আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

করোনাভাইরাস: চীনে বন্যপ্রাণী বাণিজ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি

করোনাভাইরাস: চীনে বন্যপ্রাণী বাণিজ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি
করোনাভাইরাস: চীনে বন্যপ্রাণী বাণিজ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি

করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা ক্যাম্পেইনাররা চীনের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা বন্যপ্রাণী বাণিজ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে।

জীবিত প্রাণী বিক্রি হয় যেসব বাজারে, সেসব বাজার থেকে মানবদেহে নতুন ধরণের রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবানা বেশি থাকে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরকমও ধারণা করা হচ্ছে যে উহান অঞ্চলের সেরকমই একটি বাজার থেকে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

করোনাভাইরাস যেন আরো বেশি ছড়িয়ে না পড়তে পারে তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত ব্যবসা বন্ধ করেছে চীন, তবে সংরক্ষণবাদীরা মনে করেন এই পদক্ষেপ নেয়া যথেষ্ট নয়।

তাদের বক্তব্য, বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বাণিজ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হলে তা মানুষের স্বাস্থ্যজনিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর অবৈধ চোরাকারবার বন্ধ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ক্যাম্পেইনাররা মনে করেন, ঐতিহ্যগতভাবে চীনা ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেহের অংশ ব্যবহার হওয়ায় এবং চীনাদের খাবার হিসেবে বিভিন্ন রকম বন্যপ্রাণীর চাহিদা থাকায় বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের নিয়ে বাণিজ্য বেড়ে চলেছে।

‘সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উৎস’

মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের ৭০ শতাংশের বেশি ধরণের সংক্রমণই বিভিন্ন প্রাণী থেকে – বিশেষ করে বন্যপ্রাণী থেকে – শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন নতুন করোনাভাইরাস বাদুর থেকে ছড়ানোর বড় একটি সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আগে এই ভাইরাস অন্য কোনো অচেনা প্রাণীর মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সিভিয়ার অ্যাকিউট রেস্পিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) ও মিডল ইস্ট রেস্পিরেটরি সিনড্রোমের (মার্স) পেছনে থাকা ভাইরাসও বাদুর থেকে এসেছে বলেই ধারণা করা হয়।

চীনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈধ ও অবৈধ বন্যপ্রাণীর বাজার রয়েছে
চীনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈধ ও অবৈধ বন্যপ্রাণীর বাজার রয়েছে

তবে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আগে সেগুলো সিভেট জাতীয় বিড়াল এবং উটের মধ্যে ছড়ায় বলে অনুমান করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের ডক্টর বেন এমব্রেক বলেন, “এমন ধরণের বন্যপ্রাণী ও তাদের বাসস্থানের সংস্পর্শে আমরা আসছি, যেগুলোর সাথে একসময় মানুষের কোনো সম্পর্কই ছিল না।”

“হঠাৎই আমরা এমন সব ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছি যেগুলো আসাদের জন্য একেবারেই নতুন।”

“আর সম্পূর্ণ অচেনা এসব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া আর পরজীবীর কারণে অনেকরকম নতুন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে”, বলেন ডক্টর এমব্রেক।

ভূ-পৃষ্ঠে থাকা প্রায় ৩২ হাজার জাতের মেরুদন্ডী প্রাণী সম্পর্কে এক গবেষণায় জানা যায় যে এসব প্রাণীর ২০ শতাংশই বৈধ বা অবৈধভাবে বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী বাজারে বেচাকেনা হয়ে থাকে।

সংরক্ষণবাদী গ্রুপ ডব্লিউডব্লিউএফ’এর এক গবেষণায় উঠে আসে, বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী বাজারে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়, টাকার অঙ্কের হিসেবে মাদক ব্যবসা, মানব পাচার ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের পরেই যা বিশ্বব্যাপী অবৈধ ব্যবসার তালিকায় চতুর্থ সর্বোচ্চ।

চীনের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এই বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত ব্যবসা। বহু প্রাণী বিলুপ্তপ্রায় হওয়ার কারণ হিসেবে এই বাণিজ্যকে দায়ী মনে করা হয়।

ডক্টর এমব্রেক মনে করেন, করোনাভাইরাসের মত প্রাণঘাতী রোগ যেন ভবিষ্যতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে এখনই বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বাণিজ্য বন্ধ করা উচিত।

“জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ মেয়াদে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বাণিজ্য বন্ধ করা উচিত। কারণ আমরা জানি যে প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানোর মত ভয়াবহ কোনো ঘটনা আবারো ঘটতে পারে।”

চীনের এক বন্যপ্রাণীর বাজারে ময়ুর বিক্রি করছেন এক ব্যক্তি
চীনের এক বন্যপ্রাণীর বাজারে ময়ুর বিক্রি করছেন এক ব্যক্তি

তবে চীনের সরকারের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা যে অস্থায়ী হবে, তা নিশ্চিত করেছে তারা।

তিনটি চীনা সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, “চীনে মহামারী অবস্থা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরণের বন্যপ্রাণী বিক্রি, স্থানান্তর ও পোষা নিষিদ্ধ থাকবে।”

২০০২ সালে সার্স ছড়িয়ে পড়ার পর বেইজিং একই ধরণের একটি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল।

তবে সংরক্ষণবাদীরা বলছেন, সেসময় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ নজরদারিতে কিছুটা ঢিল দেয় এবং বন্যপ্রাণীর বাণিজ্যও ধীরে ধীরে শুরু হয়ে যায়।

পরিস্থিতির পরিবর্তন?

চীনে বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো পরিবর্তিত হতে যাচ্ছে।

এ বছরের সেপ্টেম্বরে প্রাকৃতিক ও জীববৈচিত্র বিষয়ক একটি বৈশ্বিক বৈঠক আয়োজন করতে যাচ্ছে বেইজিং, যেটিকে বলা হয় কনভেনশন অন বায়োলজিকাল ডাইভার্সিটি।

১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত এই সম্মেলনটির মূল লক্ষ্য বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার গভার্নমেন্টাল সাইন্স পলিসি প্ল্যাটফর্ম অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস’এর এক গবেষণায় উঠে আসে যে প্রায় ১০ লাখের মত প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

চীনের বাজারে বিক্রি হওয়া সিভেট জাতীয় বিড়াল থেকে সার্স ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছিল বলে ধারণা করা হয়
চীনের বাজারে বিক্রি হওয়া সিভেট জাতীয় বিড়াল থেকে সার্স ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছিল বলে ধারণা করা হয়

শুধু নিজেদের দেশের অভ্যন্তরের বন্যপ্রাণীদের ঝূঁকির মধ্যে ফেলছে তাই নয়, দেশের বাইরের জীববৈচিত্র্যকেও ঝুঁকিতে ফেলছে বলে চীনের বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছে।

অন্যতম বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো নির্মাণে চীনের নেয়া বেল্ট অ্যন্ড রোড উদ্যোগের সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, চীন প্রাকৃতিক সম্পদ যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে।

যদিও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রচারণা চালানোর সময় বারবার ‘টেকসই’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

সম্প্রতি চীনেয় রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদকীয়তেও তাদের দেশের নিয়ন্ত্রণহীন বন্যপ্রাণী বাজারের সমালোচনা করা হয়েছে।

সংরক্ষণবাদীরা বলছেন জীববৈচিত্র রক্ষার বিষয়ে চীন যে আসলেই ইচ্ছুক, তা এই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর ফলে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছে তারা।

উদাহরণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরছেন চীনে হাতির দাঁত আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সফলভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর অনেকবছর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগের পর চীন সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বন্যপ্রাণীর দেহের অংশ দিয়ে তৈরি করা পণ্যের বিষয়ে এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা শুধু চীনে নয়, সারা বিশ্বে বাস্তবায়ন করা উচিত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

কাল আসছে হেমন্ত

প্রথম ফসল গেছে ঘরে/ হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে/ শুধু শিশিরের জল/ অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে/ হিম হয়ে আসে/বাঁশ পাতা- মরা ঘাস-আকাশের তারা/ বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা/ ধানক্ষেতে মাঠে-জমিছে ধোঁয়াটে/ ধারালো কুয়াশা/ ঘরে গেছে চাষা/ঝিমায়াছে এ-পৃথিবী’—কবি জীবনানন্দ দাশ হেমন্তের এমন বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর ‘পেঁচা (মাঠের গল্প)’ কবিতায়। প্রকৃতিতে বছর ঘুরে আগামীকাল আসছে হেমন্ত।

