আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

ছাদ বাগানে ফল চাষ

ছাদে বাগান সৃষ্টি করে তা থেকে সুফল আহরণ করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিরাপদ ফল সবজি প্রাপ্তি সুবিধা নিশ্চিত করণে অনেকেই ছাদে বাগান তৈরি অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। বয়স্ক নর-নারী অবসর বিনোদনের প্রয়োজনে ছাদ বাগান সৃষ্টিতে অনেকে আগ্রহী হয়। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ছাদ বাগান করে গাছপালার সংস্পর্শে এসে বিচিত্র আনন্দের স্বাদ গ্রহণ করে। অনেক বৃক্ষ প্রেমিক পরিকল্পিতভাবে নিজ হাতে ছাদে বাগান করে সৃষ্টির আনন্দ ও গাছপালার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। একটা সুন্দর ছাদ বাগান দিতে পারে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সারা বছর ধরে পরিবারের চাহিদামতো নিরাপদ ফল-সবজি।


ছাদের আকার ও অবস্থান : ছাদের আকার ছোট, মাঝারি বা বড় হতে পারে। এ আকার বিবেচনায় ছাদের কোন অংশে, কি কি, কত সংখ্যক বিভিন্ন ফল, সবজি, মসলা ও ঔষধি গাছ চাষ করা যাবে তা শুরুতেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নির্ধারিত ছাদ কত তলা বিশিষ্ট, আশপাশে কত তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং বা বড় আকারের গাছপালা আছে, সারা দিনে সেখানে আলো-বাতাস বা রোদ পাওয়ার সুবিধা বিবেচনায় বাগান সৃষ্টি করতে হয়। ছাদের অবস্থান অতি উঁচু হলে ঝড়-বাতাসের প্রভাব বেশি পড়ে। এজন্য বেশি লম্বা আকারের ফল গাছ ছাদে রোপণ করা ঠিক হবে না। এমন অবস্থানে গাছ হেলে পড়া, ডাল ভেঙে যাওয়া, ফল ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এজন্য এক্ষেত্রে গাছকে ছেঁটে রেখে বেশি ওপরের দিকে বাড়তে না দেয়া ভালো।


এছাড়া যেসব গাছ কম উচ্চতা বিশিষ্ট ও পাশের্^ বেশি বাড়ে তা দিয়ে ছাদ বাগান সাজানো প্রাধান্য দেয়া উচিত। একই কারণে কলা, পেঁপে এ ধরনের লম্বা আকারের গাছ অতি উঁচু ছাদে রোপণ না করাই উত্তম। ছাদে রোদের তাপ বা প্রচ-তা সরেজমিনের তুলনায় বেশি। সরাসরি রোদ পড়া এবং তার প্রতিবিম্ব প্রতিফলনের কারণে এমনটা হয়। এ জন্য ছাদ বাগান সৃষ্টিতে ৫০-৭০% রোদ প্রতিরোধী ঘন নেট ৭-৮ ফুট ওপরে ফিট করে ছাদের গাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যেতে পারে।


ছাদে বাগান স্থাপন উপযোগী করা : প্রথমে অনেকেই ছোট বড় নানা প্রকার টবে গাছ লাগিয়ে ছাদ বাগান শুরু করে। তবে এ ব্যবস্থায় খুব একটা সফলতা আনা সম্ভব হয় না। এ জন্য ছাদে রোপিত গাছের শিকড় যেন বেশি ছড়াতে পারে এবং বেশি সংখ্যক গাছ রোপণ করা যায় অথচ ছাদের কোনো ক্ষতি হয় না এ ব্যবস্থা শুরুতেই নেয়া দরকার।


বক্স তৈরি করা : বেশির ভাগ ছাদ বাগানি ছাদের কিনারগুলো ২-৩ ফুট চওড়া ও ২-৩ ফুট উঁচু করে বক্স তৈরি করে নিয়ে সেগুলো পটিং মিডিয়া দিয়ে ভরাট করে তাতে গাছ রোপণ করে থাকে। অনেকে নিচে ৮-১২ ইঞ্চি ফাঁক রেখে ঢালাই করে নিয়ে মজবুত করে এ বক্স বানিয়ে নেয়। কেউবা বক্সের নিচের অংশ ২-৩ ইঞ্চি উঁচু করে এ অংশ ঢালাই করে তার ওপর সরাসরি ইটের পাতলা গাঁথনি দিয়ে কম খরচে অনুরূপ লম্বা বক্স বানিয়ে নেয়। বিকল্প ব্যবস্থায় টিনের/প্লাস্টিকের স্টাকচার তৈরি করে অথবা জাহাজ ভাঙা বাথটবের আকারের পাত্র সংগ্রহ করে তা বক্স/টবের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে।


