আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কুল চাষ

সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কুল চাষ
সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কুল চাষ: কয়েক বছরের কুল চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

কুল চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। প্রতি কেজি কুলের পাইকারি মূল্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সব খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব

কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় সাতক্ষীরার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে কুল চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে এর আবাদ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে শত শত মেট্রিক টন কুল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সাতক্ষীরার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে কুল চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ করে সাতক্ষীরা কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় জেলার চাষিরা কুল উৎপাদনে রীতিমত বিপ্লব সৃষ্টি করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী। মূলত ২০০০ সালের পর থেকে এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ শুরু হয়। ফসলটি লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য ফসল উৎপাদন কমিয়ে জেলার শত শত কৃষক কুল চাষ শুরু করেছে।

জেলায় বাউকুল, আপেলকুল, তাইওয়ানকুল, নারিকেলি, ঢাকা নাইনটিসহ বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়ে থাকে । চলতিবছর জেলায় ৬৬০ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হয়েছে। এতে ৭ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদন হবে বলে কৃষি বিভাগ জানান।

কুল চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। প্রতি কেজি কুলের পাইকারি মূল্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সব খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

সাতক্ষীরার উৎপাদিত সবধরনের কুলের দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ জেলার উৎপাদিত কুল জেলার চাহিদা মিটিয়ে খুলনা, ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়ে থাকে।

তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার কুল চাষি কল্যাণ ঘোষ জানান, কুল চাষ লাভজনক একটি ফসল। সাতক্ষীরার বাজারে এক কেজি কুলের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর কুলের ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমনি দামও বেশ ভালো। ফলে চাষিরা অন্য বছরের তুলনায় এবছর লাভবান হচ্ছে বেশি। সরকার চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ দিলে জেলায় কুল চাষ আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি জানান।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরবিন্দু বিশ্বাস জানান, এবছর সাতক্ষীরায় কুলের ভালো ফলন হয়েছে । কৃষকরা দামও পাচ্ছে ভালো। ফলে এবার কুল চাষিরা বেশ লাভবান হবে। সরকার কুল চাষিদের সব ধরণের সহযোগিতা করেছে।

দৈনন্দিন

পুষ্টির পাশাপাশি কামরাঙা যখন বিষ

কামরাঙা টক জাতীয় এই ফলে প্রচুর পুষ্টি রয়েছে এবং এতে ক্যালরিও কম। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য কামরাঙা বিষ হিসেবে কাজ করতে পারে, তাই সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রতিবেদনে কামরাঙার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিকই তুলে ধরা হলো। রাইজিংবিডি

সুস্থ মানুষেরা পরিমিত পরিমাণে কামরাঙা খেয়ে উপকার পেতে পারেন। কামরাঙার উল্লেখযোগ্য ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুলো হলো- ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট ও কপার। একাধিক গবেষণার ফলাফলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, কামরাঙা ক্যানসার এড়াতে সাহায্য করবে। এই ফলের ফাইবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এতে উপস্থিত উচ্চমাত্রার ফাইবার ওজন কমাতেও সহায়তা করে। এসব ফাইবার বিপাক ও হজম ক্রিয়া উন্নত করে- এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা, পেট কামড়ানি ও ডায়রিয়া থেকে উপশম পাওয়া যায়।

কামরাঙার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সোরিয়াসিস ও ডার্মাটাইটিসের উপসর্গ প্রশমিত করতে পারে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে, যা শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনের মাধ্যমে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হলে কোভিড-১৯ এর মতো ভাইরাস সংক্রমণ সহজেই বিতাড়িত হয়। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ জনিত গলা ব্যথা কমাতেও ফলটি অবদান রাখতে পারে।

কামরাঙার উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এছাড়া স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন ও যথাযথ রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করে। এতে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাতে পারে।

কামরাঙাতে বহুবিধ পুষ্টি রয়েছে বলে আমরা সহজেই ধরে নিতে পারি যে, এটি খেলে শরীর উপকৃত হবে। কিন্তু একথা সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়, বিশেষত যাদের কিডনি রোগ রয়েছে। গবেষকরা জানান, এই ফলে ক্যারামবক্সিন নামে যে বিষ রয়েছে তা কিডনি রোগকে শোচনীয় করে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। সুস্থ কিডনি এই বিষকে শরীর থেকে বের করে দিতে পারে, কিন্তু এই কাজে অসুস্থ কিডনির সক্ষমতা কম।

