আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

চলনবিলের আড়তে দিনে কোটি টাকার লিচু বিক্রি

সিরাজগঞ্জের চলনবিল অধ্যুষিত এলাকায় এ বছর লিচুর ফলন কম হলেও খুচরা ও পাইকারি বাজারে ভালো দাম থাকায় বেচাকেনা জমে উঠেছে। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকার লিচু। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম এখানকার লিচুর আড়তগুলো।

কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, পাবনার চাটমোহর ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার লিচুর আড়তে গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয় সিংড়া, উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর বটতলা, মামুদপুর, নাজিরপুর, মশিন্দা, তাড়াশের নাদোসৈয়দপুর, ধামাইচ হাট এলাকা।

তাড়াশের কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, এ বছর বেশি গরম থাকায় অনেকের বাগানের লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। এরপরও বোম্বাই, চায়না-৩ এবং মোজাফ্ফর জাতের লিচুর ফলন ভালো হয়েছে।

বেড়গঙ্গারামপুর লিচু ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সভাপতি হাজী সাকায়াত হোসেন মোল্লা জানান, এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ৭০-৭৫ ট্রাক লিচু রাজধানী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঈাইল, চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এসব জেলার পাইকাররা চলনবিলের আড়ত থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, চলনবিলের আড়তগুলোতে বর্তমানে আকার, রঙ ও মানভেদে প্রতি হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৯০০ টাকায়। বড় লিচুর চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনর রশীদ বলেন, চলনবিলে গত এক দশকে লিচুর আবাদ প্রসারিত হয়েছে। চলতি বছর তাপমাত্রা বেশি থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়নি। তবে বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

এগ্রোবিজ

রাজশাহীতে চলছে লকডাউন, আম বাজারে কমছে ক্রেতা

বর্তমানে রাজশাহীতে আমের ভরা মৌসুম। এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে গোপালভোগ, হিমসাগর (খিরসাপাত), ল্যাংড়া ও গুটিজাতের আম। তবে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার (১১ জুন) বিকেল ৫টা থেকে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।

এছাড়া জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ক্রেতা সঙ্কটে ভুগছেন রাজশাহীর আম ব্যবসায়ীরা। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

চলমান লকডাউনে রাজশাহীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমারে বাজারগুলোতে শুধু ক্রেতা সঙ্কটই নয়, কমেছে আমের মূল্যও। প্রতি মণে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কমেছে। উত্তরের দ্বিতীয় বৃহৎ আমের হাট বানেশ্বর, রাজশাহীর সাহেব বাজার, শালবাগান, রাজশাহী বাসস্ট্যান্ড আমের বাজারেও এমন অবস্থা চলছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

বিক্রেতারা ভাষ্য- হাটে প্রচুর আম আমদানি হচ্ছে। সেই তুলনায় ক্রেতা কম। তাই আম বিক্রি করতে হচ্ছে অল্প দামে। এতে চাষি ও বাগান ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পুঠিয়া ঝলমলিয়ার আম বাগান ব্যবসায়ী মিনহাজ সাকিল। গাছের পাতা ও মুকুল দেখে কিনেছিলেন ১০ বিঘা আমের বাগান। আমের ফলনও হয়েছে ভালো। তবে ক্রেতা সঙ্কটে পাচ্ছেন না আমের দাম।

সাকিল বলেন, ‘লকডাউন ঘোষণার আগে টুকটাক ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু লকডাউন ঘোষণায় বানেশ্বর হাটে একেবারেই ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। গত তিনদিন আগে ল্যাংড়া আম বিক্রি হয়েছে ১৪০০ থেকে ১৭০০ টাকা মণ দরে। এছাড়া খিরসাপাত ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ ও গোপালভোগ ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমান তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম দামে। কারণ, এখন আমের ভরা মৌসুম। তাই হাটে এখন প্রচুর আম আমদানি হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা তেমন নেই।’

এদিকে, বানেশ্বরে ক্রেতা সঙ্কট থাকলেও রাজশাহীর অন্যসব আমের বাজারগুলো তুলনামূলক বেচাকেনা ভালো ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে নগরীর আম বাজারগুলোতে বিক্রি নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

