আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

ছাদে ৪০ ধরনের ফল সবজি

ছাদে ৪০ ধরনের ফল সবজি
ছাদে ৪০ ধরনের ফল সবজি: পিরোজপুর শহরের শিক্ষা অফিস সড়কের বাড়ির ছাদে গাছ পরিচর্যা করছেন মিজানুর রহমান

তিন তলা বাড়ির ছাদজুড়ে নানা প্রজাতির ফল। এখানে ৪০ ধরনের ফল ও সবজি। তিন বছর ধরে বাগানটি গড়ে তুলেছেন চাকরিজীবী মিজানুর রহমান। শখের বশে ছাদবাগান শুরু করলেও গত কয়েক বছর এখানে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফল তাঁর পরিবারের চাহিদা অনেকাংশে মেটাচ্ছে। কিছু কিছু ফল তাঁরা স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও দিচ্ছেন।

পিরোজপুর শহরের শিক্ষা অফিস সড়কের তিন তলা বাড়ির মালিক মিজানুর রহমানের তিন ভাই। তবে বাড়িতে ছাদবাগান করার পরিকল্পনা মিজানুর রহমানের। পরিপাটি ছাদে তৈরি করা মাচায় ঝুলছে লাউ ও কুমড়ো। শিমের লতায় ধরেছে রঙিন ফুল। বাগানের লাউয়ের মাচার নিচে রয়েছে কয়েকটি চেয়ার আর একটি টেবিল। সাতসকালে সেখানে বসে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে পত্রিকা পড়েন মিজানুর। সকাল–বিকেল দুবার বাগানের পরিচর্যা করেন তিনি।

পিরোজপুর জেলা শহরে প্রথমে ২০১২ সালে শখ করে ফৌজিয়া খন্দকার নামে এক গৃহিণী ছাদবাগান শুরু করেন
প্রথম এই বাগানে ফুলের গাছ লাগানো হয়েছিল

ছাদবাগান করার কারণ জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, এক আত্মীয়ের বাড়ির ছাদে বাগান দেখে তিনি ছাদবাগান শুরু করেন। ২০১৭ সালের শুরুতে ছাদে নানা জাতের আমগাছ, পেয়ারা, মাল্টা ও শীতকালীন সবজি আবাদ করেন। এ বছর লাউ, কুমড়া, শিম, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শালগম, পেঁয়াজ, গাজর, টমেটো,  স্কয়াশ, মরিচ, লালশাক, পালংশাকের চাষ করেছেন। এ ছাড়া তাঁর বাগানে রয়েছে বড়ই, সফেদা, শরীফা, জলপাই, জামরুল, লেবু, আমড়া, ব্ল্যাকবেরি, সাদা জাম, লাল জাম্বুরা, ভিয়েতনামি নারকেল, বারোমাসি কাঁঠাল। বর্ষাকালে ছাদে তিনি ঢ্যাঁড়স, পুঁইশাক, চালকুমড়া ও লাউ চাষ করেন। এ ছাড়া সারা বছর শিম ও লাউয়ের চাষ করেন। বাগানে রয়েছে বারোমাসি আমগাছ।

পিরোজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর শহরে ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ছাদকৃষি শুরু হয়। একসময় বাড়ির ছাদে ফল ও ফুলের বাগান করা হতো। কয়েক বছর ধরে ছাদবাগানে শাকসবজির চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ২০১৫ সালে পিরোজপুর শহরে ১২টি ছাদবাগানের তথ্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে রয়েছে। তবে বর্তমানে শহরের ১৫ থেকে ২০টি বাড়ির ছাদে বাগান হচ্ছে।

দৈনন্দিন

কেন ফুলকপি খাবেন

শীতকালীন সবজি ফুলকপি এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী এই ফুলকপি। কারণ এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগের নিরাময়। বিশেষ করে ফুলকপি খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে। এছাড়াও এটা ক্যানসার প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।

ফুলকপির উপকারিতা সমূহ:

১- ফুলকপিতে রয়েছে সালফোরাফেন। এই উপাদান ক্যানসারের স্টেম সেল মেরে টিউমারের বৃদ্ধি আটকায়। ফুলকপির এই উপাদান প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

