আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

জলে ভাসা পেয়ারার বাজার

ঝালকাঠি, স্বরূপকাঠি ও বানারীপাড়া (ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুর জেলা) এ ৩ উপজেলার সীমান্তে ৫৫ গ্রাম নিয়ে গড়ে উঠেছে পেয়ারা বাগান। প্রতিবছর আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস এলেই পেয়ারার কারণে পাল্টে যায় ওই অঞ্চলের চিত্র। পেয়ারা বেচাকেনার জন্য রয়েছে ভাসমান হাট। প্রতিদিন শত শত নৌকায় চাষিরা আসেন পেয়ারা বিক্রি করতে। ট্রাক ও বড় বড় ট্রলার নিয়ে আসেন পাইকাররা পেয়ারা কিনতে। প্রাকৃতিক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বিদেশি অতিথিরাও আসেন উপভোগ করতে।

বিশেষ করে এ মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি কিশোর-যুবকদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে নির্ধারিত কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় কিশোর-যুবকরা পেয়ারা বাগানে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করে পেয়ারা ও বাগানের ব্যাপক পরিমাণে ক্ষতি করে। পেয়ারা বাগানে ঢুকে পেয়ারা নষ্ট ও ডালপালা ভেঙে তছনছ করে। এতে দিনে দিনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে পেয়ারাচাষিরা। তাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন পেয়ারা বাগান রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, বাংলার আপেলখ্যাত পেয়ারার বাম্পার ফলন হয়েছে ঝালকাঠিতে। বিস্তৃত বাগানে প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকার পেয়ারা উৎপাদিত হয়। ভরা মৌসুমে জমে উঠেছে ভীমরুলী খালে ভাসমান পেয়ারার হাট। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস পেয়ারার মৌসুম। এসময় পাকা পেয়ারার মৌ মৌ গন্ধ নিতে এবং সবুজের সমারোহ দেখতে আসে দেশ ও বিদেশের অনেক মানুষ। স্থানটির নাম ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী গ্রাম, বাংলাদেশের দক্ষিণের একটি উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠি। সদর উপজেলার উত্তরদিকে অবস্থিত ভীমরুলী গ্রাম। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি, বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম।

সরেজমিনে গিয়ে মনে হতে পারে, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার নৌকাবাইচ। কিন্তু তা নয়। এটি বোঝা যায়, স্টিমার বা ট্রলার জাতীয় জলযান ওই পথ দিয়ে গেলে। কোনো প্রতিযোগিতা নয়, সময় ধরতে হবে। দেরি হলেই বিধিবাম। আশপাশের অন্য সবার মতো গতি ধরে এগিয়ে চলা। হুট করেই রাজ্যে প্রবেশ। মনে হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের কোনো নদী-খাল টপকে থাইল্যান্ড কিংবা ভিয়েতনামে এসে পড়লাম কি না! এত্তো পেয়ারা! পেয়ারার রাজ্য! তা-ও আবার জলে ভেসে ভেসে! জলেভাসা বাজার চারদিক। ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় পণ্য নিয়ে শুরু হলো বিক্রি। পানির ওপর জলজ্যান্ত একটি হাট। ঝালকাঠি সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এ জলবাজারে প্রধান পণ্য পেয়ারা। সারি সারি নৌকার ওপর সবুজ-হলুদ পেয়ারা। এর ভারেই নৌকাও ডুবেছে অর্ধেকটা। হাটুরেদের হাঁকডাকে গম গম পুরো এলাকা। এককথায় খালের ওপর এ এক আজব-অবাক করা বাজার।

