আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
আলোকিত স্থাপনা: জামা মসজিদ
আলোকিত স্থাপনা: জামা মসজিদ

ভারতের বৃহত্তম মসজিদ, দিল্লিতে অবস্থিত, ‘জামা মসজিদ’। আগে মসজিদ-ই-জাহান-নুমা নামে পরিচিত ছিল। মুঘল সম্রাট শাহজাহান ১৬৪৪ থেকে ১৬৫৬ সালের মধ্যে মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির নির্মাণ কাজে সে সময় প্রায় ১০ লক্ষ রুপি খরচ হয়। মসজিদের অভ্যন্তরে লাল বেলে পাথর ও মার্বেল ব্যবহার করা হয়েছে। একসাঙ্গে প্রায় ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নামায আদায় করতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

তুরস্ক ও ধর্ম: ইস্তাম্বুলের প্রাচীন গির্জা হাগিয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে না মসজিদ হবে, তা ঠিক হবে আদালতে

তুরস্ক ও ধর্ম ইস্তাম্বুলের প্রাচীন গির্জা হাগিয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে না মসজিদ হবে, তা ঠিক হবে আদালতে
হাগিয়া সোফিয়া

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের হাগিয়া সোফিয়া-কে মসজিদে পরিণত করা হবে কিনা – এ ব্যাপারে আজ সেদেশের এক আদালতের যে রায় দেবার কথা ছিল, তা ১৫ দিনের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

দেড় হাজার বছরের পুরোনো ইস্তাম্বুলের হাগিয়া সোফিয়া এক সময় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা, পরে তা পরিণত হয় মসজিদে, তারও পর এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের তুরস্ক আবার এটাকে মসজিদে পরিণত করতে চায়, এবং আদালত পক্ষে রায় দিলে তা হতে পারে।

তবে মাত্র ১৭ মিনিটের শুনানীর পর তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সংস্থা – দি কাউন্সিল অব স্টেট – বলেছে তারা ১৫ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে একটি রুলিং দেবেন।

মসজিদ না জাদুঘর?

হাগিয়া সোফিয়া নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তখনকার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে। প্রায় ১০০০ বছর ধরে এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা।

পরে ১৪৫৩ সালে যখন ইস্তাম্বুল অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে চলে যায়, তখন একে পরিণত করা হয় মসজিদে।

১৯৩০এর দশকে এটিকে পরিণত করা হয় এক জাদুঘরে। এটি এখন ইউনেস্কো-ঘোষিত একটি বিশ্ব-ঐতিহ্য স্থান।

তুরস্কের ইসলামপস্থীরা বহুকাল ধরেই চাইছিলেন এটিকে আবার মসজিদে পরিণত করতে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদলীয় এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছিলেন।

তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দিক থেকে হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার সমালোচনা করা হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ানও বেশ কিছুকাল আগে হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার কথা বলেন। গত বছর মি. এরদোয়ান এক নির্বাচনী সভায় এই পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।

তুরস্ক ও ধর্ম ইস্তাম্বুলের প্রাচীন গির্জা হাগিয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে না মসজিদ হবে, তা ঠিক হবে আদালতে
হাগিয়া সোফিযা হচ্ছে তুরস্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল

ইস্টার্ন অর্থডক্স চার্চের প্রধান এর বিরোধিতা করেছেন। গ্রিস – যে দেশে লক্ষ লক্ষ অর্থডক্স খ্রীষ্টানের বাস – তারাও এর বিরোধিতা করেছে।

গ্রিসের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিনা মেনডোনি অভিযোগ করেছেন, তুরস্ক উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় চেতনা জাগিয়ে তুলতে চাইছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাগিয়া সোফিয়ার মত একটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানে ওই প্রতিষ্ঠানের আন্ত:-সরকার কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোন পরিবর্তন করা যাবে না।

ইউনেস্কোর উপপরিচালক আরনেস্তো রামিরেজ একটি গ্রিক সংবাদপত্রে দেয়া সাক্ষাতকারে এর সাথে একমত প্রকাশ করে বলেছেন, এরকম পরিবর্তন আনতে হলে ব্যাপকভিত্তিক অনুমোদন প্রয়োজন।

