আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ভারত

কোটি টাকায় বিক্রি হলো ঘোল মাছ

ভারতের মহারাষ্ট্রের পালঘরের কয়েকজন মৎস্যজীবী সম্প্রতি সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তাদের জালে বেশ কিছু ঘোল মাছ ওঠে। আর তা দিয়েই ভাগ্য বদলে যায় তাদের। জেনে নিন এই মাছটি সম্পর্কে

পরিবেশ

থমকে গেছে কুমারপাড়া

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় রয়েছে কয়েকটি কুমার পরিবার। বৈশাখ আসার কয়েক মাস আগে থেকে তাদের মাটির জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করতে হতো। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাত লেগেছে বিলুপ্তির পথে থাকা মৃৎশিল্পের ওপর। লকডাউনসহ বৈশাখী মেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুমার পাড়ায় কর্মচঞ্চলতা নেই। গত বছরও করোনা পরিস্থিতির কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছিল।

সরজমিন কুমার পল্লীতে দেখা গেছে, সুনশান নীরবতা। একদিকে মহামারি করোনা অন্যদিকে লকডাউন। মাটির তৈজসপত্র বিক্রি শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাওয়া এই পরিবারগুলোর কপালে পরেছে ভাঁজ।

বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে মাটির হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে ক্রেতাশূন্য দোকানে বসে থাকতে দেখা গেল ষাটোর্ধ্ব বয়সি শ্রীমতী রজলী পালকে।

দোকানে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা মাটির থালা, প্রদীপ, ভাপা পিঠার খুলিসহ অনেক কিছুর দেখা মেলে সেখানে। যার অনেক কিছু যান্ত্রিক সময়ের চাপে হারিয়ে গেছে। অথচ এক সময় বাংলার হারিয়ে যাওয়া মাটির এসব জিনিসপত্র ছাড়া গৃহস্থালির কাজকর্ম করা প্রায় অসম্ভব ছিল। বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা মাটির ব্যাংক প্রকার ভেদে ১০ থেকে ৬০ টাকা, পাতিল ২০ থেকে ৪০ টাকা, গরুর খাবারের জন্য চারি ৩০ থেকে ৬০ টাকা, পানি রাখার কলস ৪০ টাকা, কবুতরের ঘর ১৫ টাকা, পাতিলের ঢাকনা ১০ থেকে ৩০ টাকা, মাটির ফুলদানি প্রকার ভেদে ২০ থেকে ৫০০ টাকা, ছোট বাচ্চাদের খেলনা প্রতি পিচ ১০ টাকা, মাটির থালা ৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মগ ২০ থেকে ৮০ টাকা ফুলের টব ২০ থেকে ১০০ টাকা, বাটনা ৩০ থেকে ৫০ টাকা, সাত পিঠার বাটি ৪০ টাকা, পানের বাটা ৩০ টাকা ও মাটির প্রদীপের মূল্য মাত্র ২০ টাকা রাখা হয়েছে।

তবে মাটির দুষ্প্রাপ্যতার সঙ্গে শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মাটির তৈজসপত্র তৈরি ও বিক্রয়ে খুব একটা লাভের মুখ দেখছেন না তারা। তাদের অভিযোগ সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য সহযোগিতা না পেলে এ শিল্প টিকিয়ে রাখা কখনই সম্ভব হবে না।

মৃৎশিল্পের জাদুকর রামায়ণ প্রসাদ পাল বলেন, বাবু আমি এখন আমার বংশের ১৪তম পুরুষের হাল ধরে আছি। আমার তিন ছেলেÑ বড় ছেলে মহেশ কুমার পাল এবং ছোটছেলে সঞ্জয় কুমার পাল। মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য ছেলেদের কাজ করতে বললেই বলে বাবা, মৃৎশিল্প দিয়ে আমাদের জীবন সংসার চলবে না। তবে আমার দ্বিতীয় ছেলে সন্তোষ কুমার পালই আমার বংশের একমাত্র শেষ ভরসা, সেই আমার ১৪ পুরুষের হাল ধরে আছে।

শুধু বৈশাখ নববর্ষ এলেই সাহেব-বাবুদের আমাদের কথা মনে পরে। বিশেষ করে পান্তা-ইলিশে আমাদের মাটির থালা দরকার হয়। এখন কেউ মনে রাখে না। সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন আমাদের দিকে নজর না দিলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। আক্ষেপ করে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন শ্রীমতী রজলী পাল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

ভারতে কৃষকদের পাশে বিরোধী দল

কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন বিরোধী দলের নেতারা। সংসদ ভবনের অদূরে যন্তর মন্তরের ধরনাস্থলে শুক্রবার দুপুরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা উপস্থিত হন। আন্দোলনরত কৃষকদের তাঁরা বলেন, ‘কালা কৃষি আইন’ প্রত্যাহারের দাবিতে তাঁরা কৃষকদের পাশে আছেন।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

সংসদীয় অধিবেশন চলাকালে যন্তর মন্তরে প্রতিদিন ২০০ কৃষককে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি সরকার। কৃষকেরা সেখানে ‘কিষান সংসদ’ চালাচ্ছেন।

শুক্রবার তাঁদের সেই ‘সংসদে’ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। যন্তর মন্তরে কৃষকদের সমাবেশে রাহুল বলেন, ‘সংসদ কীভাবে সরকার অচল রেখেছে আপনারা জানেন। কৃষি আইন বা পেগাসাস-কাণ্ড কোনো আলোচনাতেই রাজি নয়। কালা আইন প্রত্যাহারে আমরা আপনাদের পাশে থাকার বার্তা নিয়ে এসেছি।’বিজ্ঞাপন

অন্য দিনের মতো আজও সংসদীয় অধিবেশনে অচলাবস্থা দেখা যায়। দুটি কক্ষের অধিবেশন দফায় দফায় মুলতবি হয়ে যায়। সেই অবসরে বেলা একটা নাগাদ বিরোধী নেতারা হাজির হন যন্তর মন্তরে।

