আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস এবং বাংলাদেশ

১২ নভেম্বর ২০২০। আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১৯৭০ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশ উপকূলে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের জীবনহানিসহ সম্পদের সীমাহীন ক্ষতি সাধিত হয়। ইতিহাসের সেই ভয়াবহ দিনটিকে স্মরণ করা এবং নীতিনির্ধারক, পেশাজীবীসহ সব জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের আজকের এই আয়োজন।
‘সেন্টার ফর হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চের (এইচবিআরসি)’ নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেকের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘১২ নভেম্বর ১৯৭০ ভোলা সাইক্লোন’ স্মরণে প্রথম আলো, এইচবিআরসি এবং বিএসআরএমের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ‘ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস এবং বাংলাদেশ’। তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের সর্বাধিক ভয়ংকর এই ঘূর্ণিঝড় পর্যালোচনা করলে জীবন ও সম্পদহানির উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে দুর্বল আগাম সতর্কসংকেত, জনসচেতনতার অভাব, দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচির অনুপস্থিতি এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব অন‍্যতম।


আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ঘূর্ণিঝড়ের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে ছিল দুজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা। শেষে সাতটি সুপারিশের মাধ‍্যমে বিশেষ এই আলোচনা অনুষ্ঠান শেষ হয়।
প্রামাণ্যচিত্রে বন‍্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণসহ কেন বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ দেশ, তার বিষদ বর্ণনা শেষে বলা হয়, বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সৃষ্ট অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানে। পৃথিবীর ১৩টি মহাপ্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ৯টি এবং মোট ঘূর্ণিঝড়ের প্রতি ১০টির মধ্যে ১টি সৃষ্টি হয় উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে, যার প্রতি ৬টির মধ্যে একটি আঘাত হানে বাংলাদেশে।বিজ্ঞাপন

জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বিবেচনায় উপকূলীয় অঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে জীবনহানি হ্রাসে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বর্তমানে কমবেশি ৫০০০ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে বেশ কিছু আশ্রয়কেন্দ্র কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি হ্রাসকল্পে ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যাপক মেরামত ও শক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাবিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সঠিক পরিকল্পনা, কাঠামোগত নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে আগামী দিনে ঝুঁকিমুক্ত উপকূল গঠনের উদ‍্যোগে পেশাদারির পরিচয় প্রদান এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মাধ‍্যমে প্রামাণ্যচিত্রটি শেষ হয়।


অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ি ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রথমেই আলোচনায় অংশ নেন প্রকৌশলী এ এইচ এম মতিউর রহমান। উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় আরসিসি ঘরবাড়ি ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য করণীয় বিষয়ে প্রকৌশলী মতিউর রহমান বেশ কিছু পরামর্শ দেন। তিনি কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধিসহ পানি ও সিমেন্টের অনুপাত সীমিত রাখা, কম্পোজিট সিমেন্ট টাইপ-২ ব‍্যবহার, এডমিকশ্চারের ব‍্যবহার, ক্লিয়ার কভার বাড়ানো, এগ্রিগেট হিসেবে ব্রিক চিপস ব্যবহার না করে স্টোন চিপস ব্যবহার এবং পানের উপযোগী পানির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
উপকূলীয় এলাকায় আরসিসি স্থাপনা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে রডের গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাকিব আহসান। অধ্যাপক রাকিব আহসান স্থাপনায় ব্যবহৃত রডের গুণাগুণ বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। যেহেতু উপকূলীয় এলাকা লবণাক্ত, সেহেতু ভালো গুণসম্পন্ন রডের ব্যবহার এবং মরিচা পড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এপক্সি কোটেড রড ব‍্যবহারের ওপর জোর দেন।

যেহেতু উপকূলীয় এলাকায় কংক্রিট তৈরির উপযোগী পানি পাওয়া দুষ্কর এবং কংক্রিটের গুণগত মান রক্ষা করা কঠিন, সেহেতু প্রিকাস্ট প্রি-ফেব্রিকেটেড নির্মাণ প্রযুক্তি সর্বাধিক উপযোগী হিসেবে তিনি মত প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থাগুলো আমাদের বিল্ডিং কোডে নির্দেশিত আছে। অধ্যাপক রাকিব আহসানের বক্তব‍্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্ব শেষ হয়।


