আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি: বিবিসি বাংলার জরিপে সপ্তম স্থানে জগদীশ চন্দ্র বসু- ভারতীয় উপমহাদেশে বিজ্ঞান চর্চ্চার জনক

 পদার্থবিদ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু
পদার্থবিদ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু

দু’হাজার চার সালে বিবিসি বাংলা একটি ‘শ্রোতা জরিপ’-এর আয়োজন করে। বিষয়টি ছিলো – সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে? তিরিশ দিনের ওপর চালানো জরিপে শ্রোতাদের ভোটে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ২০জনের জীবন নিয়ে বিবিসি বাংলায় বেতার অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় ২০০৪-এর ২৬শে মার্চ থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত।

বিবিসি বাংলার সেই জরিপে শ্রোতাদের মনোনীত শীর্ষ কুড়িজন বাঙালির তালিকায় সপ্তম স্থানে আসেন জগদীশ চন্দ্র বসু। আজ তাঁর জীবন-কথা।

বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র বসুর অবদান মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি একাধারে পদার্থবিজ্ঞান এবং উদ্ভিদবিদ্যায় অসামান্য অবদান রেখে নিজের নাম শুধু বাঙালির ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও স্বর্ণাক্ষরে লিখে গিয়েছেন।

বিজ্ঞানের একজন অমর প্রতিভা জগদীশ চন্দ্র বসু প্রথম মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির ওপর সফল গবেষণা করেন যার ফলশ্রুতিতে আবিষ্কৃত হয় রেডিও।

তাঁর উল্লেখযেযাগ্য আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে মাইক্রোওয়েভ রিসিভার ও ট্রান্সমিটারের উন্নয়ন, এবং ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র যা দিয়ে গাছের বৃদ্ধি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা যায় । উদ্ভিদের জীবনচক্র তিনি প্রমাণ করেছিলেন।

জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৫৮ সালের ৩০শে নভেম্বর ময়মনসিংহে। তাঁর পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বিক্রমপুরের রাঢ়িখালে।

তিনি তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন ফরিদপুরের একটি স্কুল থেকে। এরপর ১১ বছর বয়সে তিনি কলকাতা চলে যান এবং সেখানে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৮৭৫ সালে এন্ট্রাস পাশ করেন।

বিজ্ঞানের স্নাতক হন তিনি ১৮৭৯ সালে এবং এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান ইংল্যাণ্ডে। ইংল্যাণ্ডের কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিষয়ে বি.এ. পাশ করেন। ১৮৮৪ সালে লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি. ডিগ্রি লাভ করেন।

 জগদীশ বসুর প্রায় সমসাময়িক ইতালীয় বিজ্ঞানী গুগলিয়েমো মার্কনি একই সময়ে বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে শব্দ তরঙ্গ পাঠাতে সফল হয়েছিলেন। কিন্তু জগদীশ বসু তাঁর আবিষ্কারকে নিজের নামে পেটেন্ট না করায় বেতার আবিষ্কারের জন্য স্বীকৃত দাবিদার হন মার্কনি।
জগদীশ বসুর প্রায় সমসাময়িক ইতালীয় বিজ্ঞানী গুগলিয়েমো মার্কনি একই সময়ে বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে শব্দ তরঙ্গ পাঠাতে সফল হয়েছিলেন। কিন্তু জগদীশ বসু তাঁর আবিষ্কারকে নিজের নামে পেটেন্ট না করায় বেতার আবিষ্কারের জন্য স্বীকৃত দাবিদার হন মার্কনি।

ইংল্যাণ্ড থেকে স্বদেশে ফেরার পর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন।

বৈদ্যুতিক তরঙ্গের ওপর তাঁর গবেষণার কাজ তিনি শুরু করেন ১৮৯৪ সালে। এর ফলশ্রুতিতে ১৮৯৬ সালে লণ্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অফ সায়েন্স উপাধি পান।

জগদীশ চন্দ্র বসুকে বলা হয় ভারতীয় উপমহাদেশে বিজ্ঞান চর্চ্চার জনক। বাংলাদেশের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা মনে করেন বেতার যন্ত্রের প্রথম উদ্ভাবক হিসাবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

