আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

চাকরি ছেড়ে যা করে কোটিপতি হলেন শিনীল

চাকরি ছেড়ে যা করে কোটিপতি হলেন শিনীল

শিনীলের বাবার ইঞ্জিনিয়ার-এমবিএ করার ইচ্ছে ছিলো। কারণ মেয়ে বড় চাকরি করবে। ভারতের মুম্বাইয়ের নামজাদা এমবিএ কলেজে মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছা ছিল অন্য। তাই চাকরি পেয়েও তা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন।

দৈনন্দিন

করোনাকালে প্রাণীরা ক্যাম্পাসে ফিরছে

সোনালি ডানার সরালিরা শীতের সাময়িক অতিথি হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মায়াজালে জড়িয়ে পড়ে কেউ কেউ। পছন্দের কাউকে নিয়ে জোড় বেঁধে এলোমেলো উড়ে বেড়ায় আকাশময়। কিচিরমিচির শব্দে আকাশ বাতাস মাতিয়ে তোলে।

মানুষের পদভারে ওষ্ঠাগত ক্যাম্পাসে করোনা এই সরালির জীবনেও নিয়ে এসেছে সুসময়। নির্জন প্রকৃতিতে এবার ডজনখানেক সরালি দম্পতি ঘর বেঁধেছে এই ক্যাম্পাসে। কয়েকটি সরালি দম্পতির কোলজুড়ে ইতিমধ্যে ছানাও এসেছে।

আলাদিনের চেরাগের মতো করোনা তাবৎ পৃথিবীর মানুষকে গৃহবন্দী করে ফেলেছে। এই ক্যাম্পাসও তার বাইরে নয়। শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছে, ক্যাম্পাসবাসীর চলাচলও সীমিত। সেকালের পায়ে ঠেলা রিকশা আর একালের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ঠেলায় যে রাস্তায় চলাফেরা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল, সেই রাস্তাঘাটে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ষার বিরামহীন বৃষ্টি। এই সুযোগে প্রাণ-প্রকৃতি সেজেছে বাহারি রঙে। প্রকৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ বুনো প্রাণীর দল যেন নিজের জায়গার মালিকানা ফিরে পেয়েছে। নিশাচর শিয়াল এখন দিনের বেলায় নিরাপত্তাপ্রহরীর প্রতিবেশী। এরাও যেন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। অন্যদিকে অঢেল আম–কাঁঠালের ইজারা নিয়েছে বাদুড় আর কাঠবিড়ালির দল। 

কোথা থেকে ভেসে আসে ডাহুকের ডাক, কবির এই ডাহুক পাখির ডাক এখন আর দূর থেকে ভেসে আসতে হয় না, রাতবিরাতে ঘরের আশপাশেই শোনা যায়। জোনাকির দল আলো ছড়াতে ইট–পাথরের বসতঘরে ঢুকে পড়ে। এমন জানা–অজানা নানা প্রাণীর স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ করোনার করুণা কি না কে জানে।

করোনায় আমরা যখন হতবিহ্বল, প্রকৃতি তখন মেলেছে ধরেছে তার অপরূপ সৌন্দর্য।

বনবিড়ালের ফিরে আসা
বনবিড়ালটি সপ্তম ছায়ামঞ্চের পাশে মার্বেল পাথরে বাঁধাই করা বেঞ্চে গিয়ে বসল। ভাবতেই পারিনি, বিড়ালটি ওখানে গিয়ে বসবে। বসে কয়েকবার পায়ের গোড়ালি চেটেপুটে নিল, যেমনটি বাড়ির পোষা বিড়াল করে থাকে। এরপর আমাদের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। অদ্ভুত মায়াবী সে চাহনি। এভাবে মিনিটখানেক বসে থাকল। পরক্ষণেই এক লাফে পাশের ঝোপে গিয়ে আবার বসে পড়ল। বাঁয়ে মোড় নিয়ে আমরাও খানিকটা এগিয়ে গেলাম। আড়চোখে আমাদের দেখছে বিড়ালটি। কোনো ডর-ভয় নেই।

জুনের প্রথম সপ্তাহ। পশ্চিমের রাধাচূড়া ভেদ করে পদ্মপাতার ওপর বিকেলের সূর্যের আলো তখনো চিকচিক করছে। সবে গোছল সেরে এক জোড়া সরালি গায়ের পালকের ফাঁকে ফাঁকে ঠোঁট চালিয়ে দিচ্ছে, সেই দৃশ্যের ছবি তুলছে সাইফ, অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া আমাদের ছেলে। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত করছি। কয়েক বছর আগে ক্যাম্পাসের দক্ষিণের এক জঙ্গলে এক গোধূলিবেলায় এই বনবিড়ালের দেখা পেয়েছিলাম। কিন্তু ভালো ছবি তোলার সুযোগ দেয়নি। অথচ করোনাকালের এই সময়ে বনবিড়ালের এমন আচরণ আমাদের শুধু অবাকই করেনি, মুগ্ধও করেছে। বিড়ালটির বসে থাকার হাবভাবে মনে হলো, ও আমাদেরকে বলছে, ‘তোমাদের ছবি তোলা শেষ হয়েছে?’ 