আমের দাম কমার বিষয়ে মো. রহমত আলী নামের বিক্রেতা বলেন, ‘আগে ৩০ থেকে ৫০ মণ আম আমরা নিয়ে আসতাম। বর্তমানে ১০ থেকে ২০ মণ আম বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসা হয়। কারণ, ক্রেতা কম থাকায় সব আম বিক্রি সম্ভব হয় না। তখন আবার মণ প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লসে বিক্রি করতে হয়।’

রাজশাহীর অন্যতম আমের বাজার নগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে। প্রতিবছরই এখানে নগরীর আশপাশ থেকে আশা আমের ব্যবসায়ীরা আসেন তাদের বাগানের রসালো আম নিয়ে। পাশেই রেলস্টেশন ও বাসটার্মিনাল হওয়ায় বেচাকেনাও বেশ ভালো হয়। তবে হুট করে লকডাউন জারি হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন তারা।

এই চত্বরের আম ব্যবসায়ী আফসার আলী বলেন, ‘রাজশাহীর সবচেয়ে জমজমাট জায়গা এই বাসস্ট্যান্ড আম বাজার। প্রতিবছরই আমি এখানে আমার বাগানের আম এনে বিক্রি করি। বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনের পাশে হওয়ায় অনেক যাত্রীরা এখান থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে আম কেনেন। এতে ব্যবসাও বেশ ভালো হয়। তবে গতকালের লকডাউনের পর থেকে ক্রেতা নাই। এখন আম নিয়ে বিপদে আছি।’

হরিয়াণের আম ব্যবসায়ী সাজ্জাত হোসেন। রাজশাহীতে ভ্যানে করে ঘুরে আম বেচেন তিনি। এবারের আম ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বানেশ্বর বাজার থেকে আম কিনে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ও এলাকা ঘুরে আম বিক্রি করি। লকডাউনের কারণে খুব সমস্যা হয়ে গেছে। বাজারে মানুষ কম আবার করোনার কারণে মানুষ বাড়ি থেকে বেরও হচ্ছে না। তাই ব্যবসাও খুব খারাপ যাচ্ছে।’

jagonews24

রাজশাহীর চারঘাটের আম বাগান চাষি সোমেন মন্ডল। গত কয়েক বছর ধরে ‘অনিমা আম বাজার’ নামে অনলাইনেই বিক্রি করছেন তার বাগানের আম। অনলাইনে আম বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ধরা বাধা কয়েকটা কাস্টমার আছে আমার। তারা এক চালানে দু একশ মণ আম কুরিয়ারে অর্ডার নেয়। বাইরের জেলা ছাড়াও রাজশাহীতেই আমার অনেক খুচরা ক্রেতা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে অর্ডার পাচ্ছি কম। কোনো কোনো দিন ফাঁকাও যাচ্ছে।’

কম অর্ডারের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর বাজারে প্রচুর আম উঠেছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। আর বাইরের জেলার আম ব্যাপারীরা না আসায় ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীরা আম কমদামে কিনে বাইরের জেলায় বেশী দামে বিক্রি করছেন। এতে ক্রেতা কমে গেছে। আবার রাজশাহীর বাজারে ক্রেতা না থাকায় গ্রামের অনেক আম ব্যবসায়ীই এখন ভ্যানে করে শহরে কম দামে আম বিক্রি করছেন। এতে করে অনলাইনে অর্ডার নেই।’

আমের ট্রিপ নিয়ে যাওয়া ট্রাক চালক মোস্তাক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমের ট্রিপ চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেটে নিয়ে যাই। করোনার আগে সপ্তাহে ৪-৫ টা করে ট্রিপ হতো। এ বছর সপ্তায় একটি করে ট্রিপ হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আম কম পাঠাচ্ছেন।’

বানেশ্বর হাটের ইজারাদার ওসমান আলী বলেন, ‘করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের। এবার হাটে আমের ক্রেতা অনেক কম, কিন্তু উৎপাদন অনেক বেশি। সেই তুলনায় খরচ অনুযায়ী পোষাচ্ছে না তাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা এবার বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তবে রাজশাহীতে যদি আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেত তবে আম ব্যবসায় পুষিয়ে নিতে পারতেন ব্যবসায়ীরা।’

jagonews24

এদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাগানে আমের পর্যাপ্ত উৎপাদন হয়েছে। মূলত, করোনার কারণে আমের ক্রেতা বাজারে নেই। আবার কুরিয়ার সার্ভিস খোলা থাকলেও জেলা প্রশাসন ঘোষিত লকডাউনের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থার ঘাটতি এবং লকডাউনের কঠোরতায় দূরবর্তী স্থানে আম পাঠানোতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

