আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি

নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের মত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। অবশ্য গত সপ্তাহে একশ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটি ও শসার দাম কমে এসেছে। বাজারে এখন ৫টি সবজির কেজি একশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁপে বাদে বাকি সবজিগুলোর কেজি ৫০ টাকার উপরে।

এদিকে দুই দফায় আলুর দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে। এরপরও দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকার খুচরায় আলুর কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করলেও ৪৫ টাকার নিচে মিলছে না কোথাও। এমনকি কোনো কোনো ব্যবসায়ী এখনও আলুর কেজি ৫০ টাকা বিক্রি করছেন। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খিলগাঁওয়ে ৫০ টাকা কেজি আলু বিক্রি করা আশরাফ আলী বলেন, আমাদের আলু দুই দিন আগে কেনা। এই আলু গড়ে ৪২ টাকা কেজি কিনে আনা। সেই আলু বাছাই করে ৫০ টাকা বিক্রি করেছি। এতে কোনো রকমে আসল উঠে আসবে। এর নিচে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। তবে পাইকারি থেকে নতুন করে কম দামে আলু কিনতে পারলে আমরাও কম দামে বিক্রি করবো।

হাজীপাড়ায় ৪৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি করা ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আলুর দাম কমার তথ্য শুধু খবরে দেখি। বাজারে তো দাম কমতে দেখি না। আমি প্রতিদিন শ্যামবাজার যায়, পাইকারিতে আলুর দাম দুই দিন আগে যা ছিল আজও তাই। পাইকারিতে না কমলে আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করবো?

এদিকে গত সপ্তাহের মতো এখনো শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও উস্তার কেজি একশ টাকার ঘরে রয়েছে। এর মধ্যে পাকা টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে শিমের দাম কিছুটা কমে ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুন গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে উস্তারও। এক কেজি উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

এই সবজিগুলোর পাশাপাশি বাজারে অন্য সবজিগুলোও স্বস্তি দিচ্ছে না। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহের মতো ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুল, কচুর লতি। ঝিঙার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি।

লাউয়ের পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

স্বস্তি মিলছে না কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামেও। এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মিলন মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে একশ টাকা কেজি বিক্রি করা শিম আজ ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এভাবে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। তবে যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তাতে সবজির দাম আর বেড়ে যেতে পারে।

রামপুরার ব্যবসায়ী বলেন, সবজির দাম বেশি হলেও গত সপ্তাহের তুলনায় আজ বেশিরভাগ সবজি কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক কেজি শসা একশ টাকা বিক্রি করেছি, আজ ৬০ টাকা বিক্রি করেছি। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকার গাজর ৮০ টাকায় বিক্রি করেছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

১৮ বছর ধরে পেঁয়াজের বীজ চাষ করছেন সাহিদা বেগম।

পেঁয়াজের বীজ চাষ করে আত্মনির্ভরশীল তো বটেই বরং অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার সাহিদা বেগম।

বিবিসি বাংলার সাথে আলাপকালে সাহিদা বেগম বলেন, প্রায় ১৮-১৯ বছর ধরে পেঁয়াজের বীজের আবাদ করে চলেছেন তিনি। আর চলতি বছর প্রায় ২০০ মণ পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করেছেন তিনি।

মৌসুমে এই বীজ মণ প্রতি ২ লাখ টাকা করে বিক্রি করেছেন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বীজ বিক্রি হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা কেজি দরে।

বুধবার দুপুরে যখন মুঠোফোনে সাহিদা বেগমের সাথে কথা হচ্ছিল তখন তার বাড়িতে চলছিল পেঁয়াজ লাগানোর তোড়জোর।

তিনি বলেন, এ বছর এরই মধ্যে বীজ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বাছাই করার পর পেঁয়াজের বাল্ব জমিতে লাগাতে মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাজ করছে ১২ জন শ্রমিক।