প্রামাণ্যচিত্র ও আলোচনা শেষে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘরবাড়ি ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে ৭টি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সুপারিশগুলো নিম্নরূপ—
১.
প্রিকাস্ট প্রি-ফেব্রিকেটেড নির্মাণ প্রযুক্তি উপকূলীয় এলাকার জন্য সর্বাধিক উপযোগী।
২.
ইপক্সি কোটেড মরিচাপ্রতিরোধী রড উপকূলীয় অঞ্চলের স্থাপনার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করবে।
৩.
পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট টাইপ-১-এর চেয়ে পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্ট টাইপ-২ উপকূলীয় এলাকায় স্থাপনার স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে অধিকতর উপযোগী।
৪.
কংক্রিটের কোর্স এগ্রিগেট হিসেবে ইটের খোয়ার ব্যবহার স্থাপনার স্থায়িত্ব নষ্ট করে।
৫.
কংক্রিট তৈরিতে এডমিকশ্চারের ব্যবহার পানির ব্যবহার হ্রাস করে কংক্রিটের শক্তি ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করে।
৬.
কংক্রিট তৈরিতে পানের উপযোগী পানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কোনো অবস্থাতেই লবণাক্ত পানি ব্যবহার করা যাবে না
৭.
বিল্ডিং কোডে নির্দেশিত উপকূলীয় অঞ্চলের আরসিসি স্থাপনার জন্য বিশেষ বিধানগুলো দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে হবে।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় এবং দুর্যোগঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত স্থাপনা ও শক্তিশালী নির্মাণ নিশ্চিত করে, ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশায় আয়োজন শেষ হয়। বিজ্ঞপ্তি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

তামিলনাড়ু-পুদুচেরি উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিভার

ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিভার। বুধবার তামিলনাড়ুর মারাক্কানম ও পুদুচেরির মধ্যবর্তী অঞ্চলে রাত এগারোটার দিকে তাণ্ডব শুরু করে শক্তিশালী এই ঝড়।

আবহাওয়া দফতর এর আগে জানিয়েছে, প্রায় তিন ঘণ্টায় এর কেন্দ্র পুদুচেরি অতিক্রম করে যাবে। সে সময় বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪৫ কিলোমিটার হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগে থেকেই চেন্নাইসহ রাজ্যের একাধিক জেলায় শুরু হয় তীব্র বৃষ্টি। রাস্তাঘাট পানিতে ভরে গেছে। যানবাহনের সংখ্যাও খুবই কম। রাতের দিকে ঝড়ের তাণ্ডব বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

এখন পর্যন্ত রাজ্যের কয়েক লাখ মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী আর বি উদয়কুমার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মানুষকে চেন্নাইয়ের দক্ষিণের নাগাপট্টিনম ও কাড্ডালোর জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তামিলনাড়ু উপকূলে রণতরী আইএনএস জ্যোতি মোতায়েন করেছে নৌবাহিনী। খাবারসহ উদ্ধারকাজের বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছে ওই জাহাজে।

ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় চেন্নাই বিমানবন্দর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া চেন্নাইয়ের অধিকাংশ বড় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ জানানো হয়েছে, রাজ্যে ইতোমধ্যেই ১৫০টি ত্রাণ শিবিরকে তৈরি রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তামিলনাড়ুর বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে পুদুচেরিতে। এ সময়ে সব দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দুধের দোকান, পেট্রোল পাম্প খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বিমানের ৪৯টি ফ্লাইট।

ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা হিসেবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী বৃহস্পতিবার ১৩ টি জেলায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। পুদুচেরিতেও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত সব স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

যমুনার চরে মিলল সাড়ে ১০ ফুট লম্বা অজগর

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর যমুনার চর থেকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় সাড়ে ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ‘দ্য বার্ড সেফটি হাউস’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা সোহাগপুর যমুনার চর থেকে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।