জাতিসংঘের এই প্রতিষ্ঠানটি তুরস্কের কাছে এ প্রস্তাব সম্পর্কে একটি চিঠি দিয়েছে। কিন্তু মি. রামিরেজ জানান, তারা কোন উত্তর পাননি।

হাগিয়া সোফিয়ার বিচিত্র ইতিহাস

বসপরাস প্রণালীর পশ্চিম পাড়ে ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকায় গম্বুজশোভিত এই বিশাল ঐতিহাসিক ভবনটি খুব সহজেই দর্শকদের নজর কাড়ে।

সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের আদেশে এই হাগিয়া সোফিয়া নির্মাণ শুরু হয়েছিল ৫৩২ খ্রীষ্টাব্দে। ইস্তাম্বুল শহরের নাম তখন ছিল কনস্টান্টিনোপল, যা ছিল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী – যাকে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যও বলা হয়।

হাগিয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার সমর্থকরা এর বাইরে নামাজ পড়ছেন
হাগিয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার সমর্থকরা এর বাইরে নামাজ পড়ছেন

এই সুবিশাল ক্যাথিড্রাল তৈরির সময় তখনকার প্রকৌশলীরা ভূমধ্যসাগরের ওপার থেকে নির্মাণসামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন।

হাগিয়া সোফিয়া নির্মাণ শেষ হয় ৫৩৭ সালে। এখানে ছিল অর্থডক্স চার্চের প্রধানের অবস্থান। বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজকীয় অনুষ্ঠান, রাজার অভিষেক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হতো এখানেই।

প্রায় ৯০০ বছর ধরে হাগিয়া সোফিয়া ছিল পূর্বাঞ্চলীয় অর্থডক্স খ্রিষ্টান ধর্মের কেন্দ্রবিন্দু। অবশ্য মাঝখানে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে একটি সংক্ষিপ্ত কালপর্ব ছাড়া, যখন চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিকরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে নেয়। তারা হাগিয়া সোফিয়াকে একটি ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল।

কিন্তু ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে চলে যায় কনস্টান্টিনোপল। এর নতুন নাম হয় ইস্তাম্বুল। চিরকালের মত অবসান হয় বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের।

হাগিয়া সোফিয়ায় ঢুকে বিজয়ী সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে সংস্কার করে একটি মসজিদে পরিণত করতে। তিনি এই ভবনে প্রথম শুক্রবারের নামাজ পড়েন।

তার কয়েকদিন আগে অভিযানকারী বাহিনী এখানে ধ্বংসলীলা চালায়।

অটোমান স্থপতিরা হাগিয়া সোফিয়ার ভেতরের অর্থডক্স খ্রীষ্টান ধর্ম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতীক-চিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলেন বা পলেস্তারা দিয়ে ঢেকে দেন। ভবনের বাইরের অংশে যোগ করা হয় উঁচু মিনার।

১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে একটি মসজিদে পরিণত করতে
১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে একটি মসজিদে পরিণত করতে

ইস্তাম্বুলে ১৬১৬ সালে ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদ নির্মাণ শেষ হওয়া পর্যন্ত হাগিয়া সোফিয়াই ছিল শহরের প্রধান মসজিদ। নীল মসজিদ সহ এ শহরের এবং বিশ্বের অন্য বহু মসজিদের নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করে এর স্থাপত্য।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৮ সালে শেষ হলে অটোমান সাম্রাজ্য পরাজিত হয়। বিজয়ী মিত্রশক্তিগুলো তাদের ভূখন্ডকে নানা ভাগে ভাগ করে ফেলে।

তবে ওই সাম্রাজ্যের অবশেষ থেকেই জাতীয়তাবাদী তুর্কী শক্তির উত্থান হয়। তারা প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক তুরস্ক।

তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক আদেশ দেন, হাগিয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে পরিণত করতে।

হাগিয়া সোফিয়াকে ১৯৩৫ সালে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর এটি তুরস্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনস্থলে পরিণত হয়েছে।