পটিং মিডিয়া দিয়ে বক্স/টব ভরাট করা : সাধারণত নার্সারি থেকে গোবর মেশানো ভিটে মাটি সংগ্রহ করে তা গাছ রোপণের কাজে ব্যবহার করা হয়। যেহেতু ফসলি জমির মতো ছাদ বাগানে লাগানো গাছের শিকড় ছড়ানোর সুযোগ কম, এ জন্য ভালো মানের পটিং মিডিয়া দিয়ে এবং এ নিচের অংশে পানি নিষ্কাশন ও সহজভাবে গাছের শিকড় ছড়ানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বক্সের বিভিন্ন স্তর যেভাবে উপযোগী করা যেতে পারে তা নি¤œরূপ :
ক. তলার প্রথম অংশ : তৃতীয় গ্রেডের ইটের কম দামি ছোট আকারের খোয়া/টুকরা দিয়ে ৩-৪ ইঞ্চি ভরাট করা;


খ. তার ওপরের স্তরে ২-৩ ইঞ্চি পুরু করে কাঠ কয়লা দিয়ে এ দ্বিতীয় স্তর ভরাট করা;
গ. ৩য় স্তর ২-৩ ইঞ্চি পুরু করে নারিকেলের ছোবড়ার টুকরা অথবা নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে সাজানো;
ঘ. ৪র্থ স্তর ২-৩ ইঞ্চি পুরু মোটা বালু (সিলেট স্যান্ড) বা ক্ষুদ্র পাথর কুচি/ইটের চিপস দিয়ে ভরাট করা;
 

ঙ. শেষের বা ওপরের অংশ ২-২.৫ ফুট ভালো মানের পটিং মিডিয়া দিয়ে ভরাট করা হলে ছাদ বাগানের গাছের জন্য বেশি উপযোগী হবে।


পটিং মিডিয়া তৈরির পদ্ধতি : বিদেশে প্রধানত পিটমস, পিটসয়েল ও জৈব পদার্থ (কম্পোস্ট) দিয়ে তৈরি রেডিমেড পটিং মিডিয়া বিভিন্ন স্থানীয় নার্সারিতে পাওয়া যায়। এমন কি কোন ধরনের গাছ রোপণ করা হবে তার জন্য ভিন্নতর মিডিয়া পাওয়া যায়। ভালো মানের মিডিয়া তৈরিতে এ দেশে যা পাওয়া যায় তার একটা আনুপাতিক হার নিম্নে দেয়া হলো :


ক. কোকোডাস্ট বা নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়া – ২৫%
খ. মোটা বালু (সিলেট স্যান্ড)                   – ১০%
গ. ভিটে মাটি (যা নার্সারিতে পাওয়া যায়)    – ২৫%
ঘ. আর্বজনা পচা/পচা গোবর                   – ৩০%
ঙ. তৃতীয় গ্রেডের ইটের ক্ষুদ্র চিপস/খোয়া    – ১০%
 

এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে বক্স/টবের অবশিষ্ট অংশ ভরাট করে তাতে গাছ লাগানো হলে গাছ দ্রুত বাড়বে, বেশি ফলন পাওয়া যাবে। মিডিয়ার সাথে কিছু পরিমাণ করাত কলের গুঁড়া, ভার্মি কম্পোস্ট অথবা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত কম্পোস্ট ব্যবহার করা এবং তার সাথে কিছু হাড়ের গুঁড়া ও খৈল মেশানো ভালো।


ছাদে গাছ রোপণ : ছাদে বাগান তৈরিতে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে উন্নত জাতের সুস্থ-সবল চারা/কলম সংগ্রহের গুরুত্ব অপরিসীম। এ বাগানে যেসব দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্য মেয়াদি ফল গাছ রোপণ করা হবে তা বারোমাসী জাতের হলে ভালো হয়। অন্যথায় ৫-৬ মাস একাধারে ফল পাওয়া যায় এমন জাতের গাছ রোপণ করা উচিত। খুব কম সময় ধরে ফল পাওয়া যায় (লিচু) এমন গাছ ছাদের জন্য নির্বাচন করা ঠিক না। বাগানকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন তা সব সময় কোনো না কোনো গাছে ফুল ফল ধরা অবস্থা বিরাজ করে।


