আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

ছাগল পালন করে সবিতা রানীর দিন বদল

ছাগলের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার : প্রথম পর্ব
ছাগল পালন করে সবিতা রানীর দিন বদল

ঝিনাইদহে চলছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ছাগল পালন। উন্নত জাতের ব্লাক বেঙ্গল ছাগল লালন-পালন করে সবিতা রানী অধিকারী ও রাধা পদ অধিকারী ঝিনাইদহে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই দম্পতি। তাদের দেখাদেখি ও উৎসাহে ওই গ্রামের অন্যান্য পরিবারগুলোও আস্তে আস্তে ঝুঁকে পড়ছে ছাগলের খামার করতে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার শৈলমারী গ্রামের ছবিতা রানী জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। গরীব হওয়ায় অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে চলছিল সংসার। তাই তখন থেকেই দু-জনে শুরু করেন ছাগল পালন।

রথমে একটি দেশীয় প্রজাতির ব্লাক বেঙ্গল জাতের কালো ছাগল দিয়ে শুরু হয় ছাগল পালন। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। এখন তাদের ছাগলের সংখ্যা ৮০টি। আর সঙ্গে রয়েছে বাচ্চা ছাগল। প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০টি ছাগল বিক্রি করছেন তারা। ছাগল পালন করে প্রতি বছর তাদের সংসারে আয় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা।

ছাগল পালনের লাভের টাকা দিয়ে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন ২ মেয়েকে, বাড়িতে দিয়েছেন পাকা ঘর। সকাল ৯টা বাজলেই বাড়ির কর্তা ছাড়লগুলো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মাঠে খাওয়াতে। ফেরেন সন্ধ্যার আগ দিয়ে।

ছবিতা রানীর স্বামী রাধা পদ অধিকারী জানান, তাদের মতো শৈলমারী গ্রাম, বেতাই, চন্ডিপুরসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার এখন জড়িত ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালনের সঙ্গে। এই ছাগলের রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। আর পালনে খরচও খুব কম।

ছাগল পালনের সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন
ছাগল পালন করে সবিতা রানীর দিন বদল

ছাগী থেকে বাচ্চা জন্মের পর ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগে একটি ছাগল বিক্রির উপযোগী হতে। এ সময়ের মধ্যে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। আর বিক্রি করা হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা প্রতিটি ছাগল। খরচের তুলনায় লাভ দ্বিগুণ। আর তাই ঝিনাইদহে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালন।

ছাগল খামার ও ছাগল পালনকারী পরিবারগুলোতে পুরুষদের পাশাপাশি বড় ভূমিকা রাখছে বাড়ির গৃহিণীরা। সংসার সামলানোর পাশাপাশি ছাগল পালনের সব ধরনের কাজ করছেন তারা। এতে স্বচ্ছলতা ফিরেছে এর সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোতে।

তবে সবিতা রানীর মেয়ে জানান, তাদের সবচেয়ে বড় খামার হওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদফতর থেকে কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পান না।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান জানান, সমস্যা একটু থাকতে পারে। তবে এগুলো সমাধানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাই পদক্ষেপ নেবেন। আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা দেব।

এগ্রোবিজ

মাটিহীন ঘাস চাষে লাভ বেশি

মাটিহীন ঘাস চাষে লাভ বেশি
মাটিহীন ঘাস চাষে লাভ বেশি

বাঁশের তৈরি মাচা। সে মাচার ওপর স্তরে স্তরে ৩২টি ট্রে সারি বেঁধে পাতা। ট্রেগুলোতে এক ছটাক মাটিও নেই। অথচ প্রতিটি ট্রে থেকে দিনে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৯ কেজি ঘাস। কীটনাশক ও পরজীবীমুক্ত সেই ঘাস খেয়েই খামারের গবাদিপশুর নিরাপদ খাদ্য যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি দুধের উৎপাদনও গেছে বেড়ে।

