আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

চায়ের সাম্রাজ্যে এখন দেশীয়দের আধিপত্য

উপমহাদেশে চা চাষের শুরু ব্রিটিশদের হাতে। বাজার তৈরিতে তারা শুরুতে বিনা পয়সায় চা তুলে দিয়েছিল মানুষের মুখে। চাষ, বিপণন, রপ্তানি ও বাগানের মালিকানা—সবকিছুতেই ছিল তারা। একসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন হলেও চায়ের বাজারে আধিপত্য ঠিকই ধরে রেখেছিল। সেই আধিপত্যের গল্প এখন নতুন করে লেখা হচ্ছে দেশি শিল্প গ্রুপের হাত ধরে।

দুই দশকে ব্রিটিশ কোম্পানি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগান ইজারা নিয়ে বিনিয়োগ করেছে দেশীয় শিল্প গ্রুপগুলো। এই তালিকায় আছে ১৮টি শিল্প গ্রুপ। আভিজাত্য ও অবকাশযাপনের কেন্দ্র হিসেবে না দেখে তাদের সিংহভাগই বাগান সংস্কার ও যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করেছে। তাতে কয়েক বছরে চায়ের উৎপাদন প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে।

চা বোর্ডও দুই দশকে নতুন নতুন প্রকল্প নিয়েছে। চা চাষের আওতা বাড়াতে তদারকি বাড়িয়েছে। ক্ষুদ্র চাষি ও নতুন উদ্যোক্তাদের চা চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাতে দেড় শ বছরের বেশি সময় ধরে চা উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু সিলেট–চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে চা চাষের বিস্তার ঘটেছে উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য জেলায়।

চা উৎপাদনের এই সাফল্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কয়েক বছর আগের অনুমানও ভেঙে দিয়েছে। সংস্থার একটি কমিটির আভাস ছিল, ২০২৭ সালে বাংলাদেশে চায়ের উৎপাদন দাঁড়াবে ৯ কোটি ৬৮ লাখ কেজিতে। গত বছরই দেশে চায়ের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজিতে। এই সাফল্য এসেছে মূলত দেশীয় বড় গ্রুপের হাতে।

শুধু ব্ল্যাক টি উৎপাদনে আটকে না থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ চা উৎপাদনে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে চা–শিল্পের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ও দক্ষতা বাড়াতে হবে, যেটি চায়ের উৎপাদনের স্বার্থেই জরুরি।

চা উৎপাদনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুই দশক আগে ২০০০ সালে স্টারলিং কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর হাত ধরে উৎপাদিত হয় মোট উৎপাদনের ৪৮ শতাংশ চা। গত বছর তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৯ শতাংশ। আর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে দেশীয় কোম্পানিগুলোর হাতে এখন উৎপাদিত হচ্ছে ৮১ শতাংশ চা।

চা বোর্ডও দুই দশকে নতুন নতুন প্রকল্প নিয়েছে। চা চাষের আওতা বাড়াতে তদারকি বাড়িয়েছে। ক্ষুদ্র চাষি ও নতুন উদ্যোক্তাদের চা চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাতে দেড় শ বছরের বেশি সময় ধরে চা উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু সিলেট–চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে চা চাষের বিস্তার ঘটেছে উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য জেলায়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য এম এ সাত্তার মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, চায়ে উৎপাদন ও উৎকর্ষ বাড়াতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের যে বিনিয়োগ দরকার ছিল, শেষ দিকে সেটি তারা করেনি। দেশীয় শিল্প গ্রুপগুলো চা চাষকে অর্থকরী ব্যবসা হিসেবে নিয়ে বিনিয়োগ করেছে। সনাতন পণ্যের মধ্যে আটকে না থেকে চা খাতে বিনিয়োগ অবশ্যই ইতিবাচক দিক। এখন যেটি প্রয়োজন, তা হলো পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে চায়ের গুণগত মান বাড়াতে বিনিয়োগ করতে হবে। শুধু ব্ল্যাক টি উৎপাদনে আটকে না থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ চা উৎপাদনে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে চা–শিল্পের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ও দক্ষতা বাড়াতে হবে, যেটি চায়ের উৎপাদনের স্বার্থেই জরুরি।বিজ্ঞাপন

