আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

জলবায়ু পরিবর্তন: সবজি বাগানের মাধ্যমে যেভাবে লড়াই করছে সিলেটের নারীরা

জলবায়ু পরিবর্তন: সবজি বাগানের মাধ্যমে যেভাবে লড়াই করছে সিলেটের নারীরা
সিলেটের ঘরোয়া বাগানের ক্ষেত্রে কাজ করছেন একজন নারী

ঘরোয়া বাগানে ফলমূল এবং সবজি উৎপাদন সবসময়েই পরিবেশ বান্ধব বলে মনে করা হয়, কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াইয়েও একটি অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

ঠিক এই অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের একটি এলাকার বাসিন্দাদের, যখন তাদের খাবার ও আয় রোজগারের প্রধান ফসল ধান মৌসুমি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে আগাম অতিবৃষ্টির কারণে তাদের ক্ষেতের সব ধান নষ্ট হয়ে যায়। অথচ ওই বছর বৃষ্টি শুরু হওয়ার কথা ছিল আরো দুই মাস পরে।

কৃষকদের বেশিরভাগ ফসলই বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। যার অর্থ হলো – বছরের বাকি সময়ের জন্য তাদের আর কোন আয় ছিল না, পরিবারের জন্য যথেষ্ট খাবারও ছিল না।

বিজ্ঞানীরা বরাবরই সতর্ক করে দিয়ে আসছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের ফসলের চাষাবাদের ওপর এবং খাবারে থাকা পুষ্টিগুণের ওপরেও প্রভাব পড়ছে।

বার্লিনের চারিটি-ইউনিভার্সিটি মেডিসিনের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক এবং পটসড্যাম ইন্সটিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের গবেষক সাবিনে গাব্রিয়চ বলছেন, ”জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব মানুষের আসলে কোন ভূমিকাই নেই, কিন্তু তবু তারা এর শিকার হচ্ছে।”

নোবেল ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় বিবিসিকে তিনি বলেন, ”তারা ভিন্নভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হচ্ছে, কারণ তারা তাদের জীবিকার উপায় এবং খাদ্য-পুষ্টির উৎস হারিয়ে ফেলছে।”

“তাদের সন্তানরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে, কারণ তারা দ্রুত বড় হচ্ছে বলেই তাদের পুষ্টিরও বেশি দরকার।”

এমনকি এক-তৃতীয়াংশ নারীর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম বলে দেখা গেছে, আর ৪০ শতাংশ শিশুই মারাত্মকভাবে অপুষ্টির শিকার।

”অনেক মানুষ আসলে এর মধ্যেই কোনমতে টিকে রয়েছে, তারা অনেক ধরণের রোগে ভুগছে,” বলছেন অধ্যাপক গাব্রিয়চ। ”তাদের কোন বীমাও নেই।”

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে বন্যার প্রভাব নিয়ে তিনি একটি গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রামের ২ হাজারের বেশি নারীর সঙ্গে তিনি কাজ করছেন।

এই নারীদের অর্ধেকেরও বেশি বলেছেন যে, বন্যার কারণে তাদের পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হয়।

সেই ক্ষতি কাটাতে বেশিরভাগ পরিবার যা করেছে, তা হলো অন্যের কাছ থেকে টাকাপয়সা ধার করা। বিশেষ করে সেই সব ব্যক্তির কাছ থেকে – যারা চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে থাকে। তাদের কাছ থেকে টাকা এনে পরিবারটি ঋণের জালে আটকে পড়ে।

 গবেষণায় অংশ নেয়া সিলেটের নারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন যে, বন্যার কারণে তাদের পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেয়া সিলেটের নারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন যে, বন্যার কারণে তাদের পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে।

এই গবেষক দলটি এসব মানুষকে তাদের বাড়ির আঙ্গিনার উঁচু জমিতে বাগান করতে শিখিয়েছে। এসব জায়গায় তারা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ফলমূল এবং সবজি চাষ করতে এবং মুরগি পালন করতে পারছে।

অধ্যাপক গাব্রিয়চ বলছেন, ”আমি মনে করি না এর ফলে তাদের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষতি পূরণ হচ্ছে – কারণ ওটা হচ্ছে তাদের জীবিকার প্রধান ফসল। কিন্তু এটা তাদেরকে অন্তত কিছুটা সহায়তা করতে পারছে।”

উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ধানের মতো যেসব খাবারের ওপর বাসিন্দারা নির্ভর করেন, সেখানে যখন এসব ফসলের ভালো ফলন হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব খাদ্যে ততটা পুষ্টি থাকে না।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গ্লোবাল হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্ট্রি ইবি পুষ্টিমান নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তিনি দেখতে পেয়েছেন যে, চাল, গম, আলু আর সাবুর মতো খাবারে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এর মানে হলো, এগুলো জন্মাতে কম পানি লাগে। এটা শুনতে ইতিবাচক শোনালেও ব্যাপারটা তা নয়। কারণ এসব ফসল মাটি থেকে কম পুষ্টি টেনে নিচ্ছে।

রোগব্যাধি বেড়ে যাওয়া

অধ্যাপক ইবির গবেষণা দল দেখতে পেয়েছে যে, তারা যেসব ধান নিয়ে গবেষণা করেছেন, সেখানে গতে ৩০ শতাংশ হারে ভিটামিন বি কমে গেছে। এতে গর্ভবতী নারীদের জন্য জরুরি ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণও স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে যাচ্ছে।

তিনি বলছেন, ”বর্তমানে বাংলাদেশ যখন সম্পদশালী হয়ে উঠছে, এখনো দেশটির প্রতি চারজনের তিনজনের দরকারি ক্যালরি আসে চাল থেকে।”

”কিন্তু অন্য অনেক দেশের বাসিন্দারা তাদের প্রধান খাবার হিসাবে চাল ছাড়াও অন্যান্য অনেক ধরণের খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। সুতরাং চালে পুষ্টি কম থাকলেও তা তাদের ক্ষেত্রে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলে।”

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির মানে হলো রোগব্যাধির প্রকোপও বেড়ে যাওয়া।

”মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। এর পাশাপাশি ডায়রিয়া ও সংক্রমণ রোগের প্রকোপও বাড়ছে।”

”আমাদের পৃথিবী যত বেশি উষ্ণ হয়ে উঠছে, ততই রোগব্যাধি বিস্তারের এলাকা বাড়ছে, দীর্ঘসময় ধরে এসব রোগ থাকছে। এসব রোগের বিস্তার অনেক বেশি হচ্ছে।”

”আর অনেক ক্ষেত্রেই এসব রোগের প্রাথমিক শিকার হচ্ছে শিশুরা। এ কারণেই আমরা মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন কারণ তারা ঝুঁকির দিক থেকে সামনের কাতারে রয়েছে। তাদের ওপরেই এসব পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়ছে।”

যেসব রোগব্যাধি সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায় দেখা যেত, এখন সেসব রোগ উত্তরের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

এ বছর প্রথমবারের মতো জার্মানিতে ওয়েস্ট নিল ভাইরাসের রোগীর দেখা পাওয়া গেছে, যা একটি মশাবাহিত রোগ।

সাবিনে গাব্রিয়চ বলছেন, ”এসব সংক্রমণ রোগের বিস্তারের ফলে মানুষ উপলব্ধি করতে শুরু করেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ওপরেও আসতে শুরু করেছে।”

নোবেল বিজয়ী পিটার অ্যাগর সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সব এলাকায় এমন রোগ দেখা যাচ্ছে যা আগে দেখা যায় নি এবং নতুন নতুন এলাকায় রোগের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় দেখা যাওয়া কিছু রোগ উঁচু এলাকার দিকেও এখন দেখা যেতে শুরু করেছে।

এটা গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার মানুষজন সাধারণত রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে উঁচু এলাকায় বসবাস করেন।

২০০৩ সালে রসায়নে নোবেল পাওয়া অধ্যাপক অ্যাগর বলছেন, ”উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেহেতু রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, ফলে কারোই আর আরামে বসে থাকার সুযোগ নেই।”

”একটা জনপ্রিয় প্রবাদ ছিল যে, ‘এখানে এটা ঘটবে না’। কিন্তু এখন, সেটা ঘটতে পারে।”

নোবেল মিডিয়া এবি এবং বিবিসির যৌথ উদ্যোগে এই নিবন্ধ লেখা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

ফুলকপি-বাঁধাকপি শীত মৌসুমের প্রধান সবজি। কিন্তু দিনাজপুরের বীরগঞ্জে গ্রীষ্ম মৌসুমে এর চাষ শুরু হয়েছে। অসময়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে বদলে গেছে সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামের মো. আব্দুল মালেকের ভাগ্য। রমজান মাসে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আশানুরূপ দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় খরিপ-১ মৌসুমে ১০ একর জমিতে ফুলকপি এবং বাঁধাকপি আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা দ্বিগুণ। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। তাই আগামীতে এর পরিধি বাড়তে পারে।

