আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ছাদবাগানে নিরাপদ শাকসবজি

নিরাপদ সবজি করব চাষ, পুষ্টি মিলবে বার মাস- শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে সবজি মেলা ২০১৯ জানুয়ারি ২৪-২৬ তারিখ শুরু হচ্ছে। কৃষিকথার গ্রাহক হয়েছিলাম ১৯৯৫ সালের দিকে আমি যখন ছাত্র। কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্তাব্যক্তিদের অনুরোধ ও আমার আগ্রহ মিলে আধুনিক কৃষির এক আশাব্যঞ্জক কৃষি সেক্টর ছাদবাগানে নিরাপদ সবজি চাষ বিষয়ক খুঁটিনাটি অনেকেই জানেন শুধু সবাইকে এর চাহিদা ও গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য এ লেখা।

ঢাকা শহরে কমপক্ষে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ছাদ রয়েছে (সাড়ে চার হাজার হেক্টরের বেশি) যা দেশের কোন একটি উপজেলার সমান বা বেশি। যেখানে বাসস্থান, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত, ব্যাংক, শপিংমল, কনভেনশন সেন্টার ইত্যাদি অধিকাংশ জায়গা দখল করে আছে। এই পরিমাণ জায়গা কোনো অবস্থাতেই ছোট করে দেখার উপায় নেই। ব্যক্তিপর্যায়ে বা একক প্রধানের বা সমিতির নিয়ন্ত্রণে বিধায় এসব স্থান সবুজের আওতায় বিশেষ করে সবজি-ফল চাষের আওতায় নিয়ে আসা অধিকতর সহজ ও নিরাপদ। বিল্ডিং কোডে ২০% সবুজ থাকার কথা রয়েছে (যা ছাদবাগান নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো ও পলিসি মেকারের ইচ্ছার প্রতিফলন) যেটি পুরোপুরি অনেক জায়গায় উপেক্ষিত থাকে।  ঢাকা শহর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অতি দ্রুত হিট আইল্যান্ডে (Heat Island) পরিণত হচ্ছে, যার পরিণাম পরবর্তী প্রজন্মকে ভোগ করতে হবে।


শহরের উত্তপ্ত আইল্যান্ড (Heat Island) নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব কমানোর উপায় :
প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সবুজ ঢাকা


প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সবুজ ঢাকা বাস্তবায়নই একমাত্র পারে ঢাকাকে বসবাসের যোগ্য রাখতে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান মেয়র জামাল মোস্তফা সবুজ কারিগর হিসেবে কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ করছে বেশ কিছু শহুরে কৃষিসহায়ক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন- গ্রীন সেভার্স গাছ ও ফসলের হাসপাতাল নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে সেবা ও সবুজ করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও প্রায় ২০০ প্রতিষ্ঠান ছাদবাগানের বীজ, জৈবসার, কলম ইত্যাদি প্রদানসহ তাদের কার্জক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ছাদবাগানের একটি আবশ্যকীয় ও জনপ্রিয় কম্পোনেন্ট হলো- নিরাপদ সবজি আবাদ, যা একটি চ্যালেঞ্জও। ছাদবাগানিদের নিরাপদ সবজি খাওয়ার আকাঙ্কা থেকে সবজি-ফসল চাষে শহুরে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।


ছাদবাগান বিষয়ক গবেষণার হালচাল : ছাদবাগানে সবজি ও কৃষি ফসল আবাদ নিয়ে কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় ১০০টি পরিবার নিয়ে জরিপে দেখিয়েছে ছাদবাগানিদের ৪১% তরুণ, ৩০% মধ্যবয়সী এবং ২৮% বয়স্ক মানুষ। ফসলের মধ্যে অর্নামেন্টাল, ঔষধি, ছোট হার্বজাতীয় ফসলের চাষাবাদ করতে পছন্দ করেন। ২য় স্থানে ফল এবং ৩য় স্থানে সবজি আবাদের পরিমাণ। একটি পরিবারের উন্মুক্ত ও খালি স্থানে যে কোনো পাত্রে নিরাপদ সবজি চাষ পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।


