আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

ছাদে-বারান্দায় পানির জারে সবজি চাষ

ছাদে বিভিন্ন আকারের প্লাস্টিকের অবকাঠামোতে একসঙ্গে অনেক গাছ বেড়ে উঠছে। গাছগুলো বড় হচ্ছে পানিতে। এতে মাটির কোনো কারবারই নেই। ছাদের অল্প জায়গা, রান্নাঘর বা কেউ চাইলে অফিসের ডেস্কেও পানিতে এভাবে গাছ লাগাতে পারেন। এতে ঘর সাজানোর কাজ চলবে, একইভাবে কাজের অবসরে গাছ থেকে ছিঁড়ে কেউ একটু পুদিনাপাতা মুখে দিয়ে চিবাতেও পারেন। মাটি ছাড়া পানিতে সবজি চাষের এ আধুনিক পদ্ধতির নাম হাইড্রোপনিক্স।

বেসরকারিভাবে গ্রিন সেভারস নামের একটি সামাজিক উদ্যোগ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অফিস ভবনের ছাদে গত বছর থেকে জল চাষের মধ্যে আধুনিক এ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। এ সামাজিক উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনিসহ অন্যরা হাতে–কলমে কাজ করছেন।

সম্প্রতি আগারগাঁওয়ে গ্রিন সেভারসের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের একটি অংশে নেট শেড বা সবুজ ছাউনি দিয়ে এ পদ্ধতিতে বরবটিসহ বিভিন্ন সবজি ফলানো হচ্ছে। শুধু ছাদ নয়, অফিসের ডেস্কেও এলইডি বাতির সাহায্যে পাতা জাতীয় বিভিন্ন গাছ বা সবজি ফলানো হচ্ছে। আহসান রনি প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে সেই গাছ থেকে একটু পুদিনাপাতা স্বাদের বেসিল খেয়েও দেখালেন।

আহসান রনির সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেল এ পদ্ধতির চাষাবাদের নানা সম্ভাবনার দিক। তিনি বলেন, এ পদ্ধতি নগর কৃষিতে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, তাইওয়ান, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিকভাবে এ পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে নানা গবেষণা হচ্ছে। গ্রিন সেভারসের মাধ্যমে কয়েকটি হোটেল লেটুসসহ বিভিন্ন পাতা জাতীয় সবজির চাহিদা মেটাতে এ পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। কয়েকটি ফার্মও এগিয়ে এসেছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে একটি পর্যায়ে চলে যাবে বলে মনে হচ্ছে।

নতুন এ পদ্ধতির উদ্যোক্তারা জানালেন, কম জায়গা ও কম সময়ে অধিক ফলন ফলানো সম্ভব। শহুরে জীবনে গাছ লাগানোর জন্য ভালো মাটি পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট লেগেই থাকে। শহুরে ছাদবাগান জনপ্রিয় হলেও মশা উৎপাদন, মাটিতে ছাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে গাছ লাগাতে মাটি লাগছে না। গাছে মাটিবাহিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না।

ছাদবাগানে এক দিনে যে পরিমাণ পানি লাগে তা দিয়ে নতুন পদ্ধতির চাষাবাদে প্রায় দুই মাসের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়। প্রতিবছর মাটি পাল্টানো, টব নষ্ট হয়ে যাওয়া, নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করা, পানি দেওয়ার ঝামেলাগুলোও পোহাতে হয় না নতুন পদ্ধতির চাষাবাদে। সব মিলিয়ে এটি একটি সাশ্রয়ী ও টেকসই পদ্ধতি। লেটুস, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম, টমেটো, তরমুজ, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচ, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, মটরশুঁটি, বরবটি ইত্যাদির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করা যায়। যেকোনো মৌসুমেই ফসল ফলানো যায়।

হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী অবকাঠামো বসানোতে তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজারের বেশি টাকা খরচ করতে হয় বলে জানালেন আহসান রনি। বলেন, এরপর গাছের চারা এবং পানিতে মেশানোর জন্য পুষ্টি উপাদান নিউট্রিয়েন্ট বাবদ কিছু খরচ করতে হয়। নিউট্রিয়েন্ট বাবদ ৮০০ টাকায় প্রায় ৫ থেকে ৬ মাসের পুষ্টি চাদিহা পূরণ করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ এ খাতে মাসে খরচ ১০০ টাকারও কম। পানি চলমান রাখার জন্য ৯ থেকে ১৮ ওয়াটের মোটর ব্যবহার করতে হয়। এ মোটর গাছের চাহিদা অনুযায়ী থেমে থেমে চলে, এতে মাসে বিদ্যুৎ বিল ৫০ থেকে ৬০ টাকার মতো আসে। সাধারণ পদ্ধতিতে মরিচ বা অন্যান্য ফলন পেতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগলেও আধুনিক এ পদ্ধতিতে এক মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া সম্ভব হয়।

২০০৯-২০১০ সালে আহসান রনি গ্রিন সেভারসের মাধ্যমে ছাদবাগান নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। অশোকা ফেলো আহসান জানালেন, তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট সার্ভিসের আরবান ফরেস্ট্রি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেখানকার অভিজ্ঞতায় গত বছর ফার্মটেক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যৌথভাবে হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করেন।

আহসান জানালেন, চলতি বছরে নগর কৃষকদের অনেকেই নতুন পদ্ধতিটির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। গ্রিন সেভারস থেকে অবকাঠামো বসানো থেকে শুরু করে নিউট্রিয়েন্ট সরবরাহ, গাছের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে পরবর্তী পরিচর্যাসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে।

আহসান রনি জানালেন, পুষ্টি উপাদান নিউট্রিয়েন্ট, গাছ লাগানোর বিভিন্ন অবকাঠামো দেশের বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। সরকার যদি এ বিষয়ে উদ্যোগী ও সদয় হয় তবে নতুন পদ্ধতি নিয়ে বহুদূর যাওয়া সম্ভব হবে। গ্রিন সেভারস দীর্ঘদিন ধরে ক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গাছ বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই সবুজ প্রজন্ম নিজেরাই উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলবে বলে আহসান রনির বিশ্বাস।

দৈনন্দিন

৪ নদীতে ৩০ হাজার টন প্লাস্টিক

ওয়েস্ট কনসার্ন-এর জরিপের তথ্য। মানুষের ব্যবহার করা মাস্ক ও গ্লাভসের ৯২ শতাংশ খাল-বিল-নালা হয়ে নদীতে পড়ছে।

শিল্পকারখানা আর শহরের পয়োনিষ্কাশনের সব বর্জ্য নিয়ে ফেলা হচ্ছে নদীতে। বুড়িগঙ্গা–কর্ণফুলীর মতো একসময়ের টলটলে পানির নদীগুলো এ কারণে এখন মারাত্মক দূষণের শিকার। দেশের অন্য নদীগুলোরও দূষণের চিত্র প্রায় একই। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এর চেয়েও ভয়াবহ বিপদের কথা উঠে এসেছে। আর তা হচ্ছে প্লাস্টিকের দূষণ। শুধু রাজধানীর চারপাশের চারটি নদীতে ৩০ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গেছে। এর অর্ধেকই রয়েছে বুড়িগঙ্গায়।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ওয়েস্ট কনসার্ন–এর এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে ২০১৮ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির হিসাবে বুড়িগঙ্গা বিশ্বের অন্যতম দূষিত নদীর তালিকায় নাম লিখিয়েছিল। আর ২০২০ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যানুসারে, প্লাস্টিক দূষণের দিক থেকে গঙ্গা, পদ্মা, যমুনা যৌথভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত অববাহিকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