২-ফুলকপি ফাইবার-সমৃদ্ধ। যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

৩-ফুলকপিতে রয়েছে কোলিন। এটি এক ধরনের ভিটামিন বি। যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

৪-ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন ওজন ঝরাতে সাহায্য করে।

৫-এটি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। যা হাড় শক্ত রাখে। ফুলকপিতে উপস্থিত ফাইবার হজমে সাহায্য করে।

৬-কিডনি রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে ফুলকপিতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস।

৭-ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন রকমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চামড়ার ডার্ক স্পট কাটাতে সাহায্য করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

পাহাড়-সমতলে সবজি বিপ্লব, মিশ্র বাগানে ফলছে হরেক সুমিষ্ট ফল

নিউজ ডেস্ক: কঠোর শ্রম-ঘামের বিনিময়ে জমিতে ফল-ফসল, শাক-সবজি চাষাবাদের মাধ্যমে জনগণকে খাদ্য জোগান দেন দেশের কর্মবীর কৃষক। প্রধান ফসল উঠতি আমনের পরিচর্যা চলছে। এর পাশাপাশি বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে হরেক জাতের শীতকালীন শাক-সবজির চাষের ধুম পড়ে গেছে। শীতের সবজি আগাম বাজারে বিকিকিনি শুরু হয়েছে। বেশি দাম হাতে পেয়ে খুশি চাষী। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, টমেটো, বরবটি, ঢেঁড়শ, বেগুন, ঝিঙে, পটল, কাকরোল, শশা, চিচিঙ্গা, গাজর, ক্ষীরা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, কচুমুখী, পালং শাক, কপিশাক, সজনে, ডাটা, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, ব্রুকলি, লেটুস পাতা প্রভৃতি এখন মিলছে হাট-বাজারে। কৃষিবিদ ও চাষিরা জানান, গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালীন ও শরৎকালীন সবজির সমারোহ থাকতেই শীতকালীন শাক-সবজি বাজারে আগাম এসে গেছে।

পাহাড়ি, টিলাময়, উপত্যকা, ঢালু, উঁচু-নিচু, সমতল, বেলে দো-আঁশ, লবণাক্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বৈচিত্র্যে ভরা এবং উর্বর। ভূমিরূপ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী হরেক ধরনের ফল-ফসল, শাক-সবজি আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে শীতকালীন আগাম সবজি বিপ্লব চলছে এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ পাহাড়-সমতলে। কোথাও পুষ্ট-পরিপক্ক শাক-সবজি ক্ষেত থেকে তুলে এনে হাট-বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথাও পানি, সার দেয়া, আগাছামুক্ত করাসহ যত্ন হাতে উঠতি সবজি মাঠের পরিচর্যা করছেন কৃষক। আবার কোথাও বীজ বা চারা রোপণ করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে কৃষকের দম ফেলার ফুরসৎ নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনজুরুল হুদা গতকাল শুক্রবার দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, ভালো বাজারদরের আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষাবাদ ব্যাপক আকারে হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের আওতায় ৫টি জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর) গত বছর ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। এবার ৩০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে শীতকালীন সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। এতে ৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি সবজি উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে। তিনি জানান, নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে সবজি চাষাবাদ। বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের রাঙ্গামাটিস্থ পার্বত্য অঞ্চলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নাসিম জানান, পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি জেলায় (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ৯ হাজার ৬৬৪ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। সব মিলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে ৭ লাখ টন সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার মূল্য কয়েক শ’ কোটি টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যে চট্টগ্রামের বিষমুক্ত অর্গানিক তাজা শাক-সবজি, ফল-মূল রফতানি নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও বাড়ছে। ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও আছে চাহিদা। মধ্যপ্রাচ্যে সবজি রফতানিতে আয় আসছে বার্ষিক প্রায় ৩০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম ফ্রেশ ভেজিটেবলস অ্যান্ড ফ্রুটস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মাহবুব রানা জানান, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রেইট চার্জ, ভাড়া-মাসুল হ্রাস এবং কার্গো বিমান সুবিধা বাড়ানো হলে তাজা ফল ও সবজি রফতানির বাজার আরো প্রসারিত হবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শাক-সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে চট্টগ্রামের প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। সবজি উৎপাদনে চট্টগ্রামে বিপ্লব ঘটছে। করোনা মহামারীকালে কারো সাহায্য ছাড়াই কৃষকেরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ^সে বলীয়ান হয়ে বৃদ্ধি-কৌশল-অভিজ্ঞতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে ফলমূল, সবজি ফলাচ্ছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় এবং ভেজা ও উর্বর জমিতে বাম্পার ফলনে কৃষি বিভাগ আশাবাদী। পাহাড়-সমতলে মিশ্র বাগানে উৎপাদিত শাক-সবজির পাশাপাশি পেঁপে, কলা, আনারস, সফেদা, বাদাম, কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, জলপাই, লেবু, বারি জাতের মাল্টা, কমলা, আতা, বিদেশি ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি ইত্যাদি সুমিষ্ট ফল সুবাস ছড়াচ্ছে সারাবছর। ভালো দাম পেয়ে চাষির মুখে হাসি।