কিডনি রোগীর শরীরে ক্যারামবক্সিন জমতে থাকে এবং একসময় মস্তিষ্কে চলে আসে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এই বিষ বেড়ে গেলে এসব উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে- হেঁচকি, পেশির অসাড়তা, খিঁচুনি, মানসিক বিভ্রান্তি ও দীর্ঘসময় চেতনাহীনতা (কোমা)। অতঃপর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে।শরীরে ক্যারামবক্সিনের বিষক্রিয়া হচ্ছে ধারণা করলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে, অন্যথায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।

ব্রাজিলে অবস্থিত পন্টা গ্রোসা স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কিডনি রোগীর পেট খালি থাকলে বেশি কামরাঙা না খেলেও বিষক্রিয়ায় ভুগতে পারেন। কামরাঙা খাওয়ার আগে প্রচুর পানি পান না করলে বিষক্রিয়া আরো বেড়ে যেতে পারে। কিডনি যত বেশি অকার্যকর হবে, বিষক্রিয়া জনিত পরিণতির ঝুঁকিও তত বেশি। তবে শরীরে ক্যারামবক্সিনের মাত্রা কত হলে বিষক্রিয়া হয় তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি গবেষকরা।

কিডনি রোগের ধরন যেমনই হোক না কেন, সতর্কতাস্বরূপ কামরাঙা পরিহার করাই উত্তম। কিডনি রোগের পাশাপাশি স্নায়ুতাত্ত্বিক সমস্যা থাকলে এই ফল মুখে না নেওয়াটাই নিরাপদ।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ‘আমার তো কিডনির সমস্যা নাই, তাহলে আমি কি ইচ্ছেমতো কামরাঙা খেতে পারব?’ বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি হয়তো জানেন না আপনার কিডনিতে কোনো সমস্যা আছে কি না; তাই সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।

কিডনি রোগ নেই ভেবে ইচ্ছেমত কামরাঙা খেতে যাবেন না, নিশ্চিত হতে চেকআপের প্রয়োজন আছে। এমনকি কিডনি সুস্থ হলেও এই ফল বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ অক্সালেটের প্রভাবে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া ক্যারামবক্সিনের প্রভাবে স্নায়ুতাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

কামরাঙা খেতে চাইলে এই তিন পরামর্শ বিবেচনা করুন- খালিপেটে খাবেন না, বেশি পরিমাণে খাবেন না এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মাল্টা গাছের রোগবালাই ও চিকিৎসা

লিভ মাইনার মাল্টা গাছে একটি মারাত্মক ক্ষতি কারি পোকা । এ পোকা আক্রমণ করে গাছের ছোট এবং কচি সবুজ পাতা খেয়ে ফেলে। এছাড়া এটি ফলের উপর আঁকা বাঁকা সূরঙগের মত দাগ সৃষ্টি করে। প্রথম অবস্থায় আক্রমণ কৃত পাতা গুলো ছিড়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। হলুদ ফাঁদ তৈরি করে এই পোকা দমন করা সম্ভব। কিন্তু আক্রমণের পরিমাণ অতিরিক্ত বেশি হলে লিফ মাইনার পোকা দমন করতে কিনালাক্স ২ এমএল প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এই ওষুধ টি প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর গাছে স্প্রে করলে এধরনের পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

মাল্টা গাছের ডাম্পিং অফ রোগ

মাল্টা গাছে ড্যাম্পিং অফ রোগ হলে গাছের গোড়া পচে যায়। এটি মূলত বর্ষার সময় দেখা যায়। এছাড়া অতিরিক্ত পানি সেচ দেয়ার কারণে অনেক সময় এ সমস্যাটি হয়ে থাকে। এটি দূর করতে রেডোমিল্ড গোল্ড ২ গ্ৰাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় স্পে করতে হয়।

মাল্টা গাছের গেমোসিস রোগ

গেমোসিস রোগ হলে গাছের কান্ড ও পাতা বাদামি বর্ণ ধারণ করে। গাছের কান্ড মাঝ বরাবর ফেটে যায়। ও সেখান দিয়ে কস বের হতে থাকে। এ রোগটির অতিরিক্ত প্রাদুর্ভাব এর ফলে গাছটি উপর থেকে কান্ড শুকিয়ে মারা যেতে থাকে। মাল্টা গাছে গেমোসিস রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত ডালের অংশটি কেটে ফেলে দিতে হবে এবং কাটা অংশে বোর্দো পেস্ট এর মিশ্রণ লাগিয়ে দিতে হবে। বোর্দো পেস্ট তৈরি করার জন্য ১৪০ গ্রাম চুন ও ৭০ গ্ৰাম তুতে আলাদা আলাদা পাত্রে নিয়ে পরবর্তীতে 1 লিটার পানির সাথে মিশিয়ে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পেয়ারার চাষে পুষ্টি অর্থ দুটোই আসে