স্থানীয়দের কাছে জানা যায়, এ অঞ্চলের ‘সবচেয়ে বড়’ ভাসমান হাট এটি, যা পুরো বাংলাদেশেই অনন্য। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড়! তাহলে কি আরও আছে এমন বাজার? হ্যাঁ, আছে তো- পাশের পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির (নেছারাবাদ) কুড়িয়ানা, আটঘর, আতা, ঝালকাঠির মাদ্রা। আরও মজার বিষয় হলো, এসবই পিরোজপুর সন্ধ্যা নদী থেকে বয়ে আসা একই খালপাড়ে। ভীমরুলী জলে ভাসা হাটে পেয়ারা বোঝাই ডিঙ্গি নৌকাগুলো একবার এপাশ, একবার ওপাশ, চাষিদের ভালো দামের আশায় এমন নড়চড়। খালের দু’পাশে ব্যবসায়ীদের আড়ৎ। তারাই কিনবেন। বাংলাদেশের সিংহভাগ পেয়ারা উৎপাদনকারী অঞ্চলের চাষিরা ডিঙ্গিতে বসে বিকিকিনিতে মগ্ন।

ভীমরুলীতে ভাসমান এ পেয়ারা হাট দেখতে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক রিক স্ট্রিল (৬৪)। ঢাকাতেই থাকেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসা বন্ধু নিয়ে বেড়াতে এসেছেন এখানে। সঙ্গে তার স্ত্রীও রয়েছেন। সবাই মিলে ঘুরে ঘুরে দেখলেন পুরো ভাসমান বাজার। তার মন্তব্য- থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের বিভিন্ন বড় বড় শহরে এমন জলেভাসা বাজারের দেখা মেলে। কিন্তু বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে জলেভাসা বাজার-হাট গড়ে ওঠা সত্যিই অবাক করার মতো। তাও আবার জমজমাট হাট।

অর্ধবাংলায় তিনি বলেন, ‘এটি দেখতে সত্যিই চমৎকার!’ অদ্ভুত সুন্দর ভাসমান এ হাট ও তার আশপাশের প্রকৃতি যে কতটা নজরকাড়া হতে পারে, এটি এখানে না এলে বোঝার উপায় নেই! প্রতিবছর শত শত বিদেশি পর্যটক এ স্থানে ভিড় জমান পুরো পেয়ারা মৌসুমজুড়েই। বাংলাদেশিদের জন্যও যা হতে পারে অপূর্ব ভ্রমণকেন্দ্র।

ফল

সবুজ মাল্টায় নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

রাজশাহী: পাহাড়ে মাল্টা চাষের সফলতা এসেছে অনেক আগেই। আর সেই স্বপ্নের হাত ধরে এখন সমতলেও পুষ্টিকর এই সুস্বাদু ফল চাষ হচ্ছে সমানভাবে। শখের বসে বাড়ির ছাদে মাল্টা চাষ করছেন অনেকেই। তবে এখন বাণিজ্যিকভাবেও মাল্টা চাষে সফলতা পাচ্ছেন সমতলের কৃষকরা।

বিশেষ করে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত গোদাগাড়ী, তানোর ছাড়াও দুর্গাপুর উপজেলার রুক্ষ মাটিতে এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টা চাষ বেড়েছে। এতে সফলতাও এসেছে আশানুরূপ।

তাই আম ও পেয়ারার পর এখন মাল্টা চাষ বাড়ছে রাজশাহী অঞ্চলজুড়েই। বাড়ির ছাদ থেকে শখের মাল্টা তাই নেমে এসেছে উত্তরের এই উর্বর কৃষি জমিতে। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাড়িয়াপাড়ার কৃষক আইনাল হক।  সফলতা পাওয়ায় গত তিনবছর ধরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করছেন। বর্তমানে তিন বিঘা জমিজুড়ে মাল্টার বাগান রয়েছে তার। লাভজনক হওয়ায় অন্য ফসল ছেড়ে তিনি এখন মাল্টা চাষি।

কম খরচে অধিক লাভের কথা উল্লেখ করে কৃষক আইনাল হক বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিটি গাছ তিনি ১শ টাকা দরে কিনেছেন। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে একেকটি গাছ ১০ বছর বেঁচে থাকে ও ফল দেয়। এতে বছর বছর চারা কেনার খরচ লাগে না। তাছাড়া মাল্টার জমিতে একইসঙ্গে ফসলও  রোপণ করা যায়। তাই একই জমিতে তিনি এবার রসুনও বুনেছেন। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

