আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

চাল-পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অ‌ভিযান, ২ লাখ টাকা জ‌রিমানা‌

চাল ও পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং ভেজাল প্রতিরোধে সারাদেশে ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ সা‌ড়ে ১১ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়ে‌ছে।

‌শ‌নিবার (৩ অ‌ক্টোবর) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সার্বিক নির্দেশনায় ও বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের পরামর্শ এবং জাতীয় অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঢাকা মহানগরীর কারওয়ান বাজার, বাবু বাজার ও হাতিরপুল বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন, বিকাশ চন্দ্র দাস ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান ।

এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাজারে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তদারকিকালে চাল, পেঁয়াজ, আদা ও আলুসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে কি-না তা মনিটরিং করা হয়। এছাড়া পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মূল্য তালিকার সাথে বিক্রয় রশিদের গরমিল, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ ও পণ্য, নকল পণ্য এবং ওজনে কারচুপিসহ ভোক্তার স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে সারাদেশ ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ সা‌ড়ে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া তদারকিকালে চাল ও পেঁয়াজের মূল্য কারসাজি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। সেই সঙ্গে অযথা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় না করার জন্য ভোক্তা সাধারণকে অনুরোধ করা হয়।

এগ্রোবিজ

দাম না বাড়ালে চাল নয়

আমনে নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৪ টাকা বেশি চান চালকলের মালিকেরা। খাদ্য মন্ত্রণালয় রাজি নয়।

  • আমদানি করে মজুত বাড়াবে সরকার।
  • এক লাখ টনের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান।
  • মজুত কমে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টনে নেমেছে।

বোরো মৌসুমের পর আমনেও ধান-চাল সংগ্রহ নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। সরকারি গুদামে চাল দিতে কেজিপ্রতি চার টাকা বেশি চান চালকলের মালিকেরা। বাড়তি দাম না পেলে তাঁরা সরকারকে চাল দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

অবশ্য সরকার আগের মতোই অনঢ়। খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম বাড়াবে না। প্রয়োজনে আমদানি করে চালের মজুত বাড়াবে তারা। এরই মধ্যে চলতি মাসে খাদ্য অধিদপ্তর এক লাখ টন চাল আমদানির দুটি দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রয়োজনে আরও কয়েক লাখ টন চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েও রেখেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।বিজ্ঞাপন

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমাও দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বাংলাদেশকে চাল সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে। মাত্র আমন ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ধানের দাম আরও কমবে। তখন সরকার–নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলের মালিকেরা লাভবান হবেন।

সারওয়ার মাহমুদ , খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করলে দেশে আসার পর শুল্কসহ প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৩৪ টাকা। থাইল্যান্ড থেকে আমদানিতে পড়বে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে। মাত্র আমন ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ধানের দাম আরও কমবে। তখন সরকার–নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলের মালিকেরা লাভবান হবেন।

এ বছর খাদ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চালকলের মালিকেরা চান, সরকার সেদ্ধ চালের দাম প্রতি কেজি ৪১ টাকা নির্ধারণ করুক। গত মঙ্গলবার নওগাঁয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন চালকলের মালিকেরা। সূত্র জানায়, বৈঠকে দাম বাড়ানোর দাবি ওঠে। অবশ্য সরকার জানিয়ে দেয়, দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। পরদিন (গত বুধবার) বগুড়ায় চালকলের মালিকেরা কেন্দ্রীয়ভাবে আরেকটি বৈঠক করেন। সেখানে বেশির ভাগ মালিক সরকারকে চাল না দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে, ‘২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ে ৪১ টাকা। আমরা সরকারের কাছে শুধু খরচই চেয়েছি, লাভ চাইনি। তারপরও সরকার রাজি নাহলে আমরা কীভাবে চাল দেব?’

বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে, ‘২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ে ৪১ টাকা। আমরা সরকারের কাছে শুধু খরচই চেয়েছি, লাভ চাইনি। তারপরও সরকার রাজি নাহলে আমরা কীভাবে চাল দেব?’

