আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ছাদকৃষি

ছাদ বাগানে ডালিম তথা আনার বা বেদানার চাষ পদ্ধতি

ডালিমের উন্নত জাতই হলো আনার বা বেদানা। ডালিম খুবই আকর্ষণীয়, মিষ্টি, সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। বাংলাদেশের মাটি বেদানা চাষের জন্য উপযোগী বিধায় আমাদের দেশের  বসতবাটির আঙ্গিনায় ডালিমের চাষ দেখা যায়। আনার বা ডালিমের অনেক ঔষধী গুণও রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে আনার গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যাবে। ছাদ বাগানে  টবে বা ড্রামে খুব সহজেই ডালিমের তথা আনার বা বেদানার চাষ করা যায়।

ছাদে বেদানার চাষ পদ্ধতিঃ ছাদে ডালিম তথা আনার বা বেদানার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার  বা রং করা ড্রাম অথবা টব জোগাড় করতে হবে। ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে, যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকতে না পারে। টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার বেলে দোআঁশ মাটি ২ ভাগ, গোবর ১ ভাগ, টিএসপি ৪০-৫০ গ্রাম, পটাশ ৪০-৫০ গ্রাম এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। তারপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে  আলগা করে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন আগের মতো একইভাবে রেখে দিতে হবে। মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা সেই টবে রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় গাছের গোড়া মাটি থেকে কোনভাবে আলাদা হওয়া যাবে যাবে। চারা গাছটিকে সোজা করে সঠিকভাবে রোপণ করতে হবে। তারপর গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে হাত দিয়ে মাটি চেপে চেপে দিতে হবে। ফলে গাছের গোড়া দিয়ে পানি বেশি ঢুকতে পারবে না। একটি সোজা চিকন লাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে। চারা রোপণের শুরুর দিকে পানি অল্প দিলেই চলবে। পরে ধীরে ধীরে পানি দেওয়া বাড়াতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় পানি জমতেও দেওয়া যাবে না। মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজনমতো গাছে সেচ দিতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যাঃ ডালিম তথা আনার বা বেদানা গাছের চারা লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন পর পর সরিষার খৈল পচা পানি দিতে হবে। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে।  এক বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে। প্রস্থে ২ ইঞ্চি এবং গভীরে ৬ ইঞ্চি শিকড়সহ  টব বা ড্রামের মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টব বা ড্রাম  ভরে দিতে হবে। মাটি পরিবর্তনের এই কাজটি সাধারণত বর্ষার শেষে এবং শীতের আগে করাই উত্তম। ১০-১৫ দিন পর পর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে।

গাছে সার প্রয়োগঃচারা লাগানোর পূর্বে গর্তে সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও প্রতি বছর গাছে নিয়মিত সার দিতে হবে। গর্ত করার ৮-১০ দিন পর গর্তের মাটির সাথে নিম্নলিখিত হারে সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে দিতে হবে। গর্ত ভরাট করার ২০-২৫ দিন পর ডালিমের চারা রোপণ করতে হবে।

সারের নামসারের পরিমাণ/গর্ত
কম্পস্টের গুঁড়া৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া১৫০ গ্রাম
টিএসপি১০০ গ্রাম
এমওপি১০০ গ্রাম
জিপসাম৭০ গ্রাম

১ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে গোবর ১০ কেজি, ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম, টিএসপি ১২৫ গ্রাম এবং পটাশ সার ১২৫ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি বছর সারের মাত্রা একটু করে বাড়াতে হবে। পর্যায়ক্রমে পূর্ণ বয়স্ক ১ টি গাছে ৬০ কেজি গোবর, ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ১.৫ কেজি টিএসপি এবং ১.৫ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রয়োগ করতে হবে। উপরিউক্ত পরিমাণ সার  ২ বারে গাছে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বারে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ( মে- জুন ) মাসে এবং ২য় বারে আশ্বিন-কার্তিক ( সেপ্টেম্বর- অক্টোবর ) মাসে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।

ডালিম চাষে আগাছা দমনঃডালিম গাছের গোড়ায় কোন প্রকার আগাছা যেন লেগে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। কেননা ডালিমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ না হলে গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পানি সেচ  নিষ্কাশনঃ ফলন্ত গাছে নিয়মিত হাল্‌কা সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়ার মাটিতে কখনই পানি জমে থাকবে না এবং গাছ বেশি শুকনো রাখা যাবে না। সার প্রয়োগের পর মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে অবশ্যই সেচ প্রদান দিতে হবে।

ডালিম গাছের ডাল ছাটাইঃ ছাদের ডালিম তথা আনার গাছের ডাল নিয়মিত ছাটাই করতে হবে । ডালিম গাছের পুরাতন ডালের নতুন শাখায় ফুল আসে। পুরাতন ডালে নতুন শাখা বের করার জন্যই ডাল পালা ছাটাই করা প্রয়োজন। এছাড়াও আনার গাছের শিকড় থেকে বের হওয়া সাকারও ছেঁটে দেওয়া প্রয়োজন।