এভাবে মাটি ছাড়াই ঘাস চাষ করছেন রাজধানীর কল্যাণপুরের খামারি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তাঁর খামারে আছে ২২টি গাভি। বাজারে পাওয়া গবাদিপশুর খাবার কিংবা সাইলেজ খাবারের চেয়ে মাটি ছাড়া ঘাস গাভিকে খাওয়ালে ভালো মানের দুধ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি। বললেন, ‘আমি এক বছর ধরে এভাবে ঘাস উৎপাদন করছি। ফলে আমার গরুগুলোর স্বাস্থ্যও ভালো আছে। দুধের উৎপাদনও বেড়েছে। আমি তো ক্রেতাদের এই দুধ সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছি।’

খামারি মাহবুব উদ্দিন জানান, গবাদিপশুকে হাইড্রোপনিক ঘাস খাওয়ানোর পর থেকে তাঁর খামারের দুধ উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশ। আগে যে গাভি থেকে দিনে ১০ লিটার দুধ মিলত, এখন সেই গাভি দিনে ১২ লিটার পর্যন্ত দুধ দিচ্ছে। পশুর কৃত্রিম প্রজনন ক্ষমতাও বেড়েছে। তবে ভালো মানের ঘাস পেতে খামারিদের ভালো মানের ভুট্টার বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে আনেন। সে বছরের ১৭ মে থেকে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালা করে আগ্রহী খামারিদের কাছে এই প্রযুক্তি হস্তান্তর শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৬৫ জন খামারি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং ১৫ জন খামারি এই পদ্ধতিতে ঘাস উৎপাদন করছেন। বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় খামারি মাহতাব উদ্দিন নিজেই তাঁর খামারে মাটিহীন ঘাস উৎপাদন করছেন।

খামারিরা জানিয়েছেন, বাজারে প্রচলিত খড়, চিটাগুড় ও ইস্টমিশ্রিত গবাদিপশুর খাবার সাইলেজের দাম পড়ে কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা। গবাদিপশু মোটাতাজা করতে অনেকে সেই খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর হরমোন ও স্টেরয়েড মিশিয়ে থাকেন। অথচ হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে প্রতি কেজি মাটিহীন ঘাসের উৎপাদন খরচ পড়ছে নন–এসি পদ্ধতিতে ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকা এবং এসি পদ্ধতিতে সাড়ে ৫ থেকে ৬ টাকা।

গবাদিপশুর খাবার হিসেবে হাইড্রোপনিক ঘাস খুবই উপকারী বলে জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আনয়ারুল হক বেগ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কীটনাশক, কৃমি ও পরজীবীমুক্ত উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ হাইড্রোপনিক ঘাস খেয়ে গবাদিপশু ভালো মানের দুধ দেবে। বাজারে পাওয়া গরুর খাবার বা ঘাসে অনেক সময় কীটনাশক, পোকামাকড় থাকে। তাতে পশু পুষ্টি কম পায়, উৎপাদনও কম হয়। কিন্তু হাইড্রোপনিক ঘাস খনিজ পদার্থ ও নিউট্রিয়েন্টসমৃদ্ধ, একই সঙ্গে ফাঙ্গাস ও ছত্রাকমুক্ত।

মাটিহীন ঘাস চাষে খামারিদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছেন বিসিএসআইআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম। তিনি বলেন, চীন থেকে আনা ট্রে এবং এসি পদ্ধতিতে হাইড্রোপনিক ঘাস উৎপাদন কিছুটা ব্যয়বহুল। তবে কোনো খামারি চাইলে অবশ্য একদম কম খরচেও এই পদ্ধতিতে পশুর খাবার উৎপাদন করতে পারবেন। সেই সফল উদাহরণও আছে। তবে দেশের খামারিদের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাস উৎপাদন সম্পর্কে আরও জানা উচিত।