এদিকে সরকারি চালের মজুতও কমতির দিকে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুই মাসের মধ্যে চালের মজুত ১০ লাখ টন থেকে কমে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টনে নেমেছে। গত বছর এ সময়ে সরকারের গুদামে প্রায় ১১ লাখ টন চাল ছিল।

সরকার গত বোরোতে ১৮ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল। যদিও মিলমালিকেরা সরকারকে চুক্তি অনুযায়ী চাল দেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহের সময় এক দফা বাড়িয়েও ১০ লাখ টনের বেশি চাল সংগ্রহ করা যায়নি। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, কেউ চাল না দিলে আমদানি করে মজুত বাড়ানোর সুযোগ তো রয়েছেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

শ্যামবাজারে এখন পচছে আমদানি করা পেঁয়াজ

  • পেঁয়াজ দেশি কেজি ৬৫ –৭০ টাকা। ভারতীয় কেজি ৪০৪৫ টাকা।
  • চিনি প্রতি কেজি ৬৫ টাকার আশপাশে বিক্রি হয়।
  • শীতের সবজির দাম প্রতি কেজি ৫০৬০ টাকা।

আমদানি করা পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা। দেশি পেঁয়াজ ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে।

শ্যামবাজারের নবীন ট্রেডার্সের মালিক নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশি পেঁয়াজের মজুত শেষের পথে। তাই দাম বাড়তি। দুই সপ্তাহ পরই নতুন মৌসুমের ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে। তিনি বলেন, আমদানি করা পেঁয়াজে সবাই লোকসান দিচ্ছেন।

বুড়িগঙ্গা নদীর ঠিক তীরেই শ্যামবাজার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, নদীর পাড়েই ফেলে রাখা হয়েছে পচা পেঁয়াজ। দুর্গন্ধে টেকা দায়, ভনভন করে মাছি উড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত রপ্তানি বন্ধের পর মিসর, চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে বিপুল পেঁয়াজ এসেছে। কিন্তু বাজারে ততটা চাহিদা নেই। আমদানি করা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায় না। তাই একাংশ পচেই যাচ্ছে।বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজ আমদানিকারক আমানত ভান্ডারের মালিক শংকর লাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি কেজি পেঁয়াজ আমদানিতে ৪০ থেকে ৬৫ টাকা খরচ পড়েছে। পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। তারপরও বিক্রি কম।

এদিকে বাজারে চিনি ছাড়া আর কোনো পণ্যের দামে বিশেষ হেরফের হয়নি। এক সপ্তাহ আগে খোলা চিনি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা ছিল। তা এখন ৬৫ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়তি। তাই দেশের পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

ঢাকার ধূপখোলা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন ১১৫ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ৯১ থেকে ৯৮ টাকা। ব্যবসায়ীরা বোতলের তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) থেকে ক্রেতাদের কিছুটা ছাড় দিতেন। এখন আর দিচ্ছেন না।

বাজারে বেশির ভাগ শীতের সবজির দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা কেজিতে উঠেছে। কক মুরগি বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। গরুর মাংস পাওয়া যায় প্রতি কেজি ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কমছে শীতের সবজির দাম, চড়া চাল-তেল

দীর্ঘদিন পর ঢাকার বাজারে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। সরবরাহও বেড়েছে। আগের চেয়ে একটু বড় আকারের ফুলকপি-বাঁধাকপি বাজারে আসছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের টাউন হল, শান্তিনগর বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে গতকাল বৃহস্পতিবার দেখা যায়, মোটামুটি মাঝারি আকারের একটি ফুলকপির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে দাম কিছুটা বেশি ছিল। আকারেও ছিল এখনকার তুলনায় কিছুটা ছোট।বিজ্ঞাপন

বেশি কমেছে শিমের দাম। এত দিন যে শিম প্রতি কেজি ১০০ টাকার বেশি ছিল, তা ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছিল। লাউও দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি পাওয়া যায় আকার ও বাজারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে আসা একেবারে তরতাজা লাউয়ের দাম আরেকটু বেশি। বাজারে নতুন এসেছে কলিসহ পেঁয়াজ। প্রতি কেজি ৫০ টাকা।

