপাত আম। এ ছাড়া ১৯৫৫ সালে স্থানীয় লোকসংগীত আলকাপ গানের বন্দনা ছড়ায় উল্লেখ রয়েছে খিরসাপাত আমের কথা। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সুস্বাদু এই জাতটি।   

লোক সংস্কৃতির গবেষক অধ্যাপক ড. মাজহারুল ইসলাম তুর বলেন, প্রাচীন লোক সংস্কৃতি ‘আলকাপ’ গানের ছড়ায় আড়াইশো জাতের আমের মধ্যে এই ‘খিরসাপাত’ আমের নাম রয়েছে। এ ছাড়া জেলার গেজেট অনুসন্ধানেও এই খিরসাপাত আমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলেও উল্লেখ  করা হয়।

কানসাট আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, এর ফলে দেশের বাজারে এই আমের চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমনি আর্ন্তজাতিক বাজারে রপ্তানির আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও এই আমের উৎপাদন আরও বাড়বে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মঞ্জুরুল হুদা জানান, ‘খিরসাপাত আম জিআই সদন পাওয়ায় এখন থেকে বাজারজাতের সময় আমের গায়ে ট্যাগ লাগানো থাকবে। ক্রেতারাও আমটি চিনতে পারবে। এতে অন্য আম আর বাজারে চালিয়ে দিতে পারবে না। চাষিরাও মূল্য পাবেন। এভাবে খিরসাপাত আমের একটি ব্র্যান্ডিং হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের আমের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে জেলা প্রশসক (ডিসি) এ জেড এম নুরুল হক জানান, খিরসাপাত আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এ আমের বাণিজ্যিক উৎপাদন ও সম্প্রসারণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আর্ন্তজাতিক বাজারে রপ্তানির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি অনেক দিনের চাওয়া ছিলো জেলাবাসীর। এর ফলে জেলার উন্নয়নে এটি মাইলফলক হবে। 

বর্তমানে দেশের উৎপাদিত আমের ৩০ শতাংশই খিরসাপাত আম। আর জিআই স্বৃকীতির মাধ্যমে এখন থেকে এই আম বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবেও স্বীকৃতি পাবে। 

ফল

পুষ্টিগুণে ভরা দেশি ফল ‘অড়বড়ই’

টক স্বাদের ফলের মধ্যে অন্যতম অড়বড়ই। দেখতে আমলকীর মতো তবে ঢেউ খেলানো। রং হালকা হলুদ। ফলটির ত্বক মসৃণ। প্রচুর ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই ফল। আমাদের দেশে এলাকা ভিত্তিতে এর বিভিন্ন নাম রয়েছে— যেমন- নলতা, লেবইর, ফরফরি, নইল, নোয়েল, রয়েল, আলবরই, অরবরি ইত্যাদি। পাকা অড়বড়ই ঝাল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খেতে ভীষণ মজা লাগে! এছাড়া এটা দিয়ে আচার, জুস, জেলি, চাটনি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়।

অড়বড়ই এর ইংরেজি নাম- Otaheite gooseberry, Malay gooseberry, Tahitian gooseberry, country gooseberry, star gooseberry, West India gooseberry ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক নাম Phyllanthus acidus, যা `Phyllanthaceae` পরিবারভুক্ত।

বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে একে নলতা, লেবইর, ফরফরি, নইল, নোয়েল, রয়েল, আলবরই, অরবরি ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। এর আদি নিবাস কোথায় তা সঠিক জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় মাদাগাস্কারে এর উৎপত্তি। অনেক উদ্ভিদবিজ্ঞানী এটাও বলেন যে এর আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া।

টক স্বাদের পাকা অড়বড়ই এর ভর্তা ভীষণ মজা। এছাড়া অড়বড়ই দিয়ে আচার, জুস, জেলি, চাটনি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়। অনেকে এটা দিয়ে চমৎকার টক রান্না করেন। অড়বড়ইয়ের রস ভিনেগার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ ফলটির রয়েছে অনেক ঔষধি গুণও।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য অড়বড়ইয়ে রয়েছে- জলীয় অংশ ৯১.৯ গ্রাম, আমিষ ০.১৫৫ গ্রাম, চর্বি ০.৫২ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭.৯ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩.২৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ০.০১৯ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০২৫ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০১৩ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২৯২ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সি ৪.৬ মিলিগ্রাম।