কার্তিক-অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। বিকেলগুলো এখন স্বল্পায়ু। ৪টার পর থেকেই ছায়া ঘনিয়ে আসে। ৫টার পরই সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। দিন আরো ছোট হয়ে আসবে ক্রমেই। শরতের পরে আর শীতের আগে এ ঋতু এখন যেন কাগুজে ঋতুতে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে এ ঋতুর আবেশ বাঙালির ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

গবেষকদের মতে, কৃষি প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে নবান্ন উৎসব পালন হয়ে থাকে বাংলাদেশে।  কিন্তু ৪৭-এ দেশভাগের পর এই উৎসব ধীরে ধীরে কদর হারাতে থাকে। এখন সেটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

বাংলাদেশ উৎসবের দেশ। বারো মাসে তেরো পার্বণ। এটি ছিল বাঙালির একটি অন্যতম ঐতিহ্য। প্রচলিত উৎসবের মধ্যে নবান্ন উৎসব ছিল অন্যতম। হেমন্তকালে এ উৎসব ছিল সর্বজনীন। নবান্ন ঘিরে (নতুন ধান ঘরে তোলা উৎসব) গ্রামে গ্রামে চলত পিঠা-পুলি ও ক্ষীর-পায়েসের উৎসব। হেমন্তে ধান কাটা উৎসবে যোগ হতো সারি সারি গরু ও মহিষের গাড়ি। মাঠে মাঠে কৃষকরা দল বেঁধে ধান কাটা উৎসবে যোগ দিতেন। আর গেয়ে উঠতেন জারি-সারি, ভাটিয়ালিসহ নানা ধরনের গান। এককথায় গ্রামীণ জীবনে হেমন্তের আবহ ছিল অন্তপ্রাণে গাঁথা।

হেমন্তে এখন উৎসব যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামের পিঠা এসে যোগ হয়েছে শহরের হোটেল ও ফাস্ট ফুডের দোকানে। পিঠা উৎসবও এসে যোগ হয়েছে শহরের মেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্য থেকে। হেমন্তে ধান কাটা উৎসবে আর দেখা মেলে না সারি-সারি গরু ও মহিষের গাড়ি। এখন সেখানে যোগ হয়েছে ইঞ্জিনচালিত যান বা রিকশা ভ্যান। কিন্তু এখন আর সেই ঐতিহ্য নেই।

রাজশাহীর দুর্গাপুরের আমগাছী গ্রামের শতবর্ষী ছলেমান আলী বলেন, ‘কার্তিকে আগে অনেক মানুষ না খেয়ে থাকত। নতুন ধান উঠলে সেই কষ্ট দূর হতো। নতুন ধানের আলো চাল ও সেই চালের আটা দিয়ে মুড়ি-মুড়কি, খৈ, পাটিসাপটা, ভাপাপিঠা, পায়েসসহ নানা ধরনের পিঠার আয়োজন হতো। এখন আর হয় না। কিন্তু এখন আর না খেয়ে কাউকে থাকতে দেখি না। সবাই অন্তত তিন বেলা খেতে পারছে। এটা দেখে খুব ভালো লাগে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অগ্রহায়ণে শীতের সকালে খেজুর রসের সঙ্গে দুমুঠো মুড়ি মুখে দিয়ে  কৃষক নেমে পড়ত কাজে। এখন সেখানে যোগ হয়েছে ভাত বা রুটি। পেট পুরে খেয়ে-দেয়ে মানুষ অনেক বেলা করে উঠেও দেখি কাজে বের হয়।’  

রাজশাহীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী লেখক মাহবুব সিদ্দিকীর মতে, ‘একসময় কার্তিক মাসে আশ্বিনের স্বল্প-উৎপাদনশীল আউশ ধান চাহিদার তুলনায় অনেক কম পেতেন কৃষকরা। কিন্তু এখন সেখানে যোগ হয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের নানা ধরনের ধান। ফলে এখন কোনো কোনো এলাকায় ছোট ছোট আকারে কার্তিকের শুরুতেই ধান কাটার মাধ্যমে নবান্ন উৎসব দেখা গেলেও আগের সেই জৌলুস যেন নেই। আবার অগ্রহায়ণে একমাত্র আমনের একসময় বাঙালি কৃষকদের ভরসা থাকলেও এখন প্রায় সারা বছরই উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উৎপাদন হচ্ছে। ফলে ধান কাটা ঘিরে গ্রামীণ উৎসব এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। যাতে করে পিঠা-পুলির আসরও তেমন বসছে না। সেসব আসর শীতের শহরের বিভিন্ন মেলা প্রাঙ্গণে এসে যোগ হয়েছে। আর শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট বা ফাস্ট ফুডের দোকানে সারা বছর মিলছে পাটিসাপ্টা-পুলি পিঠা। শীতে শহরের মোড়ে মোড়ে বিক্রি হয় এখন ভাপাপিঠা, যা আগে হেমন্তকালে খেজুরের নতুন গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেত বাঙালি। নবান্ন উৎসবে যোগ দিতে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হতো আত্মীয়-স্বজনকে। মেয়ে-মেয়েজামাই, নাতি-নাতনিতে ভরে উঠত কৃষকের ঘর।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে খামারিদের ১১ দফা দাবি

লেখক

শনিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ মিলনায়তনে প্রান্তিক খামারি সভায় এসে এসব কথা জানান খামারিরা। একই সঙ্গে দেশের পোলট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কার্যকরী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং চলমান সংকট দূরীকরণে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। খামারিরা বলছেন, ফিডের দাম বৃদ্ধি, বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়াসহ নানামুখী সিন্ডিকেট সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। পোলট্রি খাতে ব্যয় করে কোনো লাভ নেই। তাহলে বেকাররা কীভাবে এগিয়ে আসবে আর খামারিরা টেকসইভাবে এ ব্যবসা করবে বলে প্রশ্ন করেন তারা। আরও

 এ জন্য এ খাতের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফিড ও বাচ্চার দাম যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি বন্ধ করা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য করাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে জোর দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম, প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী,  বিশেষ অতিথি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা চাষি মামুন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে আগত করোনা ও অন্যান্য সংকটে বিপর্যস্ত প্রান্তিক খামারিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দ্রব্যমূল্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সুখবর নেই

লেখক

কয়েকমাস ধরেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। সোমবার (১১ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এতে এনবিআর, টিসিবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।।


পেঁয়াজসহ সভায় ভোজ্য তেল, চিনি ও মসুর ডালের মূল্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।


সভার শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয় সভায়।


আগামী চার মাসের জন্য পেঁয়াজের ওপর থেকে শুল্ক এবং চিনি ও তেলে ওপর থেকে অ্যাডভান্স ট্যাক্স প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেন বাণিজ্য সচিব।




দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের সংকট থাকবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চারদিক থেকেই চেষ্টা করছি যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে আমরা যত দিন পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ হব না, ততদিন কখনো কখনো ক্রাইসিসের মধ্য পড়তে হবে।
 

বাণিজ্য সচিব বলেন, পরিস্থিতি এ থেকে আর বেশি খারাপ হবে না। তবে আগামী একমাস পরিস্থিতি একটু নাজুক থাকবে উৎপাদনের দিক থেকে চিন্তা করলে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিসিবি সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সারা দেশে ৪০০ ট্রাকে ৪০০ থেকে ১০০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ছাড়া ভারত ও তুরস্ক থেকে ১৫০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রতিবছর একই সময়ে কেন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম?

লেখক

হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে কেনার আগে ভাবতে হয় ভোক্তাদের। এর কারণ স্পষ্ট। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবেই গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
 কয়েক বছর ধরে এই সময়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আমদানি নির্ভরতাকে দায়ী করছেন কমিশন এজেন্ট ও আমদানিকাররা।
 কমিশন এজেন্ট মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ভারতের রপ্তানিকারকরা যে বাজার নির্ধারণ করে, সেই বাজারটাই বাংলাদেশে নির্ধারণ হয়।
 পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. মোশারফ শিকদার বলেন, দেশে যে পরিমাণ উৎপাদন হয় সেটা যথেষ্ট না। আরেক পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী মো. মাজেদ বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আনলে আমাদের দেশে দাম কম পড়ে।
 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য, গত জুন পর্যন্ত এক বছরে পেঁয়াজের ৩৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় সাড়ে ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। যা আগের বছরের চেয়ে ৮ লাখ টন বেশি।


