আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান

ঝিনাইদহে দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান। শহরে বসবাসরত মানুষ বাড়ির ছাদে গড়ে তুলছেন দৃষ্টি নন্দন ফলজ, ভেষজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির বাগান। এসব বাগানে উৎপাদিত ফল ও সবজি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভেষজ গাছ ভূমিকা রাখছে রোগ নিরাময়ে।

ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা তাহমিনা ইসলাম যুথী জানান, পাঁচ বছরের প্রচেষ্টায় নিজ বাড়ির ছাদে দৃষ্টিনন্দন এই বাগান গড়ে তুলেছেন। তার বাগানে রয়েছে ফলজ-ভেষজ মিলিয়ে ৫০ প্রজাতির গাছ। নিয়মিতই গাছগুলো পরিচর্যা করেন তিনি। মাসে কিছু না হোক অর্ধশত মানুষ তার এ বাগান দেখতে বাড়িতে আসে।

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান

ভটিয়ারগাতী এলাকার খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদ জানান, ইট-কাঠের শহরে এখন প্রতিনিয়তই কমছে গাছের সংখ্যা। ফলে দিন দিন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তাইতো পরিবেশকে সুন্দর রাখা ও ভালোলাগা থেকেই মানুষ বাড়ির ছাদে বাগান গড়ে তুলছেন।

শহরের আজাদ রেস্ট হাউসের সামনের ছাদ বাগানের মালিক কানিজ আফরোজা জানান, এসব বাগানে অ্যালোভেরা, পুদিনা, তুলসি পাতাসহ বিভিন্ন প্রকার ভেষজ গাছ এবং পেয়ারা, সফেদা, লেবুসহ নানা প্রকার সবজি স্থান পাচ্ছে। ফলে পরিবেশ যেমন ভালো থাকছে তেমনি বিষমুক্ত ফল, সবজি খাওয়ার পাশাপাশি রোগব্যাধী নিরাময়ে ভেষজ গাছ ব্যবহার করতে পারছেন।

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে জেলা সদরের প্রায় ৪০টি বাড়ির ছাদে রয়েছে ছোট-বড় ছাদ বাগান। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো খুবই জরুরি যার একটি নতুন দিক হচ্ছে ছাদ কৃষি। তাইতো ছাদ কৃষিকে আরো উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা জানালেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ

ভাসমান বীজতলা

সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ধানের চারা উৎপাদনের জন্য কৃষকদের ভাসমান বীজতলা তৈরির খবরটি সত্যিই আশাজাগানিয়া একটি খবর। বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সিরাজগঞ্জের অনেক এলাকায় প্রতিবছরই বন্যা হয়। অনেক জায়গাজমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়। এ কারণে কৃষকেরা ধানের চারার বীজতলা তৈরি করা নিয়ে সংকটে পড়েন। চারার অভাবে সময়মতো ধানের আবাদ করতে ব্যর্থ হন তাঁরা। এ বছর যাতে সে ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেক কৃষক ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন। এতে করে ধান উৎপাদন নিয়ে তাঁদের আর সমস্যায় পড়তে হবে না।

ভাসমান বীজতলা তৈরিতে কৃষকের ব্যয় বলতে গেলে নেই। মূলত কচুরিপানাসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি ভেলার ওপর মাটি দিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়। ধানের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর এই ভাসমান বীজতলায় ছিটিয়ে দিতে হয়। সেখানে জমিতে রোপণের উপযোগী চারা উৎপাদন হতে ২০ থেকে ২৫ দিন লাগে। পরে চারাগুলো জমিতে রোপণ করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যাপ্রবণ একটি দেশ। প্রায় প্রতিবছরই এখানে বন্যা হয়। তখন বন্যার কারণে অনেক এলাকার বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া ঝড়, অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতেও বহু বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে যথাসময়ে ফসল উৎপাদনে বিলম্ব হয়। দেখা দেয় ফসলের ঘাটতি। ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক কৃষকেরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাসমান বীজতলা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা মনে করি।

১০ মিটারের একটি ভাসমান বীজতলায় এক কেজি অঙ্কুরিত বীজ ছিটানো সম্ভব। এ থেকে উৎপাদিত চারা এক বিঘা জমিতে রোপণ করা সম্ভব। পানির ওপর ভেসে থাকার কারণে এই বীজতলায় পানি সেচেরও দরকার হয় না। দেশের অনেক জেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করে ধানের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বীজতলায় ধানের চারা উৎপাদন ছাড়াও পেঁপে, লাউ, কুমড়া, বেগুন, করলাসহ বিভিন্ন সবজির চারাও উৎপাদন সম্ভব। দেশের অনেক কৃষক ভাসমান বীজতলায় সবজির চারা উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন।