এই হাগিয়া সোফিয়া এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

তুরস্কের ভেতরে এবং বাইরে বহু গোষ্ঠীর জন্য হাগিয়া সোফিয়ার ১৫০০ বছরের ইতিহাস ব্যাপক ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

উনিশ’শ চৌতিরিশ সালে করা এক আইনে এই ভবনটিতে ধর্মীয় প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে একটি মসজিদে পরিণত করতে
১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে একটি মসজিদে পরিণত করতে

কিন্তু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী এবং ধার্মিক মুসলমানরা দাবি করেন যে হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করা হোক। তারা ওই আইনের বিরুদ্ধে ভবনটির বাইরে বিক্ষোভও করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বক্তব্যে এই দাবির প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। গত বছর স্থানীয় নির্বাচনের আগে এক প্রচার সভায় দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, হাগিয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করা ছিল এক “বিরাট ভুল।“

এর পর তিনি তার সহযোগীদের নির্দেশ দেন কিভাবে ভবনটিকে মসজিদে পরিণত করা যায় তা খতিয়ে দেখতে।

পূর্বাঞ্চলীয় অর্থডক্স চার্চের প্রধান – যাকে বলা হয় ইকিউমেনিক্যাল প্যাট্রিয়ার্ক অব কনস্টান্টিনোপল – তার দফতর এখনো ইস্তাম্বুলে। গত মঙ্গলবার প্যাট্রিয়ার্ক প্রথম বার্থোলোমিউ সতর্ক করে দেন যে, এই ভবনকে মসজিদে পরিণত করা হলে সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ খ্রীষ্টান মর্মাহত হবে এবং দুই বিশ্বের মধ্যে ফাটল দেখা দেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, হাগিয়া সোফিয়ায় কোন পরিবর্তন আনা হলে তা এখন যেভাবে দুই ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সেতু হিসেবে কাজ করছে তা বিনষ্ট হবে।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন এ্যাম্বাসাডর এ্যাট লার্জ স্যাম ব্রাউনব্যাক তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন হাগিয়া সোফিয়া এখন যে অবস্থায় আছে তেমনি রাখা হয়।

কিন্তু তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু জোর দিয়ে বলেছেন, এই ভবনটির অবস্থান তুরস্কের ভূখন্ডে, তাই এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গ্রীসের কিছু বলার থাকতে পারে না।

‍“আমরা আমাদের দেশে আমাদের সম্পদ নিয়ে কী করছি তা আমাদের বিষয়” – তুরস্কের টুয়েন্টিফোর টিভিকে বলেন মি. কাভুসোগলু।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যেভাবে শুরু হয়েছে ঈদ

যেভাবে শুরু হয়েছে ঈদ
যেভাবে শুরু হয়েছে ঈদ

মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদ। এ ঈদ হিজরতের পর থেকে শুরু হয়েছে। জাহেলি যুগের মানুষেরা দুই দিন আনন্দ-উৎসব করতো। খেলাধুলায় মেতে উঠতো। তাদের আনন্দ উৎসবের এ দিনকে ঘিরেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিন মুসলমানের আনন্দের জন্য দুই ঈদের ঘোষণা দেন। ঈদের প্রচলনের সে ঘটনা ওঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তখন মদিনাবাসীদের মধ্যে (উৎসব উদযাপনে) বিশেষ দুটি দিন (প্রচলিত) ছিল। সেই দুই দিনে তারা খেলাধুলায় মেতে উঠতো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, (তাদের আনন্দ-উৎসবের) এ দুইটি দিনের তাৎপর্য কী?