পেয়ারা ফলটি স্বাদ ও আকৃতিতে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এ ফলের স্বাদের পরিধি মিষ্টি থেকে অম্ল টক পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া এ ফলের কস্তরির মতো গাঢ় গন্ধ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতে দেখতে পাওয়া যায়। এ রসালো ফলটির উপরের চামড়াটি দেখা যায় পাতার সবুজ রঙ্গের বলয় দিয়ে ঘেরা রয়েছে। এজন্য এ ফলকে বাংলাদেশের আপেল বলা হয়। এ ফলের আকার কখনো গোলাকৃতি আবার কখনো ডিম্বাকৃতি হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। পেয়ারার আকার সাধারণত ৪ থেকে ১২ সেঃ মিঃ পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে।

এ ফলের বাহিরের অংশের রং হালকা সবুজ থেকে গাঢ় হলূদ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া পেয়াারার ভিতরের শাঁসযুক্ত মাংসাল অংেশের পরিমাণ বিভিন্ন জাতে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এর রংও কোনো ফলে সাদা বা হলুদ আবার কোনো ফলে লাল বা গোলাপী হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। এ ফলের বীজগুলো শাঁসের সাথে খুবই দৃঢ়ভাবে গেঁথে থাকে। পেয়ারা ফলের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে হলুদাভ শক্ত বীজ থাকে। এসব বীজের আকার ৩ থেকে ৫ মি. মি. এবং এর সাথে একটি বাকানো ভ্রুণও দেখতে পাওয়া যায়।

পেয়ারা ফলটির মাংসাল অংশে এবং বীজে সাধারণত শতকরা ৮০ ভাগ পানি, এক ভাগ আমিষ, ১৩ ভাগ শ্বেতসার এবং প্রায় ৬ ভাগ আঁশ থাকে। এছাড়া পেয়ারা ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। এতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায় ১৪৬ থেকে ৪৯২ মিঃ গ্রঃ পর্যন্ত যার গড় পরিমান প্রায় ২৬০ মিঃ গ্রাম। ভিটামিন-সি ছাড়াও পেয়ারাতে ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়াম, লোহা এবং ফরফরাস ও অনেক পাওয়া যায়। পেয়ারা ফলের ভিতরে শাঁসালো অংশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন। তা দিয়ে বীজগুলো ছাড়ানোর পর এ থেকে জ্যাম, , জেলি এসব তৈরি করা যায়।

এছাড়া পেয়ারার পাতার অনেক ভেষজগুণ ও রয়েছে। পেয়ারা পাতা সাধারণত ডায়রিয়া রোগের প্রতিষোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার অনেক সময় পেয়ারা পাতা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রং শিল্পেও ব্যবহৃত হয়। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidium guajava এবং এ ফলটি Myrtaceae পরিবার ভুক্ত। পেয়ারা আমাদের গ্রীষ্ম মন্ডলীয় এলাকা বিশেষ করে বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় ফল। তবে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফলসমূহের মোট আবাদকৃত জমি ও মোট উৎপাদনের পরিমান বিশ্লেষণে পেয়ারার অবস্থান রয়েছে পঞ্চম স্থানে। বিগত কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষ পুস্তিকা- থেকে দেখা যায় বাংলাদেশে পেয়ারার আবাদকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ২৪.৫১৫ হেক্টর এবং এর সর্বমোট উৎপাদন হয় ৪৫.৯৯০ মেট্রিক টন।

উৎপত্তি ও বিস্তার: আমেরিকা মহাদেশের উষ্ণ তাপযুক্ত এলাকা পেয়ারার উৎপত্তিস্থান বলে চিহ্নিত। সাথে সাথে অষ্ট্রেলিয়ার উষ্ণ অঞ্চলেও বিভিন্ন জাতের পেয়ারা হয়ে থাকে। ইতিহাসে দেখা যায়, আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রাচীনকালের নাবিকদের মাধ্যমে আমাদের দেশে পেয়ারা চাষের বিস্তার ঘটে থাকে। বাংলাদেশসহ ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে পেয়ারার উৎপাদন হয়ে থাকে। এখন বাংলাদেশের সব জেলাতেই পেয়ারার আবাদ হয়। তবে এর মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম গাজীপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার উন্নতজাতের পেয়ারার ফলন বেশি হয়ে থাকে।