তাদের দুপুরের খাবার প্রস্তুতিতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আর সেই সাথে পেঁয়াজ লাগানো এবং তা থেকে বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার তদারকি তো আছেই।

“এখন আমাদের সিজন। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে আমরা পেঁয়াজ লাগাই। অনেক লেবার থাকে। ৩০-৪০, এমনকি ৫০ জনও থাকে”।

বীজ উৎপাদনের জন্য জমিতে পেঁয়াজের বাল্ব লাগানো হচ্ছে।

তবে বছরের এ সময়টাতে অন্য বছর আরো বেশি শ্রমিক থাকে। এবার কিছু জমির মাটিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় কাজ কিছুটা ধীরে চলছে।

“এ বছর কিছু জমি নরম হয়ে গেছে। তাই কাজ কিছু বন্ধও আছে। ওগুলো শুকালে আবার কাজ শুরু হবে।”

বীজ উৎপাদনের জন্য যে পেঁয়াজ এখন লাগানো হচ্ছে তার ফলন আসবে আগামী এপ্রিল-মে মাসে।

সাহিদা বেগম বলেন, কৃষক পরিবারের বউ হওয়ার কারণে ‌আগে থেকেই নানা কৃষিকাজের সাথে পরিচয় ছিল তার। তিনি জানান, তার শ্বশুর মূলত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু কখনোই আসলে বেশি পরিসরে চাষ করা হয়নি।

তিনি নিজেও অনেকটা শখের বশেই এই চাষ শুরু করেন।

“আশপাশের কেউ কেউ খুব কম করে পেঁয়াজের বীজ চাষ করতো। আমারো মনে হলো আমি করে দেখি। তাই করলাম।”তিনি বলেন।

সাহিদা বেগম জানান, ২০০৪ সালে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের আগে ২০ শতক জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেন তিনি। সে বছর মাত্র দুই মন বীজ উৎপাদিত হয়েছিল।

সেগুলো বিক্রি করে পেয়েছিলেন ৮০ হাজার টাকা। পরের বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে পেয়াজের চাষ করতে শুরু করেন তিনি। সেবছর পান ১৩ মণ বীজ।

স্বামীর সাথে পেঁয়াজের জমিতে সাহিদা বেগম।

“বীজ বিক্রি করে দেখলাম যে আমি ভালই লাভবান। পরের বছর আরো জমি বাড়াইলাম। ৩২ মণ বীজ উঠলো। এভাবেই আমার ওঠা।”

এর পর আর থেমে থাকেননি। সাহিদা বেগম জানান, গত বছর ১৫ একর আর চলতি বছর ৩০ একর জমিতে পেঁয়াজের বীজের চাষ করেছিলেন। ঘরে তুলেছিলেন ২০০ মন বীজ।

“অনেক শ্রম দিতে হয়, কষ্ট করতে হয়। পেঁয়াজের বীজের অনেক যত্ন করতে হয়। এখন লাগাবে, দুই দিন পর নিড়াবে (আগাছামুক্ত করা)। বার মাসই লেবার থাকে।”

সাহিদা বেগম বলেন, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি জমিতে পেঁয়াজের বীজের চাষ করলেও অনেক সময় চাহিদা পূরণ করতে পারেন না তিনি। ফরিদপুর জেলার স্থানীয় কৃষক তো বটেই, পুরো বাংলাদেশে তারা বীজ সরবরাহ করে থাকেন তারা।

“আমাদের বীজ ভাল বলে চাহিদা থাকে। কৃষকরা অনেক খুশি। কারণ এর মধ্যে কোন ঝামেলা নাই। নিজের প্রোডাক্ট, কোন ভেজাল নাই।”

তিনি বলেন, “এবছর আরো ৫০০ মণ থাকলেও বিক্রি করতে পারতাম। এতো চাহিদা।”