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

কৃষক মো. আব্দুল মালেক জানান, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে জমিতে বীজ বপন করা হয়। এরপর মার্চের ২৫ তারিখে বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করা হয়। অর্ধেক জমিতে ফুলকপি আর বাকি জমিতে বাঁধাকপির চারা রোপণ করা হয়। সাড়ে ৩ একর জমিতে প্রায় ৭৫ হাজার চারা রয়েছে।

চারা রোপণের ৪৫-৫০ দিন পর থেকে ক্ষেতের ফুলকপি-বাঁধাকপি বিক্রি শুরু হয়। পাইকারি প্রতিপিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ১১ টাকা এবং কেজি হিসেবে ৩৫ টাকা দরে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ফুলকপি এবং ৫০ হাজার টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন তিনি। তবে এর চাষে সর্বসাকুল্যে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ টাকা। বাজার দর ভালো থাকলে আরও ১ লাখ টাকার ফুলকপি এবং ৩ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম জানান, গ্রীষ্ম মৌসুমে এর চাষাবাদ বেশ কঠিন। কারণ বৈরী আবহাওয়ায় বেড়ে উঠতে হয়। তাই সঠিক সময়ে সার, বালাইনাশক প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যা না করলে ক্ষতি হতে পারে।

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাঝারি উঁচু জমিতে বৃষ্টি ও তাপ সহনশীল জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছে এলাকার অধিকাংশ কৃষক। তবে এ সময় চাষ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ অতিবৃষ্টি হলেই ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

স্কোয়াশ চাষে সাফল্য পেলেন সাতক্ষীরার সোহরাব

স্কোয়াশ চাষে সাফল্য পেলেন সাতক্ষীরার সোহরাব
স্কোয়াশ চাষে সাফল্য পেলেন সাতক্ষীরার সোহরাব: ক্ষেত থেকে স্কোয়াশ তুলছেন সোহরাব।

ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হার্টের রোগীদের জন্য স্কোয়াশ খুবই উপকারী

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সেনেরগাতিতে প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে বিদেশি সবজি স্কোয়াশ।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার সেনেরগাতির কৃষক সোহরাব হোসেন চলতি মৌসুমে ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। বর্তমানে দেশের সুপার শপগুলোতে স্কোয়াশ পাওয়া যায়, তবে এর স্থানীয় বাজার মূল্যও ভাল। 

সোহরাব হোসেন জানান, স্কোয়াশ তিন থেকে সাড়ে তিন মাস মেয়াদী শীতকালীন সবজি। যা কুমড়ার চেয়ে সুস্বাধু। ফলনও খুব ভাল হয়। স্কোয়াশ আকারে লম্বাটে এবং ওজনে গড়ে দেড় থেকে দুই কেজি হয়।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি সংস্থার উন্নয়ন প্রচেষ্টা থেকে বীজ সংগ্রহ করে তিনি স্কোয়াশ চাষ করেছেন। এতে রোগ-বালাই তুলনামূলক কম হলেও মাছি পোকার উপদ্রব আছে। যা ফেরেমন ফাঁদ ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করে সহজেই দমন করা যায়। এছাড়া জৈব সার ব্যবহার করলে স্কোয়াশ ভাল হয়। চাষাবাদে সেচও দিতে হয় খুবই কম।

সোহরাব হোসেন বলেন, স্কোয়াশ দ্রুত বর্ধনশীল, যা সপ্তাহে দুই তিন বার বাজারে বিক্রি করা যায়। সবজিটির পাইকারি দাম ৩০ টাকা কেজি, তবে এটি খুচরা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

স্কোয়াশের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেন বলেন, স্কোয়াশ সাধারণ কুমড়ার মতো সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর খাদ্য ও পুষ্টিগুণ কুমড়ার চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি বলেন, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করেডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হার্টের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। স্কোয়াশে একই সাথে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই ও ভিটামিন বি-৬ এবং নায়াসিন, থায়ামিন, প্যানথোটোমিন এসিড ও ফলিড। এছাড়া স্কোয়াশ ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, খনিজ, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যারোটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানে ভরপুর। নিয়মিত স্কোয়াশ খেলে ফ্রি রেডিকেলসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করা সম্ভব।  