খরচের প্রশ্নে আইনাল হক বাংলানিউজকে বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমি থেকে এক লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারেন। এজন্য তার দেখা দেখি অন্য কৃষকরাও এখন মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানান আইনাল হক।

জানতে চাইলে কৃষিবিদ শরীফ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, দেশে প্রথম মাল্টা চাষ শুরু হয় পাহাড়ি অঞ্চলে। তখন ধারণা জন্মেছিল এই ফলটি বুঝি কেবল পাহাড়েই ভালো হয়। কিন্তু সেই বিভ্রম কাটতে বেশি সময় লাগেনি। বাড়ির বেলকুনি ও ছাদে টবের মধ্যে মাল্টা লাগান শৌখিন মানুষরা। এরপর অল্প সময়ে ফল পেয়ে অবাকও হন। তার পরে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন সমতলের কৃষকরাও। উদ্ভাবিত বারী-১ জাতের মাল্টার চারা নিয়ে অল্প জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করেন। এতে সফলতা আসায় মাল্টায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন রাজশাহীর উঁচুতে থাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা। ধীরে ধীরে এখন সম্ভাবনাময়ী মাল্টা চাষ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। লাভজনক হওয়ায় আম প্রধান রাজশাহীতে জায়গা নিতে শুরু করেছে পাহাড়ের ‘মাল্টা’। বাণিজ্যিকভাবে বিঘার পর বিঘা মাল্টা চাষ হচ্ছে।  

এক প্রশ্নের জবাবে শরীফ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, রোগ প্রতিরোধকারী মাল্টার ফলন পাওয়া যায় বছরে দু’বার। এটি নিয়মিত ফল দানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ খাটো, ছড়ানো ও ঝোপালো। মধ্য ফাল্গুন থেকে ফুল আসে। বৈশাখ মাসে ফল ভাঙার উপযোগী হয়। আবারও শ্রাবণ মাসে ফুল আসে। কার্তিক মাসে দ্বিতীয়বার ফল পাওয়া যায়।

ফলটি গোলাকার ও মাঝারি (১৫০ গ্রাম) আকৃতির। পাকা ফলের রঙ সবুজ। ফলের পুষ্প প্রান্তে পয়সা সদৃশ সামান্য নিচু বৃত্ত বিদ্যমান। বারী মাল্টা-১ ফলটির নিচের দিকে পয়সা সদৃশ একটি গোলাকার দাগ থাকে। শাস হলুদ ভাব, রসালো, খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছ প্রতি ৭০-৮০টি ফল ধরে। এখন সব অঞ্চলেই এটি চাষপোযোগী।

উত্তরের সম্ভাবনাময়ী মাল্টা চাষের প্রশ্নে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) শামসুল হক বাংলানিউজকে বারী-১ জাতের মাল্টা এখন সমতলেই ভালো হচ্ছে। স্বাদেও বেশ মিষ্ট। উচ্চ ফলনশীল জাতের এই মাল্টা বছরে দু’বার হয়। এজন্য কৃষকদের ঘরে লাভের অংকটাই বেশি। তবে এই ফলের জন্য খুব সতর্ক থাকতে হয়। অন্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশি পরিচর্যাও করতে হয়। না হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান রাজশাহী কৃষি বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কুলে কপাল খুলছে চরের চাষিদের

রাজশাহী: বাজারে এখন প্রায় সারা বছরই দেখা মেলে কুল বা বরই। দেশি ফল হিসেবে বরইয়ের চাহিদা সব সময়ই তাই থাকে তুঙ্গে। এখন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবিত আপেল কুল, বাউকুলসহ কয়েকটি জাতের কুল চাষ করছেন কৃষক।

মাত্র চার মাসের ফসল। বছরে ফলন পাওয়া যায় তিনবার।

এতেই কৃষকের ঘরে ঢোকে কোটি টাকা। বিশেষ করে লাভ বেশি হওয়ায় চরের কৃষকরা এখন কুল চাষে ঝুকেছেন৷ তাই বছর বছর বাগান বাড়ছেই। কুলে কপাল খুলছে চরের কৃষকদের। কুলেই জীবন বদলের স্বপ্ন দেখছেন তারা।  

রাজশাহীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল রয়েছে বাঘায়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগে সেখানে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। মৌসুমি ফসল ছাড়া সে অর্থে সেখানে কোনো চাষাবাদই হতো না। সেই চরাঞ্চলেই এখন কুল চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষক।

রোদের তীব্রতা ও বালুর কারণে অন্যসব ফসব উৎপাদনে ব্যর্থ হলেও কুল চাষে সফল হয়েছেন চাষিরা। চরাঞ্চলে এখন পেঁয়াজ, রসুন, মসুর, গম, সরিষা, আখ ও শাকসবজির পাশাপাশি আপেল, বাউ ও থাই জাতের কুল চাষ করা হচ্ছে।

শীত থেকে গরমের শুরু অবধি সময়টা দেশি ফলের অভাব মেটায় প্রধানত দেশি কুল বা বরই। বাজারে টক-মিষ্টি গোল বরই ও নারকেল কুলের পাশে আপেল কুল এবং বাউকুল আছে স্বাদ মেটাতে। দাম হাতের নাগালেই। পুষ্টিবিদরা বলেন, কুলে আছে প্রচুর ভিটামিন আর খনিজ উপাদান। এটি দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অন্য হজমজনিত সমস্যার সমাধান করে। ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া আরও অনেক গুণ রয়েছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মার চরাঞ্চল নিয়ে নবগঠিত ইউনিয়ন চকরাজাপুর। প্রায় ৫ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমি এর অন্তর্ভুক্ত। তবে দাবদাহে অন্যসব ফসল উৎপাদনে হিমশিম খেতে হয় চকরাজাপুরের কৃষকদের। সেই রুক্ষ চরেই কুল চাষে সাফল হয়েছেন চাষিরা। তাই কুল চাষে আত্মনিয়োগ করেছেন শিক্ষিত বেকার যুবকও। পরিত্যক্ত জমিতে কুল চাষ করে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন তারা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় যতই দিন যাচ্ছে কুলের আবাদ ততই বাড়ছে।

পদ্মার এই চরে কুল চাষ করে বর্তমানে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন স্থানীয় শফিকুল ইসলাম, সোনা মিঞা ও জামাল উদ্দিনের মতো অনেকে। পদ্মার চরেও যে সোনার ফসল ফলানো যায়, তা প্রমাণ করছেন এই শিক্ষিত বেকার যুবকরাই।  

কুলচাষি শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মার চরের ১০৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। গড়ে বিঘা প্রতি প্রায় দেড়শ মণ করে ফলন হবে বলে আশা করছেন।  

অপর কুলচাষি জামাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাজারে পাইকারি দুই হাজার টাকা মণ দরে বাউকুল বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০ টাকা কেজি পড়ছে৷ তবে খুচরা বাজারে কুল বরই ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪শ টাকা থেকে ২ হাজার ৮শ টাকা দরে।  

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, সাধারণত চরাঞ্চল এ ধরনের কুল বা আম চাষের জন্য উপযোগী। তাই পদ্মার চরেই কুল চাষ বেশি চাষ হচ্ছে।  

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় শিক্ষিত বেকার যুবকরা চরাঞ্চলে কুল চাষে ঝুঁকেছেন। এতে কুল চাষে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। প্রতি বছরই বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। আর তাদের চাষবাসের জন্য ঋণ ছাড়া সব ধরনের সহযোগিতা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। অল্প চাষে বেশি উৎপাদনের ব্যাপারে আগামীতে আর নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে।  

তাহলে অন্য ফসলের পাশাপাশি কুল চাষ করেও স্থানীয় চাষিরা আরও লাভবান হতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন এই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মিষ্টি রসে মন ভোলাবে বারোমাসি ‘হলুদ তরমুজ’

গোদাগাড়ীর চৈতন্যপুর (রাজশাহী) থেকে ফিরে: গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। তৃষ্ণা মেটাতে এর কোনো জুড়ি নেই। আছে অনেক স্বাস্থ্য গুণও।