জাতঃ পেয়ারার জাত বিচারকালে যে বিষয়গুলোকে মুখ্য উপাদান হিসেবে ধরা হয় তাহলে বিভিন্ন গাছের বৃদ্ধি, ফলের উপাদন এবং এর সার্বিক গঠন প্রণালী। দেশে বিদেশে পেয়ারার প্রচুর জাত রয়েছে। তবে বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব উন্নতজাতের আবাদ হয়ে থাকে, তা হচ্ছে কাঞ্চন নগর, স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরি, লালশাঁক, কাজি পেয়াারা, বারি পেয়ারা-২, ইপসা পেয়ারা এসব। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএ আর আই) উদ্ভাবন করেছে কাজি পেয়ারা এবং বারি পেয়ারা-২ জাতটি এবং বঙ্গবন্ধু এস, এম, আর কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় (ইপসা) সালনা উদ্ভাবন করেছে ইপসা পেয়ারা জাতটি। এসব উন্নতজাতের পেয়ারা দেশের বিভিন্নস্থানে জাতভেদে খবই ভাল ফলন দিয়ে থাকে। এর মধ্যে এজন্য কাঞ্চন নগর জাতটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য আবাদ করতে সুপারিশ করা হয়েছ্ েএছারা কুমিল্লা ও বি, বাড়িয়া এলাকায় আবাদ করার জন্য স্বীকৃত দেয় হয়েচে মুকুন্দপুরি জাতকে। অপরদিকে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে চাষ করতে বলা হয়ে:েছ স্বরূপকাঠি জাতটিকে। তবে বাংলাদেশের সব এলাকাতেই বিশেষ করে লবণাক্ত অঞ্চল বাদে বি এ আর আই উদ্ভাবিত পেয়ারার জাত দুটি (কাজি পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২) আবাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

পেয়ারার জাতের গুণাবলি ও উৎপাদনঃ বাংলাদেশের উন্নতজাতের পেয়ারার গুণাবলি এবং উৎপাদন বৈশিষ্ট্য এ দেখানো হলো।

ff

১। কাঞ্চননগর ১০৮.৬ ১৩১০ ১৪২.২৭
২। মুকুন্দপুরি ১০০.৮ ১০৯৫ ১১০.৩৭
৩। স্বরূপকাঠি ১১৬.৬ ১২২০ ১৩৬.১৫
৪। কাজি পেয়ারা ৩৬৬.৬ ৩৪৭ ১২৭.২২
৫। বারি পেয়ারা-২ ২৫০.১ ৪০৫ ১০১.২৫

মাটি ও আবহাওয়াঃ পেয়ারা ফলটি বেশ জলবায়ু সহনশীল। এছাড়াও এ ফলের খরা সহিষ্ণুতা ও লবনাক্ততা সহ্য শক্তি রয়েছে। পানি নিকাশের উত্তম ব্যবস্থা যুক্ত উর্বর দো-আশ পলিমাটি পেয়ারা চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

সারণি-১ঃ উন্নতজাতের পেয়ারার গুণাবলি ও উৎপাদন
জলাবদ্ধতা পেয়ারার আবাদের জন্য ক্ষতির করণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া এ ফলটি অম্ল বা ক্ষার এ উভয় ধরনের মাটিতেই ভাল ফলন দিয়ে থাকে।

উষ্ণ বা নাতিশীতোষ্ণ উভয় অঞ্চলেই পেয়ারার আবাদ ভাল হয়ে থাকে । এছাড়া পেয়ারা ফলটি সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে শুরু করে প্রায় ১৫০০ মিটার উচ্চতায়ও আবাদ করা যায়। যেসব এলাকায় বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ১০০০ মি. মি. থেকে ২৫০০ মি.মি. পর্যন্ত সেসব জায়গা এমনকি ৩৫০০ মি. মি. থেকে ২৫০০ মি.মি পর্যন্ত সেস্ব জায়গা এমনকি ৩৫০০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয় এমন এলাকাতেও পেয়ারার আবাদ হয়ে থাকে। এছাড়া পেয়ারার আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা থাকতে হবে ২৩ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগেডের মধ্যে। তবে পেয়ারার চারা বা ছোট ছোট গাছ খরা ও ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রতি খুবই সংবেদনশীল। পেয়ারা ফল গছের ফুল ধরা এবং ফলের বৃদ্ধির সময় শুনো আবহাওয়ার প্রয়োজন হলেও, ফলের বৃুদ্ধকালে তাপমাত্রার আধিক্যতা আবার কখনো ফল ঝরার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। এছা ফল বৃুদ্ধর প্রাক্কালে অনেক সময় আর্দ্র আবহাওয়ায় ফলের মিষ্টতাও হ্রাস পায়।