তিনি আরও জানান, স্কোয়াশ শরীরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও বিটা ক্যারোটিন সরবরাহ করে। যা আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। এটি হাড় গঠন, হাড়ের শক্তি ও ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া হাইপার টেনশনের রোগীদের জন্য স্কোয়াশ খুবই ভালো। কারণ স্কোয়াশ রক্ত চাপকে কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “বর্তমানে অনেকেই বাড়ির ছাদে, ফুলের টবে সবজি কিংবা ফল গাছ লাগান। সে ক্ষেত্রে ছাদ, ফুলের টব বা পতিত জায়গায় স্কোয়াশও লাগাতে পারেন। কারণ এতে জায়গা খুবই কম লাগে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

জ্যৈষ্ঠ মাসে শাক-সবজির যত্ন নিন

জ্যৈষ্ঠ মাসে শাক-সবজির যত্ন নিন
জ্যৈষ্ঠ মাসে শাক-সবজির যত্ন নিন

জ্যৈষ্ঠ মাসে শাক-সবজির বিশেষ যত্ন নিতে হয়। এ সময় বৈরী আবহাওয়া শাক-সবজির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির পরিচর্যা সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। টাটকা ও সতেজ শাক-সবজি পেতে জেনে নিন যত্নের নিয়ম-

১. মাঠ বা বাড়ির আঙিনায় গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির পরিচর্যা সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। এ সময় সারের উপরি প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, গোড়ায় বা কেলিতে মাটি তুলে দেওয়া, লতা জাতীয় সবজির জন্য বাউনি বা মাচার ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।

২. লতানো সবজির দৈহিক বৃদ্ধি যত বেশি হবে, তার ফুল-ফল ধারণ ক্ষমতা তত কমে যায়। সেজন্য বেশি বৃদ্ধি সমৃদ্ধ লতার বা গাছের ১৫-২০ শতাংশের লতা-পাতা কেটে দিলে তাড়াতাড়ি ফুল ও ফল ধরবে।

৩. কুমড়া জাতীয় সবজিতে হাত পরাগায়ন বা কৃত্রিম পরাগায়ন বেশি ফলনে দারুণভাবে সহায়তা করবে। গাছে ফুল ধরা শুরু হলে প্রতিদিন ভোরবেলা হাত পরাগায়ন নিশ্চিত করলে ফলন অনেক বেড়ে যাবে।

৪. এ মাসে কুমড়া জাতীয় ফসলে মাছি পোকা দারুণভাবে ক্ষতি করে থাকে। এক্ষেত্রে জমিতে খুঁটি বসিয়ে খুঁটির মাথায় বিষটোপ ফাঁদ দিলে বেশ উপকার হয়। এছাড়া সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করেও এ পোকার আক্রমণ রোধ করা যায়।

৫. সবজিতে ফল ছিদ্রকারী পোকা, জাব পোকা, বিভিন্ন বিটল পোকা সবুজ পাতা খেয়ে ফেলতে পারে। হাত বাছাই, পোকা ধরার ফাঁদ, ছাই ব্যবহার করে এসব পোকা দমন করা যায়। তাছাড়া আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলে এবং সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।

৬. মাটির জো বুঝে প্রয়োজনে হালকা সেচ দিতে হবে। সেই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

বরবটি আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি। প্রায় সারা বছরই এটি ফলে। তাই একে বারোমাসি সবজিও বলা যায়। তবে গ্রীষ্মকালে এর ফলন ভালো হয়। খুব শীতে ফলন ভালো হয় না। আসুন জেনে নেই বরবটি চাষের নিয়ম-কানুন।

মাটি
দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি বরবটি চাষের জন্য উপযোগী।

জাত
কেগরনাটকীই অনেকদিন পর্যন্ত বরবটির একটি উন্নত জাত হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। এখন অবশ্য বেশ কয়েকটি জাত চলে এসেছে। লালবেণী, তকি, ১০৭০, বনলতা, ঘৃতসুন্দরী, গ্রীন লং, গ্রীন ফলস এফ-১, সামুরাই এফ-১ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাত।

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

চাষের সময়
কেগরনাটকী জাতটি পৌষ-মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। মধ্য মাঘ থেকে মধ্য আশ্বিনে চাষ করা যায় ঘৃতসুন্দরী ও গ্রীন লং। মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য আশ্বিন পর্যন্ত চাষ করা যায় ১০৭০ জাতটি। উল্লেখিত জাতগুলোর মধ্যে কেগরনাটকী ও লালবেণী জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি। তবে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণত বীজ বপন করা হয়। তাছাড়া আশ্বিন-অগ্রহায়ণ মাসেও বীজ বপন করা হয়। অন্যান্য সময়ও বোনা যেতে পারে।

