আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

ড্রাগন ফলের চাষ।
ড্রাগন ফলের চাষ।

বাগেরহাট: বিদেশি ফল ড্রাগন চাষে সফল হয়েছেন বাগেরহাটের কামরুল ইসলাম (৩৫)।  

নিজের বাড়ির উঠানে সখের বসে লাগানো কয়েকটি গাছ থেকে তার এখন তিন হাজার দুইশ’ গাছের বাগান।মৌসুমের অর্ধেক সময়েই এ গাছের ফল বিক্রি করে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করেছেন তিনি। এখন দুই একর জমিতে নতুন করে ড্রাগনের চাষ শুরু করেছেন।

কামরুলের সফলতা দেখে প্রতিবেশীরাও ঝুঁকছেন ড্রাগন চাষে। শুধু কামরুলের প্রতিবেশীরাই নন, বাগেরহাট জেলার অনেকেই সখের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন।

উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান
উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

মাত্র তিন বছর আগে বড় ভাইয়ের দেওয়া চারা দিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের কামরুল ইসলাম। বড় ভাইয়ের পরামর্শে নিজেদের খাওয়ার জন্য বাড়ির আঙিনায় কয়েকটি চারা রোপণ করেন তিনি। ছয় মাস পরেই ফল আসে গাছগুলোতে। ফলের চেহারা ও স্বাদে মুগ্ধ হন কামরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে এক বছরের মাথায় কাটিং পদ্ধতিতে নিজের গাছগুলো থেকেই চারা তৈরি করেন তিনি। দ্বিতীয় বছরেই নিজের তৈরি বেশ কিছু চারা রোপণ করেন তিনি। ২০১৯ সালের শেষের দিকে অর্থাৎ কামরুল ড্রাগন চাষ শুরুর তৃতীয় বছরে বাড়ির উঠানেই ২০টি ঝাড়ে (পিলারে) তার ড্রাগন গাছের সংখ্যা দাঁরায় ১২০টিতে। মাত্র দুই থেকে তিন শতক জমিতে লাগানো শতাধিক গাছ দিয়ে এ পর্যন্ত অর্ধ লক্ষাধিক টাকার বেশি ফল বিক্রি করেছেন। গাছে যে ফুল ও ফল রয়েছে, তাতে আরও সমপরিমাণ আয় হবে এবার কামরুলের। অন্যসব কাজ ছেড়ে দিয়ে এখন শুধু ড্রাগন চাষে মন দিয়েছেন তিনি।

সফল ড্রাগন চাষি কামরুল ইসলাম বলেন, আমার বড় ভাই চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম থাকেন। বছর চারেক আগে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার সময় কিছু ড্রাগনের কাটিং (চারা) নিয়ে আসেন। আমাকে বলেন, এগুলো লাগা, ভালো কিছু হতে পারে। আমি ক্যাকটাস জাতীয় গাছ ভেবে না লাগিয়ে ফেলে দিয়েছিলাম। পরে ভাই জানতে চাইলে  বলি ওসব দিয়ে কী হবে? আমি ফেলে দিয়েছি। পরের বছর ঈদে আবার ড্রাগনের কয়েকটি কাটিং নিয়ে আসেন তিনি। এবার কঠোর নির্দেশনা দেন আমাকে ভালোভাবে লাগানোর জন্য। আমি কোনো মতে লাগাই। এর মাত্র ছয় মাসেই গাছে ফল আসায় আমি অবাক হয়ে যাই। যত্ন নিতে থাকি গাছগুলোর। পরের বছর থেকে গাছের কাটিং দিয়ে চারা তৈরি শুরু করি। বর্তমানে ২০টি খুঁটিতে আমার শতাধিক গাছ রয়েছে। এবার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছি। এ বছর আরো ৫০ হাজার টাকার মতো ফল বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। এছাড়া ড্রাগন গাছের কাটিং দিয়ে চারা তৈরি করে বিক্রি করছি। তা দিয়েও ভালো আয় হচ্ছে আমার।

উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান
উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

এ বছর নতুন করে দুই একর জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন জানিয়ে কামরুল আরো বলেন, ৩০ হাজার টাকা খরচ করে দুই একর জমিতে মাটি কাটিয়ে ড্রাগন চাষের উপযোগী করেছি। দুই একর জমিতে আটশ’ পিলারে তিন হাজার দুইশ’ চারা রয়েছে। এ গাছে তেমন সার বা ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। মোটামুটি গাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার ও মাঝে মধ্যে ছত্রাকনাশক দিলেই গাছ থেকে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিনই দুই-একজন দিনমজুর আমার ড্রাগন ক্ষেতে কাজ করছেন। প্রতিটি পিলারের জন্য খরচ পড়েছে ৬৫০ টাকা। সব মিলিয়ে দুই একরে তার চাষ শুরু করতে প্রায় আট লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। তবে একবার শুরু করার পরে খরচ খুবই কম। মাসে আগাছা পরিষ্কার, সেচ ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হাজার পাঁচেক টাকা খরচ হবে।

তিনশ’ থেকে ছয়শ’ টাকা কেজি দরে ড্রাগন ফল বিক্রি করি। আবার এলাকার অনেকে আমার দেখাদেখি ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। প্রতিটি চারা অন্য কৃষকের কাছে বিক্রি করি ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়, যোগ করেন কামরুল।