অড়বড়ই গাছের কচিপাতা ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে শাক হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। অকাল বার্ধক্য রোধে ও ত্বকের রোগ প্রতিরোধে অড়বড়ইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অড়বড়ইয়ের রস চুলের গোড়ায় লাগালে চুল মজবুত হয় ও খুশকি দূর হয়। মৌসুমি জ্বর প্রতিরোধে ও মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে ফলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই বিনা দ্বিধায় খেতে পারেন এই চমৎকার ফলটি।
এছাড়াও অড়বড়ইয়ের রয়েছে নানা ঔষধি গুণও! যেমন –

♦ লিভারের অসুখের টনিক বানানো হয় এর বীজ দিয়ে।

♦ পেটের অসুখ ও কৃমিনাশক হিসেবে এর বীজ ব্যবহার করা হয়।

♦ অকাল বার্ধক্য রোধে ও ত্বকের রোগ প্রতিরোধে অড়বড়ইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

♦ অড়বড়ইয়ের রস চুলের গোড়ায় লাগালে চুল মজবুত হয় ও খুশকি দূর হয়।

♦মৌসুমি জ্বর প্রতিরোধে ও মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে ফলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আধুনিক উপায়ে কলা চাষ

কলা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল যা সারা বছর পাওয়া যায়। কলাকে প্রাচীন সাহিত্যে কদলি বলা হতো।
কলাগাছ, কলাপাতা, কলাগাছের শিকড় ও কলা সবই উপকারী। কলাগাছ ও কলাপাতা শুধুমাত্র পশু খাদ্য নয়। এদের আছে আশ্চার্যজনক ভেষজ গুণ। রোগ নিরাময়ে অদ্বিতীয়।

কলার পুষ্টিগুণ প্রচুর। কলা উপাদেয় খাদ্য। কাঁচা পাকা দুই অবস্থায়ই খাওয়া যায়। কলায় রয়েছে জলীয় অংশ ৭০ গ্রাম, আঁশ ০.৫ গ্রাম, খাদ্য শক্তি (কিলোক্যালরি) ১০৯, আমিষ ০.৭ গ্রাম, চর্বি ০.৮ গ্রাম, শর্করা ২৫.০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১.০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২৪ মিলিগ্রাম। নারিকেল ছাড়া আর কোনো খাদ্যেই কলার মতো খাদ্যশক্তি নেই। তাই যে কোনো সময় পরিশ্রান্তে অথবা শক্তিক্ষয়জনিত অবস্থায় কলা আহার করলে শরীর পুনরায় কর্মক্ষম হয়ে উঠবে। নারিকেলে ৩৫.৫৭ গ্রাম চর্বি থাকে। যদিও নারিকেলের শর্করা মাত্র ১০.২২ গ্রাম। নারিকেলে খাদ্য শক্তি ৩৭৬ কিলোক্যালরি। যা প্রচলিত ফলের মধ্যে সর্বোচ্চ। দৈনিক খাদ্য তালিকায় সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের খাবারে অন্তত ৬০ গ্রাম ফলাদি থাকা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে খাবারে আপনার পছন্দের যে কোনো কলা থাকতে পারে।
কলা চাষ : বাণিজ্যিক ভিত্তিতে যেসব জাতের আবাদ হচ্ছে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হচ্ছে বারিকলা-১ ও বারিকলা-২ (আনাজিকলা), অমৃতসাগর, সবরি, চম্পা, কবরি, মেহেরসাগর, বীচিকলা অন্যতম।

মাটি : পর্যাপ্ত রোদযুক্ত ও পানি নিকাশের সুবিধাযুক্ত উঁচু জমি কলা চাষের জন্য উপযুক্ত। উর্বর দো-আঁশ মাটি কলা চাষের জন্য উত্তম। চাষ ও মই দিয়ে জমি সমতল ও আগাছামুক্ত করে নিতে হবে।

চারা রোপণ : কলার চারা বছরে ৩ সময়ে রোপণ করা যায়। ১ম রোপণ কাল : আশ্বিন-কার্তিক সবচেয়ে ভালো সময়। ২য় রোপণ কাল : মাঘ-ফাল্গুন ভালো সময়। ৩য় রোপণ কাল : চৈত্র-বৈশাখ মোটামুটি ভালো সময়।

চারার দূরত্ব : সারি থেকে সারির দূরত্ব ২ মিটার এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ২ মিটার।
গর্ত তৈরি : চারা রোপণের মাসখানেক আগেই গর্ত খনন করতে হবে। গর্তের আকার হবে ৬০ সেমি. চওড়া ও ৬০ সেমি. গভীর। গর্ত তৈরি হয়ে গেলে গোবর ও টিএসপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরে রাখতে হবে।