বোকা সরালির দম্পতি
জুনের ২০ তারিখ সকাল নটা-দশটা হবে। এক সহকর্মীর ফোন এল, অপ্রত্যাশিতই বলা যায়। জানালেন, সরালির একটি বাসা থেকে তিনটি ছানা নিচে পড়ে দুটি মারা গেছে, একটি বেঁচে আছে। ঘটনাস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট অফিসের কাছে সুপারিতলা। দ্রুত পৌঁছে যাই সেখানে। রাস্তার ঠিক ওপরে একটি মেহগনিগাছের মগডালে সরালির বাসাটা। সরালির বাসা ইতিপূর্বে ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড়সমৃদ্ধ এলাকায় বেশি দেখেছি। বাসা বানাতে এরা সাধারণত নির্জন ঝোপঝাড় এলাকা বেছে নেয়। কারণ, ডিম ফুটে ছানারা বের হলে একে একে বাসা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে। নিচে ঝোপঝাড় থাকলে ছানারা আহত হয় না। নেমে এলে নিচে অপেক্ষারত মা-বাবা ছানাদের পথ দেখিয়ে পাশের কোনো জলাশয়ে চলে যায়। আর এই বোকা সরালি দম্পতি বাসা বানিয়েছে রাস্তার ওপরে। করোনাকালের নির্জনতা হয়তো সরালি দম্পতিকে এমন জায়গায় বাসা গড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে। নিচে পিচঢালা রাস্তা হওয়ায় লাফিয়ে পড়ে দুটি ছানা তৎক্ষণাৎ মারা যায়। 

শীতে আসা জলমোরগ গ্রীষ্মে
মা পাখিটা ছটফট করছে। অস্থির হয়ে এদিক–ওদিক ছুটছে। কিন্তু দূরে সরে যায় না। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওর এই উদ্বেগ। বুঝতে বাকি রইল না। পাখিটি হয়তো কাছাকাছি কোথাও বাসা বেঁধেছে। তবে হিসাবটা মিলছে না ঠিকঠাক। জলমোরগের তো বাসা বানানোর কথা নয় এই ক্যাম্পাসে। এত দিন শীতেই দেখেছি ওদের। শীতের শেষে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। এই যখন ভাবছি, তখন আমাদের অবাক করে দিয়ে পাশের কচুরিপানা থেকে বের হয়ে এল লাল ঠোঁটের কালচে একটি ছানা। মায়ের মুখ থেকে খাবার নিয়ে কচুরিপানায় আবার হারিয়ে গেল। বেশ চটপটে। আমরা গাছের আড়ালে সরে এলাম। মা এদিক–ওদিক ভালো করে দেখে নিল। একপর্যায়ে আমাদের দেখতে না পেয়ে মা কচুরিপানা থেকে ছানাটি খোলা জায়গায় বের করে নিয়ে এল। ছানাটি মায়ের পিছু পিছু ছুটল। নিজেও মাঝেমধ্যে জলজ উদ্ভিদের ডালাপালা পরখ করছে। তবে মায়ের দেওয়া খাবারই মুখে তুলছে বেশি। টুকটাক শব্দও করছে। শিখছে মায়ের ভাষা, বেঁচে থাকার কলাকৌশল।

জলমোরগ জলচর পাখি। কচুরিপানা বেশ পছন্দের আবাস। প্রতিবছর শীতকালে কয়েক জোড়া জলমোরগ আসে স্বল্পকালীন অতিথি হয়ে এই ক্যাম্পাসে। শীতের পুরো সময়টাই লেকে ঘুরে বেড়ায়। শীতকালের শেষ ভাগে যখন সরালিরা একে একে ছেড়ে যায় ক্যাম্পাস, তখন জলমোরগও প্রস্তুতি নেয় বাড়ি ফেরার। অনেকটা সরালির মতো। কিন্তু করোনাকালে প্রকৃতির হিসেবটাও কেমন যেন বদলে গেছে। শীতের পরিযায়ী জলমোরগও এবার ছানা তুলেছে এখানে। তেমন কোনো উৎপাত না হলে ক্যাম্পাসের জলাশয় নিশ্চয়ই এদেরও স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠবে।

সন্ধ্যায় ডোরাকাটা বাগডাশ
জুনের শুরুর দিকের ঘটনা। বারান্দায় দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলছিলাম। সন্ধ্যা নামার কিছুটা পরপর হবে। প্রান্তিক গেটের কমিউনিটি জামে মসজিদের ঠিক উল্টো দিকে বড় রাস্তা–লাগোয়া আমাদের বাসা। হঠাৎ চোখে পড়ল, বাসার সামনের বাগানে ভাবলেশহীন হেঁটে চলছে সাদা-কালো ডোরাকাটা একটি বড় আকারের প্রাণী। বাসার গেটের লাইটের আলোতেও কোনো লুকোচুরি ভাব দেখলাম না নিভৃতচারী প্রাণীটির মধ্যে। ছোটবেলায় গ্রামের মানুষকে পিটিয়ে মারতে দেখেছিলাম একবার, তা–ও প্রায় ৩০ বছর আগে। এরপর প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখিনি অত্যন্ত সতর্ক এই বুনো প্রাণীটিকে। এটি আমাদের বড় বাগডাশ। হঠাৎ করে এমন অপ্রত্যাশিত প্রাণী দেখে আমার চোখ আটকে যায়। ফোনের ওপাশ থেকে যখন জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার কথা বলছিস না কেন, তখন আমি সংবিৎ ফিরে পাই। বেশ কয়েক দিন বাগডাশটি একই সময়ে একই পথ ধরে চলাচল করে।

