আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

অন্যান্য

চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব: জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে তিন দেশের সদস্য হওয়া নিয়ে বিতর্ক

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছে এমন তিনটি দেশ নিজেরাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবে অভিযুক্ত

চীন, রাশিয়া এবং সৌদি আরব আজ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। এই তিনটি দেশ নিজেরাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবে অভিযুক্ত।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই তিনটি দেশ কোনমতেই মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য হতে পারেনা এবং তারা সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে আজকের ভোট নিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা করার দাবি জানিয়েছে।

ব্রিটেন এবং ফ্রান্সও আজকের ভোটে এই কাউন্সিলের সদস্য হচ্ছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের জন্ম হয়েছিল ২০০৬ সালের ১৫ই মার্চ।

এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে: সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী অধিকার ইত্যাদি নানা ধরনের মানবাধিকারকে হেফাজত করা। এর সদস্য সংখ্যা ৪৭।

মানবাধিকার কাউন্সিলের আগে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা ইউএনসিএইচআর নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান এসব বিষয়গুলো দেখাশোনা করতো।

কিন্তু খারাপ মানবাধিকার রেকর্ড রয়েছে এমন কিছু দেশকে এই কমিশনের সদস্য বানানোকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক শুরু হয়, তার জেরে ঐ প্রতিষ্ঠানটিকেই শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত করা হয়।

এখন, এই জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে, চীন রাশিয়া এবং সৌদি আরবকে সদস্যপদ দেয়ার প্রশ্নে।

আর এসব অভিযোগ উঠছে চীনে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন, রাশিয়ায় বিরোধীদলের ওপর দমন-পীড়ন আর সৌদি রাজপরিবারের নির্দেশে সাংবাদিক জামাল খাশোগজির হত্যার পটভূমিতে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

নগর কর্তৃপক্ষ আর আইএসপি-দের সমন্বয়হীনতায় ভোগান্তিতে ইন্টারনেট গ্রাহক

করোনাভাইরাসে নতুন শনাক্ত দেড় হাজারের বেশি রোগী, মৃত্যু ২২ জনের

ভারতীয় মিডিয়ার বিরুদ্ধে এবার শাহরুখ, সালমান, আমিরদের মামলা

ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড: নতুন অধ্যাদেশে কী বলা হয়েছে?

জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখে এমন একটি প্রতিষ্ঠান – ইউএন ওয়াচ বলছে, ব্যাপারটা যেন অগ্নিসংযোগ করে এমন একটি দলের হাতেই দমকল বাহিনীর দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

ব্রিটেনের বিরোধীদল লেবার পার্টি এই নির্বাচনে বিশেষভাবে চীনের বিরোধিতা করেছে।

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস ল্যান্ডল জানাচ্ছেন, কূটনীতিকরা আশা করছেন, এই তিনটি দেশ যদি কাউন্সিলের সদস্য হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিয়েও তাদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা যাবে।

কিন্তু সেখানে একটা বড় ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে বলে তিনি বলছেন। ঝুঁকিটা হলো সদস্য হওয়ার সুবাদে এই দেশগুলো তাদের বিরুদ্ধে আনা যেকোনো পদক্ষেপ আটকে দিতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

অন্যান্য

বিষমুক্ত ফল চাষিদের মডেল জয়নাল

হবিগঞ্জ: ফরমালিনযুক্ত ফলে সয়লাব সারাদেশ। ফলমূলে কেমিক্যালের বিষয়টি যেন সব শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশি মুনাফার লোভে বিষ মেশানো ফলমূল বিক্রি এবং উৎপাদনের দিকে দিনদিন ঝুঁকছেন ব্যবসায়ী এবং চাষিরা।

তবে বেশি ফলন এবং অতি মুনাফা লাভের ঊর্ধ্বে থেকে বিষমুক্ত কলা চাষ করছেন হবিগঞ্জ জেলার গুঙ্গিয়াজুরী হাওর এলাকার টঙ্গীরঘাট গ্রামের জয়নাল আবেদীন। এতে এলাকাবাসীকে বিষমুক্ত ফল খাওয়ানোসহ নিজেও দেখেছেন সাফল্যের মুখ।

