আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

রংপুর ও যশোরে কাঁচা চামড়া নিয়ে দিশেহারা মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

রংপুর অঞ্চলে কোরবানির চামড়ার নজিরবিহীন দরপতনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। চামড়ার ৪০ শতাংশ সীমান্ত চোরাচালানকারীদের দখলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। 

এদিকে এখনো জমে ওঠেনি যশোরের রাজারহাট চামড়ার বাজার। কাঙ্খিত দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে রেয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। 

রংপুর অঞ্চলে প্রতি বছর ঈদের এক সপ্তাহে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্যাপারীদের হাতে চামড়া বিক্রি হয় ৯ থেকে ১০ লাখ।

কিন্তু এবার বিক্রি হয়নি এক লাখও। তবে সংগ্রহ হয়েছে ছয় থেকে সাত লাখ চামড়া। অবিক্রিত এসব চামড়া নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন বুঝতে পারছেন না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, এবার চামড়া কেনার আগ্রহ নেই ব্যাপারীদের। বেশিরভাগই গুদাম বন্ধ করে বসে আছে। এর পেছনে কোন যোগসাজেস কাজ করছে বলেও ধারণা তাদের।

তারা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট আর লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন তারা। 

এ বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া কিনছেন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা, ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ৩০ টাকা এবং ভেড়ার চামড়া ৫-১০ টাকায়। 

রংপুর জেলার চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন মিয়া বলেন, কোরবানির চামড়া সংগ্রহের বিষয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনা চালু না হলে এমন সংকট চলতেই থাকবে। 

এদিকে, এখনো জমেনি যশোরের রাজারহাট চামড়ার বাজার। এখন পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে বিক্রি হচ্ছে গরুর চামড়া। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার অন্যান্য জেলা থেকে ক্রেতা না আসায় দুর্ভোগ বেড়েছে। করোনাকাল আর স্থানীয় সিন্ডিকেটের কারণে এবার বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।  

রাজারহাট মোকামে ছোট-বড় মিলিয়ে তিনশ’র বেশি চামড়ার আড়ত আছে। যার উপর প্রায় ২০ হাজার ব্যবসায়ী নির্ভরশীল। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আখাউড়া স্থলবন্দরে বেড়েছে রপ্তানী আয়

করোনায় যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকায় কমেছে ভ্রমণ কর। তবে রপ্তানী কার্যক্রম অনেকটাই স্বাভাবিক থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া স্থলবন্দরে বিগত অর্থ বছরের তুলনায় বেড়েছে রপ্তানী আয়। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে অতিরিক্ত ১৫৫ কোটি টাকার পণ্য  রপ্তানী হয়েছে। প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদাকে কাজে লাগাতে পারলে রপ্তানী আয় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। 

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ-ভারতের নাগরিকদের সুবিধার্থে আখাউড়া শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম শুরুর পর ২০১০ সালে স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু হয়। পূর্ব জনপথের গুরুত্ব এ বন্দর দিয়ে  বাংলাদেশী মাছ পাথর সহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধারনের পন্য সামগ্রী ভারতে রপ্তানীসহ প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসাযাওয়া করে। করোনার প্রভাবে বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ায় ভ্রমণকর কমে গেলেও পণ্য রপ্তানী অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। 

আগে প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে আড়াইশ ট্রাক মালামাল ভারতে রপ্তানী হলেও এখন করোনার কারণে সে সংখ্যা কমে ১৫/২০টিতে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ায় আগে প্রতিমাসে যেখানে ৭০/৭৫ লাখ টাকা ভ্রমণকর আদায় হতো এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে এক হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তাণীর লক্ষ্য মাত্রা ধরা হলেও  প্রায় সাতশ’ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানী হয়েছে যা ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের তুলনায় ১৫৫ কোটি টাকা বেশী।

২০২০-২০২১ অর্থ বছরে এ বন্দর রপ্তানি হয়েছে ছয়শ’ ৯৭ কোটি ৭০ লাখ এক হাজার ৭৫৮ টাকার পণ্য। সেখানে এর আগের অর্থ বছরে রপ্তানি হয় ৫৪২ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৩০ টাকা। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাহিদা থাকা সত্বেও নানা প্রতিবন্ধকতায় কাঙ্ক্ষিত পণ্য রপ্তানী করা যাচ্ছেনা। 