বংশ বিস্তার: পেয়ারার বীজ বা কলমের চারা ঊভয় পদ্ধতিতেই গাচের বংশবিস্তার হয়ে থাকে। বীজ থেকে যেসব গাছ হয় , সেগুলেঅতে সাধারণত দেরীতে ফুল আসে। এছাড়া এ সব রোগে বিভিন্ন আকারের বা বিভিন্ন ধরনের ফল ধরে। তবে এ ধরনের গাছগুলো বেশির ভাগই দীর্ঘজীবী হয়ে থাকে। সাধারণত বীজতলায় বা পলিথিন ব্যাগে চারা উৎপাদনের জন্য চলতি বৎসরের সম্পূর্ণ পরিপক্ব বীজ ব্যবহার করতে হয়। এরপর এসব চারা গাছে যখন ৬ থেকে ৮টি পরিপক্ব্ পাাতা থাকে, তখন তা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়।
গাছে কলম তেরির মাধ্যমে চারা করা হলে সেসব গাছের মাতৃ গুণাগুণ পুরোপুরি বজায় থাকে। এছাড়াও কলমের গাছে তাড়াতাড়ি ফুল আসে, আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় আবার অপরদিকে গাছ ছোাট থকে। বেশ কয়েকটি কলম পদ্ধতিতে পেয়ারার চারা ুৎপাদন করা যায়। সেগুলো হচ্ছে-

ক) কাটিং বা অঙ্গচ্ছেদন পদ্ধতি- এটি সবচেয়ে সহজ বা সরল পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সব আবহাওয়াতেই গাছ থেকে কাটিং করা সম্ভব। তবে এর উন্নত কৌশল বের হবার কারণে বর্তমানে এ পদ্ধতিটি খুব বেশি কার্যকর নয়।

খ) লেয়ারিং বা গুটি কলম পদ্ধতি- এ পদ্ধতির মাধ্যমে মাতৃগােছের ডালে শিকড় গজানো হয় এবং তা সময়মত আলাদা করে অন্যত্র রোপণ করা হয়। পেয়ারার আবাদের জন্য এ পদ্ধতিটি বর্তমানে খবই জনপ্রিয়। সাধারণত বর্ষাকারৈই অন্যান্য সমেেয়ের চেয়ে এভাবে চারা উৎপাদনের জন্য উত্তম।

গ) গ্রাফটিং বা জোড়কলম পদ্ধতি- জোড়কলম পদ্ধতিটি ব্যবহার করে বর্তমানে আরো একটি উন্নত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করে এ থেকে প্রায় শতকরা ৯৫ ভাগ সুফল পাাওয়া যায়। তাবে এসবের মধ্যে ক্লেফট গ্রাফটিং করা খুব বেশি সহজ ও সরল।

চাষ পদ্ধতি- জমিতে চারা রোপণের জন্য খুবই ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে। এরপর চাষ করা জমিতে পেয়ারার চারা রোপনের জন্য গর্ত বা গিট তৈরি করতে হয়। প্রতিটি গর্ত থেকে গর্তের দুরত্ব থাকবে ৫-৬ মিটার। এর পর প্রতিটি গর্তের চওড়া রাখতে হবে ৬০ সে. মি. হিসেবে এবং গভীরতা রাখতে হবে ৪৫ সে; মিটার করে। চারা রোপণের জন্য এভাবে গর্ত তৈরি করে নিয়ে এসব গর্ত প্রায় ১৫-২০ দিন পর সার মিশানো মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে। প্রতিটি গর্ত এসব সার সহ মাটি দিয়ে ভরাট করার প্রায় ১০ ১৫ দিন পর এতে চারা রোপণ করতে হয়। এসব গর্তে যেসব সার মিশানো মাটি দেয়া হয়। তাহলো ১০-১৫ কেটি গোবর, ১-২ কেজি খৈল এবং ০.৫ কেজি পটাশ। পেয়ারার চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হচেছ বর্ষার শুরতে অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে তবে চারা শ্রাবণ মাসে পর্যন্তও রোপণ করা যায়।

জৈব ও রাসায়নিক সার পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, পেয়ারা গাছে জৈব সারের সাথে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হলে ভাল ফলন দিয়ে থাকে। গাছে সার প্েরয়াগ করা হলে শুধুমাত্র পেয়ারার উৎপাদনই বৃদ্ধি হয় না এ সাথে ফলের গুণাগুণও উন্নত করে। প্রতি বছরেই পেয়ারা গাছে সার প্রয়োগ করতে হয়। তবে এসব সার দু কিস্তিতে প্রতি বছরে দু’বার হিসেবে প্রতি গাছে প্েরয়াগ করতে হবে। বছরে এভাবে প্রয়াগের নিয়ম হচ্ছে প্রথম অর্ধেক সার প্রয়োগ করতে হবে চৈত্র -বৈশাখ মাসে এবং বাকী অর্ধেক প্রয়োগ করতে হবে শ্রাবণ ভাদ্র মাসে। প্রতি গাছে সার প্রয়াগের আগে গাছের চার পাশে কোদাল বা ছোট লাঙ্গল দিয়ে জমি কুপিয়ে নিতে হবে। তারপর এভাবে শিকড়ের চারপাশের মাটির সাথে এ সার মিশিয়ে মাটিতে সেচ দিয়ে দিতে হবে। দসার ব্যবহারের বাৎসরিক মাত্রাঃ বছর প্রতিটি পেয়ারা গাছে সুপারিশকৃত জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার।