এলাকাবাসী জানায়, রোববার (২২ নভেম্বর) বিকেলে গ্রামের জমির মধ্য একটি অজগর সাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে কিছু লোক ভয় পেয়ে সাপটির মাথায় টেঁটা দিয়ে আঘাত করে। রাত ৮টার দিকে দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি ফোনে স্থানীয়দের বন্যপ্রাণী আইনের বিষয়ে জানালে তারা সাপটি তাদের হেফাজতে রাখেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে মামুন বিশ্বাস ও জুবায়ের হোসেন চর থেকে আহত অবস্থায় সাপটি উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে আমি ও জুবায়ের অজগর সাপটি উদ্ধার করার জন্য সোহাগপুর চরে যাই। সেখানে গিয়ে সাপের অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় কিছু ছবি তুলে রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবিরের কাছে পাঠিয়ে দেই। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা অজগর সাপটি সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হৃষীকেস চন্দ্র রায়, এম এল এস নবুয়াত, শাহজাদপুর পি এম রশিদুল হাসানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাপটি বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বন্যহাতি হত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের কিছু এলাকায় বিভিন্ন কারণে বন্যহাতি হত্যা করা হচ্ছে। এসব বন্যহাতি নিধন প্রতিরোধে ব্যর্থ এবং দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বন্যহাতি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় আয়োজিত মাসিক সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এতে সভাপতিত্ব করেন তিনি।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. মো. বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজ, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ, কে, এম রফিক আহাম্মদ, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন চৌধুরীসহ দফতর প্রধান ও বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বনমন্ত্রী জনসাধারণকে বন্য হাতি নিধন থেকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বন্য হাতির কারণে ক্ষতির সম্মুখীন মানুষদের সরকারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি সবাইকে জানাতে হবে। হাতিসহ অন্য বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল তৈরি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে হাতির আবাসস্থল বিনষ্ট ও বিভক্ত হয়েছে। তাদের দীর্ঘকালীন পরিচিত চলাচলের পথও নষ্ট হয়েছে। ফলে বন্য হাতিরা পথভ্রষ্ট হয়ে অথবা খাবারের খোঁজে মানুষের ধানক্ষেতে ঢোকার চেষ্টা করে। ফলে স্থানীয় মানুষের পাতানো বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে বা নানাবিধ আক্রমণে তারা মারা যাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শুভলং ঝরনা ও পাহাড়ি জীবনের খোঁজে

আবু আফজাল সালেহ

ভোরেই পৌঁছলাম রাঙ্গামাটির রিজার্ভবাজারের বাস স্টেশনে। এরপর ঝটপট নাস্তা সেরে নিলাম। সিএনজি ভাড়া করে গেলাম তবলছড়ি পর্যটন মোটেলের শেষ প্রান্তে, ঝুলন্ত ব্রিজের ঠিক মুখে। ২০ টাকার টিকিট কেটে ঢুকতে হবে। এ ঝুলন্ত ব্রিজই রাঙ্গামাটির প্রতীক। কাপ্তাই হ্রদের দুপাশের পাহাড়ের সঙ্গে সেতুবন্ধন করেছে ছোট্ট ব্রিজটি। ব্রিজটি ঘিরেই রয়েছে বিভিন্ন রাইড। নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা।

এখান থেকে দরদাম করে ট্রলার বা স্পিডবোট ভাড়া করে ঘুরতে পারেন শুভলং ঝরনা, আর্মি ও আনসার ক্যাম্প। বিভিন্ন ভাসমান হোটেলেও যেতে পারবেন। ঘণ্টাখানেক এখানে অবস্থান করে মূল শহরে গেলাম। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামের সড়কপথ ধরে উপজাতিদের ছোট ছোট বাজার। বিভিন্ন ফল-মূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করছে বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। দারুণ সম্প্রীতির বাংলাদেশ!

কাছাকাছি রাজবাড়ি দেখলাম। ভেতরে প্রবেশ করায় নিষেধাজ্ঞা আছে। প্রায় বেলা ১১টার দিকে রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটের দিকে রওনা দিলাম সিএনজিতে। ১২ টাকা ভাড়া। নেমেই ৫০০ গজের মতো হেঁটে লঞ্চঘাট। লঞ্চঘাট থেকে ১৬০০ টাকায় ছোট্ট একটি ট্রলার ৬-৭ ঘণ্টার জন্য চুক্তি করলাম। শুরু হলো সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কাপ্তাই হ্রদে বোট ট্যুর। দেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের অন্যতম বড় কৃত্রিম হ্রদ ভ্রমণ! রোমাঞ্চের ডালপালা মেলে দিলো। চার জনই রোমাঞ্চিত।