কামরুলের প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বলেন, কামরুলের বাড়িতে বিদেশি ফল ড্রাগনের ফলন দেখে আমাদের ভালো লাগে। কামরুলের কাছ থেকে আমরা কিনে নিয়ে এ ফল খাই। এছাড়া মাঝে মধ্যে কামরুল আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে এমনিতেও খেতে দেয়।

উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান
উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

কামরুলের পরিচর্যাকর্মী সাইফুল ইসলাম ও রুহুল আমিন বলেন, সারা বছরই কামরুল ভাইয়ের ড্রাগন ক্ষেত অন্যান্য ক্ষেতে কাজ করি। ভালোই চলে। আমরা ছাড়াও অনেকেই মাঝে মধ্যে কাজ করেন কামরুল ভাইয়ের ক্ষেতে। নতুন ক্ষেত করার সময় বেশ কিছু দিন এক টানা কাজ করেছেন অনেক শ্রমিক।

কামরুল ইসলামকে দেখে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন ইমতিয়াজ শেখ এবং আলমগীর হোসেন। তারা বলেন, কামরুলের বাড়ির উঠানে ড্রাগনের ফলন দেখে আমরা অবাক হয়েছি। ফলের দামও অনেক ভালো। এ বছর তিনশ’ থেকে ছয়শ’ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি করেছেন। কামরুল এবং কচুয়া কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে আমরাও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছি। আশা করি, এর মাধ্যমে আমরা আর্থিকভাবে সফল হবো।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ড্রাগন একটি বিদেশি ফল। পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হওয়ায় রোগ বালাইও কম। তাই চাষিরা সহজে এ ফল চাষ করতে পারেন। বাগেরহাটে নিজ উদ্যোগে এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় কামরুলসহ অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। বাণিজ্যিক, অবাণিজ্যিক ও ছাদ কৃষি সব মিলিয়ে বাগেরহাটে ১০ একরের বেশি জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। চাষিরা ফলও পাচ্ছেন ভালো।

নতুন ড্রাগন চাষিদের সম্পর্কে উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ড্রাগনের চারা অবশ্যই রোদ পড়ে এমন জায়গায় রোপণ করতে হবে। রোপণের কয়েকদিন আগে ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করে জৈব সার দিয়ে দিতে হবে। আট ফুট দূরত্বে পিলার দিয়ে পিলারের চারপাশে চারটি করে গাছ লাগানো যায়। কংক্রিটের পিলারের উপরে লোহার রডের সঙ্গে সাইকেল বা ভ্যানের পুরনো টায়ার দিয়ে দিতে হবে, যাতে গাছগুলো বড় হলে ওই টায়ারে থাকতে পারে। ছাদের টবেও এ গাছ রোপণ করা যায়। ফলও ভালো হয়।

  • উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

    উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

  • উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

    উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

  • উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

    উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান

  • ড্রাগন ফলের চাষ।

    ড্রাগন ফলের চাষ।

  • উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান
  • উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান
  • উঠান পেরিয়ে দুই একর জমি জুড়ে কামরুলের ড্রাগনবাগান
  • ড্রাগন ফলের চাষ।
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ছাদকৃষি

ছাদ বাগানে ডালিম তথা আনার বা বেদানার চাষ পদ্ধতি

ডালিমের উন্নত জাতই হলো আনার বা বেদানা। ডালিম খুবই আকর্ষণীয়, মিষ্টি, সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। বাংলাদেশের মাটি বেদানা চাষের জন্য উপযোগী বিধায় আমাদের দেশের  বসতবাটির আঙ্গিনায় ডালিমের চাষ দেখা যায়। আনার বা ডালিমের অনেক ঔষধী গুণও রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে আনার গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যাবে। ছাদ বাগানে  টবে বা ড্রামে খুব সহজেই ডালিমের তথা আনার বা বেদানার চাষ করা যায়।

ছাদে বেদানার চাষ পদ্ধতিঃ ছাদে ডালিম তথা আনার বা বেদানার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার  বা রং করা ড্রাম অথবা টব জোগাড় করতে হবে। ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে, যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকতে না পারে। টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার বেলে দোআঁশ মাটি ২ ভাগ, গোবর ১ ভাগ, টিএসপি ৪০-৫০ গ্রাম, পটাশ ৪০-৫০ গ্রাম এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। তারপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে  আলগা করে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন আগের মতো একইভাবে রেখে দিতে হবে। মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা সেই টবে রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় গাছের গোড়া মাটি থেকে কোনভাবে আলাদা হওয়া যাবে যাবে। চারা গাছটিকে সোজা করে সঠিকভাবে রোপণ করতে হবে। তারপর গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে হাত দিয়ে মাটি চেপে চেপে দিতে হবে। ফলে গাছের গোড়া দিয়ে পানি বেশি ঢুকতে পারবে না। একটি সোজা চিকন লাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে। চারা রোপণের শুরুর দিকে পানি অল্প দিলেই চলবে। পরে ধীরে ধীরে পানি দেওয়া বাড়াতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় পানি জমতেও দেওয়া যাবে না। মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজনমতো গাছে সেচ দিতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যাঃ ডালিম তথা আনার বা বেদানা গাছের চারা লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন পর পর সরিষার খৈল পচা পানি দিতে হবে। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে।  এক বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে। প্রস্থে ২ ইঞ্চি এবং গভীরে ৬ ইঞ্চি শিকড়সহ  টব বা ড্রামের মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টব বা ড্রাম  ভরে দিতে হবে। মাটি পরিবর্তনের এই কাজটি সাধারণত বর্ষার শেষে এবং শীতের আগে করাই উত্তম। ১০-১৫ দিন পর পর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে।