সবজি চাষের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদ বা জৈবভাবে সবজি বা ফল চাষ করা । নিরাপদ সবজি চাষে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো জেনে রাখা ভালো-
 

মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা : ট্রাইকোডার্মা মিশ্রিত সার, বায়োচার ইত্যাদি মাটি শোধন বা হাইজিন করতে ভালো উপাদান।


জৈব সার : ভার্মি কম্পোস্ট, রান্নাঘর ও খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ দিয়ে বানানো সার, চা-কম্পোস্ট, ডিম খোসা ভাঙা মিশানো, নতুন মাশরুম কম্পোস্ট (পটাশ ও ফসফরাস আধিক্য), নিম খৈল, সরিষা খৈল ইত্যাদি ছাড়াও যে কোনো বায়োলজিক্যাল কম্পোস্ট (ব্যাকটেরিয়াবিহীন) ব্যবহার করা যেতে পারে।


রোগ-পোকামাকড় দমন : নিরাপদ সবজি চাষে রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করতে হবে নিয়ম মেনে; শাকজাতীয় সবজিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করলেও চলে কিন্তু ফলজাতীয় সবজি চাষে সবজি আহরণের কমপক্ষে ২০ দিন আগে থেকে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করা।


পোকা দমনে ফ্লাইং ইনসেক্টের জন্য ফেরোমন ট্রাপ, সোলার লাইট ট্রাপ (কারিগরি সহায়তার জন্য ডিএই, এআইএস, ফ্যাব-ল্যাব শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ করতে পারেন), আঠালো (Sticky trap) ট্রাপ, পেঁয়াজ পাতার ও ছোলা পেস্ট বা নির্যাস, রসুন, গাঁদা ও চন্দ্রমল্লিকার (সর্বাধিক কার্যকরী-ফুলের দোকানে ফেলে দেয়া ফুল সংগ্রহ করে) ফুলের নির্যাস ভালো কাজ করবে।


পার্চিং : ছাদবাগানে পাখি বসার জায়গা করে দেয়া ভালো। বাগানের ফল-সবজি তখনই পাখি খাবে যখন তা নিরাপদ ও বিষমুক্ত থাকবে। এরা অনেক পোকামাকড়ও খাবে। পাখিকেও খেতে দিন তাহলেই তো নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদনের সাথে সাথে টেকসই পরিবেশ রক্ষা হবে সবার জন্যই।  


অলটারনেটিভ চাষাবাদ : একই স্থানে একই পরিবারের সবজি (পরিবর্তন করে চাষ) যেমন- টমেটো, বেগুন, আলু পাশাপাশি না করা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি ইত্যাদি একসাথে চাষ না করা।
 

মিশ্র-ফসল : একই সাথে একটি বেডে ফল গাছের ড্রামে বা প্লেন্টার বক্সে শাকসবজি, ঔষধি ও গাঁদা ফুল চাষে ফলন বাড়বে। উদাহরণস্বরুপ- টমেটো-গাদাফুল-গাজর-ব্রকলি-লেটুস-তুলসী/পুদিনা- এই ফরমেটে প্লান্টার বক্স বা পারমানেন্ট/সেমি-পারমানেন্ট বেডে লাগালে রোগ-পোকামাকড় আক্রমণ কম বা হবেই না। এতে নিরাপদ চাষাবাদে কোনো রাসায়নিক বিষ ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। একই স্থান থেকে বেশি উৎপাদন করার চেষ্টা করা কারণ সকল গাছ মাটির একই স্তর থেকে খাদ্য-উপাদান গ্রহণ করে না। এতে সারসহ অন্যান্য উপাদানের সঠিক ও টেকসই ব্যবহার ত্বরান্বিত করবে।