বীজের পরিমাণ
প্রতি শতকে ১০০-১২৫ গ্রাম ও প্রতি হেক্টরে ৮-১০ কেজি।

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

জমি তৈরি
৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করতে হয়।

সারের মাত্রা
ইউরিয়া প্রতি শতকে ১০০ গ্রাম ও প্রতি হেক্টরে ২৫০ কেজি। টিএসপি প্রতি শতকে ৯০ গ্রাম এবং প্রতি হেক্টরে ২২৫ কেজি। এমওপি প্রতি শতকে ৭৫ গ্রাম ও প্রতি হেক্টরে ১৮৫ কেজি। গোবর প্রতি শতকে ২০ কেজি এবং প্রতি হেক্টরে ৫ টন।

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

সার প্রয়োগ পদ্ধতি
গোবর, টিএসপি সম্পূর্ণ পরিমাণ ও অর্ধেক এমওপি সার শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। পরে বীজ বোনার ২০ দিন পর ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও বাকি অর্ধেক এমওপি সার জমিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়।

বীজ বোনা
২ মিটার দূরত্বে সারি করে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে বীজ বুনতে হয়। জাত হিসেবে সারির দূরত্ব ১ মিটার বাড়ানো বা কমানো যায়।

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

পরিচর্যা
চারা বড় হলে মাচা বা বাউনি দিতে হবে। জমিতে পানির যাতে অভাব না হয় সেজন্য প্রয়োজন অনুসারে সবসময় সেচ দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে। পোকামাকড় ও রোগ ব্যবস্থাপনা অন্যান্য সবজির মতোই। জাব পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা ও মোজেইক রোগ বরবটি চাষের বড় সমস্যা।

সংগ্রহ ও ফলন
বীজ বোনার ৫০-৬০ দিন পর থেকেই বরবটি সংগ্রহ করা যায়। এতে শতক প্রতি ফলন ৩০-৬০ কেজি এবং হেক্টর প্রতি ১০-১২ টন হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

কুমড়া গাছে লাউ ধরে যেভাবে

 কুমড়া গাছে লাউ ধরে যেভাবে
কুমড়া গাছে লাউ ধরে যেভাবে

কুমড়া গাছে লাউ। শুনতে কেমন লাগছে, তাই না? অবাক হলেও ঘটনাটি সত্যি। কুমড়া গাছে ফলনও ভালোই হয়েছে। কুমড়ার মধ্যে ঝুলে আছে লাউ। এ ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে এলাকাজুড়ে। ভারতের পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের বাসিন্দা স্বপন সানার বাড়িতে দেখা গেছে কুমড়ার ভেতরে লাউ ঝুলতে। যা দেখতে স্থানীয়রা ভিড় জমিয়েছেন।

স্বপন সানা জানান, তিনি সাধারণ কুমড়ার চারাই রোপণ করেছিলেন। লতা বড় হয়ে কুমড়াও ধরতে শুরু করে। কিন্তু এর মাঝে হঠাৎ লাউ ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে জেলার কৃষি গবেষকরাও তার বাড়িতে আসেন। ইতোমধ্যে খবরটি পৌঁছে গেছে স্থানীয় উদ্যানপালন অফিসেও। তবে তারা বিস্মিত হননি।

জেলার সহকারী উদ্যানপালন দফতরের কর্মকর্তা পলাশ সাঁতরা জানান, এমনটি হতেই পারে না। গ্রাফটিং পদ্ধতিতে একই গাছে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব। তবে এমন ঘটনা সম্ভব নয়। বীজ থেকেই যদি কুমড়া চারা হয়ে থাকে তাহলে তাতে লাউ ধরবে কী করে? যেটিকে লাউ ভাবা হচ্ছে, সেটি লাউ না-ও হতে পারে। ওই ফল কেটে পরীক্ষা না করে বলা সম্ভব নয়, আসলে সেটা কী।

পরে তিনি লাউয়ের ছবি দেখে জানান, এটি গাছের জিনঘটিত রোগ। যার নাম অ্যালবিনোজম। আসলে কুমড়া গাছে কুমড়াই হয়েছে। তবে অ্যালবিনোজমের কারণে ফলের রং বদলে যাওয়ায় লাউয়ের মতো দেখাচ্ছে। কাটলে কিন্তু কুমড়াই পাওয়া যাবে, লাউ নয়।

এখন লাউটি কাটার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বপন সানা। কারণ কৃষিবিদরা বলছেন, লাউটি কাটলেই এর আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com