ছাদ বাগানের জন্য উপযোগী ফল গাছের মধ্যে : আম, বিদেশি কাঁঠাল (আঠা, ভোতাবিহীন রঙ্গিন জাত যা রোপণের দুই বছর পর ফল দেয়), পেয়ারা, বারোমাসী লেবু (কাগজি, সিডলেস, এলাচি), মাল্টা, কমলা, থাই বাতাবি, কুল (টক ও মিষ্টি), ডালিম, শরিফা, সফেদা, আমলকী, বারোমাসী আমড়া, জামরুল, অরবরই, বিলিম্বি, করমচা, ড্রাগন অন্যতম।


শাকসবজির : বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়স, চুকুর, ক্যাপসিকাম, শিম, বরবটি, শসা, করলা, লাউ, ধুন্দল, বারোমাসী সজিনা, লালশাক, ডাঁটাশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, ব্রোকলি, মুলা।


মসলা জাতীয় : মরিচ, ধনেপাতা, বিলাতি ধনিয়া, পুদিনা, কারিপাতা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গোলমরিচ, পাম।


ঔষধিগুণ বিশিষ্ট : অ্যালোভেরা, তুলসী, থানকুনি, চিরতা, স্টিভিয়া, গাইনোরা।


ফুল জাতীয় : গোলাপ, বেলী, টগর, জুঁই, গন্ধরাজ, জবা, টিকোমা, জারবেরা, শিউলি, এলামন্ডা, বগুনভিলা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফুল।
 

গাছের রোপণ ও পরিচর্যা : উন্নত কাঙিক্ষত জাতের কলম করা গাছ রোপণ করে গাছে কাঠি বা খুঁটি দিয়ে সোজা করে রাখতে হবে। তাতে গাছ হেলে পড়া বা নড়ে গিয়ে দুর্বল হওয়া রোধ হবে। প্রয়োজনে গাছের অপ্রয়োজনীয় কিছু ডাল বিশেষ করে ওপরের দিকে বেশি বাড়ন্ত ডাল কমিয়ে গাছকে বেশি উঁচু না করে পাশে বাড়তে সহায়তা দিতে হবে। গাছের আকার বেশি ছোট হলে অপেক্ষাকৃত ছোট টবে বা সিমেন্টের পরিত্যক্ত তৈরি ব্যাগে কিছু সময় সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে বড় হলে তা পর্যায়ক্রমে বক্স/বড় টবে রোপণ করা ভালো। টবে সংরক্ষিত গাছ সরাসরি ছাদে না রেখে নিচে এক সারি ইটের ওপর বসানো দরকার। তাতে টবের অতিরিক্ত পানি সহজে বের হবে, ছাদের জন্য ভালো হবে। ড্রামে সংরক্ষিত গাছে রোদের তাপে বেশি গরম হয়। এজন্য চট/ছালা দিয়ে ড্রামের চারধার ঢেকে দিলে তা অনেকটা রোধ হবে। গাছে পানি সেচ দেয়ার ফলে উপরিভাগের মাটি শক্ত হয়ে চট ধরে। মাঝে মাঝে নিড়ানি দিয়ে ওপরের স্তর ভেঙে দেয়া হলে তা রোধ হবে। এ ব্যবস্থায় আগাছা দমন করা যাবে ও ভেতরে বায়ু চলাচল সুবিধা হবে। খরা মৌসুমে দীর্ঘমেয়াদি বড় গাছের গোড়ার চার ধারে শুকনা কচুরিপানা বা খড়কুটা, শুকনো পাতা দিয়ে মালচিং দেয়া হলে রস সংরক্ষিত থাকবে, ঘাস গজানো রোধ হবে এবং পরে এগুলো পচে খাদ্য হিসেবে কাজে লাগবে।


গাছের অবস্থান নির্ণয় : কোন কোন গাছ বেশি রোদ পছন্দ করে (কাগজি লেবু, ড্রাগন ফল) কোন গাছ আধা ছায়ায় ভালো হয় (এলাচি লেবু, জামরুল), আবার কোনো গাছ ছায়া পছন্দ করে (লটকন, রামবুটান)। এজন্য ছাদ বাগান থেকে বেশি সুফল পেতে ছাদে রোদের/আলো-বাতাস প্রাপ্তি অবস্থা বুঝে গাছের অবস্থান চূড়ান্ত করা প্রয়োজন।