গাছে সার প্রয়োগঃচারা লাগানোর পূর্বে গর্তে সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও প্রতি বছর গাছে নিয়মিত সার দিতে হবে। গর্ত করার ৮-১০ দিন পর গর্তের মাটির সাথে নিম্নলিখিত হারে সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে দিতে হবে। গর্ত ভরাট করার ২০-২৫ দিন পর ডালিমের চারা রোপণ করতে হবে।

সারের নামসারের পরিমাণ/গর্ত
কম্পস্টের গুঁড়া৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া১৫০ গ্রাম
টিএসপি১০০ গ্রাম
এমওপি১০০ গ্রাম
জিপসাম৭০ গ্রাম

১ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে গোবর ১০ কেজি, ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম, টিএসপি ১২৫ গ্রাম এবং পটাশ সার ১২৫ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি বছর সারের মাত্রা একটু করে বাড়াতে হবে। পর্যায়ক্রমে পূর্ণ বয়স্ক ১ টি গাছে ৬০ কেজি গোবর, ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ১.৫ কেজি টিএসপি এবং ১.৫ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রয়োগ করতে হবে। উপরিউক্ত পরিমাণ সার  ২ বারে গাছে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বারে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ( মে- জুন ) মাসে এবং ২য় বারে আশ্বিন-কার্তিক ( সেপ্টেম্বর- অক্টোবর ) মাসে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।

ডালিম চাষে আগাছা দমনঃডালিম গাছের গোড়ায় কোন প্রকার আগাছা যেন লেগে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। কেননা ডালিমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ না হলে গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পানি সেচ  নিষ্কাশনঃ ফলন্ত গাছে নিয়মিত হাল্‌কা সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়ার মাটিতে কখনই পানি জমে থাকবে না এবং গাছ বেশি শুকনো রাখা যাবে না। সার প্রয়োগের পর মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে অবশ্যই সেচ প্রদান দিতে হবে।

ডালিম গাছের ডাল ছাটাইঃ ছাদের ডালিম তথা আনার গাছের ডাল নিয়মিত ছাটাই করতে হবে । ডালিম গাছের পুরাতন ডালের নতুন শাখায় ফুল আসে। পুরাতন ডালে নতুন শাখা বের করার জন্যই ডাল পালা ছাটাই করা প্রয়োজন। এছাড়াও আনার গাছের শিকড় থেকে বের হওয়া সাকারও ছেঁটে দেওয়া প্রয়োজন।

ডালিম গাছের শিকড় ছাঁটাইঃ ডালিম গাছে সারা বছরই ফুল ও ফল হয়ে থাকে। সাধারণত বসন্তে এবং বর্ষার সময় গাছে বেশি ফুল ধরে। বসন্তের ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল পাওয়া যায় এবং এর গুণাগুণ খুবই নিম্নমানের হয়ে থাকে। কিন্তু বর্ষার ফুল থেকে প্রাপ্ত ফল অক্টোবর-নভেম্বরে সংগ্রহ করা যায়, যার গুণগত মান খুবই ভালো হয়। তাই অসময়ে তথা বর্ষায় গাছে ফুল আসার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে ১৫ সেমি.গভীর করে মাটি খুঁড়ে শিকড়গুলোকে ১৫ দিন উন্মুক্ত করে রাখাতে হবে। পরবর্তীতে জৈব সারসহ মাটি চাপা দিয়ে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

ডালিম গাছের বিশেষ পরিচর্যাঃডালিম গাছে সারা বছরই অল্প অল্প করে ফুল আসতে থাকে। তবে সব সময়ের ফুল থেকে কিন্তু ফল উৎপন্ন হয় না। বসন্তকালে ডালিম গাছে যে ফুল হয় সেই ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল হয়। তবে এক্ষেত্রে এই ফলের গুণগত মান খুব একটা ভালো হয় না। বর্ষার শুরুতে যে ফুল আসে এবং সেই ফুল থেকে যে ফল হয় তা কার্তিক অগ্রহায়ণ ( অক্টোবর-নভেম্বর ) মাসে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। এই সময়ের ফলের মান বেশ ভালো হয়। তাই বর্ষার শুরুতে ফুল আনার জন্য পৌষ মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত গাছের বিশেষ পরিচর্যা নিতে হবে।  এই সময়ে গাছে সেচ প্রদান বন্ধ রাখতে হয়, ফলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ থাকে। চৈত্র মাসে গাছে সেচ দিতে হয় এবং কোদাল দিয়ে কুপিয়ে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। চৈত্র মাসে গাছের পাতা ঝরে যায় ও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত গাছ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগে ১-২ বার সেচ দিলে ভালো হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে গাছের বদ্ধি ও ফুল ফল ধারণ শুরু হয়। পরবর্তীতে কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে এই ফল সংগ্রহ করা যায়।

