আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতি

কৃষিজমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি।

যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি। বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে এক শতাংশ হারে কমছে কৃষিজমি। বিপরীতে প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ নতুন মুখ জনসংখ্যার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। এটি চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রকল্প ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। আবার কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও সেগুলো কতখানি পরিবেশবান্ধব, সেগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে এ ধরনের চিন্তাভাবনা একদম করা হয় না বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর। এই গবেষক বলেন, কৃষি জমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি। যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি।

বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কম আয়তনের দেশেও বর্তমানে বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে। কৃষিতে এখন অনেক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে তবে তা পরিবেশের জন্যও কিছুটা হুমকি হয়ে পড়বে যদি সেগুলো ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারি। অনেক সময় মেশিনের জন্য যে অ্যানার্জি/ফুয়েল ব্যবহার করা হয় যেমন ব্যাটারি, ডিজেল মাটির সঙ্গে মিশে মাটির ক্ষতি করে, সেগুলো খেয়াল রাখতে হবে। কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কৃষকের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। আর এ দায়িত্ব তাদেরই বেশি ভূমিকা পালন করা দরকার, যারা এ প্রযুক্তিগুলো মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। দেখা যায়, কৃষকের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের যথাযথ জ্ঞান না থাকায়, একটি যন্ত্র একটানা বেশি সময় ব্যবহার করার কারণে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে। আবার একটি যন্ত্র কর্মদক্ষতা হারানোর পর ব্যবহার করা হলে সেটি তখন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো আমাদের ভাবতে হবে। কোনো প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্রপাতি মাঠপর্যায়ে ছড়ানো আগে আমাদের অবশ্যই বাজার পর্যালোচনা করতে হবে।

বাজারে অর্থাৎ কৃষকের কল্যাণে কাজে লাগবে এমন প্রযুক্তিই কেবল সম্প্রসারণ করতে হবে। নয়তো উল্টো সেটি আমাদের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাবে। অনেক সময় দেখা যায় মাটি পরীক্ষা না করেই কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন। কিন্তু এটি কোনোভাবেই ঠিক না। কোন জমিতে কোন ফসল উপযোগী সেটিও আমরা মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নিতে পারি। তখন সেই ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। অন্যদিকে জমিতে অধিক উৎপাদনের জন্য মাত্রারিক্ত সার ব্যবহার করায় মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, একইসঙ্গে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। সার ব্যবহারের এ জ্ঞান না থাকার দরুণ প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ সারেরও অপচয় হচ্ছে বলেও জানান এই গবেষক। গবেষক আরো বলেন, একটা সময় আমরা খাদ্যশস্য উৎপাদনে পরিমাণের ওপর জোর দিয়েছিলাম, সেটি বলতে গেলে আমরা সফল হয়েছি। বতর্মানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূণর্তার দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদের খাদ্যমান অর্থাৎ নিরাপদ খাদ্যের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ব্যবহার করতে হবে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

কেজিতে বিক্রি হচ্ছে খড়!

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলে চলতি বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে বিস্তীর্ণ চারণভূমি। পশু খাদ্যের সংকটে পড়েছে পশু মালিকরা। খাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের। অনেক কৃষকের মজুদ করা শুকনো খড় বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

বর্তমানে বন্যার পানি না থাকলেও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের খড়ের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজার থেকে ২৫ টাকা কেজিতে খড় কিনছেন খামারি ও সাধারণ কৃষকরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট গবাদি পশুর খামার রয়েছে ১১৪টি। আর মোট গবাদি পশুর সংখ্যা এক লাখ ৪৪ হাজার। গেলো বোরা মৌসুমের শেষ দিকে আকস্মিক বন্যার কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেক জায়গায় গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় মোট ২৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আগাম ধান কাটা শুরু হলেও নভেম্বর মাসের শেষের দিকে পুরোপুরি ভাবে ধান কাটা শুরু হবে। ফলে কৃষকদের এখনো প্রায় নতুন খড়ের জন্য দেড় মাস অপেক্ষা করতে হবে।

উপজেলার ধারা, নাগলা, ধুরাইল, শাকুয়াই, বিলডোরা সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে অস্থায়ী খড়ের বাজার। সেখানে প্রতি কেজি বোরো ধানের খড় ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। পাঁচ কেজি খড়ের আটি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা দরে। বাজারে খড় আনার সাথে সাথেই সেগুলো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

