আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

ছাগলের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার : শেষ পর্ব

ছাগলের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার : প্রথম পর্ব
ছাগলের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার : শেষ পর্ব

আজ ছাগলের ব্যাকটেরিয়াজনিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রোগ, লক্ষণ, চিকিৎসা এবং প্রতিকার বিষয়ে শেষ পর্ব আলোচনা করা হলো-

৫. ধনুষ্টংকার
ধনুষ্টংকার মানুষসহ সব গৃহপালিত পশুর ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় দেশে এ রোগ দেখা যায়। ছাগলের সাধারণত খাসি করানো, প্রসব বা অন্য কোন গভীর ক্ষতের কারণে এ রোগ হতে পারে।

লক্ষণ
এ রোগে দেহের বিভিন্ন অংশের মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়। ফলে পশুর দাঁতে কপাট লাগে, মাংসপেশীর কম্পন ও খিচুনি দেখা যায়, প্রস্রাব-পায়খানা হয় না, যেকোন শব্দে চমকে ওঠে, শেষ অবস্থায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়।

প্রতিরোধ
খাসি করানো বা অন্য কোন অস্ত্রোপচারের আগে ধনুষ্টংকারের টিকা দিতে হবে। তাছাড়া স্বাস্থ্যসম্মতভাবে যেকোন অস্ত্রোপচার করতে হবে।

ছাগল পালনে স্টল ফিডিং পদ্ধতি
ছাগলের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার : শেষ পর্ব

প্রতিকার
সাধারণত এ রোগের চিকিৎসায় তেমন ফল হয় না। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে ক্ষতস্থান অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে এবং মাংসে এটিএস ইনজেকশন দিতে হবে। তাছাড়া উচ্চমাত্রায় পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে। মাংসপেশী শিথিল করার জন্য ক্লোরাল হাইড্রেড ও ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ইনজেকশন দিতে হবে।

৬. বাদলা
এ রোগ একধরনের গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। বেশি প্রোটিনযুক্ত খাদ্য এ রোগের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে। তাছাড়া ছাগলের লেজ কাটা, খাসি করানো, পশম ছাটা ও প্রসবকালীন ইত্যাদি ক্ষতের মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশ করতে পারে।

লক্ষণ
এ রোগে আক্রান্ত ছাগল হঠাৎ কোন লক্ষণ প্রকাশ করার আগেই মারা যায়। এ রোগে পায়ের মাংসপেশী আক্রান্ত হয় বলে ছাগল হাঁটতে পারে না বা খুঁড়িয়ে হাঁটে। আক্রান্ত মাংসপেশীতে চাপ দিলে পচপচ শব্দ হয়। জ্বর, ক্ষুধামন্দা, পেটে গ্যাস ও অবসাদ ভাব ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়।

ছাগল পালনে স্টল ফিডিং পদ্ধতি
ছাগলের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার : শেষ পর্ব

প্রতিরোধ
আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মৃত পশু মাটির নিচে পুঁতে রাখতে হবে। প্রতিবছর টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

প্রতিকার
রোগ দেখা দেওয়া মাত্রই এ রোগের চিকিৎসা করা উচিত। অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পেনিসিলিন বা টেট্রাসাইক্লিন দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা করা যায়।

৭. ফুট রট
এর ফলে ছাগলের ক্ষুরের গোড়ায় ঘা হয়। কখনও কখনও সামান্য জ্বর হতে পারে। আক্রান্ত স্থান থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। অনেক সময় ছাগীর ওলানেও এই প্রদাহ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রতিরোধ :
ছাগলের পা নিয়মিত ১০ % জিন্ক সালফেট দ্রবণে চুবানোর মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

ছাগল পালনের সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন
ছাগলের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার : শেষ পর্ব

প্রতিকার
সালফাডিমিডিন, পেনিসিলিন বা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন মাংসে ইনজেকশন করতে হবে। আক্রান্ত পা ৫% কপার সালফেট দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার করে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অয়েন্টমেন্ট দিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিতে হবে।

৮. সালমোনেলোসিস
সালমোনেলা প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। এ রোগের জীবাণু পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে এক ছাগল থেকে অন্য ছাগলে ছড়িয়ে পড়ে।