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ভারতের সেভেন সিস্টারে বাংলাদেশী পন্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি। সমন্বিত পদক্ষেপে সমস্যা কাটিয়ে উঠলে রপ্তানী বাড়বে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা। 

প্রচুর চাহিদা থাকা সত্বেও করোনার কারণে রপ্তানী খাতে কাঙ্ক্ষিত আয় না হলেও একশ’ ৫৫ কোটি টাকা রপ্তানী আয়ের দাবী করেন আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সারাদেশে ট্রাকে কম দামে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

শোকের মাস আগস্টে ভর্তুকি মূল্যে দেশব্যাপী পণ্য বিক্রি করবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)

প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর শোকাবহ আগস্ট মাসে কঠোর লকডাউন পরিস্থিতিতে ভোক্তা সাধারণের নিকট ভর্তুকি মূল্যে কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী নিয়োজিত ডিলারের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান ট্রাকে সারা দেশে বিক্রয় করা হবে’। 

এতে জানানো হয়, চলমান জুলাই মাসের ২৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে আগামী আগস্ট মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত। তবে এসময়ে ছুটির দিনে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। 

ভ্রাম্যমান ট্রামে ভর্তুকি মূল্যে তিনটি পণ্য বিক্রি করবে বলে জানিয়েছে টিসিবি। এগুলো হলো- সয়াবিন তেল, মশুর ডাল ও চিনি। 

পণ্যগুলোর জন্য টিসিবি কর্তৃক ধার্যকৃত ভর্তুকি মূল্য হলো, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার একশত (১০০) টাকা, মশুর ডাল প্রতি কেজি পঞ্চান্ন টাকা (৫৫) এবং চিনি প্রতি কেজি পঞ্চান্ন (৫৫) টাকা। 

টিসিবি’র দেশব্যাপী যেসকল অনুমোদিত ডিলার আছে, তাদের মাধ্যমে এই কাজ পরিচালিত হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সুন্দরবনে বেড়েছে বাঘের বিচরণ

২০১৫ ও ২০১৮ সালে বাঘ জরিপে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের সংখ্যা কম ছিল। গত দুই-এক বছরে বনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইদানীং ওই এলাকায় বাঘের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় পুরো সুন্দরবন পানিতে ডুবে

 যায়। তখন বনের অভ্যন্তরে বনবিভাগের পুকুরপাড়ে বাঘের অবস্থান দেখা গেছে। এ ছাড়া কাছাকাছি সময়ে বাঘের আক্রমণে পশ্চিম সুন্দরবনের কয়েকটি স্থানে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এতে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন।তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ পদ্ধতিতে বনবিভাগের জরিপে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘ দেখা যায়। এরপর ২০১৮ সালে ইউএসএইড বাঘ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিপে বনে ১১৪টি বাঘ দেখা যায়। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের জরিপকে বেজলাইন (ভিত্তি) ধরে গবেষণায় ৪২ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছর তৃতীয় পর্যায়ে জরিপ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই জরিপে বনে বাঘের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। নতুন গবেষণায় বাঘ জরিপ ছাড়াও বাঘের শিকার হরিণ ও শূকর কি পরিমাণ আছে তা দেখা হবে। বাঘের আবাসস্থল নিয়েও গভীর পর্যবেক্ষণ থাকবে।