“যদিও বেতারের আবিষ্কারক হিসাবে বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন মার্কনি, কারণ জগদীশ বসু এটার আবিষ্কারকে নিজের নামে পেটেন্ট করেননি। এ কারণেই এই আবিষ্কারের জন্য তাঁর দাবি স্বীকৃত হয়নি,” বলেন দ্বিজেন শর্মা।

বেতার কাজ করে বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গের ভিত্তিতে, যে তরঙ্গ নিয়ে জগদীশ বসু গবেষণা করেছিলেন। যদিও তাঁর আগে এবং তাঁর সময়ে এই তরঙ্গ নিয়ে গবেষণার কাজ করছিলেন মার্কনিসহ বিভিন্ন দেশে একাধিক বিজ্ঞানী। কিন্তু কলকাতার বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বসু বিজ্ঞান মন্দিরের গবেষক ড. দিবাকর সেন বিবিসি বাংলাকে বলেন জগদীশ বসুই প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভ।

 লণ্ডনের রয়াল ইন্সটিটিউশনে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের ব্যবহার প্রথম উপস্থাপন করার তিন বছর পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগদীশ বসু তাঁর আবিষ্কৃত হর্ন অ্যান্টেনা কীভাবে কাজ করে তা প্রদর্শন করেন।
লণ্ডনের রয়াল ইন্সটিটিউশনে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের ব্যবহার প্রথম উপস্থাপন করার তিন বছর পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগদীশ বসু তাঁর আবিষ্কৃত হর্ন অ্যান্টেনা কীভাবে কাজ করে তা প্রদর্শন করেন।

“মাইক্রোওয়েভ আবিষ্কারের ব্যাপারটা ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আজকের দিনে মহাকাশ বিজ্ঞানে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে, টেলিভিশন সম্প্রচারে এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে মাইক্রোওয়েভ কাজে লাগে। কম্যুনিকেশনের (যোগাযোগ) ক্ষেত্রে আরও বিশেষ করে এই তরঙ্গ কাজে লাগে।”

“দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় যখন সাবমেরিন এলো, রাডার এলো, তখন মানুষ বুঝতে পারল এই মাইক্রোওয়েভের গুরুত্ব কতখানি। তিনি যখন এই আবিষ্কার করেছিলেন, তখন তার কোন ব্যবহারিক প্রয়োগ ছিল না। মার্কনি এবং তদানীন্তন বিজ্ঞানীরা যোগাযোগের জন্য যে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ব্যবহার করেছিলেন তা তারা করেছিলেন লঙ্গার ওয়েভ (দীর্ঘ তরঙ্গ) ব্যবহার করে- মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে নয়।”

অর্থাৎ জগদীশ বসুর আবিষ্কার ছিল অতি ক্ষুদ্র বেতার তরঙ্গ, যার থেকে তৈরি হয়েছে আজকের মাইক্রোওয়েভ, যা পরবর্তীতে ‘সলিড স্টেট ফিজিক্স’-এর বিকাশে সাহায্য করেছিল। পরে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের আরও গুরুত্বপূর্ণ নানা আবিষ্কার করেন যেমন ‘ডিটেক্টর’, ‘রিসিভার’ ইত্যাদি।

“চৌকো মুখ ফানেল আকৃতির একটি হর্ন অ্যান্টেনা তিনি আবিষ্কার করেছিলেন, যা আজ বিশ্বে যুদ্ধকালীন যোগাযোগ, বা রাডার যোগাযোগের জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও অনেক ধরনের রিসিভার উনি তৈরি করেছিলেন যা আজও বহুল ব্যবহৃত,” বলেছেন ড. দিবাকর সেন।

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের অত্যন্ত দুরূহ বিষয়ে তাঁর আবিষ্কার নিয়ে ইংল্যাণ্ডে বক্তৃতা দিয়ে বিশ্ব-খ্যাত বহু বিজ্ঞানীকে চমকে দিয়েছিলেন জগদীশ চন্দ্র বসু। লণ্ডনের একটি দৈনিক পত্রিকা ডেইলি এক্সপ্রেস তাঁকে গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি দিয়েছিল।

গাছকে আঘাত করলে গাছ কীভাবে সাড়া দেয়, সেটা জগদীশ বসু যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করে দেখান, যা ছিল উদ্ভিদ বিজ্ঞানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা আবিষ্কার। ড. দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ বিজ্ঞানী
গাছকে আঘাত করলে গাছ কীভাবে সাড়া দেয়, সেটা জগদীশ বসু যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করে দেখান, যা ছিল উদ্ভিদ বিজ্ঞানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা আবিষ্কার। ড. দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ বিজ্ঞানী