পরিবর্তনের হাওয়া

দুই দশক আগে এই পরিবর্তন শুরু হলেও তাতে গতি পায় যুক্তরাজ্যের জেমস ফিনলে লিমিটেডের চা–বাগান হস্তান্তরের ঘটনার পর। যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত সোয়ার গ্রুপ ফিনলে লিমিটেডকে অধিগ্রহণ করে। তারা বাংলাদেশের ব্যবসায় মুনাফা না দেখে ২০০৫ সালে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০০৬ সালের মার্চে ব্রিটিশ এই কোম্পানির হাতে থাকা ৩৯ হাজার ১১২ একর বাগানের সব শেয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে কিনে নেয় ছয়টি গ্রুপ ও দুই ব্যক্তি। ছয়টি গ্রুপ হলো ইস্পাহানি, উত্তরা গ্রুপ (উত্তরা মোটরস), পেডরোলো, ইস্টকোস্ট, এবিসি গ্রুপ এবং এমজিএইচ গ্রুপ। এর মধ্যে শেষ তিনটি প্রথমবার এই খাতে বিনিয়োগ করেছে।

ফিনলে ছাড়াও গত দুই দশকে চা–বাগান ইজারা নিয়ে যুক্ত হয়েছে এ কে খান, আকিজ, স্কয়ার, সিটি, টিকে, ওরিয়ন, কাজী অ্যান্ড কাজী (জেমকন), ইউনাইটেড গ্রুপ, মোস্তফা গ্রুপ এবং প্যারাগন গ্রুপের মতো শিল্প গ্রুপ। এ ছাড়া বৈশ্বিক পারফিউম ব্র্যান্ড আল হারামাইন পারফিউমস গ্রুপ, পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান হা–মীম ও ভিয়েলাটেক্স গ্রুপও আছে এই তালিকায়। এ ছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ও বিনিয়োগ করেছে চা খাতে।

চা খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফিনলে টি কোম্পানির চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সে সময় চায়ের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সেভাবে বাড়ছিল না। তাতে চায়ের দামও নাগালের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তখন চা খাতে বিনিয়োগ করেছি। আগেকার দিনের মতো অবকাশযাপনের কেন্দ্র হিসেবে না রেখে শিল্প হিসেবে এই খাতে বিনিয়োগ হয়েছে। বাগান সংস্কার, যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন ও স্কুল, হাসপাতাল সংস্কারসহ শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। নতুন যেসব শিল্প গ্রুপ এসেছে, সবাই কমবেশি বিনিয়োগ করায় চা খাতে বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টরন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের এ বছর আয়ের দিক থেকে শীর্ষ ২৩ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকার শীর্ষ ১০টি গ্রুপের ৭টিরই ব্যবসা রয়েছে চা খাতে, যারা গত দুই দশকে যুক্ত হয়েছে।

চা–বাগান না থাকলেও লাইসেন্স নিয়ে চা বিপণনে যুক্ত হয়েছে আবুল খায়ের, মেঘনা, পারটেক্স স্টার ও এসিআই গ্রুপ। শুধু যুক্ত নয়, চা বিপণনে এখন আবুল খায়ের দ্বিতীয় এবং মেঘনা তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

দেশে অনেক খাতে নীতি দ্রুত পরিবর্তন হয়। সে তুলনায় চা খাতে স্থিতিশীলতা আছে। এমনিতেই নতুন বিনিয়োগের খাতও সীমিত। মূলত বাজার বড় হতে থাকায় এই খাতে বিনিয়োগ করেছি। কারণ, চা–বাগানে প্রতি মুহূর্তে মূল্য সংযোজিত হয়। একবারে মুনাফা বেশি না হলেও ধারাবাহিক মুনাফার সুযোগ রয়েছে।

নাদের খান, পেডরোলো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

দেশীয়দের হাতে সাফল্য

স্কটল্যান্ডে নিবন্ধিত কোম্পানি জেমস ফিনলে এ দেশ থেকে চা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সময় তাদের সাতটি বড় বাগানে (কোম্পানির হিসেবে ১৬টি বাগান) চায়ের উৎপাদন ছিল ৯৪ লাখ কেজি। দেশীয় উদ্যোক্তাদের হাতে আসার পর বেড়ে গত বছর তা দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৮ লাখ কেজিতে।