লক্ষণ
এ রোগে বাচ্চার রক্তযুক্ত ডায়রিয়া বা আমাশয়, প্রচণ্ড জ্বর, খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া এবং ঝিমুনিভাব হয়। বাচ্চাসহ বয়স্ক ছাগলও মারা যেতে পারে এবং ছাগলের গর্ভপাত হতে পারে।

প্রতিরোধ
খামারে ছাগলকে তাজা খাদ্য ও পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে হবে। আক্রান্ত ছাগলকে দ্রুত সুস্থ ছাগল থেকে আলাদা করতে হবে।

প্রতিকার
সালফার জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো, মুখে এবং শিরায় স্যালাইন ইনজেকশন করতে হবে।

ছাগল পালনের সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন
ছাগলের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার : শেষ পর্ব

৯. নিউমোনিক পাসচোরেলোসিস
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। রোগটি সব বয়সের ছাগলে দেখা যায়। ছাগলের খামারে অতিরিক্ত গরম, অধিক ছাগল একসঙ্গে পালন, বাতাস চলাচলে অসুবিধা, পরিবহন ইত্যাদি কারণে এ রোগ বেশি হতে পারে।

লক্ষণ
এ রোগে ছাগলের জ্বর, শ্বাসকষ্ট, খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া, অস্থিরভাব দেখা যাওয়া, এমনকি ছাগল হঠাৎ করে মারাও যেতে পারে। ছাগলের বিভিন্ন জয়েন্ট, ওলান, মেনিনজিস এবং ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

প্রতিরোধ
খামারে ছাগলকে খাদ্যের সঙ্গে টেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। ছাগলের খামারে অতিরিক্ত গরম, অধিক ছাগল একসঙ্গে পালন, বাতাস চলাচলে অসুবিধা ইত্যাদি কারণসমূহ দূর করতে পারলে এ রোগের সংক্রমণ কমে যেতে পারে।

প্রতিকার
এমোক্সিসিলিন বা সিপ্রোফ্লক্সাসিলিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো এবং শিরায় স্যালাইন ইনজেকশন করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রদাহরোধী ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

লাইভস্টক

অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয়ে ঝুঁকি কতটা?

অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নানা আকারের ও দামের গরু
অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নানা আকারের ও দামের গরু

বাংলাদেশে ঈদুল আযহার আর কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে গরুর হাটে যেতে অনেকের অনীহা রয়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরে যাতে কোন ধরণের পশুর হাট বসানো না হয় – সেজন্য জোরালো পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি।

বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠিত। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের হাটে না যাওয়ার জন্যেও পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে অনলাইন শপ। এসব ওয়েবসাইটে নানা দামের গরু বিক্রি শুরু হয়েছে।

অনলাইনে গরু বিক্রি করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ‘ডিজিটাল হাট’ নামের একটি প্লাটফর্ম চালু করেছে, যার সঙ্গে রয়েছে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন।

কিন্তু কোরবানির গরু প্রাণী অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কতটুকু? গ্রাহকদেরই কোন বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিত?

কোরবানির পশুর যোগান দিচ্ছেন যে নারীরা
কোরবানির পশুর যোগান দিচ্ছেন যে নারীরা

কোরবানির গরু কেন অনলাইনে কেনা?

গরু বিক্রির একটি অনলাইন শপ থেকে কোরবানির জন্য একটি গরুর কিনেছেন ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মহসিনউজ্জামান খান।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান মি. খান বলছিলেন, ”করোনাভাইরাসের কারণে বাইরে বের হওয়া কঠিন, নিরাপত্তার একটা ঝুঁকি আছে। গরুর হাটে যাওয়াও অসুবিধাজনক। তাই সবকিছু মিলে এবার অনলাইনে গরু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

আরেকজন সম্ভাব্য ক্রেতা ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মুন্সী বলছেন, ”এই বছর গরুর হাটে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এমনিতেই তো সেখানে অনেক ভিড়-ভাট্টা হয়, বৃষ্টিবাদলে কাদাও হয়। তাই এইবার অনলাইনে গরু কেনার কথা ভাবছি। তবে এখনো যাচাই-বাছাই করছি। কয়েকদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবো।”