তবে পেঁয়াজ চাষে খরচও কম নয় বলে জানান তিনি। পেঁয়াজের বাল্বের দাম অনেক বেশি থাকে। এছাড়া কীটনাশক, সার, সেচ দেয়ার ক্ষেত্রে খরচ বেশ ভাল পরিমাণে হয়।

চলছে পেঁয়াজের বীজ মাড়াইয়ের কাজ(ফাইল ছবি।)

এছাড়া অতিরিক্ত কুয়াশা, শীলাবৃষ্টি, ঝড়-বৃষ্টি বেশি হলেও বীজ নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

সাহিদা বেগমের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের কাজে সহায়তা করেন তার স্বামী বক্তার উদ্দিন খানও। যিনি পেশায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

স্বামী ছাড়াও পরিবারে দুই মেয়ে নিয়ে চার জনের সংসার সাহিদা বেগমের।

সাহিদা বেগম নিজেই গড়ে তুলেছেন পেয়াজের বীজের কারখানা। সেখান থেকেই বীজ প্যাকেটজাত করা এবং ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

তার তৈরি করা বীজ ক্রেতাদের কাছে পরিচিত খান সিডস নামে।

চলছে পেঁয়াজের বীজ মাড়াইয়ের কাজ(ফাইল ছবি।)

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর পেঁয়াজের বীজের চাহিদা বেশি থাকার কারণে দাম ছিল বেশ চড়া।

প্রতি কেজি বীজ বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে। সে হিসেবে সাহিদা বেগম প্রায় চার কোটি টাকার বেশি বীজ বিক্রি করেছেন।

ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার পুরাপাড়া বাজারের কৃষিঘর বীজ ভান্ডারের মালিক মিজানুর রহমান জানান, বীজের মান ভাল হওয়ার কারণে খান সিডস থেকে ৫০০ কেজির মতো বীজ কিনেছিলেন তিনি।

মি. রহমান বলেন, এই বীজ থেকে চারা গজানোর হার বেশি থাকে বলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চাহিদা রয়েছে প্রচুর।

“সব বারের মতো এবারও বেছন(চারা গজানো) অনেক ভাল হয়েছে। পেঁয়াজও ভাল হবে।”

ফরিদপুর জেলায় পেয়াজের বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেরা চাষী হিসেবে পুরষ্কারও পেয়েছেন সাহিদা বেগম।

বর্তমানে উৎপাদন করছেন, রাজশাহী তাহিরপুর, সুপারকিং, সুখসাগর ও নাসিরকিং নামে পেঁয়াজের বীজ। এছাড়া হাইব্রিড পেঁয়াজের বীজও উৎপাদনও করছেন তিনি।

পেঁয়াজের বীজ প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।

সাহিদা বেগম বলেন, “প্রতি বছরই আমরা নতুন জাতের পেঁয়াজ আনি যাতে কৃষকদের প্রতিবছর নতুন কিছু দিতে পারি।”

কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশে পেয়াজ উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ফরিদপুরের অবস্থান দ্বিতীয়।

আর পুরো দেশে পেয়াজের বীজের যে চাহিদা থাকে তার ৬০-৭০ ভাগ এককভাবে আসে ফরিদপুর জেলা থেকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাণিজ্যিকভাবে ইঁদুর চাষ করছেন রাবির ল্যাব সহকারী

শখের বসে ইঁদুর লালন পালন করতে গিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ল্যাব সহকারী সালাউদ্দীন মামুন। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকে এ ইঁদুরের চারটি বাচ্চা বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন মামুন। উদ্দেশ্য ছিল বাচ্চাগুলো বড় হলে ছেড়ে দেবেন। 