ডালিমের রোগবালাই ও প্রতিকারঃ

ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকাঃডালিম ফলের মারাত্মক শত্রু পোকা হচ্ছে ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকা। এই প্রজাতির শূঁককীট ফলের ক্ষতি করে থাকে। স্ত্রী প্রজাপতি ফুল ও ছোট ফলের ওপর ডিম পাড়ে। সেই ডিম থেকে শূঁককীট বের হয়ে বর্ধনশীল ফলে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ খেয়ে ফেলে। পরবর্তীতে  শূঁককীট থেকে মূককীটে পরিণত হওয়ার পূর্বে ফলের ত্বকে গোলাকার ছিদ্র করে ফল থেকে বের হয়ে আসে। এই পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফলে মাধ্যমিক সংক্রমণ ( Secondary Infection ) হিসেবে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে।

প্রতিকারঃ

(ক) আক্রান্ত ফল গাছ থেকে পেড়ে বা মাটিতে পড়ে থাকা  আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে।

(খ) গাছে ফল ধরার পর ফলের বৃদ্ধি শুরু হলে কাপড় বা পলিথিন বা কাগজ দিয়ে ফল ব্যাগিং করে দিলে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

(গ) এছাড়া প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ম্যালাথিয়ন বা কার্বারিল ( এসিকার্ব ) বা ফস্‌ফামিডন গ্রুপের কীটনাশক ১২- ১৫ দিন পর পর গাছে ও ফলে স্প্রে করতে হবে।

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকাঃ কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ সাধারণত পরিচর্যাবিহীন গাছে দেখা যায়। এই পোকার শূঁককীট রাতের বেলা কাণ্ড ও শাখার ছাল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেতে থাকে। দিনের বেলা ডালের গর্তের মধ্যে এই শূঁককীট লুকিয়ে থাকে ও বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে। কাণ্ড বা শাখায় ছোট ছোট ছিদ্র বা বর্জ্য পদার্থ দেখে এ পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায়।

প্রতিকারঃ

(ক) গর্তের মধ্যে সরু তার ঢুকিয়ে পোকার কীড়াকে খুঁচিয়ে মারার ব্যবস্থা করতে হবে।

(খ) গর্ত থেকে এ পোকার কীড়ার বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে গর্তে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা তুলার সাহায্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ঢুকিয়ে কাদা দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলে পোকা মারা যাবে।

রস শোষণকারী পোকাঃছাতরা পোকা, সাদা মাছি, শুল্ক বা আঁশ পোকা, থ্রিপস, জাব পোকা ও মাকড় ডালিমের রস শোষণকারী পোকা হিসেবে বিবেচিত। এসব পোকার আক্রমণে পাতা, মুকুল, ফুল ও ছোট ফল ঝরে পড়ে। সাদা মাছি ও জাব পোকা পাতা ও কচি ডগার রস চুষে খায়। ফলশ্রুতিতে আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ ও বিকৃত হয়ে যায়। এছাড়া এসব পোকার দেহ থেকে এক ধরনের মধু নিঃসৃত হয়, যা পাতায় লেগে থাকে। পরবর্তীতে পাতার গায়ে এই নিঃসৃত মধুর ওপর এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। মাকড় ও থ্রিপস পোকা পাতা, ফুলের বোঁটা, বৃতি ও দলমণ্ডলের অংশ ক্ষত করে এবং ক্ষত থেকে বের হওয়া কোষরস খায়। ফলে পাতার আগা কুঁকড়ে যায় এবং ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

প্রতিকারঃ

(ক) ছাতারা পোকা ও শুল্ক পোকার কীট দমনের জন্য আক্রমণের প্রথম দিকে আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এর পর প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ডায়াজিনন দলীয় কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

(খ) জাব পোকা বা সাদামাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ডাইমেথয়েট (টাফগর ) অথবা ০.৫ মিলি হারে ইমিডাক্লোপ্রিড ( ইমিটাফ, টিডো,টিডো প্লাস ) দলীয় কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর গাছে দুই বার স্প্রে করতে হবে।

(গ) মাকড় দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ১.২৫ মিলি হারে ভার্টিমেক/ সানমেক্টিন এবং ২ গ্রাম হারে সালফার ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

ফলের দাগ রোগঃ এই রোগ ছত্রাকজনিত কারণে হয়ে থাকে। ফল গাছ এ রেগে আক্রান্ত হলে  আক্রান্ত ফলের ওপর অনেক ছোট ও অনিয়মিত দাগ পড়ে। এই দাগগুলোর চারিদিকে সবুজ হলদে দাগ থাকে। পরবর্তীতে দাগগুলো লম্বা দাগে পরিণত হয়। ফলের খোসার নিচের বীজগুলো বাদামি বর্ণের হয়ে যায়। আক্রান্ত ফলের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজার মূল্য কমে যায়।

প্রতিকারঃ রোগাক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মেনকোজেব (ইণ্ডোফিল এম ৪৫/ ডিইথেন এম ৪৫) বা ১ গ্রাম হারে কার্বান্ডিজম( নোইন/ অটোস্টিন/এমকোজিম) ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ২-৩ বার ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