পানি সেচ : অতিরিক্ত পানি দেয়া এবং অতি কম দেয়া উভয়ই গাছের জন্য ক্ষতিকর। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বেশি পানি দেয়ার ফলে বিভিন্ন রোগে গাছ আক্রান্ত হয়, এমনকি মারা যায়। এ জন্য গাছের গোড়া শুকালেই কেবল পানি দেয়া যাবে, গোড়া ভেজা থাকলে কোনো মতেই তাতে পানি দেয়া যাবে না। কিছু গাছ বেশি পানি গ্রহণ করে (ড্রাগন, নারিকেল) অনেক গাছে পানি কম লাগে (শিম, মরিচ, বেগুন)। বৃষ্টি বা নালায় জমে থাকা পানি গাছ বেশি পছন্দ করে, বিশুদ্ধ পানি নহে। তবে সকাল বেলা গাছে পানি সেচ দেয়া উত্তম।


পোকা ও মাকড় দমন : প্রাথমিক অবস্থায় শুরুতে সীমিত সংখ্যক পোকা বা তার ডিমের গুচ্ছ দেখা যায়। নিয়মিত ছাদ বাগান পরীক্ষা করে দেখা মাত্র পোকা বা পোকার ডিমগুলো সংগ্রহ করে মেরে ফেলা ভালো। পাতার নিচে ভাগে পোকামাকড় অবস্থান করে। অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক পাতায় পোকামাকড় বেশি দিন আশ্রয় নেয়। এ জন্য পাতা হলুদ হওয়া মাত্র পাতার বোটা রেখে তা ছেঁটে দিতে হয়। অতি ঝাল ২-৩ গ্রাম মরিচের গুড়া এক লিটার পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ছেঁকে নিয়ে তাতে ২ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার ও এক চা চামচ পিয়াজের রস একত্রে মিশিয়ে ৮-১০ দিনের ব্যবধানে স্প্রে করলে জৈব পদ্ধতি অবলম্বনে গাছকে পোকার হাত থেকে নিরাপদ রাখা যায়। মাইট বা ক্ষুদ্র মাকড় খালি চোখে দেখা যায় না। লিচু, মরিচ, বেগুন, গাঁদা ফুলে মাইটের উপদ্রব বেশি দেখা যায়। মরিচের গুড়া পদ্ধতিতেও এ মাকড় দমন করা যায়। যেহেতু পোকামাকড়ের অবস্থান পাতার নিচে এ জন্য এ অংশ ভালোভাবে স্প্রে করে পোকা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কীটনাশক ব্যবহার কালে খেয়াল রাখতে হবে যেন তার টকসিসিটি কম সময় থাকে (ডেকামেথ্রিন দলীয় হতে পারে তবে ইমিডাক্লোরোপ্রিড দলীয় নয়)।


সার প্রয়োগ : মাছ, মাংস ও তরকারি ধোয়া পানি গাছে ব্যবহার করলে গাছের খাবারের অভাব কিছুটা পূরণ হয়। এছাড়াও মিশ্র সার, হাড়ের গুড়া মাঝে মাঝে এবং অনুখাদ্য (দস্তা, বোরন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ) বছরে একবার প্রয়োগ করা ভালো। মাছের কাঁটা, হাড়ের টুকরা, ডিমের খোসা, তরিতরকারির পরিত্যক্ত অংশ, পাতা, একটা ড্রামে পঁচিয়ে নিয়ে ছাদ বাগানে ব্যবহার করা ভালো। কয়েক বছরের বয়স্ক গাছের গোড়ার চারধারে সাবধানে কিছু মাটি উঠিয়ে ফেলে নতুন ভাবে পটিং মিডিয়া দিয়ে ভরাট করা হলে গাছের স্বাস্থ্য ফেরানো সহজ হয়। সম্ভব হলে গাছকে ছাঁটাই করে কিছু মাটিসহ উঠিয়ে নিয়ে সার মিশ্রিত মাটি পরিবর্তন করার ব্যবস্থা নেয়া যায়। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ছাড়া আগানো উচিত হবে না। জেনে শুনে তা করা যেতে পারে। অপেক্ষাকৃত ছোট টব থেকে বড় টবে গাছ অপসারণ করার মাধ্যমে গাছকে স্বাস্থ্যবান করা যায়। যারা ছাদ বাগানে অভিজ্ঞ তাদের বাগান পরিদর্শন করে ও সফলতার দিকগুলো জেনে বা দেখে শিখে তা নিজ বাগানে প্রয়োগ করা উত্তম। ফুল-ফল ঝরা রোধে ও ফল ধরা বাড়াতে নানা প্রকার অনুখাদ্য/হরমোন (সিলভামিক্স, লিটোসেন, ফ্লোরা প্রয়োগ করে অনেকে সুফল আহরণ করে থাকে।