সংসদে ঐক্যের কথা বললেও যন্তর মন্তরে যাওয়া নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে অনৈক্যের সুর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেস, বহুজন সমাজ পার্টি ও আম আদমি পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন না। যদিও গতকাল সকালে ১৪ দলের সংসদীয় নেতাদের বৈঠকে তৃণমূল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই দুপুরে কৃষক সমাবেশে যাওয়া ঠিক হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তৃণমূলের তিন সাংসদ দোলা সেন, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপরূপা পোদ্দার আলাদাভাবে সকালেই যন্তর মন্তরে হাজির হয়ে কৃষকনেতাদের সঙ্গে কথা বলে চলে আসেন। কৃষকনেতাদের তাঁরা বলেন, তাঁদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেপ্টেম্বর মাসে আবার দিল্লি আসবেন। তখন তিনি দিল্লি সীমান্তে গিয়ে আন্দোলনকারী কৃষকনেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ইদানীং বিরোধী আন্দোলনের পুরোভাগে চলে এসেছেন। বিরোধী ঐক্য স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। সম্প্রতি দিল্লি এসে সেই লক্ষ্যে সোনিয়া গান্ধী-রাহুলের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করলেও এটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব রাহুলের হাতে ছেড়ে দিতে তাঁর অনীহা এখনো কাটেনি। সেই কারণেই রাহুলের বিভিন্ন উদ্যোগে তৃণমূল কংগ্রেসের বার্তা অন্য রকম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ইতিহাসের সাক্ষী: দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
শকুন

শকুন মানুষের কাছে মোটেই পছন্দের কোন পাখি নয়। কিন্তু ভীষণ উপকারী। মৃত পশুর দেহ হচ্ছে শকুনের প্রধান খাদ্য। পাখি হিসেবে শকুন মোটেই আদৃত না হলেও শবদেহ খেয়ে যেভাবে তারা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে, সেজন্যে তাদের উপযোগিতা ভালোভাবেই স্বীকৃত।

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া থেকে শকুন প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছিল ১৯৯০ এর দশকে। হঠাৎ করে কেন এই শকুনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাচ্ছিল, সেটা কেউ বুঝতে পারছিল না।

মুনির ভিরানি তখন এক তরুণ রিসার্চ বায়োলজিস্ট, শকুন নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ। কাজ পেয়েছেন পেরিগ্রিন ফান্ড বলে একটি প্রতিষ্ঠানে, এখন তিনি যে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিকারি পাখি সংরক্ষণ প্রকল্প চালায় এই প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলছিলেন, “তখন এই শকুনের সংখ্যা যে হারে কমছিল, তা আসলেই ভয়াবহ। পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে গেল যে, লোকজন যেন হঠাৎ চারিদিকে তাকিয়ে টের পেল, আকাশ একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে, কোথাও আর শকুন নেই।”

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
হাজারে হাজারে শকুন মারা যাচ্ছিল মৃত গরুর মাংস খেয়ে

উপদ্রব না উপকারী?

শকুন এই পৃথিবীতে আছে অনেক আগে থেকে, প্রায় ২৬ লক্ষ বছর ধরে। শকুনের সাধারণ একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এদের মাথায় পালক নেই, তাদের চঞ্চু খুব ধারালো, এরা ময়লার ভাগাড় থেকে খাবার খুঁজে খায়। অনেক উপর থেকে এরা মৃত পশুর দেহ দেখতে পায়, তারপর সেখানে নেমে আসে, তারপর সেই মৃত পশুর দেহ দ্রুত সাবাড় করে। তাদের পাকস্থলীর জারণ ক্ষমতা অসাধারণ। মৃত পশুর দেহ তো বটেই, তাদের হাড় পর্যন্ত হজম করে ফেলতে পারে শকুন।

১৯৭০ এবং ১৯৮০র দশকে শকুনের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, ভারত বা পাকিস্তানের মতো দেশে শকুনকে একটা উপদ্রব বলে গণ্য করা হতো, এগুলোকে যে সংরক্ষণ করা দরকার, সেটার কথা কারও মাথাতেই ছিল না।

সেই সময়ে এরা বড় ধরণের উপদ্রব হয়ে দেখা দিয়েছিল। সেসময় সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত ওরিয়েন্টাল হোয়াইট রাম্পড ভালচার বা প্রাচ্যদেশীয় সাদা পাকা শকুন। ধারণা করা হয়, ৭০ এর দশকের শুরুর দিকে ভারতের জয়পুর-আগ্রা এবং দিল্লির মধ্যবর্তী অঞ্চলেই কেবল ৪ কোটি এরকম শকুন ছিল।

ভারতের হিন্দুরা গরুকে পবিত্র বলে মনে করে এবং এর মাংস খায় না। কাজেই যখন গরু মারা যায়, তখন সেই মৃত গরুর একটা ব্যবস্থা করতে হয়। এই সমস্যার সমাধানে শকুন একটি খুবই প্রাকৃতিক এবং দক্ষ ভূমিকা পালন করতো।

মুনির ভিরানি বলেন, “যখন গরু মারা যায়, তখন এগুলোর মৃতদেহ কোথাও ফেলে আসতে হয়। কাজেই গরু মারা যাওয়ার পর একটি ভাগাড়ে তার দেহ ফেলে দেয়া হয়। সেই ভাগাড়ে থাকে শত শত শকুন। এটি খুবই পরিবেশ সম্মত এক সমাধান। কারণ এখানে আপনাকে কাঠ জ্বালিয়ে গরুর দেহ পোড়াতে হচ্ছে না, আপনি কোন কার্বন দূষণ ঘটাচ্ছেন না। আপনি একটি প্রাণীর দেহ দান করছেন আরেকটি প্রাণীকে। সেই প্রাণী আপনার সব কাজ করে দিচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই সেবা আপনি পাচ্ছেন একেবারে বিনামূল্যে।”

