আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

চিনিকল ঘিরে সংকট, দরকার আধুনিকায়ন

১৪ বছর ধরে টানা লোকসান

  • প্রতি কেজিতে উৎপাদন ব্যয় ১৫০ টাকা।
  • সরকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য ৬০ টাকা।
  • বেসরকারি চিনির কেজি ৫৫ টাকা।
  • প্রায় ২০ কোটি টাকার চিনি অবিক্রীত।

পঞ্চগড়ের মানুষ আখকে বলে কুশার। সেই কুশার কাটার মৌসুম শুরু হতে আর মাস দু-এক বাকি। তবে কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে কুশারগাছ হেলে পড়েছে। ভরদুপুরে সেই হেলে পড়া গাছগুলো বেঁধে সোজা করে দিচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম (৪০)।

শহিদুলের বাড়ি বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের গাইঘাটা গ্রামে। বাড়িসংলগ্ন এক একর জমি ভাড়া (লিজ) নিয়ে আখ চাষ করেছেন। জেলার অন্য চাষিদের মতো তিনিও কুশার বিক্রি করবেন পঞ্চগড় চিনিকলে। পঞ্চগড় চিনিকল বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীনে থাকা ১৫টি চিনিকলের একটি।

খেতে কাজ করার সময় শহিদুলের সঙ্গে কথা হয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর। খেতের আখ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। লোকমুখে শুনেছেন, লোকসানের কারণে পঞ্চগড় চিনিকলটি শিগগির বন্ধ হতে যেতে পারে। মিল বন্ধ হলে আখের কী হবে!

আখচাষি শহিদুলের মতো মিলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরাও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। এই চিনিকল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন কয়েক হাজার মানুষ। উদ্বিগ্ন তাঁরাও।

জেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান পঞ্চগড় চিনিকল। চিনিকল ছাড়াও এটির আওতাধীন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাফেজিয়া মাদ্রাসা, জেনারেল ক্লাব, ট্রেনিং কমপ্লেক্স ও অতিথি ভবন রয়েছে। মিল ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বাজার। এসব নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

১ অক্টোবর শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন পঞ্চগড়ে এলে চিনিকলটি সচল রাখার দাবিতে তাঁকে স্মারকলিপি দেয় পঞ্চগড় চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়ন। এ প্রসঙ্গে পঞ্চগড় জেলা সার্কিট হাউসে শিল্পমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের অঙ্গীকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কাজেই কোনো চিনিকল বন্ধ করা হবে না। তবে চিনিকলগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

চিনিকলগুলো বেসরকারীকরণ হবে কি না, এ বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেছেন, চার-পাঁচটি চিনিকল জাতীয় চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। ফলে এত বড় সম্পদ ফেলে রাখা যাবে না। বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।

কেন দুশ্চিন্তা

পঞ্চগড় চিনিকলের কর্মকর্তারা বলছেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় চিনিকলসহ দেশের সব সরকারি চিনিকলকে জরুরি চিঠি দেয় খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। চিঠিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, লাভ-লোকসান ও শ্রমিক-কর্মচারীদের দেনা-পাওনার হিসাব চাওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড় চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা বলছেন, বিএসএফআইসির চিঠির একটি অংশে চিনিকলের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের অবসরে পাঠালে কী পরিমাণ অর্থ লাগতে পারে তারও হিসাব চাওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন পঞ্চগড় চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী রুহুল আমিন কায়সার। তিনি বলেন, করপোরেশনের চাহিদামতো সব তথ্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু করপোরেশন কেন এসব তথ্য চাইল তা তাঁর জানা নেই—বললেন রুহুল আমিন।

ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ইউসুফ আলী জানান, পঞ্চগড় চিনিকলে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের অনুমোদিত পদ আছে ৯৯৪টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ২৮৯ জন। শূন্য পদগুলোর বিপরীতে ৫০১ জন শ্রমিক-কর্মচারী দৈনিক হাজিরা ও মৌসুমভিত্তিক চাকরি করছেন। একসময় চিনিকলটিতে দেড় হাজারের বেশি জনবল ছিল।