কিন্তু পদার্থ বিজ্ঞানে এমন অসাধারণ অবদান সত্ত্বেও জগদীশ চন্দ্র বসু সারা বিশ্বে খ্যাতিলাভ করেছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিসাবে।

ড. দিবাকর সেন বলেন জগদীশ বসু আদৌ উদ্ভিদবিজ্ঞানী ছিলেন না। কিন্তু ওয়্যারলেস রিসিভিং ইন্সট্রুমেন্ট (তার-বিহীন গ্রাহক যন্ত্র) নিয়ে কাজ করতে করতে তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস দেখলেন।

“তিনি দেখলেন একটা টিনের তারকে মোচড় দিলে তার ভেতরে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মাত্রায় যেমন বিদ্যুত তরঙ্গ তৈরি হয়, তেমনই আঘাত করলে গাছের ভেতরেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, একই ঘটনা ঘটে প্রাণী দেহেও। উনি তখন প্রশ্ন তুললেন তাহলে জীবনের সংজ্ঞা কী হবে? এবং এখান থেকেই জন্ম নিল আধুনিক জৈব-পদার্থ বিজ্ঞান।”

জনপ্রিয় ধারণা হল তিনি সবার আগে আবিষ্কার করেছিলেন গাছপালার প্রাণ আছে। উদ্ভিদবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা বলেছেন অতি প্রাচীন কাল থেকে ভারতবর্ষের মানুষ বিশ্বাস করতো গাছ একটা জীবন্ত স্বত্ত্বা। একই বিশ্বাস ছিল অ্যারিস্টটলেরও। তাহলে জগদীশ বসুর আবিষ্কারে নতুনত্ব কোথায় ছিল?

“গাছের যে প্রাণ আছে তার কিছু স্থূল লক্ষ্মণ সম্পর্কে মানুষ জানত, যেমন গাছ জন্ম নেয়, বড় হয়, একদিন মরেও যায়। কিন্তু বাইরের কোন উদ্দীপক বস্তু ব্যবহার করলে বা গাছকে আঘাত করলে গাছ কীভাবে সাড়া দেয়, সেটা জগদীশ বসু যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করে দেখান, যা উদ্ভিদ বিজ্ঞানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা আবিষ্কার,” বলেন ড. শর্মা।

 গাছের যে 'সংবেদনশীলতা' আছে এবং উত্তেজিত করলে গাছ যে সাড়া দেয় তা নিয়ে ১৯২৬ সালে প্যারিসে বক্তৃতা দিচ্ছেন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু।
গাছের যে ‘সংবেদনশীলতা’ আছে এবং উত্তেজিত করলে গাছ যে সাড়া দেয় তা নিয়ে ১৯২৬ সালে প্যারিসে বক্তৃতা দিচ্ছেন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু।

গাছ যে বাইরের আঘাতে বা তাকে উত্তেজিত করলে তাতে সাড়া দেয় সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করার জন্য জগদীশ বসু সূক্ষ্ম সব যন্ত্র্র সাধারণ কারিগর দিয়ে তৈরি করেছিলেন যেগুলি কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দিরে সংরক্ষিত রয়েছে।

এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছিলেন তিনি যা দিয়ে দেখিয়েছিলেন একটা গাছ এক সেকেণ্ডে কতটা বাড়ে। তাঁর আবিষ্কৃত ‘ক্রেসকোগ্রাফ’ যন্ত্র উদ্ভিদদেহের সামান্য সাড়াকে লক্ষগুণ বৃদ্ধি করে প্রদর্শনের ক্ষমতা রাখত।

তাঁর গবেষণা জড় ও জীব জগত সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে দিয়েছিল।

“তিনি বলেছিলেন জড় এবং জীব জগতের মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য। এতই সামান্য যেখানে জড় পদার্থ জীবের মত আবার জীব জড় পদার্থের মত ব্যবহার করে,” বলেছেন ড. দ্বিজেন শর্মা।

জগদীশ বসু ১৮৯৯ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত জীব ও জড় বস্তুর প্রতিক্রিয়ার ওপর গবেষণার কাজ করেছিলেন।