অন্যদিকে, আমের তৈরি জ্যাম, জেলি, আচার কিংবা বড় বড় কোম্পানি কর্তৃক ফ্রুট জুস সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও আস্ত আম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। যার কারণে এবার আমের দাম ও ক্রেতা উভয়ের সঙ্কট রয়েছে বাজারগুলোতে। বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে তবেই কৃষিতে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে।

মৌসুমি ফল আমের সংরক্ষণের কোনো উপায় আছে কি-না বা ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া যায় কি-না এ বিষয়ে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জি এম মোরশেদুল বারি ডলার বলেন, ‘আপাতত কুল হাউস সিস্টেম বা ফ্রিজআপ করার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বারোমাসি জাতের আম চাষ করলে বছরের বিভিন্ন সময়ে আমের সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এ ধরনের ভ্যারাইটি এরইমধ্যে ফল গবেষণা কেন্দ্রে আছে। আরও দু-একটি উচ্চ ফলনশীল আমের বারোমাসি জাত অবমুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এতে কৃষকরা আম সংরক্ষণের অভাবের সাময়িক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন ও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

প্রতিদিন নওগাঁ থেকে কুরিয়ারে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে ৫০ টন আম

চলছে মধুমাস। দেশে আম উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জেলা নওগাঁ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার আম চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সরাসরি বাগান থেকে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে আম সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। আর বাইরের জেলার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সুমিষ্ট আম পাঠাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এভাবে জেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন আম কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে এসএ পরিবহন, সুন্দরবন, জননী, ইউএস বাংলা, করতোয়া, জি-কুরিয়ার, আহমদিয়া, রকি, শাহিন, আহমেদ পার্সেলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কুরিয়ার সেবা দিচ্ছে।

কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর খরচেও তারতম্য রয়েছে। এসএ পরিবহনে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে খরচ ১৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ২০ টাকা এবং উত্তরবঙ্গে ১২ টাকা। আর সুন্দরবন কুরিয়ারে ঢাকায় পাঠাতে খরচ কেজিতে ১২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের শাখা রয়েছে জেলার ১১টি উপজেলায়। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে অন্য কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শাখা নেই।

তবে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো আম নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি জেলার সাপাহার উপজেলা থেকে ঢাকায় নাগফজলি আম পাঠান শামিনুর রহমান।

তিনি বলেন, চাষিদের কাছ থেকে মণ হিসেবে (৪৫ কেজি) আম কিনে ক্যারেটে প্যাকেট করলে ওজন দাঁড়ায় ৪৭ কেজি। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে ক্যারেটের ১ কেজি ওজন বাদ দিয়ে ১২ টাকা কেজি হিসেবে পাঠানোর খরচ পড়ে ৫৫২ টাকা। আমাকে ৭২ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। এদিকে, কুরিয়ার সার্ভিস ৪০ কেজিতে মণ ধরছে।

সাপাহারের অনলাইন আম ব্যবসায়ী সুরত জামান বলেন, ক্রেতাদের খরচ কিছুটা কমাতে ফলের কার্টনে প্যাকেট করে সুন্দরবন কুরিয়ারে পাঠানো হয়। প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ মণ আম কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। ৩-৪ দিন পর ক্রেতাদের হাতে আম পৌঁছে। আম পাওয়ার পর ক্রেতারা ফোন করে অভিযোগ করে পাকা আম পচে যাওয়ার অভিযোগ করছেন।

jagonews24

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের এসএ পরিবহনে আম কুরিয়ারে করতে গিয়েছিলেন আকতার হোসেন। তিনি জানান, কার্টনসহ ২২ কেজি আম ঢাকায় কুরিয়ার করেছেন। যেখানে ৩০০ টাকা খরচ পড়েছে। প্রাপকের ঠিকানা থেকে এসএ পরিবহন কাছে হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই পাঠাতে হচ্ছে।