ডালিম গাছের শিকড় ছাঁটাইঃ ডালিম গাছে সারা বছরই ফুল ও ফল হয়ে থাকে। সাধারণত বসন্তে এবং বর্ষার সময় গাছে বেশি ফুল ধরে। বসন্তের ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল পাওয়া যায় এবং এর গুণাগুণ খুবই নিম্নমানের হয়ে থাকে। কিন্তু বর্ষার ফুল থেকে প্রাপ্ত ফল অক্টোবর-নভেম্বরে সংগ্রহ করা যায়, যার গুণগত মান খুবই ভালো হয়। তাই অসময়ে তথা বর্ষায় গাছে ফুল আসার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে ১৫ সেমি.গভীর করে মাটি খুঁড়ে শিকড়গুলোকে ১৫ দিন উন্মুক্ত করে রাখাতে হবে। পরবর্তীতে জৈব সারসহ মাটি চাপা দিয়ে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

ডালিম গাছের বিশেষ পরিচর্যাঃডালিম গাছে সারা বছরই অল্প অল্প করে ফুল আসতে থাকে। তবে সব সময়ের ফুল থেকে কিন্তু ফল উৎপন্ন হয় না। বসন্তকালে ডালিম গাছে যে ফুল হয় সেই ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল হয়। তবে এক্ষেত্রে এই ফলের গুণগত মান খুব একটা ভালো হয় না। বর্ষার শুরুতে যে ফুল আসে এবং সেই ফুল থেকে যে ফল হয় তা কার্তিক অগ্রহায়ণ ( অক্টোবর-নভেম্বর ) মাসে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। এই সময়ের ফলের মান বেশ ভালো হয়। তাই বর্ষার শুরুতে ফুল আনার জন্য পৌষ মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত গাছের বিশেষ পরিচর্যা নিতে হবে।  এই সময়ে গাছে সেচ প্রদান বন্ধ রাখতে হয়, ফলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ থাকে। চৈত্র মাসে গাছে সেচ দিতে হয় এবং কোদাল দিয়ে কুপিয়ে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। চৈত্র মাসে গাছের পাতা ঝরে যায় ও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত গাছ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগে ১-২ বার সেচ দিলে ভালো হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে গাছের বদ্ধি ও ফুল ফল ধারণ শুরু হয়। পরবর্তীতে কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে এই ফল সংগ্রহ করা যায়।

ডালিমের রোগবালাই ও প্রতিকারঃ

ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকাঃডালিম ফলের মারাত্মক শত্রু পোকা হচ্ছে ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকা। এই প্রজাতির শূঁককীট ফলের ক্ষতি করে থাকে। স্ত্রী প্রজাপতি ফুল ও ছোট ফলের ওপর ডিম পাড়ে। সেই ডিম থেকে শূঁককীট বের হয়ে বর্ধনশীল ফলে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ খেয়ে ফেলে। পরবর্তীতে  শূঁককীট থেকে মূককীটে পরিণত হওয়ার পূর্বে ফলের ত্বকে গোলাকার ছিদ্র করে ফল থেকে বের হয়ে আসে। এই পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফলে মাধ্যমিক সংক্রমণ ( Secondary Infection ) হিসেবে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে।

প্রতিকারঃ

(ক) আক্রান্ত ফল গাছ থেকে পেড়ে বা মাটিতে পড়ে থাকা  আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে।

(খ) গাছে ফল ধরার পর ফলের বৃদ্ধি শুরু হলে কাপড় বা পলিথিন বা কাগজ দিয়ে ফল ব্যাগিং করে দিলে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

(গ) এছাড়া প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ম্যালাথিয়ন বা কার্বারিল ( এসিকার্ব ) বা ফস্‌ফামিডন গ্রুপের কীটনাশক ১২- ১৫ দিন পর পর গাছে ও ফলে স্প্রে করতে হবে।

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকাঃ কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ সাধারণত পরিচর্যাবিহীন গাছে দেখা যায়। এই পোকার শূঁককীট রাতের বেলা কাণ্ড ও শাখার ছাল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেতে থাকে। দিনের বেলা ডালের গর্তের মধ্যে এই শূঁককীট লুকিয়ে থাকে ও বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে। কাণ্ড বা শাখায় ছোট ছোট ছিদ্র বা বর্জ্য পদার্থ দেখে এ পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায়।

প্রতিকারঃ

(ক) গর্তের মধ্যে সরু তার ঢুকিয়ে পোকার কীড়াকে খুঁচিয়ে মারার ব্যবস্থা করতে হবে।

(খ) গর্ত থেকে এ পোকার কীড়ার বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে গর্তে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা তুলার সাহায্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ঢুকিয়ে কাদা দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলে পোকা মারা যাবে।