তবে অনেক এলাকা থেকে জানা যায়, কৃষক ও ক্রেতার মাঝখানে একটি মধ্যস্বত্ত্বভোগী, ফড়িয়া চক্র যথেচ্ছ মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। এরফলে কৃষক ও ক্রেতা উভয়ে ন্যায্য দামে বেচাকেনা থেকে বঞ্চিত হয়ে ঠকছেন। আজ শনিবার আশি^ন মাস শেষ হচ্ছে। কার্তিক অর্থাৎ হেমন্ত ঋতু শুরু আগামীকাল রোববার। বিশেষত জুম ফল-ফসলের সঙ্গে শীতের আগাম সবজি তোলার বাড়তি আনন্দে পাহাড়ে পাহাড়ে কৃষক-কিষাণীর মাঝে নবান্নের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো।

বান্দরবান থেকে মো. সাদাত উল্লাহ জানান, এ বনভূমির কৃষি-খামারে ব্যাপক সফলতা আসছে। কম খরচে স্বল্প সময়ে কৃষিপণ্য আবাদ ও ফলন অধিক লাভজনক হওয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনের ‘কারখানা’ বলা যায় বান্দরবান জেলাকে। সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীপাড়ের চর ও পলিমাটির উর্বর জমিতে ব্যাপকহারে শীতকালীন সবজির চাষাবাদ হচ্ছে। থানচি, রুমা, আলীকদম, লামা ও বান্দরবান সদরে হরেক জাতের শাক-সবজির চাষ হচ্ছে। ঢালু, উঁচু-নিচু জমিতে এবং পাহাড়ের জুম চাষের সাথেও মিশ্র সবজি চাষ হচ্ছে। বান্দরবান বাজারের সবজি বিক্রেতা এনামুল হক জানান, শীতকালীন সবজি ব্যাপকভাবে বাজারে না আসার কারণে দাম একটু বেশি। বান্দরবান কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় সবজিসহ কৃষিখাতে বিপ্লব সৃষ্টির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান। জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভিন তিবরিজী ইনকিলাবকে জানান, বান্দরবান কৃষি বিভাগকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। যাতে বান্দরবান জেলাকে কৃষিতে আধুনিক জেলায় উন্নীত করা যায়।