চারা রোপণ : রোপণের জন্য অসি তেউড় উত্তম। অসি তেউরের পাতা সরু, সুঁচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মতো, গুড়ি বড় ও শক্তিশালী এবং কা- ক্রমশ গোড়া থেকে ওপরের দিকে সরু হয়। তিন মাস বয়স্ক সুস্থ সবল তেউড় রোগমুক্ত গাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
সার ও সার প্রয়োগ পদ্ধতি

অর্ধেক গোবর জমি তৈরির সময় এবং অবশিষ্ট অর্ধেক গর্তে দিতে হবে। অর্ধেক টিএসপি একই সঙ্গে গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। রোপণের দেড় থেকে দুই মাস পর ৪ ভাগের ১ ভাগ ইউরিয়া, অর্ধেক এমপি ও বাকি টিএসপি জমিতে ছিটিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এর দুই থেকে আড়াই মাস পর গাছ প্রতি বাকি অর্ধেক এমপি ও অর্ধেক ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। মোচা বের হওয়ার সময় অবশিষ্ট ৪ ভাগের ১ ভাগ ইউরিয়া জমিতে ছিটিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।

কলা গাছের পরিচর্যা : চারা রোপণের সময় মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে তখনই সেচ দেয়া উচিত। এছাড়া শুকনো মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর পর সেচ দেয়া দরকার। বর্ষার সময় কলা বাগানে যাতে পানি জমতে না পারে তার জন্য নালা থাকা আব্যশক। মোচা আসার পর গাছপ্রতি মাত্র একটি তেউড় বাড়তে দেয়া ভালো।

রোগ ও প্রতিকার : কলা গাছের প্রধানতম রোগগুলো হচ্ছে পানামা, বানচিটপ ভাইরাস, সিগাটোকা ও কলার দাগ রোগ।

পানামা রোগ প্রতিকারের জন্য আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গাছের তেউড় হিসেবে চারা ব্যবহার করা যাবে না।
বানচিটপ ভাইরাস রোগ প্রতিকারের জন্য আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। গাছ উঠানো আগে জীবাণু বহনকারী ‘জাব পোকা’ ও ‘থ্রিপস’ কীটনাশক ওষুধ দ্বারা দমন করতে হবে। সুস্থ গাছেও কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করতে হবে।

সিগাটোকা রোগ আক্রান্ত গাছের পাতা পুড়ে ফলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি লিটার টিল্ট ২৫০ ইসি ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর গাছে ছিটাতে হবে।

বিটল পোকার আক্রমণে কলার গায়ে বসন্ত রোগের দাগের মতো দাগ হতে দেখলে কলার মোচা বের হওয়ার সময় ছিদ্রবিশিষ্ট পলিথিন ব্যাগ দিয়ে মোড়ে দিতে হবে। এছাড়াও অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়। যে কোনো ধরনের রোগের প্রতিকারের জন্য রোগ আক্রান্ত মাঠে বার বার কলা চাষ করা যাবে না।
ফসল সংগ্রহ : কলার চারা রোপণের ১১-১৫ মাসের মধ্যেই সাধারণত সব জাতের কলা পাকার উপযুক্ত হয়। প্রতি হেক্টরে ১২-১৫ টন কলার ফলন পাওয়া যাবে।

কলা ও কলা পাতার ভেষজ গুণ
ক. রোগ নিরাময়ে কলার ব্যবহার
১. শুষ্ক কাশিতে : একটি পাকা কলা চটকে অল্প পানিতে মিশিয়ে হালকা গরম করে সেটাকে ছেঁকে নিয়ে সেই পানিটা সকাল ও বিকালে কয়েক দিন খেলে উপশম হবে। তবে প্রতিদিন নতুন করে তৈরি করতে হবে।
২. সন্ধিযুক্ত গলক্ষতে : গলায় ব্যথা, লাল দেখায়, কর্ণমূল পর্যন্ত ব্যথা, মনে হয় যেন গলায় ঘা হয়েছে, গলার স্বর ভাঙা ভাঙা; এ ক্ষেত্রে একটা পাকা কলা ১ কাপ পানি দিয়ে চটকে গরম করে ছেঁটে নিয়ে সকালে এবং নতুন করে তৈরি করে বিকালে খেতে হবে। মাসখানিক খেলেই উপশম হবে।