রস শোষণকারী পোকাঃছাতরা পোকা, সাদা মাছি, শুল্ক বা আঁশ পোকা, থ্রিপস, জাব পোকা ও মাকড় ডালিমের রস শোষণকারী পোকা হিসেবে বিবেচিত। এসব পোকার আক্রমণে পাতা, মুকুল, ফুল ও ছোট ফল ঝরে পড়ে। সাদা মাছি ও জাব পোকা পাতা ও কচি ডগার রস চুষে খায়। ফলশ্রুতিতে আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ ও বিকৃত হয়ে যায়। এছাড়া এসব পোকার দেহ থেকে এক ধরনের মধু নিঃসৃত হয়, যা পাতায় লেগে থাকে। পরবর্তীতে পাতার গায়ে এই নিঃসৃত মধুর ওপর এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। মাকড় ও থ্রিপস পোকা পাতা, ফুলের বোঁটা, বৃতি ও দলমণ্ডলের অংশ ক্ষত করে এবং ক্ষত থেকে বের হওয়া কোষরস খায়। ফলে পাতার আগা কুঁকড়ে যায় এবং ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

প্রতিকারঃ

(ক) ছাতারা পোকা ও শুল্ক পোকার কীট দমনের জন্য আক্রমণের প্রথম দিকে আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এর পর প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ডায়াজিনন দলীয় কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

(খ) জাব পোকা বা সাদামাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ডাইমেথয়েট (টাফগর ) অথবা ০.৫ মিলি হারে ইমিডাক্লোপ্রিড ( ইমিটাফ, টিডো,টিডো প্লাস ) দলীয় কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর গাছে দুই বার স্প্রে করতে হবে।

(গ) মাকড় দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ১.২৫ মিলি হারে ভার্টিমেক/ সানমেক্টিন এবং ২ গ্রাম হারে সালফার ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

ফলের দাগ রোগঃ এই রোগ ছত্রাকজনিত কারণে হয়ে থাকে। ফল গাছ এ রেগে আক্রান্ত হলে  আক্রান্ত ফলের ওপর অনেক ছোট ও অনিয়মিত দাগ পড়ে। এই দাগগুলোর চারিদিকে সবুজ হলদে দাগ থাকে। পরবর্তীতে দাগগুলো লম্বা দাগে পরিণত হয়। ফলের খোসার নিচের বীজগুলো বাদামি বর্ণের হয়ে যায়। আক্রান্ত ফলের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজার মূল্য কমে যায়।

প্রতিকারঃ রোগাক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মেনকোজেব (ইণ্ডোফিল এম ৪৫/ ডিইথেন এম ৪৫) বা ১ গ্রাম হারে কার্বান্ডিজম( নোইন/ অটোস্টিন/এমকোজিম) ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ২-৩ বার ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

ফল পচা রোগঃছত্রাকজনিত এই রোগটি সাধারণত বর্ষাকালে দেখা যায়। এ রোগের জীবাণু দিয়ে ফুল আক্রান্ত হলে ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং কচি ফল ঝরে যায়। ফলের গায়ে, বিশেষ করে বোঁটায় হলদে বা কালো দাগ দেখে এ রোগের আক্রমণ বোঝা যায়। এই রোগের আক্রমণে ফলের খোসা কুঁচকে যায় ও ফলের ওজন কমে যায়। আক্রান্ত ফল কাঁচা থাকে, আকার ছোট হয় এবংফলের উজ্জ্বলভাব নষ্ট  হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফল নরম হয়ে পচে যায়।

প্রতিকারঃ ফল পচা রোগের প্রতিকার ফলের দাগ রোগের প্রতিকারের অনুরূপ।

ফল ফেটে যাওয়াঃডালিমের ফল ফেটে যাওয়া একটি মারাত্মক সমস্যা। এটি কোন ছত্রাকজনিত রোগ নয়। এটি সাধারণত পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে বা মাটিতে রসের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে। ফলের বৃদ্ধির সময় শুকনো আবহাওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দিলে ফলের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য ফলের ত্বক শক্ত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে মাটিতে রসের আধিক্য ঘটলে ফলের ভেতরের অংশ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। যার কারণে ভেতরের চাপ সহ্য করতে না পেরে ফলের খোসা ফেটে যায়।

প্রতিকারঃ

(ক) ডালিম গাছে ফল ধরার পর থেকে গাছে ঘন ঘন পানি সেচ দিতে হবে।

(খ) মাটিতে বোরনজনিত সার যেমন বোরিক এসিড প্রতি গাছে ৪০ গ্রাম হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে।

(গ) ফলের বৃদ্ধির সময় সলুবর বোরন ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর  ফলে ও গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

(ঘ) তাছাড়া ডালিমের যেসব জাতে ফল ফাটা সমস্যা নেই সেসব জাতের ডালিমের চাষাবাদ করতে হবে।