আকাশে কবর

আর শুধু পশুর মৃতদেহ নয়, বৌদ্ধ এবং জরোয়াসথ্রিয়ান ধর্মের অনুসারীরা তাদের কেউ মারা গেলে সেই দেহও ফেলে দেয় শকুনের জন্য। শকুন এসে এই দেহ খেয়ে ফেলে।

মুনির ভিরানি জানান, এই রীতিকে সেখানে আকাশে কবর দেয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

“উঁচু পার্বত্য এলাকা, যেমন ধরুন হিমালয় অঞ্চলে মৃতদেহ কবর দেয়া কিংবা দাহ করার মতো জ্বালানি কাঠ পাওয়া বেশ কঠিন। কাজেই সেখানে সহজ কাজ হচ্ছে মৃতদেহ এভাবে শকুনের জন্য ফেলে দেয়া। এসব ধর্মীয় রীতিতে প্রিয়জনের মরদেহ শকুনের খাদ্য হিসেব দান করার কাজটিকে বেশ পবিত্র বলেও গণ্য করা হয়। তাদের ধর্ম অনুযায়ী, শকুন যখন দেহটি খেয়ে ফেলবে, তখন আত্মা দেহ থেকে মুক্তি পাবে।”

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
আসামে একটি মৃত মহিষের মাংস খাচ্ছে শকুন

শকুন উধাও

কাজেই সবকিছু বেশ নিয়মমতোই চলছিল। কিন্তু একজন ভারতীয় শকুন বিশেষজ্ঞ ডঃ ভিবু প্রকাশ একদিন খেয়াল করলেন, শকুনের সংখ্যা যেন আগের মতো নেই।

১৯৯৬ সালে তিনি ভারতের একটি ন্যাশনাল পার্কে গিয়ে খুব কম শকুনই সেখানে দেখতে পেলেন। অনেক শকুন মরে পড়ে ছিল। তারপর তিনি আশে-পাশের গ্রামে যাওয়ার পর গ্রামবাসীরা তাকে জানালেন, পুরো অঞ্চল থেকে শকুন উধাও হয়ে যাচ্ছে।

মুনির ভিরানি যখন ২০০০ সালে ভারত সফরে গেলেন, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর।

“ততদিনে শকুন প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং আমার মনে আছে, আমি দেখেছিলাম গাছে গাছে মরা শকুন ঝুলছে। খুবই বিচলিত হওয়ার মতো এক দৃশ্য। এটা বলা যেতে পারে তাদের সংখ্যা ৯৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল।”

দক্ষিণ এশিয়ায় শকুন বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে বলে একটা আশংকা তৈরি হলো। মুনির ভিরানি এবং পেরেগ্রিন ফান্ডে তার অন্য সহকর্মীরা তখন এর কারণ খোঁজার চেষ্টা শুরু করলেন। তখন শকুনের সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য অদ্ভুত সব কারণের কথা বলা হচ্ছিল।

“এমন কথা বলা হচ্ছিল যে বিমানবন্দরগুলোর কর্তৃপক্ষ গুলি করে শকুন মারছে, অথবা এর কারণ পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা। কেউ বলছিল জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে শকুনের মস্তিষ্কের একটা এনজাইম পরিবর্তিত হচ্ছিল, সে কারণেই তারা মারা যাচ্ছিল।”

এর কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্তকারীরা ভারতে তাদের কাজ শুরু করলেন। কিন্তু তখন ভারতে শকুনের সংখ্যা এত কমে গেছে যে তাদের এই অনুসন্ধান কাজের জন্য প্রতিবেশী পাকিস্তানে যেতে হলো। কিন্তু সেখানেও গবেষণার জন্য শকুন খুঁজে পাওয়া কঠিন হচ্ছিল।

মুনির ভিরানি বলেন, “আমরা হয় মরা শকুন পাচ্ছিলাম, নয়তো একেবারে সুস্থ শকুন পাচ্ছিলাম। কোন অসুস্থ শকুন খুঁজে পাওয়া কঠিন হচ্ছিল।”

শকুন মরার রহস্যভেদ

এরপর এই গবেষক দল শকুন মারা যাওয়ার একটা অভিন্ন সূত্র খুঁজে পেলেন।

মুনির ভিরানি বলেন, “এসব পাখি আসলে মারা যাচ্ছিল কিডনি বিকল হয়ে। আমরা যখন এই শকুনের দেহ ব্যবচ্ছেদ করলাম, তখন দেখলাম, তাদের পাকস্থলী, ফুসফুস, কিডনি, লিভার- এগুলো চকের মতো সাদা আঠালো পিণ্ডে আবৃত। এটি আসলে ইউরিক এসিড। কিডনি থেকে তা বেরিয়ে এসেছিল। কাজেই আমাদের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, এই শকুন আসলে কি খাচ্ছে, সেটা আমাদের দেখতে হবে। আমরা এমন কিছুর সন্ধান করছিলাম, যেটা সহজলভ্য, সস্তা, যেটা হয়তো দোকানে গিয়েই কেনা যায়, যেটা সর্বত্র আছে, এবং যার কারণে পাখির কিডনি বিকল হতে পারে। আমরা দেখলাম, এটা আসলে ডাইক্লোফেনাক।”

ডাইক্লোফেনাকের নাম হয়তো অনেকে শোনেনিই নি, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় যারা গবাদিপশু পালে, তাদের কাছে এটা খুব পরিচিত নাম।

ডাইক্লোফেনাক খুব কার্যকর একটি ব্যথানাশক। ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে এটি পেটেন্ট করা হয় । এটি ছিল খুবই সস্তা। দোকানে গিয়েই কেনা যেত। এক বোতল ঔষধ মাত্র দশ সেন্টে পাওয়া যেত। এটা গবাদিপশুর ওপর নির্বিচারে ব্যবহার করা হতো।