ভাসমান বীজতলা ছাড়াও আরেক ধরনের বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদিত হচ্ছে, যাকে বলে ডাগোপ বীজতলা। বাড়ির উঠান, পাকা বারান্দা বা যেকোনো শুকনো জায়গায় চারদিকে মাটি, কাঠ, ইট, কলাগাছের বাকল দিয়ে এই বীজতলা তৈরি করা হয়। সময়মতো ফসল উৎপাদনের জন্য সারা দেশে এসব বীজতলা কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় করার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। প্রয়োজনে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

গদখালীতে ফুল আর সবজি চাষে নতুন মাত্রা

ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী
• এলাকায় ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে
• পদ্ধতিতে ফুল–সবজি উৎপাদনে খরচ কম
• ফুল ও সবজির ফলন অনেক বেশি হয়

সৌরশক্তিচালিত পাম্পের সাহায্যে পাতকুয়া থেকে তোলা হচ্ছে পানি। প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে সেই পানি চলে যাচ্ছে ট্যাংকে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে আসছে সোজা ফুল ও সবজিখেতে। পথে পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিক সার। ফুল ও সবজিগাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে সারমিশ্রিত পানি।

‘ড্রিপ ইরিগেশন’ নামের এই সেচপদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে। ফুল ও সবজিচাষিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী এবং এর আশপাশের এলাকায় এই পদ্ধতি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগ এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল ও সবজি উৎপাদন সম্প্রসারণে ড্রিপ ইরিগেশন কর্মসূচি’।

চাষিরা জানান, এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজি উৎপাদনে খরচ অনেক কম। কীটনাশকের কোনো ব্যবহার নেই। পানি আর্সেনিকমুক্ত। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়। গাছ প্রয়োজনীয় পানি ও সার পায়। এতে ফুল ও সবজির ফলন অনেক বেশি হয়। এ পদ্ধতিতে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন।

যশোর সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকা। গদখালী এবং এর আশপাশের গ্রামের একরের পর একর জমিতে বছরজুড়ে উৎপাদন হচ্ছে দেশি–বিদেশি নানা জাতের ফুল। এসব ফুল সারা দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

বিএডিসি সূত্র জানায়, তিন বছর মেয়াদি এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের জুন মাসে। কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে পানিসরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা। কর্মসূচির আওতায় খনন করা হয়েছে সৌরচালিত ডাগ ওয়েল (পাতকূয়া), নির্মাণ করা হয়েছে পলিহাউস ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। পানিসারা গ্রামের ৩০ জন ফুল ও সবজিচাষি কোনো রকম সেচ খরচ ছাড়াই সেখান থেকে আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহার করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ৫৫ বিঘা জমিতে বিষমুক্ত ফুল ও সবজি চাষ করছেন। কৃষকেরা সুফল পাওয়ায় উপজেলার গদখালী, পানিসারা, নাভারণ, শিমুলিয়া ও নির্বাসখোলা ইউনিয়নে আরও ১৫টি সৌরশক্তিচালিত ডাগ ওয়েল ও ড্রিপ ইরিগেশন এবং সাতটি পলিহাউস (পলিথিন দিয়ে তৈরি শেড) নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ৪৫০ জন ফুল ও সবজিচাষি সুফল পাবেন।

সরেজমিনে পানিসারা গ্রামে দেখা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় এক বিঘা জমির ওপর সাদা পলিথিন দিয়ে লোহার কাঠামোর ওপর ১০০৮ বর্গফুটের একটি পলিহাউস। তার সামনে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্য, ২২ ফুট প্রস্থ এবং ৭ ফুট গভীর একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। কিছুটা দূরে ১৪২ ফুট গভীর একটি পাতকূয়া। পাতকূয়ার ৭৫ ফুট গভীরে স্থাপন করা হয়েছে পাম্প। ওপরে তৈরি করা হয়েছে গোলাকৃতির টিন দিয়ে সোলার প্যানেল। তার ওপর ৩ হাজার ধারণক্ষমতার একটি পানির ট্যাংক। সৌরশক্তির মাধ্যমে ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পাম্প চালানোর পর ১০ মিনিটের মধ্যে ট্যাংক পানিতে পূর্ণ হচ্ছে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে যাচ্ছে পলিহাউস এবং আশপাশের ৫৫ বিঘা জমির ফুল ও সবজিখেতে। সরবরাহ লাইনের মধ্যে চাষি পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন রাসায়নিক সার। ফোঁটায় ফোঁটায় সারমিশ্রিত পানি গিয়ে পড়ছে ফুল ও সবজিগাছের গোড়ায়। ১৮টি ফসেট (টিপকল) দিয়ে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পলিহাউসের মধ্যে চাষ করা হচ্ছে জারবেরা ও গোলাপ ফুল এবং তরমুজ ও স্কোয়াশ। পলিথিন ওঠানো–নামানো করে পলিহাউসে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।