মদিনাবাসীরা জানালেন, (হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমরা জাহেলি (অন্ধকার) যুগ থেকে এ দুই দিন খেলাধুলা (উৎসব) করে আসছি।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাআলা এ দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দু’টি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। আর সেই দিন দু’টি হলো-
– ঈদুল ফিতর ও
– ঈদুল আজহা।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ)

তখন থেকেই প্রতি বছর মুমিন মুসলমান আরবি শাওয়াল মাসের ১ তারিখ পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করার তাওফিক দান করুন। ইসলামের রীতি-নীতি চালু রাখার মাধ্যমে প্রিয় নবির ঘোষণার উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আজওয়া খেজুরে যেসব রোগমুক্তির কথা বলেছেন বিশ্বনবি

আজওয়া খেজুরে যেসব রোগমুক্তির কথা বলেছেন বিশ্বনবি
আজওয়া খেজুরে যেসব রোগমুক্তির কথা বলেছেন বিশ্বনবি

হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে তোমরা সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা কর। কারণ ঈমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে অধিক মঙ্গলজনক কোনো কিছু কাউকে দান করা হয়নি।’ (ইবনে মাজাহ)

তাইতো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে সুস্বাস্থ্য। ইবাদত-বন্দেগি থেকে শুরু করে সব কাজেই সুস্বাস্থ্যের বিকল্প নেই। সুতরাং মানুষের উচিত সব সময় সুস্থ থাকার চেষ্টা করা।

রোগ-ব্যাধি থেকে সুস্থতা লাভে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কোনো সাহাবি যখন অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন তিনি তাদের দেখতে যেতেন। তাদের শরীরে হাত বুলিয়ে দিতেন। তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন এবং সুস্থতা লাভের পরামর্শ দিতেন।

হজরত সাদ রাদিয়াআল্লাহু আনহু একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে যান এবং হৃদরোগের চিকিৎসার নসিহত পেশ করেন-

হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখতে এসেছিলেন। তিনি আমার বুকের ওপর হাত রাখলেন তখন আমি হৃদয়ে শীতলতা অনুভভ করলাম।
তিনি বলেন, তোমার হৃদরোগ হয়েছে।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আজওয়া খেঁজুর খেতে দিয়ে বললেন, তুমি সাতদিন আজওয়া খেজুর খাবে তাহলে তুমি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।’ (আবু দাউদ)

এমনিতেই খেজুর অনেক উপকারি। বহু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ খেজুর। আর খেজুরের মধ্যে আজওয়া খেজুর অনেক উন্নত এবং দামি। আর এতে রয়েছে মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি উপাদান। অন্য হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন-

হজরত সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, ওই ব্যক্তিকে বিষ ও জাদু-টোনা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

যখনই সাহাবায়ে কেরামের মাঝে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতেন, প্রিয় নবি তাকে দেখতে যেতেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ যখন অসুস্থ হয়ে যেতেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ডান হাত রোগীর শরীরের বুলাতেন এবং বলতেন-
اَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ اَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ اِلَّا شِفَائُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقْمًا
উচ্চারণ : ‘আজহিবিল বাসা রাব্বান নাসি, ওয়াশফি আংতাশ শাফি লা শিফাআ ইল্লাহ শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাক্বামা।’ (বুখারি ও মুসলিম)

অর্থ : হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর করে দিন এবং সুস্থতা দান করুন। আপনিই সুস্থতা দানকারী। আপনার সুস্থতা ব্যতিত কোনো সুস্থতা নেই। এমন সুস্থতা যা কোনো রোগকে বাকি রাখে না।’

মুমিন মুসলমানের জন্য আবশ্যক হচ্ছে নিজেদের সুস্থ রাখতে নিয়মিত খেলাধূলা, ব্যায়াম ও সাঁতার কাটা। নিয়মিত পরিশ্রম করা। যা মানুষের সুস্থতার জন্য জরুরি। আর বিশ্বনবির শেখানো এ দোয়া বেশি বেশি পড়া এবং আমল করা-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-
اَللهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আ’ঝযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুব্‌নি ওয়াল বুখলি ওয়া দ্বলাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রজিাল।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে থেকে চিন্তা, শোক, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের ওপর জোর-জবরদস্তি থেকে আশ্রয় চাই।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উৎকণ্ঠা, মনোকষ্ট, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণগ্রস্ততা এবং মানুষের কর্তৃত্বাধীন হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

সুতরাং মানুষের উচিত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত নসিহতগুলো মেনে হৃদরোগসহ যাবতীয় রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। নিয়মিত খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি দোয়া করার তাওফিক দান করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