ফল সংগ্রহঃ আনারের কলমের গাছে ৩-৪ বছর থেকেই ফলন দেওয়া শুরু হয়। ফুল আসার পর থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৬ মাস সময় লাগে। পরিপুষ্ট ফলের খোসার রঙ হলদে বাদামি হয়ে এলেই ফল পাড়াতে হবে। গাছে ফল বেশি দিন রেখে দিলে ফল ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেসব গাছে ফল ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে সেসব গাছের ফল পুষ্ট হওয়ার কিছু আগেই পেড়ে নেওয়ায় উত্তম। তবে অপুষ্ট ফলের স্বাদ ও গুণাগুণ খুব একটা ভালো হয় না। ডালিমের খোসা বেশ শক্ত এজন্য পাকা ফল অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং বাজারজাত করার সময় পরিবহনকালেও ফল সহজে নষ্ট হয় না।

ফলনঃডালিম গাছ  সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই ফল দিতে শুরু করে। তবে শুরুর দিকে ফলন তেমন একটা আশানুরূপ হয় না। সাধারণত ৮-১০ বছর বয়স থেকে ডালিম গাছ ভালো ফলন দিয়ে থাকে। প্রথম ফল ধরার সময় গাছপ্রতি ২০-২৫ টির বেশি ফল পাওয়া যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলন বাড়তে থাকে। দশ বছর বয়সের গাছে গড়ে ১০০-১৫০ টি ফল ধরে। তবে ভালো পরিচর্যা নিলে গাছপ্রতি ২০০-২৫০ টি ফল পাওয়া যেতে পারে। একটি ডালিম গাছ ত্রিশ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফলন দিতে পারে।

চারা প্রাপ্তির স্থানঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারসমুহ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন নার্সারিগুলোতে ডালিম বা আনারের চারা পাওয়া যাবে।

ছাদকৃষি

লিটনের ছাদ বাগানে ৩০ ধরনের ফল

বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করে সফলতা পেয়েছেন সিংড়ার বই ব্যবসায়ী তারেকুজ্জামান লিটন। তার দুইতলা বাড়ির ছাদে এখন শোভা পাচ্ছে দেশি-বিদেশি গাছের ডালে প্রায় ৩০ ধরনের ফল। তার এই সফলতায় ছাদ বাগান করতে উৎসাহী হচ্ছেন অনেকেই।

সিংড়া পৌর শহরের পেট্রোলবাংলা মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ইসলামিয়া লাইব্রেরীর সত্ত্বাধিকারী তারেকুজ্জামান লিটন। ২০১৬ সালে নিজের বাড়ির ছাদে ফলের বাগান শুরু করেন তিনি। নাটোর, বগুড়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিনি দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০ প্রজাতির ফল গাছ সংগ্রহ করে ছাদ বাগান তৈরি করেছেন। এরপর থেকে তার নিরলস প্রচেষ্টায় ৫ বছরে বাগানে শোভা পাচ্ছে অসংখ্য ফল।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দার্জিলিং মাল্টা, ভেরিকেডেট মাল্টা, থাই মাল্টা, বারি-১ মাল্টা, ছিডলেস লেবু, কট লেবু, বারোমাসি আমড়া, থাই পেয়ারা, জাম্বুরা, দার্জিলিং কমলা, মিষ্টি জলপাই, মারোমাসি আম, মিয়াজাকি আম, ব্যানানা ম্যাংগো, আপেলকুর বড়ই, ছবেদা, কাঁঠাল, থাই ডালিম, ড্রাগন, ত্বীন ফল, লাল পেয়ারা, কামরাঙ্গা, মালবেরিসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির ফল রয়েছে লিটনের ছাদ বাগানে। এছাড়াও গোলাপ, মাধবীলতা, টগরসহ কয়েক ধরনের ফুল গাছও রয়েছে।

তারেকুজ্জামান লিটন বলেন, গাছ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসা থেকেই এ ছাদ বাগানের জন্ম। এখান থেকে ফরমালিনমুক্ত ফল পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা পূরণ করে প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের দেয়া হয় এই বাগানের ফল। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফল গাছ সংগ্রহ করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাগানটি আরো বড় করার ইচ্ছে আছে।

লিটনের ছাদ বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাশের ছাদে বাগান করেছে তার ভাতিজা কলেজপড়ুয়া নোমান। তিনি জানায়, আমার চাচা ছাদ বাগানে সফলতা পেয়েছে। তার সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমিও বাগান করেছি। অবসর সময় ছাদেই কাটাই।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সেলিম রেজা বলেন, তাঁর ছাদ বাগানের কথা শুনেছি, কখনও যাওয়া হয়নি। এছাড়াও কেউ ছাদ বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদ বাগান শুরু করার আগে কি কি বিষয় খেয়াল রাখবেন

বর্তমানে শহরাঞ্চলে ছাদ বাগান টি অনেক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য ছাদ বাগান হতে পারে অন্যতম উৎস।

কিভাবে ছাদ বাগান করবেন সেই সম্পর্কে এই লেখায় আমি বিস্তারিত উপস্থাপন করব।

ছোট বাগান করার সময় অনেকেই হতাশ হয়ে যান। দেখা যায় যে কাঙ্খিত ফলন আসে না। আবার অনেক সময় হঠাৎ গাছ মরে যায়।