একটা সুন্দর ছাদ বাগান দিতে পারে পরিবারের সুস্থ পরিবেশ ও নিরাপদ চাহিদামতো প্রতিদিনের তাজা খাবার। এক তথ্য মতে যাদের ছাদ বাগান আছে তাদের পরিবারে শান্তি, যাদের নেই তাদের তুলনায় বেশি। আসুন আমরা যার যতটুকু সুবিধা আছে তথায় ভালোবাসার পরশে পরিচর্যায় প্রতি ছাদ বাগানকে সুন্দর সফলভাবে গড়ে তুলি ও তা থেকে নির্মল সুফল আহরণ করি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

আরব দেশের বিখ্যাত খেজুর চাষে সফলতা পেল দিনাজপুরে মোয়াজ্জেম হোসেন

তাহেরুল আনাম : দিনাজপুরে খেজুর চাষে অবিশ্বাস্ব সফলতা দেখিয়েছেন এক গাছ প্রেমী। শুরুতে খেজুর চাষ শখের বসে করলেও আজ বানিজ্যিকভাবে স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সৌদি আরবের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দামি জাতের আজোয়া খেজুর এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে খেজুর গাছে। তবে সরকারীভাবে সহযোগিতা পেলে অনেক বড় পরিসরে খেজুর বাগান করা সম্ভব বলে মনে করছেন এই বাগানী।

আরব খ্যাতো ও সবচেয়ে দামী জাতের আজোয়া খেজুর এখন দিনাজপুরের একটি ছাদ বাগানে। শহরের চাউলিয়াপট্টির একটি ছাদ বাগানে প্রথমে সখের বসে খেজুরের চাষ করলেও এখন বানিজ্যিক ভাবে সেখানে সম্প্রসারনের জন্য প্রস্তুত আছে ৬শ খেজুর চারা। পাশাপাশি এই জাতের খেজুর গাছের শিকড় থেকে প্রতিবছর ২ থেকে ৩টি বাড়তি চারা গাছ বেড় হয়। যা থেকেও বংশ বিস্তার করা সম্ভব। বাগান মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন চাকুরী সুবাদে ৩০ থেকে ৩৫ বছর সৌদি আরবের মদিনা শহরে ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে অবসর নিয়ে দেশে চলে আসেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন আজোয়া খেজুরের বীজ। তার ছোট ছেলের সহযোগিতায় চারা গাছ তৈরী করছেন। এই গাছ রোপনের চারবছরের মাথায় ধরতে শুরু করে খেজুর। প্রথমে দুটি থোকায় খেজুর আসলেও প্রাপ্ত বয়সে ১৮ থেকে ২০টি থোকা হয় এই গাছে। আজোয়া খেজুর শুধু আকারে বড় নয় বাজার মূল্যও অনেক বেশি। আগামীতে আরো বড় পরিসরে খেজুর বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

খেজুর বাগানী মোয়াজ্জেম হোসেন জানালেন, চাকরীর সুবাদে সউদী আরবে যাওয়া। সেখানে খেজুরের বাগান দেখে নিজে মনে মনে চিন্তা করেন দেশে যদি এই খেজুর চাষ করা যায় তবে কিছু একটা করা সম্ভব। আর সেই চিন্তা থেকে দেশে কিছু খেজুরের চারা পাঠিয়ে পরিক্ষা মুলক ভাবে চাষ করেন। এখন তার বাগানে ৬শ খেজুর গাছ রয়েছে। সরকারী ভাবে সহায়তা পেলে এই খেজুর দেশের সকল জায়গায় দেশের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির সম্বাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণের পরিচালক কৃষিবিদ প্রদীপ কুমার গুহ, এই কৃষি কর্মকর্তা খেজুর বাগানে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের যে সকল ফল রয়েছে তা বেশি বেশি চাষ করারও পরামর্শ দিলেন তিনি।

সরকারি সহযোগিতা অথবা প্রকল্প আকারে এই উন্নত জাতের আজোয়া খেজুর সম্প্রসারন করা গেলে দেশে খেজুরের চাহিদা অনেকটা পূরন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংস্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ড্রাগন চাষ দেখে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দুলালের

তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে ইউটিউবে ড্রাগন চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হন কুমিল্লার লাকসামের আনিছুর রহমান দুলাল। একের পর এক ভিডিও দেখে তিনি গড়ে তুলেন ড্রাগন ফলের বাগান। 