ধারা বাজারে খড় কিনতে আসা গরুর খামারি নাজমুল ইসলাম বলেন, এবার বোরোর খড় শুকানোর সুযোগ পাইনি। বৃষ্টির পানিতে সব খড় নষ্ট হয়ে গেছে। যেটুকু সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম তাও শেষ। আমন ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত খড় কেনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। গরু নিয়ে খুব বিপদে আছি। প্রতিদিন বাজার থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে খড় কিনতে হচ্ছে।

বিলডোরা এলাকার আরেক খামারি কুদ্দুস মিয়া বলেন, এবার ফসল ঘরে তুলে শেষ করতে পারি নাই, বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। গরুর ভুঁসি, ফিডের দাম অনেক বেশি। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খড় কিনতে হচ্ছে। গরু নিয়ে মহা সমস্যায় আছি। বিক্রি করে দিলেও ভালো দাম এখন পাবো না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, নিম্নাঞ্চলের অনেক কৃষক এবার আকস্মিক বন্যার কারণে বোরোর খড় শুকাতে পারেননি। সংরক্ষণ করা খড়ও শেষ হয়েছে। এ কারণে উপজেলার কিছু কিছু জায়গায় খড়ের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আমরা কৃষকদের খড়ের বিকল্প হিসেবে কচুড়িপানা খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বাড়ছেই

উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবকয়টি গেট খুলে দেওয়ায় ভাটি অঞ্চলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে উঠেছে পানি। ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকালের দিকে তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে আরো ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে তা ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ১০টার দিকে ১৪ সেন্টিমিটার কমলেও বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল পানি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পানি আরো কমে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

এদিকে, উজানের ঢল নেমে আসা অব্যাহত থাকায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আর রাত ১০টায় বেড়ে ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল পানির প্রবাহ। আজ সকাল ৯টায় তা আরো বেড়ে পূর্বের রেকর্ড ভেঙে ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এখনও কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের নিম্নাঞ্চলে আবাদ করা ধান, আলু ও রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। চরে কয়েক শত হেক্টর জমিতে আগাম আলু রোপন করা হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেকের ফসল এরই মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।

শিবদেব চরের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল বুধবার বিকেল থেকে পানি বেড়েই চলছে। এতে চরের ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গাবুগা গ্রামের আফছার আলী বলেন, তিস্তার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার কৃষকরা আগাম আলু রোপনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অনেকে ইতিমধ্যে আলু রোপন করেছে। আবার অনেকে জমি প্রস্তুত করেছে। এখন সব নষ্ট হয়ে গেল।

একই এলাকার কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, আর কয়েকদিন পরেই ধান কাটা-মাড়াই শুরু হতো। এমন সময় বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

পীরগাছার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, মাঠে শীতকালীন আগাম সবজিসহ ধান রয়েছে। অসময়ের বন্যায় এসব ফসলের ক্ষতি হবে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরেফীন বলেন, তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ওই সব এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে বলা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, তিস্তার পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে, দ্রুত পানি কমে যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আমদানি করা মাংসের দাম কম, হুমকিতে দেশীয় গরুর খামার

নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে গরু আমদানি গত কয়েক বছর যাবত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এখন তার পরিবর্তে আমদানি হচ্ছে মাংস। মাংস আমদানি বেড়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় গরুর খামারগুলো। খামারিদের অভিযোগ, আমদানি করা মাংসের দাম কম হওয়ায় দেশীয় খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা মাংসের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এ অবস্থায় দেশীয় গরুর খামার রক্ষার স্বার্থে বিদেশ থেকে মাংস আমদানি বন্ধের দাবি উঠেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, এখন প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন মাংস আমদানি হচ্ছে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে মাংসের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। ফলে গত কয়েক মাস ধরে মাংস আমদানি কিছুটা কমেছে বলে আমদানিকারকরা দাবি করেছেন।

দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রচুর খামার গড়ে উঠেছে। নতুন করে অনেকেই এই ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। ফলে দেশীয় উত্পাদন দিয়ে দেশের মাংসের চাহিদা মিটিয়ে আরো উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। ভারত থেকে গবাদি পশু আমদানি বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে প্রচুর মাংস আমদানি হচ্ছে। আমদানি করা মাংস অনেক কম দামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, হোটেলে সরবরাহ দিচ্ছে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। অতি মুনাফার সুযোগ থাকায় এরই মধ্যে অনেকেই নতুন করে মাংস আমদানিতে যুক্ত হচ্ছেন।