খাগড়াছড়ি থেকে মো. ইব্রাহিম শেখ জানান, এ জেলার ৯টি উপজেলায় পুরোদমে আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা। সবজি ক্ষেতের সযত্নে পরিচর্যার সাথে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে হেমন্তের নবান্ন উৎসবের প্রস্তুতিও চলছে। আগাম শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করছেন বেশি লাভের আশায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সবজি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকায়ও ক্রেতাদের চাহিদা মেটাবে। পাহাড়ের বিষমুক্ত সবজি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যেও। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া, পানছড়ি, তবলছড়ি, তাইদং, মোল্লা বাজার, বেলছড়ি, সুকনাছড়ি, মাইসছড়িসহ কয়েকটিগ্রামে ঘুরে দেখা গেছে দিনমজুরদের সাথে সবজি চাষিরা ক্ষেত পরিচর্যা, রোগ-বালাই দমন করে অধিক ফলনের আশায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন। মাটিরাঙ্গার গোমতি এলাকার জুমচাষি অনন্ত ত্রিপুরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাহাড়ে জুমের ফলন ভালো হয়েছে। জুমে হলুদ, মারফা, আদা, মরিচ, কচু, মিষ্টি কুমড়া, তিল, ভুট্টা, শিম, বরবটিসহ প্রায় ৪০ জাতের শাক-সবজি চাষাবাদ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মুর্ত্তুজা আলী জানান, জুমচাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে শাক-সবজি চাষে উৎসাহিত করছি। সবজি সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ পেলে কৃষকরা আরও বেশি ভূমিকা রাখবেন।

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) থেকে কবির হোসেন জানান, রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাইয়ের উঁচু ও পাহাড়ের ঢালুতে জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজি চারা, বীজ রোপন ও পরিচার্যায় কৃষক পরিবারগুলো ব্যস্ত। বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে শাক-সবজির। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যে কোন ফল-ফসল বা সবজি আগাম চাষাাবাদে ফলন এলে বাজারে চাহিদা বেশি থাকে। মুনাফাও আসে বেশি। ওয়াগ্গা এলাকার এনামুল হক বাচ্চু জানান তিনি পাহাড়ি জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছেন। সকাল-বিকাল খাটছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা থোয়াইনু চিং মারমা জানান, নভেম্বর মাসে আবহাওয়া ভালো থাকলে সবজির উৎপাদন ভালো হবে।

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে এস কে এম নুর হোসেন জানান, উপজেলার খরনা, কচুয়াই, হাইদগাঁও, কেলিশহর ইউনিয়নে বিভিন্ন শীতকালীন সবজি আবাদ চলছে। বাজারে আগাম বিক্রয়ও শুরু হয়ে গেছে। কমলমুন্সির হাট পাইকারি সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেও চাষীরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কচুয়াই এলাকার চাষী আহম্মদ নূর জানান, খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সবজি কম দামে কিনে নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পটিয়ায় শাকসবজির প্রধান পাইকারি আড়ত কমলমুন্সির হাটে ভোর ৬টা থেকে বিকিকিনি শুরু হয়। হাটের ইজারাদার রফিক আহম্মদ জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ টাকার শাক-সবজি এখানে ক্রয়-বিক্রয় হয়। পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান জানান, সবজি চাষের উপযোগী এলাকাগুলোতে চাষীদের নতুন উন্নত জাতের সবজি উৎপাদনে সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) থেকে আসলাম পারভেজ জানান, আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ ও উৎপাদনে কৃষকদের এখন নাওয়া-খাওয়ার যেন সময় নেই। হালদার নদীপাড়ে ও চরসমূহ শীতের সবজি উৎপাদনের উর্বর এলাকা। হালদার বালুচরের মরিচ, পুতি বেগুন, ঢাউস বড় মুলার সুনাম দেশ জোড়া। উপজেলার পশ্চিমে পাহাড়ের পাদদেশে প্রচুর সবজি উৎপন্ন হয়। উৎপাদিত আগাম সবজি হাটবাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। দামও ভাল পাচ্ছেন। দেওয়ান নগরের প্রবীণ কৃষক মো. আলতাফ হোসেন জানান তার মোট চার কানি ফসলি জমির মধ্যে দুই কানিতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ করেছেন।

