আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ

চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ
চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ

গল্পটা পুরোনো। বলো তো, পৃথিবীজুড়ে কবে দুর্ভিক্ষ হবে। উত্তরটা সহজ, চীনের মানুষেরা যেদিন কাঠি ছেড়ে হাত দিয়ে ভাত খাবে। চীনে মানুষ বেশি, সম্ভবত এ জন্যই গল্পটার সৃষ্টি। তবে দেশটিতে মানুষ যেমন বেশি, চাল উৎপাদনও বেশি। বিশ্বে চীন সবচেয়ে চাল উৎপাদন করে। বছরের পর বছর ধরে স্থানটি তারা ধরে রেখেছে। তারা ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ৭৩ হাজার টন চাল উৎপাদন করে। 

চীনের পরেই আছে পাশের দেশ ভারত। ভারতও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে, চাল উৎপাদনেও। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশটির চাল উৎপাদন ছিল ১১ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার টন। 

তালিকার পরের দেশটি জনসংখ্যাবহুল একটি দেশ, ইন্দোনেশিয়া। জনসংখ্যার দিক থেকে অবশ্য চীন ও ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে, চাল উৎপাদনেও। ইন্দোনেশিয়ার মোট উৎপাদন ওই দুই দেশের তুলনায় কম, ৩ কোটি ৭০ লাখ টন। 

এরপরেই আছে বাংলাদেশ, উৎপাদন ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থ চাল উৎপাদনকারী দেশ। দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর দেশে যে চাল উৎপাদন হতো, এখন তার চেয়ে তিন গুণ বেশি উৎপাদন হয়। চাল উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ। দেখা গেছে, দেশের উৎপাদিত চালের ৫৫ ভাগই আসে বোরো ধান থেকে, বাকিটা আসে আউশ ও আমন থেকে। এখানে বছরে একই জমিতে তিনবার ধান উৎপাদন করা হয়। হাওর এলাকাতেও এখন চাল উৎপাদন হচ্ছে। 

চাল উৎপাদনের শীর্ষ ১০-এর বাকি দেশগুলো হচ্ছে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, ব্রাজিল ও জাপান।

চাল উৎপাদনে শীর্ষ ১০ দেশ (২০১৭–১৮) হাজার মেট্রিক টন

চীন ১৪৮,৮৭৩

ভারত ১১২,৯১০

ইন্দোনেশিয়া ৩৭,০০০

বাংলাদেশ ৩২,৬৫০

ভিয়েতনাম ২৮,৪৭১

থাইল্যান্ড ২০,৩৭০

মিয়ানমার ১৩,২০০

ফিলিপাইন ১২,২৩৫

ব্রাজিল ৮,২০৪

জাপান ৭,৭৮৭

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

ফসল

জ্যৈষ্ঠ মাসে বোরো ও আউশ ধানের জন্য যা করবেন

জ্যৈষ্ঠ মাসে বোরো ও আউশ ধানের জন্য যা করবেন
জ্যৈষ্ঠ মাসে বোরো ও আউশ ধানের জন্য যা করবেন

চলছে জ্যৈষ্ঠ মাস। কৃষি নির্ভর দেশে এখন বোরো ও আউশ ধানের মৌসুম। বোরো ধান সংগ্রহ এবং আউশ ধান রোপণের নিয়ম-কানুন জেনে নিতে পারেন।

বোরো ধান
১. আপনার জমির ধান শতকরা ৮০ ভাগ পেকে গেলে জমির ধান সংগ্রহ করবেন।
২. ধান কেটে মাড়াই, ঝাড়াই করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
৩. শুকনো বীজ ছায়ায় ঠান্ডা করে প্লাস্টিকের ড্রাম, বিস্কুটের টিন, মাটির কলসিতে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

আউশ ধান
১. এখনো আউশের বীজ বোনা না হয়ে থাকলে এখনই বীজ বপন করতে হবে।
২. চারার বয়স ১২-১৫ দিন হলে প্রথম কিস্তি হিসেবে হেক্টরপ্রতি ৪৫ কেজি ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
৩. ১৫ দিন পর একই মাত্রায় দ্বিতীয় কিস্তি উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
৪. ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা বাড়াতে জমিতে সার প্রয়োগের সময় ছিপছিপে পানি রাখতে হবে।
৫. সব সময় আউশ ধানের জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

মসলা জাতীয় খাদ্যপণ্য হিসেবে পেঁয়াজ অন্যতম। দেশের চাহিদার মোট ১৪ ভাগ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় রাজবাড়ীতে। তাই জেলাসহ দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ করতে কৃষকরা পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজের চাষ বাড়িয়েছেন।