২০ বছর ধরে ফুলের চাষ করছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি ১৬ বিঘা জমিতে পালাক্রমে সারা বছর ফুল ও সবজির চাষ করছেন। তিনি বলেন, সৌরচালিত পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগারের কারণে কোনো সেচ খরচ নেই। পলিথিন ওঠানো–নামানো করে পলিহাউসের তাপমাত্রা এবং ফসেট দিয়ে পানির ফোঁটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই। কীটনাশক লাগে না। এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজি চাষ লাভজনক।

ফুলচাষি আবদুল হক ঢালী বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে ঝাও এবং পাতাবাহারের চারা তৈরি করছি। বিনা মূল্যে আর্সেনিকমুক্ত পানি পাচ্ছি। এতে খুব সুবিধা হচ্ছে।’

ফুলচাষি আবদুল হামিদ গাজী বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা এবং গ্লডিওলাস ফুলের চাষ করছি। এই পদ্ধতিতে কোনো সেচ খরচ নেই। গাছে প্রয়োজনীয় পানি দেওয়া যায়। ফলনও খুব ভালো।’

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, এই কর্মসূচিতে চাষি উপকৃত হচ্ছেন। ফুল ও সবজি চাষে খরচ এবং ঝুঁকি কমছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও কর্মসূচি পরিচালক মো. মাহাবুব আলম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ জন চাষি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে গদখালী এলাকার আরও ৪২০ জন ফুল ও সবজিচাষি এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজির চাষ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

শেরপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য ভাসমান বীজতলা

সাম্প্রতিককালে ব্রহ্মপুত্র নদে পানির বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলায় আমন বীজতলা, শাকসবজির আবাদ, পাট ও আউশ আবাদ নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১২ একর জমিতে আমন ধানের বীজতলা ও ৩টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

শেরপুরে বন্যা–পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আমন ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার তিনটি স্থানে এসব বীজতলা তৈরি করা হয়। এ বীজতলার চারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে। পানির ওপর তৈরি এসব বীজতলা দেখলে মনে হয় যেন পানিতে সবুজ গালিচা বিছানো হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিককালে ব্রহ্মপুত্র নদে পানির বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলায় ২৬৪ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ২১০ হেক্টর জমির শাকসবজির আবাদ, ১৫ হেক্টর জমির পাট ও ৪৫ হেক্টর জমির আউশ আবাদ সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১৮ হাজার ২৯৫। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১২ একর জমিতে কমিউনিটিভিত্তিক নাবি জাতের রোপা আমন ধানের বীজতলা ও ৩টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

পাকুরিয়া ইউনিয়নের বাদাতেঘরিয়া, তিরছা ও ধলা ইউনিয়নের ধলা গ্রামে ২৪টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানায়।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাদাতেঘরিয়া গ্রামের কৃষক মো. জাকারিয়া বিরিখালের পানিতে নাবি জাতের আমন ধানের আটটি ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন। বাঁশ ও কলার ভেলার ওপর কচুরিপানা দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে এসব বীজতলার বিছানা (বেড) তৈরি করা হয়েছে। উৎপন্ন বীজতলাগুলোর উচ্চতা ছয় থেকে সাত ইঞ্চি হয়েছে।

এ সময় কৃষক জাকারিয়া ভাসমান বীজতলা তৈরির পদ্ধতির কথা জানান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, প্রথমে লম্বা করে কাটা পাঁচ-ছয়টি বাঁশ ও কলা গাছ দিয়ে ভেলা বানিয়েছেন। তারপর ভেলার ওপর কচুরিপানা দিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ রেখে দেন। এ সময় কচুরিপানায় ইউরিয়া ও পটাশমিশ্রিত সার দেওয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ কচুরিপানা পচে যায়। এভাবে তৈরি হয় বিছানা বা বেড। তারপর সেই বেডের ওপর কাদামাটি ও গোবর সার দিয়ে বীজধান ছিটিয়ে দেওয়া হয়। বেড তৈরির এক মাসের মধ্যেই চারা উৎপন্ন হয়।