গবেষক ড. দিবাকর সেন বলেন জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতে বিজ্ঞান চর্চ্চা ও গবেষণার প্রসার ঘটাতে কলকাতায় ১৯১৭ সালে যে বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেটি সম্ভবত ভারতের অন্যতম সবচেয়ে প্রাচীন বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র।

এই কেন্দ্র ভারতের বহু নামকরা বিজ্ঞানীকে গবেষণার কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল যেমন সিভি রামান, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বোস, প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রমুখ।

 জগদীশ চন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত বসু বিজ্ঞান মন্দিরে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কাজ করেছেন ভারতের দিকপাল বহু বিজ্ঞানী। সামনের সারিতে বাঁদিকে মেঘনাদ সাহা, মাঝখানে জগদীশ বসু, পেছনের সারিতে বাঁদিক থেকে দ্বিতীয় সত্যেন্দ্রনাথ বোস।
জগদীশ চন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত বসু বিজ্ঞান মন্দিরে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কাজ করেছেন ভারতের দিকপাল বহু বিজ্ঞানী। সামনের সারিতে বাঁদিকে মেঘনাদ সাহা, মাঝখানে জগদীশ বসু, পেছনের সারিতে বাঁদিক থেকে দ্বিতীয় সত্যেন্দ্রনাথ বোস।

ড. দ্বিজেন শর্মা বলেন জগদীশ চন্দ্র বসু সবার আগে বিজ্ঞান বিষয়ে বাংলায় লিখেছিলেন, যা এখনও বাংলা ভাষায় লেখা আদর্শ বিজ্ঞান বিষয়ক বই হিসাবে বিবেচিত। তার মতে তাঁর ‘অব্যক্ত’ গ্রন্থের লেখাগুলো “বিজ্ঞান এবং সাহিত্যের একটি অপূর্ব সংশ্লেষ”।

“আমার ধারণায় বিজ্ঞান বিষয়ে বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় গ্রন্থ তাঁর এই বই।”

বিজ্ঞানও যে একটা সংস্কৃতি সেটা প্রমাণ করে গেছেন জগদীশ চন্দ্র বসু, বলেছেন ড. দ্বিজেন শর্মা, “তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানে তাঁর অবদান সেই অর্থে একটা বিরাট মূল্যবান সাংস্কৃতিক অবদান।”

জগদীশ চন্দ্র বসু মারা যান কলকাতায় ১৯৩৭ সালের ২৩শে নভেম্বর।

মুন্সীগঞ্জের রাঢ়িখালে তাঁর পৈত্রিক বাড়িটি ১৯৯৪ সালে একটি স্কুল ও কলেজে পরিণত করা হয়, যার বর্তমান নাম সার জগদীশ চন্দ্র বসু ইন্সটিটিউশন ও কলেজ। কলেজ ভবনটির ঠিক মাঝখানে অবস্থিত একতলা বাড়িটি হচ্ছে জগদীশ চন্দ্র বসুর আদি বাড়ি। বাড়িটিতে জগদীশ চন্দ্র বসুর স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর ছবি, তাঁর লেখা চিঠি ইত্যাদি দিয়ে একটি সংরক্ষণাগার তৈরি করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

অন্যান্য

কৃষককে ন্যায্য দাম দিলে দেশেই উৎপাদন বাড়বে


নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির। দু-তিন বছর পরপরই এ ধরনের একটি সমস্যা তৈরি হয়। কেন এ সমস্যা, সমাধানই-বা কী, তা নিয়ে কথা বলেছেন পুরান ঢাকার মসলাজাতীয় পণ্যের ব্যবসাকেন্দ্র শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী রতন সাহা


পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে বাড়ল। আবার দ্রুত কমল। এত ওঠানামার কারণ কী?

রতন সাহা: পেঁয়াজ আমদানির জন্য আমরা প্রায় পুরোটাই ভারতনির্ভর। বিকল্প হিসেবে অনেক দেশেই প্রচুর পেঁয়াজ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষ ওই সব পেঁয়াজ খেতে অভ্যস্ত নয়। ফলে ভারত যখন রপ্তানি বন্ধ করে দিল, তখন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মনে করেছিলেন, দেশে দাম অনেক বাড়বে। এ কারণে কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এতে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এক দিন পরই দেখা গেল, দাম যতটা বেড়েছে, ততটা হওয়ার কথা নয়।

পেঁয়াজের উৎপাদন এবার কেমন হয়েছে?