যেভাবে ঘাস চাষ হয়

বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইট, টিনের তৈরি বা আলো–বাতাসসমৃদ্ধ যেকোনো ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বা নন–এসিতে এই
প্রযুক্তি স্থাপন করা যাবে। সেই ঘরে ড্রয়ার পদ্ধতি বা দেশীয় পদ্ধতিতে বাঁশের তৈরি মাচায় প্রথমে ট্রে বসাতে হয়। এসব ট্রে চীন থেকে আমদানি করে আনতে হয় বা দেশীয় মুরগির খামারে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ট্রেতেও কাজ চলে। গম, ভুট্টা বা বার্লি যেকোনো একটির ভালোমানের বীজগুলো এক দিন পানিতে ভিজিয়ে পরে জাগ দিয়ে মাচার ট্রেগুলোতে পাতা হয়। কক্ষের তাপমাত্রা রাখতে হয় ২২ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর পানি সঞ্চালন পদ্ধতিতে ৮ দিনে বীজ থেকে জন্মানো ঘাসগুলো প্রাণীর খাওয়ার উপযোগী হয়। প্রতি কেজি ভুট্টার বীজ থেকে ৫ থেকে ৭ কেজি ঘাস হয়। প্রতি ৩০০ বর্গফুট জায়গায় ৮০টি ট্রে রাখলে দিনে ১৫০ কেজি মাটিহীন ঘাস উৎপাদন সম্ভব। ম্যাট আকারে সে ঘাস তুলে গবাদিপশুকে খাওয়াতে হয়।

বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা মাটিহীন ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক ও খামারিদের সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আকারে প্রযুক্তিটি স্থাপনে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাগবে। তবে প্রযুক্তিটির কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কোনো খামারি নন–এসি পদ্ধতিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে মাটিহীন ঘাস চাষ করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

৯০ টাকার কলায় ১৪ টাকা কর

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বান্দরবানের থানচিতে কৃষকেরা আকার ভেদে এক ছড়া কলা বিক্রি করেন ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। কিন্তু সেই কলা ট্রাকে পরিবহন করে শহরে আনার সময় চার দফায় কর দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। এতে প্রতি ছড়া কলায় কর দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৪ টাকার মতো। কেবল কলা নয়, থানচিতে উৎপাদিত সব কৃষিপণ্য পরিবহনের সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চার দফা কর আদায় করা হয়। এতে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কৃষিপণ্য কিনে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। করের বোঝা এসে পড়ছে দরিদ্র কৃষক ও বাগানিদের ওপর। 

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত উদ্যোগে কেবল জেলা পরিষদের কর আদায়ের সরকারি নির্দেশনা আছে। তবে থানচিতে প্রতি ট্রাক কৃষিপণ্যের জন্য প্রথমে এক দফা কর আদায় করে জেলা পরিষদ। এরপর উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে আরও এক দফা কর দিতে হয়। বান্দরবান জেলার সীমানা পার হওয়ার সময় সুয়ালক এলাকায় আবারও জেলা পরিষদ ও পৌরসভাকে দুই দফা কর দিতে হয়। সব মিলিয়ে ট্রাক প্রতি কৃষিপণ্যের জন্য কর আদায় হয় সাড়ে নয় হাজার টাকা। বাড়তি এই করের কারণে ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য কিনছেন কম দামে। এতে ন্যায্য দাম থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। 

উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতি ট্রাক কলা, কাজুবাদাম, জাম্বুরা, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের জন্য জেলা পরিষদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ ৪ হাজার টাকা নিচ্ছে। এতে এক ট্রাক কৃষিপণ্যের জন্য সাড়ে ৭ হাজার টাকা কর থানচি উপজেলায় দিতে হচ্ছে। সেই একই পণ্যের ট্রাক জেলার সীমানা অতিক্রমের সময় সুয়ালকে আবার জেলা পরিষদ ও পৌরসভা ১ হাজার করে ২ হাজার টাকা আদায় করছে। 

থানচির কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী মাহমুদ আলী ও তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, এক ট্রাক পণ্যে থানচি থেকে চট্টগ্রামে পরিবহন করতে সাড়ে ৯ হাজার টাকা কর দিতে হচ্ছে। একটি ট্রাকে ৭০০ থেকে ৯০০ ছড়া কলা পরিবহন করা সম্ভব। সেই হিসাবে এক ছড়া কলায় সাড়ে ১০ টাকা থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। ভাড়া বাবদে প্রতি ছড়া কলায় ১৫ থেকে ২২ টাকা খরচ হয়ে যায়।