কোন জায়গা খালি না রাখা : আমাদের দেশে সব মৌসুমে সব স্থানে সব সবজি ও ফল চাষ করা সম্ভব শুধু সঠিক মানুষ ও প্রতিষ্ঠান থেকে পরামর্শ নিতে হবে। উদ্যানতত্ত্ব সেন্টার (হর্টিকালচার সেন্টার), কৃষি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখান থেকে যে কোনো সমস্যার সমাধান পাবেন। প্লাস্টিক বোতল না ফেলে যে কোনো সবজি-ফল-ফসলের বীজ চারা লাগান, নিজেই নিজের অক্সিজেন ফ্যাক্টরি স্থাপন করা যায়।
 

রাস্তায় সবজি লাগান : বাসা, এপার্টমেন্ট, রাস্তার আইল্যান্ডসহ সব খালিস্থানে শাকসবজির বীজ ফেলা, কেউ না কেউ তো খাবে, খাক না; নিজের শহরকে নিজেরাই সবুজে রঙিন করে তুলতে পারি।
ছোট ছোট বাগানই বাণিজ্যিক বাগান : কোটি মানুষের শহরে সকলে একটু একটু করে ফল-সবজি চাষ করতে থাকলে নিরাপদ ফসল আবাদ আন্দোলনে রূপ নেবে এবং সামগ্রিকভাবে একটি বৃহৎ সবজি কারখানা তৈরি হবে। অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুকে গ্রুপ করে নিরাপদ সবজি চাষের তথ্য ও চাষাবাদের সব উপাদানের উৎস আদান-প্রদান করে বাণিজ্যিক বাগানে পরিণত করা যেতে পারে।


ছাদবাগান ব্যবস্থাপনা : সঠিকভাবে ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং শহুরে কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে ছাদবাগান করলে ছাদের ক্ষতি তো হয়ই না বরং টেকসই সবুজ আচ্ছাদন অক্সিজেন সরবরাহ করে বাসস্থান-অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে আরো আরামদায়ক ও শান্তিময় রাখবে।


আধুনিক কৃষি পদ্বতিতে নিরাপদ আবাদ : বারান্দা, বেলকনি, ছাদ সব স্থানে মাটিবিহীন চাষাবাদ (হাইড্রোপনিক), অটো-সেচ ড্রিপ সেচ পদ্ধতিতে ভার্টিক্যাল গার্ডেন (৩ ফুট জায়গায় ২৪টি সবজি চাষ), আলাদা সেচ সুবিধাসহ ব্যারেল গার্ডেন, একত্রে মাছ-সবজি চাষ (একুয়াপনিক্স), বোতল-গার্ডেন, স্মার্ট ডিভাইস মেসেজ অপসনসহ ফার্মিং, ইনডোর ফার্মিং প্রোটেকটিভ চাষাবাদ ইত্যাদি আধুনিক ও নিরাপদ সবজি চাষ এখন এ দেশে অনেকেই করছে। সব ফার্র্মিংয়ের সহায়তার জন্য কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগাযোগ করতে হবে।


ছাদবাগান বিষয়ক প্রশিক্ষণ : গবেষণায় জানা যায়, ঢাকা শহরের ৭৬% ছাদবাগানি প্রশিক্ষণ নিতে চায়। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার জন্য আপনার নিকটস্থ কৃষি অফিস হর্টিকালচার সেন্টার ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগসহ ফেসবুক গ্রুপগুলো পরামর্শ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান করা যায়।


সবজি মেলা : প্রতি বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী সবজিমেলা করে থাকে যেখানে কৃষি সেক্টরের সব প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। মেলা ছাড়াও রোডশো, পরামর্শ বুলেটিন, ছাদবাগান লিফলেট ইত্যাদি ছাদবাগানি ও আগ্রহী শহুরে কৃষককে টেকসই নিরাপদ সবজি চাষে আরো উৎসাহিত করবে।


নিরাপদ ছাদবাগানের নিরাপত্তা : ছাদ কার্নিশ বা ব্যালকনিতে পটে বা টবে ফুল-ফল-সবজি আবাদে সতর্কতা অবলম্বন করুন যাতে বিল্ডিং বা এপার্টমেন্টের নিচ দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারী দুর্ঘটনার শিকার না হন।

পরিবেশ

করোনা থেকে বাঁচতে সাপের মাংস!