ক্যাম্পাসে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আছি। প্রথমে প্রাণিবিদ্যার ছাত্র হিসেবে, পরে শিক্ষকতায়। এই দীর্ঘ সময়ে ক্যাম্পাসে নানা বুনো প্রাণী দেখেছি, ছবি তুলেছি। কিন্তু ইতিপূর্বে বাগডাশের দেখা পাইনি। করোনাকালে এই বিশেষ প্রাণীটি দেখে তাই চমকে উঠি। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সত্যি দেখছি তো? খুব পরিচিত প্রাণী হলেও এর দেখা পাওয়া অনেকটা সৌভাগ্যের ব্যাপার।

করোনাকালে দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট ও কেলেঙ্কারির খবর দেখে মনে হয়েছে, প্রকৃতিতে বিনা মূল্যে যে অক্সিজেন ছড়িয়ে আছে, তা আমরা কীভাবে ধ্বংস করছি। নির্মল বাতাস আজ আমাদের নানা দূষণে ভরপুর। তাই আশঙ্কা জাগে, প্রাণ–প্রকৃতি বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে নিজের পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে চলাফেরা করতে হয় কি না। করোনাকাল একদিন বিদায় নেবে। মানুষ আবার পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়বে। করোনা আমাদের যে বার্তা দিয়ে গেল, তা আমরা আগামীকাল মনে রাখব না ভুলে যাব, তার ওপর নির্ভর করবে আমাদের অনাগত প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

টমেটোর উপকারিতা

টমেটো একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি। টমেটো শীতকালীন সবজি হলেও এখন সারা বছর পাওয়া যায়। কাঁচা কিংবা পাকা দুভাবে টমেটো খাওয়া যায়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে টমেটোর জুড়ি মেলা ভার। অনেকে আবার সালাদে টমেটো খেয়ে থাকেন। শুধু খাবারে স্বাদই বাড়ায় না, টমেটো থেকে তৈরি হয় নানা রকমের কেচাপ, সস।

• পুষ্টিতে ভরপুর টমেটো। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, কে, ফলেট এবং পটাসিয়াম। টমেটো থেকে আরও পাওয়া যায় থায়ামিন, নায়াসিন, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং কপার। এ ছাড়াও এই এক কাপের টমেটোর মধ্যেই থাকে দুই গ্রামের মতো ফাইবার। অনেকটা পানিও রয়েছে এর মধ্যে।

• চর্মরোগের জন্য টমেটো অত্যন্ত কার্যকর উপাদান। ত্বকে যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে প্রক্রিয়াজাত করে টমেটোর ব্যবহার করতে পারেন। চর্মরোগ নিরাময়ে এর রস কাজ করে থাকে।

• মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং বয়সের ছাপ দূর করতে টমেটো বেশ কার্যকর। এর রস মুখের ত্বক মসৃণ ও কোমল করে। বয়স বাড়তে থাকলে মানুষের মুখে যে বয়সের ছাপ পড়ে, তা টমেটো দেওয়ার ফলে সেই ছাপ লুকাতে সাহায্য করে।

• এটি খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি বা দুটি টমেটো খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে।

• রক্তস্বল্পতা দূরীকরণে সাহায্য করে। যাঁরা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য টমেটো বেশ উপকারী। প্রতিদিন
এক বা দুইবার টমেটো খেলে রক্তস্বল্পতার সমস্যা অনেকটাই দূর হতে পারে।

• সর্দি-কাশি প্রতিরোধেও টমেটো বেশ কার্যকর। সর্দি-কাশি হলে এক বা দুটি টমেটো নিয়ে স্লাইস করে অল্প চিনি বা অল্প লবণ দিয়ে পাত্রে গরম করে স্যুপ তৈরি করে খেতে পারেন। এর ফলে সর্দি-কাশিতে উপকার পাবেন।

• জ্বরের নিরাময়ে সহায়ক। গায়ের তাপমাত্রা নানান কারণে বাড়তে পারে। সামান্য জ্বর হলে টমেটো খেলেই আরাম পেতে পারেন।

• মাড়ি থেকে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভিটামিন সির অভাবে মাড়ি থেকে যদি রক্তপাত হয়। টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। তাই প্রতিদিন একটি করে টমেটো খেলে মাড়ি থেকে যদি রক্তপাতের বিষয় থাকে উপকার পাবেন।

• নিয়মিত টমেটো খেলে ত্বক সুস্থ থাকে। আর ত্বক হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। সূর্যের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ফলে ত্বকে বলিরেখা পড়ার পরিমাণ কমে যায়।

• টমেটোর মধ্যে রয়েছে লাইকোপেন এবং ভিটামিন এ। যা অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই নিয়মিত টমেটো খেতে পারেন।

• এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম। যা হাড়ের জন্য অনেক উপকার। আপনার হাড় দুর্বল থাকে তবে টমেটো খেতে পারেন।

টমেটো সস ও কেচাপ যেকোনো খাবারের সঙ্গে বিশেষ করে মুখরোচক ভাজাভাজি বা নাশতার সঙ্গে খেলে মজা লাগে। আজকাল নানা নতুন কায়দার গরুর মাংস, মুরগির মাংস রান্নায় টমেটো সস মেশানো হয়। তাতে স্বাদে ভিন্নতা আসে। খেতেও সুস্বাদু হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শুধু শাকসবজি খাবেন, তা-ও হতে পারে স্ট্রোক

সুস্থ থাকতে বেশি বেশি সবজি খাওয়ার পরামর্শ মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। তবে এ জন্য যাঁরা শাকসবজির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন, তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছেন যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, যাঁরা সবকিছু ছেড়ে শুধু শাকসবজি খান, তাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমলেও স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। গবেষণাকালে যে কয়েকটি স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঘটনা ঘটেছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতি হাজারে মাংস খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় শুধু সবজি খাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঘটনা কম ঘটেছে। সংখ্যাটি হলো ১০। এর বিপরীতে শাকাহারীদের বেলায় স্ট্রোকের ঘটনা তিনটি বেশি ঘটেছে।

বিজ্ঞানীরা ৪৮ হাজার ব্যক্তির ওপর ১৮ বছর ধরে গবেষণা করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণাটি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তবে হৃদরোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি শুধু সবজি খাওয়ার কারণে কমেছে, নাকি ওই ব্যক্তিদের জীবনযাপনের ধরনের কারণে কমেছে, সেটি গবেষণায় তুলে ধরা হয়নি।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়। এঁদের একটি বড় অংশ নিয়মিত মাংস খায়। শুধু শাকসবজি খান ১৬ হাজার। ৭ হাজার ৫০০ জন নিজেকে মৎস্যভোজী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

গবেষণায় অংশ নেওয়ার শুরুতে একবার তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কী ধরনের খাবার তাঁরা নিয়মিত খান। এরপর ২০১০ সালে আবারও তাঁদের কাছে একই বিষয় জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁদের চিকিৎসার নথিপত্র, ধূমপান ও শারীরিক কাজকর্ম–সম্পর্কিত বিষয় আমলে নেওয়া হয়।

গবেষণা চলাকালে মোট ২ হাজার ৮২০টি হৃদরোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে ১ হাজার ৭২টি। দেখা গেছে, মাংস খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় মাছ খাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঘটনা ১৩ শতাংশ কম। আর শাকসবজি খাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ২২ শতাংশ কম। তবে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় সবজি খাওয়া ব্যক্তিরা ২০ শতাংশ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

গবেষকেরা বলছেন, এমন হওয়ার পেছনে ভিটামিন বি-১২ দায়ী থাকতে পারে। যাঁরা পুরো মাত্রায় সবজিনির্ভর, তাঁদের শরীরে বি-১২ ভিটামিনের পরিমাণ কমে যায়। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসক ফ্রাঙ্কি ফিলিপস বলছেন, এই গবেষণার অর্থ এই নয় যে প্রতি রাতে মাংস আর আলু খেতে হবে। বরং খাওয়ার তালিকায় সব ধরনের খাদ্য উপাদানের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মুচমুচে সবজি

মুচমুচে সবজি

সবজি নাগেটস

উপকরণ: সেদ্ধ আলু (গ্রেট করা) আধা কাপ, সবজি ৩ কাপ (গাজর, মটরশুঁটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সুইট কর্ন), ধনেপাতার কুচি সিকি কাপ, কাঁচা মরিচের কুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ মিহি কুচি ২ টেবিল চামচ, আদা ও রসুনবাটা আধা টেবিল চামচ, অরিগেনো আধা চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সস ২ চা-চামচ, ডিম ২টি, ব্রেড ক্রাম্ব প্রয়োজনমতো, তেল ভাজার জন্য প্রয়োজনমতো।

প্রণালি: প্রথমে সব সবজি ভাপিয়ে নিন। আধা সেদ্ধ হলে নামিয়ে ঠান্ডা করে কুচি করে (গ্রেট) নিন। এবার গ্রেট করা সেদ্ধ আলু ও অন্য সব উপকরণ (তেল, ডিম ও রুটি ক্রাম্ব বাদে) একসঙ্গে মিশিয়ে শক্ত মিশ্রণ তৈরি করে নিন। দরকার মনে হলে সামান্য ব্রেড ক্রাম্ব মিশিয়ে নিন। নাগেটসের আকারে বানিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। এবার প্রতিটি নাগেটস ডিমের গোলায় ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বে গড়িয়ে নিন। এরপর চুলায় প্যান দিয়ে তেল গরম করে নাগেটস ভেজে নিয়ে সস ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