দেশে মাংস আমদানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশীয় খামারিরা। এই খাতে নতুন করে বিনিয়োগে অনেকেই ঝুঁকি মনে করছেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে মাংস আমদানিতে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। মাংস আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এর বাইরে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত রয়েছে।

জানতে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক বলেন, ডিউটি বাড়িয়ে মাংস আমদানি নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। গত দুই মাস আমদানি কিছুটা কমেছে। বছরে ১০ শতাংশ হারে মাংসের চাহিদা বাড়ছে। অনেক শিক্ষিত লোক গরুর খামারে বিনিয়োগ করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও দুই-তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাংস আমদানি হচ্ছে। আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, ডিউটি বাড়িয়ে দেওয়ায় আমদানি খরচ বেশি পড়ছে। তাই মাংস আমদানি কমে গেছে।

মাংস আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন হালাল মিট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, ‘গত পহেলা জুন থেকে ডিউটি বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা ডিউটি দিতে হচ্ছে। এতে মাংসের আমদানি খরচ পড়ছে কেজি প্রায় সাড়ে ৪০০ টাকা। আমদানি কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে মাংসের দাম বেড়ে গেছে। দেশের ৫০/৬০ জন মাংস আমদানি ব্যবসায় যুক্ত রয়েছে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, মাংস আমদানির কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে উত্পাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে দেশীয় খামারিরা কোনো ভর্তুকি পায় না। অথচ ভারত ডেইরি খাতে সরকারিভাবে বছরে ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে। ফলে তারা কম দামে মাংস বিক্রি করতে পারছে। দেশীয় ডেইরি খামারি রক্ষার স্বার্থে মাংস আমদানি বন্ধ করা প্রয়োজন।

বর্তমানে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় কন্টেইনার থেকে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। সেখানে তিনটি বিষয় যাচাই করা হয়। সেগুলো হচ্ছে গরুর বা মহিষের মাংস কি না, শূকরের কোনো উপকরণ আছে কি না ও জনস্বাস্থ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে কি না।

জানতে চাইলে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরির প্রধান প্রফেসর ড. হিমেল বড়ুয়া বলেন, প্রতিদিন গড়ে দুই-তিনটি মাংসের নমুনা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আমাদের কাছে মান যাচাইয়ের জন্য পাঠায়। কোন বিষয় পরীক্ষা করে দেখতে হবে তারা চিঠিতে উল্লেখ করে দেয়। এই পর্যন্ত যে মাংস পরীক্ষা করা হয়েছে তাতে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর কোনো উপকরণ পাওয়া যায়নি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

অবহেলায় বন্ধ চিনিকল, বিপাকে চাষিরা

নিউজ ডেস্ক: পাবনা চিনিকল বন্ধের কারণে আখ মাড়াই নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার আখচাষিরা। বিপনন অনিশ্চয়তায় উৎপাদনে তারা আগ্রহ হারানোয় আখের উৎপাদন কমেছে। এদিকে মাড়াই কার্যক্রম না থাকায় পরিচর্যার অভাবে অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে আখ মাড়াই যন্ত্রসহ মিলের শত কোটি টাকার সম্পদ।

আখচাষিরা জানান, টানা লোকসানের দায় নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ চিনিকলের সাথে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় পাবনা সুগারমিলে। হঠাৎ মাড়াই বন্ধ হওয়ায় সে সময় চুক্তিভুক্ত চাষিদের আখ সংগ্রহ করে নাটোরের নর্থবেঙ্গল সুগারমিলে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। চলতি মৌসুমেও মাড়াই বন্ধ থাকায় চুক্তি নবায়ন হয়নি। এরপরেও অর্থকরী ফসল হিসেবে লাভের আশায় নিজ উদ্যোগেই আখ চাষ করেছেন জেলার অনেক চাষি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পাবনা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফ উদ্দিন বলেন, পাবনা চিনিকলের অন্তর্গত দশটি চিনি উৎপাদনের জোন আছে। মিলে মাড়াই বন্ধ থাকায় এ বছর কৃষকদের কথা ভেবে মিলের নিকটবর্তী চারটি আখ উৎপাদন জোন ঈশ্বরদী জোন, মুলাডুলি জোন, লক্ষীকুন্ডা জোন ও মিলগেট জোনকে পাবনার নিকটবর্তী গোপালপুর চিনিকলের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাই তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় চালু থাকা চিনিকল গুলোতে বদলি করা হয়েছে পাবনা সুগার মিলের কর্মীদের।