জয়নাল আবেদীন বাংলানিউজকে জানান, তিনি মাছ চাষের জন্য বাড়ির পার্শ্ববর্তী হাওর জমিতে পুকুর করেছেন। প্রায় তিন একর জায়গা জুড়ে পুকুরটির চারপাশে লাগিয়েছেন ৯০০টি সবরি কলার গাছ। প্রতি গাছ বছরে একটি করে কলার ছড়ি দিলেও তিনি পান ৯শ ছড়ি। প্রতিটি ছড়ির পাইকারী মূল্য গড়ে ৭৫০ টাকা। এতে বছরে তিনি সাড়ে ৬ লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারেন। তবে একেকটি গাছে অনেক সময় একাধিক কলার ছড়িও পাওয়া যায়।


তিনি জানান, নামমাত্র মূল্যে কলার চারাগুলো রোপণ করে একটু খাটুনি দিয়ে করতে পরছেন বিষমুক্ত কলার চাষ। তবে চারা রোপণের শুরুর দিকে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি আগাছানাশক একটি ওষুধ ব্যবহার করেন। শুধু কলা চাষই নয়। ইতোমধ্যে তিনি তার পুকুরের আশপাশে বিভিন্ন ফল এবং বিষমুক্ত সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন। এরই মাঝে পরীক্ষামূলক চাষ করেছেন।

শুধু মুনাফা লাভের আশায় নয়। কৃষক জয়নাল আবেদীন প্রমাণ করতে চান ইচ্ছা করলেই বিষযুক্ত ফল বর্জন করা যায়। তার এই চেষ্টার প্রতি স্থানীয়রা সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং আরও অনেকেই এভাবে বিষমুক্ত কলা এবং শাক-সবজি চাষের পরিকল্পনা নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, জয়নাল আবেদীনের কলা চাষের ব্যাপারটি নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়। কলা চাষে তেমন বেশি অর্থেরও প্রয়োজন হয় না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে এসব চাষিদেরকে সময়মত সব ধরণের সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।  

বিষমুক্ত সবজি চাষের ব্যাপারে চাষিদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করে থাকেন কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

ভোলা ঘূর্ণিঝড়: ৫০ বছর আগের সাইক্লোন যেভাবে বদলে দিয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতি

১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর সাইক্লোনের পরে ত্রাণের জন্য অপেক্ষমান মানুষ

এখন থেকে ঠিক ৫০ বছর আগের কথা। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এক সাইক্লোন আছড়ে পড়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভোলায়।

১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ওই ঝড়ের আঘাতে ভোলা তছনছ হয়ে যায়। একের পর এক লোকালয় মাটির সাথে মিশে যায়।

তীব্র জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে ভেসে যায় হাজার-হাজার মানুষ, যাদের অনেকেরই আর কোন খোঁজ মেলেনি। এই অঞ্চলের ইতিহাসে ভোলা ঘূর্ণিঝড় ছিল অন্যতম মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তবে সেটি শেষ পর্যন্ত কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগই ছিল না – এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী একটি রাজনৈতিক প্রভাবও পড়েছিল কিছুদিনের মধ্যে।

সাইক্লোনের পরে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের উদাসীনতা প্রমাণ করেছিল যে পূর্ব পাকিস্তানের জীবন-মৃত্যু পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির কাছে খুব একটা গুরুত্ব পায় না।

ভোলা সাইক্লোনের এক মাসের মধ্যেই ১৯৭০ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে একচেটিয়া বিজয় লাভ করে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।

সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন

ভোলায় আঘাত হানা এই সামুদ্রিক ঝড় ‘দ্য গ্রেট ভোলা সাইক্লোন’ নামে পরিচিতি পায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূল দিয়ে এই সাইক্লোন বয়ে গেলেও সবচেয়ে তীব্র আঘাত হেনেছিল ভোলায়।

জাতিসংঘের আওতাধীন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ২০১৭ সালের ১৮মে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে।