তবে ফলটি যদি বারোমাসই পাওয়া যায়? আর তার ভেতরটা যদি লাল নাহয়ে হলুদ হয়? কী শুনতেই ভালো লাগছে, তাইনা? বিশ্বাস না হলেও এটাই সত্য।

মন ভালো করে দেওয়ার খবর হচ্ছে- রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামে বারোমাসি তরমুজ চাষ হচ্ছে।

এছাড়া প্রচলিত লাল তরমুজের পাশাপাশি এখানে শুরু হয়েছে নতুন জাতের হলুদ রঙের তরমুজের চাষ। এ তরমুজের ভেতরেও সম্পূর্ণ হলুদ। তবে রঙ বদলালেও স্বাদ বদলায়নি।

বরং এ তরমুজ আরও মিষ্টি। আরও সুস্বাদু। যারা তরমুজ পছন্দ করেন তাদের কাছে নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। বাণিজ্যিকভাবে এখানে বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার আদিবাসী পল্লী হিসেবে পরিচিত চৈতন্যপুরের রঙিন তরমুজ এখন বছরজুড়েই মানুষদের মুখে স্বাদের ভিন্নতা ছড়াবে।

রাজশাহীর স্বপ্নবাজ তরুণ কৃষক মনিরুজ্জামান মনির তার মোট ১৭ বিঘা জমির মধ্যে তিন বিঘার ওপর ব্যতিক্রমী এ তরমুজের চাষ শুরু করেছেন। থাই পেয়ারা ও স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন জাতের নতুন নতুন ফসল চাষের নেশা চেপে বসেছে এ তরুণের ওপর। যেই ফসলই নতুন মনে হয় তাই চাষ শুরু করেন মনিরুজ্জামান।

জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, সব সময় নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি থাকে। এর পরও তিনি বরাবরই নতুনের পেছনেই ছোটেন। এতে কষ্ট বেশি থাকলেও যখন সফলতা আসে, তখন ভালো লাগার মাত্রাটাও থাকে অন্যরকম। সাত বছর ধরে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এখন পর্যন্ত পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ চেতনা থেকেই বরেন্দ্রের মাটিতে বারোমাসি এবং হলুদ রাঙা তরমুজের চাষ শুরু করেছেন।
তিনি আরও জানান, তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর মহিষাবাথান এলাকায়। তিনি একজন শৌখিন চাষি। নিজের কোনো আবাদি জমি নেই। জমি ইজারা নিয়ে আবাদ করে থাকেন। এর আগে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে বীজ আলু চাষ করেছেন। স্ট্রেবেরি চাষ করেছেন। অন্য জমিতে এখনও স্ট্রেবেরি, পেঁপে ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গাছে পাকানো টমেটো চাষ করছেন তিনি।

আর স্পেশালভাবে চাষ করছেন বারোমাসি তরমুজ। এর মধ্যে হলুদ তরমুজটার আকর্ষণ বেশি। ক’দিন আগে এ তরমুজ কেটেছেন। বর্তমানে লাল তরমুজও পরিপক্ক হয়ে ওঠেছে। কয়েকদিনের মধ্যে তাও কাটবেন। এ তরমুজ ৭৫ দিনের ফসল। তাই বছরে তিন থেকে চারবার চাষ করা যায়।

বাজারে সাধারণত সবুজ কিংবা গাঢ় সবুজ বর্ণের তরমুজ দেখা যায়। কিন্তু এবার একেবারেই ভিন্ন রঙের তরমুজ চাষ হয়েছে। এটি প্রথম চাষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। তার পর সিলেটে। সর্বশেষ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। বারোমাসি হলুদ জাতের ব্যতিক্রমী এ ফলের বীজ এসেছে তাইওয়ান থেকে। ঢাকার এগ্রি কনসার্ন কোম্পানি এ বীজ আমদানি করে। সেখান থেকে তরমুজের বীজগুলো এনেছেন। এ বীজ রোপন করে ভালো ফলনও পেয়েছেন। নতুন জাতের এ তরমুজের দামও সন্তোষজনক।