রতন সাহা: আসলে পেঁয়াজ উৎপাদনের বাস্তবসম্মত কোনো হিসাব নেই। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত। তারপরও দেখা যায় ঘাটতি। এটা ব্যবসার জন্য খুবই সমস্যা তৈরি করে। দেশে পেঁয়াজ কতটুকু হয়েছে, কতটুকু আমদানি হয়েছে, এসবের তথ্য সরকার যদি গণমাধ্যমে সময়-সময় তুলে ধরে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এখন ব্যবসায়ীরা মূলত অন্ধকারে ব্যবসা করে। ধরেন, নতুন একজন ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি শুরু করতে চান। তিনি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেবেন কিসের ভিত্তিতে?

আমরা দেখছি, পেঁয়াজ উৎপাদন কয়েক বছর ধরে একই জায়গায় আছে। খুব বেশি বাড়ছে না কেন, আপনার কী মনে হয়?

রতন সাহা: দেখা যায়, এ দেশে মৌসুম যখন শুরু হয়, তখন ভারতীয় পেঁয়াজ অবাধে আমদানি হয়। এতে কৃষক দাম পান না। এ বছরও মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজের দাম খুব কম ছিল। কৃষককে যদি ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা দেওয়া যেত, তাহলে দেশেই প্রচুর উৎপাদিত হতো। হয়তো সামান্য কিছু আমদানি করতে হতো। তবে এতটা ঘাটতি থাকত না।

ন্যায্যমূল্যের জন্য করণীয় কী?

রতন সাহা: মৌসুমের সময় আমদানি বন্ধ করে দিতে হবে অথবা শুল্ক আরোপ করতে হবে। যখন কৃষক ৫ টাকা, ৮ টাকা, ১০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেন, তখন তো কেউ খোঁজও নেয় না। দাম না পেয়ে কৃষক নিরাশ হন, পরের বছর আর উৎপাদন করতে চান না। তাঁদের অন্তত উৎপাদন খরচটুকু ওঠানোর নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত।

আগে তো শ্যামবাজারের অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করতেন। তাঁদের অবস্থা কী?

রতন সাহা: অনেকেই ব্যাপক লোকসান দিয়ে আমদানি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন আমদানি করে মূলত স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ আমদানি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। ধরেন, ভারত এক মাস পর পেঁয়াজ রপ্তানি উন্মুক্ত করে দিল। এতে যাঁরা মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বেন। কারণ, ভারতীয় ও দেশি পেঁয়াজ থাকলে ক্রেতারা মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ কোনোভাবেই কিনবেন না।

ভারতে কি নতুন মৌসুম আসছে?

রতন সাহা: এক মাস পরই মহারাষ্ট্রের নাসিকের পেঁয়াজ উঠবে। বন্যায় ওই পেঁয়াজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও মৌসুম শুরু হলে দাম কমবে। মিসর থেকে এখন যদি কেউ পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়, সেটা আসতে ৪০ দিনের মতো লাগবে।

এখন যে বাজারে অভিযান চলছে, তার প্রভাব কতটুকু?

রতন সাহা: সাময়িক হয়তো একটা প্রভাব পড়ছে। কিন্তু আতঙ্ক ছড়ালে ব্যবসায়ীরা আমদানির ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন। কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি দুই মাস আমদানি করবেন না, তাহলে কারও কিছু বলার থাকবে না। এতে বাজারে কিন্তু সংকট তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমিয়েছে। এর সুফল কতটুকু পাওয়া যাবে?

রতন সাহা: এর তেমন একটা সুফল পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। আমদানিকারকেরা কম সুদে ঋণ পেলে হাতখরচ কিছুটা কমবে। বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ঢাকায় ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। সেটা কি দাম কমাতে ভূমিকা রাখতে পারছে?

রতন সাহা: টিসিবির পেঁয়াজের দাম কম। তবে পরিমাণ খুবই নগণ্য। ভালো হতো যদি সরকার মিসর বা তুরস্কের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারিভাবে পেঁয়াজ আমদানি করত।

দেশে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ কত দিন পর আসবে?

