আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

ছবিতে গ্রাম বাংলার খালে-বিলে মাছ ধরার মুহূর্তগুলো

শীতকালে খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ায় গ্রাম-গঞ্জে বেশ ঘটা করে মাছ ধরতে দেখা যায়। বাছাই করা কিছু ছবি নিয়ে আমাদের এই ফটো গ্যালারি।

  • ছবিতে গ্রাম বাংলার খালে-বিলে মাছ ধরার মুহূর্তগুলো

    ছবিতে গ্রাম বাংলার খালে-বিলে মাছ ধরার মুহূর্তগুলো

  • শীতকালে খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ায় গ্রাম-গঞ্জে বেশ ঘটা করে মাছ ধরতে দেখা যায়।

    শীতকালে খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ায় গ্রাম-গঞ্জে বেশ ঘটা করে মাছ ধরতে দেখা যায়।

  • গ্রামেগঞ্জের মানুষ বিভিন্ন উপায়ে মাছ ধরে থাকেন।

    গ্রামেগঞ্জের মানুষ বিভিন্ন উপায়ে মাছ ধরে থাকেন।

  • সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা বিবেচনা করে মাছ ধরেন সেখানকার জেলেরা।

    সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা বিবেচনা করে মাছ ধরেন সেখানকার জেলেরা।

  • মাছ ধরার কাজে শিশুদের মধ্যে আনন্দ।

    মাছ ধরার কাজে শিশুদের মধ্যে আনন্দ।

  • বিভিন্ন কায়দায় মাছ ধরেন জেলেরা।

    বিভিন্ন কায়দায় মাছ ধরেন জেলেরা।

  • ঘটা করে মাছ ধরার একটি দৃশ্য।

    ঘটা করে মাছ ধরার একটি দৃশ্য।

  • শীতকালে খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ায় গ্রাম-গঞ্জে বেশ ঘটা করে মাছ ধরতে দেখা যায়।

    শীতকালে খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ায় গ্রাম-গঞ্জে বেশ ঘটা করে মাছ ধরতে দেখা যায়।

  • অনেকে পুকুরেও মাছ ধরে থাকেন।

    অনেকে পুকুরেও মাছ ধরে থাকেন।

  • ছোট নদী বা বিলে সারাদিন ধরে নৌকায় চড়ে মাছ ধরেন জেলেরা।

    ছোট নদী বা বিলে সারাদিন ধরে নৌকায় চড়ে মাছ ধরেন জেলেরা।

  • খাল-বিলে পানি কমে গেলে কাঁদা পানিতেও পাওয়া যায় ছোট ছোট মাছ।

    খাল-বিলে পানি কমে গেলে কাঁদা পানিতেও পাওয়া যায় ছোট ছোট মাছ।

  • জেলেরা নানাভাবে জাল পেতে মাছ ধরে থাকেন।

    জেলেরা নানাভাবে জাল পেতে মাছ ধরে থাকেন।

  • খাল-বিলে পানি কমে গেলে কাঁদা পানিতেও পাওয়া যায় ছোট ছোট মাছ।

    খাল-বিলে পানি কমে গেলে কাঁদা পানিতেও পাওয়া যায় ছোট ছোট মাছ।

  • মাছ ধরতে পেরে আনন্দিত!

  • ছবিতে গ্রাম বাংলার খালে-বিলে মাছ ধরার মুহূর্তগুলো
  • শীতকালে খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ায় গ্রাম-গঞ্জে বেশ ঘটা করে মাছ ধরতে দেখা যায়।
  • গ্রামেগঞ্জের মানুষ বিভিন্ন উপায়ে মাছ ধরে থাকেন।
  • সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা বিবেচনা করে মাছ ধরেন সেখানকার জেলেরা।
  • মাছ ধরার কাজে শিশুদের মধ্যে আনন্দ।
  • বিভিন্ন কায়দায় মাছ ধরেন জেলেরা।
  • ঘটা করে মাছ ধরার একটি দৃশ্য।
  • শীতকালে খাল-বিলের পানি কমে যাওয়ায় গ্রাম-গঞ্জে বেশ ঘটা করে মাছ ধরতে দেখা যায়।
  • অনেকে পুকুরেও মাছ ধরে থাকেন।
  • ছোট নদী বা বিলে সারাদিন ধরে নৌকায় চড়ে মাছ ধরেন জেলেরা।
  • খাল-বিলে পানি কমে গেলে কাঁদা পানিতেও পাওয়া যায় ছোট ছোট মাছ।
  • জেলেরা নানাভাবে জাল পেতে মাছ ধরে থাকেন।
  • খাল-বিলে পানি কমে গেলে কাঁদা পানিতেও পাওয়া যায় ছোট ছোট মাছ।
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