অনলাইন শপ থেকে গরু কেনার প্রধান কারণ হিসাবে হাটে যাওয়া বা ভিড় এড়ানোর মতো কারণ তারা উল্লেখ করছেন। বিক্রেতা গরুটি ঈদের আগে আগে বাড়িতে পৌঁছে দেবেন বিধায় এটিও তাদের জন্য সুবিধাজনক বলে তারা মনে করছেন।

কোরবানির পশুর হাটে বিপুল লোকসমাগম হয়।
কোরবানির পশুর হাটে বিপুল লোকসমাগম হয়।

যেভাবে অনলাইনে গরু কেনা যাবে

গরু বিক্রেতা একটি অনলাইন শপ, দেশীগরুবিডি ডটকমের প্রধান নির্বাহী টিটো রহমান জানাচ্ছেন, ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ক্রেতারা বিভিন্ন আকারের ও দামের গরুর ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে পছন্দ করতে পারবেন।

এরপর প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যাবে। ক্রেতা চাইলে ভিডিও-কলের মাধ্যমে গরুর ভিডিও দেখতে পারবেন এবং গরুর পালনকারীর সাথে কথাও বলতে পারবেন।

পছন্দ হলে প্রথমে অর্ধেক টাকা পরিশোধ করতে হবে। ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে এই টাকা জমা করা যাবে। তাহলে গরুটি বুকিং হয়ে গেল।

ঈদের এক-দুইদিন আগে গরুটি সরবরাহ করা হবে। তখন নগদ বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাকি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

অনলাইন ক্রয়ে ঝুঁকি কতটা?

অনলাইনে গরুর মতো প্রাণী কেনার ক্ষেত্রে খরচ অর্ধ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু এরকম ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ছবি দেখে, অনলাইনের মাধ্যমে গরু ক্রয়ের আদেশ দেয়া কতটা নিরাপদ?

মহসিনউজ্জামান খান বলছেন, ”আমি যে ওয়েবসাইট থেকে গরু কিনেছি, তাদের বলেছিলাম যেন আমাকে ভিডিও-কলের মাধ্যমে গরুটি দেখানো হয়। তারা আমাকে দেখানোর ব্যবস্থা করেছেন। তারপরে আমি অর্ডার দিয়েছি।”

গরু বিক্রেতা একটি অনলাইন শপ, দেশীগরুবিডি ডটকমের প্রধান নির্বাহী টিটো রহমান বলছেন, ”আমরা আসলে খামারীদের সঙ্গে ক্রেতাদের সমন্বয়ের কাজটি করছি। এতে একদিকে যেমন খামারীদের সহায়তা করা হচ্ছে, তেমনি ক্রেতারাও প্রচলিত হাটের ঝামেলা এড়িয়ে নিরাপদে গরু কিনতে পারেন।”

এর আগে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গরু কেনার পর, প্রতিশ্রুতি মাফিক কাঙ্ক্ষিত গরু না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কোন কোন গ্রাহক।

তবে টিটো রহমান বলছেন, ”গরুর দাম পরিশোধ থেকে শুরু করে গরু সরবরাহ করা পর্যন্ত সবকিছুর দায়িত্ব আমাদের অনলাইন শপের থাকবে। খামারীদের কাজ থেকে আমরা গরু সংগ্রহ করলেও, পুরো দায়িত্ব থাকবে আমাদেরই। যদি গরুর কান, লেজ কাটা থাকে, রঙ ঠিক না থাকে, তাহলে ক্রেতা গরুটি বদলে নিতে বা রিফান্ড নিতে পারবেন।”

দেশের বিভিন্ন স্থানে খামারে গরু লালনপালন করা হচ্ছে। খামার মালিকদের কাছ থেকে গরু নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলছেন, ”ডিজিটাল হাটে যেসব সদস্যরা অংশ নিয়েছে, তাদের দায়িত্ব আমাদের সংগঠন নিচ্ছে। কারণ এখানে সব জেনুইন খামার ও গরুই বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে। ফলে তাদের পেমেন্ট এবং ডেলিভারির গ্যারান্টি আমাদের অ্যাসোসিয়েশন নিচ্ছে।”

কোরবানির জন্য দেশি গরু কেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোরবানির জন্য দেশি গরু কেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অনলাইনে গরু কেনার সময় কি ধরণের সতর্কতা নিতে হবে?