নওগাঁ এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার সারওয়ার বলেন, জেলায় এসএ পরিবহনের আর কোনো শাখা নাই। জেলা শহরের একমাত্র শাখা থেকে প্রতিদিন প্রায় চার টন আম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যায়। আমের কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই দুইদিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয়। যদি প্লাস্টিকের ক্যারেটে প্যাকেট করা থাকে তাহলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত ডেলিভারি চার্জের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিস বলতে পারবে।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার শাবিনুর রহমান শিমুল বলেন, জেলার ১১টি উপজেলায় তাদের শাখা আছে। যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১০ টন আম দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। আম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য গ্রাহকদের বস্তায় না পাঠিয়ে ক্যারেটে করে দিতে বলা হচ্ছে। ক্যারেটে দিলে আম ভাল থাকে। বিভিন্ন জায়গায় প্যাকেট ওঠানামা করতে ও যানজটে দীর্ঘসময় রাস্তায় পরিবহনের গাড়ি আটকে থেকে অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অনেকে না বুঝে পাকা আম কুরিয়ার করেন। দীর্ঘসময় প্যাকেটে থাকার কারণে সেগুলো নষ্ট হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা মণ হিসেবে ওজন করে থাকি। আর ব্যবসায়ীরা ৪৫ কেজি বা ৪৮ কেজিতে মণের হিসেব করেন। আর এ কারণে গ্রাহকরা অনেক সময় কুরিয়ার করতে এসে আমের ওজন নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ময়মনসিংহে কমেছে পেঁয়াজ-সয়াবিনের দাম

ময়মনসিংহে কমেছে পেঁয়াজ ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম। তবে বেড়েছে কয়েক ধরনের সবজির দাম। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও কেজিতে এখন ১৫ টাকা কমেছে। একইভাবে খোলা তেলে ১০ টাকা কমে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটলের দাম ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে বেগুন ২০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, লতি ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, শসা ৩০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, কুমড়া ১০ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, জিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা ও বরবটি ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

ওই বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতা রনি মিয়া বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সবজি না থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বেশ কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে পেঁপে ৩০ টাকা, মুখি কচু ৫০ টাকা, বেন্ডি ৩০ টাকা কেজি ও গাজর ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. সাদেক মিয়া বলেন, পেঁয়াজের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা বিক্রি হলেও ১৫ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। এছাড়া আদা ১৪০ টাকা , রসুন ৬০ টাকা, বড় আলু ২৫ টাকা কেজি ও ছোট আলু ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

অন্যদিকে মানিক মিয়া নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১০ টাকা কমে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাতকরণ সয়াবিন তেলের দাম কমেনি।

তিনি বলেন, মাসকলাই ডাল ৮৫ টাকা, ভাঙ্গা মসুর ডাল ৭০ টাকা, মসুর ডাল ছোট ১১০ টাকা, মসুর ডাল বড় ৭০ টাকা, খেসারি ডাল ৬০ টাকা, মটর ডাল ৪০ টাকা, বুটের ডাল ৭০ টাকা, মুগ ডাল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

বাজরে খাসির মাংস ৮০০ টাকা, গরুর মাংস ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা সুলতান বলেন। অন্যদিকে দেশি মুরগির ডিম ৫০ টাকা, ফার্মের মুরগির ডিম ২৮ টাকা ও হাঁসের ডিম ৩৫ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা পাপ্পু মিয়া বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগি ২০০ টাকা, কক মুরগি সাদা ১৭০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

jago

ওই বাজারের মাছ বিক্রেতা সিরাজ মিয়া বলেন, রুই ২২০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৩০ টাকা, বাউস ৩৫০ টাকা, গ্লাসকার্প ২০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা, শিং বড় ৬০০ টাকা, মাগুর বড় ৫০০ টাকা, কারপিও ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

৯ লাখ টাকায় কেনা যাবে ১৮ মণের ‘নবাব’

৯ লাখ টাকায় কেনা যাবে ১৮ মণের ‘নবাব’

দৈর্ঘ্য ৮ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। ওজন ৭২০ কেজি বা ১৮ মণ। হলেস্টিয়ান ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের ষাঁড়টির নাম ‘নবাব’। আসন্ন কোরবানিতে এর দাম হাঁকা হয়েছে ৯ লাখ টাকা।