বাংলাদেশ

কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

 কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

প্রখর রোদে মাঠে কাজ করছিলেন কৃষক। তাদের মাথায় নেই মাথাল। শুধু তাই নয়, অনেক কৃষক কীটনাশক ছিটানোর সময় মাস্ক ব্যবহার করেন না। এমন কৃষক দেখলেই তাদের কাছে ছুটে যান। তাদের মাথায় মাথাল ও মুখে মাস্ক পরিয়ে দেন। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে কৃষকের হাতে তুলে দেন সাবান। এসব তিনি দিয়ে থাকেন বিনা মূল্যে।

এভাবে বছরের পর বছর কৃষকদের রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কাজী আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে কাজী এমদাদুল হক। তিনি ১৯৮৮ সালে কোলাবাজার ইউনাইটেড হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৯০ সালে খুলনা আজম খাঁন কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বিএ পরীক্ষা শেষে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে চলে যান জামালপুর। চাকরি ছেড়ে গ্রামে চলে আসেন। নিজে কৃষি কাজের পাশাপাশি গ্রামের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। সেখানে বেতন না থাকায় বাড়িতে ছাত্র পড়িয়ে মাসে হাজার দশেক টাকা আয় করেন। এরমধ্যে ৬ হাজার টাকা সংসারের পেছনে খরচ করেন। বাকি টাকা কৃষকদের পেছনে ব্যয় করেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে তার সংসার।

 কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

জানা যায়, ২০০৬ সালে বাড়িতে কয়েকজন প্রতিবেশীকে ডেকে পরামর্শ করেন খেটে খাওয়া মানুষের নিরাপত্তায় কী করা যায়। সে ইচ্ছা থেকে প্রথমে পাড়ায় পাড়ায় কৃষকদের নিয়ে রাতে বৈঠক শুরু করেন। পরে বৈঠকগুলোতেই পাঠদানের ব্যবস্থা করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে কৃষকের নিরাপত্তায় নানা কাজে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রথম দিকে এমদাদুল তার নিজ ইউনিয়ন কোলার ১১টি গ্রামের মাঠ ঘুরে কৃষকের তালিকা করেন। যারা মাথায় মাথাল ব্যবহার করেন না এবং কীটনাশক ছিটানোর সময় মুখে মাস্ক দেন না, তাদেরও তালিকা করেন তিনি। সেই তালিকা ধরে তিনি কৃষকদের হাতে মাথাল ও মাস্ক তুলে দেন। ইতোমধ্যে তিনি ১ হাজারের বেশি মাথাল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। মাস্ক দিয়েছেন আরও বেশি।

 কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

এছাড়া এমদাদুল কৃষকদের চিকিৎসা সহায়তায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে আসছেন। এলাকায় ২০ হাজারের বেশি বনজ ও ফলদ গাছ এবং ১৫ হাজার তালের আঁটি রোপণ করেছেন। কৃষকদের অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করতে নৈশ বিদ্যালয়ে পাঠদান করান। কৃষি জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার কমাতে কেঁচো সার তৈরির পরামর্শ ও বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘একদিন মাঠে কাজ করছিলাম। করল্লা (উস্তে) ক্ষেতে ওষুধ স্প্রে করার সময় মুখে কোন কাপড় ছিল না। তা দেখে তিনি পকেট থেকে একটি মাস্ক বের করে পরিয়ে দেন।’