মুচমুচে সবজি স্যান্ডউইচ

উপকরণ: পাউরুটি ৬ টুকরা, বাঁধাকপি, গাজরকুচি, সুইট কর্ন আধা কাপ (সব মিলিয়ে), গোল করে কাটা পেঁয়াজ ও পালংকুচি পছন্দমতো, ডিম ২টি, পেঁয়াজকুচি ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচের কুচি ১ চা-চামচ, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, মাখন ২ টেবিল চামচ, টমেটো কেচাপ, মেয়োনেজ, লেটুসপাতা সাজানোর জন্য, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি: পাউরুটির প্রতিটি স্লাইসে মাখন মাখিয়ে নিন। এবার এর ওপরে চিংড়ি ভাজা ও কাঁচা পেঁয়াজ সাজিয়ে দিন। এবার স্যান্ডউইচ গ্রিল্ড প্যান বা টোস্টারে গরম হতে দিন। মচমচে হয়ে গেলে নামিয়ে নিন।

একটি বাটিতে সবজি, ডিম, পেঁয়াজকুচি, সয়া সস, গোলমরিচের গুঁড়া সব একসঙ্গে মিশিয়ে রাখুন। প্যানে সামান্য মাখন দিয়ে সবজির মিশ্রণটি পাউরুটির আকার অনুযায়ী ঢেলে দিন এবং ভেজে তুলুন। এবার টোস্ট করা এক টুকরা পাউরুটিতে মেয়োনেজ লেটুসপাতা দিয়ে নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে ভেজে রাখা সবজির স্টাফিং দিন। আরেক টুকরা পাউরুটি দিয়ে ঢেকে দিন। এভাবে বাকি স্যান্ডউইচগুলো বানিয়ে নিন এবং মাঝখানে স্লাইস করে পরিবেশন করুন।

সবজির ললিপপ

উপকরণ: সবজি (মিহি কুচি) ২ কাপ (গাজর, মটরশুঁটি, বাঁধাকপি, সুইট কর্ন, ব্রকলি, মটরশুঁটি), সেদ্ধ আলু (গ্রেট করা) আধা কাপ, ধনেপাতার কুচি সিকি কাপ, কাঁচা মরিচের কুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ মিহি কুচি ২ টেবিল চামচ, আদা ও রসুনবাটা আধা চা-চামচ করে, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, ব্রেড ক্রাম্ব সিকি কাপ, তেল ভাজার জন্য প্রয়োজনমতো, লবণ স্বাদমতো, আইসক্রিমের কাঠি প্রয়োজনমতো।

সস বানানোর উপকরণ: রসুনকুচি ১ চা-চামচ, মাখন ২ চা-চামচ, চিলি ফ্লেক্স ১ চা-চামচ, বারবিকিউ সস ২ টেবিল চামচ, টমেটো কেচাপ ১ টেবিল চামচ, হট সস ১ চা-চামচ, চিনি ১ চা-চামচ।

(প্যানে মিশ্রণ দিয়ে রসুনকুচি একটু ভেজে নিন। এবার চিলি ফ্লেক্স দিয়ে ভেজে অন্য সব উপাদান দিয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিন।)

পাতলা মিশ্রণ বা ব্যাটার তৈরির জন্য: ময়দা ৩ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ, চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ সিকি চা-চামচ, পানি প্রয়োজনমতো। সব একসঙ্গে মিশিয়ে পাতলা ডো তৈরি করে রাখতে হবে।

প্রণালি: তেল ছাড়া অন্য সব উপকরণ খুব ভালো করে সবজির সঙ্গে মেখে নিতে হবে। এমনভাবে মাখতে হবে যেন শক্ত ডো-এর মতো হয়। এবার এক মুঠো ডো নিয়ে আইসক্রিমের কাঠিতে ললিপপের আকারে গড়িয়ে নিতে হবে। কড়াইতে অনেকটা তেল দিয়ে গরম করে ললিপপগুলো একটা একটা করে গোলায় ডুবিয়ে ডিপ ফ্রাই করে নিতে হবে। ভেজে নেওয়া ললিপপগুলো আগে থেকে তৈরি করে রাখা সসে মাখিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

সবজি পাকোড়া

উপকরণ: বাঁধাকপি, পালংশাক, আলু, গাজরকুচি একসঙ্গে ২ কাপ, পেঁয়াজপাতার কুচি ২ টেবিল চামচ, ধনেপাতার কুচি ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি সিকি কাপ, কাঁচা মরিচের কুচি ১ টেবিল চামচ, আদা ও রসুনবাটা ১ চা-চামচ, চাটমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, বেসন ২ টেবিল চামচ, চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ, বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ, লবণ সিকি চা-চামচ, তেল ভাজার জন্য।

প্রণালি: তেল ছাড়া বাকি সব উপকরণ সবজির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। সামান্য নরম ডো তৈরি করুন। দরকার মনে করলে সামান্য পানি দিন। এবার কড়াইতে তেল গরম করে হাত দিয়ে পেঁয়াজের মতো ছোট আকারের পাকোড়া বানিয়ে মচমচে করে ভেজে তুলুন।

চিজি ভেজিটেবল ফিঙ্গার

উপকরণ: ক. গ্রেট করা সেদ্ধ আলু ১ কাপ, ফুলকপি মিহি গ্রেট করা আধা কাপ, পালংশাক মিহি কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজকুচি সিকি কাপ, গ্রেটেড চিজ আধা কাপ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া আধা কাপ, মাখন ৩ টেবিল চামচ, রসুনকুচি ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচের কুচি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