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলছেন পরামর্শ দিচ্ছেন, শুধুমাত্র ফেসবুক ভিত্তিক বা অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে গরু কেনার আগে ভালো করে যাচাই-বাছাই করে নেয়া উচিত। বিশেষ করে তারা যেন বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট থেকে গরু কেনেন।

”কোন ওয়েবসাইট থেকে কেনার আগে সেটার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে দেখা উচিত। প্রয়োজনে আগের ক্রেতাদের রিভিউ দেখা যেতে পারে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য কিনা সেটাও দেখা উচিত।”

তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, পেমেন্ট করার আগে শর্তগুলো ভালো করে দেখা উচিত, বুঝে নেয়া উচিত যে, তারা সুস্থ গরু পাবেন কিনা। কি শর্তে কীভাবে গরু সরবরাহ করা হবে, সেগুলো বিশেষভাবে বুঝে নেয়া উচিত। প্রয়োজনে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

ই-ক্যাবভুক্ত কোন সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেক্ষেত্রে তাদের অ্যাসোসিয়েশন ব্যবস্থা নিতে পারবে। কিন্তু ই-ক্যাবভুক্ত নয়, এরকম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাদের করার কিছু থাকবে না।

গরুর ক্রেতা মহসিনউজ্জামান খান বলছেন, ”অর্ডার চূড়ান্ত করার আগে আমি ভিডিও কলে ভালো করে গরুটি দেখে নিয়েছি। তারপরে যখন ডেলিভারি দেবে, তখন তো দেখার সুযোগ আছে।”

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান গরু সরবরাহের ক্ষেত্রে আলাদা ডেলিভারি চার্জ ধরে থাকে। আগেই সে বিষয়ে কথা বলে নেয়া ভালো।

কেনার সময়ের তুলনায় ডেলিভারির মধ্যে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধান থাকায় গরুর ওজনের কম বেশি হতে পারে। এসব বিষয়ে বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

অনলাইন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বিক্রয় ডটকম তাদের ওয়েবসাইটে গরু কেনার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে বলেছে, প্রথমেই বিক্রেতার সঙ্গে ভালো করে আলাপ করে বুঝে নেয়া উচিত যে, তারা ভালো অফার দিচ্ছে কিনা। বিক্রেতার কাছ থেকে গরুর ছবি বেশি করে চেয়ে নিয়ে ভালো করে যাচাই করতে হবে, প্রয়োজনে ভিডিও কল করে দেখা যেতে পারে। আরও ভালোভাবে দেখার জন্য সরাসরি বিক্রেতার সঙ্গে দেখা করে বাস্তবে গরু যাচাই করা যেতে পারে। কোন বিক্রেতা যদি গরু স্পষ্ট করে দেখাতে না চান, তাহলে সেরকম বিক্রেতাদের কাছ থেকে গরু না কেনাই ভালো।

এই ক্রয়-বিক্রয় প্রতিষ্ঠানটিতে আরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, গরুর দাম চূড়ান্ত করার আগে লোকাল হাট ও অনলাইন মার্কেট যাচাই করে দাম ঠিক করা উচিত। অতিরিক্ত কম দাম হলে যেমন সন্দেহজনক, তেমনি অতিরিক্ত দাম দিয়ে ঠকা থেকেও নিরাপদ থাকতে হবে। শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পরেই দাম পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো গরুটি হাতে পাওয়ার পর নগদে দাম পরিশোধ করা।

দেশীগরুবিডি ডটকমের প্রধান নির্বাহী টিটো রহমান বলছেন, ”গরুটি সুস্থ আছে কিনা, ওয়েবসাইটটি কতটা নির্ভরযোগ্য, সরকার অনুমোদিত কিনা ইত্যাদি বিষয় দাম পরিশোধের আগেই যাচাই করে দেখা উচিত। সেজন্য দরকার হলে একটু সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা ভালো। অনেক সময় ফেসবুকে অস্বাভাবিক কম দামের গরু বিক্রির অফার পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলোয় পা দিয়ে প্রতারিত না হওয়াই ভালো।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