উপজেলার মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের পাশাপুরের সরকারি হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের ছেলে আনিছুর রহমান দুলাল এইচএসসি পাশ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। ২০১৩ সালে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান। দেশে এসে ৫ বছর পর মুদাফরগঞ্জ বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এরই মধ্যে তিনি ইউটিউবে লাভজনক ড্রাগন ফলের চাষ দেখে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেন। একের পর এক ভিডিও দেখে তিনি ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। নিজ বাড়ির পাশে ৬০ শতাংশ জায়গায় তিনি ড্রাগন বাগান গড়ে তুলেন। বাগানে তিনি ১ হাজার ৩শ’ ড্রাগন গাছের রোপণ করেন। ইতোমধ্যে চারাগুলো বেশ পরিপক্ব হয়ে ফল দেয়া শুরু করেছে। বাগানে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। 

দুলাল জানান, ড্রাগন চারা রোপণের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছে ফুল আসে। ফুল আসার পর ২০/২৫ দিনের মধ্যে ফল হয়। ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সী গাছ হতে ৫ থেকে ২০টি ফল পাওয়া যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক একটি গাছ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিটি ড্রাগন গাছ ২০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ২০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি পর্যন্ত। 

তিনি আরও জানান, বর্তমান বাজার দরে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি কারা যায়। এরই প্রেক্ষিতে নিজের প্রতিষ্ঠিত বাগান থেকে তিনি প্রথম দফাতেই ১২/১৩ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ড্রাগন গাছে তেমন রোগবালাই না থাকার কারণে বাগানে তুলনামূলক খরচ কম। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আরও জমি সংযুক্ত করে বাগানের পরিধি বৃদ্ধি করবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ড্রাগন চাষে তার ভাগ্য বদলে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

এ প্রসঙ্গে লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানান, ড্রাগন বাগানটির মাটি ড্রাগন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণে অফিসের পক্ষ থেকে আমরা সর্বদা বাগানটি পরিদর্শন করে চাষীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। দুলালের মতো অন্যরাও বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় ড্রাগন চাষ করে নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারেন। এজন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।   

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

মোহাম্মদ হোসেন: [২] চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। এখানকার কৃষকদের নতুন আয়ের দিশা দেখাচ্ছে ড্রাগন ফল। চাষে কল্পকাহিনির ড্রাগন নয়, সুস্বাদু ও লোভনীয় ফল ড্রাগন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলটি মূলত ভিনদেশি হলেও এখন দেশেই চাষ হচ্ছে।ড্রাগন মূলত আমেরিকার একটি প্রসিদ্ধ ফল, যা বর্তমানে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।আমাদের দেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধযুক্ত গোলাপি বর্ণের এ ফল খেতে অনেক সুস্বাদু। তার সাথে ভিটামিন সি, মিনারেল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও ফাইবারের উৎকৃষ্ট উৎস। ড্রাগন ফল গাছ ক্যাকটাস সদৃশ। আমাদের দেশের আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী।

[৩] সরেজমিন পৌর সদরের পশ্চিম দেওয়ান নগর এলাকার পাহাড়ী এলাকার ড্রাগন চাষী চৌধুরী বলেন, দুই বছর বয়সে একটি ড্রাগন গাছে পরিপূর্ণ ফল আসে। একটি পিলারে প্রতি বছরে ৩০ থেকে ৪০ কেজি ফল পাওয়া সম্ভব। দুই বছরে একটি পিলারে থেকে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এই দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল বিক্রি করে বছরে আমার ১২ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। তবে এখানে প্রস্ততি মুলক ভাবে চাষ শুরু করতে যাচ্ছি। যথেষ্ট পরিমানের জমি আছে এবারও যদি ভালো ফলন দেখতে পায় তাহলে আগামীতে এ সব জমিতে ড্রাগন চাষ করব।

পৌর সদরের পশ্চিম পাহাড়ের পাদদেশে সুন্দর পরিবেশে ড্রাগন চাষ করেন,তরুন ব্যবসায়ী নুরুল আবছার,তিনি বলেন, থাইল্যান্ড সফরে গেলে সেখানে কয়েকটি বাগান দেখতে পায় ড্রাগন চাষ, তখন তাদের বাগানের পরিচর্যকারীরা আমাকে জানায় ড্রাগনের ফল আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। তখন আমি একটু হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু নিজে যখন চাষ শুরু করেছি তখন ধারণাটি বদলে যায়। আমি গত দুই বছর আগে গাছ লাগিয়েছি।