মুনির ভিরানি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় গবাদিপশু দিয়ে লাঙ্গল টানা হয়, ক্ষেতের ফসল বাজারে নেয়া হয়। কোন গবাদিপশু যখন একটু খোঁড়াতে থাকে, তখন তার শরীরে এই ডাইক্লোফেনাক ইনজেকশন দেয়া হয়।

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
মৃত গরুর মাংস খেয়ে মারা গেছে অনেক শকুন

“কৃষকরা দেখছিল, এতে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়া যায়। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে, এটি দিয়ে রোগ নিরাময় করা যায় না, এটা কেবল ব্যথা কমায়। কাজেই যখন পশুটা মরে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে, তখন তার সমস্ত শরীরে কিন্তু ডাইক্লোফেনাকের অবশেষ থেকে যাচ্ছে। যখন শকুন এই পশুর মৃতদেহ খেতে আসছে, তখন সেটি যেন একটা আত্মহত্যার ভোজ উৎসব হয়ে উঠছে। এটি ছিল খুবই সস্তা।”

তাদের অনুমান যে আসলে সঠিক, সেটি যাচাই করার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি মহিষের শরীরে ডাইক্লোফেনাক ইনজেকশন দিলেন। তারপর এটির লিভার তারা বদ্ধ জায়গায় কিছু শকুনকে খেতে দিলেন।

“আমরা শকুনের মৃত্যুর সঙ্গে ডাইক্লোফেনাকের একটা সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পেলাম। এটা ছিল আমাদের জন্য একটি ইউরেকা মুহূর্ত। আমরা বুঝতে পারলাম, এটাই কারণ। আমরা ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তান থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে আনলাম। আমরা তাদেরকে আমাদের ফল দেখালাম। এবং আমরা তাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিলাম, তারা যদি কিছু না করে, ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে সব শকুন অদৃশ্য হয়ে যাবে।”

শকুন রক্ষার আন্দোলন

কাজেই মুনির এবং তার গবেষক দল অন্যান্য সংরক্ষণবাদীদের সঙ্গে মিলে শকুন রক্ষার আন্দোলন শুরু করলেন।

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
ভারতের বিলুপ্তপ্রায় একটি প্রজাতির শকুন

“এর কৃতিত্ব আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে এমন সব সংগঠনের। বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি, আরএসপিবি এবং নেপাল ও পাকিস্তানের অন্যান্য সংগঠন। এরা সবাই যার যার দেশে গবাদিপশুর জন্য এই ঔষধের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে সরকারগুলোকে রাজি করালো।”

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় ডাইক্লোফানাকের বিরাট মজুত ছিল। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এটার ব্যবহার এরপরও তাই অব্যাহত ছিল। তবে তারপরও অবস্থার উন্নতি হলো।

“সেসময় থেকে আমরা ভারত , নেপাল এবং পাকিস্তানে শকুনের সংখ্যার ওপর নজর রাখছিলাম। আমাদের জরিপে দেখা যায়, এরপর শকুনের সংখ্যা স্থিতিশীল হতে শুরু করে, এবং কিছু কিছু জায়গায় তাদের সংখ্যা বাড়তেও শুরু করে।”

তবে এরকম একটা আশংকা আছে যে নতুন কোন ঔষধ হয়তো আবার শকুনের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মুনির ভিরানি বলছেন, শকুন এখনো বিপদমুক্ত নয়। কারণ বাজারে নতুন নতুন ঔষধ আসছে, যেগুলো পরীক্ষা করে দেখা দরকার, এগুলো শকুনের কোন ক্ষতি করে কিনা। তিনি বলছেন, এই লড়াইটা অনেক দীর্ঘ, শকুন রক্ষার এই প্রচেষ্টা অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চালাতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় শকুনের সংখ্যা যেভাবে কমে গিয়েছিল, কোন প্রজাতির প্রাণীর সংখ্যা এত দ্রুত কমে যাওয়ার নজির আর নেই। তবে শকুন যে কত উপকারী এক প্রাণী, এই সংকট তা মানুষকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে।

“আমার মনে হয় এশিয়ায় শকুনকে ঘিরে এই সংকটের সবচেয়ে ইতিবাচক একটা দিক হচ্ছে, এই বিরাট সচেতনতা, শকুন যে আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। কোন সন্দেহ নেই যে, আমাদের গ্রহে শকুন হচ্ছে সবচেয়ে বিপন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণী। আমাদের সহানুভূতি, আমাদের ভালোবাসা তাদের দরকার। যাতে তারা আকাশে উড়ে বেড়াতে পারে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ভারতের গুটি স্বর্ণার দাপট

ধানবীজ
ধানবীজ

গুটি স্বর্ণা জাতের ধান বীজের উদ্ভাবন ভারতে। বাংলাদেশে এই জাতের বীজ আমদানি নিষিদ্ধ। চোরাই পথে আসা এমন বীজ দেদার ব্যবহার করছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছয়টি জেলার কৃষকেরা। অথচ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) গুটি স্বর্ণার বিকল্প হিসেবে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ব্রি-৭৫, ৫৯ ও বিনা-৭ জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩২৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। চাষিরা এ বছর উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতসহ ৯০টি জাতের ধান রোপণ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে গুটি স্বর্ণা জাতের ধানের আবাদ হয়েছে।

কৃষকেরা বলছেন, গুটি স্বর্ণা নিচু জমিতে, কাদায় বেশি দিন টিকতে পারে। মূলত এ কারণেই তাঁরা এমন জাতের ধানে আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলে, জমিতে তাঁদের ফলন কম হচ্ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গুটি স্বর্ণা ধানের বিপরীতে উফশী জাতের ব্রি-৭৫, ৫৯ ও বিনা-৭ জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব ধানবীজ গুটি স্বর্ণার জায়গা নিতে পারেনি এখনো।

মাহিদিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘১২ বিঘায় স্বর্ণা ও ৪ বিঘায় রণজিত জাতের ধান চাষ করেছি। ১২ বছর ধরে আমি এই দুই জাতের ধানের চাষ করছি। বীজ আমি নিজেই তৈরি করি। একই বীজ থেকে অন্তত ১২ বার বীজ তৈরি করা হয়েছে। বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণের বেশি ধান পাওয়া যায় না। এই গ্রামের আমন আবাদের মাঠে ৮০ ভাগই স্বর্ণা ধান রয়েছে। আমার জমি একটু নিচু। পানি জমে থাকে। এ জন্য ব্রি উদ্ভাবিত ধান লাগানো হয় না।’

সদরের তফসিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হ‌ুমায়ূন কবীর বলেন, ‘এক হেক্টর জমিতে এ বছর আমন ধানের চাষ করেছি। নিচু জমিতে স্বর্ণা ও উঁচু জমিতে ব্রি-৭৫ ধান লাগানো হয়েছে। স্বর্ণা ধান বিঘায় এখন ১৬ থেকে ১৭ মণের বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। দুই বছর আগে চোরাই পথে ভারত থেকে ১০ কেজি স্বর্ণা ধানের “ভিত্তি বীজ” এনে রোপণ করেছিলাম। তখন বিঘায় ২৭-২৮ মণ করে ধান পেয়েছি। পরে তা থেকে আবার বীজ তৈরি করে চাষাবাদ করেছি। তবে ধানের আবাদ কমেছে।’ তিনি বলেন, তিনি নিজে ধানের বীজ তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করেন। এখন যে স্বর্ণা বীজ রোপণ করেন, তা ভিত্তি বীজ থেকে ১২ থেকে ১৫ বার তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে এ বীজে ফলন এখন অনেক কম হয়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে গেছে। যে কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে।

কয়েকজন কৃষক বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি চীন থেকে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ আমদানি করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করছে। এ বছরও কয়েকটি জাতের ধানবীজ চীন থেকে আমদানি করে রোপণ করা হয়েছে। ভারত থেকে স্বর্ণা ধানের বীজ আমদানি মানা। তবে চোরাই পথে এসব নিয়মিতই আসে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এক বীজ থেকে বারবার বীজ করলে ফলন কমে যান। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। গুটি স্বর্ণা বীজের বেলায়ও একই ফল হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক সুধেন্দু শেখর মালাকার বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের ছয় জেলায় এখনো গুটি স্বর্ণা জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি। বারবার চাষের কারণে ফলন কমছে। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা চলছে। কয়েক বছরের মধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত গুটি স্বর্ণার বিকল্প জাতের ধানে কৃষকেরা আগ্রহী হবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমন মৌসুমে যশোর ও আশপাশের জেলায় ৯০টি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত ৩৬টি, চীন থেকে আমদানি করা ২২টি, উফশী ১২টি ও স্থানীয় (অপ্রচলিত) ২০টি জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে।

ব্রি উদ্ভাবিত ধানবীজ ভারতীয় স্বর্ণা ধানের জায়গা নিতে পারছে না কেন—এ প্রশ্নের উত্তরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোহম্মদ আলী বলেন, কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণ হতে আরও দু-এক বছর লাগবে। চীন থেকে হাইব্রিড ধানবীজ আমদানি করা হলেও ভারত থেকে স্বর্ণা ধানের বীজ আমদানি করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের নীতি হচ্ছে, মুক্ত পরাগায়ন (ওপি) জাতের ধানবীজ আমদানি করা যাবে না। স্বর্ণা হচ্ছে মুক্ত পরাগায়ন জাতের ধান, যে কারণে এ ধানের বীজ আমদানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

বর্ষ পরিক্রমা ২০২০ : ফেলে আসা বছরে ভারতের সবচেয়ে বড় পাঁচটি ঘটনা

দিল্লির একটি বাস টার্মিনাসে কোভিড পরীক্ষা। ডিসেম্বর, ২০২০
ছবির ক্যাপশান,দিল্লির একটি বাস টার্মিনাসে কোভিড পরীক্ষা। ডিসেম্বর, ২০২০

বছরের শেষ প্রান্তে এসে ফিরে তাকানো যাক পেছনে ফেলে আসা ২০২০ সালে ভারতের ঘটনা পরম্পরার দিকে।

বাকি দুনিয়ার মতো ভারতেও করোনাভাইরাস মহামারি এবছর বাকি সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে।

বস্তুত গোটা দুনিয়ায় এখনও পর্যন্ত ভারতেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এর পাশাপাশি বছরের শুরুতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা বছরের শেষে কৃষক আন্দোলনেও উত্তাল হয়েছে ভারত।

ভয়াবহ হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় রক্তাক্ত হয়েছে রাজধানী দিল্লি, ভারতীয় সেনাদের রক্ত ঝরেছে লাদাখের চীন-ভারত সীমান্তেও।

এই প্রতিবেদনে নজর দেওয়া হয়েছে মহামারি-সহ বছরের এমনই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দিকে।

মুম্বাইতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে জমায়েত। জানুয়ারি, ২০২০
ছবির ক্যাপশান,মুম্বাইতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে জমায়েত। জানুয়ারি, ২০২০

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

করোনাভাইরাসের সঙ্গে তখনও ভারতের পরিচয় হয়নি – এদেশে ২০২০ সাল শুরু হয়েছিল তখন সদ্য পাস-হওয়া নাগরিকত্ব আইন আর প্রস্তাবিত এনআরসি-র বিরুদ্ধে দেশব্যাপী উত্তাল প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে।

এই উদ্যোগকে অনেকেই দেখেছিলেন সমাজের একটা শ্রেণীকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হিসেবে – যারা শপথ নিচ্ছিলেন কিছুতেই সরকারের কাছে নিজেদের পরিচয়ের নথিপত্র পেশ করবেন না, কাগজ দেখাবেন না!