জেলা শহরের কাছেই ধাক্কামারা এলাকায় চিনিকলটির বাঁ পাশে দাপ্তরিক কার্যালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেলা একটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখি, সুনসান নীরবতা। দাপ্তরিক কাজকর্ম চললেও কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি খুব কম। একজন কর্মকর্তা জানালেন, দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরু হয় সকাল সাতটায়, চলে বেলা দুইটা পর্যন্ত।

কারখানার উত্তর গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী মফিজুল ইসলাম জানালেন, আট মাস আগে দৈনিক ৪৯০ টাকা হাজিরা ভিত্তিতে মিলে কাজ নিয়েছেন। ছয় মাসের বেতন পেয়েছেন। দুই মাসের বেতন বকেয়া।

চিনিকলে এসেছেন সদর উপজেলার গলেহা কান্তমণি গ্রামের আজিরুল ইসলাম। তাঁর বাবা মোজাম্মেল হক যন্ত্রচালক ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি মারা যান। আজিরুল এসেছেন বাবার পেনশনের টাকার জন্য কথা বলতে। কিছু টাকা পেয়েছেন। আরও পাওনা আছে। এর মধ্যে চিনিকলটি বন্ধের কথা শুনে তিনিও চিন্তিত।

সংকটের শুরু যেখানে

১৯৬৫ সালে পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা এলাকায় ১৯৮ দশমিক ৪৬ একর জমিতে পঞ্চগড় চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরীক্ষামূলকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬৯ সালে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে চিনিকলটি জাতীয়করণ করা হয়।

কলটির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১০ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৫ সাল পর্যন্ত চিনিকলটিতে গড়ে ৮ হাজার ৫৩৬ টন চিনি উৎপাদিত হতো। এতে লাভেই ছিল প্রতিষ্ঠানটি। সবশেষ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা মুনাফা আসে এখান থেকে।

কিন্তু চিনির লাভ আর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে ধারাবাহিক লোকসান পর্ব চলতে থাকে। এভাবে ১৪ বছর ধরে টানা লোকসান করে যাচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি।

চিনিকলের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরেও লোকসান হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লোকসান ছিল ৬৩ কোটি টাকা। সব মিলে এ প্রতিষ্ঠানের লোকসান ৪৭০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

তবে চিনিকলের ব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ নাজমুল হুদা বলছেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫ কোটি টাকা কম লোকসান হয়েছে। গত মৌসুমে সরকার চিনিকলকে আখ ক্রয় বাবদ ৫ কোটি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৭০ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। ফলে আখচাষিরা আখ বিক্রির টাকা ঠিকমতো পেয়েছেন। শ্রমিক-কর্মচারীরাও কম-বেশি বেতন পাচ্ছেন।

লোকসানের কারণ

চিনিকলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একসময় পঞ্চগড় জেলায় প্রচুর আখ চাষ হতো। ফলে চিনিকলটি লাভজনক ছিল। কিন্তু দেড় দশকে আখ চাষ অনেক কমেছে। চিনি উৎপাদনও কমেছে।

এ ছাড়া কলের যন্ত্রপাতি পুরোনো। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমেছে। উল্টো বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। চিনিকলটির ঋণের পরিমাণ ১৯২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ঋণের সুদ দিতে গিয়েও বাড়ছে লোকসান। প্রতিষ্ঠানটিকে এ বছরও ২৮ কোটি টাকা ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে।

ব্যবস্থাপক নাজমুল হুদার মতে, সরকার চিনিকলের ঋণ মওকুফ করলে লোকসান অনেকাংশে কমে আসবে এবং এটির পুনরুজ্জীবন সম্ভব।