সরেজমিনে পাবনা চিনিকলে গিয়ে দেখা যায়, মরিচা পড়েছে মাড়াই যন্ত্রের বিভিন্ন অংশে। আগাছা আর জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে বাইরে ইয়ার্ডে থাকা যন্ত্রপাতি আর দুইশতাধিক ট্রলি। দ্রুত মিল চালু না হলে আচিরেই এসব শতাধিক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়বে বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, মাড়াই শুরুর কয়েক মাস আগে থেকে যন্ত্রপাতির পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু গত দুবছর মাড়াই না হওয়ায় কর্মীদের অন্যান্য মিলে সংস্থাপন করায় যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।

আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে পুনরায় পাবনা সুগার মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ। এটা বাস্তবায়ন হলে এসব অঞ্চলের আওতাধীন কৃষকরা নির্ধারিত সময়ে চিনিকলে আখ সরবরাহ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

রাণীশংকৈলে ইঁদুর তাড়াতে ফসলের ক্ষেতে পলিথিন ব্যবহার

আনোয়ার হোসেন: [২] আমন ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসেলের ক্ষেতে উড়ানো হয়েছে ঝাণ্ডা। দেখে অবাক হলেও সত্যিটা হলো ক্ষেতের ইঁদুর তাড়াতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে লাঠির মাথায় পলিথিন বেঁধে বানানো এই ঝাণ্ডা উড়িয়ে উপকৃত উপজেলার কৃষকেরা। কৃষকেরা জানান, কীটনাশকের চেয়েও বেশি কার্যকরী এই ঝাণ্ডা উড়ানো।

[৩] রাণীশংকৈল উপজেলার সর্বত্র বেড়ে উঠছে আমন ক্ষেত। কোথাও ধানের গাছে থোড় এসেছে, কোথাও শীষ বের হচ্ছে। ফলে কৃষি বিভাগ এবারে বাম্পার ফলনের আশা করছে। তবে আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইঁদুর আমন ধানের গাছ কেটে সাবাড় করছে। ফলে কৃষকেরা এর উপদ্রব থেকে ফসলের ক্ষেত বাঁচাতে পলিথিনের ঝাণ্ডা উড়িয়েছেন।

উপজেলার হোসেনগাঁও ইউপির হাটগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ধান খেতে পলিথিন টাঙানো হয়েছে। কৌতুহলবশত খেতে পলিথিনের এমন ব্যবহার কেন জানতে চাইলে কৃষক হালিম বলেন, ‘এক বিঘা ধান লাগিয়েছি ধান ভালোই হবে আশা রাখি। কিন্তু হঠাৎ ধান খেতে ইঁদুরের আক্রমণে অনেক ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছের গোড়া কেটে দিয়েছে। খেতে অনেক বড় বড় গর্ত তৈরি করছে। দিনের বেলা মানুষের উপস্থিতির কারণে তারা কম আক্রমণ করে। তবে রাত হলে উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই এই পলিথিনের ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো শব্দ পেলে ইঁদুর স্থান পরিবর্তন করে। রাতে পলিথিন বাতাসে নড়ে উঠে আর এই বাজনায় ইঁদুর পালিয়ে যায়।’

[৫] উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় গত বছরে ২১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। গতবারের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার উপজেলায় ২১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।

[৬] তথ্য মতে, ইঁদুরের বংশ বৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি। সুষ্ঠু পরিবেশে একজোড়া ইঁদুর থেকে বছরে প্রায় তিন হাজার ইঁদুর জন্মলাভ করতে পারে। জন্মদানের দুইদিনের মধ্যেই এরা পুনরায় গর্ভধারণে সক্ষম হয়। জন্মদানের তিন মাসের মধ্যে বাচ্চা দিতে সক্ষম হয়। ইঁদুরের জীবনকাল ২-৩ বছর। ইঁদুর ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, ফলমূল বিশেষ করে শাকসবজি, নারিকেল, পেয়ারা, সফেদা, লিচু, আম, লাউ, মিষ্টি আলু ইত্যাদি কৃষিজ ফসল খেয়ে ক্ষতি করে। ধান ও গমের শীষ আসার সময় ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে কেটে গর্তের ভেতর নিয়ে বাসা তৈরি করে এবং খায়। ইঁদুর যতটা না খায় তার চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি নষ্ট করে। ইঁদুর প্রায় ৩০ ধরনের রোগ ছড়ায়।

] কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে আমনক্ষেতে। কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি পলিথিন ঝাণ্ডা উড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। এই ঝাণ্ডা উড়ানোর ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com