 সংরক্ষণ দুর্বলতায় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নষ্ট ধরলেও টিকে যায় ২৫ লাখ টনের বেশি। সেক্ষেত্রে আমদানি করতে হচ্ছে ১০ লাখ টন। অথচ আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ঘাটতি দেখিয়ে ফায়দা লুটতে চায় বিশেষ একটি শ্রেণি।
 বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। যারা ঘাটতি বলে তারা আসলে ব্যবসা করতে যায়।
 কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে নেই চাহিদা-যোগান আর উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যান। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আমদানি বন্ধেই রয়েছে এর আসল সমাধান।
 কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. মো. সদরুল আমিন বলেন, আমাদের আসল উৎপাদন কত আর আমাদের চাহিদা কত এখানে একটু রঙ্গরস আছে। কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর কারসাজি আর কিছু সরকারি ব্যক্তি পর্যায়ের অনাগ্রহ। সমাধান হলো, আমাদের একটা প্যাকেজ আছে উৎপাদন করব আমদানি করব না।
 কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও মৌসুমের শুরুতে নায্যমূল্য না পাওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষীরা। যার প্রভাব পড়ছে মৌসুমের শেষে।


 কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মৌসুমে পেঁয়াজের দাম যদি ৪০ টাকা হয়, তাহলে তারা লাভ করতে পারবে। কিন্তু আমরা মৌসুমে সেই দাম দিতে পারি না। যার ফলে পরবর্তী সময় বিভিন্ন হাত ঘুরতে ঘুরতে এটার দাম বেড়ে যায়।
 পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নেয়া চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরে বার্ষিক চাহিদা অপরিবর্তিত রাখা হলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কুমিল্লায় জমজমাট মাছ ধরার ফাঁদ চাই-এর হাট

লেখক

জেলায় জমে উঠেছে মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই’-এর হাট। খাল-বিল ও নদী প্রধান এই  জেলার অন্তত ২৫টি হাটবাজরে বিক্রি হচ্ছে মাছ ধরার এই বিশেষ ফাঁদ।


জেলার চান্দিনা, তিতাস, মুরাদনগর, মেঘনা উপজেলার হাটসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বসেছে চাইয়ের হাট। সপ্তাহে দুই দিন করে হাট বসে। বর্ষায় পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলে পানির মধ্যে এই যন্ত্রটি রেখে দেয়া হয়। চলাচলের সময় ছোট-ছোট মাছগুলো বাঁশের তৈরি এই ফাঁদের ভিতরে আটকা পড়ে। এটি গ্রামাঞ্চলের মাছ ধরার খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এই সময়ে জেলার সব জায়গায় মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
কুমিল্লার মাধাইয়া ও দোল্লাই, নবাবপুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি চাই আকার ভেদে ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দোল্লাই নবাবপুর বাজারের চাই ব্যবসায়ী আনু মিয়া বাসসকে বলেন, এই মৌসুমে প্রতি হাটে ৬০-৭০ টি চাই বিক্রি করি। বহু দূর-দূরান্ত এলাকা থেকে আমার কাছে এসে চাই কিনে নিয়ে যায়। বর্ষার শেষ দিকে এসে আমাদের এলাকায় চাই বিক্রি বেড়ে যায়। কারণ এই সময়ে ছোট-ছোট মাছগুলো পানি কমার সময় চাইগুলো জমির আইলে বিশেষ কাদায় পুঁতে রাখলে ফাঁদে মাছগুলো আটকা পড়ে।


মহিচাইল গ্রাম থেকে চাই কিনতে মাধাইয়া হাটে আসা নুরু মিয়া বাসসকে বলেন, এই মৌসুমে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কেজি মাছ ধরতাম, তা বিক্রি করতাম ৩ থেকে ৪ শত টাকা। আমি প্রতি মৌসুমে পানি কমার সময় ৫ থেকে ৬ চাই কিনে নিয়ে যাই। এগুলো দিয়ে যে মাছ পাওয়া যায়, তা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাকি মাছ স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করি। দেশীয় পদ্ধতিতে এই সময়ে মাছ ধরায় মেতে উঠে ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে ছোট মাছ ধরার ধুম পড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com