আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে সাড়ে ৮২ মণ জাটকা ইলিশ জব্দ

মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে এমভি কর্ণফুলী-৪ নামের এক যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৮২ মণ জাটকা ইলিশ মাছ জব্দ করেছে নৌ পুলিশ।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে এসব জাটকা জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কবির হোসেন খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জ ধলেশ্বরী নদীতে ভোলা থেকে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী-৪ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৩০০ কেজি (সাড়ে ৮২ মণ) অবৈধ জাটকা ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।

jagonews24

তিনি আরও জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে মুক্তারপুর নৌ-ফাঁড়িতে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা টিপু সুলতানের উপস্থিতিতে জেলা সদরের বিভিন্ন মাদরাসা, এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে জব্দকৃত মাছ বিতরণ করা হয়েছে।

মৎস্য

রঙিন মাছের সুইমিংপুল

জারে চাই যেমন মাছ

বিক্রেতাকে শুরুতেই বলে নেবে, যাদের ‘কই মাছের প্রাণ’, এমন মাছ দিতে—যাদের সহজেই ‘অক্কা পাওয়া’র কারণ নেই। এর তালিকায় সবার আগে আসবে গাপ্পি মাছের নাম। তারপরে নিতে পারো গোল্ডফিশ, অ্যানজেল, রেইনবো, পার্ল গৌরামি, প্লাটিস, মলি, নিওন টেট্রা ইত্যাদি মাছ। তবে ছোট জারে ফাইটার ফিশ বা বড় আকারের কোনো মাছ না রাখাই ভালো।

চাইলে ছোট্ট ‘থাই কচ্ছপ’ও পালতে পারো জারে। তবে ভুলে যেয়ো না, ‘থাই’ হোক আর যা–ই হোক, কচ্ছপ কিন্তু মাছ খেতে ওস্তাদ! অতএব কচ্ছপ পালতে গেলে মাছের আশা ছেড়ে দাও আর মাছ পালতে গেলে কচ্ছপের আশা ছেড়ে দাও। কোনোটার আশাই না ছাড়তে পারলে সহজ সমাধান, পাশাপাশি দুটো জার কিনে নাও! তাতে সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না! কচ্ছপও পালা হলো, কিন্তু মাছও মরল না।

দরদাম

৬ ইঞ্চি, ৮ ইঞ্চি, ১০ ইঞ্চি থেকে ১২ ইঞ্চি আকারের জার যাবে কেনা। দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা। আলাদাভাবে কিনতে গেলে জারের তলানিতে দেওয়ার জন্য কয়েক মুঠো পাথর ৫০ টাকা, প্লাস্টিকের গাছ ৪০-৬০ টাকা।

মাছের মধ্যে প্রতি জোড়া গোল্ডফিশের দাম পড়বে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা। লম্বাটে গড়নের এক জোড়া টাইগার শার্ক ৮০ থেকে ১৬০ টাকা। কমেড ফিশের দাম প্রতি জোড়া ৪০ থেকে ১২০ টাকা। রুপচাঁদা মাছের মতো দেখতে মাঝারি অ্যাঞ্জেল ফিস পেতে পারো ২০০ টাকার মধ্যে। বিচিত্র রঙের ডিসকাস ফিশ কিনতে হলে গুনতে হবে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। কিছুটা ভিন্নতা আনতে ধূসর শরীর ও গুচ্ছ লেজের ব্ল্যাকমুর ফিশ বেছে নেওয়া যাবে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। …থাক আমি আর বলছি না। কত যে রংবাহারি বিচিত্র সব মাছ, বিক্রেতার মুখে শুনে দোকান ঘুরে ঘুরে দেখে পছন্দেরটা বেছে নিয়ো। ও হ্যাঁ, থাই কচ্ছপ জোড়া নিতে পারো ৬০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে।

একই সঙ্গে মাছের খাবার কিনে নিতে পারো। সে ক্ষেত্রে ১০০ গ্রাম খাবারের দাম পড়বে ৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম ১০০ গ্রাম খাবারের দাম হতে পারে ২৫০ টাকা। সাজানোর জন্য আরও নিতে পারো সিলিকন দিয়ে তৈরি কোরাল, পাওয়া যাবে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আকৃতিভেদে প্লাস্টিকের জেলিফিশ পাওয়া যাবে ১০০ থেকে ৫০০ টাকায়।বিজ্ঞাপন