৩. কৃমিতে : ১ চা-চামচ কলাগাছের শিকড়ের রস সকালে খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক ৩-৪ চা-চামচ, কিশোর বয়স্কদের ২ চা-চামচ আর শিশুদের ১ চা-চামচ খাওয়াতে হবে।
৪. প্রদর রোগে : ১টা কাঁচাকলা চাকা চাকা করে কেটে রাত্রে ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে খালিপেটে সেই পানি খেলে মাসখানিকের মধ্যে প্রদর রোগ সেরে যাবে।
৫. ডায়রিয়াতে : কাঁচাকলা দুই তিনটা খোসাসহ দুই-টুকরো করে কেটে অল্প পানিকে সিদ্ধ করে কলার ভর্তা ৪-৫ বার খেলে দাস্ত বা বেশি পায়খানা বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি খাবার স্যালাইনও চলবে।
৬. প্রসূতির কাঁচা নাড়ি শুকাতে : প্রসবের পর শরীরকে ঝরঝরে করার জন্য কাঁচা কলা পুড়ে ভর্তা করে ভাত খেতে দিতে হবে।
খ. কলাপাতার ব্যবহার

কলাগাছের সবুজ পাতার রস, মোচা, থোড় সবই প্রয়োজনীয়। সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, কোষ্ঠবদ্ধতা, আমাশয়, রক্তদুষ্টি, অম্লগ্যাস, উচ্চরক্তচাপ, লিভারের দোষ হলে কলাপাতার রস উপকারী। ইউরোপ ও অন্যান্য উন্নত দেশে কলাপাতার সাহায্যে বহু রোগের চিকিৎসা করা হয়। ফরাসি ডাক্তাররা শোথ, যক্ষ্মা;, আন্ত্রিক, আমাশয় ও অতিসারে কলাপাতার রস খেতে বলেন।
না-কচি, না-শক্ত বিবর্ণ পাতা অর্থাৎ সবুজ পাতা বেটে বা থেঁথলে ছেঁকে সকালের দিকে আধা কাপ খেতে হবে। নুন, চিনি ইত্যাদি মিশিয়ে খাওয়া চলবে না। কলাপতায় থাকে ক্লোরোফিল। ক্লোরোফিল পেটে গেলে অন্ত্রের ঘা, লিউকোমিয়া, চর্মরোগ হয় না। কলাপাতার সবুজ রস রক্ত পরিষ্কার করে।

শরীরের কোথাও ক্ষত, চর্মরোগ হলে কলাপাতার রস ঘষে লাগালে উপকার হয়। ব্রঙ্কাইটিস, নেফ্রাইটিস, রক্তক্ষরণ, জমা সর্দিতে কলাপাতার রস খুবই কার্যকরী। প্লুরিশি, কাশি, ক্ষয়রোগ ও থুথুর সঙ্গে রক্ত পড়লে সবুজ কলাপাতার রস প্রতিদিন ভোরে আধাকাপ পরিমাণ খেলে ভীষণ উপকার হবে। কচি কলাপাতা বেটে প্রলেপ দিলে কীট দংশন, হুল ফোটা, কাটায় উপকার হবে।

সর্বপ্রকার দাঁতের ব্যথায় ‘প্ল্যান্টাগো’ (যা কলাপতা থেকে তৈরি হয়) হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররা সুনামের সঙ্গে ব্যবহার করে আসছেন। প্যান্টাগোর মাদার তুলার দ্বারা দাঁতের গোড়ায় বাহ্যিক ব্যবহারে দাঁত ব্যথা আরোগ্য হয়। দন্তশূল, কর্ণশূল, কাটা, পোড়া, আঘাতাদি, সর্পদংশন, ইরিসিপেলাস ইত্যাদি নানাবিধ রোগে প্যান্টাগো সার্থকভাবে ব্যবহৃত হয়। গলগ-, ফুলে উঠা, জ্বর, শিরপীড়া সারাতে প্যান্টাগো ব্যবহৃত হয়।
কানের ব্যথায় : কলাগাছের মাঝের গোল অর্থাৎ খুলে যায়নি, সেই পাতাকে থেঁতো করতে হবে। রস নিংড়ে নিয়ে একটু গরম করতে হবে। ওই রস ২ ফোঁটা একবার কানে দিলেই বেদনা কমে যাবে। প্রয়োজনে আবার দিতে হবে।

সাবধানতা : কাঁচাকলা উপাদেয় ও সুস্বাদু তরকারি হলেও তরকারিতে খেলে কোষ্টকাঠিন্য দেখা দিতে পারে এবং পেটে বায়ু জমতে পারে। মোচা ও থোড়ের তরকারি সবসময় খেলে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি হতে পারে। কারণ এদের মধ্যে অক্সালিড এসিড বিদ্যমান। পাকা কলা বেলা ৯টা থেকে ১২টার মধ্যে খাওয়া উচিত। যখন তখন পাকা কলা খেলে ক্ষতি হতে পারে। কলা ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে, গিলে খেতে নেই। পাকাকলা মুখের লালাতেই হজম হয়।