কিন্তু দুই মাসের মাথায় অপ্রত্যাশিতভাবে লাভের মুখ দেখতে পাওয়ায় ইঁদুর পালনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। মামুনের ইঁদুর পালন শুরুর গল্পটাও বেশ অদ্ভুত। ২০১৭ সালের শেষের দিকে তিনি সহকর্মী মাসুদের সঙ্গে ল্যাবের সামনে বসেছিলেন। এ সময় উদ্ভিদ বিজ্ঞানের এক পিএইচডি গবেষক মাসুদকে ইঁদুরের চারটি বাচ্চা দিয়ে সেগুলোকে ছেড়ে দিতে বলেন। ছোট বাচ্চাগুলো দেখে মায়া হয় মামুনের। কিছুদিন রেখে বড় হলে ছেড়ে দিবেন এমন ভাবনা থেকে বাচ্চাগুলো বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। তখনো জানতেন না ইঁদুর বাচ্চাগুলোকে কী খাওয়াতে হবে। 

সালাউদ্দীন মামুন জানান, বাড়িতে এনে ইঁদুরগুলোকে তিনি জুতা রাখার বাক্সে কাপড় দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। খাবার হিসেবে কিছু চাল, গম দিতেন। এরই মধ্যে বিড়াল একটি ইঁদুরের বাচ্চা খেয়ে ফেলে। তিনি বাকি তিনটাকে বিড়ালের হাত থেকে রক্ষা করতে ব্যবস্থা নেন এবং নিয়মিত খাবারও দিতে থাকেন। মাস খানেক পর একটি ইঁদুর ১০টা বাচ্চা জন্ম দেয়। তার সপ্তাহখানেক পরে আরো একটি ইঁদুর ১০টা বাচ্চা দেয়।

শখ থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার ব্যাপারে মামুন বলেন, ইঁদুরের বাচ্চা দেওয়ার বিষয়টি আমি বিভাগে গল্প করি। এ সময় জামার্নির এক গবেষক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মিউজিয়ামে ট্যাক্সিডার্মি নিয়ে কাজ করছিলেন। তার গবেষণার জন্য আমার কাছে ইঁদুরগুলো চাইলেন। ইঁদুরগুলো মেরে ফেলবে, তাই দিতে রাজি হইনি। পরবর্তীতে মিউজিয়ামের কিউরেটর আমাকে বুঝিয়ে বললেন। তখন আমি তাকে ২০টি ইঁদুর দিলাম। তিনি আমাকে এক হাজার টাকা দিলেন। টাকা পেয়ে আমি কিছুটা অবাকই হলাম। এরপরই মূলত ইঁদুর পালনে আগ্রহী হয়ে উঠলাম এবং কিছুটা পড়াশোনও শুরু করলাম।

সালাউদ্দিন মামুন এখন তার নিজ বাড়ির একটি ঘরে ইঁদুর পালন করছেন। সাপ, বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীদের থেকে রক্ষা করতে কক্ষের চারদিকে নেট লাগানো হয়েছে। ইঁদুরগুলোকেও নিয়মিত চাল, গম, ভুট্টা, ডাল জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়।

বর্তমানে তার খামারে ১০০টি স্ত্রী ও ২০টি পুরুষ ইঁদুর রয়েছে। প্রত্যেকটি স্ত্রী ইঁদুর এক থেকে দেড় মাস পরপর ৮-১০টি বাচ্চা দেয়। শুরুর দিকে কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য তার কাছ থেকে ইঁদুর কিনতেন। তবে বর্তমানে রাবি ছাড়াও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার একাধিক ফার্মাসিউটিক্যালস ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান তার খামার থেকে ইঁদুর নিয়ে যাচ্ছেন। 

ব্যতিক্রমী এ খামারি বলেন, কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছেন এমন একটি নামকরা দেশীয় প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি আমার কাছ থেকে ৫০টি ইঁদুর নিয়েছেন। অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানই নিয়মিত ইঁদুর নিচ্ছে। প্রথম দিকে একেকটি ইঁদুর ৪০ টাকা করে বিক্রি করতাম। বর্তমানে একটি ইঁদুর ৭০ টাকা হারে বিক্রি করছি। গবেষকরা বলছেন, বায়োলজিক্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সের যেকোনো গবেষণা কাজের প্রাথমিক ধাপে পরীক্ষার জন্য সুইচ অ্যালবিনো প্রজাতির এ ইঁদুর ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলাদেশে শুধু আইসিডিআরবি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঁদুরের চাষ করা হয়; যা প্রয়োজনের তুলনা অনেক কম। ইঁদুরের খামার করতে আগ্রহীদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে পারলে গবেষণা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে মনে করছেন তারা।