আখের অভাবে গত বছর চিনি উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪১৪ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫০ টাকা। কিন্তু বিক্রয় মূল্য সরকার নির্ধারিত ৬০ টাকা। ফলে প্রতিবছর লোকসান বাড়ছে। এ ছাড়া আগের উৎপাদিতসহ মোট ৩ হাজার ২৬১ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রীত আছে, যার দাম প্রায় ২০ কোটি টাকা।

চিনিকলের ব্যবস্থাপক (কারখানা) শাহজাহান করিম বলছেন, উৎপাদিত চিনি বিক্রি করাও মুশকিল। কারণ, বাজারে প্রাইভেট কোম্পানির চিনি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ডিলাররা ৬০ টাকা কেজিতে এই চিনি নিতে চান না।

চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-বোনাস মিলিয়ে বছরে ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু আখের সরবরাহ স্বল্প। কল চলে দুই মাস। বাকি সময় অধিকাংশ শ্রমিকের কাজ থাকে না। এতে জনশক্তির ব্যবহার যথাযথ হয় না।

আখ চাষ কমছে কেন

পঞ্চগড়ের যেসব এলাকা আখ চাষের জন্য সব থেকে পরিচিত, তার মধ্যে অন্যতম সুরিভিটা। বছর দশেক আগে এখানকার কৃষকেরা ১ একর থেকে ১৫-২০ একর জমিতে আখ চাষ করতেন। কিন্তু এখন?

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের এই এলাকায় আখচাষিকে খুঁজে পেতে হন্যে হতে হলো। সুরিভিটা গ্রামের মুদিদোকানের টংয়ে বসা একসময়ের আখচাষি আইবুল হককে (৫০) জিজ্ঞেস করি, ‘আখ চাষ বাদ দিলেন কেন?’ প্রশ্ন কেড়ে নিয়ে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘চাষ করে কী হবে?’

আইবুল হক সর্বশেষ আট-নয় বছর আগে ১৩ একর জমিতে আখ চাষ করেছিলেন। কিন্তু আখ বিক্রির সময় তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। মিলে আখ দিয়ে কয়েক মাস টাকার জন্য ঘুরেছেন। দেনায় পড়ে আখ সরবরাহের ভাউচার কপি মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে বিক্রি করেছেন। এসব ভোগান্তি থেকে বাঁচতে তিনি আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন।

আইবুলের পাশে বসা ছিলেন ওসমান আলী (৩০)। তিনি গত বছর দুই বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। তিনি বলছেন, চিনিকল আগের থেকে কিছুটা ভালো চলছে। গতবার তাঁকে সার, বীজ ও নগদ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আখ বিক্রির টাকাও ১৫ দিনের মধ্যে পেয়েছেন। তবু তাঁর আগ্রহ নেই আখ চাষে। কেন?

ওসমানের হিসাবে, দুই বিঘা জমিতে আখের উৎপাদন হয়েছে ৪০০ মণ। দাম পেয়েছেন ৪০ হাজার টাকা। বিপরীতে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সারা বছর খাটুনির পর মাত্র ১০ হাজার টাকা পেয়ে খুশি নন তিনি।

পঞ্চগড় শহর থেকে দেবনগর, ভিতরগড়, দশমাইল, অমরখানা, জগদল, ভজনপুর এলাকা ঘুরে দেখি, কৃষকেরা চা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তাঁরা বলছেন, আখের চেয়ে চায়ে লাভ বেশি।

চিনিকলের ব্যবস্থাপক (কৃষি) মোস্তফা কামাল বলছেন, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আখচাষিদের বিশেষ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এতে দুই বছর ধরে তুলনামূলক আখের চাষ বাড়ছে।

পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মজহারুল হক প্রধান কেন্দ্রীয় আখ চাষি ফেডারেশনের সভাপতি। তিনি বলছেন, আখ চাষ কমেছে, এটা সত্য। তবে আখের স্বল্পকালীন উন্নত জাত উদ্ভাবন করতে পারলে এটি আবারও জনপ্রিয় হবে।