জারের যত্নআত্তি

  • যে পাত্রে বা প্লাস্টিকের ব্যাগে মাছ নিয়ে আসবে, সেটার পানিটুকু নতুন জারেও রাখো। না হয় সম্পূর্ণ নতুন তাপমাত্রায় নতুন পানিতে মাছগুলো খাপ খাইয়ে নিতে পারবে না। অস্বস্তিতে পড়বে। এমনকি মারাও যেতে পারে।
  • প্রতিদিন মাছদের খাবার দিতে হবে নির্দিষ্ট একটি সময়ে। সকালে দেওয়াই ভালো। প্রতিটি মাছের জন্য দিনে ৩–৪টি দানাদার খাবারই যথেষ্ট। তবে বেশি আদর করতে গিয়ে খাবারের পাল্লাটাও বাড়িয়ে দিয়ো না আবার। তুমি-আমি বেশি খেলে যেমন বদহজম হয়, মাছের বেলায়ও তা–ই! বেশি খাওয়াতে গিয়ে মাছের মরণ ডেকে এনো না যেন।
  • জার যেহেতু এমনিতেই ছোট, তাই তাতে জীবন্ত গুল্মজাতীয় গাছ না রাখাই ভালো। জীবন্ত গাছের আদলে প্লাস্টিকের গাছই ভালো।
  • জারের পানি সাধারণত ৭-১০ দিন পরপর পরিষ্কার করতে হয় ( মানে ঘোলাটে পানি বদলে নতুন পানি দিতে হয়)। তবে ৭ দিন ‘ফিল-আপ’ হওয়ার জন্য বসে থেকো না আবার। জারের পানি ঘোলাটে হলেই পরিষ্কার করা চাই।
  • পানি বদলানোর সময় খুব সতর্ক থাকতে হবে। জারের পুরো পানি একবারেই পরিবর্তন করা যাবে না। ভুলেও মাছ তুলে অন্যত্র রাখা যাবে না। জারের পানি এমনভাবে পাল্টাতে হবে যেন জারে অন্তত এক–তৃতীয়াংশ পুরোনো পানি থেকে যায়। মাছগুলোও সেই পানিতেই থাকবে। এবার প্রয়োজনমতো নতুন পানি যোগ করতে পারো। তাতে নতুন ও পুরোনো পানির মিশেলে মাছগুলো স্বচ্ছন্দে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।
  • ছোট জারে অক্সিজেন দেওয়ার সুযোগ থাকে না, তাই সময়–সুযোগ পেলে পরিষ্কার হাতে অথবা কাঠি দিয়ে পানি নেড়েচেড়ে দিতে পারো। এর ফলে মাছগুলো ভালোভাবে অক্সিজেন পাবে।

কোথায় পাবে

রাজধানীর কাঁটাবনসহ বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যায় বৈচিত্র্যময় অ্যাকুয়ারিয়াম ও জার। ঢাকার বাইরেও প্রতিটি শহরের কোনো না কোনো দোকানে পেয়ে যাবে। খোঁজ নিয়ো।

সীমাবদ্ধতা/সতর্কবাণী

  • জারের পানির পরিমাণ অনেক কম থাকে। আমরা যেসব মাছ পালন করি, তার মধ্যে ভালো পানির রিকুয়ারমেন্ট সবচেয়ে কম, তা–ও ২.৫ গ্যালন বা ১০ লিটার।
  • জারের মধ্যে কোনো ফিল্টার ব্যবহার করার জায়গা নেই। শীতের দিনে হিটার তো নেই–ই!
  • জারের এই ছোট্ট সুইমিংপুলে মাছের সাঁতার কাটার জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই।
  • জারের ছোট আকৃতির কারণে সার্ফেস-টু-এয়ার রেশিও কম, তাই গ্যাস এক্সচেঞ্জ কম হয়, ফলে পানিতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। মাছের বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
  • আকারে খানিকটা বড় অ্যাকুয়ারিয়াম মাছের জন্য বেশ আরামদায়ক হতে পারে। অ্যাকুয়ারিয়ামও মাছের জন্য বদ্ধ জেলখানা, তবু জারের চেয়ে ভালো। সম্ভব হলে একই দোকানের জার ছাপিয়ে নজর দিতে পারো অ্যাকুয়ারিয়ামের দিকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