ফল পচা রোগঃছত্রাকজনিত এই রোগটি সাধারণত বর্ষাকালে দেখা যায়। এ রোগের জীবাণু দিয়ে ফুল আক্রান্ত হলে ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং কচি ফল ঝরে যায়। ফলের গায়ে, বিশেষ করে বোঁটায় হলদে বা কালো দাগ দেখে এ রোগের আক্রমণ বোঝা যায়। এই রোগের আক্রমণে ফলের খোসা কুঁচকে যায় ও ফলের ওজন কমে যায়। আক্রান্ত ফল কাঁচা থাকে, আকার ছোট হয় এবংফলের উজ্জ্বলভাব নষ্ট  হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফল নরম হয়ে পচে যায়।

প্রতিকারঃ ফল পচা রোগের প্রতিকার ফলের দাগ রোগের প্রতিকারের অনুরূপ।

ফল ফেটে যাওয়াঃডালিমের ফল ফেটে যাওয়া একটি মারাত্মক সমস্যা। এটি কোন ছত্রাকজনিত রোগ নয়। এটি সাধারণত পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে বা মাটিতে রসের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে। ফলের বৃদ্ধির সময় শুকনো আবহাওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দিলে ফলের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য ফলের ত্বক শক্ত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে মাটিতে রসের আধিক্য ঘটলে ফলের ভেতরের অংশ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। যার কারণে ভেতরের চাপ সহ্য করতে না পেরে ফলের খোসা ফেটে যায়।

প্রতিকারঃ

(ক) ডালিম গাছে ফল ধরার পর থেকে গাছে ঘন ঘন পানি সেচ দিতে হবে।

(খ) মাটিতে বোরনজনিত সার যেমন বোরিক এসিড প্রতি গাছে ৪০ গ্রাম হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে।

(গ) ফলের বৃদ্ধির সময় সলুবর বোরন ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর  ফলে ও গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

(ঘ) তাছাড়া ডালিমের যেসব জাতে ফল ফাটা সমস্যা নেই সেসব জাতের ডালিমের চাষাবাদ করতে হবে।

ফল সংগ্রহঃ আনারের কলমের গাছে ৩-৪ বছর থেকেই ফলন দেওয়া শুরু হয়। ফুল আসার পর থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৬ মাস সময় লাগে। পরিপুষ্ট ফলের খোসার রঙ হলদে বাদামি হয়ে এলেই ফল পাড়াতে হবে। গাছে ফল বেশি দিন রেখে দিলে ফল ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেসব গাছে ফল ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে সেসব গাছের ফল পুষ্ট হওয়ার কিছু আগেই পেড়ে নেওয়ায় উত্তম। তবে অপুষ্ট ফলের স্বাদ ও গুণাগুণ খুব একটা ভালো হয় না। ডালিমের খোসা বেশ শক্ত এজন্য পাকা ফল অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং বাজারজাত করার সময় পরিবহনকালেও ফল সহজে নষ্ট হয় না।

ফলনঃডালিম গাছ  সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই ফল দিতে শুরু করে। তবে শুরুর দিকে ফলন তেমন একটা আশানুরূপ হয় না। সাধারণত ৮-১০ বছর বয়স থেকে ডালিম গাছ ভালো ফলন দিয়ে থাকে। প্রথম ফল ধরার সময় গাছপ্রতি ২০-২৫ টির বেশি ফল পাওয়া যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলন বাড়তে থাকে। দশ বছর বয়সের গাছে গড়ে ১০০-১৫০ টি ফল ধরে। তবে ভালো পরিচর্যা নিলে গাছপ্রতি ২০০-২৫০ টি ফল পাওয়া যেতে পারে। একটি ডালিম গাছ ত্রিশ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফলন দিতে পারে।

চারা প্রাপ্তির স্থানঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারসমুহ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন নার্সারিগুলোতে ডালিম বা আনারের চারা পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলা অবহেলা করার ক্ষতিকর দিক

সহজলভ্য কলা থেকে মেলে এমন সব পুষ্টি উপাদান যা শরীর সু্স্থ রাখতে সহায়তা করে।

সস্তা, সহজলভ্য, খেতে ঝামেলা কম এবং খাওয়ার উপায়ও অনেক। পুষ্টিগুণের হিসেব বাদ দিলেও এই বিষয়গুলোর দিক থেকে কলা অন্যান্য ফলের তুলনায় এগিয়ে।

আর অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম আর ভিটামিন সি’য়ের যে যোগান এই ফল থেকে মেলে তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তবে সহজেই যা পাওয়া যায় তার মূল্যায়ন কমে যায়, কলার ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নেই। তাই কলা খাওয়াকে যারা অবহেলা করে অন্যান্য দামি ফল বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা স্বাস্থ্যগত কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন।

খাদ্য ও পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হলো সেই বিষয়ে বিস্তারিত। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: বিশেষত কাঁচা কলা ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’য়ের দারুণ উৎস। এই উপাদানে আছে ‘প্রিবায়োটিক ইফেক্ট’। মানে হলো উপাদানটি হজমতন্ত্রে থাকা স্বাস্থ্যকর ও উপকারী ব্যাক্টেরিয়াকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। তাই স্বভাবতই খাদ্যাভ্যাস থেকে কলা বাদ দিলে অন্ত্রের ওই উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বঞ্চিত হবে। ফলে তাদের সংখ্যা কমবে।