ভবিষ্যৎ কোন পথে

স্থানীয় লোকজন বলছেন, বেসরকারীকরণ নয়, দরকার আধুনিকায়ন। চিনিকলটিকে বিকল্প আয়ের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বহুমুখী প্রকল্প নিতে হবে।

চিনিকলটি ঘিরে কয়েকটি প্রস্তাব বিএসএফআইসির কাছে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী রুহুল আমিন কায়সার বলেন, শুধু চিনি উৎপাদন করে এ প্রতিষ্ঠান টেকানো সম্ভব নয়।

পঞ্চগড় নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেনও বেসরকারীকরণের বদলে এর আধুনিকায়ন চান। তাঁর মতে, জেলার একমাত্র ভারী শিল্পকারখানাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় ভীষণভাবে প্রভাব পড়বে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেয়ার নির্দেশ

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য গবেষক, বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট চলছে। এ সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং কতদিনের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাবে, সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে বসে শিগগিরই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে। সরকার পক্ষ থেকে পেঁয়াজ চাষিদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আগামী গ্রীষ্মকালে দেশের কোন উপজেলায় কতজন চাষি পেঁয়াজ আবাদ করবে, তার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।’

আগামী ১- ২ মাসের মধ্যে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন, পেঁয়াজ বীজের চাহিদা নিরূপণ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আব্দুর রাজ্জাক।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বর্তমান সরকার সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ বিতরণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। কৃষি উপকরণ নিয়ে দেশে এখন কোনো হাহাকার নেই, সংকট নেই। কৃষকেরা সার, বীজসহ এসব উপকরণ সময়মতো, অত্যন্ত সহজে ও কোনো ঝামেলা ছাড়াই পেয়ে যাচ্ছেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. নাজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিজ্ঞানী কাজী এম বদরুদ্দোজা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবদুল মুঈদ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, বারির পরিচালক মো. মিয়ারুদ্দীন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আলু-পেঁয়াজের বাজারে অভিযান, সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং নকল ও ভেজাল প্রতিরোধে সারাদেশে খুচরা ও পাইকারি বাজা‌রে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

অভিযানে ১১৮টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়ে‌ছে। ‌বুধবার (১৪ অ‌ক্টোবর) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সার্বিক নির্দেশনায় ও বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের পরামর্শ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঢাকা মহানগরীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর শাহ আলী বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, হাতিরপুল এলাকায় অভিযান করা হয়।

অভিযান প‌রিচালনা ক‌রেন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস, সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার প্রামানিক, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান ও মাহমুদা আক্তার।

এছাড়াও ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাজারে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তদারকিকালে আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আদাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা হয়।

এছাড়া পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, মূল্যতালিকার সঙ্গে বিক্রয় রশিদের গরমিল, পণ্যের ক্রয়রসিদ সংরক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও পণ্য, নকল পণ্য, ওজনে কারচুপিসহ ভোক্তাস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে সারাদেশে ১১৮টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তদারকিকালে চাল, আলু ও পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে কারসাজি না করা এবং বাধ্যতামূলকভাবে পণ্যের ক্রয়রসিদ সংরক্ষণের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক ও নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনাকে অধিদফতর সবসময়ই স্বাগত জানায়। কিন্তু অসাধু ও অনৈতিক যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করবে।

ভোক্তাস্বার্থ সংরক্ষণে দেশব্যাপী অধিদফতরের অভিযান চলছে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না : প্রধানমন্ত্রী

একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না, একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে, কোনো মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না, আমাদের বিশাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সহযোগিতা করছি। খাদ্যের সাথে সাথে পুষ্টির নিশ্চয়তা হয়, মানুষজন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা কায়েম করব।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত থাকে সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রতিটি মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র যারা আমরা তাদের মাঝে বিনা পয়সায় খাবার বিতরণ করে যাচ্ছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখবো। বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের একটাই চিন্তা- জাতির পিতা চেয়েছেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে, আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে। আমরা করোনার সাথে সাথে ঝড়-বন্যা সবই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। এভাবেই আমাদের বাঁচতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না, গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগান যে যা পারেন কিছু লাগিয়ে নিজের উৎপাদন বাড়ান।