আমাদের দেশে একটি কুসংস্কার আছে। অনেকে বলে থাকেন অনেকের হাতে গাছ হয় না। এটা আসলে সম্পূর্ণ ভুল কথা। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে যে কারো হাতেই সুন্দরভাবে গাছ বড় হয়ে উঠবে।

সুন্দরভাবে গাছের ফলন পাওয়ার জন্য বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

সবার আগে ছাদ বাগানের উপযোগী মাটি তৈরি করতে হবে।
আমরা জানি যে ছাদ বাগানে গাছ খুব অল্প মাটিতেই বেড়ে উঠতে হয়। তাই মাটিকে ভালো ভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে।

অল্প জায়গায় গাছে উঠে এমন জাত নির্বাচন করতে হবে।

ছাদ বাগানে গাছ বড় করার জন্য নির্দিষ্ট জাত রয়েছে। যে সকল ফল ছাদে হয় সেগুলো সাধারণত কলমের চারা হয়।

নির্দিষ্ট সময়ে গাছ রোপন এবং পরিচর্যা করতে হয়। আমরা অনেক সময়ই জানিনা কোন সিজনে কি ধরনের ফসল লাগাতে হয়। আবার অনেক সমস্যা আছে যেগুলো নিয়মিত প্রুনিং করতে হয়। ক্লোনিং করা বলতে গাছের ডাল ছাঁটাই করাকে বুঝায়। একটি গাছ একেক সময়ে প্রুনিং করে দিলে ভালো ফলন আসে।

যারা ছাদ বাগান করতে আগ্রহী তাদেরকে আমি বিস্তারিত এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারব বলে আশা করি।

প্রথমেই মাটি প্রস্তুত করা সম্পর্কে জেনে নিন।

আমাদের বর্ষাকালে গাছের অনেক সমস্যা দেখা যায়। বসা অনেক সময় দেখা যায় হঠাৎ করে গাছ মরে যায়। এছাড়াও যারা বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন বর্ষাকালে চারা উৎপাদনের হার কমে যায়। বর্ষাকালে কি কি সমস্যা হয় এবং এর যত্ন কিভাবে নিবেন সেটা নিয়ে এই লেখায় আমি লিখব।

বর্ষাকালে চাষাবাদের জন্য মাটি আমাদেরকে ঠিকমতো রেডি করে নিতে হবে।
মাটিতে 45% মিনারেল থাকে
25% বাতাস থাকে
25 শতাংশ পানি থাকে
এবং 5% বিভিন্ন অর্গানিক ম্যাটার থাকে

ছাদ বাগান করার ক্ষেত্রে এই 45% যে মাটি থাকে সেখানে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান থাকতে হয়।

টোটাল 16 টি উপাদান দ্বারা এই 45% মাটি গঠিত হতে হবে। উপাদান গুলোর নাম:

আমরা অনেকেই বলে থাকি গাছে শুধুমাত্র পানি দিলে এবং সূর্যের আলো হলেই ফল দিবে। এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। গাছের সুষম বিকাশের জন্য এবং প্রয়োজনীয় ফসল ফলানোর জন্য মাটিতে 16 টি উপাদানই পরিমিত আকারে থাকতে হবে। এই 16 টি উপাদান এর যেকোনো একটির অভাবে গাছের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

এখন কথা হচ্ছে আপনি কিভাবে বুঝবেন এই 16 টি উপাদানের মধ্যে কোন উপাদানটি আপনার বাগানের মাটির মধ্যে নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

জেনে নিন ছাদবাগানের জন্য মাটি প্রস্তুতি, গাছ রোপণ ও সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে

বাড়ির মধ্যে একটা ছোট্ট বাগান কে না চায়? কিন্ত শহরে থাকেন বলে জায়গার অভাবে সেই ইচ্ছা পূরণ করা থেকে বিরত থাকতেন অনেকেই। তবু বাগান করার ইচ্ছাই মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছে বিকল্প পথ। শহরে বাড়ির সামনের মাটি প্রায় পাওয়া যায় না বললেই চলে। তার উপর ফ্ল্যাটগুলোতে গাছ লাগানোর আর উপায়ও নেই। এই অবস্থায় ফ্ল্যাটের বারান্দায় কিচেন গার্ডেন (Kitchen Garden), কিংবা ছাদের বাগানই ভরসা।

আমাদের এই শহরেও কিন্তু ছাদের বাগান বাড়ছে ক্রমশ। এই শখের বাগান থেকেও মিলছে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান। রান্না করতে গিয়ে নিজের কাছে দুই-চারটি মরিচ কিংবা টমেটো, কখনোবা একমুঠো ধনে পাতার ব্যবহার খাবারের স্বাদের পাশাপাশি মনের খুশিটাও বাড়িয়ে তোলে।

এই বাগান কীভাবে করবেন জেনে নেওয়া যাক –

ছাদের আকার ও অবস্থান :