এবার কোরবানির পশু পরিবহন করবে রেলওয়ে

আসন্ন ঈদুল আজহার কোরবানির পশু পরিবহন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তার দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ আলম। তিনি জাগো নিউজকে জানান, আসন্ন ঈদুল আজহায় বাংলা‌দেশ রেলও‌য়ে কোরবানির পশু প‌রিবহন কর‌তে যা‌চ্ছে। ব্যবসায়ী‌দের সা‌থে আলাপ ক‌রে দিন, রুট ও স্টেশন ঠিক করা হ‌বে। উত্তরাঞ্চল থে‌কে ঢাকা ও চট্টগ্রা‌মে এই সার্ভিস চল‌তে পা‌রে।

এর আগে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেনে করে ঢাকায় আম আনার সেবা চালু করেছিল রেলওয়ে। গত ৫ জুন রাজশাহী থেকে আম নিয়ে ট্রেনের এই যাত্রা শুরু হয়। রহনপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী হয়ে আম নিয়ে ট্রেন দুটি ঢাকায় ঢোকে। আমের পাশাপাশি সব ধরনের শাক-সবজি, ফলমূল, ডিমসহ উত্তরের বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্যও ট্রেনে পরিবহন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল আজহায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কোরবানির পশু পরিবহন করতে যাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হওয়া গরু কি কোরবানির উপযুক্ত? প্রশ্ন তুলেছে বিএসএফ

ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হওয়া গরু কি কোরবানির উপযুক্ত? প্রশ্ন তুলেছে বিএসএফ
গরুর হাটে খুঁটির সাথে সারি করে বাঁধা গরু

কোরবানির ঈদের আগে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচার রুখতে বিএসএফ এক নতুন কৌশল নিয়েছে। পাচার হওয়ার আগে গরুগুলিকে যে অপরিসীম নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়, সেগুলো কোরবানি দেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে বি এস এফ।

কোন গরু কোরবানি দেওয়া উচিত বা অনুচিত, তা নিয়ে কোনও সীমান্তরক্ষী বাহিনী এধরণের বার্তা আগে কখনও দিতে চেয়েছে বলে জানা যায় না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন বিষয়ে ভারতের কোনও বাহিনীর এধরণের মন্তব্য অনুচিত।

একই সঙ্গে গরু পাচারের প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করে, সেইসব রাখালদের উদ্দেশ্যেও তারা বার্তা দিতে চেয়েছে যে – কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে তারা বিএসএফের হাতে ধরা পড়া বা গুলি খাওয়ার মতো বড় ঝুঁকি নিলেও পাচারচক্রের মাথারা আড়ালেই থেকে যায়।

পাচার রোধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসএফ?

ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বলছে প্রতিবারের মতো এবছরও কোরবানির ঈদের আগে গরু পাচার রোধে তারা বেশকিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে, যার মধ্যে আছে পাচারের পরিচিত এলাকাগুলিতে বাড়তি প্রহরা দেওয়া, ইলেকট্রনিক নজরদারি, স্পিড বোটে চেপে নদী অঞ্চলে পাহারা দেওয়া ইত্যাদি।

তারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার একটি বিবরণী সংবাদমাধ্যমের কাছে পাঠিয়েছে বিএসএফ।

তাতে বলা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিএসএফ জেনেছে যে সীমান্ত এলাকায় গরুর হাটে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা খুব দ্রুত চালু করা হবে যেখানে ভারত থেকে পাচার হয়ে যাওয়া গরু বেচাকেনা হচ্ছে।

বিএসএফ বলছে, গলায় কলাগাছ বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে চলছে ভারত থেকে গরুপাচার
বিএসএফ বলছে, গলায় কলাগাছ বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে চলছে ভারত থেকে গরুপাচার

এছাড়াও তারা উল্লেখ করছে, যে পাচারের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই কলার ভেলায় বেঁধে নদীতে গরু ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেগুলি যখন বাংলাদেশের দিকে পাচারকারীরা স্পিড বোটে চেপে নদী থেকে তুলতে যায়, তাতে কখনও কখনও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডসের সম্মতি থাকে।

তবে ওই বিবরণীতে সবথেকে বেশি নজরে পড়েছে যে বিষয়টি, তা হল পাচার হওয়া গরু কোরবানি দেওয়া কতটা উচিত, তা নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্নটি।