খ. মোজারেলা চিজ ২০০ গ্রাম, ডিম ২টি, শুকনা ময়দা প্রয়োজনমতো, ব্রেড ক্রাম্ব প্রয়োজনমতো, তেল ডিপ ফ্রাই করার জন্য।

প্রণালি: প্রথমে কড়াইতে বাটার দিয়ে রসুনকুচি সামান্য ভেজে গ্রেট করা আলু ও ফুলকপি দিন। খুব ভালো করে ভেজে নিন এবং প্রায় হয়ে এলে উপকরণ ক-এর সব দিয়ে খুব ভালো করে নেড়েচেড়ে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। মোজারেলা চিজকে চিকন ফিঙ্গারের আকারে টুকরা করুন। সবজিগুলো ঠান্ডা হলে লম্বা ফিঙ্গারের আকৃতিতে বানিয়ে ভেতরে একটা করে মোজারেলা ভরে চারদিকে সবজি দিয়ে মুড়ে নিন। ফ্রিজে এক ঘণ্টার জন্য শক্ত হতে রেখে দিন। ডিম ফেটে রাখুন এবং আলাদা বাটিতে ময়দা ও ব্রেড ক্রাম্ব রাখুন। এবার ফিঙ্গারগুলো ময়দায় গড়িয়ে ডিমের গোলায় ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বে গড়িয়ে নিন । আবার কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখুন। কড়াইতে অনেকটা তেল দিয়ে গরম করে ডুবো তেলে ফিঙ্গারগুলো ভেজে সস দিয়ে পরিবেশন করুন।

মধুর সসে মুচমুচে সবজি

উপকরণ: ফুলকপি, ব্রকলি, মাশরুম, ক্যাপসিকাম (কিউব করে কাটা) ৩ কাপ, আদা ও রসুনবাটা ১ চা-চামচ, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, ময়দা সিকি কাপ, কর্নফ্লাওয়ার সিকি কাপ, তেল ডিপ ফ্রাই করার জন্য।

মধুর সস তৈরির জন্য: মধু ৩ টেবিল চামচ, সয়া সস ২ টেবিল চামচ, ফিশ সস ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ চা-চামচ, মেয়োনেজ ২ টেবিল চামচ, চিলি গার্লিক সস ২ টেবিল চামচ, তিল ১ চা-চামচ।

প্রণালি: কড়াইতে তেল গরম করে সবজির সঙ্গে অন্যান্য সব উপাদান মিশিয়ে গরম তেলে ডিপ ফ্রাই করে নামিয়ে নিন। এদিকে সসের সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে চুলায় জ্বাল দিয়ে ভাজা সবজিগুলো দিয়ে দ্রুত হাতে নাড়াচাড়া করে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মাছে-ভাতে বাঙালি

তখনো তিনি ‘ওস্তাদ’ হয়ে ওঠেননি। কিন্তু রামপুর দরবারে তত দিনে চার বছর সরোদ বাজানো শিখে ফেলেছেন। বাজানো দেখে বন্ধুরা হিংসায় জ্বলেপুড়ে শেষ! আলাউদ্দীন খাঁর হাতের সরোদ, এসরাজ, বীণা তত দিনে অনুরণন তুলে জানান দিচ্ছে, একদিন তিনি শাসন করবেন ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারা। অবাঙালি বন্ধুরা তাঁকে তাচ্ছিল্য করত, ‘মচ্ছিকে পানি পিনেওয়ালা’ বলে। দু-চার মাস তিনি সব সহ্য করলেন। তারপর একদিন ভীষণ খেপে গিয়ে সতীর্থ জমিরুদ্দীনকে বললেন, ‘পায়ে ধরে সরোদ বাজাব। শুনবি?…বাঁ হাতে বাজিয়ে শোনাব।’ সেই থেকে তিনি বাঁ হাতে তারের যন্ত্র আর ডান হাতে চামড়ার যন্ত্র বাজাতেন। বাঙালি আর মাছের কথা উঠলে ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর এই গল্প মনে পড়ে। মনে পড়ে, কী ভীষণ আত্মপ্রত্যয় নিয়ে এক ‘মাছখোর’ বাঙাল বাঁ হাতে সরোদ বাজিয়ে জয় করেছিলেন ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের ভুবন।

পুরোনো বইপত্র, প্রত্ননিদর্শন—সবকিছুতেই মোটাদাগে যা দেখে বাঙালি চেনা যায়, তা হলো তার ভাত ও মাছ খাবার অভ্যাস। কৃষিজাত শস্যের মধ্যে ধান এখনকার মতো অতীতেও ছিল বাঙালির প্রধান খাদ্যশস্য। রূপশালী, বাঁশীরাজ, অঞ্জনা, কৃষ্ণচূড়া, পদ্মশাল, রাজাশাইল, দুধকলম, সুন্দরমুখী, আন্ধারমানিক—কতশত নামের কত কত ধান যে সুঘ্রাণ ছড়াত প্রাচীন বাংলার বুকে, তার কোনো লেখাজোখা নেই। বলা হয়ে থাকে, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে এক লাখের বেশি প্রজাতির ধান ছিল একসময়।