লঞ্চঘাট থেকে কয়েক মিনিট যেতেই মনে হয় বিশাল সাগরে এসে পড়লাম। চারিদিকে অথৈ পানি। একটু দূরে ছোট ছোট দ্বীপ। কিছুদূর যেতেই পাহাড় দেয়াল। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ছোট ছোট বাসা। সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমরা চার জন ছোট্ট ট্রলার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। জেলেদের মাছধরার দৃশ্য আর মাথার ওপর বিভিন্ন পাখিদের ওড়াউড়ি, কী মনোরম! আহা, কী দৃষ্টিসুখ! আর কিছুদূর যেতেই সোনা রঙের মূর্তি দেখতে পেলাম। মাঝি বললেন, এটিই স্বর্ণমন্দির। নেমেই গেলাম। দেখলাম। উপজাতিদের সাথে কথাও বললাম।

আবার উঠলাম ট্রলারে। এবার কাপ্তাই হ্রদের পানিরাশি সবুজ। চারিদিকের সবুজ পাহাড়ের প্রতিচ্ছায়ায় এমন। পেরিয়ে যাচ্ছি করমজল উপজেলা। সবুজ পাহাড়ের মোহনা! কী নান্দনিক! এমন মোহনা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। চোখ টেনে নিচ্ছে; মনও। প্রায় ৪৫ মিনিট পানিভ্রমণ শেষে নান্দনিক জায়গা। হ্রদের অংশ ঢুকে পড়েছে পাহাড়ের ভেতর। মাঝি বললেন, এটিই শুভলং ঝরনা; মায়াবী ঝরনা। তবে শীতকালে পানি একেবারেই কম। বর্ষাকালে কী যে পাহাড়ি রূপ! একটু চোখ বুলিয়ে নিলাম। নামলাম। ২০ টাকার টিকিট কেটে ঝরনায় প্রবেশ করতে হয়। এখানে ক্যান্টিন আছে। যে কেউ হালকা চা-নাস্তা করে নিতে পারেন।

আবার যাত্রা শুরু পাহাড় উপত্যকার জলপথ দিয়ে। আরও ১০ মিনিট যেতেই ছোট্ট বাজার, আর্মি ক্যাম্প। বলে রাখি, এরপর যেতে হলে সেনাবাহিনীর অনুমতি লাগবে। এখানকার সবকিছুই সেনাসদস্যরা নিয়ন্ত্রণ করেন। অনুমতি নিয়ে বারবার মোহনা ও দ্বীপ পাশ কাটিয়ে প্রায় ২০ মিনিট পরে বড় স্থাপনা দেখতে পাচ্ছি। মাঝি বললেন, এটা শুভলং আনসার ক্যাম্প। পাহাড়ের গায়ে জল-পাহাড় বেষ্টিত ক্যাম্পটি দেখতে সুন্দর।

এবার ফেরার পালা। বিকাল ও গোধূলিবেলায় আধো-আধো আলোতে কাপ্তাই হ্রদের কী যে দৃশ্য! ভুলে যাওয়ার নয়। মাঝপথেই সন্ধ্যা হয়ে গেল। জেলেরা আলো জ্বালিয়ে মাছ ধরছে। দ্বীপগুলোয় আলো জ্বলছে। মাথার ওপর রাতজাগা পাখিদের ওড়াউড়ি। দ্বীপগুলো ও হ্রদের পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটি শহর যেন আমেরিকান কবির নিউইয়র্ক কবিতার মতো বিল্ডিংগুলো যেন made of glass and lights দিয়ে তৈরি। প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটি রোমাঞ্চকর জলভ্রমণ শেষে রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছলাম।