এক বিঘা জমিতে এ তরমুজ চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় দেড় লাখ টাকা। এক বিঘায় ৬৪-৬৫ মণ এ তরমুজের ফলন হয়। আর পাইকারি বাজারে মণপ্রতি বিক্রি হয় দুই থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।
তরমুজ ক্ষেত, ছবি: বাংলানিউজমাল্চিং পদ্ধতিতে এ তরমুজ চাষ করা হয়। বর্ষাকালীন সময়ে তরমুজ চাষ করতে মাচান তৈরি করতে হয়। আর শীতকাল বা অন্য সময়ে মাটিতেই তরমুজ চাষ করা যায়। প্রথমবার মাচা তৈরি করলে সেই মাচা এক বছর ব্যবহার করা যাবে। দ্বিতীয়বারের উৎপাদন খরচ কম হবে।

মাল্চিং সেটে একটি বিশেষ ধরনের পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর এক দিকে কালো এক দিকে সিলভার রঙ রয়েছে। সিলভার রঙটা ওপরে থাকবে এবং কালোটা নিচে। এ সেটের গায়ে সূর্য কিরণ এসে তার ওপরে পড়ার পর আবার ফেরত পাঠাবে। এটি মাটি ভেতরে ঢুকে উত্তপ্ত করতে পারবে না। এটির কাজ হচ্ছে আমরা জমিতে যেই সার দেই তা নষ্ট হবে না, আগাছা তৈরি হবে না।

মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০০৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকও পেয়েছেন। নতুন ফসল চাষ করা তার নেশা৷ ঝুঁকি থাকলেও সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার ঈশ্বরীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বাংলানিউজকে বলেন, বাইরে থেকে এ তরমুজ দেখে বোঝার উপায় নেই যে এর ভেতরে হলুদ। তবে কাটলে তার রঙ বেরিয়ে আসবে।

খেতেও দারুণ মিষ্টি। মনিরুজ্জামানের জমিতে ফলনও ভালো হয়েছে। সারা বছরই বিশেষ এ জাতের তরমুজ চাষ করা যায়। তাই বাণিজ্যিকভাবে চাষের ব্যাপকতা সৃষ্টি হলে বারোমাসি তরমুজ কৃষকের জন্য লাভজনক হবে বলেও মন্তব্য করেন উপ-সহকারী এ কৃষি কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সারা বছর আম ফলবে দেশের সব গাছে

শেকৃবি: মৌসুম ছাড়াই দেশীয় আবহাওয়ায় কৃত্রিম পদ্ধতিতে আম ফলাতে সক্ষম হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক। এজন্য তারা প্রয়োগ করেছেন ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতি। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে বছরের যেকোনো সময় যেকোনো জাতের আম গাছে আম ফলানো যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

এ সফলতা শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ফ ম জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মারজিনা আক্তার রিমার।

গবেষক মারজিনা আক্তার রিমা বাংলানিউজকে বলেন, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ‘ন্যামডকমাই’ জাতের ২৪টি আম গাছে ফোর্সিং পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি হরমোন বিভিন্ন মাত্রায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়।

পরীক্ষায় কয়েকটি হরমোন নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করার তিন মাসের মাথায় মুকুল আসে। স্বাভাবিক মৌসুমে আম গাছে যেমন মুকুল আসে মৌসুম ছাড়াই সেরকম মুকুল আনতে সক্ষম হই।

ড. জামাল জানান, দেশে বারোমাসি ‘বারি১১’ জাতের আম অনেক আগে থেকে দেশে চাষ করা হয়। কিন্তু তা বছরে শুধু একবারই একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফল দেয়। তার স্বাদ মৌসুমী আমের তুলনায় ভিন্ন এবং ফলন অনেক কম। কিন্তু ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে বছরের যেকোনো সময় ফল ধরানো যাবে। এর স্বাদ হবে মৌসুমী আমের মতোই। ফলনও সমান।  