কাঁচা মরিচের দাম কমেছে; তবে ততটা নয়। কারওয়ান বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি পাইকারিতে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। টাউন হল মার্কেটে কাঁচা মরিচ প্রতি আড়াই শ গ্রাম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।

সব মিলিয়ে গতকাল টাউন হল মার্কেটের কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে তা ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছিল।

সবজির বাজারের এই স্বস্তি মিলিয়ে যায় চাল ও ভোজ্যতেলের বাজারে। সরু চালের দাম আবার বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে সরু মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং মানভেদে নাজিরশাইল কেজিতে ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হয়। মাঝারি মানের চাল প্রতি কেজি ৫২ থেকে ৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের মোটা চালের দাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

কারওয়ান বাজারের চালের আড়তের বিক্রেতা আবু রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, সরু চালের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বাড়তি।

টাউন হল বাজারে পুরোনো আলু প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। গত ২০ অক্টোবর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলুর দাম খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। গতকাল দুপুরের পর কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানে আলু প্রতি কেজি ৪৫ টাকা চাইছিলেন বিক্রেতারা। যদিও দোকানের মূল্যতালিকায় লেখা ছিল প্রতি কেজি ৩৫ টাকা। সাংবাদিক পরিচয়ে কারণ জানতে চাইলে দোকান রেখে চলে যান বিক্রেতা।বিজ্ঞাপন

কমছে শীতের সবজির দাম, চড়া চাল-তেল

বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম এখনো প্রতি কেজি ৭০ টাকার আশপাশে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। শান্তিনগর বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. আশরাফ প্রথম আলোকে বলেন, দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাঁদের পক্ষে ৭০ টাকা কেজির নিচে বিক্রি সম্ভব নয়।

খোলা ভোজ্যতেলের দাম আরও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১০৫ টাকা ও পাম সুপার ৯৮ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। লিটারে দাম আরেকটু কম।

বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ বেড়েছে। দামও স্থিতিশীল। ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের দাম কমেছে, ডজন ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫ টাকার মতো কম।

মাসের শেষ ভাগে এসে অনেক ক্রেতাই বাজারে মিতব্যয়ী হচ্ছেন। টাউন হল বাজারের এক ক্রেতা সেলিমা জাহান বলেন, সবজিসহ কিছু কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে, তবে এখনো স্বস্তিকর নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লাভের আশায় আগাম আলু তুলছেন কৃষক

  • আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে
  • রোপণ শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
  • ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত রোপণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে
  • আগাম আলু রোপণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে

নীলফামারীতে এ বছর আলুর বাজার শুরু থেকেই চড়া। দাম বাড়তে বাড়তে এখন পুরোনো আলু খুচরা বাজারে ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তাই লাভের আশায় আগাম জাতের আলু তুলতে শুরু করেছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আলুচাষিরা।

গত বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ খেতজুড়ে আলু আর আলু। নারী-পুরুষনির্বিশেষে অনেকে খেত থেকে আলু তুলছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খেত থেকে ৬৫–৭০ টাকা কেজি দরে আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে বেশি লাভের আশায় ট্রাকে করে আলু নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকার কারওয়ান বাজারে।বিজ্ঞাপন

এ জেলায় আগাম জাতের আলু রোপণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে। প্রায় ১ সপ্তাহ আগে থেকে আলু ওঠা শুরু হয়েছে।

দুরাকুটি গ্রামের আলম হোসেন বলেন, ‘আমি এ বছর তিন বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। এর মধ্যে দেড় বিঘায় ছিল আগাম জাতের। ৩০ সেপ্টেম্বর আলু লাগানোর পর ৫৬ দিনের মাথায় আলু তুললাম। আলু হয়েছে ১৮ বস্তা। ফলন কিছুটা কম হলেও দাম ভালো পাওয়ার আশায় তুলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খেত থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে কিনতে চান। আমি আরও বেশি দামের আশায় কারওয়ান বাজারে আলু পাঠিয়েছি। গতকাল শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি আলু ৭১ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খরচ বাদে আমার লাভ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা।’