এ ব্যাপারে ওয়েস্ট কনসার্নের নির্বাহী পরিচালক মাকসুদ সিনহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর মতো দেশের অন্য বড় শহরের নদীগুলোয়ও প্লাস্টিকের দূষণ তীব্র হয়েছে। আমরা ওই চার নদীর জরিপ করতে গিয়ে দেখেছি, সেখানে প্লাস্টিকসহ অন্য ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এই নদীগুলোকে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে।’

করোনাকালে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ছে

করোনাভাইরাসের মহামারির এ সময় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বায়ুও আগের চেয়ে নির্মল হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ ৪ শতাংশ কমেছে। প্রকৃতিতেও ফিরেছে নানা বৈচিত্র্য। কিন্তু এর মধ্যেও হতাশার চিত্র নিয়ে এসেছে নদীতে প্লাস্টিক দূষণ। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মানুষের ব্যবহার করা মাস্ক ও গ্লাভসের ৯২ শতাংশ খাল–বিল–নালা হয়ে নদীতে পড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সামগ্রিকভাবে প্লাস্টিক দূষণের দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা, পদ্মা ও যমুনা নদী বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিলের গত আগস্টের হিসাবে, বিশ্বে গত এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ১২ হাজার ৯০০ কোটি মাস্ক ও ৬ হাজার ৬০০ গ্লাভস নদী হয়ে সাগরে পড়ছে। এর আগে বিশ্বে বছরে ৮০ কোটি টন প্লাস্টিক নদী হয়ে সাগরে জমা হতো, যা বছরে ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি ও ১ লাখ মাছের মৃত্যু ডেকে আনে।

বঙ্গোপসাগরে ৩০০ ধরনের প্লাস্টিক

পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে করা ‘উৎস থেকে সাগরে’ শীর্ষক চলমান এক গবেষণায় আরও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবিষয়ক নারী বিজ্ঞানীদের নিয়ে গড়ে ওঠা ওই দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পদ্মা থেকে ৩০০ ধরনের প্লাস্টিক পণ্য বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। কোমল পানীয়র বোতল থেকে শুরু করে থালা, প্রসাধনসামগ্রীর মোড়ক এবং নিত্যব্যবহার্য থালা ও জগ—সবই ছিল ওই তালিকায়। ব্যবহার করার পর তা বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। গবেষণাটি কয়েকটি ধাপে করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত বছর দুটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

অধিক জনসংখ্যা আর অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশের মানুষ প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি করে। ফলে একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সস্তা পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে।

গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধূরী, সহকারী অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। যেসব দেশ প্লাস্টিক তৈরি করছে, তাদেরও এই দূষণের দায় নিতে হবে। ফলে সব মিলিয়ে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। আর পলিথিনের কারখানা ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযানও চালাচ্ছি।’

গত জুনে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি ‘বিশ্বের প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বে পঞ্চম। এই বর্জ্যের উৎস গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা হয়ে এগুলো সাগরে যায়।

বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডিও) ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জলে-স্থলে বর্তমানে ৬৫ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। প্রতিদিন এর সঙ্গে ৩ হাজার টন করে যোগ হচ্ছে। সংস্থাটি দেশের পরিবেশের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগকে চিহ্নিত করেছে। তারা বলছে, দেশে যেখানে জৈব বর্জ্য বৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার সাড়ে ৭ শতাংশ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জেনেও দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছে।

জানতে চাইলে ‘উৎস থেকে সাগরে’ শীর্ষক গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, অধিক জনসংখ্যা আর অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশের মানুষ প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি করে। ফলে একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সস্তা পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে। যাঁরা প্লাস্টিকের ব্যবহার করছেন, তাঁদের সচেতন করতে হবে। যাতে তাঁরা যত্রতত্র প্লাস্টিকসামগ্রী না ফেলে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

পৌনে তিন লাখ একর বনভূমি বেদখলে

  • কারা দখলে রেখেছে, জানানো হয়নি
  • সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল কক্সবাজার জেলায়
  • দখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানাও করা হয়েছে

দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর বনভূমিই বেদখল হয়ে আছে। প্রায় ৯০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে এসব জমি দখল করেছেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আজ সোমবার এসব তথ্য জানায় বন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। জেলাটিতে ৫৯ হাজার ৪৭১ হাজার একর বনভূমি বেহাত হয়েছে।

বৈঠকে বন অধিদপ্তর বেদখল হওয়া বনভূমির তথ্য জানালেও কারা এসব জমি দখলে রেখেছেন তা লিখিতভাবে জানায়নি। কারা এসব জমি দখল করেছে ও এখন কী অবস্থায় আছে, তা বিস্তারিত জানাতে বন অধিদপ্তরকে বলেছে সংসদীয় কমিটি। তবে বন অধিদপ্তর মৌখিকভাবে জানিয়েছে প্রায় ৯০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে আছে এসব বনভূমি।

বন অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সংরক্ষিত, বিজ্ঞপ্তিত, রক্ষিত, অর্জিত বা অর্পিত ও অশ্রেণিভুক্ত মিলিয়ে দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। প্রতিবেদনে বনভূমি বেদখলের কারণ হিসেবে বলা হয়, সিএস রেকর্ড মূলে রেকর্ডভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/আরএস/বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। খাস খতিয়ানভুক্ত বনভূমি (সংরক্ষিত বনভূমি ছাড়া অন্যান্য যেমন রক্ষিত, অর্পিত বনভূমি) অনেক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। এ ছাড়া বনভূমির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষ করে সড়ক নির্মাণের ফলে এর দু পাশে বনভূমি দখলের প্রবণতা বেড়ে যায়।বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বনভূমি দখল করে কৃষি কাজ, স্থায়ী স্থাপনা, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। অনেক দখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানাও স্থাপন করা হয়েছে বলে বন অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গেলে শিল্পপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আদালতে মামলা করে স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া উচ্ছেদের কাজে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অসহযোগিতা করে।


অন্যদিকে বন বিভাগের প্রয়োজনীয় জনবলেরও অভাব রয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বনভূমি দখলকারীদের তালিকা চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। এই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এখন পর্যন্ত এসব উদ্ধারে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, আইনজীবী হিসেবে কারা আছেন এসব জানাতে বলা হয়েছে। অনেক প্রভাবশালীও বনভূমি দখল করেছেন। জবরদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করা এখন সংসদীয় কমিটি ও মন্ত্রণালয়ের এক নম্বর অগ্রাধিকার। এক ইঞ্চি জমিও বেদখলে রাখা যাবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে একের পর এক হামলা

প্রভাবশালী লোকজনের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে মা ইলিশ নিধন। অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে গিয়ে একের পর এক হামলার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অসহায় হয়ে পড়েছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তিনটি পৃথক হামলার ঘটনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড-সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। মা ইলিশ ধরার খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) জাকারিয়া রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্যামতসহ বন্দর থানার পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল ওই এলাকায় অভিযানে যায়। সেখানে পৌঁছামাত্র একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। হামলার মুখে আত্মরক্ষায় অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা পিছু হটেন। হামলায় পুলিশের দুই সদস্য এবং তাঁদের বহনকারী একটি স্পিডবোটের চালক আহত হন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনার দেবুয়া এলাকায় নৌ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত রোববার মেহেন্দীগঞ্জের দুজন প্রভাবশালী ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে।