ষাঁড়ের মালিক শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কোব্বাস মাদবরের কান্দি গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী গৃহিণী হাবিবুন্নেছা (২৪)। তিনি কোরবানির ঈদে ষাঁড়টি বিক্রি করবেন। এটি দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছেন লোকজন।

২০১৭ সালে ৫০ হাজার টাকায় একটি গাভি কিনে পালন শুরু করেন হাবিবুন্নেছার বাবা নুর মোহাম্মদ ঢালী। হলেস্টিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়ের সিমেন ব্যবহার করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ২০১৮ সালে জন্ম হয় ‘নবাবের’। জন্মের পর বাছুরটি দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরে নুর মোহাম্মদ ঢালীর কাছ থেকে বাছুরটি ৪৫ হাজার টাকায় কিনে আনেন তার মেয়ে হাবিবুন্নেছা। প্রয়োজন মতো খাবার ও পরিচর্যায় গরুর আকৃতি বাড়তে থাকে।

দিন দিন গরুটির ওজন বেড়ে ৭২০ কেজিতে এসে দাঁড়ায়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে গরুটির ওজন নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বছর গরুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হাবিবুন্নেছার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী ইসমাইল মাদবর (৩৩) বলেন, ষাঁড়টির খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা, ডালের গুঁড়া ও ছোলা। সব মিলিয়ে দিনে ২০-২৫ কেজি খাবার খায় গরুটি। খাবার কম খেলেও দিনে দিনে তার খাবারের চাহিদার পরিমাণ বেড়ে যায়।

বর্তমানে ‘শাকিল এগ্রো ফার্ম’ নামের খামারটিতে ২০টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে হলেস্টিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের পৌনে ২ লাখ টাকা দামের একটি ষাঁড় রয়েছে। কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য নবাবসহ দুটি গরুটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ইসমাইল মাদবর বলেন, ‘এ ধরনের গরু লালন-পালন খুবই কষ্টকর। আমি মালেশিয়া থাকা অবস্থায় আমার স্ত্রী হাবিবুন্নেছা নবাবকে লালন-পালন করেছেন। আমি গত মে মাসের ১৯ তারিখে বাংলাদেশে আসি। নবাবকে আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো করে আমার স্ত্রী পালন করেছেন। পরিবারের সবাই মিলে যত্ন নিয়ে বড় করেছেন। অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ৯ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গরুটি কোনো হাটে না নিয়ে বাড়িতে খামারে রেখে অনলাইনে ছবি ও বিবরণ দিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন এই প্রবাসী। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতারা গরুটির দাম কম বলছেন বলে জানান তিনি।

জপসা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) নুরজামাল মাদবর বলেন, ‘গৃহবধূ হাবিবুন্নেছা নবাবকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। এই কোরবানিতে গরুটি বিক্রি করবেন। এর দাম ধরা হয়েছে ৯ লাখ টাকা। তবে এখই পাইকাররা দাম বলছেন চার লাখ টাকা। এতো বড় গরু আগে দেখিনি।’

হাবিবুন্নেছা বলেন, “আদর করে ষাঁড়টির নাম রেখেছি ‘নবাব’। আমার খুব আদরের নবাব। যত্ন করে লালন-পালন করেছি। সে আমার পরিবারের সদস্যর মতো।”

নড়িয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, আমার জানামতে, শরীয়তপুর জেলার কোথাও এতো বড় ষাঁড় নেই। আমরাও ষাঁড়টির খোঁজখবর নিচ্ছি। ষাঁড়টির মালিক হাবিবুন্নেছা একজন ভালো উদ্যোক্তা।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কোরবানিযোগ্য পশু ১ কোটি ১৯ লাখ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশী গরু দিয়েই কোরবানির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। এ বছর এক কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার বেশি। দেশী পশুতে চাহিদা পূরণ হওয়ায় দেশের বাইরে থেকে গরু আনা বন্ধে কঠোর অবস্থানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারও গবাদিপশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গত বছর হৃষ্টপুষ্টকরণের আওতায় কোরবানির জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি। এ বছর এ কার্যক্রমের আওতায় মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য চা হাজার ৭৬৫টি পশুসহ মোট এক কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে।

 কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু আছে। এ বছর কোরবানিযোগ্য এক কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি পশু রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেশি 

চলতি বছর হৃষ্টপুষ্টকৃত গরু-মহিষের সংখ্যা ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০টি, হৃষ্টপুষ্টকৃত ছাগল-ভেড়া ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৮টি এবং গৃহপালিত গরু-মহিষের সংখ্যা ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার ২০০টি, গৃহপালিত ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯২ হাজার ২৫২টি।

ঢাকা বিভাগে ৯২ হাজার ৮২১ জন খামারির ছয় লাখ চার হাজার ৬৬৪টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪০ হাজার ৯৬৩ জন খামারির এক লাখ ৬৩ হাজার ৯৪৩টি, খুলনা বিভাগে এক লাখ ৭ হাজার ২২৭ জন খামারির আট লাখ ৭৮ হাজার ২৪২টি, রাজশাহী বিভাগে এক লাখ ২৭ হাজার ২৬১ জন খামারির ১৪ লাখ ১০ হাজার ৮০৯টি, রংপুর বিভাগে দুই লাখ ২২ হাজার ৪১৮ জন খামারির ১৩ লাখ তিন হাজার ২৪১টি, সিলেট বিভাগে ১২ হাজার ৯৭২ জন খামারির এক লাখ ৩৮ হাজার ৭২৫টি, বরিশাল বিভাগে ২০ হাজার ৩৮৭ জন খামারির এক লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৪ হাজার ৬৬ জন খামারির ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩১৫টি হৃষ্টপুষ্ট গবাদিপশু রয়েছে।

গত বছর কোরবানির আগে দেশের বাইরে থেকে আর কোনো গরু আমদানি না করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এবারও পর্যাপ্ত দেশীয় গরু মজুত থাকায় বিদেশি গরু আনা পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করছে সরকার।

বাইরে থেকে গরু আসা বন্ধে এবার সীমান্ত এলাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকবে। দেশের বাইরে থেকে গরু আনা বন্ধের জন্য পশু ও পশু বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ছিনতাই প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জেলায় গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, বিজিবি এবং বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের যৌথ সহযোগিতা চাইবে মন্ত্রনালয়।

জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহায় ঢাকাসহ দেশের উল্লেখযোগ্য হাট-বাজারে পশুর স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। গত বছর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৩টি অস্থায়ী ও ১টি স্থায়ী পশুহাটে পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য ২৫টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম এবং বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। কোরবানির হাট ব্যবস্থাপনার জন্য চারটি মনিটরিং টিম ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

পশুহাটে প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে রিজার্ভ টিম গঠন করা হয়। এছাড়া সারাদেশে দুই হাজার ৪০০টি কোরবানির পশুর হাটে দায়িত্ব পালনের জন্য এক হাজার ২০০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছির। এ বছরও সেভাবেই পশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, রাসায়নিক ব্যতীত সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করে গরু হৃষ্ট-পুষ্টকরণে খামারিদেরকে উৎসাহিত করার জন্য এবং এ কার্যক্রমে রাসায়নিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য অধিদফতরের মাঠপর্যায়ে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হৃষ্টপুষ্টকৃত গরুর সংখ্যাসহ খামারিদের তথ্য উপজেলা দফতরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কাজটি চলমান আছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য বিভাগের সহযোগিতার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা, খামারিদের প্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে সুস্থ্য-সবল গবাদিপশু সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই সভা করা হবে। সেখানে কোরবানির পশুসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তবে যেহেতু দেশীয় পশু দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব, তাই বিদেশ থেকে কোনো পশু আনার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ বিষয়ে কঠোর দিক নির্দেশনা দেয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু আছে। এ বছর কোরবানিযোগ্য এক কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি পশু রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘কোনভাবেই বাইরে থেকে গরু আনতে পারবে না। যেখানে যেখানে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন আমরা ব্যবস্থা নেবে। কোরবানির পশু পরিবহনে ঝামেলা এড়াতে প্রয়োজনে ট্রেনে কোরবানির পশু আনা যাবে। ট্রেনে আনতে কোনো সমস্যা হবে না।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com