কামালহাটের মোমিনুর রহমান বলেন, ‘মাথাল ছাড়া কাজ করতে দেখলে এমদাদ ভাই ছুটে গিয়ে মাথাল পরিয়ে দেন।’

 কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

কৃষক নান্নু মিয়া বলেন, ‘রোদের মধ্যে ক্ষেতে কাজ করছি। এমন সময় এমদাদ ভাই এসে মাথাল পরিয়ে দেন। মাথাল পরে কাজ করলে কী সুবিধা হয়, বুঝিয়ে বলেন। এরপর থেকে মাথাল ছাড়া মাঠে কাজ করি না।’

শিক্ষক এমদাদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষকদের অসচেতনতা দূর করতে মাথাল, মাস্ক ও সাবান বিতরণ শুরু করি। এখন অনেকেই এগুলো ব্যবহার করছেন। এছাড়া অক্ষরজ্ঞান না থাকায় কৃষি বিভাগ থেকে সচেতনতামূলক যেসব লিফলেট দেওয়া হয়, তা পড়তে পারেন না তারা। তাই পাড়ায় পাড়ায় নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৮টি গ্রামে ১৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫ শতাধিক কৃষককে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে তোলা হয়েছে। স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। এখন গ্রামের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’

কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমদাদ যা করছেন, তা জনপ্রতিনিধি হয়েও আমরা করতে পারি না। তিনি যে টাকা উপার্জন করেন, তা পরিবারের পেছনে কম খরচ করে এলাকার মানুষের পেছনে ব্যয় করেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমদাদুল হকের কাজে স্থানীয় কৃষি বিভাগ মুগ্ধ। তাই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এমদাদুল হকের বাড়িতে কৃষি পাঠাগার করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একটি আলমারিসহ কিছু বইও দেওয়া হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সফল কৃষক-উৎপাদনকারীদের জন্য আসছে পুরস্কার : কৃষিমন্ত্রী

সফল কৃষক-উৎপাদনকারীদের জন্য আসছে পুরস্কার কৃষিমন্ত্রী
সফল কৃষক-উৎপাদনকারীদের জন্য আসছে পুরস্কার কৃষিমন্ত্রী

সফল কৃষক ও ভাল উৎপাদনকারীদের জন্য সিআইপির মতো এআইপি (এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন) পুরস্কার আসছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত গুনার ইউরিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘সফল কৃষক ও ভাল উৎপাদনকারীকে সিআইপির মতো এআইপি পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুমোদন দিয়েছে। এআইপি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা সিআইপির মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। অ্যাওয়ার্ডের জন্য খুব শিগগিরই সফল কৃষক ও ভাল উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে কিছু দেশ থেকে খাদ্য পণ্য আমদানি বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশে খাদ্যে কোনো ঘাটতি হবে না। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আমদানি করে ভোজ্যতেল। যার সিংহভাগ আসে মালয়েশিয়া থেকে, এক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।’

কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দুই দেশের কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং ডেইরি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় কসোভোর রাষ্ট্রদূত কৃষির ওপর পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বাংলাদেশ থেকে শীতকালীন শাকসবজি আমদানির আগ্রহের কথা জানান। এছাড়া তিনি যুদ্ধের সময় কসোভোর ধ্বংসপ্রাপ্ত পোল্ট্রি এবং ডেইরি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা চান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এক সময় কৃষি খাত কম উৎপাদনশীল ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নানাবিধ উদ্যোগ এবং কৃষি খাতে প্রণোদনার ফলে কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। বাংলাদেশের এসব অভিজ্ঞতাকে কসোভো কাজে লাগাতে পারে। সেক্ষেত্রে দুদেশের একসঙ্গে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

‘খাদ্যের লড়াইয়ে অংশ নিয়েও কৃষক হতে পারেননি নারীরা ’

‘খাদ্যের লড়াইয়ে অংশ নিয়েও কৃষক হতে পারেননি নারীরা ’
‘খাদ্যের লড়াইয়ে অংশ নিয়েও কৃষক হতে পারেননি নারীরা ’