ছাদের আকার ছোট, মাঝারি বা বড় হতে পারে। এ আকার বিবেচনায় ছাদের কোন অংশে, কত সংখ্যক, কি কি, বিভিন্ন ফল, সবজি, মশলা ও ঔষধি গাছ চাষ করা যাবে তা শুরুতেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নির্ধারিত ছাদ কত তলা বিশিষ্ট, আশপাশে কত তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং বা বড় আকারের গাছপালা আছে, সারা দিনে সেখানে আলো-বাতাস বা রোদ পাওয়ার সুবিধা বিবেচনায় বাগান সৃষ্টি করতে হয়। ছাদের অবস্থান অতি উঁচু হলে ঝড়-বাতাসের প্রভাব বেশি পড়ে। তাই বেশি লম্বা আকারের ফল গাছ ছাদে রোপণ করা ঠিক হবে না।

এমন অবস্থানে গাছ হেলে পড়া, ডাল ভেঙে যাওয়া, ফল ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এজন্য এক্ষেত্রে গাছকে ছেঁটে রেখে বেশি ওপরের দিকে বাড়তে না দেয়া ভালো। এছাড়া যেসব গাছ কম উচ্চতা বিশিষ্ট  তা দিয়ে ছাদ বাগান সাজানো প্রাধান্য দেয়া উচিত। একই কারণে কলা, পেঁপে এ ধরনের লম্বা আকারের গাছ অতি উঁচু ছাদে রোপণ না করাই ভালো। ছাদে রোদের তাপ তুলনামূলক বেশি তাই ছাদ বাগান সৃষ্টিতে ৫০-৭০% রোদ প্রতিরোধী ঘন নেট ৭-৮ ফুট ওপরে ফিট করে ছাদের গাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

মাটির প্রস্তুতি – 

ছাদে বাগান করার শখ কম-বেশী সবারই থাকে । আর এই বাগান করতে হলে প্রথমেই যে জিনিসের প্রয়োজন তা হল মাটি । শুধু মাটি হলেই হবে না গাছের জন্য উপযোগী করে মাটিকে প্রস্তুত করতে হয় । সঠিকভাবে মাটি তৈরি করতে পারলে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এতে ফলনও ভালো হয়।

ছাদ বাগানের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বেলে-দোঁআশ মাটি । প্রথমেই বেলে-দোঁআশ মাটি সংগ্রহ করতে হবে ।আপনার মাটি যদি এঁটেল (শক্ত মাটি) হয়, তাতে বালি মাটি মেশাতে হবে। মাটি যদি বালি হয়, তাতে এঁটেল মাটি মেশাতে হবে। মোট কথা যে কোনো মাটি দো-আঁশ মাটিতে রূপান্তর করতে হবে। মাটি ঝুর ঝুরে হলেই তা দো-আঁশ মাটি হয়েছে বুঝবেন।

রাসায়নিক সার মেশানো : 

ছাদের জন্য হাফ ড্রাম এবং মাটির জন্য ২ ফুট বাই ২ ফুট ১.৫ ফুট আকারের গর্তে হাফ ড্রামে প্রায় ১২০-১৫০ কেজি (৩-৪ বস্তা প্রায়) মাটি ধরে। উভয়ক্ষেত্রে মাটির সঙ্গে ৩০-৫০ কেজি জৈব সার, ১২০-১৫০ গ্রাম টিএসপি, ৮০-১০০ গ্রাম (২-৩ মুঠ প্রায়) পটাশ, ৪০-৫০ গ্রাম (১.০-১.৫ মুঠ প্রায়) জিপসাম, ১০-১৫ গ্রাম (১.৫-২.০ চা চামচ প্রায়) করে বোরণ ও দস্তা সার ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন ঢেকে রাখবেন। পনের দিন পর পুনরায় মাটি ভালোভাবে মিশিয়ে কয়েকঘণ্টা খোলা রেখে চারা রোপণ করবেন।

মাটি শোধন করা :

মাটি তৈরির সময় শোধনের কাজটি সেরে নেয়া যেতে পারে। এ জন্য উপরোক্ত পরিমাণ মাটির সঙ্গে ১০ গ্রাম (১.০-১.৫ চা চামচ) হারে দানাদার কীটনাশক এবং কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে। এতে করে নিমাটোড বা কৃমি এবং ছত্রাক দমন করা সম্ভব হবে। দানাদার কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব কীটনাশক বায়োডার্মা সলিড প্রয়োগ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ভার্মিকম্পোস্টের সঙ্গে ১-২ গ্রাম হারে বায়োডার্মা মিশিয়ে ১৫ দিন রেখে দিতে হবে। ১৫ দিন পর সার মিশ্রিত মাটির সঙ্গে বায়োডার্মা মিশ্রিত ভার্মিকম্পোস্ট মেশাতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

কীভাবে করবেন ছাদ বাগানের পরিচর্যা, জেনে নিন ছাদবাগানের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