ততে ভোলায় আঘাত হানা সাইক্লোনটিকেই ‘সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর সবোর্চ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় এলাকায় ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।

সাইক্লোনের আঘাতে তছনছ হয়ে যায় ভোলা

ভোলা সাইক্লোনে কত মানুষ মারা গিয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল তখন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, এ ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় মৃতের সংখ্যা অনেক সময় বাড়িয়ে বলা হয়।

সেজন্য রক্ষণশীল হিসেবকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। সে হিসেবে ভোলা সাইক্লোনে নিহতের সংখ্যা তিন লাখের বিষয়টি সঠিক হতে পারে।

ভোলায় ছিল লাশ আর লাশ

ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার কয়েকদিন পরে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের সাংবাদিক হাওয়ার্ড হোয়াইটেন ভোলায় গিয়েছিলেন। তখন তিনি ভোলার মনপুরায় বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন।

তার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ১৮ই নভেম্বর গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে হাওয়ার্ড হোয়াইটেন লেখেন, ভোলার মনপুরায় গিয়ে তিনি মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন।

দ্যা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনপুরা এলাকার ২২ হাজার মানুষের মধ্যে ১৬ হাজার মানুষই মারা গিয়েছিলেন। এলাকায় ২০ হাজার গবাদিপশুর মধ্যে মাত্র কয়েকশো’ টিকে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী চৌধুরী কামালকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান লিখেছিল, ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে তখন ছিল মধ্যরাত। রেডিওতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস তারা আগেই শুনেছিলেন। সেজন্য সবাই রাতে জেগেই ছিলেন। কিন্তু জলোচ্ছ্বাসের কোন পূর্বাভাস দেয়া হয়নি।

“অন্ধকারের মধ্যে আমরা হঠাৎ দেখলাম একটি আলোর ঝলকানি আমাদের দিকে আসছে। এরপর বজ্রপাতের মতো শব্দ। এরপর পুরো এলাকা পানিতে ভেসে যায়,” গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন মি. কামাল।

সাংবাদিক হাওয়ার্ড হোয়াইটেনকে মি. কামাল আরও বলেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার মৃতদেহ মাটি দিয়েছি। আপনি দেখতে পাচ্ছেন এখনও বহু মৃতদেহ পড়ে আছে।”

ত্রাণ ও পানির অভাবে বহু মানুষের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড়ের পরে কলেরার ট্যাবলেট সংগ্রহের জন্য ভোলার মেডিকেল সেন্টারে মানুষের ভিড়

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পরবর্তী সময় ছিল আরও মারাত্মক। খাবারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন।

জলোচ্ছ্বাসের কারণে সেখানে খাবার উপযোগী কোন পানি ছিল না। ফলে বহু মানুষ পনিশুন্যতা এবং পানি-বাহিত রোগে মারা গেছেন। এছাড়া ছড়িয়ে পড়ে রোগব্যাধি।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা একটি হেলিকপ্টারে করে ভোলা গিয়েছিলেন। মি. রাজা ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৪ সামরিক ডিভিশনের জিওসি।

তার লেখা বই ‘অ্যা স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওউন কান্ট্রি’ বইতে ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এই সামরিক কর্মকর্তা। তিনি লিখেছেন, ভোলায় যাওয়ার পরে খাদ্য এবং বস্ত্রের জন্য মানুষ তাদের ঘিরে ধরে।

খাদিম হোসেন রাজা অভিযোগ করেন যে উপদ্রুত এলাকায় অবিলম্বে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করার জন্য তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণরকে পরামর্শ দিলেও গভর্ণর সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভূক্ত করতে চাননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মানুষ তখনই অনুভব করেছিল যে শাসনক্ষমতা যদি পূর্ব পাকিস্তানের হাতে থাকতো তাহলে ত্রাণের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন হতো না।

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা সম্পর্কে পাকিস্তান সরকার কোন ধারণা করতে পারেনি। ফলে ১২ই নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত রেডিওতে কোন সতর্কবাণী প্রচার করা হয়নি এবং মানুষজন নিরাপদ সরিয়ে নেবার কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি।