পেঁয়াজের এ বীজকে ‘কালো সোনা’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। উৎপান ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় রাজবাড়ীর পেঁয়াজ বীজ চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। ফলে প্রতি বছরই জেলায় পেঁয়াজ বীজ চাষ বাড়ছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা, পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও কালুখালীতে এ বছর পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে ৩০৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৯০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১৫ হেক্টর বেশি জমিতে বীজ চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক লিটন শেখ জানান, চার বিঘা জমিতে তিনি পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন এবং প্রতি বছর তিনি পেঁয়াজ বীজের চাষ করেন। চাষ, সার-বীজ এবং কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এ চার বিঘা জমি থেকে তিনি ৫-৬ মণ বীজ পাবেন বলে আশা করছেন।

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

এ বীজ ৪-৫ লাখ টাকা বিক্রি করবেন বলে তিনি মনে করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভ হবে তার। পেঁয়াজের বীজ চাষ করে তিনি ভালো লাভবান হয়েছেন। আগামীতে তিনি আরও জমিতে বীজের চাষ করবেন।

জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের বাজার দর তিন-চার হাজার টাকা, আর মণ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মতো পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমি থেকে ফলন পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ। প্রতি মণ বীজ ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করে থাকেন।

কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ বীজের উচ্চমূল্য এবং এটি লাভজনক ফসল হওয়ায় তারা দিনদিন বীজের চাষে ঝুঁকছেন। তাছাড়া বীজের চাষ করে ক্ষেত থেকে যে পেঁয়াজ পান, তা থেকে বীজ চাষের খরচ উঠে আসে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ হয়েছে। এ বীজ চাষ করে কৃষকের বিনিয়োগের ৪ ভাগের তিন ভাগই লাভ হয়ে থাকে। বীজ চাষে কৃষকদের এসএমই চাষি হিসেবে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।’

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এবার পেঁয়াজ বীজের ফলন ভালো হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে বীজের ক্ষতি না হলে উৎপাদনও ভালো হবে। ভালো ফলন এবং বাজার মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় কৃষকরা বীজের আবাদ বাড়িয়েছেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ, ভালো দামে লাভবান চাষীরা

টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ, ভালো দামে লাভবান চাষীরা
টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ, ভালো দামে লাভবান চাষীরা: আখ পরিচর্যায় ব্যস্ত একজন কৃষক।

কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করে আমরা ভালই কয়ডা পয়সার মুখ দেহি’

আখ চাষে লাভবান হওয়ায় টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ। বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা নিয়মিত আখ চাষ করে প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও জেলার কৃষকরা আখ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে আগেভাগেই আখ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন, আশানুরূপ দাম পেয়ে চলতি বছরও খুব খুশি চাষীরা।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চাড়াবাড়ি এলাকার চাষী জলিল মিয়া বলেন, এ বছর আমি ৪ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। আর জমি তৈরি, চারা কেনা, শ্রমিক, সার, কীটনাশকসহ আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। আশা করছি দেড় লাখ টাকার উপরে আখ বিক্রি হবে।

চাষী হাসান আলী মিয়া বলেন, এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। বাজারে আখের দাম ভালো হওয়ায় আমি লাভবান হতে পারব।

নাগরপুরের চাষী রাজ্জাক মিয়া বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার নাগরপুরে দ্বিগুনেরও বেশি কৃষক আখ চাষ করছে। কারণ গতবার ভাল লাভ হইছে। এবারও বাজার ভাল, লাভই হবে।”

টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের আখ বিক্রেতা মনসুর আলী বলেন, আমার এক বিঘা জমিতে নিজে চাষ করি, পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকের জমি থেকেও আখ কিনে বিক্রি করি। তাতে আমি লাভ করতে পারি। কৃষকও লাভ করতে পারে।

তিনি বলেন, “কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করে আমরা ভালোই কয়ডা পয়সার মুখ দেহি।”  

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে সখীপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা ছাড়া বাকি ১০টি উপজেলাতেই আখের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫৯ হেক্টর, আর আখ চাষ করা হয়েছে ৭৮৬ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২৭ হেক্টর বেশি। এতে ফলন উৎপাদন হয়েছে ২৬ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর, বাসাইল উপজেলায় ২ হেক্টর, কালিহাতী উপজেলায় ৩০ হেক্টর, ঘাটাইল উপজেলায় ১৬ হেক্টর, নাগরপুর উপজেলায় ২৮০ হেক্টর, মির্জাপুর উপজেলায় ৩২ হেক্টর, মধুপুর উপজেলায় ১১ হেক্টর, ভুঞাপুর উপজেলায় ৫৫ হেক্টর, গোপালপুর উপজেলায় ১২ হেক্টর ও দেলদুয়ার উপজেলায় ৬৩ হেক্টর জমিতে আখের চাষা হয়েছে। অন্যদিকে গত বছর এ জেলায় ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে জেলায় আখ চাষের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে চাষীরা। আখ ক্ষেতে ‘সাথী’ ফসল আবাদ করে তা থেকে আখ চাষের খরচ উঠে আসে। পরে আখ বিক্রির টাকা এককালীন লাভ হিসেবে চাষীরা পেয়ে যায়। টাঙ্গাইলে চিবিয়ে খাওয়ার জাতটি বেশি চাষ হয়।”