দিল্লির শাহীনবাগ হয়ে উঠেছিল নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এপিসেন্টার।

আট থেকে আশি বছর বয়সী মুসলিম নারীরাই সে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আইকন হয়ে উঠেছিল দিল্লির শাহীন বাগ
ছবির ক্যাপশান,নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আইকন হয়ে উঠেছিল দিল্লির শাহীন বাগ

তারা বলছিলেন, “আমাদের দেশদ্রোহী বা পাকিস্তানি বলে চিহ্নিত করার হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও ভারতীয়রা কিন্তু সেই চেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।”

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ছাত্রী তবাসসুম বিবিসিকে বলছিলেন, “কাশ্মীরের অবরোধ, এনআরসি-র ঘোষণা বা মুসলিমদের পিটিয়ে মারার ঘটনা যখন ঘটেছে তখন কিন্তু দেশ পথে নামেনি।”

“আজ অবশেষে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সারা দেশের সঙ্গে দিল্লি রাজপথে নেমে এসেছে – আমি এখন কীভাবে ঘরে আটকে থাকতে পারি?”

দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে এই বিক্ষোভকারীরাই যখন উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদে পথ অবরোধ করে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন, পরিস্থিতি দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল।

বিজেপির বিতর্কিত নেতা কপিল মিশ্র পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়েই হুমকি দিলেন, ভালোয় ভালোয় রাস্তা খালি না-করা হলে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না এবং পরিণতির জন্যও দায়ী থাকবেন না।

জাফরাবাদে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পথ অবরোধ তোলার চেষ্টা থেকে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে দিল্লিতে
ছবির ক্যাপশান,জাফরাবাদে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পথ অবরোধ তোলার চেষ্টা থেকে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে দিল্লিতে

পরবর্তী প্রায় চারদিন ধরে রাজধানীর এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যে সাম্প্রদায়িক তান্ডব চলল, তাতে কম করে ৫৩জন নিহত হলেন – যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ছিলেন মুসলিম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন দিল্লি সফরে, এরই মধ্যে জ্বালিয়ে দেওয়া হল শহরের অসংখ্য মসজিদ। নালা থেকে উদ্ধার হল দাঙ্গায় নিহতদের লাশ।

মুস্তাফাবাদে ভস্মীভূত ফারুকিয়া মসজিদে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সেদিন বিবিসিকে বলছিলেন, আরএসএসের গুন্ডারা কীভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে আর লুঠতরাজ করেছে।

তাদের অভিযোগ ছিল, “হামলার সময় দিল্লি পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। আর এই হামলা থেকে রেহাই পায়নি মাদ্রাসার ছোট ছোট ছাত্ররাও।”

সম্পন্ন একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর বাসার ড্রয়িংরুমে সেদিন আশ্রয় নিয়েছিলেন শত শত মুসলিম নারী-শিশু-পুরুষ, ভয়ার্ত সেই মানুষগুলোকে প্রশাসন দেখতেও আসেনি।

দিল্লির মুস্তাফাবাদে একটি ভস্মীভূত মসজিদের ভেতরটি দেখছেন মুসলিম নারীরা
ছবির ক্যাপশান,দিল্লির মুস্তাফাবাদে একটি ভস্মীভূত মসজিদের ভেতরটি দেখছেন মুসলিম নারীরা

মাসকয়েক পরে দিল্লি পুলিশ যখন এই দাঙ্গার চার্জশিট জমা দিল, তারা কিন্তু দায়ী করল নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাদেরই।

তবে লেখক ও চিন্তাবিদ তিলোত্তমা মজুমদার বলছিলেন, তিনি কিন্তু মনে করেন না দাঙ্গা আর প্রতিবাদের রসায়নটা কখনও একই রকম হতে পারে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, “চরিত্রগতভাবেই প্রতিবাদ আর দাঙ্গা দুটো কিন্তু আলাদা জিনিস।”

“একটা দাঙ্গার পেছনে সামাজিক বা রাজনৈতিক নানা রকম উসকানি থাকতে পারে। ব্যক্তিগত কোনও উদ্দেশ্যও থাকতে পারে দাঙ্গা লাগানোর।”

“তবু আমি বলব, দিল্লির দাঙ্গা যে সারা দেশে ছড়ায়নি সেটা প্রমাণ করে যে মানুষের শুভ বোধ এখনও জাগ্রত আছে। বেশির ভাগ ভারতীয় যে দাঙ্গা চান না সেই বিশ্বাসটাই তাতে জোরালো হয়।”

উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গায় পুড়ে ছাই হওয়া দোকানের সামনে বসে একজন ব্যবসায়ী
ছবির ক্যাপশান,উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গায় পুড়ে ছাই হওয়া দোকানের সামনে বসে একজন ব্যবসায়ী

“অন্যদিকে যে মানুষের আন্দোলনগুলো – সেটা কখনও কোনও নতুন আইনের বিরুদ্ধে, কখনও সরকারি কোনও প্রকল্প বা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে – গণতন্ত্রে কিন্তু তার গুরুত্বই আলাদা।”

“যে কোনও সার্থক গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল বিরুদ্ধ মতকেও স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার জায়গাটা থাকা, সাহসটা থাকা।”

“এবছর প্রমাণ হয়েছে যে ভারতে এখনও সেই প্রতিবাদের স্পেসটা আছে এবং এ দেশের গণতন্ত্র নিয়ে এখনও ভরসাটুকু হারিয়ে যায়নি”, বলছিলেন তিলোত্তমা মজুমদার।

মহামারি, লকডাউন, টিকা

দিল্লি দাঙ্গার রেশ না থিতোতেই দেশ পড়ল ভয়াবহ মহামারির কবলে। পুলিশ জোর করে উঠিয়ে দিল শাহীনবাগের বিক্ষোভ। আর একশো তিরিশ কোটি মানুষের বিশাল দেশ রাতারাতি পড়ল কঠোর লকডাউনের কবলে।