সারের নাম প্রতি গাছে সারের পরিমাণ
গোবর-আবর্জনা সার ১৫-২০ কেজি
টিএসপি ২৫০-৪০০ গ্রাম
এমপি ২৫০-৩০০ গ্রাম
ইউরিয়া ৫০০-৬৫০ গ্রাম

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেয়ারা

পেয়ারা হচ্ছে এমন এক ফল যা সহজলভ্য এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ। এই ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ফাইবার, যা শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে দেখে নেওয়া যাক পেয়ারা স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে-

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক পেয়ারা। তার সঙ্গে কমায় ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রাও। যার ফলে হ্রাস পায় হৃদরোগে ঝুঁকি এবং সুস্থ থাকে হার্ট।ঋতুস্রাবের সময় হওয়া একাধিক শারীরিক ব্যথা ও সমস্যা থেকে রেহাই দিতে সহায়ক পেয়ারা।

ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যাকেও দূর করে দেয় এই ফল। তার সঙ্গে হজমে সহায়তা করে পেয়ারা।

পেয়ারার মধ্যে বেশি পরিমাণ ফাইবার এবং কম পরিমাণ ক্যালোরি থাকায় ওজন কমে দ্রুত।

পেয়ারার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সারের কোষকে বৃদ্ধি হতে দেয় না এবং শরীরে গড়ে তোলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

যেহেতু পেয়ারার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন, সুতরাং খুব স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের ক্ষেত্রেও সহায়ক এই ফল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ব্রণ সমস্যা রোধে কলার খোসা

কমবেশি অনেকেরেই ব্রণ হয়ে থাকে। কারও মাস্কের কারণে ব্রণ বাড়ছে।কারও বা বাড়ছে ধুলা-ময়লায় বেরিয়ে। কারণ যা-ই হোক, সমাধান তো খুঁজতেই হবে।

কেউ কেউ ওষুধ কিংবা ক্রিম লাগিয়ে নানা ধরনের চেষ্টা করছেন সমস্যা সমধানে। তবে আরও একটি কাজ করা যেতে পারে। তার মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজ উপায়ে কমিয়ে ফেলতে পারেন ব্রণের সমস্যা।

কলা খেয়ে খোসা ফেলে দেন তো? এবার থেকে আর ফেলবেন না। ওই খোসাতে আছে নানা ধরনের পুষ্টির উপাদান, যা ত্বকের যত্ন নেবে।

রোজ ত্বকে কলার খোসার সাদা অংশটি ভালভাবে ঘষে নিতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই কাজ করুন। তার পর মিনিট ১৫ সেভাবেই রেখে দিন। মুখ কিছুটা শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কলার খোসায় আছে বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, মিনারেল এবং ফাইবার। তা ত্বকের প্রদাহ কমায়। তার প্রভাবেই কমবে ব্রণ। এরই পাশাপাশি, কলার খোসা ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াবে। কমাবে বলিরেখা পড়ার আশঙ্কাও।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

জিআই স্বীকৃতি পেল রাজশাহীর আম

লেখক

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে ‘রাজশাহীর ফজলি আম’।

গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্ক তাদের ‘দ্য জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিকেশনের’ (জিআই) ১০ নম্বর জার্নালে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দীন সমকালকে এই তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্বীকৃতি মিলেছে। ২০১৭ সালের ৯ মার্চ রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র থেকে এই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছিল কেন্দ্র। 

আলীম উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘ফজলি আমের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে রাজশাহীর নামটি জড়িয়ে গেল। তবে এই স্বীকৃতি আসতে কম কষ্ট করতে হয়নি আমাদের! ফজলি আমের ইতিহাস,পণ্যটির সঙ্গে স্থানিক ও কালিক যোগাযোগের আদ্যোপান্ত, ডিএনএ সিকোয়েন্স আমাদের পাঠাতে হয়েছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকাতেও কিন্তু ফজলি আম হয়। রাজশাহীর ৯টি উপজেলাতেই ফজলি আমের চাষ হয়। এর মধ্যে বাঘা উপজেলার ফজলি আম খুবই পরিচিত।’ 

বাংলাদেশের মোট নয়টি পণ্য এপর্যন্ত জিআই সনদ পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইলিশ মাছ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরশাপাতি আম, দিনাজপুরের কাটারিভোগ ও বাংলাদেশি কালিজিরা, জামদানি, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহীর সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি এবং নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদা মাটি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com