তিনি আরো বলেন, “কৃষি বিভাগ থেকে আখচাষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। টাঙ্গাইলের আখ জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ৩০ ভাগ আখ কাটা হয়েছে। আর প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক আখ চাষে জড়িত।” 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের লোকসান পোষাতে গমের দিকে তাকিয়ে নীলফামারীর কৃষকেরা

চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।

ভাল ফলন ও দাম পেলে ধান চাষের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকেরা

নীলফামারীতে চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ গমের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। একইসঙ্গে ভাল ফলন ও দাম পেলে ধান চাষের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন এমনটিই আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে, সদরে দুই হাজার ২৭০, সৈয়দপুরে ২৫০, ডোমার এক হাজার ১৫০, ডিমলায় ৮৮০, জলঢাকায় ৮৫০ ও কিশোরগঞ্জে ৪০০ হেক্টর জমি। আর এতে উৎপাদনের গড় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৮৩৬ মেট্রিকটন।

এ ছাড়াও এবার বারি-২৬, ২৮, ৩০ ও ৩৩ জাতের গমের ক্ষেতে ফলন হয়েছে বেশ ভালো। এতে সাম্ভব্য গড় ফলন ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৮০১ দশমিক এক মেট্রিক টন। কৃষিবিদেরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকেরা এবার বোরো ধানের জমিতে আগাম জাতের ও উচ্চ ফলনশীল পুষ্টি সমৃদ্ধ গমের চাষ করছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করেন তিনি।

নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চেংমারী দিঘলটারী গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৮) জানান, কয়েক দফা বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার জমিতে আগাম জাতের গমের আবাদ করেছি।

মাঠভর্তি কেবল গমের আবাদ।
মাঠভর্তি কেবল গমের আবাদ।

তিনি বলেন, ধানের বাজার দর না থাকায় প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই এবার দেড় বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যাবে।

একই গ্রামের তসলিম উদ্দিন (৪৫) বলেন, চলতি মৌসমে দুই বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছি। বারি-২৬ জাতের গম ভাল ফলন হয়। এই জাতের গম বিঘায় ১৫-১৬ মন পর্যন্ত হয়। বাজারে দামও ভাল। বাজারে এখন প্রতিমণ গম এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমির গম ফলাতে খরচ হয় এক হাজার ৮০০ টাকা। এতে প্রায় বিঘা প্রতি লাভ হয় প্রায় ১৯ হাজার টাকা।

জেলার শহর ও বড় বাজারের গম ব্যবসায়ী ও আড়তদার দীপক দাস বলেন, বর্তমানে গমের জাত অনুযায়ী ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা দামে (পুরাতন) গম বেচাকেনা হচ্ছে। কৃষকরা মোটামুটি ভাল দাম পাচ্ছেন।

জেলার ডোমার উপজেলার মটুকপুর ইউনিয়নের পাঙ্গামটুকপুর গ্রামের শাহ আলম জানান, গম চাষে সার ও কীটনাশক কম লাগে, একটু সেচ দিলে ভাল ফলন হয়। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শষ্য) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর গমের আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারবেন। চলতি বছর বিঘা প্রতি উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৫-১৬ মণ। বাজারে দামও রয়েছে ভাল ও চাহিদাও বেশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার কৃষকের ভাগ্য

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘পাখিমারা’ খাল। এই ইউনিয়নের আরও ১০টি গ্রামে প্রবেশ করেছে খালের সাতটি শাখা।

৫০-৬০ বছর আগে বন্যা থেকে রক্ষা পেতে পাখিমারা খালের দুই প্রান্তে বাঁধ দেয়া হতো। এরপর থেকে শাখা জুগীর খালের মাধ্যমে পাখিমারা খালে আন্ধারমানিক নদের পানি প্রবাহিত হয়ে আসছে। জুগীর খালের একপ্রান্ত আন্ধারমানিক নদে মিলেছে। আরেক প্রান্ত মিলেছে মাখিমারা খালে। খালগুলো মিঠাপানির অন্যতম উৎস। অন্তত ২৬টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ তাদের জীবিকার জন্য খালগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ খালগুলো।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