সাপের মাংস খেলে নাকি করোনা হয় না! তাই করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাপ ধরে তার মাংস খেয়ে আসছেন ভারতের তামিলনাডুর এক ব্যক্তি। ভাদিভেল নামের ওই ব্যক্তির দাবি, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সাপ ও অন্যান্য সরীসৃপের মাংস নাকি মহাওষুধ।

বৃহস্পতিবার ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাপ ধরে কামড়াচ্ছেন ভাদিভেল। সেই সঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সাপ খাওয়া উচিত। তাই তিনি সাপ খাচ্ছেন।

বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের নজরে আসলে তাকে আটক করে পুলিশ। সাড়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয় তার।

পরে প্রশাসন জানায়, এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ। এমন কাজে উৎসাহ দেয়াটাও গুরুতর অপরাধ। যদিও আটক ভাদিভেলের দাবি, ছবিতে দেখানো সাপটি মৃত ছিল।

তবে অনেকেই বলছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ ছিল। কিছু স্থানীয় তাকে এমন কাজে উৎসাহ দিয়ে আসছিল। যারা ওই ব্যক্তিকে উসকানি দিয়েছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নিম-তুলসিপাতার মাস্ক পরে ঘুরছেন ভারতীয় সাধু

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। করোনার কবল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মাস্কই ভরসা। আর সেই মাস্ক পরেই সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক সাধু। নিম-তুলসিপাতা আর দড়ির সমন্বয়ে তৈরি মাস্ক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি ইন্টারনেটে তার সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক সাধু মুখে নিম-তুলসিপাতার তৈরি ‘আয়ুর্বেদিক মাস্ক’ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বাজারে চলমান সূতি, সার্জিক্যাল কিংবা এন ৯৫ মাস্কের পরিবর্তে তিনি কেন এমন মাস্ক পরেছেন জানতে চাইলে ভিডিওতে তিনি বলেন, তুলসি, নিম দুইটাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং জীবাণুনাশক। তাই অনেক চিন্তা-ভাবনার পর নিম ও তুলসিপাতা দিয়ে তিনি এই মাস্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভারতের একজন সরকারি কর্মকর্তা রুপিন শর্মা ব্যতিক্রমী এই মাস্কের ভিডিওটি শেয়ার করেন। তবে আদৌ ওই মাস্ক করোনাভাইরাস রুখতে সাহায্য করে কি-না সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার ওই টুইট ইন্টারনেটে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে তার রিটুইটও করেছেন। হু হু করে বইছে কমেন্টের ঝড়।

দেশীয় সামগ্রীতে তৈরি মাস্ক মন ছুঁয়েছে অনেকে। কেউ কেউ সাধুকে ‘আত্মনির্ভর’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে তার মাস্ক সাড়া ফেললেও ভাইরাস প্রতিরোধে তা কেমন কার্যকর ভূমিকা রাখবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

এ যেন ‘ডিম গাছ’

রঙ্গন গাছে একসঙ্গে অনেকগুলো ফুল ধরবে, এমনটাই তো হওয়ার কথা। কিন্তু না, ওই গাছে ফুল না ধরে যেন ডিম ধরেছে! আর এই কাজটি করেছে রাতা।