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে সৈয়দ জাহেদুল্লাহ কুরাইশী জানান, শীতের আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। কারণ বাজারে যত আগে তোলা যায় ততই বেশি টাকা আয় আসছে। এ বছর বৈরি আবহাওয়া, করোনা পরিস্থিতিতেও আগাম সবজি চাষে পিছপা হননি এলাকার কৃষকগণ। উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া হালদা ও ধুরুং নদী এবং ফটিকছড়ি, সর্ত্তা ও গজারিয়া খালের দুই কূল জুড়ে বাগানবাজার, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং, কাঞ্চননগর, ফটিকছড়ি পৌর এলাকার চেউঙ্গারকূল, উত্তর ধুরুং, সুন্দরপুর, সুয়াবিল, কুম্বারপাড়া, চরগাঁপাড়া, রোসাংগিরি, খিরাম, ধর্মপুরসহ প্রায় প্রতিটি এলাকার মাঠ আগাম শীতের সবজিতে ভরে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, এখানকার কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে এগিয়ে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কেবিএম ওমর ফারুক তুহিন জানান, উপজেলায় এবার ৩ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সীতাকুণ্ড চট্টগ্রাম থেকে শেখ সালাউদ্দিন জানান, সীতাকুণ্ড দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন এলাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এমনকি বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। সাপ্তাহিক হাটে শত শত পাইকার আসছেন। পৌর এলাকার মোহন্তের হাটে সবজি ক্রেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, শীতকালীন নতুন সবজির দাম একটু বেশি। বড় দারোগারহাট থেকে ভাটিয়ারী, সলিমপুর পর্যন্ত সারি সারি সবজি ক্ষেতের সমারোহ। গুলিয়াখালীর প্রবীণ কৃষক মো. আবু তাহের জানান, চলতি মৌসুমে তিন একর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাবিবুল্লাহ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে ১৮ হাজার ৬৫০ জন কৃষক শীতকালীন বিভিন্ন রকম সবজির আবাদ করেছেন। সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯৮ হাজার ৯৮০ টন।

মীরসরাই থেকে ইমাম হোসেন জানান, আগাম শীতের সবজি চাষে কৃষক যেমনি লাভবান হচ্ছেন তেমনি ক্রেতারা পাচ্ছেন আগাম স্বাদ। উঁচু জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদে কৃষক পরিবারগুলোর ভাগ্য খুলে গেছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আগাম সবজি চাষের দেখা মিলেছে উপজেলার দুর্গাপুর, চৈতন্যহাট, করেরহাট, খৈয়াছরা, কমলদহ, আবুরহাট, আবুতোরাব, মঘাদিয়া, তালবাড়িয়া, মস্তাননগর, আমবাড়িয়া, ওয়াহেদপুর, হিঙ্গুলীসহ বিভিন্ন এলাকায়। নয়দুয়ারিয়া গ্রামের কৃষক এমরান হোসেন জানান, শীতকালীন সবজির আগাম চাষে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতিতে কীটনাশক তথা বিষমুক্ত সবজি চাষ সম্ভব। উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার কাজী নুরুল আলম বলেন, শীতের সবজির আগাম চাষাবাদে কৃষক সবচেয়ে বেশি লাভবান হন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

কুমিল্লায় ছাদ বাগানে ঝিঙে চাষ করে সৌখিন কৃষক আবু সাঈদের চমক

লেখক

ইউরোপের মত দেশে থেকেও কৃষির নেশা ছাড়তে পারেনি সৌখিন কৃষক আবু সাঈদ। তাই সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন দেশে। বাড়ির ছাদে নানা সবজির চাষ করে ব্যাপক বিনোদন পান তিনি। এবার ছাদে বাক্স পদ্ধতিতে ঝিঙে চাষ করে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। মাচায় ঝুলে আছে ঝিঙে। মাচার ওপরে হলুদ ঝিঙে ফুলে ভ্রমর মৌমাছির উড়াউড়ি করছে। সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুন্দরঘোড়া গ্রামের আবু সাঈদের বাড়ির ছাদে।