চেন্নাইয়ের ডিটেনশান ক্যাম্পে ১৪ বাংলাদেশিসহ তাবলীগের বহু বিদেশি সদস্য

তাবলীগে যোগ দিতে যাওয়া ১২৯ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে ২৯ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন, চেন্নাইয়ের এই জেলে আটক রয়েছেন
তাবলীগে যোগ দিতে যাওয়া ১২৯ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে ২৯ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন, চেন্নাইয়ের এই জেলে আটক রয়েছেন

দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলীগ জামাতের সমাবেশে যোগ দিতে আসা ১২৯ জন বিদেশী তাবলীগ সদস্যকে চেন্নাইয়ের একটি বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে।

ভারতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশী তবলীগ সদস্য আটক আছেন, কিন্তু চেন্নাইয়ের মতো বন্দী শিবিরে তাদের রাখা হয়নি কোথাও। অভিযোগ উঠেছে জামিন পাওয়া সত্ত্বেও আটক তাবলীগ সদস্যদের ছাড়া হয় নি।

চেন্নাইয়ের পুল্লাল কারাগারের ভেতরেই একটি ভবনকে বন্দী শিবির নাম দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৯টি দেশের ১২৯ জন তাবলীগি জামাত সদস্য আটক আছেন।

তাদের মধ্যেই বন্দী হয়ে আছেন বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা এ কে সামসুল হক।

মি. হকের ছেলে এহতেশাম ইবনে শামস বলছিলেন, মাস দুয়েক বাবার খোঁজই পাননি তারা।

“বাবা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দিল্লি গিয়েছিলেন। সমাবেশ শেষ হওয়ার পরে লকডাউন হয়ে যায় ওখানে।”

“অনেক চেষ্টা করেও খোঁজ পাচ্ছিলাম না। মাস দুয়েক পরে জানতে পারি যে বাবাকে চেন্নাইতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধরার সময়েই তো টাকা পয়সা, মোবাইল সব নিয়ে নিয়েছিল। তাই কোনও যোগাযোগই করা যায়নি,” বলছিলেন মি. শামস।

১২৯জন বিদেশি তাবলীগ জামাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় তামিলনাডুর ১৫টি জায়গা থেকে মার্চ আর এপ্রিলের শুরুতে। এদের মধ্যে ১২ জন নারীও আছেন।

তারপর থেকে দুটি কারাগারে রাখা হয়েছিল এঁদের, কিন্তু এখন চেন্নাইয়ের পুল্লাল জেল চত্বরেই একটি ভবনকে ডিটেনশান সেন্টার বা বন্দী শিবির বানিয়ে সেখানে রাখা হয়েছে।

ওই বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে সক্রিয় তামিলনাডুর এক রাজনৈতিক নেতা এম এইচ জাওয়াহিরউল্লা।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, “পুলিশ এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তামিলনাডু গণস্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী। বলা হয়েছে এরা রোগ ছড়াচ্ছিলেন। তাছাড়াও বিদেশী আইনের দুটি ধারা অনুযায়ী এঁদের বিরুদ্ধে ভিসার নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগও আনা হয়েছে।”

“তামিলনাডুর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও এঁদের সবাইকে চেন্নাইয়ের পুল্লাল জেলের শিশু-কিশোর বন্দীদের থাকার জন্য একটি ভবনে রাখা হয়।”

জামিন পাওয়ার পরেও তাবলীগি জামাতের অনেককে বন্দীশিবির থেকে ছাড়া হয় নি
জামিন পাওয়ার পরেও তাবলীগি জামাতের অনেককে বন্দীশিবির থেকে ছাড়া হয় নি

“মাঝে একবার সবাইকে সইদাপেট জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন আবার পুল্লাল জেলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।”

“আইন অনুযায়ী বিদেশী নাগরিকদের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ৫টি বন্দীশালাতেই আটক রাখা যায়। যে কোনও জেলে তাদের রাখার নিয়ম নেই। এখন আবার তাদের চেন্নাই জেলের সেই শিশু-কিশোর বন্দীদের ভবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, কিন্তু জেলের ভেতরে হলেও বিশেষ আদেশ বলে সেটিকে বন্দী শিবির বা ডিটেনশান ক্যাম্প নাম দেওয়া হয়েছে। সেখানেও আইন ভাঙ্গা হয়েছে,” বলছিলেন মি. জাওয়াহিরউল্লা।