২৪শে মার্চ রাতে মাত্র তিন ঘন্টার নোটিশে সারা দেশে লকডাউন জারির কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মোবাইল ফোনে, টিভিতে প্রধানমন্ত্রীর সে দিনের ভাষণ শোনেন কোটি কোটি ভারতীয়
ছবির ক্যাপশান,মোবাইল ফোনে, টিভিতে প্রধানমন্ত্রীর সে দিনের ভাষণ শোনেন কোটি কোটি ভারতীয়

বললেন, “দেশের প্রতিটি পরিবারকে বাঁচানোর জন্যই এই পদক্ষেপ – ঘর থেকে বেরোনোও পুরোপুরি নিষেধ।”

পরবর্তী কয়েকদিনে দেখা গেল হাজার হাজার দরিদ্র অভিবাসী শ্রমিক গ্রামে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় পথে নেমে এসেছেন, জাতীয় সড়ক বেয়ে শত শত মাইল হাঁটতেও শুরু করে দিয়েছেন।

কোলের শিশুকে শহরে কিছু খাওয়াতে না-পেরে গ্রামের পথে হাঁটা ছাড়া যে কোনও উপায় নেই, কাজকর্ম হারিয়ে সে কথাই বলছিলেন শ্রমিক বধূরা।

বিহারের ট্রেনের টিকিটের ভাড়া আড়াই হাজার রুপি করে, দুজনের ভাড়া কীভাবে জোগাড় করবেন অসহায়ভাবে সে প্রশ্ন তুলছিলেন চম্পারন থেকে দিল্লিতে কাজ করতে আসা মজদুর রাজেন রাম।

লকডাউনে জাতীয় সড়ক বেয়ে চলতে শুরু করেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক
ছবির ক্যাপশান,লকডাউনে জাতীয় সড়ক বেয়ে চলতে শুরু করেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক

“এই পরিযায়ী শ্রমিকরাও তো ভারতেরই নাগরিক, বিদেশে প্লেন পাঠিয়ে যদি আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে এই গরিব মেহনতি মানুষগুলোকে কেন সরকার ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে না?”, সে প্রশ্নও তুললেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

ওদিকে ভাইরাসের বিস্তার ক্রমশ বাড়তে থাকায় হিমশিম খেতে শুরু করল ভারতের স্বাস্থ্য অবকাঠামো।

মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে চিকিৎসকরা বিবিসিকে বলছিলেন, কী অসম্ভব কঠিন এক যুদ্ধ তাদের লড়তে হচ্ছে – রোগী, ডাক্তার, নার্স সবাই এক অচেনা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

কোভিড টেস্ট করানো কিংবা হাসপাতালে বেড পাওয়ার সমস্যা তো ছিলই, গ্রামীণ ভারতেও সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি একটা পর্যায়ে প্রায় হাতের বাইরেই চলে গিয়েছিল।

বহু মানুষ তখন প্রায় বিনা চিকিৎসায় প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। কোভিড-আক্রান্ত মা কীভাবে হাসপাতাল থেকে চিরতরে চোখের আড়ালে চলে গেলেন, বাচ্চা ছেলেকে তার কোনও জবাব দিতে পারেননি অসহায় বাবা।

দিল্লিতে গড়ে তোলা একটি অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল
ছবির ক্যাপশান,দিল্লিতে গড়ে তোলা একটি অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল

তিলোত্তমা মজুমদার বলছিলেন, ভারতবর্ষ যে পথে এই সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে সেই রাস্তাটা কিন্তু একটা চরম অপ্রস্তুতির পরিচয় দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অবকাঠামোর দিক থেকে আমরা যে এই পরিস্থিতির জন্য বিন্দুমাত্র তৈরি ছিলাম না সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।

পাশাপাশি অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিককে এই লকাডাউনে যে করুণ পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাতেও পরিষ্কার যে খেটে-খাওয়া, দরিদ্র মেহনতি মানুষগুলোর জন্য আমাদের ন্যূনতম পরিকল্পনাও ছিল না।

অথচ সারা দেশে যখন আধার কার্ডের মতো জাতীয় পরিচয়পত্র চালু হল, তখন বলা হয়েছিল এই একটা নম্বর দিয়েই ভারতীয়রা বিভিন্ন আধুনিক দেশের নাগরিকদের মতো সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

সেই বড় বড় প্রতিজ্ঞাগুলো যে কত বড় মিথ্যা ও কত অন্ত:সারশূন্য, লকডাউনের সময় ভারতের মানুষ কিন্তু তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন।

লেখক তিলোত্তমা মজুমদার
ছবির ক্যাপশান,লেখক তিলোত্তমা মজুমদার

বছরশেষে কিছুটা আশার আলো অবশ্য দেখিয়েছে অচিরেই করোনা ভ্যাকসিন মেলার খবর – এবং বিশ্বের ভ্যাকসিন উৎপাদনে ভারতও সম্ভবত একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে।

পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদার পুনাওয়ালার কথায়, “যেহেতু বিশ্বের মোট ভ্যাকসিন উৎপাদন সামর্থ্যের ৭০ শতাংশই ভারতে তাই অবশ্যই এখানে ভারতের বড় ভূমিকা থাকবে।”

“কিন্তু এটা সেরা ভ্যাকসিন হবে কি না আমরা সত্যিই জানি না – কারণ যেখানে একটা নতুন টিকা উদ্ভাবনে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগে, সেই জায়গায় আমাদের এখানে খুবই তাড়াহুড়ো করতে হচ্ছে।”

মহামারির প্রকোপ হয়তো একদিন থিতোবে, কিন্তু ভারতীয়দের রোজকার অর্থনীতিতে তা কত বড় আঘাত দিয়ে গেল সেই হিসেব কিন্তু এখনও কষাই শুরু হয়নি – বলছিলেন লেখিকা তিলোত্তমা মজুমদার।

ভারতে সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান আদার পুনাওয়ালা
ছবির ক্যাপশান,ভারতে সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান আদার পুনাওয়ালা

তার কথায়, “লকডাউনে কত লোককে যে কত কোম্পানি ছাঁটাই করেছে, কত লোক যে গত সাত-আটমাস ধরে অর্ধেক বেতনে বা কম বেতনে কাজ করছে তার কোনও পরিসংখ্যান কিন্তু এখনও নেই।”

“এগুলো পেলেই হয়তো একদিন বোঝা যাবে মহামারি আর লকডাউন কী বিরাট আঘাত হেনে গেল!”