জাকারিয়া বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে বিনা মূল্যে সার-বীজ দেওয়া হয়েছে। তাঁর এ কাজে কৃষক আবদুল মমিন ও কিষানি ইসমত আরা সহযোগিতা করেছেন। সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন পাকুরিয়া ইউনিয়নের মমিনাকান্দা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে চারা বিতরণ করা হবে। তিনি জানান, ভাসমান পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করা হলে বন্যায় কৃষকের কোনো ক্ষতি হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সবজি চাষে কৃষক

অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বগুড়ার শেরপুরের কৃষকেরা নতুন করে সবজি চাষে নেমেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার গ্রামে গ্রামে চলছে সবজি চাষের জমি তৈরি, বীজ, চারা রোপণসহ পরিচর্যা। আগাম রবি মৌসুমে সবজি চাষে নেমেছেন উপজেলার ৯ হাজার ৭৫০ জন কৃষক। তাঁরা ১ হাজার ৬২৫ একর জমিতে সবজি চাষ করছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর।

সরেজমিনে অন্তত ৩০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর জুলাই মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ভালো বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সবজি চাষের নিচু জমিগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়। এরপর বন্যাতেও তলিয়ে থাকে সবজিখেত। চলতি বছরে জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে উপজেলার নদীর তীরবর্তী নিচু জমির অন্তত ১৭ একর সবজি চাষের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জি এম মাসুদ।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার গাড়িদহ, খামারকান্দি, খানপুর, মির্জাপুর ও সুঘাট গেলে দেখা যায়, গ্রামের কৃষকেরা সবজি চাষে এখন সময় দিচ্ছেন। কৃষকের মধ্যে অনেকেই সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। আবার কেউ চারা রোপণ করছেন। সবজি চাষের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শাকসহ সবজি।
উপজেলার মহিপুর গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, সবজি চাষের জন্য তিনি এক বিঘা জমি ২০ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছেন। চাষ করেছিলেন মুলা চাষ। এতে ব্যয় হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে তাঁর সবজিখেত নষ্ট হয়ে যায়। এখন এই জমিতে নতুন করে মুলা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন।

উপজেলার বড়ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে তাঁর ১১ শতক সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তিনি নতুন করে এই জমিতে শিম চাষে নেমেছেন। ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি ১৩ শতক জমিতে নতুন করে মুলা চাষে নেমেছেন। সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের কৃষক সাগর আলী বলেন, বন্যার আগেই দেখা দেয় অতিবৃষ্টি। এতে এলাকার অন্তত ৫০ বিঘা সবজি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর দেখা দেয় বন্যা। এই বন্যাতেও ওই সব সবজিখেতগুলো তলিয়ে ছিল।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাসুদ আলম জানান, শেরপুরে উপজেলায় গাড়িদহ, খামারকান্দি, খানপুর ও সুঘাট ইউনিয়ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করেন কৃষকেরা। এ জন্য শেরপুরে ফুলবাড়ি নামে সবজি বাজার গড়ে উঠেছে। এই বাজার থেকে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারেরা এসে সবজি কিনে নিয়ে যান। বন্যা–পরবর্তী সময়েও এই বাজারে সবজি কেনাবেচা চলছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সারমিন আক্তার বলেন, এ সময় সবজির দাম ভালো। অতিবৃষ্টি ও বন্যা–পরবর্তী এই সময়ে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষে নেমে তাঁদের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

সোনালি ধানে সবুজ টিয়া

সোনালি ধানে সবুজ টিয়া

বুজ পাহাড়ে এখন সোনালি ধানের মেলা। আর এই পাকা ধানখেতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে টিয়া পাখি। চাষিরা একদিকে টিয়া তাড়াচ্ছেন, আবার ঘুরে এসে খেতে নামছে টিয়াগুলো। এ দৃশ্য দেখতে খাগড়াছড়ি শহরের নিউজিল্যান্ড এলাকায় পাখিপ্রেমীরা দলবেঁধে ভিড় করছেন। ১৯ নভেম্বর ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দী করেন নীরব চৌধুরী

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com