সালাউদ্দীন মামুনের খামার থেকে ইঁদুর নিয়ে গত দুই বছর যাবৎ গবেষণা করছেন রাজশাহী জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা। তিনি বলেন, ইঁদুরে জিনের সঙ্গে মানুষের জিনের বেশ মিল থাকায় গবেষণার প্রাথমিক ধাপে অ্যালবিনো প্রজাতির ইঁদুরের বেশ চাহিদা রয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে ইঁদুর পালনে আগ্রহীদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে তা বাংলাদেশের গবেষণাখাতকে আরো সমৃদ্ধ করবে। ইঁদুরের বংশ বিস্তার নিয়ে কাজ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ। 

তিনি বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে ইঁদুর পালন এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সালাউদ্দিন মামুন যেহেতু বাণিজ্যিকভাবে পালন করার চিন্তাভাবনা করছেন সেক্ষেত্রে বাসস্থান, খাবার ও তাপমাত্রা এসব বিষয়গুলো আরো বৈজ্ঞানিকভাবে করা উচিত। সেক্ষেত্রে তার কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমি তা দিতে প্রস্তুত। ইঁদুর নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছে আছে জানিয়ে সালাউদ্দীন মামুন বলেন, শুধু রাবি বা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ইঁদুর সরবরাহ করার ইচ্ছে আছে তার। আমি ইতোমধ্যে একটি বড় ঘর তৈরি করেছি। সেখানে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ইঁদুর পালন করবো। এছাড়া ইউরোপে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এমন প্রাণী বাংলাদেশে এনে বংশবিস্তার ঘটানোর ইচ্ছে আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দাম না বাড়ালে চাল নয়

আমনে নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৪ টাকা বেশি চান চালকলের মালিকেরা। খাদ্য মন্ত্রণালয় রাজি নয়।

  • আমদানি করে মজুত বাড়াবে সরকার।
  • এক লাখ টনের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান।
  • মজুত কমে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টনে নেমেছে।

বোরো মৌসুমের পর আমনেও ধান-চাল সংগ্রহ নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। সরকারি গুদামে চাল দিতে কেজিপ্রতি চার টাকা বেশি চান চালকলের মালিকেরা। বাড়তি দাম না পেলে তাঁরা সরকারকে চাল দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

অবশ্য সরকার আগের মতোই অনঢ়। খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম বাড়াবে না। প্রয়োজনে আমদানি করে চালের মজুত বাড়াবে তারা। এরই মধ্যে চলতি মাসে খাদ্য অধিদপ্তর এক লাখ টন চাল আমদানির দুটি দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রয়োজনে আরও কয়েক লাখ টন চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েও রেখেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।বিজ্ঞাপন

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমাও দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বাংলাদেশকে চাল সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে। মাত্র আমন ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ধানের দাম আরও কমবে। তখন সরকার–নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলের মালিকেরা লাভবান হবেন।

সারওয়ার মাহমুদ , খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করলে দেশে আসার পর শুল্কসহ প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৩৪ টাকা। থাইল্যান্ড থেকে আমদানিতে পড়বে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে। মাত্র আমন ধান ওঠা শুরু হয়েছে। ধানের দাম আরও কমবে। তখন সরকার–নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলের মালিকেরা লাভবান হবেন।