একই গ্রামের শামিম হোসেন বলেন, ‘আমি ১৮ বিঘা জমিতে আলু করেছি। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু ৬ বিঘা। এই ৬ বিঘার মধ্যে ২ বিঘা তুলে ২৬ বস্তা আলু পেয়েছি। স্থানীয় বাজারে দাম কম হওয়ায় ট্রাকে করে আলু ঢাকায় নিয়ে যাই। গতকাল সেখানে ৮০ টাকা কেজি দরে ২৬ বস্তা আলু ১ লাখ ৩২ হাজার টাকায় বিক্রি করি।’ তিনি আরও বলেন, একই ট্রাকে নিয়ে যাওয়া প্রতিবেশী মেহেরুল
হকের ২০ বস্তা আলু ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আলম হোসেনের ১৮ বস্তা আলু ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ট্রাক ভাড়া দিতে হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

আলু ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এলাকার কৃষকদের কাছে আলু কিনে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাচ্ছি। আমাদের ট্রাক যাচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার, মাদারীপুর ও কুমিল্লার নিমসা বাজারে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সূত্রমতে, নীলফামারীতে কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, রোমান, বারী-১, বারী-১০, গ্রানোলা, সাগিটা-৭ এবং স্থানীয় সাইটা, লাল পাটনাই, লাল পাখরি, শিল বিলাতি, ঝাউ বিলাতিসহ বিভিন্ন জাতের আলু চাষ হয়। এখন সাগিটা-৭ জাতের আলু উঠতে শুরু করেছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলু রোপণের কাজ চলবে।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, চলতি বছর এ জেলায় প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু রোপণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে আগাম আলু ওঠা শুরু হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কুড়িগ্রামে কৃষকের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভাসমান বীজতলা

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে তিন দফা বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যোমে মাঠে নেমেছে বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা। পানি নামার পর জমি চাষ, বীজ সংগ্রহ ও বপনে বাড়তি অর্থ যোগানে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।

সরকারি উদ্যোগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বন্যাপ্লাবিত এলাকাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।  

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৫ হাজার ৮১০ জন কৃষকের আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ হেক্টর জমির।  

আমন বীজতলার ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২১ হাজার কৃষক বিনামূল্যে ২০ হাজার ৯২২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করার সুযোগ পাচ্ছে।  

এদিকে জেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। আমন বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩ হেক্টর হলেও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আমন বীজতলা তৈরি করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে।  

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লালদীঘির পাড়ের কৃষক মতিয়ার রহমান বাংলানিউজকে জানান, বাড়ির পাশের বীজতলা বন্যার পানিতে ডুবে যায়। সেসময় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তাদের কাছ থেকে ৬ কেজি বিআর-২২ নাভিজাত বীজ ও ৫২টি ট্রে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন চারদিকে থৈ থৈ পানি, বীজ বপনের কোনো জায়গা নেই। বাড়ির ভিতরের উঠোনে ট্রে-তে বীজতলা স্থাপন করেন। ১৫ দিন বয়সী চারা দুই বিঘা জমিতে বপন করেন। কৃষি বিভাগ থেকে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিন দিয়ে শতকে ১০ টাকা হারে ২ বিঘা জমিতে মাত্র ৩৩০ টাকা খরচেই রোপণ শেষ।

শুধু মতিয়ারই নন, বন্যাকবলিত এলাকার অনেক কৃষকই এখন কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিনের মাধ্যমে রোপণ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, আমন আবাদ যাতে বিঘ্নিত না হয় এজন্য বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর জেলায় আমন চারার ঘাটতি মোকাবিলায় ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা বিনামূল্যে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে বীজতলার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কৃষক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com