নি বলেন, আজকে আপনারা জানেন করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। যখনই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তখনই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, খাদ্যের নিশ্চয়তাটা থাকতে হবে। কারণ, করোনা ভাইরাসের কারণে সমগ্র বিশ্বে স্থবির একটা দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে যেন তার প্রভাব না হয়, আমাদের দেশের মানুষ যেন কোনোরকম কষ্ট ভোগ না করে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের মহাব্যবস্থাপক কিউ ইউ ডনিউ ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন।

গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খাদ্যদ্রব্যের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে আসছে কঠোর আইন

খাদ্যদ্রব্যের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে কঠোর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য ‘খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২০’ এর খসড়া করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে ১৯৫৬ সালের দ্য ফুড (স্পেশাল কোর্ট) অ্যাক্টও পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হবে স্পেশাল কোর্ট আইনের আওতায়।

সম্প্রতি চাল, পেঁয়াজ, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের অবৈধ মজুতের মাধ্যমে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের ভোগান্তিতে ফেলছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। বিব্রত হচ্ছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে কঠোর আইন করার উদ্যোগ নিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ‘দ্য ফুড গ্রেইনস সাপ্লাই (প্রিভেনশন অব প্রিজুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিটি) অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯’ রয়েছে। আইনটি অনেক পুরোনো। এটি হালনাগাদ করে নতুন আইন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘নতুন আইন অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি কঠোর হবে। দুষ্ট লোকদের অপরাধের ধরন পাল্টেছে, আমাদের সেটা শক্তভাবেই ডিল করতে হবে। আমাদের কাজের পরিধি বেড়েছে, নানা ধরনের প্রেক্ষাপট আমাদের সামনে আসছে। সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন আইন করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই শাস্তি বাড়বে। বিশেষ খাদ্য আদালতের আওতায় এসব অপরাধের বিচার হবে।’

‘১৯৭৯ সালের আইন অনুযায়ী কেউ এই ধরনের অপরাধ করলে তিন মাসের আটকাদেশ দেয়া যেত। সেভাবে কোনো শাস্তির কথা ছিল না। ১৯৫৬ সালের ফুড স্পেশাল কোর্ট অ্যাক্টও আমরা নতুন করে করছি, এটি যুগোপযোগী করা হবে। খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইনে উল্লেখ করা অপরাধগুলোর বিচার হবে স্পেশাল কোর্ট অ্যাক্টের আওতায়।’

খাদ্য সচিব আরও বলেন, ‘আমরা এখন খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইনের খসড়ার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিচ্ছি।’

খসড়া আইনে খাদ্যদ্রব্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যেকোনো প্রকার দানাদার খাদ্যশস্য যেমন- চাল, ধান, গম ইত্যাদি; ভোজ্যতেল যেমন- সয়াবিন, পামওয়েল, সরিষা, সানফ্লাওয়ার ওয়েল, অলিভ অয়েল, সরিষার তেল এবং অন্যান্য সকল প্রকার ভোজ্যতেল, খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের কাঁচামাল, পেঁয়াজ, লবণ, চিনি, ডাল, প্রক্রিয়াজাত যেকোনো খাদ্যদ্রব্য এবং অন্যান্য প্রচলিত আইনে সংজ্ঞায়িত খাদ্য।

আইনের খসড়ায় খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন এবং এ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে নানা কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মজুত সংক্রান্ত অপরাধ

ব্যক্তিগত ভোগের উদ্দেশ্য ছাড়া পরিবহন যান বা গুদামে বা যেকোনো স্থানে সরকার ঘোষিত পরিমাণের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রাখা বা মজুত করা খাদ্যশস্যের হিসাব যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দেখাতে ব্যর্থ বলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