রাতা রহমান। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমানের একমাত্র মেয়ে। পড়ে শেরেবাংলা নগর গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগে। স্কুল লম্বা সময় ধরে বন্ধ। তাই মা-ভাইসহ অবস্থান করছে বাবার কর্মস্থল কুমিল্লার শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর এলাকায়। সেখানে নানা রকম সৃজনশীল কাজ করে চলেছে সে।

jagonews24

আসল ঘটনা হলো বাসায় যে ডিম খাওয়া হয়, তার খোলস ঝুলিয়ে দিচ্ছে ফুলগাছের কাণ্ডে। শুরুতে দেখলে যে কেউ অবাক হবেন। ভাববেন, আসলেই বুঝি গাছে ডিম ঝুলে আছে! অনলাইন ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে গাছের ডালে ডালে নান্দনিক কারুকাজ, ছবি আঁকা, বাবার সঙ্গে ছুটির দিনে শাকসবজি চাষ ইত্যাদি করে এখন সময় পার করছে রাতা।

রাতা রহমান জানায়, ব্যতিক্রম কিছু করতে পারলে তার ভালো লাগে। অলস সময়ে তাই ময়নামতি জাদুঘরের রঙ্গন গাছের ডাল ছাঁটাই করে ডিমের খোসা লাগিয়ে দিয়েছে সে। এতেই দূর থেকে মনে হবে যেন গাছটিতে ডিম ধরেছে!

jagonews24

রাতার বাবা ড. আতাউর রহমান বলেন, ‘ও তখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হলো। সেখানেও রাতা অদ্ভুত ঘটনা ঘটাল। সে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকল। শিশু বঙ্গবন্ধু হাফপ্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা। বঙ্গবন্ধুর অবমাননা হয় কি-না, ওই ভয়ে ছবিটি জমা দিতে চাইনি। পরে চিন্তা করলাম, ও তো শিশু। শিশুর শিশু মনে যা ধরেছে, তা-ই এঁকেছে। পরে তার মায়ের পরামর্শে জমা দিলাম। এ ছবি নিয়ে তোলপাড় হলো। রাতা ওই ছবির জন্য প্রথম স্থান অর্জন করে। শিল্পী হাশেম খান তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কুয়াকাটায় ইলিশের পেটে রেস্টুরেন্ট

সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ছয় বছর আগে গড়ে উঠেছে ইলিশের পেটে রেস্টুরেন্ট। এক সময় ‘ইলিশ পার্ক অ্যান্ড ইকো রিসোর্টের’ এ রেস্টুরেন্টে প্রচুর কাস্টমার ও দর্শনার্থী ভিড় থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটি এখন বন্ধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দুই বিঘা জমির ওপর ইলিশ পার্ক অ্যান্ড ইকো রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়। এর ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘ইলিশ রেস্টুরেন্ট’। যেটির দৈর্ঘ্য ৭২ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ ফুট। এ রেস্টুরেন্টের ধারণক্ষমতা ৫০ জনের অধিক। এখানে ১৫-২০ রকমের ইলিশ, ৩০ রকমের ভর্তা আর অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের আইটেম রয়েছে।

jagonews24

রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সামুদ্রিক মাছগুলো গ্রাহকের চাহিদার ওপর কেনা হয়। পানি ছাড়া কোনো খাদ্য দ্রব্যই ফ্রিজিং করা হয় না।

তিনি জানান, আমাদের এ পার্ক অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে কোনো প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করা হয় না। চা বা কফি দেয়া হয় নারিকেলের মালায় এবং খাবার পরিবেশন করা হয় মাটির শানকিতে।

রেস্টুরেন্টের খাবারের মূল্য তালিকায় দেখা যায়, সরষে ইলিশ স্পেশাল ১৮০ টাকা, ইলিশ স্পেশাল সাইজ ১৫০, ইলিশ ভুনা ১২০, ইলিশ কারি ১২০, নোনতা ইলিশ ১২০, সবজি ইলিশ ১২০, ইলিশ ডাল ১০০ থেকে ১২০, ইলিশ নরমাল সাইজ ১০০, ইলিশ ফুল ১ হাজার টাকার মধ্যে (৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের) এবং ইলিশ বারবিকিউ ১ হাজার টাকা। তবে ওজনভেদে দাম কিছুটা বেশি-কম হয়।

jagonews24

এখানে ইলিশ পার্কে রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি থাকার জন্য রয়েছে সাম্পান, লাভ বার্ডস, হানিমুন, সুইটমুন, লেক ভিউ, বর্ষা, উডেন নামের দৃষ্টিনন্দন সাতটি কটেজ, যেখানে ৩৫-৪০ জন রাতযাপন করতে পারেন। এ ছাড়া শিশুদের জন্য রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থা।