তখন পূর্ব পাকিস্তানের রিলিফ কমিশনার ছিলেন আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার নেই এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী যথাযথ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

পাকিস্তান সরকারের উদাসীনতা

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর থেকে পাকিস্তান সরকার দৃশ্যত উদাসীন ছিল।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য প্রথম দিন কার্যত কিছুই করেনি পাকিস্তান সরকার।

খোদ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান উপদ্রুত এলাকায় যেতেই চাননি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ভোলার সাইক্লোনকে মোটেও গুরুত্ব দেননি

শুধু প্রেসিডেন্ট নয়, পাকিস্তান সরকারের কোন মন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়ের পর উপদ্রুত এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

বামপন্থী রাজনীতিবিদ এবং বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হায়দার আকবর খান রনো তাঁর আত্মজীবনীমূলক ‘শতাব্দী পেরিয়ে’ বইতে সে সময়ের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় মওলানা ভাসানী ঢাকার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে ঢাকার পল্টন ময়দানে একটি সমাবেশ করেন তিনি।

পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কোন মন্ত্রী যে দুর্গত মানুষদের দেখতে আসেননি সে বিষয়টি জনসভায় জোর দিয়ে উল্লেখ করেন মওলানা ভাসানী।

“পরদিন দৈনিক পাকিস্তানে এক চমৎকার ছবি ছাপা হয়েছিল। এক পাশে বক্তৃতারত ভাসানী। অপর পাশে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার ৫ জন বাঙালি মন্ত্রীর ছবি। নিচে ক্যাপশন ছিল – ওরা কেউ আসেনি” – লিখেছেন হায়দার আকবর খান রনো।

বিষয়টি নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে প্রচণ্ড ক্ষোভ তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান।

ঘূর্ণিঝড়ের ১৪ দিন পরে অর্থাৎ ২৬শে নভেম্বর সি প্লেনে করে ভোলায় আসলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট।

দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলেন, ত্রাণ তৎপরতায় তিনি সন্তুষ্ট।

অথচ তখন ত্রাণের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। একজন বিদেশী সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে প্রশ্ন করেন, ত্রাণের হাহাকার নিয়ে মানুষ সমালোচনা করছে কেন?

এ প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, “মানুষ সমালোচনা করলে আমার কিছু করার নেই। আমার লক্ষ্য হচ্ছে কাজ করা এবং সমালোচনা ভুলে যাওয়া।”

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে সমর্থন করে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট দৃশ্যত বিমর্ষ ছিলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য তিনি হেলিকপ্টারে করে এলাকা পরিদর্শন করেন।

জেনারেল রাজা বলেন, “নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হেলিকপ্টারটি ১০ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়েছিল। সেই উচ্চতা থেকে প্রেসিডেন্ট ধ্বংসযজ্ঞের আসল চিত্র দেখেননি। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন প্রেসিডেন্টকে ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে যা ধারণা দিয়েছিলেন, তাকে সেটাই গ্রহণ করতে হয়েছিল।

“তারা প্রেসিডেন্টকে ধারণা দিয়েছিল যে খুব একটা ক্ষতি হয়নি।”

ঘূর্ণিঝড়ের রাজনৈতিক মূল্য

ঘুর্ণিঝড়ের এক মাস পরেও বহু জায়গায় ত্রাণ পৌঁছায়নি

১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ভোলার সেই সাইক্লোনটি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি বাঙালির অবিশ্বাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে তখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থান করছিলেন। ঝড়ের দুইদিন পরে তিনি চীন থেকে ঢাকায় আসেন।

কিন্তু উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে না গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান।

ফারুক চৌধুরী সে সময় পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরুণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রেসিডেন্টের সাথে চীন সফরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন।

তার আত্মজীবনী ‘জীবনের বালুকাবেলায়’ ফারুক চৌধুরী লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান চাইলে চীন থেকে ঝড়ের পরদিন অর্থাৎ ১৩ই নভেম্বর ঢাকায় আসতে পারতেন। সেজন্য বিমান প্রস্তুতও ছিল। কিন্তু সেটা না করে ইয়াহিয়া ১৪ই নভেম্বর পিকিং থেকে ঢাকায় ফিরেন।

ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যে মোটেই চিন্তিত ছিলেন না, তা তার কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছিল।

ফারুক চৌধুরীর বর্ণনায়, “সবাই ভেবেছিল, ঢাকায় থেকে রাষ্ট্রপতি নিজেই ত্রানকার্য তদারক করবেন। তা না করে পরদিনই তিনি চলে গেলেন ইসলামাবাদে। গিয়ে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কাছে বার্তা পাঠালেন যে সফল হয়েছে তার চীন সফর।”

ঝড়ের সময় ভোলায় অবস্থান করছিলেন তোফায়েল আহমেদ, যিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তখন তিনি নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন।

১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোন নিয়ে স্মৃতিচারণ করে একটি নিবন্ধ লিখেছেন তোফায়েল আহমেদ। ‘১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড় ও ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্মৃতিকথা’ শিরোনামের লেখায় মি. আহমেদ বলেন, অসংখ্য মানুষের মৃতদেহ দেখে তিনি দিশেহারা হয়ে যান।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সমাবেশে ভোলার সাইক্লোন নিয়ে পাকিস্তান সরকার যে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, সেটি তুলে ধরেন শেখ মুজিবুর রহমান

শেখ মুজিবুর রহমান ভোলায় আসেন ১৪ই নভেম্বর – দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

সেখানে তিনি ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেন এবং তোফায়েল আহমেদকে নির্দেশ দেন দুর্গত মানুষকে সাহায্যে কাজ করার জন্য।

দুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে ঢাকায় হোটেল শাহবাগে এসে বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

তোফায়েল আহমেদ লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দুর্গত এলাকা আমি সফর করে এসেছি। …. পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এখনো দুর্গত এলাকায় আসেননি। আমরা যে কত অসহায় এই একটা সাইক্লোন তা প্রমাণ করেছে।”

তখন নির্বাচনের বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ। ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর ওই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

বহুমাত্রিক পল্লী সমবায় গড়ে তুলতে পারলে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

লেখক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বহুমাত্রিক পল্লী সমবায় প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না। তিনি বলেন, এটা প্রমাণিত, আমরা যদি বহুমাত্রিক পল্লী সমবায় গড়ে তুলতে পারি তবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য থাকবে না, দারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূল হবে।

শেখ হাসিনা ৪৯তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় সমবায় পুরস্কারপ্রাপ্তদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের বড় ভূমিকা রয়েছে। আপনারা সেই লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবেন, আমরা সেটাই চাই, আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ চাই।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনা দেশের মানুষ যত বাধাই আসুক না কেন সামনে এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী সমবায় আন্দোলনে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য বিপণন ব্যবস্থার বিকাশ করতে বলেন। যদি আমরা বিপণন ব্যবস্থার বিকাশ না করি তবে আমরা আমাদের পণ্যগুলো বিক্রি করতে সক্ষম হব না এবং এটি সবার মধ্যে নিরুৎসাহ এনে দেবে, সুতরাং বিপণন ব্যবস্থার বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী সমবায়গুলোতে জড়িত সবাইকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

সরকার জাতির পিতার নীতিতে বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে দেশকে গড়ে তোলা যায়।

তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আন্তরিকতা এবং দায়িত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে বড় মুনাফায় প্রবৃত্ত হবেন না, এটিকে (সমবায়) স্থায়ী এবং লাভজনক সংস্থায় পরিণত করুন যাতে সকল সদস্য তাদের লাভের অংশ পেতে পারে-তিনি বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সমবায় আন্দোলনে আরও বেশি নারীর জড়িত থাকার বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী এবং তাদের এই সমবায় আন্দোলনে আরও বেশি করে অংশ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, যত বেশি নারী বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত হবে তত বেশি দুর্নীতি নির্মূল হবে।

দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ যাতে সেখান থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সেজন্য সরকার সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা গ্রামাঞ্চলে সমস্ত নগর সুবিধার ব্যবস্থা করব যাতে সেখানে বসবাসরত মানুষ উন্নত ও সুন্দর জীবন পেতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য সমবায়গুলো হাতিয়ার। বঙ্গবন্ধু সকল ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার প্রসার ঘটাতে চেয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্জ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. রেজাউল আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এর আগে এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জাতীয় সমবায় পুরস্কার প্রদান করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

আইসোলেশনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান

লেখক

স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে গেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রস অ্যাধানম গ্যাব্রিয়েসুস।

রোববার তিনি টুইটারে জানান, একজন করোনাভাইরাস রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন, এমন ধারণা হওয়ার পর তিনি সাবধানতা হিসেবে এটা করেছেন। তবে তার শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনো উপসর্গ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের

টুইটারে তিনি লিখেছেন, এই সময়ে আমাদের সবারই উচিত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সবার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসটিকে ধ্বংস করতে হলে তাকে বিস্তারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মোটামুটি সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে। কীভাবে এই ভাইরাসকে আটকানো যায়, তা নিয়ে প্রায় প্রতিদিন সতর্কতামূলক নির্দেশ দেয় সংস্থাটি। এর মধ্যে অন্যতম পরামর্শটি হলো কোয়ারেন্টাইন। গ্যাব্রিয়েসুস নিজে একাধিকবার বলেছেন, করোনার চেইন ছিন্ন করতে পারলে তাকে আটকানো সম্ভব। তার মতে, যেভাবেই হোক সংক্রমণের চেইনটি ভাঙতে হবে।

নিজের সম্পর্কে শারীরিক অবস্থা নিয়ে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, আমার শরীরে কোনো উপসর্গ নেই। আমি ঠিক আছি। তবু সাবধানতা হিসেবে কিছুদিন আইসোলেশনে থাকব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মানব এবং বাড়ি থেকেই কাজ করব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

উহানের পুনর্জন্ম: চীনের সবচেয়ে বেশি পর্যটক কেন এই নগরীতে

গত ২০শে অক্টোবর উহানে এই অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে বিয়ে করেছে ৩৮ দম্পতি

চীনের উহান নগরী ছিল করোনাভাইরাস মহামারির গ্রাউন্ড জিরো। এই বিশ্ব মহামারির প্রতীকে পরিণত হয়েছিল উহান।

কিন্তু প্রায় এক কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার এই শহরে এখন আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে।

শুধু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। যেখান থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে মহামারি শুরু হয়েছিল সেখানেই এখন ভিড় করছে সবচেয়ে বেশি পর্যটক। চীনে সবচাইতে বেশি ভ্রমণ করা শহরের শীর্ষে এখন উহান। এ বছরের অক্টোবরের ১ তারিখ হতে ৭ তারিখ পর্যন্ত চীনে যে ন্যাশনাল ডে গোল্ডেন উইক উদযাপিত হয়েছে, সেই সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি মানুষ উহান ভ্রমণে গিয়েছেন।

হুবেই প্রদেশের সংস্কৃতি এবং পর্যটন দপ্তরের পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, উহানে ছুটি কাটাতে গেছেন প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ।

উহানে যেন এই করোনাভাইরাস এখন অনেক অনেক দূরের স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই উহানকে বর্ণনা করেছিলেন এক বীর নগরী হিসেবে।

কেবল অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই উহান সফর করেছেন ১কোটি ৯০ লাখ মানুষ

চীনের সরকার বলছে উহান নগরীতে এখন করোনাভাইরাসের একটি সংক্রমণও নেই। তবে অনেক সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞ সরকারের এই বক্তব্যকে একটু সংশয়ের চোখে দেখা উচিত বলে মনে করেন।

উহানের পুনর্জন্ম

চীনে যে ন্যাশনাল ডে গোল্ডেন উইক পালিত হয় তার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ উহান ট্রেন স্টেশনে এক ‘ফ্ল্যাশ মব’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ সেখানে সমবেত হয়ে গান গাইছে এবং চীনা পতাকা দোলাচ্ছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য বিভাগের উপ-পরিচালক হুয়া চুনইং বলেন করোনাভাইরাসের পর যেন আরো বেশি প্রাণশক্তি নিয়ে উহানের পুনর্জন্ম হয়েছে।