মজুত করা খাদ্যশস্যের উৎস সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা বা গোপন করা। মজুত খাদ্যশস্যের মান বজায় রাখার উদ্দেশ্য প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত না করায় খাদ্যশস্যের গুণগতমান কমে যাওয়া। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও মজুত রাখাও হবে অপরাধ।

আরও যেসব কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে তা হলো- ‘এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ না করা। পুরোনো চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য অবৈধভাবে গুদামে মজুত রেখে অসৎ উদ্দেশ্যে পলিশিং বা অন্যান্য রূপে মিশ্রণ করে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের আওতায় সরকারি গুদামে সরবরাহ করা। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের সময় গুদামে আমদানি করা চাল বা গম সরকারি গুদামে সরবরাহ করা।

স্থানান্তর সংক্রান্ত অপরাধ

খাদ্যশস্য স্থানান্তরকালে খাদ্যশস্যের মান বজায় রাখার জন্য প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে খাদ্যশস্যের গুণগতমান কমে যাওয়া। পরিবহন করা খাদ্যশস্যের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মানুষের ভোগের অনুপযুক্ত খাদ্যশস্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা। জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে ভোগের অনুপযুক্ত খাদ্যদ্রব্য বিনষ্ট বা নিষ্পত্তি করা। ইনভয়েস বা চালানে উল্লেখ করা কেন্দ্রে খাদ্যশস্য খালাস না করে অন্যভাবে মজুত স্থানান্তর দেখানো। পরিবহনকালে ইনভয়েস বা চালানের সঙ্গে দেয়া নমুনা মোতাবেক খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য গুদামে হস্তান্তর করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

পরিবহন সংক্রান্ত অপরাধ

যথাযথ চালান বা ডকুমেন্ট ছাড়া সরকারি-বেসরকারি খাদ্যশস্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহন এবং পরিবহনকালে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ বা বিনষ্ট করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সরবরাহ সংক্রান্ত অপরাধ

কর্মসূচির নামাঙ্কিত বিতরণকৃত সিল ছাড়া সরকারি গুদাম থেকে খাদ্যশস্যভর্তি বস্তা গ্রহণ, স্থানান্তর, মজুত, হাতবদল বা পুনরায় বিক্রি। বিতরণ করা সিলযুক্ত খাদ্যদ্রব্য ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয়কালে এই সম্পর্কিত লেনদেনের উপযুক্ত দলিল দেখাতে ব্যর্থ হলে। পুরোনো বা বিতরণ করা সিলযুক্ত বস্তা সরকারি গুদামে সরবরাহ করা- এক্ষেত্রে অপরাধ বলে গণ্য হবে।

বিতরণ সংক্রান্ত অপরাধ

সরকারের কোনো কর্মসূচির আওতায় বিধি অনুযায়ী নিযুক্ত ব্যবসায়ীরা ডিলার বা প্রকল্প চেয়ারম্যান বা অন্যকোনো ব্যক্তির মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য বিতরণকালে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বিতরণ করা। ভোক্তা বা উপকারভোগীর কার্ড ডিলার বা অন্যকোনো ব্যক্তির আটক রাখা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিপণন সংক্রান্ত অপরাধ

খসড়া আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, যদি খাদ্যসামগ্রী বিক্রি বা বিতরণের জন্য বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানের বাটখারা বা পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার এবং সঠিক ওজনে ভোক্তার নিকট খাদ্যসামগ্রী বিক্রয় বা বিতরণ না করা হয়।