যেহেতু শহরে দূষণ এমনিতেই বেশি, তাই ছোট্ট এক চিলতে বাগান এনে দিতে পারে সজীবতা।’ কিন্তু ছাদবাগান করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন জমে থাকা জল দ্রুত ছাদ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। কোনভাবেই ছাদ যেন ড্যাম্প বা স্যাঁতস্যাঁতে হতে না পারে। শখের বাগান (Terrace Farming) করার সাথে সাথে বাড়িও রাখতে হবে সুরক্ষিত।

ছাদবাগান করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, গাছের পাত্র থেকে বের হওয়া জল যেন কোনভাবেই ছাদে জমতে না পারে। এজন্য, ড্রাম (Drum Farming) বা টবগুলোকে রিং বা ইটের উপর রাখা যেতে পারে। এতে পাত্রের নিচে দিয়ে আলো বাতাস চলাচল করবে এবং ছাদও স্যাতসেঁতে হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। গাছ লাগানোর জন্য ছাদে স্থায়ী বেড় বানাতে চাইলে তা ছাদ থাকে অন্তত আট ইঞ্চি উপর থেকে শুরু করতে হবে। ওয়াটার প্রুফিং, নেট ফিনিসিং বা চিপস ঢালাইয়ের মাধ্যমেও ছাদকে ড্যাম্প প্রতিরোধী করা যায়।

গাছের ডাল-পালা ছাঁটাইঃ 

ছাদ বাগান সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে তাই রোগাক্রান্ত, বয়স্ক ডালপালা, পাতা কেটে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করতে হবে। এতে গাছপালা রোগমুক্ত থাকবে এবং গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হবে। কুল গাছের ক্ষেত্রে কুল খাওয়ার পর ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি গাছের সমস্ত ডাল কেঁটে দিতে হবে। তাছাড়াও মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল গুলো কেটে বোর্দ পেষ্ট লাগাতে হবে।

টব বা ড্রামের মাটি পরিবর্তনঃ

এ বিষয়টিও ছাদ বাগানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাধারণত বর্ষার শেষে কাজটি করতে পারলে ভাল । পূর্বেই কিছু বেলে দো-আঁশ অথবা দো-আঁশ মাটির দুই ভাগের সাথে একভাগ গোবর মিশাতে হবে । যে কয়টি টবের মাটি পরিবর্তন করতে হবে প্রতিটি টবের জন্য আনুমানিক ৪০ গ্রাম টিএসপি, ৪০ গ্রাম পটাশ , ১০০ গ্রাম হাড়ের গুঁড়া ১০ গ্রাম হারে সরিষার খৈল একত্রে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। অতঃপর যে টবের মাটি পরিবর্তন করতে হবে সেই গাছের টবের গাঁ ঘেঁষে ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬-৮ ইঞ্চি গভীর করে মাটি ফেলে দিতে হবে । এটি ১৬-২০ ইঞ্চি টবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পুরনো মাটি সরানোর পর ঐ স্থানটি পূর্বেই প্রস্তুতকৃত মাটি দিয়ে ভরে দিতে হবে ।

সার প্রয়োগ (Fertilizer Application) –

ফল গাছে বছরে অন্তত ২ বার সার দিতে হবে, যেমন- বর্ষার আগে ও বর্ষার পরে। মাছ, মাংস ও তরকারি ধোয়া জল গাছে ব্যবহার করলে গাছের খাবারের অভাব কিছুটা পূরণ হয়। এছাড়াও মিশ্র সার, হাড়ের গুড়া এবং অনুখাদ্য (দস্তা, বোরন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ) বছরে একবার প্রয়োগ করা ভালো। মাছের কাঁটা, হাড়ের টুকরা, ডিমের খোসা, তরিতরকারির পরিত্যক্ত অংশ, পাতা, একটা ড্রামে পঁচিয়ে নিয়ে ছাদ বাগানে ব্যবহার করা ভালো। এছাড়াও ট্রাইকোডারমা, কেঁচো সার, কুইক কম্পোস্ট, ও বাজারে প্রাপ্ত অন্যান্য জৈব সার ছাদ বাগানে ব্যবহার করা যেতে পারে। অপেক্ষাকৃত ছোট টব থেকে বড় টবে গাছ অপসারণ করার মাধ্যমে গাছকে স্বাস্থ্যবান করা যায়। ফুল-ফল ঝরা রোধে ও ফল ধরা বাড়াতে নানা প্রকার অনুখাদ্য/হরমোন (সিলভামিক্স, লিটোসেন, ফ্লোরা প্রয়োগ করা যেতে পারে।

পোকা ও মাকড় দমন (Disease Management) : 