কুশিয়ারী নদীতে জেলের জালে দেড় মন ওজনের বাঘাইড় মাছ

লেখক

সিলেটের কুশিয়ারা নদীতে ধরা পড়েছে প্রায় দেড় মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ। আজ (রবিবার) বিশালাকার মাছটি তোলা হয় সিলেট নগরীর প্রসিদ্ধ মাছবাজার লালবাজারে। কাল (সোমবার) সকালে মাছটি কেটে কেজি ধরে বিক্রি করা হবে। মাছ ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, সকালে ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে ৬০ কেজি ওজনের বাঘাইড়টি কিনে এনেছেন তিনি। আগের রাতে মাছটি ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছিল। মাছটি একসাথে কিনে নেয়ার মতো ক্রেতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই আগামীকাল (সোমবার) সকাল ১০টায় কেজি হিসেবে বিক্রি করা হবে মাছটি। এর আগেও লালবাজারে বিশালাকার বাঘাইড় কেটে বিক্রি হয়েছে কেজি দরে। প্রতি কেজি মাছ দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। মুজিবুর রহমান প্রত্যাশা করছেন কাল সকালে ৬০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছটি বিক্রি করে লাখ টাকার উপরে পাবেন তিনি ।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে কুশিয়ারা নদীতে ধরা পড়া প্রায় ৩শ’ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ লালবাজারে এনে বিক্রি করা হয় প্রায় চার লাখ টাকায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পদ্মায় জেলের জালে পাঙ্গাস-আইড়

লেখক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পদ্মা-যমুনা নদীর মোহনায় বিশাল আকৃতির ১টি পাঙ্গাস, ৩টি আইড় ও ২টি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। মাছগুলো ওজন দিয়ে দেখা যায় পাঙ্গাসটি ১৭ কেজি, আইড়গুলো ১৬কেজি এবং ইলিশ দুটি ৩কেজি ওজনের। মাছটিকে পাড়ে আনলে স্থানীয়রা এক নজর দেখতে ভীড় করে। গতকাল ভোরে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের অদূরে মাঝ নদীতে পদ্মা-যমুনার মোহনায় পাবনার শ্যামগ্রাম এলাকার জেলে হরিপদ হালদারের জালে মাছগুলো ধরা পড়ে।


মাছগুলো বিক্রির উদ্দেশে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় আনলে শাকিল সোহান মৎস্য আড়তের মালিক শাজাহান মিয়া সম্রাট পাঙ্গাসটি ১ হাজার ৪শ’ টাকা কেজি দরে ২৩ হাজার ৮শ’ টাকায়, আইড়গুলো ১ হাজার ৩শ’ টাকা কেজি দরে ২০ হাজার ৮শ’ টাকায় এবং ইলিশ ২টি ২ হাজার টাকা কেজি দরে ৬ হাজার টাকায় মোট ৫০ হাজার ৬শ’ টাকায় কিনে নেন।


পরে তিনি দুপুরে ময়মনসিংহের এক ব্যবসায়ীর নিকট পাঙ্গাসটি ১ হাজার ৫শ’ টাকা কেজি দরে ২৫ হাজার ৫শ’ টাকায়, আইড়গুলো ১ হাজার ৪শ’ টাকা কেজি দরে ২২ হাজার ৪শ’ টাকায় এবং ইলিশ ২টি ২ হাজার ১শ’ টাকা কেজি দরে ৬ হাজার ৩শ’ টাকায় মোট ৫৪ হাজার ৬শ’ টাকায় বিক্রি করেন।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ জানান, পদ্মা নদীর সুস্বাদু পানির বড় মাছগুলো খুবই লোভনীয়। সাধারণ মানুষ কিনতে না পারলেও ধনীরা খবর পেলেই কিনে নেন। বড় মাছে জেলে ও ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পেয়ে খুবই খুশি হন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

এক পাঙ্গাশই ২১৭০০ টাকায় বিক্রি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পদ্মায় ধরা পড়েছে ১৬ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি পাঙ্গাশ। পরে মাছটি বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার ৭০০ টাকায়।

রোববার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মাছটি ১৩শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

দৌলতদিয়া ঘাট সূত্র জানায়, রোববার ভোরে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকা থেকে জয়নাল সরদারের জালে ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির একটি পাঙ্গাশ। পরে মাছটি ওজন দিয়ে দেখা যায়, এর ওজন ১৬ কেজি ৭০০ গ্রাম। মাছটি দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। মাছটি দৌলতদিয়া ঘাটের দুলাল মন্ডলের আড়তে আনলে মাছ ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা ১ হাজার ২৬৫ টাকা কেজি দরে ২১ হাজার ১০০ টাকায় কিনে নেন।

মাছ ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, মাছটি ১৩শ টাকা কেজি দরে ২১ হাজার ৭০০ টাকায় ফরিদপুরের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