পরিমান সারণি-২ বছরওয়ারি জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগমাত্রা

াি

উৎস: প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েল, জুলাই/ ২০০২, সমম্বিত উদ্যান ও পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প, খামার বাড়ি।

পেয়ারা গছে থেকে যে বছর নতুন শাখা গজায় তাতেই ফু-ফল ধরে। এজন্য গাছে যেনো নতুন গাল ঠিকতো গজায় এবং সেসাথে এসব ডালে যাতে বেশি বেশি ফুল আসে সেদিকে লক্ষ্য রাকতে হবে। তবে ফুল ধরার অন্তত একমাসে আগে গাছে সার প্রয়াগ করতে হয়।
পানি সেচ ঃ জমিতে চারা রোপণের প্রথমদিকে পেয়ারা গাছে ৮-১০ বার সেচ দিতে হয়। পেয়ারা গছে চৈত্র -জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতি সপ্তাহেই এ সেচ দেয়া প্রয়াজন। এভাবে সেচ দেয়া হলে এতে গাছের ফল ঠিকমতো ঘরে এবং সাথ সাথে ফল ঝরাও রোধ হয়। গাছে এভাবে সেচ দেয়া হলে শীত মৌসুমে পেয়ারা ফল আকারেও বড় হয়।

পোকামাকড় ও এর দমন: পেয়ারা গাছ ও ফল পোকা মাকড় দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে মাছি পোকা ফলের গা ছিদ্র করে সেখানে ডিম পাড়ে। পরে ডিম থেকে মাছির কীড়া পেয়ারা ভিতরের অংশ খেয়ে ফেলে। এভাবে মাছি আক্রান্ত ফলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার হিসেবে কিটনাশক মিশিয়ে স্প্রে করা হলে এ পোকা দমন করা যায়। এ জন্য যেসব কীটনাশক ছিটানো হয়, তাহলো রক্রিয়ন. পারফেকথিয়ন মার্শাল/ এজেড্রিন/ নুভাক্রন এসব। মিলিবাগের আক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া পাতাও ঝরে যায়। এ পোকা দেখতে অনেকটা সাদা তুলার মত এরা পাতার সাথে জড়িয়ে থকে এবং এ থেকে রস চুষে খায়। এ পোকা দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি লিটার করে ডায়াজিনন ৬০ ইসি ভালভাবে স্প্রে করতে হয়।

রোগবালাই দমন: পেয়ারা গাছ পোকা মাকড় ছাড়া রোগবালাই দিয়েও আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ্যান্থ্রাকনোজ পেয়ারা গাছের একটি মারাত্মক রোগ। এ রোগে গাছ আক্রান্ত হলে ডায়াথেন এম ৪৫ প্রতি লিটার পানিতে ২.৫৪ গ্রাম অথবা টিল্ট প্রতিলিটার পানিতে ২ মিলি লিটার হারে ¯েপ্র করা হলে এ রোগ থেকে গাছকে বাঁচানো যায়। এছাড়া উইল্টা ঢলে পড়া রোগেও অনেক সময় পেয়ারা গাছ আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত হলে গাছের পাতা বাদামি রং হয়ে পুরো গাছ ঢলে পড়ে। এ ছাড়া কান্ডের রং এর পরিবর্তন হয়। পরে আস্তে আস্তে গাছ মারা যায়। এটা একটা মাটি বাহিত রোগ। এ রোগের এখনো কোন ভাল দমন ব্যবসথা নেই। এজন্য গাছ এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তা তুলে নষ্ট করে ফেলা ভাল।

গাছে ফুল ধরার নিয়ম: পেয়ারা গাছে সাধারণত বছরে দু’বার ফুল ধরে। একবার ধরে শ্রাবণ মাসে এবং আরেকবার ফুল ধরে পৌষ মাসের দিকে। বছরে পেয়াারা গাছে দু’বারই ফুল ধরে তবে এসময় গাছের পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হয়।