কৃষকদের দাবি, করের টাকা ও ট্রাকের পরিবহন ভাড়া পরোক্ষভাবে দিচ্ছেন পণ্য উৎপাদনকারী কৃষকেরা। কারণ, পণ্য কেনার সময় ব্যবসায়ীরা সেই টাকা বাদ দিয়ে ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেন। এতে কৃষক পণ্যের দাম কম পাচ্ছেন। 

থানচি বাজারের ব্যবসায়ী নুরুল হক বলেছেন, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় কৃষকেরা এখন কৃষি উৎপাদনে মনযোগ দিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে কলা, পেঁপে, জাম্বুরা পাওয়া যায় বেশি। বর্ষা শেষে কলা ছাড়াও আদা, হলুদ, কাজুবাদাম, তিল, তুলা, ভুট্টাসহ কৃষিপণ্য থানচি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। পরিবহন কর কমালে কৃষকেরা আরও বেশি উৎপাদনে উৎসাহী হবেন। 

থানচি উপজেলা সদর বাজারে গত শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, রেমাক্রি, বড়মদক, তিন্দু, বোর্ডিংপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কলা, জাম্বুরাসহ কৃষিপণ্য ছোট গাড়ি ও যন্ত্রচালিত নৌকায় করে বাজারে এনেছেন কৃষকেরা। 

কৃষক মংম্যা মারমা বলেছেন, তিনি রেমাক্রি থেকে কলা নিয়ে এসেছেন। আকার ভেদে প্রতি ছড়া কলা গড়ে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করেন। আগে গড়ে প্রতি ছড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকায় ব্যবসায়ীরা কিনতেন। কিন্তু গত বছর থেকে করের হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও দাম কমিয়ে দিয়েছেন। এতে করের বোঝা কৃষকদের বহন করতে হচ্ছে। 

রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংপ্রু মারমা বলেছেন, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কর আদায়ের দায়িত্ব জেলা পরিষদের। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে করের একাংশ দেওয়ার কথা। কিন্তু জেলা পরিষদ কর আদায় করলেও উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের অংশ দেয়নি। এ জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আলাদাভাবে একসঙ্গে কর আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চার ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের টোলপয়েন্ট প্রায় ২৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামং মারমা বলেছেন, দুটি সংস্থা থেকে কর আদায় করা হলেও অতিরিক্ত করের বিষয়টি সঠিক নয়। সব দিক বিবেচনা করে করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। 

জেলা পরিষদের সদস্য ও কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ক্যসাপ্রু মারমা বলেছেন, জেলা পরিষদেরই কর আদায় করার কথা। তবে উপজেলা পরিষদের কর আদায়ের বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি খবর নিয়ে কী করা যায় তা দেখবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কতোটা জনপ্রিয় হল কুরবানির পশুর অনলাইন হাট?

কতোটা জনপ্রিয় হল কুরবানির পশুর অনলাইন হাট?

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা

কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা
কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা

আর ৩ দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কামারপল্লীগুলোতে চিরাচরিত সেই হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দ এখন নেই। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এবার অনেকেরই পশু কোরবানি দেয়ার সামর্থ নেই। ফলে ব্যস্ততাও নেই চাঁদপুরের কামার শিল্পীদের মাঝে। এ বছর ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

চাঁদপুরে প্রায় ৭শ দোকানে ৪ সহস্রাধিক কামার রয়েছেন। শহরের তালতলা, নতুনবাজার, বাসস্টেশন এলাকা, পুরানবাজার ও বাবুরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কামার শিল্পীরা ছুরি, বটি, দা, চাপাতিসহ ধারালো নানা জিনিস বানাতে কাজ করে যাচ্ছেন। ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই কামার শিল্পীদের কাছ থেকে এসব জিনিস ক্রয় করতেন। আবার কেউ কেউ ঘরে থাকা পুরনো দা, ছুরি ধার করার জন্য আসতেন। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দোকানে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম। প্রতিবছর কোরবানি ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেশি হলেও এ বছর মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দোকানে ক্রেতা তেমন একটা আসছে না।

কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা
কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা

চাঁদপুর শহরের তালতলা এলাকার কামার বিনয় কর্মকার ও গোপাল কর্মকার বলেন, সারা বছর আমরা দা, ছুরি তৈরি করলেও কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। এই সময়টাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি বেচা কেনা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আমাদের বিক্রি ভালো হচ্ছে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের সংখ্যা অনেক কম। তারপরও আশা করি ঈদের আগের দিন হয়ত ক্রেতা আসবে।

তারা জানান, বর্তমানে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের মধ্যে প্রতি পিস বটি প্রকারভেদে ৩শ-৮শ, দা সাড়ে ৩শ-৮শ, বড় আকৃতির ছুরি ৪শ-১ হাজার, ছোট আকৃতির ছুরি ৫০-২শ এবং চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৭শ-১২শ টাকায়।

কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা
কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা

দোকানে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, আর ৩ দিন পর ঈদুল আজহা। তাই আগে থেকে কোরবানি দেয়ার জন্য ছুরি, দা কিনতে এসেছি। পাশাপাশি পুরনোগুলোও সান দেয়ার জন্য নিয়ে এলাম। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দা, ছুরির দাম অনেক বেশি রাখছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁদপুর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, চাঁদপুরের আট উপজেলার মধ্যে হাজীগঞ্জে সবচেয়ে বেশি কামারশালা রয়েছে। সেখানে কামার পল্লীতে শত শত কামার কাজ করছেন। আগে অনেকেই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প থেকে ঋণ নিয়েছেন। কেউ ঋণ নিতে চাইলে আমরা তাদের ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করব। আমরা চাই এ শিল্প যেন কখনও হারিয়ে না যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে জাপানে পাতাকপি চাষ

জাপানে পাতাকপি চাষ সর্বাধুনিক পদ্ধতি জানতে ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর বাঁধাকপি, যা পাতাকপি নামে বাংলাদেশে বেশি প্রচলিত। বহু গুণসম্পন্ন এই বাঁধাকপি শুধু সবজি হিসেবে নয়, জুস হিসেবেও খাওয়া যায়। এতে আছে ভিটামিন-এ, বি১, বি২, বি৬, ই, সি, কে, ক্যালসিয়াম, আয়রন, আয়োডিন, পটাশিয়াম, সালফারসহ আরও নানা ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, প্রাচীন গ্রিক দেশে একাধিক রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হত বাঁধাকপির রসকে। বিশেষত কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতে গ্রিক চিকিৎসকেরা এই সবজির উপরই মূলত ভরসা করতেন। একই রকমের চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলতেন মিশরীয় মানুষরাও। তারাও শরীরে টক্সিনের পরিমাণ কমাতে প্রায় প্রতিদিনই বাঁধাকপি খেতেন।

আধুনিক চিকিৎসায় এই সবুজ গোলাকার সবজিটির প্রবেশ ঘটে ইংরেজদের হাত ধরে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ব্রিটিশরাই সারা বিশ্বে বাঁধাকপির জয়গান গেয়ে বেড়িয়েছে। পুষ্টিগুণে ঠাসা এই সবজিটি খেলে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। রক্তে সুগারের মাত্রাকে বেঁধে রেখে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার পথকেও প্রশস্ত করে।

পাতাকপি চাষ ২
পাতাকপি চাষ ২

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম বাঁধাকপিতে রয়েছে ১.৩ গ্রাম প্রোটিন, ৪.৭ গ্রাম শর্করা, ০.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০.০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি ও ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। তা ছাড়া ক্যালসিয়াম ০.৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ৬০০ মাইক্রোগ্রাম, ক্যারোটিন ও ২৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি।

ব্রিটেনের একদল বিজ্ঞানী বলছেন, বাঁধাকপি পাকস্থলীতে গিয়ে যখন হজম হতে থাকে, তখন এগুলো থেকে ক্যান্সার প্রতিরোধী রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয়।

ফ্রান্সিস ক্রিক ইন্সটিটিউটের এই গবেষকরা বলছেন- বাঁধাকপি, ব্রোকোলি বা কেইল শাকের মত কিছু সবজি বাউয়েল বা মলাশয়ের ক্যান্সার ঠেকাতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com