রতন সাহা: দেশে মৌসুম শুরু হতে এখনো এক মাসের বেশি সময় বাকি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষক থেকে সফল উদ্যোক্তা খুলনার মঞ্জুর

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ফল খুব একটা ভালো হয়নি। তবু উচ্চশিক্ষার জন্য স্নাতকে ভর্তি হন। কিন্তু লেখাপড়ার এ ফল নিয়ে খুব বেশি দূর যে এগোনো যাবে না, নিজের মধ্যেই এমন ধারণা তৈরি হয় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের তরুণ শেখ মঞ্জুর রহমানের। তাই লেখাপড়ার আনুষ্ঠানিক পাট চুকিয়ে মনোনিবেশ করেন কৃষিকাজে। সেখানে পেলেন সফলতা। প্রথমে শুরু করেন মাছ ও ধান চাষ। এরপর শুরু করেন বীজ উৎপাদন ও বিপণন।

এখন মঞ্জুর বোরো ধান, আমন, সরিষা, তিল, মাষকলাইসহ নানা ধরনের সবজির বীজ উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করে তা বাজারজাত করছেন। তাঁর উৎপাদিত এ বীজ ডুমুরিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে পাশের জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখন প্রতিবছর শুধু ১২ মেট্রিক টন বোরো বীজই উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন মঞ্জুর। তাতে সব মিলিয়ে খরচ বাদে তাঁর বার্ষিক মুনাফা ৬ লাখ টাকার ওপরে।

সম্প্রতি শেখ মঞ্জুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় । তিনি জানান, ২০০৬ সালে এইচএসসি পাসের পর স্নাতকে ভর্তি হন। তখনই মনস্থির করেন কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার। প্রথমে বাবার কিছু জমি নিয়ে শুরু করেন মাছের ঘের। এরপর তরুণ মঞ্জুরের মাথায় আসে মাছের ঘেরে ধান চাষের। যেই চিন্তা, সেই কাজ। শুরু করেন ধান চাষ। প্রথমবারই ভালো ধান হয়। তবে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় সেবার লোকসান হয় তাঁর। তা সত্ত্বেও পরেরবার আবারও ধান চাষের উদ্যোগ নেন। এবার সংকট দেখা দেয় ভালো বীজের। বাজারে ভালো বীজের সংকট দেখে মঞ্জুরের মাথায় প্রশ্ন জাগে, সরকার ও বিভিন্ন কোম্পানি যে বীজ বিক্রি করে, তা কোথা থেকে আসে।

এ প্রশ্নের উত্তর জানতে শরণাপন্ন হন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে পড়ুয়া তাঁর বড় ভাইয়ের কাছে। জানতে পারেন কীভাবে মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করা যায়, কীভাবে বীজ উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়া যায়, সেসব বিষয়। এরপর নিজের অভিজ্ঞতা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু করেন বীজ উৎপাদন।

তরুণ মঞ্জুর বলেন, ‘বীজ উৎপাদনের পর তা আমার নিজের দোকানে রেখে বেচতে শুরু করি। কৃষকও তাঁর বীজ ব্যবহার করে ভালো ফলন পেতে শুরু করেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের বীজ উইং থেকে উৎপাদনের নিবন্ধন নিই।’

বর্তমানে শেখ এগ্রো নামে প্যাকেটজাত বীজ বিক্রি করেন মঞ্জুর। পাশাপাশি নিজেই গড়ে তুলেছেন বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। তাই এখন আর তাঁর উৎপাদিত বীজ অন্য কোনো প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে নিতে হচ্ছে না। চলতি মৌসুমে ব্রি ২৮, ৫৮, ৬৭ জাতের ১০ টন ভিত্তি বীজ এবং আমন ব্রি ৮৭, ৪৯, ৭৫ জাতের ২ টন মানঘোষিত বীজ তিনি বিপণন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর কাছে এখন ৫০০ কেজি সরিষা, ২০০ কেজি তিলবীজ বিক্রির জন্য প্রস্তুত আছে। আর মাঠে বীজের জন্য লাগানো মাষকলাইয়ে ফুল এসেছে।

মঞ্জুরের গ্রামের আবদুর রশিদ গাজী বলেন, ‘তার কাছ থেকে বীজ নিয়ে কখনো ঠকিনি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা তাকে সব সময় কাছে পাই। বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সে আমাদের সহায়তা করে। কিছু বাকিতেও বীজ-কীটনাশক কেনা যায়।’

ডুমুরিয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, বর্তমানে মঞ্জুর একজন সফল কৃষকের পাশাপাশি সফল ব্যবসায়ীও। ব্যক্তি উদ্যোগে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের বীজ উৎপাদনের তেমন নজির এখানে নেই। অথচ মঞ্জুর বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রও তৈরি করেছেন। কৃষক থেকে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার এ নজির সত্যিই অনন্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