[৫] গাছ লাগানোর পর প্রায় ৭-৮মাসের মধ্যে আমার বাগানে ফুল, ফল আসতে শুরু করেছে। তবে বাণিজ্যিক ভাবে চিন্তা না করে এমনি এখানকার মাটিতে ড্রাগন চাষ হয় কি-না দেখতে প্রস্ততি মুলক ভাবে পাহাড়ী এলাকার আমার কিছু জায়গায় ড্রাগন চাষ শুরু করেছি। তিনি আরো বলেন,বিভিন্ন চাষীদের মাধ্যমে আমার জমি গুলোতে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি ড্রাগন চাষ করতে শুরু করেছি,ইনশাআল্লাহ গত বছরও ভালো ফলন দেখেছি এবং এই বছরও গাছে যতোষ্ট পরিমানে আমার বাগানে ফুল, ফল আসতে শুরু করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কোরিয়ান পানিকচু চাষে সাফল্য

প্রথমবারের মতো খানসামায় উত্তর কোরিয়া থেকে আনা হাইব্রিড এন কে-ওয়ান জাতের পানিকচুর চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে আর্থিক উন্নয়নে অপার সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন খানসামার ছিট আলোকডিহি গ্রামের চেয়ারম্যানপাড়ার কৃষক আলমগীর হোসেন। কিন্তু করোনা আর লকডাউনের কারণে বর্তমানে পানিকচু বিক্রি ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় সম্ভাবনার স্বপ্ন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, পানিকচু চাষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নজির স্থাপন করেছে খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী, বাসুলী, জয়গঞ্জ, গুলিয়াড়া, আঙ্গারপাড়া ও ভেড়ভেড়ী গ্রামের কচু চাষিরা। প্রায় চার যুগের বেশি সময় ধরে তারা স্থানীয় জাতের পানিকচু ও মুখিকচু চাষ করছেন। এদের অনেকে পরিবারের সবজির চাহিদা মিটিয়ে কচু বিক্রি করে স্বল্প সময়ে ভাগ্য বদলও করেছেন। এবারও ৩৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের পানিকচু, লতিরাজ ও মুখিকচুর চাষ করছেন চাষিরা। তবে স্থানীয় পানিকচুর বদলে কৃষক আলমগীর হোসেন এ বছর কোরিয়ান এন কে-ওয়ান জাতের কচুর চারা সংগ্রহ করে চাষ করছেন। এতে বাম্পার ফলন হয়েছে।এ ব্যাপারে কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, আমি পাশের উত্তরা ইপিজেড-এ একটি কোম্পানিতে কাজ করি। সেখানকার একজন কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়া যাতায়াত করেন। আমি তার মাধ্যমে কোরিয়া থেকে উন্নত জাতের এ কচুর চারা সংগ্রহ করে চাষ করছি।

উপসহকারী কৃষি অফিসার এম জে এইচ কামরুজ্জামানের সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে ২ হাজার ৮০০ চারা ক্রয় করতে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। হালচাষ, জমি তৈরি, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য খরচ হয় আরও ৩০ হাজার টাকা। নভেম্বর মাসে লাগানো এসব পানিকচু বিক্রির উপযোগী হয়ে আসছে। প্রতিটি কচুর উচ্চতা হয়েছে ১০-১২ ফুট আর ওজন হয়েছে ১৫-২০ কেজি। একটি পরিপূর্ণ কচুর ওজন হয় ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত। এসব কচুর কান্ড, লতি আর শুকনো ডাটা উত্তর কোরিয়াতে রপ্তানি করার কথা রয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে রপ্তানিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত চারা বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকা, কচুর লতি ৩৮ হাজার টাকা এবং ফুল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিটি কচু ৩৫-৪০ টাকা করে দাম করেছে বলে তিনি জানান।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, এ কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ, বি, সি, প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ক্যালশিয়াম ও আয়রন রয়েছে। স্থানীয় জাতের চেয়ে হাইব্রিড জাতের পানিকচুর ফলন হয় ভালো। এ জাতের কচুর প্রতিটি কাে র ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে অন্য চাষির মাঝে চারা সরবরাহ করেছি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দেবীগঞ্জ ও বদরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চারা বিক্রি হয়েছে। আশা করি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি উৎপাদিত কচু বাজারজাত করতে পারবেন এবং লাভবান হবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