মৎস্য বিভাগ বলছে, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা, বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন-সংলগ্ন এলাকার কীর্তনখোলা নদী ইলিশের ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের অংশ হওয়ায় প্রজননের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব এলাকায় মা ইলিশের বিচরণ বেশি হওয়ায় অসাধু জেলেরা সেখানে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরেন। প্রতিবছরই নিষেধাজ্ঞার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলেরা রাতের আঁধারে নদীর এসব অংশে ব্যাপক হারে মা ইলিশ নিধন অব্যাহত রাখেন। এঁদের নিবৃত্ত করতে গেলেই নদীতে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, হিজলা উপজেলার হরিণাথপুর, শাওরা সৈয়দখালী, চরকিল্লা, অন্তর্বাম, দেবুয়া, কাইসমা, ধুলখোলা, আবুপুর, গঙ্গাপুর, নাছোকাঠি-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ নিধন। একই সঙ্গে বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন-সংলগ্ন নদীতে রাতের জোয়ারে প্রতিনিয়ত অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করে আসছে স্থানীয় একটি চক্র। এঁরা পেশাদার জেলে না হলেও প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাছ ধরেন। তাঁদের ইঙ্গিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, মেহেন্দীগঞ্জের চারদিকে মেঘনার শাখা-প্রশাখা, যেখানে ব্যাপক মা ইলিশের বিচরণ। এই এলাকায় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা কৌশলে শিশুদের দিয়ে ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। শিশুদের দণ্ড দেওয়ার বিধান না থাকায় তাঁরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। এমনকি তিনিও অভিযানে গিয়ে জেলেদের ধাওয়ার শিকার হয়েছেন।

নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, ওই এলাকার বিশাল মেঘনা নদীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নৌ পুলিশের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। কিন্তু এত স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অবস্থা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হিজলা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেল্লাল হোসেন বলেন, অবস্থা বিবেচনায় এখানে পুলিশের আরও ৩৪ জন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের দুটি এলাকায় ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন মেঘনার পাহারায় নিযুক্ত করা হবে।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিচুর রহমান বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল জেলা প্রশাসককে পরিস্থিতি জানানো হলে দুই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৭ দিনে ৩৩৬ জনের কারাদণ্ড

এবার ১৪ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৪ অক্টোবর থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৭৭০টি অভিযান পরিচালিত হয়। পাশাপাশি ৩৫০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়। অভিযানের সময় ৩৬৭টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে আটক লোকজনের কাছ থেকে ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩৩৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২৮ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ইলিশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

শুক নদে মাছ ধরার সুখ

নদীর বাঁধজুড়ে মানুষের ঢল। কেউ দাঁড়িয়ে বাঁধের ধারে, আবার কেউ কোমরসমান পানিতে। চারপাশে জলের ঝপাৎ-ঝপাৎ শব্দ। নানা বয়সের মানুষ জাল ফেলে মাছ ধরছে। এই চিত্র ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুক নদের বুড়ির বাঁধ (জলকপাট) এলাকার। দুই দিন ধরে সেখানে মাছ ধরা চলছে।

শুক্রবার রাতে খুলে দেওয়া হয় জলকপাটের দরজা। পানি কমে গেলে শনিবার ভোরে হাতে হাতে ফিকা জাল নিয়ে পানিতে নেমে পড়েন স্থানীয় লোকজন। শুরু হয়ে গেছে মাছ ধরার উৎসব। মাছ ধরার এ উৎসব ঘিরে এলাকাটি পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। প্রতিবছর দু-তিন দিন ধরে এখানে মাছ ধরার উৎসব চলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচসুবিধার জন্য শুক নদের ওপর বুড়ির বাঁধ নামে একটি জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে। জলকপাটে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়ে। এসব পোনা যাতে কেউ ধরতে না পারেন, তা দেখভাল করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। অক্টোবরের শেষের দিকে সেখানে মাছ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জলকপাট নির্মাণের পর থেকে সেখানে মাছ ধরার উৎসব চলে আসছে। এতে যোগ দেন আশপাশের গ্রাম ও শহর থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শনিবার ভোরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে, আবার কেউ পানিতে দাঁড়িয়ে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। ভিড়ের কারণে একজনের জাল অন্যজনের জালের ওপরে পড়ছে। আর তা নিয়ে চলছে হাসি-তামাশা। এসব দেখে সদর উপজেলার আখানগর গ্রামের মহসিন আলী বললেন, ‘এইঠে যতলা লোক মাছ মারছে বাঁধের পানি ফাঁকা পাওয়া জাসেনি। জাল ফেলাবা গেলেই অন্যের জালের ওপরত পড়ছে।’