যেখানে সুন্দরি গাছ বেশি আছে, সেখানে বাঘ থাকতে পছন্দ করে নাকি কেওড়া গাছ বেশি সেখানে থাকে। ট্র্যাপিংয়ের জন্য কিছু ক্যামেরাও কিনতে হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাঘের বর্ধিত সংখ্যাটা ধরে রাখা, ন্যূনতম বাঘ যেন না কমে। বন কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের করমজল ও কলাগাছিয়ায় যেভাবে হরিণ, কুমির, কচ্ছপের ব্রিডিং গ্রাউন্ড হয়েছে একইভাবে বনে একটি বড় এলাকাকে বাঘের অভয়ারণ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বনের কটকা ও নীলকমল অংশকে বাঘের ব্রিডিং গ্রাউন্ড বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাবনা আকারে নেওয়া হয়নি। জানা যায়, ২০১৫ সালে জরিপে দেখা গেছে, একটি বাঘ সুন্দরবনে ১৫-১৭ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ঘোরে। ফলে ব্রিডিং গ্রাউন্ডের জন্য নদী ও খাল থাকায় বিশাল এলাকাকে কীভাবে আটকানো যায় বা ‘ন্যাচারাল ব্রিডিং’-এর জন্য কীভাবে বাঘ-বাঘিনীকে একই জায়গায় রাখা যায় সে নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।  জানা যায়, এ বছর ১৬ মার্চ পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পায়রাটুনি এলাকায় বাঘের আক্রমণে আবুল কালাম নামে এক বাওয়ালি নিহত হয়েছেন। পায়রাটুনি এলাকায় গোলপাতা কাটার সময় রয়েল বেঙ্গল টাইগার আক্রমণ করে তাকে। এরপর ১৪ এপ্রিল বনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের হোগলদড়া খাল এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে হাবিবুর রহমান নামে এক মৌয়াল নিহত ও হলদিবুনিয়ার আমড়াতলি এলাকায় আরেকটি বাঘের আক্রমণে রবিউল ইসলাম শেখ আহত হন।

এদিকে সুন্দরবনে বাঘ টিকিয়ে রাখতে নানারকমের চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন বাঘ গবেষকরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত জানান, সুন্দরবনের ভিতরে ভেসাল চলাচল ও মুভমেন্ট বন্ধ করতে হবে। বাঘ নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করে। পিকনিক পার্টি বনের মধ্যে উচ্চশব্দে মাইক বাজাতে থাকে- এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রথমত. বন থেকে চোরা শিকারি তাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত. পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করতে হবে। ইকো সিস্টেমে কোনো একটা অংশে ব্যাঘাত হলে তার প্রভাব বাঘের ওপর পড়ে। এ ছাড়া বনে মিষ্টি পানির প্রবাহ রাখতে হবে। মিষ্টি পানির অভাবে লবণাক্ততা বাড়লে গরান বনের আধিক্য বাড়বে, পরিবেশ পরিবর্তন হবে। ফলে বাঘের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হবে। জানা যায়, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতি বছরের মতো আগামীকাল বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাড়ছে কফি-কাজুবাদামের চাহিদা, পাহাড়ে ব্যাপক সম্ভাবনা

বাড়ছে কফি-কাজুবাদামের চাহিদা, পাহাড়ে ব্যাপক সম্ভাবনা

দেশে কফি কতটা জনপ্রিয়, সেটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কফির পাশাপাশি বাড়ছে কাজুবাদামেরও চাহিদা। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে দেশে কাজুবাদাম আমদানি বেড়েছে ৩২ গুণ। কফি ও কাজুবাদাম দুটি-ই আমদানির মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণ হয়। সম্প্রতি পাহাড়ে এ দুই ফসল চাষে দারুণ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরকারও পাবর্ত্য এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের জন্য বিস্তর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নেয়া হয়েছে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমীক্ষা বলছে, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান— এই তিন পার্বত্য জেলায় অন্তত পাঁচ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে আছে, যেগুলো কফি ও কাজুবাদাম চাষের জন্য উপযুক্ত। এর মধ্যে ন্যূনতম দুই লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম আবাদ করা গেলে বছরে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করা যাবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়াবে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। বাকি জমির মধ্যে এক লাখ হেক্টরেও কফি আবাদ করা গেলে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা যাবে। এক লাখ হেক্টরে দুই লাখ টন কফি উৎপাদন সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা।

কফি-কাজুবাদাম উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও কফি-কাজুবাদামের বিশাল চাহিদা রয়েছে। আমরা যেসব পণ্য রফতানি করি, সেগুলো থেকে এ দুই পণ্যের দামও বেশি। সেজন্য এসব ফসলের চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়াতে হবে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে কাজুবাদাম ও কফির উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এসব ফসলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। এটি করতে পারলে ওই এলাকার অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটবে। মানুষের জীবনযাত্রার মানের দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কাজুবাদাম ও কফির মতো অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। আমরা বিনামূল্যে উন্নত জাতের চারা, প্রযুক্তি ও পরামর্শসেবা দিচ্ছি। গত বছর কাজুবাদামের এক লাখ ৫৬ হাজার চারা বিনামূল্যে কৃষকদের দেয়া হয়েছে; এ বছর তিন লাখ চারা দেয়া হবে।’

ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, দেশে যেন কাজুবাদামের প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে সেজন্য কাঁচা কাজুবাদাম আমদানির ওপর শুল্কহার প্রায় ৯০ শতাংশ থেকে নামিয়ে মাত্র ৫ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে।

হিসাব মতে, দেশের আয়তনের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। এর তিনটি জেলার মোট আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু আবাদযোগ্য ফসলি জমি মোট ভূমির মাত্র ৫ শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯২ শতাংশ উঁচুভূমি, ২ শতাংশ মধ্যম উঁচুভূমি এবং ১ শতাংশ নিচুভূমি আছে। সমতল জমির অভাবে এখানে ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ খুবই সীমিত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে পার্বত্য এলাকার মোট ভূমির প্রায় ২২ শতাংশ আবাদের আওতায় আনার সম্ভাবনা আছে। এ এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও আবহাওয়া বিবেচনায় কফি ও কাজুবাদাম এবং মসলাজাতীয় ফসল আবাদের অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চলের পার্বত্য বৈশিষ্ট্য অনুরূপ জমিও কাজুবাদাম ও কফি চাষের উপযোগী।

কাজুবাদামের বাজার
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে, দেশে কাজুবাদামের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ চাহিদার জোগানে দ্রুত বাড়ছে আমদানির পরিমাণ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার কেজি কাজুবাদাম আমদানি হয়েছিল। শেষ তথ্য পর্যন্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাজুবাদাম আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কেজি। অর্থাৎ চার বছরে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩২ গুণ।

এদিকে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার তথ্য বলছে, বর্তমানে বিশ্বে প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ভারতে, সাত লাখ ৪৬ হাজার টন। এছাড়া ভিয়েতনামে চার লাখ ও আফ্রিকার দেশগুলোতে ১২ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদিত হয়। গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে কাজুবাদাম উৎপাদন হয়েছে মাত্র দেড় হাজার টন।

‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের প্রস্তাবনা সূত্রমতে, বিশ্বে কাজুবাদামের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে কাজুবাদামের বাজার রয়েছে ৯.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের। এর মধ্যে ভিয়েতনাম একাই প্রায় ৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার রফতানি করে। বাকি দেশগুলোর মধ্যে ভারত সর্বোচ্চ ৬৭৪ মিলিয়ন ডলার কাজুবাদাম রফতানি করে। ভারতে উৎপাদন বেশি হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে রফতানি কম হয়।

কফির উৎপাদন ও বাজার
ক্যাফেইনসমৃদ্ধ কফি বিশ্বে অন্যান্য পানীয়ের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সমাদৃত। কফি পৃথিবীর প্রায় ৭০টি দেশে উৎপাদন হয়।

ওই প্রকল্পের প্রস্তাবনা সূত্রের তথ্যানুসারে, বিশ্বে কফির আন্তর্জাতিক বাজার প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের। কফির বিশ্ব বাণিজ্যে ব্রাজিল প্রথম স্থান দখল করে আছে, যার অংক ৪.৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে বিশ্বে মোট কফি উৎপাদন হয়েছে ৯০ লাখ টন। সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে ৩৫.৫৮ লাখ টন এবং ভিয়েতনামে ১৮.৩০ লাখ টন উৎপাদন হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা, বান্দরবান জেলার রুমা, নীলফামারী, মৌলভীবাজারসহ অন্যান্য জেলায়ও প্রচুর কফি চাষ হচ্ছে। এই চাষাবাদকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাহাড়ি অঞ্চলসহ সারাদেশের যেসব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফির চাষাবাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে; তা চাষের আওতায় আনতে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২১-২৫ মেয়াদের এ প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজুবাদাম এবং কফি ফসলের উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। শিগগিরই দক্ষতা উন্নয়নে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে—কাজুবাদামের ওপর দুই হাজার ২৫০টি প্রদর্শনী, কফির ওপর পাঁচ হাজার ২৫০টি প্রদর্শনী এবং ৪৯ হাজার ৫০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ। এছাড়া কাজুবাদামের উচ্চফলনশীল নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন এবং ২৫ হাজার জার্মপ্লাজম সংগ্রহসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে প্রকল্পের আওতায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com