গাছের ফল হ্রাস করা: পেয়ারার অনেক জাত যেমন কাজি পেয়ারা বারি পেয়ারা-২ ধরনের জাতগুলো আকারে অনেক বড় এবং ওজনেও বেশি হয়। তাই গাছে এসব পেয়ারা ধরলে সময় মতো গাছ থেকে কিছু পেয়ারা ফেলে দিতে হয়। এতে পেয়ারার আকার বড় হবে। এছাড়া সে সাথে অতিরিক্ত ফল ধরার কারণে গাছের ভেঙ্গে পড়া এবং গাছ বাকানো রোধ হবে।

গাছে ফল বেঁধে দেয়া: পেয়ারা ফলকে রোগ বালাই বা পোকা মাকড় থেকে রক্ষা করতে হলে ফলকে প্রাথমিক অবস্থায়ই বেঁধে দিতে হয়। এতে ফল তার সুবিধামতো ভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয। সাধরণত বাদামি রংয়ের কাপড় দিয়ে পেয়ারা ফলকে এভাবে বেঁধে রাখতে হয়।

পেয়ারা ফল সংগ্রহ: সাধারণত পেয়ারা পাকার সময় ফলের রং এর পরিবর্তন হয়। এসব ফলের রং হলদাভ সবুজ থেকে হলুদ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এধরণের রং ধরার সময়েই গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করতে হয়।

পেয়ারার উৎপাদন: পেয়ারা চারা রোপণের ১-২ বছরের মধ্যেই গাছে ফল দিয়ে থাকে। এছাড়া পেয়ারা প্রায় ১৫-২০ বছর পর্যন্ত গাছে ভাল ফলন দিয়ে থাকে। পেয়ারা গাছে ফুল আসার পাঁচ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফল সংগ্রহের সময় লক্ষ রাখতে হবে যাতে ফল মাটিতে না পড়ে। এতে গাছ থেকে ভাল ফল সংগ্রহ করা সহজ হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

জেনে নিন চালতা চাষের সহজ ও সঠিক পদ্ধতি

চালতা ফল হিসেবে যতটা পরিচিত-তার থেকেও বেশি পরিচিত আচার হিসেবে। কিন্তু চালতার ঔষধিগুনও চমৎকার, চালতার টক খেলে সর্দি-জ্বর সেরে যায়, এছাড়া এটি শক্তি-বর্ধক, রক্ত-আমাশয় নিরাময়েও বেশ কার্যকরী। খুব সহজেই চালতা চাষ করে লাভবান হওয়া যায় | এই নিবন্ধে চালতা চাষ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,

মাটি ও জলবায়ু(Soil & climate):

চালতা চাষ সাধারণত ভেজা স্যাঁত-স্যাঁতে মাটিতে ভালো হয়। এছাড়া পাহাড়ী ও সমতল মাটিতেও ভালো হয়। চালতা চাষে তেমন কোন সার লাগেনা। আবার জলাবদ্ধতা কিংবা প্রখর রোদেও তেমন প্রভাব ফেলে না এ গাছের উপর। তাই এটি অনেক লাভজনক ফলন হিসেবে গণ্য।

বীজ বা চারা রোপণ পদ্ধতি:

চালতার বীজ থেকে চারা করা যায়, আবার গুটি কলমের মাধ্যমেও চারা তৈরী করা যায়। তবে কলমের চারায় ফলন তাড়াতাড়ি আসে এবং ভালো মানের ফলন পাওয়া যায়। চারা তৈরী করার পর যথাস্থানে রোপন করার পূর্বে গর্তে জৈব সার ১৫-২০ কেজি, ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ২৫০ গ্রাম দিয়ে মাদা তৈরী করে ১৫-২০ দিন রেখে তারপর, সেখানে গাছ রোপণ করতে হবে এবং গাছগুলো ১৫-২০ ফিট দূরত্বে রোপণ করতে হবে । কারণ চালতা গাছগুলো সাধারণত ২০-২৫ ফিট উঁচু হয়ে থাকে আর দূরত্ব ঠিক হলে গাছের ফলন ভালো হবে। চারা রোপণ করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ভালো করে বেঁধে দিতে হবে। তাহলে গাছ সোজাভাবে বড় হবে ।

পরবর্তী পরিচর্যাঃ

এ গাছে তেমন কোন সার কিংবা বালাইনাশক লাগে না। তবে এ গাছ বর্ষা কালে রোপণ করলে ভালো । গাছ রোপণ করার পর গাছ বড় হতে থাকলে সে সময় ডালপালা ছেঁটে নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়া যায়। আর আগাছা জন্মালে তা পরিষ্কার করে দিতে হয়। তাহলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় ।