দেশে কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমশক্তির সংখ্যা ২ কোটি ৫৬ লাখ। এর মধ্যে নারী ১ কোটি ৫ লাখেরও বেশি। তারপরও রাষ্ট্রীয়ভাবে নারীদের “কৃষক” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। 

বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের (খানি) আয়োজনে ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ডের সহযোগিতায় দেশব্যাপী নানা কর্মসূচিতে খাদ্য নিরাপত্তায় নারীদের অবদানের কথা উঠে আসে।

“খাদ্যের লড়াইয়ে নারী”- শ্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে সংশপ্তক, কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি টাইস অফ উইমেন ডেভেলপমেন্ট, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন, রাজশাহীতে প্রান্তজন, নোয়াখালীতে পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যাকশান নেটওয়ার্ক-প্রাণ এবং বরিশালে প্রান্তজন পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে। 

কর্মসূচির মধ্যে খাদ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নারীদের বৈষম্য অনুধাবন ও খাদ্যের লড়াইয়ে নারীদের অবদান তুলে ধরে মাইম শো’র উপস্থাপনা, “সুষম খাদ্য, নারীর অধিকার” শীর্ষক আলোচনা সভা, সকল পর্যায়ের বাজারে নারী কৃষকদের পণ্য বিক্রয়ের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নারীর উৎপাদিত খাদ্যের স্বাধীন প্রতীকী বাজার স্থাপন, খাদ্য লড়াইয়ে নারীযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও নারী অংশগ্রহণে সংস্কৃতি অনুষ্ঠান, এবং মূল স্লোগান নিয়ে শুনানি কার্যক্রম।

প্রতিটি কর্মসূচিতেই কোনো না কোনোভাবে নারী কৃষককে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, নারীদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করণের জন্য নারীবান্ধব বাজার সৃষ্টি, কৃষিজমি সুরক্ষা আইনে নারীর মালিকানা ও ভোগদখলের বিষয়ক ধারা সংযুক্তিকরণ এবং নারী কৃষকদের মজুরী বৈষম্য প্রতিরোধ করার দাবি উঠে আসে। 

কর্মসূচিগুলোতে বক্তারা জানান, যদিও জাতীয়ভাবে নারী কৃষকদের “কৃষক” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, তারপরও এই সংখ্যাটা অনেক। কৃষিকাজের ২১টি ধাপের মধ্যে নারীরা ১৭টি ধাপের কাজ করে। তবুও নারীরা কৃষক হতে পারেননি। বাড়ির আঙ্গিনায় শাকসবজির চাষ কিংবা গবাদিপশুর যত্ন থেকে শুরু করে, ক্ষেতের ফসল বোনা, কাটা এবং পরিবহন; সবকিছুতেই নারীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ রয়েছে। এসব নারী কৃষকরা খাদ্য উৎপাদন নিয়ে লড়ছে, দেশের কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান দিচ্ছে।

এ সময় বক্তারা নারী কৃষককে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানসহ পুরুষ কৃষকদের মতো সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবি জানান।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

খাদ্য লড়াইয়ে নারী: দিতে হবে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি

পুরুষের মতোই মাঠে আলু তুলছেন একদল নারী শ্রমিক।
পুরুষের মতোই মাঠে আলু তুলছেন একদল নারী শ্রমিক।

কৃষিতে কর্মরত নারীদের কৃষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে, গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করতে হবে তাদের প্রত্যক্ষ অবদানকে। একইসঙ্গে কৃষকদের সহায়তার যেসব সরকারি কার্যক্রম রয়েছে তার প্রতিক্ষেত্রে নারী কৃষকদের কোটা থাকতে হবে

৮ মার্চ জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর অধিকার ও মর্যাদা উদযাপনের জন্য নির্ধারিত দিন। বাংলাদেশের ৮৮ শতাংশ গ্রামীণ নারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজে জড়িত। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের প্রাক্কালে গ্রামীণ নারীদের কথা, তাদের অবদান এবং লড়াইয়ের কথাগুলো আলোচনায় থাকাটা হবে সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। 