কুয়াকাটা ট্যুরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম জহির বলেন, আমরা যে ট্যুরগুলো পরিচালনা করি তার বেশিরভাগ ট্যুরিস্টই এ ইলিশ পার্কটি পছন্দ করেন। নিরিবিলি পরিবেশ ও ইলিশ রেস্টুরেন্ট দেখতেই মানুষ এখানে আসেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আমের দেখা মিলল এবার শেরপুরে

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আম হলো ‘মিয়াজাকি’ বা সূর্যডিম আম’। বাহারি রঙের দৃষ্টিনন্দন এই আমের প্রজাতিটি জাপানের মিয়াজাকি অঞ্চলের। এই আমটি শেরপুরে চাষ করেছেন শেরপুর জেলা শহরের নতুন বাজার খরমপুর মহল্লায় প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ ইবনে সাদিক শাহিন। বাসার ছাদে শখ করে লাগানো গাছটিতে ফল এসেছে।

মিয়াজাকি আম পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ আমের প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই আম চাষ হচ্ছে। এই আম নেট দুনিয়ার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২০১৭ সালে, যখন জাপানের ফুকুওকা শহরের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নিলামে এক জোড়া আমের দাম ওঠে পাঁচ লাখ জাপানি ইয়ান। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ওপরে।

প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ ইবনে সাদিক শাহিন বলেন, ‘শখ করে ৭-৮ মাস আগে মিয়াজাকি জাতের আমগাছটি বাসার ছাদে লাগিয়েছিলাম। ফলনও এসেছে ভালো। গাছটিতে পাঁচটি আম ধরেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাগান আকারে যদি এটি চাষ করা যায় তাহলে ভালো আয় করা সম্ভব। বর্তমান বাজারে এর চাহিদা অনেক ও আন্তর্জাতিক বাজারেও বেশ কদর রয়েছে। যার ফলে মিয়াজাকি চাষে উচ্চমূল্য পাওয়া সম্ভব।’

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মিয়াজাকি আমের চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরী।

jagonews24

মহালছড়ির ধুমনিঘাট এলাকায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে ‘ক্রা এএ এগ্রো ফার্ম’ গড়ে তুলেছেন কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরী। ওই ফার্মে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে শখের বসেই মিয়াজাকি আমের চাষাবাদ শুরু করেন তিনি।

পাহাড়ের ঢালুতে সারি সারি মিয়াজাকি জাতের আমের গাছ। প্রতিটি গাছের বয়স তিন থেকে চার বছর। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে মিয়াজিক বা সূর্যডিম আম। প্রতিটি গাছে ৩০-৪০টি পর্যন্ত আম দেখা গেছে।

প্রতিটি আমের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম। পুরো আম লাল রঙে মোড়ানো। রঙিন এই আম দেখতে অনেকেই বাগানে ভিড় করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘সূর্যডিম বা মিয়াজাকি’ হলো জাপানিজ আম। বিশ্ব বাজারে এটি ‘রেড ম্যাংগো’ নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। জাপানিজ এ আমটির স্বাদ অন্য আমের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি। আমটি খেতে খুবই মিষ্টি। এর গড় ওজন প্রায় ৭০০ গ্রামের মতো। বিশ্ব বাজারে এর দাম প্রায় ৭০ ডলার বা ৬ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি ১০ গ্রাম আমের দাম এক ডলারের মতো। অনেক কৃষক নতুন এ জাতের আমচাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com