২০১৩ সালে ‘ফ্রন্টিয়ারস ইন ইমিউনোলজি’তে প্রকাশিত গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শরীরে পর্যাপ্ত ‘প্রিবায়োটিক ফাইবার’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। কলার মতো ‘প্রিবায়োটিক ফাইবার’ সরবরাহকারী ফল খাদ্যাভ্যাসে না থাকলে উপাদানটির ঘাটতি দেখা দেবে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হবে দুর্বল এবং বাড়বে রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।

শরীরচর্চার ধকল: শরীরচর্চার জন্য শরীরের জোর বাড়াতে ‘প্রোটিন বার’ কিংবা বিভিন্ন ‘স্পোর্টস ড্রিংকস’য়ের পরিবর্তে কলা বেছে নেওয়া সহজ, সস্তা এবং পুষ্টিকর। মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৫১৭ মি.লি. গ্রাম পটাশিয়াম থাকে, যা এই খনিজের দৈনিক চাহিদার ১১ শতাংশ। পটাশিয়ামের অভাবে পেশিতে ব্যথা হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা।

২০১২ সালে ‘পিএলওএস ওয়ান’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন দাবি করে, ব্যায়ামের পর শরীরের ধকল পুষিয়ে নিতে কলা অত্যন্ত উপকারী। যেকোনো কার্বোহাইড্রেইট ভিত্তিক পানীয়র তুলনায় অনেক বেশি ‘ডোপামিন’ তৈরি করতে সক্ষম কলা কিংবা তা দিয়ে বানানো স্মুদি। অর্থাৎ কলা না খেলে শরীরচর্চার ধকল সামলাতে বেশি সময় লাগতে পারে।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ: ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে খাদ্যাভ্যাস থেকে যারা কলা বাদ দিয়েছেন তারা হয়ত হিতে বিপরীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

‘জার্নাল অফ ফাংশনাল ফুড’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলে, কাঁচা কলা খাওয়া কারণে শরীরে যাওয়া ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ ওই দিনে গ্রহণ করা ক্যালরির মাত্রা কমাতে পারে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত। তবে পাকা কলা খেলে আবার এই প্রভাব দেখা যায় না।

মৌসুমি রোগের ঝুঁকি: প্রতি বছরই যদি মৌসুমি সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হন। তবে কলা না খাওয়া তার একটা সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

এই ফরে রয়েছে এক ধরনের ‘সুগার-বাইন্ডিং ফাইবার’ যার নাম ‘লেকটিন’। এই উপাদানের ভাইরাসনাশক গুনাবলী আছে যা কয়েক ধরনের ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা’ ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়।

তবে এটাও ঠিক যে ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য শুধু কলা যথেষ্ট নয়। তাই হাত পরিষ্কার রাখা ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার কোনো বিকল্প নেই।

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার জন্য জরুরি উপাদান পটাশিয়াম। যে খাবারগুলোতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, তাদের রক্তচাপ কমানোর ক্ষমতা অনেকটা পটাশিয়াম ক্লোরাইড’য়ের মতো। রক্তচাপ কমানোর চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত উপাদান এই পটাশিয়াম ক্লোরাইড।

স্ট্রোকের ঝুঁকি: উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। আর পটাশিয়াম যেহেতু এই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, তাই পরোক্ষভাবে পটাশিয়ামে ভরপুর কলা খাদ্যাভ্যাসে থাকলে তা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কাঁঠালের বিচির গুণাগুণ

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল হলেও এ ফলের প্রতি মানুষের অনীহার শেষ নেই। অনেকে আছেন, যাঁরা এটি খেতে পছন্দ করেন না। কিন্তু এর বিচি বেশির ভাগ মানুষের প্রিয় খাবার। এখন চলছে পাকা কাঁঠালের মৌসুম। ঘরে আনা এ ফল না খেলেও ঠিকই এর বিচি খাওয়া হবে। এমনকি বাজারে আলাদা কেজিদরেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে এটি। বর্ষাকালে তাওয়ায় সেঁকা কাঁঠালের বিচি আর চা হলে বিকেলের নাশতায় আর কিছু না হলেও চলে। এর রয়েছে বাদামের মতো টেক্সচার। এটি দিয়ে বানানো যায় অনেক মজার সব ঝাল এবং মিষ্টি পদ। এর গুণপনারও কোনো শেষ নেই। তাই শরীর সুস্থ রাখতে ডায়েটে কাঁঠালের বিচি যোগ করা যেতেই পারে।   

পুষ্টি উপাদান

কাঁঠালের বিচির গুণাগুণ

অন্যান্য ট্রপিক্যাল ফলের বিচির তুলনায় কাঁঠালের বিচি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। এক আউন্স বা ২৮ গ্রাম কাঁঠালের বিচিতে আছে মাত্র ৫৩ ক্যালরি, ১১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২ গ্রাম প্রোটিন, দশমিক ৫ গ্রাম ফাইবার, দৈনিক পুষ্টি চাহিদার ৮ শতাংশ রিবোফ্লাভিন, ৭ শতাংশ থায়ামিন, ৫ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম এবং ৪ শতাংশ ফসফরাস।

কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে থায়ামিন ও রিবোফ্লাভিন। উভয়ই ভিটামিন বি। এরা শরীরে শক্তি সঞ্চয়ের পাশাপাশি নার্ভস সিস্টেম, হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক, অন্ত্র, মাংসপেশি ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।

এতে আছে ফাইবার ও রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। এরা শরীরে সহজে হজম হয় না। কিন্তু অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া ফাইবার ও রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ মাত্রাতিরিক্ত ক্ষুধা নিবারণ করে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়, হজমক্রিয়া ও ইনসুলিন সেনসিটিভির উন্নতি ঘটায়।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রভাব

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে বেশ কিছু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। ডায়রিয়া, গ্যাসের সমস্যায় আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় এর গুঁড়া ব্যবহার করা হতো। কাঁঠালের বিচির পৃষ্ঠতলে ছোট ছোট কণা আছে, যেগুলো একধরনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট। পরীক্ষায় প্রমাণিত, এজেন্টগুলো সাধারণ ব্যাকটেরিয়া যেমন ই–কোলাইয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া সাধারণত ডায়রিয়া বা অন্যান্য খাদ্যজনিত পেটের অসুখের মতো সমস্যা তৈরি করে।

কাঁঠালের বিচির গুণাগুণ
Suvra Kanti Das

আছে অ্যান্টিক্যানসার উপাদান

কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে অনেক উদ্ভিদ যৌগ এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের ভেতর রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েডস, স্যাপোনিনস, ফেনোলিকস। গবেষণায় এসেছে যে এই উদ্ভিদ যৌগ এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্টগুলো শরীরের ইনফ্ল্যামেশনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। বাড়াতে পারে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। এমনকি করতে পারে ডিএনএর ড্যামেজ রিপেয়ার।
সম্প্রতি করা একটি টেস্ট টিউব সমীক্ষায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচির এক্সট্রাক্ট বা নির্জাস ক্যানসারযুক্ত রক্তনালির গঠন ৬১ শতাংশ হ্রাস করে।

হজমক্রিয়ায় সহায়তা করে

অন্যান্য ফলের বিচির মতো কাঁঠালের বিচিতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ফাইবার থাকে। এ ধরনের ফাইবার বাওয়েল মুভমেন্ট বা অন্ত্রের কার্যকলাপ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অদ্রবণীয় ফাইবারগুলোকে প্রিবায়োটিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ফাইবার খেয়ে বেঁচে থাকে উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো। এ ছাড়া এগুলো অন্ত্রের কোষগুলোতে বিশেষ পুষ্টি সরবরাহ করে সুস্থ হজমব্যবস্থা বজায় রাখে। এ ফাইবারগুলো ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ এবং হেমোরয়েডের লক্ষণ থেকে মুক্তি দিতে পারে। অনেকগুলো গবেষণায় এসেছে, এ ধরনের ফাইবার আছে, এমন খাবার বেশি করে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে উপশম পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে এ সময়ে বেশি করে কাঁঠালের বিচি খেতে পারেন।

কাঁঠালের বিচির গুণাগুণ

কোলেস্টেরল কমায়

একটি গবেষণায় এসেছে যে কাঁঠালের বিচি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমায় আর ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায়। এইচডিএল হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। আর এলডিএল মানে খারাপ কোলেস্টেরল হৃদ্‌রোগের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

সংরক্ষণ

কাঁঠালের বিচির গুণাগুণ
Suvra Kanti Das

চাইলেই কাঁঠালের মৌসুম শেষ হলেও এর বিচি অনেক দিন সংরক্ষণ করে খাওয়া যায়। আগেকার দিনে গ্রামে বালুর নিচে চাপা দিয়ে বিচি রেখে দেওয়া হতো। কারণ, কাঁঠালের বিচি আর্দ্রতায় নষ্ট হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। আর বালু একে শুকনা রাখে। এখনো এই একই পন্থায় সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এ জন্য সবার প্রথম কাঁঠালের বিচি পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এক ঘণ্টা। এরপর এক দিন অপেক্ষা করে, একটি জারে শুকনা বালু বা মাটি দিয়ে লেয়ারিং করে চাপা দিয়ে রাখতে হবে।
এ ছাড়া কাঁঠালের বিচি সেদ্ধ করে ডিপ ফ্রিজে অনেক দিন রেখে দেওয়া যায়। আবার এটি চুলায় রোস্ট করে, মানে তাওয়ার ওপর ভালো করে সেঁকা দিয়ে শুকিয়ে গুঁড়া করে রাখা যায়। যেকোনো তরকারি রান্নার সময় এটি মিশিয়ে দিলে সেই খাবারের স্বাদ এবং পুষ্টিমান অনেক বেড়ে যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আরব দেশের বিখ্যাত খেজুর চাষে সফলতা পেল দিনাজপুরে মোয়াজ্জেম হোসেন

তাহেরুল আনাম : দিনাজপুরে খেজুর চাষে অবিশ্বাস্ব সফলতা দেখিয়েছেন এক গাছ প্রেমী। শুরুতে খেজুর চাষ শখের বসে করলেও আজ বানিজ্যিকভাবে স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সৌদি আরবের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দামি জাতের আজোয়া খেজুর এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে খেজুর গাছে। তবে সরকারীভাবে সহযোগিতা পেলে অনেক বড় পরিসরে খেজুর বাগান করা সম্ভব বলে মনে করছেন এই বাগানী।