‘সময়মতো পানি দাও, সার দাও আরও কত ঝামেলা, তাই দুই বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ না করে সবজি চাষ করছি। এতে ঝামেলা কম, লাভও বেশি।’ কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর সদর উপজেলার শালেবাজ গ্রামের চাষি আবদুল মজিদ।

শুধু মজিদই নন, গত কয়েক মৌসুমে ধান চাষ করে লোকসান গোনার পর অনেক চাষিই এখন ধান চাষ না করে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। নওগাঁ সদর, বদলগাছী, মান্দা, ধামইরহাট ও মহাদেবপুর উপজেলায় এ বছর ব্যাপক হারে সবজি চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়েছে। গত বছর জেলায় সবজি আবাদ হয়েছিল ৭ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর নওগাঁয় সবজির আবাদ বেড়েছে ৮৪৫ হেক্টর জমিতে। জেলায় এ বছর আমন ধান আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁর সদর উপজেলার বক্তারপুর, কীর্ত্তিপুর, তিলকপুর, বর্ষাইল ইউনিয়ন, বদলগাছীর বালুভরা, পাহাড়পুর, মিঠাপুর, বিলাশবাড়ি, কোলা, আধাইপুর ইউনিয়ন, মহাদেবপুরের সদর ইউনিয়ন, চেরাগপুর, রাইগা, চান্দাশ, উত্তরগ্রাম এলাকায় ধানের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ জমিতে ব্যাপক হারে সবজির চাষ হয়েছে। এসব জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, মরিচ, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে। অথচ দুই-তিন বছর আগেও এসব জমিতে সবজির চাষ এত হতো না।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সালের পর থেকে বোরো ও আমন ধান আবাদ করে ন্যায্যমূল্যে না পাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়েছে। ধান আবাদ করে লাভের মুখ দেখতে গিয়ে উল্টো অনেক কৃষক ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা ধান চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। এই লোকসান থেকে বাঁচতে অনেক কৃষক আস্তে আস্তে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষক যাঁরা সাধারণত নিজেরা শ্রম দিতে পারেন, এমন কৃষকেরা ধান চাষ ছেড়ে দিয়ে সবজি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

বক্তারপুর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর চার বিঘা আবাদি জমে রয়েছে। সবজি চাষের জন্য এবার দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেননি। ওই দেড় বিঘা জমিতে তিনি শীতের আগাম শিম ও ফুলকপি চাষ করেছেন। অথচ বিগত বছরগুলোতে শহিদুল তাঁর চার বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতেন।

শহিদুল বলেন, বাজারে এখন নতুন ধানের দাম মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৭১০ টাকা। আড়াই বিঘা জমিতে খুব বেশি হলে ৫০ মণ ধান পাওয়া যাবে। ৫০ ধান বিক্রি করে আসবে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ দেড় বিঘা জমিতে লাগানো শিম ও ফুল কপি বিক্রি করে তাঁর ৪০ হাজার টাকা এসেছে। আরও দুই-তিন মাস তিনি এই সবজি বিক্রি করতে পারবেন।

সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের মিলটন সরদার বলেন, ধান চাষের চেয়ে সবজি চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। ধানের দাম না পাওয়ায় এলাকার অনেক কৃষক ধান আবাদ ছেড়ে দিয়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। ন্যায্যমূল্য না পেলে ধীরে ধীরে ধানের আবাদ আরও কমবে।

পাহাড়পুর গ্রামের খবির উদ্দিন নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর আমি বেশি জমিতে সবজি আবাদ করেছি। ইতিমধ্যে আমার খেতের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পালংশাক ওঠা শুরু করেছে। বাজারে দামও ভালো।’

সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম মফিদুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার মাটি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বিশেষ করে বর্ষাইল, বক্তবার, তিলকপুর ও কীর্ত্তিপুর এলাকায় ব্যাপক হারে সবজি চাষ হচ্ছে এবং বছর বছর সবজি চাষ বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নওগাঁর উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সবজির আবাদ বাড়ার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। গত কয়েক মৌসুম ধরে ধানের দামটা অস্বাভাবিক কম ছিল। এ জন্য কৃষকেরা সবজির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কম খরচে অধিক লাভ হয় এমন ফসল আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রুপালি ফসলে সোনালি দিন