ফিনলের উদ্যোক্তারা জানান, চা–বাগানের মালিকানা তাঁদের হাতে আসার পর মুনাফার বড় অংশই বাগানে বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা। তাতে উৎপাদনও বেড়েছে।

চা চাষে সাফল্যের কাহিনি আছে পানির পাম্প বাজারজাতকারী গ্রুপ পেডরোলোর হাতে। ২০০৩ সালে চট্টগ্রামের হালদা ভ্যালি বাগানটি ইজারা নেওয়ার সময় ছিল ঝোপঝাড়। উৎপাদন ছিল না এক কেজিও। পরিত্যক্ত বাগানটি ইজারা নেওয়াসহ এ পর্যন্ত ১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে গ্রুপটি। এখন বাগানটিতে উৎপাদন হচ্ছে বছরে ১০ লাখ কেজি চা। ২০১৭ সালে হেক্টরপ্রতি উৎপাদনে শীর্ষস্থানও দখল করে বাগানটি। হালদাসহ গ্রুপটির হাতে দুটি বাগান আছে।

পেডরোলো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদের খান প্রথম আলোকে বলেন, দেশে অনেক খাতে নীতি দ্রুত পরিবর্তন হয়। সে তুলনায় চা খাতে স্থিতিশীলতা আছে। এমনিতেই নতুন বিনিয়োগের খাতও সীমিত। মূলত বাজার বড় হতে থাকায় এই খাতে বিনিয়োগ করেছি। কারণ, চা–বাগানে প্রতি মুহূর্তে মূল্য সংযোজিত হয়। একবারে মুনাফা বেশি না হলেও ধারাবাহিক মুনাফার সুযোগ রয়েছে।

জেমকন গ্রুপের সাফল্য আছে চা চাষে। ২০০০ সালে হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলিংয়ের অদূরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কাজী অ্যান্ড কাজী চা–বাগানে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে গ্রুপটি। অর্গানিক চা–বাগান হিসেবে বৈশ্বিক স্বীকৃতিও পায় এ বাগানটি। যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের বাজারে এই বাগানের চা শোভা পাচ্ছে। গত বছর বাগানটিতে প্রায় পাঁচ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়।বিজ্ঞাপন

পথ দেখাচ্ছে পুরোনোরা

পারস্যের ইস্পাহান থেকে বোম্বে, কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রামে থিতু হওয়া ইস্পাহানি গ্রুপের পারিবারিক ব্যবসা ২০০ বছরের। আসাম টি কোম্পানির সদস্য ছিল ইস্পাহানি পরিবার। পাকিস্তান আমলেও এই কোম্পানি চায়ের বাজারে শীর্ষস্থানে ছিল। ইস্পাহানির চারটি বাগান ছাড়াও ফিনলে টি কোম্পানিতে অংশীদারি রয়েছে।

ট্রান্সকম গ্রুপের ভিত গড়ে উঠেছিল চা ব্যবসা দিয়ে। গ্রুপটির প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের দাদা খান বাহাদুর ওয়ালিউর রহমান ১৮৮৫ সালে আসামে চা–বাগান শুরু করেন। দেশভাগের পর সিলেটে নতুন করে চা–বাগান করেন পরিবারের সদস্যরা। ট্রান্সকম গ্রুপের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এম রহমান টি কোম্পানি, মণিপুর টি কোম্পানি এবং মেরিনা টি কোম্পানির মাধ্যমে চায়ের ব্যবসায় যুক্ত আছে গ্রুপটি।

দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে পুরোনো আরেকটি এম আহমেদ গ্রুপ। ১৯২১ সালে লন্ডনের অক্টাভিয়াস স্টিল অ্যান্ড কোম্পানি থেকে মৌলভীবাজারের চান্দবাগ চা–বাগান ইজারা নিয়ে চা চাষে যুক্ত হয় গ্রুপটি। বর্তমানে গ্রুপের আটটি বাগান রয়েছে। ম্যাগনোলিয়া ব্র্যান্ডের চা বাজারজাত করছে তারা।

এম আহমেদ টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংক এশিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাফওয়ান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘চা ব্যবসায় এখন ৯৯ বছর চলছে। আটটি বাগানে এখন বছরে ৩২ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে।’