ইলিশ বেড়ে দ্বিগুণ

লেখক

অকাল এক বৈশাখ চোখ মেলছে এবার। আনন্দের পরিবর্তে বেদনায় ভারাক্রান্ত এ বৈশাখে একা হয়ে পড়েছে বাঙালি। গত বছরের মতো এবারও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে পহেলা বৈশাখের দিন থেকেই আসছে কঠোর লকডাউন। আবার নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে রোজা। সব মিলিয়ে অন্য রকম এক বাংলা নতুন বছর আসছে বাঙালির জীবনে।

তবে মন ভালো করার মতো সংবাদও আছে এই বৈশাখে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলা নববর্ষ ঘিরে ইলিশের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এবার যোগ-বিয়োগের খাতা খুলে দেখা যাচ্ছে, ইলিশের উৎপাদন গত ১২ বছরে বেড়েছে প্রায় ৭৯ শতাংশ। বিশ্বের ১১টি দেশের মধ্যে ১০টিতে ইলিশের উৎপাদন কমলেও একমাত্র বাংলাদেশেই বাড়ছে প্রতি বছর। বাড়ছে ওজন এবং আকারও।

সর্বশেষ চলতি এপ্রিল মাসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন। এ ছাড়া ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫শ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫১ হাজার, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৮৭ হাজার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ লাখ ৯৫ হাজার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ লাখ ৯৬ হাজার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৭ হাজার, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বছর ইলিশ উৎপাদনের গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ টনের ওপরে ইলিশের উৎপাদন হবে বলে আশা করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। পাঁচ বছর আগে বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ আসত বাংলাদেশ থেকে। প্রতিবেশী ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম; দ্বিতীয় স্থানে ভারত। পাঁচ বছর আগে ভারতে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ ইলিশ উৎপাদিত হতো। তবে চলতি বছর তাদের উৎপাদন প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশে নেমেছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মিয়ানমারে উৎপাদন হয়েছে ৩ শতাংশের মতো। ইরান, ইরাক, কুয়েত ও পাকিস্তানে উৎপাদন হয়েছে বাকি ইলিশ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্বে মোট ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ইলিশের অবদান ১ শতাংশ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রায় ৫ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাদের সারাবছরের মোট আয়ও বেড়েছে। ইকো ফিশ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে জেলেদের মাথাপিছু বার্ষিক গড় আয় ৮৪ হাজার ৬৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা হয়েছে। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ১৫ ভাগ।

ইলিশের উৎপাদন বাড়ার কারণ হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কয়েক বছর ধরে ইলিশ রক্ষায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সবার সহায়তায় বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। এতে জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষা পায়। এ কারণেই ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। ইলিশ মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে বেশ কয়েক বছর ধরে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা (২৫ সেন্টিমিটারের নিচে) ধরা নিষিদ্ধ। এর মধ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জেলেদের ছয়টি অভয়াশ্রম এলাকায় নদীতে নামতে দেওয়া হয় না। এ ছাড়া বর্ষার শেষদিকে প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। এ সময় সরকার তালিকাভুক্ত জেলেদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, মা ইলিশ এবং ডিম ছাড়ার পর জাটকা রক্ষা জরুরি। এবার প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা ও জাটকাবিরোধী অভিযান বেশ কঠোর হওয়ায় আগামীতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়াবে।

উৎপাদন বাড়ার কারণে ইলিশ রপ্তানিতে নিষধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হবে কিনা- এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখনও গ্রামের অনেক মানুষ ইলিশের স্বাদ নিতে পারে না। তারা পর্যাপ্ত ইলিশ খাওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর রপ্তানির কথা ভাবা যেতে পারে বলে মনে করি। পরিস্থিতি এখনকার মতো চললে আগামী দুই বছরের মধ্যে ইলিশের উৎপাদন সাত লাখ টনে পৌঁছবে বলে আশা মন্ত্রীর।

জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ‘সাসটেইন্যাবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও এ সম্পদের উন্নয়ন টেকসই করার লক্ষ্যে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যস্থাপনা প্রকল্প’ মৎস্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে। মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষার্থে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে ২৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, সরকারের নানা উদ্যোগে ইলিশের উৎপাদন ঊর্ধ্বমুখী। সামনে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৬ লাখ টন হতে পারে বলে আশা করছি।

চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক মো. আনিছুর রহমান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়ার পেছনে ২২ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞাটি সবচেয়ে কার্যকরী। এখন প্রচুরসংখ্যক ইলিশ আসছে; আকারেও বেশ বড়।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ পর্যবেক্ষণ সেলের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছর আগে দেশের ২৪টি উপজেলায় বহমান নদীতে ইলিশের বিচরণ ছিল। এখন দেশের অন্তত ১২৫টি উপজেলায় বহমান নদীতে ইলিশের বিচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com