এ বছর খাদ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চালকলের মালিকেরা চান, সরকার সেদ্ধ চালের দাম প্রতি কেজি ৪১ টাকা নির্ধারণ করুক। গত মঙ্গলবার নওগাঁয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন চালকলের মালিকেরা। সূত্র জানায়, বৈঠকে দাম বাড়ানোর দাবি ওঠে। অবশ্য সরকার জানিয়ে দেয়, দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। পরদিন (গত বুধবার) বগুড়ায় চালকলের মালিকেরা কেন্দ্রীয়ভাবে আরেকটি বৈঠক করেন। সেখানে বেশির ভাগ মালিক সরকারকে চাল না দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে, ‘২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ে ৪১ টাকা। আমরা সরকারের কাছে শুধু খরচই চেয়েছি, লাভ চাইনি। তারপরও সরকার রাজি নাহলে আমরা কীভাবে চাল দেব?’

বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে, ‘২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ে ৪১ টাকা। আমরা সরকারের কাছে শুধু খরচই চেয়েছি, লাভ চাইনি। তারপরও সরকার রাজি নাহলে আমরা কীভাবে চাল দেব?’

এদিকে সরকারি চালের মজুতও কমতির দিকে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুই মাসের মধ্যে চালের মজুত ১০ লাখ টন থেকে কমে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টনে নেমেছে। গত বছর এ সময়ে সরকারের গুদামে প্রায় ১১ লাখ টন চাল ছিল।

সরকার গত বোরোতে ১৮ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল। যদিও মিলমালিকেরা সরকারকে চুক্তি অনুযায়ী চাল দেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহের সময় এক দফা বাড়িয়েও ১০ লাখ টনের বেশি চাল সংগ্রহ করা যায়নি। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, কেউ চাল না দিলে আমদানি করে মজুত বাড়ানোর সুযোগ তো রয়েছেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

শ্যামবাজারে এখন পচছে আমদানি করা পেঁয়াজ

  • পেঁয়াজ দেশি কেজি ৬৫ –৭০ টাকা। ভারতীয় কেজি ৪০৪৫ টাকা।
  • চিনি প্রতি কেজি ৬৫ টাকার আশপাশে বিক্রি হয়।
  • শীতের সবজির দাম প্রতি কেজি ৫০৬০ টাকা।

আমদানি করা পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা। দেশি পেঁয়াজ ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে।

শ্যামবাজারের নবীন ট্রেডার্সের মালিক নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশি পেঁয়াজের মজুত শেষের পথে। তাই দাম বাড়তি। দুই সপ্তাহ পরই নতুন মৌসুমের ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে। তিনি বলেন, আমদানি করা পেঁয়াজে সবাই লোকসান দিচ্ছেন।

বুড়িগঙ্গা নদীর ঠিক তীরেই শ্যামবাজার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, নদীর পাড়েই ফেলে রাখা হয়েছে পচা পেঁয়াজ। দুর্গন্ধে টেকা দায়, ভনভন করে মাছি উড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত রপ্তানি বন্ধের পর মিসর, চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে বিপুল পেঁয়াজ এসেছে। কিন্তু বাজারে ততটা চাহিদা নেই। আমদানি করা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায় না। তাই একাংশ পচেই যাচ্ছে।বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজ আমদানিকারক আমানত ভান্ডারের মালিক শংকর লাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি কেজি পেঁয়াজ আমদানিতে ৪০ থেকে ৬৫ টাকা খরচ পড়েছে। পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। তারপরও বিক্রি কম।

এদিকে বাজারে চিনি ছাড়া আর কোনো পণ্যের দামে বিশেষ হেরফের হয়নি। এক সপ্তাহ আগে খোলা চিনি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা ছিল। তা এখন ৬৫ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়তি। তাই দেশের পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

ঢাকার ধূপখোলা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন ১১৫ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ৯১ থেকে ৯৮ টাকা। ব্যবসায়ীরা বোতলের তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) থেকে ক্রেতাদের কিছুটা ছাড় দিতেন। এখন আর দিচ্ছেন না।

বাজারে বেশির ভাগ শীতের সবজির দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা কেজিতে উঠেছে। কক মুরগি বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। গরুর মাংস পাওয়া যায় প্রতি কেজি ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কমছে শীতের সবজির দাম, চড়া চাল-তেল