এ পর্যন্ত সবচেয়ে পুরোনো ধানের ফসিল পাওয়া গেছে চীনের উত্তর জুয়ানঝি অঞ্চলের দায়াতনঘুয়ান গুহায়—যার আনুমানিক বয়স প্রায় ১০ হাজার বছর। তবে সেই ধানের নমুনাগুলো বন্য নাকি আধুনিক কালের ‘পোষ মানা’, তা নিয়ে বিস্তর মতবিরোধ আছে। এই আবিষ্কারের সূত্র ধরে বলা যায় যে আজ থেকে ১০ হাজার বছর আগের মানুষ ধানের ব্যবহার জানত। ভারতের উত্তর প্রদেশের লহুরাদেওয়ার নিকটবর্তী জলাশয়ের তলদেশে মিলেছে কমপক্ষে সাত হাজার বছরের পুরোনো বুনো ধানের খোঁজ। চীন দেশ থেকেই হোক আর ভারত থেকেই হোক—ধান ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এবং সুদীর্ঘকাল ধরে এই বিশাল অঞ্চলে এটি প্রধান খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রাচীন বাংলায় খাদ্যশস্য হিসেবে ধানের প্রচলনের উদাহরণ পাওয়া যায় প্রাচীন পুণ্ড্রনগরে। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকে, মৌর্য শাসনের কালে করতোয়া নদীর তীরে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্বিপাকে মানুষের যে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছিল, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য রাজকীয় শস্যভান্ডার থেকে দুস্থ জনসাধারণকে ঋণ হিসেবে ধান বিতরণ করার এক রাজ ফরমান পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, কোনো মৌর্য শাসক শিলালিপির মাধ্যমে এই ফরমান জারি করেছিলেন।
ধানের অস্তিত্ব যেহেতু ছিলই আমাদের এই ভূখণ্ডে, ভাত খাওয়ার প্রচলনও ছিল স্বাভাবিকভাবে। আনুমানিক পনেরো শতকে লিখিত কাব্য প্রাকৃতপৈঙ্গল থেকে এই অঞ্চলের মানুষের খাবার সম্পর্কে জানা যায়, ফেনা ওঠা ভাত, যা খাওয়া হতো কলাপাতায়, তাতে থাকত গাওয়া ঘি, পাটশাক, ময়না/মৌরালা মাছ আর সঙ্গে দুধ। প্রাকৃতপৈঙ্গল ছাড়াও বৃহদ্ধর্মপুরাণ, ভবদেব ভট্ট রচিত প্রায়শ্চিত্তকরণ, শ্রীহর্ষের নৈষধচরিত ইত্যাদি প্রাচীন গ্রন্থে বাঙালির ভাত খাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এই ভাতের সঙ্গে যা খাওয়া হতো, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মাছ।

নীহার রঞ্জন রায় বলেছেন যে বৃষ্টি ও নদী-খাল-বিল বহুল, প্রশান্ত সভ্যতা প্রভাবিত এবং আদি-অস্ট্রেলীয় মূল বাংলায় খুব স্বাভাবিক কারণে মাছ অন্যতম প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। হেনরি লুইস মর্গান তাঁর আদিম সমাজ বইয়ে বলেছেন, মানুষের উত্তরণের সূচনা হয় মূলত মাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে। তিনি ধারণা করেছেন, মাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করেই মানুষ আগুনের আবিষ্কার করেছে। ভারতবর্ষে পাওয়া মাছের ফসিলের বয়স ৩০ কোটি বছরের পুরোনো! আরও একটি মাছের ফসিল পাওয়া যায় ভারতে, তার বয়স ১৮ কোটি বছর। বেলুচিস্তানের বোলান গিরিপথের ধারে পশ্চিম এশিয়ার প্রাচীন যে কৃষিপ্রধান নগরের সন্ধান পাওয়া যায়, তার নাম মেহরগড়। সাত হাজার থেকে দুই হাজার তিন শ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সেখানে গড়ে উঠেছিল কৃষিভিত্তিক সভ্যতা। এই প্রাচীন সভ্যতার সুলুক সন্ধানের জন্য নৃতাত্ত্বিক খননের সময় পাঁচটি মাছের ছবি আঁকা একটি পোড়ামাটির থালা পাওয়া যায়। দুই হাজার সাত শ থেকে দুই হাজার পাঁচ শ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কোনো এক সময় এই থালাটি নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়। মাছের ছবি আঁকা এই থালা প্রমাণ করে যে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতায় মাছ ছিল জনপ্রিয় খাবার। এসব নৃতাত্ত্বিক প্রমাণের সূত্র ধরে ধারণা করা অসংগত নয় যে সুদীর্ঘকাল ধরে ভারতবর্ষের মানুষ মাছ ও ভাত খায় এবং নদীমাতৃক প্রাচীন বাংলায়ও মাছ-ভাত খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত প্রাচীন।