ড. জামাল আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য এক নাগাড়ে সারা বছর না ফলিয়ে মৌসুম ছাড়া বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আম ফলাবো। ফলে আম চাষিরা বাড়তি দাম পাবেন। আমরাও তুলনামূলক কম দামে আম খেতে পারবো। ‘অফ সিজনাল’ আমের বেশিরভাগ দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। এর দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। চারশ থেকে পাঁচশ টাকা কেজি দরে ‘অফ সিজনাল’ আম কিনতে হয়।

এ পদ্ধতিতে আম ফলানোর জন্য গাছের বাড়তি কোনো পরিচর্যা করতে হবে না। তবে হরমোন প্রয়োগের আগে গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে দিতে হয়। গাছের ক্ষতিকর পোকামাকড় মেরে পানি স্প্রে করে পাতা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। আর হরমোন প্রয়োগ করতে হয় গাছের পাতা ও গোড়ার মাটিতে। হরমোন প্রয়োগের তিন মাসের মাথায় মুকুল আসে।  

ড. জামালের তত্ত্বাবধানে সাভারের কাশিমপুরের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) দেশীয় বিভিন্ন জাতের আম গাছে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। আগামী বছরের মধ্যে কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন গবেষকরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

উত্তরবঙ্গের কৃষি উন্নয়নে লাগানো হবে ৫ লাখ ফলদ বৃক্ষ

ঢাকা: উত্তরবঙ্গে ১০ শতাংশ দরিদ্র পরিবারের আয় বাড়াতে পাঁচ লাখ ফলদ বৃক্ষ রোপণ ও কৃষি উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

রংপুর,কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার ৩৮ উপজেলায় ফলদ বৃক্ষ রোপণে বিপ্লব ঘটাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।  

এসব অঞ্চলের হাটবাজার, রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ, সেচ নালাও উন্নয়ন করা হবে।

অরবরই প্রকল্প এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আম, আমলকি, আনারসম লেবু, কদবেল, নারিকেল, জামির, কাঁঠাল, লিচু, আঁশফল, কলা, আতা, কাকজাম, বাদাম, কামরাঙা, কুল, খেজুর, খুদিজাম, গাব, জামরুল, জলপাই, চেরি, চালতা, বরই, তাল, তেঁতুল, ডুমুর, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, বেল ও সফেদা চাষ করা হবে। বীজ থেকে শুরু করে সব ধরণের কৃষি উপকরণ বিতরণ করবে সরকার।
 


‘রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী তিন হাজার ব্যাচ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রকল্প এলাকায় ১৫ হাজার মাঠ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ৫০০ হ্যান্ড স্প্রেয়ার, ৫০০ পাওয়ার স্প্রেয়ার ও ৫০০ ফুট পাম্প বিতরণ করবে সরকার।
 


দুই হাজার ১২০টি পাওয়ার থ্রেসার, ৪০০টি ট্রান্সপ্লান্টার ও ৫০০টি রিপার দেবে সরকার। দেয়া হবে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা।
 
ডিএই সূত্র জানায়, ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৮ উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। দারিদ্র্য বিমোচনে ফলদ বৃক্ষের পাশাপাশি ধান, গম ও ভুট্টা চাষে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
 


উন্নত কৃষি বীজের অভাব, মাটির উর্বরতা রক্ষার অভাব এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি না থাকায় উত্তরবঙ্গ কৃষিতে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বলে জানায় ডিএই।
 
উত্তরবঙ্গের কৃষি উন্নয়নে নেয়া এ প্রকল্পের আওতায় ৫০টি সেচ সাব প্রকল্প, ১৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২০ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ১১৫ কিলোমিটার গ্রাম সড়কে ১০টি ব্রিজ-কালভার্ট, ৩০টি কৃষি মার্কেট, ১২টি কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ডিএই ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. আব্দুল মুঈদ বাংলানিউজকে বলেন, উত্তরবঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যই ‘রংপুর বিভাগে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন’ প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এখনও প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। আশা করছি, দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফলদ বৃক্ষ ও কৃষি উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্য আসবে উত্তরবঙ্গে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com