ভিভিয়ান উ হচ্ছেন বিবিসির চীনা বিভাগের হংকং ব্যুরোর সম্পাদক।

তিনি বলছেন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সহায়তায় সরকার উহানের এমন একটি চিত্র তুলে ধরতে চাইছে যাতে মনে হয় সেখানে সবকিছু স্বাভাবিক আছে

“হ্যাঁ, ওখানে সবকিছু মনে হচ্ছে স্বাভাবিক। তবে অনেক মানুষ এবং অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের জন্য ব্যাপারটা ঠিক আগের মতো নয়। সেখানে এখনো অনেক রকমের উদ্বেগ আছে।”

“কিন্তু চীনা প্রচারণা থেকে আমরা এরকম একটা বার্তা পাই যে চীন সরকার করোনাভাইরাস খুব সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে,” বলছেন তিনি।

২৬শে অক্টোবর পর্যন্ত চীনে করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ১৫১। আর মারা গেছে পাঁচ হাজারেরও কম।

সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের জনসংখ্যা চীনের এক চতুর্থাংশ, সেখানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হয়েছে ৮৫ লাখের বেশি মানুষ। মারা গেছে ২ লক্ষ ২৫ হাজার।

“চীনে অনেক নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে। তবে মনে হচ্ছে উহানে নয়। আর সেখানে যদি ঘটেও, সরকার এটা নিশ্চিত করছে যে খুবই দ্রুততা এবং দক্ষতার সঙ্গে যেন সেটা দমন করা হয়।

সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা

চীনের সবচাইতে প্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উহানের যে পুনর্জন্ম হয়েছে, সেটা দুর্ঘটনাবশত ঘটেনি। এটা হচ্ছে সরকারের জাতীয় এবং আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

আগস্ট মাসে হুবেই প্রদেশের সরকার ঘোষণা করে যে প্রদেশের প্রায় ৪০০ অবকাশ কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে সারাদেশের পর্যটকদের জন্য এবং লোকে সেখানে বিনামূল্যে থাকতে পারবে।

তবে এসব পর্যটন কেন্দ্রে ধারণক্ষমতার অর্ধেক মানুষকেই কেবল আসতে দেয়া হচ্ছে। আর যারা এখানে বেড়াতে আসবেন তাদের শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখা থেকে শুরু করে নানা রকম নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। কিন্তু তারপরও এসব পর্যটনকেন্দ্র সফরের জন্য বিপুল সাড়া পড়ে গিয়েছিল। এরকম বিপুল সাড়া ছিল অপ্রত্যাশিত।

ন্যাশনাল গোল্ডেন উইকে যে সমস্ত পর্যটক উহান সফর করেন তারা সেখানকার ঐতিহাসিক ইয়েলো ক্রেন টাওয়ার দেখতে গিয়েছিলেন। এটি উহান শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে।

এই ইয়েলো ক্রেন টাওয়ারের বর্তমান কাঠামোটি তৈরি করা হয় কোন ১৯৮১ সালে। সেখানে ঢুকতে কোন প্রবেশমূল্য এখন দিতে হচ্ছে 

পর্যটকরা দলে দলে ভিড় করছেন আকর্ষণীয় জায়গায়

চীনের শিনহুয়া বার্তা সংস্থার খবর অনুযায়ী অন্তত এক হাজার ট্রাভেল এজেন্সি এবং সাড়ে তিনশো হোটেল সরকারের এই প্রচেষ্টায় শরিক হয়েছে। তারা পর্যটকদের নানা ধরনের ডিসকাউন্ট দিচ্ছে।

একটি পর্যটন নগরী হিসেবে উহানের যে পুনর্জন্ম, সেটাকে চীনা কর্তৃপক্ষের আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে যেভাবে তারা এই মহামারি মোকাবেলা করেছেন।

পর্যটন শিল্পের যে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল, সেটি কাটিয়ে উঠতে এটিকে তারা সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