মাছ ও ভাতের এই রাজযোটক তৈরি হলো কীভাবে, তার কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে ধারণা করা যায় যে ধান এবং মাছ অনায়াসে জন্মাত এই বাংলায়, এখনো যেমন জন্মায়। খাদ্য উপাদানের সহজলভ্যতা কোনো অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির মূল ভিত তৈরি করে। যে অঞ্চলে খাবারের যে উপাদান সহজলভ্য, সে অঞ্চলে সে উপাদানকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে সেই অঞ্চলের প্রধান খাদ্যের পরম্পরা। সহজলভ্যতার কারণে ধান ও মাছ কালক্রমে বাঙালির প্রধান খাদ্য হয়ে ওঠে। সে কারণে দেখা যায়, শুধু খাদ্যে হিসেবেই নয়, বাঙালির যাপিত জীবনের বিভিন্ন মাঙ্গলিক বাতাবরণেও ধান ও মাছের উপস্থিতি রয়েছে বিস্তর। বাঙালির সামাজিক মনস্তত্ত্বে তাই, ধান মানেই ধন আর মাছ মানেই (নারীর ক্ষেত্রে) উর্বরতা।
ধান ও মাছ থেকে কত রকমের খাবার তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে বাঙালির রয়েছে লোকায়ত জ্ঞানের বিশাল ভান্ডার। সমাজের সব স্তরের মানুষই ভাতের সঙ্গে মাছ খেত এবং এখনো খায়। মূলত ভাতের সঙ্গে মাছ এবং বিভিন্ন প্রকারের শাকই বাঙালির আদি খাবার। প্রতিদিনের খাবারের পাতে যেমন, উৎসবেও তেমনি মাছ ও ভাত ছিল বাঙালির প্রধান খাবার। বেহুলার বিয়েতে ঝোল-ঝাল-ভাজাসহ রান্না হয়েছিল ১৮ পদের মাছ! আর পনেরো শতকের শেষের দিকে কবি বিজয় গুপ্ত কিংবা ষোলো শতকে রচিত দ্বিজবংশীদাসের মনসামঙ্গলের পাতায় পাতায় মাছের ছড়াছড়ি। এই দুই কবিই যথাক্রমে বরিশাল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন। রুই, বোয়াল, খলসে, ভাংরা, রিঠা, চিংড়ি, ইলিশ, মাগুর, শিং, মৌরালা, শোল—কোন মাছের কথা উল্লেখ করেননি তাঁরা? একদিকে বিজয় গুপ্ত বলছেন,


‘[…] মাগুর মৎস্য দিয়া রান্ধে গিমা গাচ গাচ।
ঝাঁজ কটু তৈলে রান্ধে খরসুল মাছ।।
ভিতরে মরিচ-গুঁড়া বাহিরে জড়ায় সুতা।
তেলে পাক করি রান্ধে চিঙড়ির মাথা।। […]’
অন্যদিকে দ্বিজবংশীদাস বলছেন,
‘[…] পাবদা মৎস্য দিয়া রান্ধে নালিতার ঝোল।
পুরান কুমড়া দিয়া রোহিতের কোল।। […]’
বাঙালির ভাত ও মাছ খাওয়ার রয়েছে এক সুদীর্ঘ পরম্পরা এবং রসায়ন। এই রসায়ন গড়ে উঠেছিল ভূপ্রকৃতি, কৃষিকেন্দ্রিকতা, সংস্কৃতি ইত্যাদির নিরিখে। সুফলা মাটিতে ধান আর টলটলে জলের পুকুরে বা নদীতে মাছ—এই বাস্তবতায় যে জীবনযাপনপ্রক্রিয়া বাঙালি তৈরি করেছিল শত শত বছর ধরে, তাতে সুখ ও সমৃদ্ধির নানা সংস্কার-বিশ্বাসে, মাঙ্গলিক চিন্তায় ধান আর মাছ সমানভাবে উপস্থিত। প্রতিদিনের হেঁশেল থেকে উৎসবের ভোজে তো বটেই, সন্তানসন্ততি আর ঐহিক মঙ্গল কামনায় বাঙালি ধান আর মাছের কাছেই ফিরে গেছে যুগে যুগে। তারপরও ঈশ্বরী পাটুনি কেন সন্তানদের মাছে ভাতে রাখতে না চেয়ে ‘দুধে ভাতে’ রাখতে চেয়েছিলেন, সেটা এক রহস্যই বটে। পাটুনি না বললেও গুপ্ত কবি ঈশ্বরচন্দ্র বাঙালির সারসত্য প্রকাশ করেছেন:
‘ভাত-মাছ খেয়ে বাঁচে বাঙালি সকল
ধানে ভরা ভূমি তাই মাছ ভরা জল।’

তথ্যসূত্র:
১. সনৎ কুমার মিত্র (সম্পা.), লোকসংস্কৃতি গবেষণা পত্রিকা (মাছ-বাঙালি এবং লোকসংস্কৃতি বিশেষ সংখ্যা), এপ্রিল-মে-জুন, ২০০৬।
২. আলপনা ঘোষ, মছলিশ, ২০১৫।
৩. রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল ও অনার্য তাপস (সম্পা.), নুনেতে ভাতেতে-১ ও ২। ২০১৬, ২০১৭।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com