প্রায় ৯৬ বছর আগে নিবন্ধিত কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানায় ১৯৬০ সালে যুক্ত হন দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্রয়াত প্রধান সম্পাদক আহমেদুল কবির। পর্যায়ক্রমে পরিত্যক্ত তিনটি বাগান কিনে ফলনে সাফল্য দেখায় দেশীয় কোম্পানিটি। পরে ব্রিটিশ অক্টাভিয়াস স্টিল কোম্পানি থেকে সাতগাঁও বাগানও যুক্ত হয় তাদের বহরে।

কোম্পানির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়লা রহমান কবিরের হাত ধরে মধুপুর বাগান সর্বোচ্চ গুণগত মানের চা উৎপাদনের জন্য ২০১৮ সালে পুরস্কার পেয়েছে। এখনো নিলামে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয় এই বাগানের চা।

টিকে আছে তিন ব্রিটিশ কোম্পানি

স্টারলিং কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যবসা ধরে রেখেছে ডানকান ব্রাদার্স বাংলাদেশ লিমিটেড। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ডানকানের হাতে আছে ১৬টি বাগান। জমির মোট পরিমাণ ৪৫ হাজার ৭৬৮ একর। এ ছাড়া দ্য নিউ সিলেট টি কোম্পানি এবং দেউন্ডি টি কোম্পানির পাঁচটি বাগান আছে এই তালিকায়। এই তিন কোম্পানিই যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত।

চা বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, ২০০৬ সালে ফিনলের বাগান দেশীয় শিল্প গ্রুপের হাতে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত উৎপাদন বেড়েছে ৭৯ শতাংশ। একই সময়ে ডানকানের বাগানের উৎপাদন বেড়েছে ১৮ শতাংশ। দেউন্ডি টি কোম্পানির উৎপাদন বেড়েছে ৩৬ শতাংশ।

একই সময়ে দেশীয় শিল্প গ্রুপের উৎপাদন তুলনা করে দেখা যায়, ইস্পাহানির চার বাগানে ১১৪ শতাংশ, ট্রান্সকমের তিন বাগানে ৫২ শতাংশ এবং কেদারপুর টি কোম্পানির চার বাগানে ৫০ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে, যা ব্রিটিশ কোম্পানির উৎপাদন হারের চেয়ে বেশি।

বাজার বড় হচ্ছে

ভারতীয় লেখক ও সাবেক মন্ত্রী শশী থারুর ইনগ্লোরিয়াস অ্যাম্পায়ার বইতে জানাচ্ছেন, উপমহাদেশে চা চাষ শুরুর প্রথম এক শ বছরে এখানকার উৎপাদিত চা নেওয়া হতো ব্রিটেনে, যেখানে চাহিদা বেশি। ১৯৩০ সালের মহামন্দায় ব্রিটেনে চায়ের চাহিদার পতন হয়। ইতিহাস বলছে, ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলো তখন বিনা পয়সায় মানুষের মুখে চা তুলে উপমহাদেশেও বাজারজাত শুরু করে।

তবে বিনা পয়সায় চা খেয়ে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এ দেশের মানুষও। গত দুই দশকে চা ভোগের হার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাজারের আকার ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এই বাজার ধরতে যুক্ত হয়েছে দেশীয় শিল্প গ্রুপও। উদ্যোক্তাদের আশা, বাজার বড় হতে থাকায় উৎপাদনের পরিমাণে ও পণ্যের বৈচিত্র্যে আরও সাফল্য যুক্ত হবে এদেশীয় শিল্প গ্রুপের হাত ধরে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

৮০ হাজার টন ইউরিয়া ক্রয় প্রস্তাবে সায়

রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৪৯ টাকায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে সৌদি আরব ও কাতার থেকে ৫০ হাজার এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কিনবে সরকার।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩২তম বৈঠকে এ প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে অনলাইনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য আটটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে আটটি প্রস্তাবেরই অনুমোদন দেয়া হয়। তার মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তিনটি, বিদ্যুৎ বিভাগের তিনটি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (এসএবিআইসি) থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৬৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৭ টাকা।

এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে কাতার কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোস্পানি (মুনতাজা) কিউ, পি জে,এস,সি কাতার থেকে ষষ্ঠ লটে ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৫৮ লাখ ৯১ হাজার ৫৬২ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ডিমের দাম কমেছে, আলু আগের মতোই

লেখক

বাজার আসছে শীতের নানা সবজি। বাজারে এসব সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে আলু কিনতে আগের মতোই চড়া দাম গুনছেন ক্রেতারা। মাছ, ডিম ও মুরগির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম, বরবটি, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমসহ নতুন অনেক শীতের সবজি বাজারে এসেছে। এসব সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এতে সবজির দামও কমে এসেছে বলে জানান বিক্রেতারা।

আগের সপ্তাহে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়া করলা, শিম ও বরবটির কেজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। বৃহস্পতিবার মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে শিমের কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বেগুন ও কাঁচা টমেটোর দাম কমে এদিন বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজির মুলা ও পেঁপের দাম কমে ২০ থেকে ৩০ টাকায় নেমেছে। একইভাবে অন্যান্য সবজির দামও কিছুটা কমেছে। প্রতিটি লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি এখন ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লালশাক, পালংশাক ও লাউশাকের আঁটি আগে ১৫ থেকে ৩০ টাকা ছিল। এখন তা কমে পাঁচ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। প্রতি কেজি পুরোনো গোল আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় স্থির রয়েছে। নতুন আলুর দাম কিছুটা কমে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কলি বাজারে এসেছে।

মিরপুর শাহ আলী মার্কেটের বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভালো দাম পেতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আগাম তুলে বাজারে ছাড়ছেন চাষিরা। এ পেঁয়াজ গাছসহ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৫০ টাকা কেজিতে। মিরপুরের উত্তর পিরেরবাগ বাজারে এই পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নতুন পেঁয়াজ গাছ বাজারে আসার আগেই আমদানি পেঁয়াজের চাপে দাম কমেছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে আমদানি করা চীনা পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম কমেছে। প্রতি ডজন ডিম এখন ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এ ছাড়া মাছের দামও তুলনামূলক কম। প্রতি কেজি মাঝারি রুই ২২৫ থেকে ৩০০ টাকা ও কাতলা ২২০ থেকে ২৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। পাঙাশের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। খালবিল শুকিয়ে আসায় অন্য মাছও বাজারে প্রচুর আসায় তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

১ কেজি নতুন আলুর দাম ৮০ টাকা

নীলফামারীতে জমি থেকে আগাম আলু উত্তোলনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এখানকার আগাম আলু জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বাজারে দাম বেশি থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আগাম আলু চাষের জন্য বিখ্যাত নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলা। দেশের আগাম আলুর সিংহভাগ উৎপাদন হয় এখানে। আগাম আমন ধান কাটার পর এখানকার কৃষকরা এক খণ্ড জমিও পতিত রাখেন না। মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উৎপাদিত সেভেন গ্র্যানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করেছে এখানকার কৃষকরা। মাঠে এখন আগাম আলু তোলার ধুম পড়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার। শুরুতে দাম ভালো পাচ্ছেন আলু চাষিরা। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, একদিকে চলছে আলু উত্তোলনের কাজ, অন্যদিকে কেউ কেউ মৌসুমি আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত, আবার কেউবা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষি স্বপন বলেন, তিনি ৫০ শতক জমিতে আগাম আলু উৎপাদন করে পেয়েছেন ৭৮০ কেজি, যা ৮০ টাকা কেজি দরে ফসলের মাঠেই বিক্রি করেছেন। আগাম আলু আবাদে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি এই আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ টাকা। এতে তার লাভ হয়েছে ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের খালিশা খুটামারা গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে এ বছর আলু চাষ করেছি। আলুর বয়স এখন ৫৫ দিন। আরও ১০ দিন পরে আলু তুলবো। এবার আলু দাম বেশ ভালো। তিনি বলেন, দুদিন আগে দেড় বিঘা জমির আলু তুলে বিক্রি করেছি ৯০ টাকা কেজি দরে। ওই আলু একদিনের ব্যবধানে কমেছে ১০ টাকা কেজিতে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার পোড়াকোট গ্রামের আলু চাষি লুৎফর রহমান (৪২) বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে এবার আলু চাষ করেছি। আগাম আলুর দাম ভালো থাকায় এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করেছি ৮৫ টাকা কেজি দরে। এতে তার ব্যাপক লাভ হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা খেতে এসে নগদ টাকায় আলু নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ী রোস্তম আলী জানান, নীলফামারীতে আগাম আলু উঠতে শুরু করেছে। প্রথমদিকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও এখন আলুর প্রকারভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হচ্ছে। আগাম আলু ট্রাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার আগেই নীলফামারীর আগাম আলু উঠে এবং আগাম বাজারদরে লাভবান হন এখানকার কৃষকরা।