বাংলাদেশের কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান বীরযোদ্বা মূলত নারীরাই। তাই নারী দিবসের সকল আয়োজন, আলোচনা কেবলমাত্র শহরে মধ্যবিত্ত নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে আনতে হবে, এবং সম্মান জানানো প্রয়োজন আমাদের খাদ্য লড়াইয়ের বীর নারীযোদ্ধাদের। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে, কৃষক, শ্রমিক, জেলে, গৃহকর্মীসহ অসংখ্য বৈচিত্র্যময় পেশার নারীদের খাদ্যের লড়াইয়ে পুঁজিবাদী ও পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্রমাগত শোষণ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করছি। 

বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী কৃষকের অবদান নতুন করে আলোচনার কোনো অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে গ্রামীণ নারী কৃষকদের এই অবদান যে কেবলমাত্র খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে তা নয়। মানুষের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা একটি আবশ্যক ধারা। অনেকে মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম সূচক। এতে কোনো দেশের মর্যাদা যেমন বাড়ে- অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হয়। বাংলাদেশে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত আছেন ৬৮.১ শতাংশ নারী। গৃহস্থালীর সকল কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজে নিয়োজিত নারী কৃষকদের ৭৪ শতাংশ গবাদিপশু পালন, ৬৩ শতাংশ স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ, ৪০ শতাংশ শাক-সবজি ও ফলমূল উৎপাদন, শস্য মাড়াই ও মাড়াই পরবর্তী কার্যক্রম, খাদ্যশস্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ কৃষিপণ্য উৎপাদনে যুক্ত থাকেন। বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ (২০১৫) অনুযায়ী, গত এক দশকের ব্যবধানে দেশের কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে ১০২ শতাংশ। সেখানে পুরুষের অংশগ্রহণ কমেছে ২ শতাংশ। নারী তার নিজ যোগ্যতায় কৃষিখাতের হাল ধরছেন। ২০০০ সালে দেশের কৃষিতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৩৮ লাখ। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৫ লাখে। ১০ বছরের মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ নারী কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু, কৃষিতে নারীর ভূমিকা শুধু “সাহায্যকারী” হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী হিসেবে নয়। 

কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় নিশ্চিত করতে নারীরা একাধারে খাদ্য উৎপাদক, বীজ ও লোকায়ত জ্ঞান সংরক্ষক, কৃষি শ্রমিক; একই সাথে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জীববৈচিত্র্যও সংরক্ষণ করেন। ২০০৮ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষিখাতে নিয়োজিত পুরুষের চেয়ে নারীর অবদান শতকরা ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বেশি। 

১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কৃষিতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে “অন্ন জোগায় নারী” শ্লোগানটি নির্ধারণ করেছিল। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান মতে, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ মিলিয়ে কৃষিতে নারী কৃষকের হার ৪৩ শতাংশ। “রাইট টু ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ওয়াচ-২০১৯” জানাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হয়, তার ৮০ শতাংশই আসে পারিবারিক কৃষি থেকে। চাষের জন্য জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণের পূর্ব পর্যন্ত কৃষিখাতের ২১ ধরনের কাজের মধ্যে ১৭টিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। 

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন রিনা বেগম।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন রিনা বেগম।

বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন কৃষি-প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে নারী কৃষকের পক্ষে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রণীত কৃষিনীতিতে  “নারী ক্ষমতায়ন” শিরোনামে একটি অধ্যায় সংযুক্ত হয়েছে এবং নারীকৃষকরা “কৃষিকার্ড” পাওয়া শুরু করেছেন; যা প্রশংসনীয়। কিন্তু কৃষিনীতিতে “নারীর ক্ষমতায়ন” শিরোনামে যে অধ্যায়টি সংযুক্ত হয়েছে সেখানে নারীদের অবদানের কথা এবং বিভিন্ন ধরণের সেবাপ্রাপ্তির বিষয়ে বলা হলেও “নারী- কৃষক” স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সরকারি কৃষি উপকরণ প্রদানের ক্ষেত্রে যে বৃহৎ সংখ্যাক প্রান্তিক কৃষকের নাম দেখা যায় সেখানেও নারী কৃষকরা উপেক্ষিত থাকছেন; আবার যাদের নাম রয়েছে সেটিও শুধু তালিকায় নাম দেখানো বা কার্ড পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি সরকারের কৃষিপণ্য ক্রয়ে নারী কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, ফলে স্থানীয় ও রাষ্ট্রিয়ভাবে নারী কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনেও অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি থেকে পুরুষের সম্পৃক্ততা কমে যাচ্ছে। পুরুষের অবর্তমানে এই খাতে নারীদের সম্পৃক্ততা দ্রুত হারে বাড়ছে। গত সাত বছরে বাংলাদেশে কৃষিখাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও ভূমির মালিকানা এখনো পুরুষেরই হাতে। অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতের এক গবেষণায় দেখা যায়, ভূমিতে গ্রামীণ নারীর মালিকানা মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ এবং বাকি ৯৬ শতাংশ জমির ব্যক্তি মালিকানা রয়েছে পুরুষের নামে। নারীর সম্পদহীনতা ও বৈষম্যের বিষয়টি রাষ্ট্রের নীতিতেও খুব স্পষ্ট। নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১-এর ১১নং দফায় বলা হয়েছে দেশের দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী শতকরা ৪০ ভাগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ নারী। বৃহত্তর এই দরিদ্র, প্রান্তিক ভূমিহীন মানুষের ভূমিতে প্রবেশাধিকারের একমাত্র উপায় খাসজমি। বাংলাদেশের খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন নীতিমালায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ মালিকানার বিধান থাকলেও নানাক্ষেত্রে তা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক। এ সব নীতিকাঠামো ভূমিতে নারীর পূর্ণ অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে এবং সামগ্রিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। জমির মালিকানায় নারীদের অধিকার না থাকলে তারা বিভিন্ন আর্থিক সেবা গ্রহণ ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প হতে বঞ্চিত হয়। এখানে তানজানিয়ার একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে- দেশটিতে জমির মালিকানায় নারীদের অধিকার থাকার কারণে তারা ৩.৮ গুণ বেশি আয় করেন। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়াতে নারীদের জমিতে সমঅধিকার থাকার কারণে পরিবারের আয়ে তারা পুরুষদের চেয়ে বেশি অবদান রাখেন। 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব মতে, নারীরা যদি উৎপাদনের জন্য সম্পদ পুরুষের সমপরিমাণ পেত, তাহলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৃষি উৎপাদন আরও ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেত, যার ফলে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

বাংলাদেশে গ্রামীণ খাদ্য ব্যবস্থাপনার বড় কারিগর গ্রামীণ নারীরা। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বছরপ্রতি দেশে বন্যা, ঘুর্ণিঝড়ের মতো ঘটনা ঘটে। তখন মূলত: নারীরা আপদকালীন সময়ের জন্য খাদ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পাহাড়ি এলাকায় জুমে ইঁদুরের আক্রমণ, ফলন না হলে বা “আদিবাসীদের” সংস্কৃতিগত খাদ্য সঙ্কটে পড়লেও পরিবারের খাবারের যোগান দেন পরিবারের নারীরা। এক সময়ে শাক হিসেবে ১৫০টিরও বেশি গাছ-গাছালি বাংলার মেয়েরা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতো এবং উৎপাদন করতো। কিন্তু তথাকথিত বাণিজ্যিক ও আধুনিক কৃষি নারীদের এই বিপুল ব্যবহারিক জ্ঞানকে অস্বীকার করে বাজারনির্ভর খাদ্য ও ওষুধনির্ভর রাষ্ট্রীয়ব্যবস্থার ফলে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়ে। বর্তমানে কৃষিতে প্রযুক্তির সংযোজনের কৃত্বিত্বের কথা বলা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নারীবান্ধব কোনো প্রযুক্তি নারীকৃষকের কাছে পৌঁছায়নি। নারীদের এ ক্ষেত্রে পুরুষের ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়। কৃষিঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংক একাউন্টের আওতায় অতি দরিদ্র নারীরা অন্তুর্ভূক্ত থাকলেও ঋণ বা ভর্তুকি সহায়তা নারীকৃষকরা কতখানি পেয়ে থাকে তা রীতিমত অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে। নারীদের যথাযথ মাত্রায় কৃষিঋণ ও ভর্তুকি সহায়তা না পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো পুরুষ কৃষকের ন্যায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে নারী কৃষকের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো “ডাটাবেজ” এর উপস্থিতি না থাকা। যদিও “সিডও” সনদের ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কৃষি ঋণ-আর্থিক সুবিধা, বাজারজাতকরণ সুবিধা, প্রযুক্তি সুবিধা, ভূমি সংস্কার ও ভূমি পুনর্বাসনে নারী ও পুরূষের অধিকার সমান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। 