সরকারের বিজয়

তবে এটিকে একই সঙ্গে চীনা সরকারের বিজয়ের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে

ছরের শুরুতে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে উহান ছিল আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে

তিনি আরও বলেন, “চীনারা যে ওখানে বেড়াতে যেতে চাইছে, যেটি কিনা ছিল কোভিড-১৯ মহামারির একেবারে প্রধান কেন্দ্র, সেটা সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে একটা বিরাট বিজয়।”

চীনের পর্যটন শিল্প ধীরে ধীরে আবার চাঙ্গা হতে শুরু করলেও চাইনিজ ট্যুরিজম একাডেমির পূর্বাভাস হচ্ছে ২০২০ সালে পর্যটন থেকে আয় গত বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ কমে যাবে।

ভিনন্সেন্ট নাই বিশ্বাস করেন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে এই স্বাভাবিক অবস্থা টিকবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

দ্বি-ধারী তলোয়ার

ভিনসেন্ট নাই বলছেন এই স্বাভাবিক অবস্থার বোধটা সারা দেশজুড়েই ফিরে আসছে। এখন চীনের রাস্তায় মাস্ক পরা লোক আগের তুলনায় অনেক কম দেখা যাচ্ছে।

যেমন দুই কোটি মানুষের নগরী বেইজিংয়ে মাস্ক পরা আর বাধ্যতামূলক নয়

বেইজিং এ মাস্ক পরা আর বাধ্যতামূলক নয়

“এতে করে বোঝা যায় পরিস্থিতি নাটকীয় ভাবে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবে একই সঙ্গে এটা কিন্তু একটা দ্বি-ধারী তলোয়ারের মতো ব্যাপারও হতে পারে। কারণ এই ভাইরাস এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি,” বলছেন তিনি।

“এখনো পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো কার্যকরী টিকা নেই। যদি লোকজন তাদের সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে দেয়, তখন করোনাভাইরাসের একটা দ্বিতীয় ধাক্কা খুবই বিপর্যয়কর হতে পারে।”

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে চীন হতে যাচ্ছে বিশ্বের একমাত্র বৃহৎ অর্থনীতি যারা এ বছর ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ধারণা করা হচ্ছে এই প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। গত ছয় বছর ধরে চীনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ।

তবে চীনের পর্যটনশিল্প যেখানে অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে আলোর আভাস দেখতে পাচ্ছে, অন্যান্য খাতের বেলায় সেটা বলা যাবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব খাতে এবং জনসংখ্যার অর্থনৈতিকভাবে নাজুক অংশের ওপর একটা বড় ধাক্কা দিয়েছে করোনাভাইরাস মহামারী।

“কেন্দ্রীয় সরকার চেষ্টা করছে অর্থনীতিকে পুরনো ধারায় ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু বড় বড় শহরে তরুণরা কোন কাজ খুঁজে পাচ্ছে না এবং তাদের বাড়ি ভাড়া দেয়ার মতো অর্থ পর্যন্ত পকেটে নেই। সুতরাং অনেকেই শহর ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে,” বলছেন ভিভিয়ান হু।

“অনেক মানুষ হয়তো এখন চীনের নানা এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এটা মনে রাখতে হবে এই করোনাভাইরাসের ছায়া কিন্তু এখনো রয়ে গেছে।”

লোকজন তাদের নিত্যদিনের স্বাভাবিক জীবনের ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে সময় লাগবে। আর সেখানে আসলেই কি ঘটছে, তার একটা বস্তুনিষ্ট বর্ণনা পাওয়াও কিন্তু বেশ কঠিন।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

উভলিঙ্গদের কাহিনি: 'আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন' মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

উভলিঙ্গদের কাহিনি: ‘আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন’ মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনাভাইরাস: 'বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে'

করোনাভাইরাস: ‘বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে’

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

ফ্রান্সের মুসলিমদের 'প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ' মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

ফ্রান্সের মুসলিমদের ‘প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ’ মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন ঘিওরের রকিবুল ইসলাম…

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com