বাংলাদেশের রুপালি ফসল মাছ। বাঙালির অতি প্রিয় খাবার। এই উপমহাদেশে ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে মাছের চাষ হয় বলে জানা যায়। ১৯৬৭ সালে কার্পজাতীয় মাছের কৃত্রিম প্রজনন শুরুর পর এ দেশে মৎস্য চাষ ও উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পায়। একসময় কার্পজাতীয় মাছ চাষ করাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু বর্তমানে পাঙাশ, তেলাপিয়া, থাই কই, পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুরসহ হরেক রকমের মাছ চাষ হচ্ছে। প্রাকৃতিক উৎসের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।

মাছ চাষের পাশাপাশি আরেক সফলতার চাবিকাঠি হলো মাছ আহরণ। এ বছর প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরিত হচ্ছে। ইলিশ (জাটকা) রক্ষায় বছরে প্রায় ৩৯ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৯টি পরিবারকে ৭ হাজার ৯১৪ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ইলিশ ২০১৭ সালে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশ চিংড়ি রপ্তানি করে ২০১৬–১৭ অর্থবছরে আয় করে ৩ হাজার ৬৮২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল থেকে বিনা সার্টিফিকেটে বিশ্বে চিংড়ি ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করতে পারে বাংলাদেশ, যা এশিয়া মহাদেশে বিরল দৃষ্টান্ত।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাছ চাষে ট্যাক্স হলিডে প্রবর্তন, মৎস্যখাদ্য কাঁচামালের শুল্ক মওকুফ, জেলেদের জন্য আইডি কার্ড চালু, জাটকা রক্ষায় জেলে পরিবারকে ৪০ কোটি করে খাদ্যসাহায্য প্রদান, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান, মাছ আহরণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, মাছের অভয়াশ্রম স্থাপনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। চাষিদের শ্রম ও ঘাম এবং জেলেদের ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়েই এই সাফল্য এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার দেওয়া হিসাবমতে, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। মাছ চাষে পঞ্চম এবং সামুদ্রিক মাছ উৎপাদনে আমরা ১১তম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ

হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ
হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত মধ্যরাতে হালদা নদীর কয়েকটি স্পটে নমুনা ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মা মাছ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘হালদা নদীর কাগতিয়ার মুখ থেকে গড়দুয়ারা নয়াহাট পর্যন্ত বিভিন্ন নৌকার ডিম সংগ্রহকারীরা জানাচ্ছেন, তারা প্রতি জালে ১০০-১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাচ্ছেন, তাদের ভাষ্যমতে এগুলো নমুনা ডিম।’

স্থানীয় জেলেরা জানান, বুধবার (২০ মে) রাতে বৃষ্টিতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ ছিল। এরপরও এদিন মা মাছ ডিম ছাড়েনি। তবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে শিগগিরই মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়বে।

স্থানীয়রা জানান, এবার মা মাছ রক্ষায় হালদা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় ডিম সংগ্রহ গতবারের চেয়ে বেশি হতে পারে।

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা এলাকার বাসিন্দা জানে আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের রাতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিতে হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমরা রাত ৯টা থেকে ডিম সংগ্রহ করার জন্য হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করেছিলাম। কিন্তু এদিন মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। তবে আজ সামান্য কিছু নমুনা ডিম ছেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাধারণত মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে শিগগিরই মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়বে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমাবশ্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢল ও শীতল আবহাওয়ায় কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। নমুনা ডিম মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য প্রস্তুতের আভাস।

মাছ আগে নমুনা ডিম ছেড়ে পরীক্ষা করে নদীতে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ আছে কিনা। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই মা মাছ ডিম ছাড়বে। পাহাড়ি ঢল, ব্রজসহ বৃষ্টি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া, পূর্ণিমা, অমবশ্যার তিথিতে মূলত মা মাছ ডিম ছাড়ে, এখন সে ধরনের অনুকূল পরিবেশ আছে।

হালদা থেকে গত বছর ১০ হাজার ২০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।

হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতবছর অনাবৃষ্টি, মা মাছের মৃত্যু, দূষণ, চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজে ড্রেজার ও নৌযান চলাচল বৃদ্ধি এবং ‘কুম’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এবার প্রকৃতি ‘সদয়’ থাকলে আরও বেশি ডিম ও রেণু মিলত বলে ধারণা তাদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com