আরব খ্যাতো ও সবচেয়ে দামী জাতের আজোয়া খেজুর এখন দিনাজপুরের একটি ছাদ বাগানে। শহরের চাউলিয়াপট্টির একটি ছাদ বাগানে প্রথমে সখের বসে খেজুরের চাষ করলেও এখন বানিজ্যিক ভাবে সেখানে সম্প্রসারনের জন্য প্রস্তুত আছে ৬শ খেজুর চারা। পাশাপাশি এই জাতের খেজুর গাছের শিকড় থেকে প্রতিবছর ২ থেকে ৩টি বাড়তি চারা গাছ বেড় হয়। যা থেকেও বংশ বিস্তার করা সম্ভব। বাগান মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন চাকুরী সুবাদে ৩০ থেকে ৩৫ বছর সৌদি আরবের মদিনা শহরে ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে অবসর নিয়ে দেশে চলে আসেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন আজোয়া খেজুরের বীজ। তার ছোট ছেলের সহযোগিতায় চারা গাছ তৈরী করছেন। এই গাছ রোপনের চারবছরের মাথায় ধরতে শুরু করে খেজুর। প্রথমে দুটি থোকায় খেজুর আসলেও প্রাপ্ত বয়সে ১৮ থেকে ২০টি থোকা হয় এই গাছে। আজোয়া খেজুর শুধু আকারে বড় নয় বাজার মূল্যও অনেক বেশি। আগামীতে আরো বড় পরিসরে খেজুর বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

খেজুর বাগানী মোয়াজ্জেম হোসেন জানালেন, চাকরীর সুবাদে সউদী আরবে যাওয়া। সেখানে খেজুরের বাগান দেখে নিজে মনে মনে চিন্তা করেন দেশে যদি এই খেজুর চাষ করা যায় তবে কিছু একটা করা সম্ভব। আর সেই চিন্তা থেকে দেশে কিছু খেজুরের চারা পাঠিয়ে পরিক্ষা মুলক ভাবে চাষ করেন। এখন তার বাগানে ৬শ খেজুর গাছ রয়েছে। সরকারী ভাবে সহায়তা পেলে এই খেজুর দেশের সকল জায়গায় দেশের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির সম্বাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণের পরিচালক কৃষিবিদ প্রদীপ কুমার গুহ, এই কৃষি কর্মকর্তা খেজুর বাগানে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের যে সকল ফল রয়েছে তা বেশি বেশি চাষ করারও পরামর্শ দিলেন তিনি।

সরকারি সহযোগিতা অথবা প্রকল্প আকারে এই উন্নত জাতের আজোয়া খেজুর সম্প্রসারন করা গেলে দেশে খেজুরের চাহিদা অনেকটা পূরন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংস্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ড্রাগন চাষ দেখে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দুলালের

তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে ইউটিউবে ড্রাগন চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হন কুমিল্লার লাকসামের আনিছুর রহমান দুলাল। একের পর এক ভিডিও দেখে তিনি গড়ে তুলেন ড্রাগন ফলের বাগান। 

উপজেলার মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের পাশাপুরের সরকারি হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের ছেলে আনিছুর রহমান দুলাল এইচএসসি পাশ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। ২০১৩ সালে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান। দেশে এসে ৫ বছর পর মুদাফরগঞ্জ বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এরই মধ্যে তিনি ইউটিউবে লাভজনক ড্রাগন ফলের চাষ দেখে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেন। একের পর এক ভিডিও দেখে তিনি ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। নিজ বাড়ির পাশে ৬০ শতাংশ জায়গায় তিনি ড্রাগন বাগান গড়ে তুলেন। বাগানে তিনি ১ হাজার ৩শ’ ড্রাগন গাছের রোপণ করেন। ইতোমধ্যে চারাগুলো বেশ পরিপক্ব হয়ে ফল দেয়া শুরু করেছে। বাগানে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। 

দুলাল জানান, ড্রাগন চারা রোপণের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছে ফুল আসে। ফুল আসার পর ২০/২৫ দিনের মধ্যে ফল হয়। ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সী গাছ হতে ৫ থেকে ২০টি ফল পাওয়া যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক একটি গাছ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিটি ড্রাগন গাছ ২০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ২০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি পর্যন্ত। 

তিনি আরও জানান, বর্তমান বাজার দরে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি কারা যায়। এরই প্রেক্ষিতে নিজের প্রতিষ্ঠিত বাগান থেকে তিনি প্রথম দফাতেই ১২/১৩ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ড্রাগন গাছে তেমন রোগবালাই না থাকার কারণে বাগানে তুলনামূলক খরচ কম। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আরও জমি সংযুক্ত করে বাগানের পরিধি বৃদ্ধি করবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ড্রাগন চাষে তার ভাগ্য বদলে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

এ প্রসঙ্গে লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানান, ড্রাগন বাগানটির মাটি ড্রাগন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণে অফিসের পক্ষ থেকে আমরা সর্বদা বাগানটি পরিদর্শন করে চাষীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। দুলালের মতো অন্যরাও বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় ড্রাগন চাষ করে নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারেন। এজন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।   

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com