চলতি বছর এ জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টরে ২৫ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন। এ জেলায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম আলু উঠবে। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আলুর ভরা মৌসুমে বাম্পার আলু বেশি পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিলাররা সহযোগিতা না করলে মজুত আইনে পরিবর্তন আনবে সরকার

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, সরকারি গুদামে চাল না দিলে মিলারদের (চালকলমালিক) বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্রয় নীতিমালা ও খাদ্যপণ্য মজুত আইনে পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

আজ বুধবার বিকেলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং ধান-চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, বাংলাদেশ চালকল ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি লায়েক আলী, নওগাঁ জেলা ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরোধ বরণ সাহা, নওগাঁ জেলা চালমালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার। এ ছাড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ধান-চাল ব্যবসায়ীরাও সভায় বক্তব্য দেন।

সরকারিভাবে চালের মজুত ঠিক রাখতে ইতিমধ্যে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এখনো অনেক মিলমালিক সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার জন্য চুক্তি করেননি। ইতিমধ্যে দেড় লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও চাল আমদানি করা হবে। তবে চাল আমদানির ফলে কৃষকেরা ক্ষতির শিকার হন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

বর্তমানে একটি মিলে পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতার পাঁচগুণ ধান-চাল মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে। এর জায়গায় ধান-চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি মিল পাক্ষিক ছাঁটাইক্ষমতার তিনগুণ ধান-চাল মজুত রাখতে পারবে, এ ধরনের আইন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার, খাদ্যমন্ত্রীবিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের লাভ-ক্ষতির কথা চিন্তা করে চাল আমদানি যাতে বেশি না হয়, সে জন্য সরকার বেসরকারিভাবে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করছে। এ জন্য সরকার নিজেই এবার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টেন্ডার আহ্বান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল আমদানি করা হবে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মিলাররা সরকারকে চাল দিয়ে সহযোগিতা না করলে সরকার ধান-চাল ক্রয়ে নীতিমালায় পরিবর্তন আনবে। ইতিমধ্যে ভারতের ধান-চাল সংগ্রহ নীতিমালা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারতের সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী মিলারদের পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতা অনুযায়ী সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল দিতে বাধ্য করা হবে। এ ছাড়া মিলে ধান-চাল মজুত আইনেও পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বর্তমানে একটি মিলে পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতার পাঁচগুণ ধান-চাল মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে। এর জায়গায় ধান-চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি মিল পাক্ষিক ছাঁটাইক্ষমতার তিনগুণ ধান-চাল মজুত রাখতে পারবে, এ ধরনের আইন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সভায় মিলমালিকদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে চালের ক্রয়মূল্য ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং আমন চাল ক্রয়ে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২৬ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার দাবি তোলা হয়।

কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মৌসুমের শুরুতেই ধান-চালের দর বেঁধে দেওয়া এবং সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি করায় সুফল পাচ্ছেন কৃষকেরা। কয়েক বছর ধরে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যুগোপযোগী ও সময়মতো উদ্যোগ নেওয়ায় কৃষকেরা এখন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।

এদিকে সভায় মিলমালিকদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে চালের ক্রয়মূল্য ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং আমন চাল ক্রয়ে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২৬ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার দাবি তোলা হয়। চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, ধানের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ১ কেজি চাল আমদানি করতে ৩৮-৪০ টাকা পর্যন্ত উৎপাদন খরচ পড়ছে। সেই জায়গায় সরকারকে ৩৭ টাকা দরে চাল দিতে গিয়ে পরিবহন খরচসহ মিলমালিকদের ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন ঘিওরের রকিবুল ইসলাম…

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com