এসব বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকে আবার কলার ভেলায় ঘুরে ঘুরে মাছ ধরছেন। বাঁধের ওপরে বসেছে খাবার, ফল ও খেলনার দোকান। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল নিরাপদে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী গ্যারেজ। সেখানে প্রতিটি বাইসাইকেলের জন্য ১৫ ও মোটরসাইকেল রাখতে ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়াসিন আলী বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সকালে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন কেজি ছোট মাছ ধরতে পেরেছি। তবে এবার পানিতে কচুরিপানা থাকায় জাল ফেলতে সমস্যা হচ্ছে।’

অনেক ব্যবসায়ী মাছ কিনে বাঁধের ওপর বিক্রি করছেন। শহর থেকে আসা মানুষজন সেসব মাছ কিনে নিচ্ছেন। আবার অনেকে এখান থেকে মাছ কিনে শহরের বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বনাথ দাস নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময়ে মাছ কিনতে চলে আছি। আজ ১৬ হাজার টাকার ছোট মাছ কিনেছি। এগুলো শহরের বাজারে নিয়ে যাব।’

প্রতিবছর আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সকালে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন কেজি ছোট মাছ ধরতে পেরেছি। তবে এবার পানিতে কচুরিপানা থাকায় জাল ফেলতে সমস্যা হচ্ছে।

পুরোনো ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. ইউসুফ জানালেন, এই বাঁধের পানিতে বোয়াল, বাইম, শোল, ট্যাংরা, খলসে, পুঁটি, টাকি, মলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ বেশি পাওয়া যায়। তবে অনেকের জালে আবার রুই-কাতলা ধরা পড়ে।

প্রতিবছর এ সময় ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রমপাড়া এলাকা থেকে জাল হাতে এখানে চলে আসেন মনিরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘মাছ ধরার এই উৎসবে অনেক দিন দেখা নেই—এমন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। আমরা এটাকে মিলনমেলাও বলে থাকি।’

সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণাংশু দত্ত বলেন, ‘পানি ছেড়ে দিলে বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরা উৎসবে পরিণত হয়। আমরা যুগের পর যুগ এ উৎসব ধরে রাখতে চাই।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা থেকে বাঁচতে ৬ ফুট দূরত্ব যথেষ্ট নয়

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে থাকা অন্যান্যরা বাতাসের মাধ্যমেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনাভাইরাস।

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কয়েক ঘন্টা ধরে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে এই ভাইরাস। সোমবার সিডিসির সর্বশেষ নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, কম বায়ু চলাচল করতে পারে এমন ঘরে কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির উপস্থিতি ৬ ফুট দূরের অন্য ব্যক্তিদেরকেও সংক্রমিত করতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ৬ ফুট দূরত্বে থেকেও করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ পরিসরে বায়ুর মাধ্যমেই মূলত করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের দাবি, ভাইরাসের অতি সূক্ষ কণা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দেশেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। যদিও লোকজনকে মাস্ক পরিধান এবং ৬ ফুট সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ এই সতর্কতা মানুষের মধ্যে নতুন করে আরও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ করে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, স্কুল, শপিংমল খোলার যে তোড়জোড় চলছে তা কতটা নিরাপদ হবে তা নিয়েও শঙ্কা কাটছে না। সিডিসি সোমবার তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করেছে।

সেখানে বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ৬ ফুট সামাজিক দূরত্বের কথা মেনে চলতে বলা হলেও সিডিসি বলছে এই দূরত্বেও সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনায় মৃত্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছে নেই কোনো দেশ। সম্প্রতি দেশটির ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সিডিসি।

গত এক মাসের তুলনায় গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ছাড়াও হোয়াইট হাউসের ডজন খানেক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল চালু হয়ে গেছে। এদিকে, ফ্লোরিডায় রেস্টুরেন্ট এবং অন্যান্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com