নিয়মিত ছাদ বাগান পরীক্ষা করে দেখা মাত্র পোকা বা পোকার ডিমগুলো সংগ্রহ করে মেরে ফেলা ভালো। পাতার নিচে ভাগে পোকামাকড় অবস্থান করে। অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক পাতায় পোকামাকড় বেশি দিন আশ্রয় নেয়। তাই পাতা হলুদ হওয়া মাত্র পাতার বোটা রেখে তা ছেঁটে দিতে হয়। অতি ঝাল ২-৩ গ্রাম মরিচের গুড়া এক লিটার জলে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ছেঁকে নিয়ে তাতে ২ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার ও এক চা চামচ পিয়াজের রস একত্রে মিশিয়ে ৮-১০ দিনের ব্যবধানে স্প্রে করলে জৈব পদ্ধতি অবলম্বনে গাছকে পোকার হাত থেকে নিরাপদ রাখা যায়। মাইট বা ক্ষুদ্র মাকড় খালি চোখে দেখা যায় না। লিচু, মরিচ, বেগুন, গাঁদা ফুলে মাইটের উপদ্রব বেশি দেখা যায়। মরিচের গুড়া পদ্ধতিতেও এ মাকড় দমন করা যায়। যেহেতু পোকামাকড়ের অবস্থান পাতার নিচে এ জন্য এ অংশ ভালোভাবে স্প্রে করে পোকা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদ বাগানে কি কি গাছ করতে পারেন আপনি? জেনে নিন ছাদ বাগানের জন্য উপযোগী ফসল সম্পর্কে

ছাদ বাগানের (Terrace Farming) শখ তো অনেকেরই রয়েছে। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কী ফলাতে চান? খুব নরম প্রকৃতির গাছ না লাগানোই ভাল। কারণ, ছাদের প্রখর রোদ নরম প্রকৃতির গাছ গুলো অনেক সময়ই সহ্য করতে পারে না। সে ক্ষেত্রে বড় গাছের বনসাই, কলমের ফল কিংবা ফুলের গাছ লাগানোই ভাল।

নানা ধরনের ফলের গাছ ছাদে লাগানো যায়, এমনকি, কলা গাছ, আম গাছ, নারকেল গাছও ছাদের টবে লাগাতে পারেন। সুতরাং ছাদে ঠিকঠাক গাছ লাগানোর জায়গাটা প্রস্তুত করতে পারলেই পছন্দ মতো সব ধরনের গাছই লাগিয়ে দিতে পারেন ছাদে।

যাঁরা ফুলের ভক্ত, তাঁদের জানানো যাক, সামান্য পরিশ্রমেই জবা, গাঁদা, গোলাপ, রঙ্গন, বোগেনভিলিয়া ফোটে। বীজ কিনুন স্থানীয় নার্সারি থেকে। গরমকালে সাধারণত দিনে দু’বার জল দিতে হয়। শীতের দিনে দু’দিনে একবার দিলেও চলে।

ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, কারিপাতা, পালংশাক, পুঁইশাকও বাড়িতে সহজেই ফলানো সম্ভব। বাজার থেকে গোড়াসমেত পুদিনা কিনে এনে মাটিতে লাগালেই গাছ হয়।

গোটা ধনে আগের রাতে সামান্য উষ্ণ জলে ভিজিয়ে রেখে পরদিন পুঁতলেই তাজা ধনেপাতা ফলবে। খুব ভালো লঙ্কা আর লেবুও ধরে সামান্য পরিচর্যাতেই। করতে পারেন লাউ, ঢ্যাঁড়শ, উচ্ছে, পেঁয়াজও। বিশেষ করে বাড়িতে ফ্যান্সি রান্নাবান্না করার অভ্যেস যাঁদের আছে, তাঁরা গাছপেঁয়াজ বা লেমনগ্রাস করে রাখলে হাতের কাছেই তাজা কাঁচামাল পেয়ে যাবেন।

ফলের গাছ (Fruits) : 

আম, পেয়ারা, বারোমাসী লেবু (কাগজি, সিডলেস, এলাচি), মাল্টা, কমলা, থাই বাতাবি, কুল (টক ও মিষ্টি), ডালিম, শরিফা, সফেদা, আমলকী, বারোমাসী আমড়া, জামরুল, অরবরই, বিলিম্বি, করমচা, ড্রাগন ফ্রুট অন্যতম।

শাকসবজি জাতীয় (Vegetables) :

লালশাক, পালংশাক, মুলাশাক, ডাটাশাক, কলমীশাক, পুইঁশাক, লেটুস, বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়স, চুকুর, ক্যাপসিকাম, শিম, বরবটি, শসা, করলা, পটোল, লাউ, ধুন্দল, বারোমাসি সজিনা, ব্রোকলি, মুলা ইত্যাদি।

লা জাতীয় (Spices) :

মরিচ, ধনেপাতা, বিলাতি ধনিয়া, পুদিনা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গোলমরিচ  ইত্যাদি।

ঔষধিগুণ বিশিষ্ট (Medicinal Plants) :

অ্যালোভেরা, তুলসী, থানকুনি, চিরতা, স্টিভিয়া, গাইনোরা ইত্যাদি।

ফুল জাতীয় : 

গোলাপ, বেলী, টগর, জুঁই, গন্ধরাজ, জবা, টিকোমা, জারবেরা, বাগান বিলাস ও বিভিন্ন মৌসুমি ফুল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com