ইউরোপ প্রবাসী আবু সাঈদ বাসসকে জানান, তারা তিন ভাই ইউরোপের ইস্তাম্বুল, বেলারুশ ও স্পেনে থাকেন। তবে ইউরোপে থাকলেও কৃষির প্রতি তাদের দুর্বলতা রয়েছে। তিন ভাই বছরের বিভিন্ন সময় পালা করে দেশে আসেন। কৃষি ক্ষেত পরিচর্যা করেন। আবু সাঈদ জানান, গত দুই বছর আগে বাসার ছাদে কাঠ দিয়ে বাক্স বানিয়েছি। সেখানে মিষ্টি কুমড়ো চাষ করেছিলাম। প্রচুর মিষ্টি কুমড়ো হয়। আমার উৎসাহ বাড়ে। পরে ইস্তাম্বুল ও স্পেন থেকে আমার বড় ও ছোট ভাই আসে। তারাও কাজ শুরু করে। আবু সাঈদ বলেন, গত মাসখানেক আগে বাসার ছাদে কাঠের বাক্স তৈরি করে ছাদ থেকে অন্তত দেড় ফুট উঁচুতে। জৈব সার দিয়ে মাটি প্রস্তুত করি। সেখানে ৩৫ টি ঝিঙে বীজ রোপণ করেছি। মাত্র এক মাসেই ছাদ বাগান থেকে দেড় মণ ঝিঙে পেয়েছি। দেড় মণ ঝিঙে থেকে ৩০ কেজি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়েছি। বাকি ৩০ কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। মূলত শখের বসেই শাক সবজি চাষ করেন। আবু সাঈদ জানান, গত দুই বছর আগে চিন্তা করেছি বাসার খালি ছাদটাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। সেই চিন্তা থেকে কাজ শুরু করি। কাঠ দিয়ে বাক্স তৈরি করে নানান জাতের সবজির চাষ করি। এ কাজে বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে কৃষি কর্মকর্তারা। 


এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন বাসসকে জানান, প্রবাসী আবু সাঈদ একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তার উৎসাহের কারনে উন্নত জাতের ঝিঙের বীজ দেই। তিনি আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করেন। ঝিঙের চমৎকার ফলন হয়। এই এলাকায় যাদের বাসায় ছাদ রয়েছে তারা এখন বাক্স পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। এতে করে পরিবারের ভিটামিনের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বাজারে বিক্রি করে অর্থসংস্থানও হচ্ছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ

লেখক

জেলায় বেড়েছে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ। এক মাসের মধ্যে কাঁচা বাজার সয়লাব হয়ে উঠবে সব ধরণের নতুন সবজিতে। শীতকালীন আগাম সবজি চাষের সাফল্য স্থানীয় পাচ্ছেন কৃষকেরা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমন আশা চাষি ও কৃষি বিভাগের। এবারও ব্যাপক সবজির আবাদ হয়েছে এই জেলায়। নিবিড় পরিচর্যা ও রোগ-বালাই দমনে ব্যস্ত সময় পার করছে সবজি চাষিরা।
জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার সবজি গ্রাম খ্যাত নারগুন, জগন্নাথপুর ও বেগুনবাড়ি এলাকায় এবারও কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে সবজির আবাদ করেছেন।


শীতকালীন সবজি মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, লাউ, টমেটো, লাল শাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে জেলার আশপাশ এলাকায়। দিগন্ত জুড়ে এখন সবুজ ফসলের সমারোহ বেশি লাভের আশায় নিরন্তর শ্রম দিচ্ছে কৃষকরা। বেকার যুবকরা চাকরির দিকে না ঝুঁকে নেমে পড়েছে সবজি চাষে। শীতকালের সবজির ভালো দাম পাওয়ায় এবারও এ জেলায় প্রচুর পরিমাণে আগাম সবজির চাষ হয়েছে। তবে শুধু সদর উপজেলা নয়, জেলার রুহিয়া, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলায়ও প্রচুর আগাম সবজির আবাদ হয়েছে এবার।
সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ আলী, ফরিদুল ইসলাম ও রহমত আলী জানান, জেলার সব চেয়ে বেশি সবজি নারগুন এলাকায় হয়। এবারও এখানকার কৃষকরা প্রচুর আগাম সবজি আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় দাম নিয়ে আশাবাদী এখানকার কৃষকরা।
সদর উপজেলা বেগুনবাড়ী গ্রামের শাহীনুর,আফতাবউদ্দিন মোল্লা,রফিকুল ইসলামসহ একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, শীতকালীন এই সবজি অল্প দেখা গেলেও মাস খানেকের মধ্যে ভরপুর হয়ে উঠবে এই অঞ্চলের বাজারগুলো। দামে কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তারা স্বাদ নিবে নতুন সবজির। এবার ভাল ফলন ও লাভবান হবে এমনটাই বলছেন তারা। স্থানীয় শ্রমিকরাও কাজের নিশ্চয়তা ও ন্যায্য মুজুরী পাওয়ায় খুশি।


ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষি বিভাগের মতে, এবার চলতি মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হবে ১লাখ ৮৭ হাজার টন শাক- সবজি। এর আগে এ জেলার গত শীতে ৯ হাজার  ৬৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল। আর সবজি পাওয়া গিয়েছিল তাতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২৯ টন সবজি। সেই হিসেবে বলা যায় এ জেলায় বিগত বছরের তুলনায় আগাম সবজির চাষ বেড়েছে অনেক গুণে। আগামীতে ও চাষ আরো বাড়বে বলে আশা কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের।
ঠাকুরগাঁও কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হোসেন জানান, এ অঞ্চলের সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশগুলোতে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কারিগরী সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আগাম শীতকালীন বাম্পার ফলন হবে। আর বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় এবারও আগাম শীতকালীন সবজি চাষে লাভবান হবেন কৃষকরা এমন আশা এ কৃষি কর্মকর্তার।
কৃষি বিভাগ, কৃষক সংশ্লিষ্ট, ব্যবসায়ি দাবি সবজি সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করাসহ সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ অঞ্চলের কৃষকরা বিশেষ ভৃমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ক্ষেতের শাক-সবজি খেয়ে ফেলছে শামুক

রাতের অন্ধকারে ক্ষেতের শাক-সবজির গাছ খেয়ে ফেলছে এক প্রজাতির শামুক। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানান কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

এরা বিভিন্ন পাতা, গাছের নরম বাকল, ফল, শাক-সবজি গাছ ইত্যাদি খেয়ে ব্যাপক ক্ষতি করছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব এলাকায় আখতার হোসেনের বাড়ির আশপাশে দেখা যাচ্ছে এক প্রজাতির শামুক। শামুকগুলোর খোলসের ওপর একপ্রকার সাদা দাগ কাটা রয়েছে। দিনের বেলায় এরা বাড়ির দেয়ালে ও বিভিন্ন গাছে এবং বড় বড় ঘাসের নিচে লুকিয়ে থাকে। রাত হলেই ঝাঁক বেঁধে শামুকগুলো ক্ষেতে শাক পাতা ও সবজির গাছ খেয়ে ফেলে।

শামুকগুলো লম্বা প্রকৃতির। গত দুই তিন মাস ধরে ব্যাপক হারে ওই এলাকায় এসব শামুক দেখা যাচ্ছে। এর আগেও দুই-একটি করে এদের দেখা যেত। শাক-সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন গাছেরও ক্ষতি করছে এরা। দিনের বেলায় এসব শামুক খুব কমই নড়াচড়া করে। তবে সন্ধ্যার পর বাড়ির আশেপাশে এবং রাস্তাঘাটে বেশি পরিমাণ দেখা যায়। কোনো কোনো শামুকের খোলস ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা। আর শামুক যখন চলাফেরা করে তখন ৩-৪ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে।

ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের এ প্রজাতির শামুক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এনিয়ে পুরো এলাকায় হৈচৈ শুরু হয়েছে। এছাড়া খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসব শামুক দেখতে আসছেন।

বরাব এলাকার বাসিন্দা আখতার হোসেন জানান, গত কয়েক মাস ধরে এ প্রজাতির শামুকের বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনে শামুকের সংখ্যা কম থাকলেও রাত হলে বেড়ে যায়। দিনের বেলায় এরা আম, কাঁঠাল, কলা গাছসহ বিভিন্ন গাছে ও ঘাসের নিচে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন দেয়ালেও থাকে। বাড়ির আশপাশে শাক-সবজি চাষ করলে শামুকগুলো তা খেয়ে ফেলে। এ কারণে এখন আর শাকসবজি চাষাবাদ করি না। কোথা থেকে এতো শামুক এসেছে তা কেউই বলতে পারছেনা। দিন দিন এসব শামুক ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেওয়ান রনি নামের এক যুবক জানায়, এলাকার লোকজন অনেক সময় এ শামুক দেখামাত্র মেরে ফেলে। এ ধরনের শামুক আগে এই এলাকায় কোথাও দেখা যায়নি। এছাড়া শুকনো জমিতে এভাবে শামুক চলাফেরা করতে আগে কখনো দেখিনি। তবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন দোকানে এ ধরনের শামুকের খোলসে বিভিন্ন কিছু লিখে  বিক্রি করতে দেখেছি।

এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, শামুক এভাবে শাক-সবজি খাচ্ছে এবং ক্ষতি করছে এমন বিষয় নিয়ে কেউ আগে জানায়নি। বিষয়টি আমার কাছে একেবারেই নতুন। তবে শামুক মাটি দিয়ে চলাচল করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং মাটির ভেতর বাতাস ঢুকতে পারে। এটা কৃষির জন্য ভালো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মর্ত্তুজ আলী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু শামুক মৎস্য অধিদপ্তরের বিষয় তারা এ ব্যাপারে বলতে পারবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সলিমুল্লাহ বলেন, এমন ঘটনা আগে শুনিনি। তবে শামুক মানুষের জন্য ক্ষতিকর না। কিন্তু শাক-সবজি খেয়ে ফেলছে এবং বিনষ্ট করছে এটা তো অবশ্যই কৃষকের জন্য ক্ষতি। যেহেতু কৃষির বিষয়টি সঙ্গে জড়িত এটা কৃষি কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবে।  

উইকিপিডিয়া থেকে জানা গেছে, শামুক হচ্ছে মোলাস্কা ফাইলামের গ্যাস্ট্রোপোডা শ্রেণির। এরা নরমদেহী এবং দেহ প্যাঁচানো খোলকে আবৃত থাকে। মরুভূমি, নদী, বদ্ধ জলাশয়, জলাশয়, সমুদ্র উপকূলসহ অনেক আবহাওয়াতে শামুকের দেখা পাওয়া যায়। স্থলচর শামুক শামুকের জগতে সংখ্যালঘু। সামুদ্রিক শামুকরাই বৈচিত্র্যে ও সংখ্যায় অনেক বেশি। বেশিরভাগ শামুকই তৃণভোজী। তবে কিছু সামুদ্রিক শামুক প্রজাতি উভভোজী অথবা মাংসাশী। কিছু শামুক ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নেয়। এদেরকে পালমোনাটা বলে। যেসব শামুক ফুলকা জাতীয় অঙ্গের সাহায্যে শ্বাস নেয় তাদের প্যারাফিলেটিক দলে ফেলা হয়। স্থলচর শামুকদের মাথায় দুই জোড়া কর্ষিকা থাকে দরকার পড়লে গুটিয়ে রাখতে পারে। পেছনের কর্ষিকাজোড়ায় থাকে চোখ। পায়ের পেশীতে ঘনঘন সঙ্কোচন ঘটিয়ে শামুক চলাচল করে। শামুকের চলার গতি অত্যন্ত ধীর।  

প্রজাতি ভেদে শামুকের আয়ু ভিন্ন। প্রকৃতিতে আকাটিনিডে শামুক ৫-৭ বছর বাঁচে, আবার হেলিক্স প্রজাতির শামুক ২-৩ বছর বাঁচে। অ্যাকোয়াটিক অ্যাপল জাতের শামুকের আয়ু মাত্র বছর খানেক। বেশিরভাগ শামুকের মৃত্যু হয় শিকারীর হাতে নয়তো পরজীবী দ্বারা। কিছু কিছু শামুকের প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচার নজির রয়েছে।  

স্থলচর শামুক তৃণভোজী। এরা পাতা, গাছের নরম বাকল, ফল, শাক ইত্যাদি খেয়ে থাকে। শামুকের কিছু প্রজাতি শস্য ও বাগানের গাছের ক্ষতি করে বিধায় এদেরকে ক্ষতিকারক কীটের দলে ফেলা যায়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com