লাদাখে ভারত-চীন সংঘর্ষ

মহামারি যখন তুঙ্গে, তখনই জুন মাসের মাঝামাঝি খবর এল লাদাখ সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতের অন্তত বিশজন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

গত পঁয়তাল্লিশ বছরের মধ্যে সেই প্রথম চীন-ভারত সীমান্তে রক্তপাতের ঘটনা ঘটল।

দেশের নানা প্রান্তে নিহত সৈন্যদের শেষ বিদায় জানানো হল সামরিক মর্যাদায়।

লাদাখের এই প্যাংগং লেকেও ভারত ও চীনের সেনারা রয়েছে মুখোমুখি অবস্থানে
ছবির ক্যাপশান,লাদাখের এই প্যাংগং লেকেও ভারত ও চীনের সেনারা রয়েছে মুখোমুখি অবস্থানে

লাদাখে বাড়তি সেনা মোতায়েন করে আর একগুচ্ছ চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে পাল্টা পদক্ষেপ নিল ভারত।

চীনের সঙ্গে পরবর্তী কয়েক দফা শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও স্বীকার করলেন, “সীমান্তে শান্তি যখন একবার বিঘ্নিত হয়েছে তখন দুদেশের সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে সেটা আর আশা করা যায় না।”

তিলোত্তমা মজুমদার মনে করছেন, চীন-ভারত সীমান্ত বিতর্কের নিষ্পত্তি না-হওয়াই এই সংঘাতের মূলে।

বিবিসিকে তিনি বলছিলেন, “যেভাবে কাশ্মীর ইস্যুটাকে বছরের পর বছর ধরে অমীমাংসিত রাখা হয়েছে, আমার ধারণা চীন-ভারত সীমান্ত প্রশ্নটাও সেভাবেই বহু বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

“দুদেশের সীমান্তই এখনও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয়, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা কোনও সরকার বা প্রধানমন্ত্রীকেই দেখিনি এই বিষয়টার একটা নিষ্পত্তি করে ছাড়বেন সেই অঙ্গীকারের জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন।”

গালওয়ান উপত্যকায় নিহত ভারতীয় সেনা সতনাম সিংকে শেষ বিদায়
ছবির ক্যাপশান,গালওয়ান উপত্যকায় নিহত ভারতীয় সেনা সতনাম সিংকে শেষ বিদায়

“ফলে এই পরিণতি বোধহয় অনিবার্যই ছিল। তবে অনেক সময় আবার এটাও মনে হয় রাজনীতি বোধহয় এই ধরনের পরিস্থিতিগুলোকে ব্যবহারও করে।”

“যেমন মহামারিতে যখন অর্থনীতির বিপর্যস্ত দশা, ঠিক তখনই কিন্তু আমরা দেখলাম লাদাখে চীনের সঙ্গে সাঙ্ঘাতিক গন্ডগোল শুরু হয়ে গেল।”

“ব্যাস, সারা দেশে সঙ্গে সঙ্গে দেশাত্মবোধের ঝড় বইতে লাগল। হুকুম এল, অমুক অমুক চাইনিজ অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না – কেন না চীন এখন আমাদের শত্রু হয়ে গেছে।”

“তাহলে এগুলোকে সরকার এতদিন অ্যালাও করেছিল কীভাবে, আমার প্রশ্ন সেটাই!”

গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির সীমান্তে অবস্থান করছেন হাজার হাজার কৃষক
ছবির ক্যাপশান,গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির সীমান্তে অবস্থান করছেন হাজার হাজার কৃষক

বছর শেষে কৃষক আন্দোলন

এদিকে চীন সীমান্তে উত্তেজনা আর অশান্তির ঘনঘটার মধ্যেই নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজধানী দিল্লি অবরুদ্ধ করে ফেললেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে আসা হাজার হাজার কৃষক।

তাদের দাবি, সম্প্রতি পাস হওয়া তিনটি কৃষি আইন – যা ভারতে কর্পোরেট-নিয়ন্ত্রিত, চুক্তিবদ্ধ চাষের পথ প্রশস্ত করবে বলে বলা হচ্ছে সেগুলো বাতিল করতে হবে এবং মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের গ্যারান্টি দিতে হবে।

দাবি আদায়ে চাপ দিতে তারা যে বেশ কয়েক মাসের রসদ নিয়েই দিল্লি এসেছেন সে কথাও জানিয়ে দেন পাঞ্জাবের এই কৃষকরা।

পাঞ্জাবের কৃষকরা বলছেন দীর্ঘ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েই তারা দিল্লিতে এসেছেন
ছবির ক্যাপশান,পাঞ্জাবের কৃষকরা বলছেন দীর্ঘ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েই তারা দিল্লিতে এসেছেন

এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে কৃষক নেতাদের বেশ কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনও সমাধান বেরোয়নি।

বড়দিনের মুখেও তারা দিল্লির সিঙ্ঘু ও টিকরি, এই দুটি সীমান্ত অবরোধ করে রেখেছেন।

ফলে দিল্লিতে বছর শুরু হয়েছিল শাহীনবাগ দিয়ে, আর শেষ হচ্ছে সিঙ্ঘুতে – যার মাঝখানে পুরো সময়টা জুড়িয়ে জাঁকিয়ে রইল করোনাভাইরাস মহামারি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com