পুরুষের পাশাপাশি ধান রোপণ করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের এক নারী শ্রমিক।
পুরুষের পাশাপাশি ধান রোপণ করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের এক নারী শ্রমিক।

নয়া উদারনীতির বাজার অর্থনীতি অনুসরণের ফলে আজকের দিনে একজন হতদরিদ্র নারীকেও তার উৎপাদিত দুধ বাজারজাত করতে গিয়ে চরম অসম প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে উন্নত বিশ্বের বৃহৎ খামারি বা বহুজাতিক কোম্পানির সাথে। বাজারে নারীর প্রবেশাধিকার কিংবা নারীবান্ধব বাজার ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে সরকার ৬০টি গ্রোয়ার্স মার্কেট ও ১৫টি পাইকারি বাজারে নারীদের জন্য আলাদা কর্ণার করে দিয়েছে। কিন্তু এসব কর্ণার নারীদের কতটা কাজে আসছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কারণ, পুরো বাজার ব্যবস্থাটাই নারীবান্ধব নয় বিধায় এসব বাজারে নারী ব্যবসায়ীগণ বিশেষ করে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাগণ প্রবেশ করতে পারছেন না। 

এই প্রেক্ষাপটে, যখন সমাজের অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষিজীবী, নারী এবং পুরুষ উভয়ের ওপর বাণিজ্যিক কৃষি এবং খাদ্য উৎপাদনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে; কাঠামোগত সহিংসতা ও রাজনীতির বস্তুগত প্রভাব- বিশেষ করে নারী কৃষকের জীবনে কঠোরতর হচ্ছে; জাতি, শ্রেণী এবং গোষ্ঠীভেদে এই সংকটও আরো ঘণীভূত হচ্ছে। একই সাথে- 

–    কৃষিজ কর্মকাণ্ডে প্রধান কুশীলব হয়েও নারীরা “কৃষক” হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায় না;

–    সংস্কৃতি ও আইনি ব্যবস্থার কারণে ভূমিতে নারীদের প্রবেশাধিকার প্রসারিত হচ্ছে না; 

–    সমুদ্র উপকূলবর্তী এবং দূরবর্তী মৎসশিকারের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও যখন নারীরা “জেলে” হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে না; 

–    যখন বৈশ্বিক বাণিজ্যিক খাদ্যব্যবস্থা নারীর দৈনিক অবৈতনিক পরিচর্যা এবং গৃহস্থালি কাজের ওপর নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে 

তখন বৈশ্বিক অধিকার সংগঠনগুলোর সাথে সাথে আমরাও এটিকে “নারীর প্রতি সহিংসতা” হিসেবেই বিবেচনা করছে। 

ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থার আড়ালে লুকায়িত শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা, অধিকারহরণ, প্রতিবাদ নির্মূলকে অনুপ্রেরণাদায়ী সকল দেশীয়, আন্তঃদেশীয়, বহুজাতিক রীতির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নারী প্রতি সহিংসতা এবং শোষণের কোনো দেশ-কাল-পাত্র নেই। বিশ্বব্যাপী নারীদের বৃহদায়তনে সমাবেশ, সংহতি, সংগ্রামের গতিবিধি এবং অভিব্যক্তি নারীর প্রতি সব ধরণের সহিংসতা এবং নিপীড়ন বন্ধের দাবির গুরুত্ব অনুমোদন করে। নারীর অধিকার নিশ্চিত করার পরিবর্তে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণকে অস্বীকার করে যে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা শোষণকারীদের দায় থেকে মুক্তি দেয় সেই ব্যবস্থার নিন্দা জানাই। 

জমির অধিকার, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার অধিকার, বিষাক্ত কৃষি-রাসায়নিকমুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করতে এবং কৃষি প্রতিবেশ প্রচারের মাধ্যমে খাদ্যের সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথে স্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনে নারী কৃষকের অত্যাবশ্যক ভূমিকা ও নিত্যপণ্যের রক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমরা কৃষকদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাই। 

কৃষিতে কর্মরত নারীদের কৃষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে, গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করতে হবে তাদের প্রত্যক্ষ অবদানকে এবং সে অনুযায়ী কৃষিনীতিসহ অন্যান্য নীতিমালা সংশোধন/পরিমার্জন করা; সকল রাষ্ট্রীয় নীতি, প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ, ঋণ কার্যক্রম ইত্যাদিতে নারী কৃষকের সমান অধিকার প্রদান; কৃষি ও পল্লীঋণ কর্মসূচির আওতায় নারী কৃষকদের মাঝে পর্যাপ্ত ঋণ বিতরণের সুযোগ সৃষ্টি করা; কৃষকদের সহায়তা করার জন্য যে সমস্ত সরকারি কার্যক্রম রয়েছে সেখানে নারী কৃষকদের জন্য কোটা থাকা প্রয়োজন এবং এ বিষয়টি জাতীয় কৃষিনীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার দাবি জানাই। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০’ খসড়া অনুমোদন

‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০’ খসড়া অনুমোদন
‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০’ খসড়া অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভায় সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়

কৃষক ও উদ্যোক্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রযুক্তি ও তথ্য সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘাত সহনশীল, পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ, টেকসই ও পুষ্টিসমৃদ্ধ লাভজনক ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রিসভা “জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০” এর খসড়া অনুমোদন করেছে।

সোমবার (২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভায় সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এই নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সব শ্রেণীর কৃষক ও উদ্যোক্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রযুক্তি ও তথ্য সেবাপ্রদানের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘাত সহনশীল, পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ, টেকসই ও পুষ্টিসমৃদ্ধ লাভজনক ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা।”

কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, বিপণন ও সম্প্রসারণ সেবার সাথে সম্পৃক্ত অংশীজনসহ কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে চাহিদা ভিত্তিক গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ এবং গবেষণালদ্ধ ফলাফল মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে “জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০” প্রণীত হয়েছে।

কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে নীতিটি বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রসারণ সেবা দেওয়ার মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে জানান সচিব।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রথম কৃষিনীতি গ্রহণ করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।

তিনি জানান, ফসল উৎপাদনের সর্বোচ্চ ফল পেতে সমবায় ভিত্তিক চাষ ও বিপণন ব্যবস্থার একটি ধারা নতুন নীতিটিতে যুক্ত করতে পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এবিষয়ে উদাহরণ দিয়ে সচিব জানান, যদি অনেক ব্যক্তির মালিকানায় থাকা ১০০ একর জমিতে সমন্বিতভাবে একই সফল বুনন, সংগ্রহ ও বিপণন করা হয় তাহলে দ্বিগুণের বেশি মুনাফা হবে। এবিষয়ে একটি পাইলট প্রকল্প বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া, মন্ত্রিসভা “সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০২” এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, বিলটি দেশের অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিলের মতোই।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হবে ২০। যারফলে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাদে মোট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৩।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com