দীর্ঘদিন পর ঢাকার বাজারে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। সরবরাহও বেড়েছে। আগের চেয়ে একটু বড় আকারের ফুলকপি-বাঁধাকপি বাজারে আসছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের টাউন হল, শান্তিনগর বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে গতকাল বৃহস্পতিবার দেখা যায়, মোটামুটি মাঝারি আকারের একটি ফুলকপির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে দাম কিছুটা বেশি ছিল। আকারেও ছিল এখনকার তুলনায় কিছুটা ছোট।বিজ্ঞাপন

বেশি কমেছে শিমের দাম। এত দিন যে শিম প্রতি কেজি ১০০ টাকার বেশি ছিল, তা ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছিল। লাউও দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি পাওয়া যায় আকার ও বাজারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে আসা একেবারে তরতাজা লাউয়ের দাম আরেকটু বেশি। বাজারে নতুন এসেছে কলিসহ পেঁয়াজ। প্রতি কেজি ৫০ টাকা।

কাঁচা মরিচের দাম কমেছে; তবে ততটা নয়। কারওয়ান বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি পাইকারিতে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। টাউন হল মার্কেটে কাঁচা মরিচ প্রতি আড়াই শ গ্রাম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।

সব মিলিয়ে গতকাল টাউন হল মার্কেটের কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে তা ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছিল।

সবজির বাজারের এই স্বস্তি মিলিয়ে যায় চাল ও ভোজ্যতেলের বাজারে। সরু চালের দাম আবার বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে সরু মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং মানভেদে নাজিরশাইল কেজিতে ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হয়। মাঝারি মানের চাল প্রতি কেজি ৫২ থেকে ৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের মোটা চালের দাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

কারওয়ান বাজারের চালের আড়তের বিক্রেতা আবু রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, সরু চালের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বাড়তি।

টাউন হল বাজারে পুরোনো আলু প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। গত ২০ অক্টোবর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলুর দাম খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। গতকাল দুপুরের পর কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানে আলু প্রতি কেজি ৪৫ টাকা চাইছিলেন বিক্রেতারা। যদিও দোকানের মূল্যতালিকায় লেখা ছিল প্রতি কেজি ৩৫ টাকা। সাংবাদিক পরিচয়ে কারণ জানতে চাইলে দোকান রেখে চলে যান বিক্রেতা।বিজ্ঞাপন

কমছে শীতের সবজির দাম, চড়া চাল-তেল

বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম এখনো প্রতি কেজি ৭০ টাকার আশপাশে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। শান্তিনগর বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. আশরাফ প্রথম আলোকে বলেন, দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাঁদের পক্ষে ৭০ টাকা কেজির নিচে বিক্রি সম্ভব নয়।

খোলা ভোজ্যতেলের দাম আরও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১০৫ টাকা ও পাম সুপার ৯৮ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। লিটারে দাম আরেকটু কম।

বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ বেড়েছে। দামও স্থিতিশীল। ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের দাম কমেছে, ডজন ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫ টাকার মতো কম।

মাসের শেষ ভাগে এসে অনেক ক্রেতাই বাজারে মিতব্যয়ী হচ্ছেন। টাউন হল বাজারের এক ক্রেতা সেলিমা জাহান বলেন, সবজিসহ কিছু কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে, তবে এখনো স্বস্তিকর নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

উভলিঙ্গদের কাহিনি: 'আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন' মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

উভলিঙ্গদের কাহিনি: ‘আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন’ মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনাভাইরাস: 'বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে'

করোনাভাইরাস: ‘বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে’

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

ফ্রান্সের মুসলিমদের 'প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ' মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

ফ্রান্সের মুসলিমদের ‘প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ’ মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন ঘিওরের রকিবুল ইসলাম…

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com