৮ জন নারী সহ ৯৮ জন তাবলীগ সদস্যকে জামিন দিয়েছে বিভিন্ন আদালত। জামিন পাওয়ার পরেও তাদের বন্দী শিবির থেকে ছাড়া হয়নি।

আর বাকি ৩১ জন তাবলীগ সদস্যকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ। কিন্তু তাদেরও পুলাল জেলের আরেকটি ভবনে রাখা হয়েছে, যেটিকে বিশেষ নাম দিয়ে বন্দী শিবির বানানো হয়েছে।

এম এইচ জাওয়াহিরউল্লা বলছিলেন, “একটি ভবনে বড়জোর ৩০ কি ৪০ জন থাকতে পারে। কিন্তু সেখানে ৯৮ জনকে রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নারীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করার কথা, সেটা মানা হয় নি।”

“পানীয় জলের সমস্যা আছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের ঐ শিবিরে। জেলের অন্য বন্দীদের যে খাবার দেওয়া হয়, সেই একই খাবার তাবলীগ সদস্যদেরও দেওয়া হয়।”

“বাকি যে ৩১ জন, তাদেরকে এই ভবনটিতে আর রাখা হয় নি – সেটা সম্ভব হত না। তাই অন্য একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিটা ব্যাপারেই তামিলনাডু সরকার আইন ভঙ্গ করেছে।”

অন্যদিকে খুলনায়, সামসুল হকের পরিবার রয়েছে চিন্তায়, কারণ তার হার্টের সমস্যা আছে।

বন্দী শিবিরে কী চিকিৎসা হচ্ছে, তা অতদূর থেকে জানাও সম্ভব হচ্ছে না, কথাও বলা যাচ্ছে না তার সঙ্গে, বলছিলেন মি. হকের পুত্র এহতেসাম ইবনে শামস।

“আমার বাবা হার্টের রোগী। সঙ্গে পাশের এলাকার একজন গেছেন, তার ডায়াবেটিস আছে। বন্দী শিবিরে ওষুধপত্র, চিকিৎসার কী ব্যবস্থা হচ্ছে জানতে পারছি না। কথা বলাও যাচ্ছে না,” বলছিলেন মি. শামস।

মি. জাওয়াহিরউল্লার কথায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশী তাবলীগি সদস্য ভারতে এখন রয়েছেন। কিন্তু তামিলনাডু ছাড়া কোথাও তাদের বন্দী শিবিরে রাখা হয়নি। কোথাও মসজিদে, কোথাও হজ ভবনে থাকার ব্যবস্থা করেছে মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি।

চেষ্টা করেও এ নিয়ে তামিলনাডু সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া জোগাড় করা যায়নি।

বিদেশি তাবলীগ জামাতের সদস্যদের বিষয়টি এখন সুপ্রীম কোর্টে পৌঁছেছে।

শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছে ওই বিদেশি নাগরিকদের যদি কালো তালিকাভুক্ত করে ভিসা বাতিল করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাদের কেন এখনও ভারতে রেখে দেওয়া হয়েছে? কেন তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় নি!

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আলোকিত স্থাপনা: আল ফাতেহ গ্র্যান্ড মসজিদ

আলোকিত স্থাপনা: আল ফাতেহ গ্র্যান্ড মসজিদ
আলোকিত স্থাপনা: আল ফাতেহ গ্র্যান্ড মসজিদ

বাহরাইনের মানামা শহরে অবস্থিত বৃহত্তম মসজিদ, আল ফাতেহ গ্র্যান্ড মসজিদ। মসজিদটির আয়তন ৬,৫০০ বর্গ মিটার। মসজিদটিতে ৪টি গম্বুজ ও ২টি মিনার রয়েছে। ১৯৮৭ সালে বাহরাইনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ আল ফাতেহের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়। একসঙ্গে ৭ হাজার মানুষ নামায আদায় করতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com