বিএসএফের লিখিত বিবরণীতে বলা হয়েছে, “পাচারকারীরা গরুগুলির সঙ্গে পাশবিক আচরণ করে। পাচার করার আগে গরুর শরীরে মাদক মেশানো ইঞ্জেকশান দেওয়া হয়। কোনও সময়ে লেজ কেটে দেওয়া হয়, যাতে গরুগুলি প্রাণপনে দৌড়তে পারে, তাদের অভুক্ত রাখা হয়।”

“এইরকম যন্ত্রণা দিয়ে গরুগুলিকে সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে আসা হয় কয়েকশো কিলোমিটার পায়ে হাঁটিয়ে অথবা ট্রাকে গাদাগাদি করে। এইরকম যন্ত্রণা দেওয়ার পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ীই গরুগুলি আর কোরবানির উপযুক্ত থাকে না,” লেখা হয়েছে ওই বিবরণীতে।

কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গরু পাচারের এই অভিনব পদ্ধতির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল
কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গরু পাচারের এই অভিনব পদ্ধতির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল

‘পাচার হওয়া গরু খাওয়া উচিত নয়’

এ প্রসঙ্গে বিএসএফের দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এস এস গুলেরিয়া অবশ্য ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী যন্ত্রণা দিয়ে যে গরু পাচার হয়েছে, তা কতটা আদর্শ, সেই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি।

তিনি বলেছেন পশুবিজ্ঞান অনুযায়ী ওই ভাবে পাচার হওয়া গরু মানুষের খাওয়া উচিত নয়।

মি. গুলেরিয়ার ব্যাখ্যা,”বাংলাদেশে যখন গরুগুলিকে পাচার করা হয়, তার আগে থেকেই এদের ব্যাপক নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়। তাদের যেভাবে গাদাগাদি করে গাড়িতে চাপিয়ে অথবা বহু কিলোমিটার পায়ে হাঁটিয়ে নিয়ে আসা হয়, তাতে অনেক গুরু আহতও হয়, রক্তাক্ত হয়। সীমান্তে নিয়ে আসার পরে তাদের মাদক মেশানো ইঞ্জেকশান দেওয়া হয়।”

“কখনও তাদের দৌড় করানো হয় বা চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে, পা বেঁধে কলার ভেলায় বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় যেসব গরু বাংলাদেশে পৌঁছায়, সেগুলি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আদৌ মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।”

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মানুষের পাচার হওয়া গরু কোরবানি দেওয়া উচিত না অনুচিত, তা নিয়ে কেন বিএসএফ মন্তব্য করতে গেল – এই প্রশ্নের জবাবে বিএসএফের অবসরপ্রাপ্ত ডি আই জি সমীর কুমার মিত্র বলছিলেন, “হিন্দু ধর্ম হোক বা ইসলাম, ঈশ্বরের কাছে যা উৎসর্গ করা হয়, সেই জীবটির তো সুস্থ, সবল থাকা উচিত। কিন্তু পাচার হওয়ার আগে বা পাচারের সময়ে গরুগুলিকে যে নিষ্ঠুরতা আর পাশবিকতার শিকার হতে হয়, সেগুলি অনেক সময়েই শুদ্ধভাবে উৎসর্গ করার অবস্থায় থাকে না।”

“পাচার হয়ে যাওয়া যে গরুগুলিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে হয়তো বিএসএফ একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই প্রশ্নটা সেদেশের মানুষের মনে ঢুকে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ভারত থেকে গরুর চাহিদা কমবে, তাতে পাচারও কমানো যাবে,” ব্যাখ্যা করছিলেন মি. মিত্র।

সীমান্ত এলাকার মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পদ্মা নদীতে থাকা বেআইনি ঘাটের দখল নিয়ে প্রায়ই প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়
সীমান্ত এলাকার মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পদ্মা নদীতে থাকা বেআইনি ঘাটের দখল নিয়ে প্রায়ই প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়

‘অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলাদেশের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে কীভাবে ঈদ পালন করবে, সেটা নিয়ে ভারতের কোনও বাহিনীর মন্তব্য করা বাঞ্ছনীয় নয়।

“বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী এবং বন্ধু রাষ্ট্র। এমন কোনও মন্তব্য কাগজে কলমে করা ঠিক নয়, যা প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে আঘাত করে, বা তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে উদ্বিগ্ন করে,” বলছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমন কল্যান লাহিড়ী।