রোগবালাই দমনঃ

চালতা গাছে তেমন কোন রোগ বালাইর আক্রমন হয় না। তারপরও এক ধরনের ফল ছিদ্রকারী পোঁকার আক্রমন হয়, সেক্ষেত্রে সুমিথিয়ন ২ মিলি. ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে  ২-৩ বার স্প্রে করলে, এ রোগ থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে।

ফল সংগ্রহঃ

চালতা দেখতে সবুজ প্রকৃতির হলেও পাকলে কিন্তু হালকা হলুদ ও ফ্যাঁকাসে সবুজাভ দেখা যায়। সাধারণত শীতের শুরুতে চালতা পাকতে আরম্ভ করে। পাকার পর গাছ থেকে পেড়ে বাজারজাত করা যেতে পারে। যেহেতু চালতা সহজে পঁচনশীল ফল নয় তাই কিছুদিন রেখেও খাওয়া যায়। আবার দুরবর্তী স্থানেও নেয়া যায়। একটি ২০-২৫ ফিট গাছ থেকে, বছরে ৩০০০ থেকে ৪০০০ হাজার চালতা পাওয়া যায়। তাই এটি অনেক লাভজনক একটি ফসল।

চালতা যেহেতু সহজেই কোন কষ্ট ছাড়া ফলানো যায় তাই আমরা বসত-বাড়ির আশে পাশে কিংবা পতিত জমিতে এর চাষ করতে পারি । এছাড়াও সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালতার আচার বাজারজাত করা যেতে পারে, আর এটি লাভজনক ব্যাবসায় বটে । গ্রামীণ অর্থনীতিতে চালতার এক বিশেষ ভূমিকাও রয়েছে | কৃষকবন্ধুরা চালতা চাষ করে অধিক উপার্জন করতে পারেন | এমনকি, বেকার সমস্যা দূরীকরণেও এই চাষের জুড়ি মেলা ভার |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় বেদানা

একাধিক গবেষণার পর চিকিৎসা বিজ্ঞানিরা জানিয়েছেন, আজকের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে শরীর বাঁচাতে বেদানার রসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে বেদানার ভিতরে উপস্থিত ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আরও নানাবিধ শক্তিশালী উপাদান দেহে প্রবেশ করা মাত্র প্রতিটি কোষ, শিরা এবং উপ-শিরাকে, সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তোলে। ফলে যে ছোট বা বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। শুধু তাই নয়, শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো। 

তবে এখানেই শেষ নয়, প্রতিদিনের ডায়েটে এই ফলের রসকে জায়গা করে দিলে আরও নানাবিধ উপকার মেলে। চলুন আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নেওয়া যাক সেগুলো-অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যানসার বিরোধী বৈশিষ্ট্য- 

বেদানার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা দূষিত ও তামাক জাতীয় জিনিস থেকে পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ থেকে কোষকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, ডিএনএ এর ক্ষতি রোধ ও ক্যানসার হওয়া থেকে রক্ষা করে। হার্ভার্ড রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গবেষণায় দেখা গেছে যে বেদানার রস ক্ষতিকারক এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে-

প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকার কারণে বেদানা রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। ফলে স্ট্রেস এবং টেনশন কমে, হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। যদি উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তাহলে নিয়মিত বেদানা খাওয়ার অভ্যাস করুন উপকার পাবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়-

বেদানার  ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী গুণ আছে। শরীরের ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় বেদানার রস।

হজমশক্তি বাড়ায়-

বেদানায় দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং অন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়-

বেদানা দেহের ক্ষতিকর কোলস্টেরল বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। এতে রক্তচলাচল বৃদ্ধি পায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়-

বেদানা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। আর এ কারণে এটি অ্যালঝেইমার্সের মতো রোগীদের জন্যও উপকারি।

রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়-

আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা ও আঁশ (ফাইবার) সমৃদ্ধ বেদানা রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দেহে রক্ত চলাচল সচল রাখে। এতে অ্যানেমিয়া ও রক্তের নানা সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী-

বেদানা ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী। এটি মিষ্টি হলেও সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের কোনও সমস্যা হয় না। বেদানার রসে ফ্রুক্টোজ থাকলেও এটি অন্য ফলের রসের মতো রক্তে চিনির মাত্রা বাড়ায় না।

ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে-

বেদানা ত্বক সুস্থ রাখতে অনেক ভূমিকা পালন করে। ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, সাইট্রিক আসিড ও ট্যানিন সমৃদ্ধ বেদানা ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বিশেষ উপকারী। এটি ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করে।

ব্যথা দূর করতে ডালিম-

বাত, অস্টিওআর্থারাইটিস, পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে বেদানা। তরুণাস্থির ক্ষয় রুখতেও উপকারী বেদানা। এছাড়া এটি হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা উপশম করতে সহায়তা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com