খাদ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত লেনদেনের হিসাব ও এ-সংক্রান্ত প্রমাণ সংরক্ষণ না করা। এ আইনের অধীন শ্রমিক, কর্মচারী, ঠিকাদার, মিলার, ডিলার বা অন্যকোনোভাবে নিযুক্ত ব্যক্তিদের খাদ্যদ্রব্য মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন বা এ-সংক্রান্ত কোনো কর্মসম্পাদনে বিরত থাকা। বা সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে তার কর্তব্য পালনে বিরত থাকতে বাধ্য করা বা বিরত থাকতে প্ররোচিত করা। বা তাদের মধ্যে অসন্তোষ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা অপরাধ হবে।

এছাড়া খসড়া আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন সম্পর্কিত কোনো মিথ্যা তথ্য বা বিবৃতি তৈরি মুদ্রণ, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ বা খাদ্যদ্রব্যের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করাও হবে অপরাধ।

কী পরিমাণ খাদ্যপণ্য কতদিন মজুত করা যায়

কী পরিমাণ খাদ্যপণ্য বা খাদ্যসামগ্রী (চাল, ধান, গম, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল) কতদিন মজুত করা যাবে তা নির্ধারণ করে ১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটির অ্যাক্টের অধীনে ২০১১ সালের ৪ মে একটি আদেশ জারি করে সরকার।

সেখানে চালের বিষয়ে বলা হয়েছে, সরকারের দেয়া লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী এক টনের বেশি চাল বা খাদ্যশস্য তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না।

লাইসেন্সধারী আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী ও চালকল মালিক বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন পরিমাণ চাল মজুত রাখতে পারবেন। পাইকারি পর্যায়ে একজন ব্যবসায়ী ৩০০ মেট্রিকটন ধান ও চাল ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত রাখতে পারবেন।

ধান ও চালের ক্ষেত্রে খুচরা পর্যায়ে ১৫ টন ১৫ দিন মজুত রাখা যাবে। আমদানিকারক আমদানি করা ধান-চাল শতভাগ ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত করতে পারবেন।

চালকল মালিক পর্যায়ে অটোমেটিক, মেজর ও হাসকিং চালকলের ক্ষেত্রে পাক্ষিক (১৫ দিনে) ছাঁটাই ক্ষমতার পাঁচগুণ ধান ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত করা যাবে।

তবে চালের ক্ষেত্রে অটোমেটিক ও মেজর মিলের ক্ষেত্রে অনুমোদিত মজুতের পরিমাণ পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতার দ্বিগুণ। এ পরিমাণ চাল ১৫ দিন মজুত রাখা যাবে।

আদেশে বলা হয়েছে, আমদানিকারক বা পাইকারি বিক্রেতা অনুমোদিত মেয়াদের মধ্যে অনুমোদিত মজুত তার নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে বিক্রি করতে না পারলে অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ছক ও পদ্ধতিতে সরকারের নির্ধারিত কর্মকর্তাকে জানাবে।

অনুমোদিত প্রত্যেক লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীকে খাদ্যসামগ্রী আমদানি, ক্রয়, মজুত ও বিক্রয়ের হিসাব লাইসেন্স দেয়া কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ছকে পাক্ষিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

অপরদিকে সরকারের মনোনীত কর্মকর্তা ও লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে প্রাপ্ত তথ্যাদি প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আলু-পেঁয়াজের বাজা‌রে অভিযান, ৩০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজা‌রের ৩০ প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়ে‌ছে।

শ‌নিবার ( ১৭ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সার্বিক নির্দেশনায় ও বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের পরামর্শ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঢাকা মহানগরের শ্যামবাজার, নয়াবাজার ও বাবু বাজারে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন- অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাসুম আরেফিন, বিকাশ চন্দ্র দাস ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মন্ডল।

এছাড়াও ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাজারে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তদারকিকালে আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আদাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে কি না তা মনিটরিং করা হয়। এছাড়া পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মূল্য তালিকার সঙ্গে বিক্রয় রসিদের গরমিল, পণ্যের ক্রয় রসিদ সংরক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও পণ্য, নকল পণ্য, ওজনে কারচুপিসহ ভোক্তাস্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে সারাদেশ ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com