“সীমান্তে গরু পাচার সহ সব ধরণের অপরাধ বন্ধ করা নিশ্চয়ই প্রয়োজন। কিন্তু সেটা নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। প্রতিবেশী দেশে কীভাবে ঈদ বা অন্য কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে, তা নিয়ে ভারতের কোনও বাহিনীর মন্তব্য করা অনুচিত। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে একটা থিয়োরি আছে, ‘থিয়োরি অফ নন ইন্টারফিয়ারেন্স।’

“অর্থাৎ অন্য দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি। এটা না মেনে চললে বাংলাদেশের সঙ্গে যে সম্পর্ক আমাদের আছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে,” বলছিলেন মি. লাহিড়ী।

পাচার হওয়া গরু কোরবানি দেওয়ার উপযুক্ত কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করা ছাড়াও বিএসএফের বিবরণীতে যেভাবে পাচারের সঙ্গে বিজিবির পরোক্ষ সহযোগিতা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে, সেটাও বেশ আশ্চর্যজনক।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফ বলে থাকে যে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সর্বকালের সেরা সম্পর্ক এখন রয়েছে। দুই বাহিনীর নিয়মিত বৈঠক হয়। তাই পাচারকারীদের সহায়তা দেওয়ার মতো প্রসঙ্গ সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয় না।

বিএসএফের ডি আই জি মি. গুলেরিয়া বলছিলেন, “বাংলাদেশ সরকার তো আনুষ্ঠানিকভাবেই বলে থাকে যে তারা চায় না যে ভারত থেকে গরু পাচার হয়ে তাদের দেশে যাক। নিজেদের দেশেই তারা গরুপালনে উৎসাহ দিচ্ছে।”

“বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশও সেদেশের সরকারের নীতিই মেনে চলে। কিন্তু এই বেআইনী ব্যবসায় বহু কোটি টাকা জড়িয়ে আছে। ভারত আর বাংলাদেশের মাফিয়ারা তাই সবসময়েই চেষ্টা করে দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে পাচার চালিয়ে যেতে।”

কিন্তু লিখিত বিবৃতিতে গরু পাচারে বিজিবি-র পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নিয়ে যা লেখা হয়েছে, তাতে বিএসএফের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়ার অফিসাররাও কিছুটা বিস্মিত।

এক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়ার অফিসার বলেন যে দুই বাহিনীর বৈঠকে এই প্রসঙ্গ ওঠে ঠিকই, যে বিজিবি যথেষ্ট কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে না, কিন্তু সেসব কথা বৈঠকের কার্যবিবরণীতেও থাকে না। একেবারেই অনানুষ্ঠানিকভাবে সেসব কথা হয়। কিন্তু সেরকম একটি তথ্য কেন লিখিত বিবৃতিতে দেওয়া হল, সেটাই আশ্চর্যের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

জাতীয় ডিপ ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণে করোনা ঝুঁকি!

প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে গরু ও ছাগলসহ লাখ লাখ গবাদিপশু কোরবানি করা হয়। পশু জবাইয়ের পর ধর্মীয় রীতি অনুসারে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও গরিব মানুষের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বন্টন করে দেয়ার পর অনেক পরিবারেই কোরবানির মাংস ডিপ ফ্রিজে রেখে দেয়া হয়, যাতে করে অনেকদিন রেখে খাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ডিপ ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণে করোনা ঝুঁকি থাকবে বলে আভাস দিয়েছেন রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে পশুর হাট বসা, গ্রামের বাড়িতে যাওয়া, একই কসাইয়ের একাধিক পশু জবাই করা, মুখে মাস্ক না পরা ও নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব না মেনে মাংস বন্টন করা ইত্যাদি কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে। সরাসরি মাংসতে করোনাভাইরাস না থাকলেও করোনা আক্রান্ত রোগী কিংবা উপসর্গ নিয়ে বা উপসর্গবিহীন কেউ গরুর মাংস ধরলে তার মাধ্যমে মাংসে করোনাভাইরাস থাকার ঝুঁকি তৈরি হবে।

রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমিত মাংস ফ্রিজে রাখলে দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১০ দিন এবং ডিপ ফ্রিজের ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাইরাসটি দুই বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে অন্যান্য বছরের মতো ডিপ ফ্রিজে কোরবানির মাংস অনেকদিন রেখে খেলে এর মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে।

দেশে এবার কোরবানিযোগ্য মোট পশুর সংখ্যা এক কোটি ৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০। রাজধানীসহ সারাদেশে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির হাট বসবে। কিন্তু এ হাট বসলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোশতাক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাট বসলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যান্য বছর মানুষ জবাইকৃত কোরবানির পশুর মাংস ফ্রিজে রেখে খেতে পারলেও এবার মাংস ফ্রিজে রাখলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

কীভাবে এই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই বিজ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘কোরবানির পশু জবাই ও কাটাকাটির সঙ্গে যারা থাকবেন তাদের মধ্যে উপসর্গবিহীন করোনা রোগী থাকতে পারে। তার হাতের স্পর্শে মাংসে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। এমনটা হলে ডিপ ফ্রিজে করোনাভাইরাস দুই বছর পর্যন্ত যেকে যাবে।’এই অবস্থায় এবার কোরবানির মাংস ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে খাওয়ার চেয়ে চুলায় রান্না করে ডেকচিতে রেখে খাওয়াই নিরাপদ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

কোরবানিযোগ্য পশু ১ কোটি ১৯ লাখ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে সুস্থ-সবল গবাদি পশু সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা বসছে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই)।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় জুম প্ল্যাটফর্মে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভার নোটিশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, গত বছর হৃষ্টপুষ্টকরণের আওতায় কোরবানির জন্য সারাদেশে গবাদি পশুর সংখ্যা ছিল মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি। এ বছর মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট অনুযায়ী কোরবানিযোগ্য মোট পশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার, ছাগল ও ভেড়া ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার ও অন্যান্য চার হাজার ৫০০টি। এ বছর গবাদিপশুর পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে বলেও কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ রাসায়নিক দ্রব্য স্টেরয়েড, হরমোন অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন। পশু খাদ্যে ভেজাল বা নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক হরমোন ব্যবহার রোধে নিয়মিত সার্ভিলেন্স, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হবে।

গত বছরের মতো এবারও যাতে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সন্তুষ্টির সঙ্গে পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয় সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সভায় কোরবানির ভেটেরিনারি সেবা প্রদানের জন্য স্টল বরাদ্দ, ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন ও দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এছাড়া দেশের বাইরে থেকে গরু আনা বন্ধে ব্যবস্থা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব কোরবানি নিশ্চিত, পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের ক্যাম্প স্থাপন ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়ার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা জুমের মাধ্যমে সভায় যোগ দেবেন বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে ঝড়ের সময় হাডসন নদীর ওপর বজ্রপাতের দৃশ্য। মাঝখানের সবচেয়ে উঁচু দালানটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

চলতি সপ্তাহের কিছু ছবি যা নিয়ে আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের উৎস চীনের উহানকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টাতেই আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৭৯২জন।

করোনা ভাইরাস: আইসোলেশনে থাকলে যে সাতটি কাজ করবেন

জাসিন্ডা আরডার্ন

করোনা ভাইরাস: করোনাভাইরাস ঠেকাতে নিউজিল্যান্ড কীভাবে এত সফল হলো?

সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে রাজধানীর নতুন নাম রাখা হয়েছে নুর-সুলতান

‘কাজাখস্তানের “অজানা নিউমোনিয়া” করোনাভাইরাসের চেয়েও প্রাণঘাতী’

করোনা ভাইরাস: ভারত কি বিশ্ব মানচিত্রে পরবর্তী হটস্পট?

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বড় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে র‍্যাব।

করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অনিয়ম: বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশংকা বাংলাদেশের সামনে?

অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নানা আকারের ও দামের গরু

অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয়ে ঝুঁকি কতটা?

হাইয়া সোফিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

৮৬ বছর পর ইস্তাম্বুলের হাইয়া সোফিয়ায় শোনা গেল আজান ধ্বনি

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়নি

অস্ত্র ব্যবসা: ব্রিটেন সৌদি আরবের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করে? কেন এই ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক?

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com