রামবুটান চাষে সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে রাঙামাটিতে

বিদেশি ফল রামবুটান। মালয় ভাষায় এর অর্থ চুল। এ ফলের খোসার উপরিভাগে শত শত চুল দিয়ে আবৃত থাকায় দেখতে অনেকটা কদমফুলের মতো। কাঁচা অবস্থায় সবুজ। পাকলে উজ্জ্বল লাল, কমলা কিংবা হলুদ। দেখতে অনেকটা লিচুর মতো। তবে লিচুর চেয়ে আকারে বড়। ডিম্বাকৃতির, কিছুটা চ্যাপ্টাও। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমন মজাদার। রসালো এ ফলের গন্ধও অতুলনীয়। তাই এর নাম রামবুটান। সম্ভাবনাময় এই রামবুটান চাষ ছড়িয়ে পড়ছে রাঙামাটিতে। ফলনও হচ্ছে বাম্পার। চাহিদা বেশি, তাই ভালো দাম পাওয়ায় রামবুটান চাষে আগ্রহী পাহাড়ের অনেক কৃষক। রাঙামাটি রাঙাপানি এলাকার বাসিন্দা সময়ন চাকমা ২০০৭ সালে শখের বসে নিজ বাগানে লাগিয়েছিলেন রামবুটান চারা।

সেই চারা বড় হতে সময় লাগে প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর। এরপর শুরু হয় ফলন আসা। প্রথমে তেমন ফলন না হলেও বছরের সঙ্গে বাড়তে থাকে উৎপাদন। চলতি বছর তার রামবুটান গাছে বাম্পার ফলন হওয়ায় চমক সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি এ ফল  চাষে এখন সফল তিনি। রামবুটান গাছে সাড়ে পাঁচ থেকে আট হাজার ফল পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা অনেক থাকায় ফল বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক। শুধু তাই নয়, তিনি রামবুটানের চাষ ছড়িয়ে দিয়েছেন পাহাড়ের অন্যান্য চাষিদের মধ্যেও। গাছের চারা বিক্রি করে এরই মধ্যে আয় করেছেন লাখ টাকা। সময়ন চাকমা জানান, তার রামবুটান চারা পাহাড়ে এখন সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু পার্বত্য জেলা রাঙামাটি নয়, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের চাষিরা সংগ্রহ করেছে রামবুটান চারা। চলতি বছর প্রতি পিস ৯০ থেকে ১২০ টাকা করে প্রায় লাখ টাকার চারা গাছ বিক্রি করেছেন। পাহাড়ি মাটিতে রামবুটান চাষের ফলন বেশি হওয়ায় চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে অন্য চাষিদের মাঝেও। রামবুটান ফল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। সাধারণত মার্চ মাসে রামবুটান গাছে ফুল ফোটা শুরু হয়। এপ্রিল মাসে সবুজ রঙের ফল ধরতে শুরু করে। ফুল ফোটার ৩-৪ মাস পর জুলাই-আগস্ট মাসে ফল পাকে। পুষ্ট হলে সবুজ রঙের ফল হঠাৎ করে লাল,  মেরুন রঙে রূপান্তর হতে থাকে। এ অবস্থা শুরু হওয়ার ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করতে হয়। রামবুটান ফলনে রাঙামাটির আরেক সফল চাষি ডা. উদয় শেকর  দেওয়ান। কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়া থেকে নিয়ে আসেন রামবুটান ফলের বীজ। পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির আঙিনায় বীজ রোপণ করলে এই বীজ থেকে গাছ বড় হতে তেমন সময় লাগেনি। বছরখানেকের মধ্যে শুরু হয় ফল উৎপাদন। সে গাছ থেকে বীজ উৎপাদন করে তিনিও রাঙামাটির রাঙাপানি এলাকায় বাগান করেছেন রামবুটানের। আশা করছেন আগামী বছরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে আসতে পারে তার বাগানে রামবুটানের ফলন। বিদেশি এই ফলের গাছ দেখতে আগ্রহী কৃষকরা আসছেন তার বাগানে। চাষে খরচ কম হওয়ায় চারা সংগ্রহ করে অনেক কৃষক রামবুটান চাষ শুরু করছেন। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে রামবুটান চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়নি। তাছাড়া সব ধরনের মাটিতে এ ফল চাষ করা যায়। তাই কৃষি কর্মকর্তার রামবুটান চাষ করার জন্য কৃষকদের উ™ভূত করতে কাজ করছে। আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে পার্বত্যাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে রামবুটান চাষ ব্যাপকতা লাভ করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com