তবে কুমিরমারা গ্রামে জুগীর খালের বিভিন্ন অংশে আড়াআড়ি করে বাঁশের ওপর জাল দিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি পরিবার মাছ ধরত। ফলে পানিপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটতো। দখলদারদের কারণে গ্রামের বাসিন্দারা খালের পানি ব্যবহার করতে পারতেন না। খালের পানি ছাড়া অন্য কোনো সেচের ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুমে আমন ছাড়া বছরের অন্য সময় আবাদ হতো না। সেচের অভাবে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। ফলে গ্রামগুলোর অধিকাংশ পুরুষ কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যেতেন। দুই যুগের বেশি সময় এভাবে চলছিল তাদের বেঁচে থাকার লড়াই।

প্রায় দুই যুগ পর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের হস্তক্ষেপে দখল মুক্ত হয় ওই খালগুলো। তখন খালের পানি ব্যবহারে আর বাধা না থাকলেও দেখা দেয় ভিন্ন সমস্যা। খালের জলকপাটগুলো জরাজীর্ণ হওয়ায় জোয়ারের লোনা পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয় কৃষিজমি।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

এবার তাদের সহায়তায় হাত বাড়িয়েছেন ইউএনও। খালে বাঁধ নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে টাকাও দেন তিনি। গ্রামের মানুষ সাধ্যমতো চাঁদা দেন। সেই টাকা দিয়ে খালে লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে নির্মাণ করা হয় তিনটি বাঁধ। বাঁধগুলো নির্মাণের ফলে গ্রামের কৃষিতে এসেছে পরিবর্তন। খালের আশপাশের ৫০০ একর অনাবাদি জমিতে এবার দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। গ্রামজুড়ে কর্মমুখর পরিবেশ। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন গোটা উপজেলার মধ্যে কৃষির পাশাপাশি সবজি চাষের মডেল ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এক সময়ের দরিদ্র গ্রামগুলোর ৩০ হাজার মানুষ এখন সমৃদ্ধশালী।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রামের সংখ্যা ৫২টি। এর মধ্যে ঘুটাবাছা, নাওভাঙ্গা, গামুরতলা, পূর্বসোনাতলা, নেয়ামতপুর, এলেমপুর, মজিদপুর, ফরিদগঞ্জসহ ১৬টি গ্রামের মধ্য দিয়ে পাখিমারা খাল বয়ে গেছে। পাখিমারার খালের শাখা রয়েছে অন্তত সাতটি। এর মধ্যে জুগীর খাল, হাজীর খাল, মজিদপুর খাল, আমিরাবাদ খাল ও জোনাব আলীর খাল ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে প্রবেশ করেছে।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ জুগীর খাল। কুমিরমারা গ্রামে এটির বিভিন্ন অংশে আড়াআড়ি করে বাঁশের ওপর জাল দিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি পরিবার মাছ ধরত। দখলদারদের কারণে গ্রামের বাসিন্দারা খালের পানি ব্যবহার করতে পারতেন না। খালের পানি ছাড়া সেচের অন্য ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে আমন ছাড়া অন্য কিছু আবাদ হতো না।

দিনে দিনে গ্রামবাসীরা খালের পানি জমিতে সেচ কাজে ব্যবহারের দাবিতে সোচ্চার হন। শুরু হয় খাল দখলমুক্ত করার লড়াই। সেই লড়াইয়ে সঙ্গী হন কলাপাড়া উপজেলার ইউএনও। প্রায় দুই যুগ পর গ্রামবাসী ও ইউএনওর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রভাবশালীদের হাত থেকে দখলমুক্ত হয় জুগীর খাল।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

এরপর খালের জলকপাটগুলো জরাজীর্ণ হওয়ায় জোয়ারের লোনা পানি ঢুকে পড়ত জমিনে। জলকপাট মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দফতরে গিয়েও কাজ হয়নি। এবারও এগিয়ে আসেন ইউএনও। খালে বাঁধ নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা দেন তিনি। গ্রামের মানুষও সাধ্যমতো চাঁদা দেন। এভাবে সংগ্রহ হওয়া ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নির্মাণ করা হয় তিনটি বাঁধ। বাঁধ নির্মাণের ফলে গ্রামগুলোর কৃষিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রায় ৫০০ একর অব্যবহৃত জমিতে এবার দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। স্থানীয় কৃষকেরা আবাদ করেছেন তরমুজ, লাউ, শিম, টমেটো, কপি, মুলা ও মরিচসহ নানা ধরনের সবজি। এবার প্রায় ৫০ একর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক জাকির গাজী জানান, খালের পাশেই তার বাবার দুই বিঘা জমি রয়েছে। তবে জমিতে আগে আমন ছাড়া বছরের অন্য সময়ে আবাদ করা যেত না। কারণ চাষাবাদ করতে সেচের প্রয়োজন। খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও তা ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। কারণ মজিদপুরের শামসুদ্দিন, ছোটকুমিরমারার মনির হাওলাদার ও কুদ্দুস হাওলাদারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন জুগীর খালে মাছ চাষ করতেন। তাদের ৪০-৫০ জনের বাহিনী ছিল। খালে মাছ চাষের প্রতিবাদ করলে ওই বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো হতো। এসব কারণে গ্রামবাসী মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

 কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনিসহ এলাকার কয়েকজন গ্রামে ঘুরে লোকজনকে বোঝানো শুরু করেন। ২০১৮ সালে তিন গ্রামের শত শত মানুষ বৈঠকে সমবেত হন। সেখানেই খাল উদ্ধারের জন্য গঠন করা হয় নীলগঞ্জ আদর্শ কৃষক শ্রমিক সমবায় সমিতি। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি সুলতান গাজীকে সভাপতি, আবু বকর মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক ও জাকির গাজীকে কোষাধ্যক্ষ করে ৩৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

এরপর ২০১৯ সালের জুলাইয়ে যোগ দেয়া ইউএনও মুনিবুর রহমান এগিয়ে আসেন। আগস্ট মাসে খাল থেকে দখলদারদের জাল অপসারণে অভিযান চালান তিনি। কিন্তু দখলদাররা কয়েকদিন পর আবারও খালে জাল পেতে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা ঘটায়। এরপর ইউএনওর উদ্যোগে আরও দুই দফা অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ অভিযানে দখলদারদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এরপর আর জাল পাতার সাহস পায়নি দখলদাররা। এরপরও শুরু হয় গ্রামে কৃষিকাজ।

কুমিরমারা গ্রামের মাস্টার্স পরীক্ষার্থী হেমায়েত উদ্দিন বলেন, চাকরির চিন্তা না করে কৃষিকাজে নেমেছি। বাবার দেয়া জমিতে সবজি ও ফসলের আবাদ করেছি। ১০ শতাংশ জমি বন্ধক নিয়ে বোম্বাই মরিচের আবাদ করেছি। চাষ বাবদ আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বোম্বাই মরিচ থেকে দুই লাখ টাকা আয় হবে আশা করছি।

মজিদপুর গ্রামের লিটন হাওলাদার বলেন, একসময় ঢাকা ও বরিশালে গিয়ে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতাম। এখন অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করছি। সবজি চাষাবাদ করে অভাব দূর হয়েছে আমার।

নীলগঞ্জ আদর্শ কৃষক শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি সুলতান গাজী জানান, জমিতে সেচ দেয়ার জন্য আগে খালের পানি ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। ফসলাদি ভালো হতো না বলে কুমিরমারা গ্রামে অভাব লেগেই ছিল। এক ফসলি জমি ছিল গ্রামবাসীর একমাত্র ভরসা। এখন কুমিরমারাসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের চিত্র বদলে গেছে। কৃষকরা এখন সবজির আবাদ করেছেন।

কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
কৃষিকাজ বদলে দিল ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান বলেন, সেচের সুবিধা পেয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তত ২৬টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক একর জমিতে নতুন করে এবার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ একর জমিতে বোরোর চাষ হয়েছে। বাকি জমিতে হয়েছে সবজির চাষ। আগে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে বছরে ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় হতো। এবার সবজি চাষ করে গড়ে প্রতি বিঘা থেকে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করার আশা কৃষকদের। সবজির আবাদ এখানকার কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। এতে তাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সেচ সুবিধা পেয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ২৫-৩০ গ্রামের মানুষ কৃষিতে যে সাফল্য অর্জন করেছেন তা অবিশ্বাস্য। পরিবর্তন এসেছে তাদের জীবনযাত্রায়। জমি আবাদ করে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করেছেন তারা। আগে জমিগুলো পড়ে থাকত। এখন তারা আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সবচেয়ে ভালো খবর হলো লেখাপড়া ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে ছেলে-মেয়েরা।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান বলেন, প্রশাসনের কাজ হচ্ছে জনসেবা করা। আমি শুধু আমার ওপর রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। গ্রামবাসীরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চরম প্রতিকূলতা জয় করেছেন। সহায়তা পেলে গ্রামের মানুষ তার আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com