যাতায়াত: রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার সংলগ্ন লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ভাড়া করতে হবে। ছোট-বড়ভেদে ১২০০ টাকা থেকে শুরু। ১০-২০ জন ভ্রমণ করা যাবে। কোন কোন স্পটে যাবেন, তা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। স্পিডবোটেও যেতে পারবেন। ৫-৬ জনের ভাড়া ২০০০ টাকা থেকে শুরু। তার আগে ট্রেন বা বাসে চট্টগ্রাম যেতে হবে। অক্সিজেন মোড় থেকে পাহাড়িকা বা শান্তি পরিবহনে ১২০ টাকা ভাড়া। পাহাড়ের মধ্যদিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজারে। একটু এগিয়ে গিয়ে লঞ্চঘাটে দরদাম করে লঞ্চ বা স্পিড বোট ভাড়া করে কাপ্তাই ভ্রমণ করুন। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কিছু পরিবহন ৯-১০ ঘণ্টা সময়ে রাঙ্গামাটি পৌঁছে দেবে। এসি-নন এসি ভেদে ভাড়া ৬৫০ টাকা থেকে শুরু।

থাকা ও খাওয়া: রিজার্ভ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন বাজেটের আবাসিক ও খাওয়ার হোটেল পাবেন। এছাড়া উপজাতিদের বাড়িতে থাকতে ও খেতে পারবেন। পর্যটন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত মোটেল বা আবাসনে থাকতে ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন। খরচ তুলনামূলক একটু বেশি হতে পারে।

নৌকা বা স্পিড বোট ভাড়া: রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটে নৌকা পাওয়া যাবে। দরদাম করতে হবে। স্পিড বোটে ৩-৪ হাজার টাকা।

পাহাড়ি বাজার: সকালের দিকে শহরের রাস্তায় ছোট ছোট ভাগ করে পাহাড়িরা ফল-মূল ও কাঁচাবাজার নিয়ে বসে। এ দৃশ্য মনোরম। শহরের বিভিন্ন দোকান, উপজাতি অনেক বাড়ি থেকে পোশাক ও হস্তশিল্প সামগ্রী কেনাকাটা দারুণ ও উপভোগ্য হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর প্যারিস, হংকং ও জুরিখ

লেখক

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকার শীর্ষে যৌথভাবে রয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস, হংকং ও সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। এরপরেই তালিকায় সিঙ্গাপুরের অবস্থান।

জীবনযাপনে খরচের হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি করা লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক জরিপে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি ১৩৩টি শহরের ওপর জরিপ করেছে। 

তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে যৌথভাবে জাপানের ওসাকা ও ইসরায়েলের তেল আবিব। 

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের করা ওই বার্ষিক জরিপে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে জীবনযাপনের ব্যয় কমেছে। করোনার কারণে দেশটিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কমেছে। ১৭ বছরের মধ্যে শহরটির জনসংখ্যা এবারে সবচেয়ে কমেছে। 

ব্যয়বহুল শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় জেনেভার অবস্থান ৭ম আর ৯ম অবস্থানে রয়েছে কোপেনহেগেন। নিউইয়র্ক সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থান যথাক্রমে ৮ম ও ১০ম স্থানে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক্সের দাম বেড়েছে। তবে কমেছে পোশাকের দাম। প্রধান খাদ্য আইটেমগুলির দাম একই রয়েছে। তবে প্রসাধনী, তামাক এবং অ্যালকোহলের দাম বেড়েছে।  

জীবনযাপনে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় গতবছর থেকেই অবস্থান হারাচ্ছে আমেরিকা, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ। তবে, পশ্চিম ইউরোপের শহরগুলো ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

এবারের তালিকায় ২০ ধাপ নিচে নেমে গেছে ব্যাংকক। এই শহরের বর্তমান অবস্থান ৪৬তম। তালিকায় সিডনির অবস্থান ১৫ নম্বরে। লন্ডন ২০ তম, মস্কো আছে ১০৬ নম্বরে ও দিল্লির অবস্থান ১২১-এ। 

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্বব্যাপী কস্ট অব লিভিং বিভাগের প্রধান উপাসনা দত্ত জানান, কয়েক বছর ধরে এই তালিকায় এশিয়ার দেশগুলো শীর্ষে থাকলেও এবার করোনার ধাক্কায় কিছুটা ওঠানামা হয়েছে দেশগুলোর অবস্থানের। 

তিনি বলেন, করোনা মহামারি ভোক্তাদের আচরণকে বদলে দিয়েছে। কারণ বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের দাম বেড়েছে। আবার লকডাউনের কারণে রেস্তোরাঁয় না যাওয়ায় খাবারের দাম একই রয়েছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com