আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

ঘাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যে সেতু

পেরুর কুজকো রাজ্যের পাশ ঘেষে বয়ে গেছে আপুরিমাক নদী। এই নদীর অববাহিকায় বাস করছে হাজার বছরের পুরানো ইনকা সভ্যতার উত্তরসূরীরা। নদীর ওপরে চলাচলের জন্য যে সেতু ব্যবহার করেন। সেটা তারা তৈরি করেন ঘাস দিয়ে।

  • কিউএসওয়াচাকা নামের এই সেতুটি বছরে একবার পুন:নির্মান করা হয়। সেতু বানানো শেষে আয়োজন করা হয় খাবার দাবার আর সংগীতানুষ্ঠানের। মূলত ৪দিন ধরে চলে এই সেতু বানানোর আনুষ্ঠানিকতা। ৪র্থ দিনেই উৎসব করা হয়। এবং প্রতিবছর দোশরা জুন তাদের এই উৎসবের দিনটা পড়ে যায়।

    কিউএসওয়াচাকা নামের এই সেতুটি বছরে একবার পুন:নির্মান করা হয়। সেতু বানানো শেষে আয়োজন করা হয় খাবার দাবার আর সংগীতানুষ্ঠানের। মূলত ৪দিন ধরে চলে এই সেতু বানানোর আনুষ্ঠানিকতা। ৪র্থ দিনেই উৎসব করা হয়। এবং প্রতিবছর দোশরা জুন তাদের এই উৎসবের দিনটা পড়ে যায়।

  • সেতু নির্মাণের এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোন আধুনিক সরঞ্জাম বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়না। এখানে ব্যবহৃত হয় শুধুমাত্র ঘাস আর জনশক্তি।

    সেতু নির্মাণের এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোন আধুনিক সরঞ্জাম বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়না। এখানে ব্যবহৃত হয় শুধুমাত্র ঘাস আর জনশক্তি।

  • এরপর কয়েকজন সাহসী ব্যক্তি এই দড়িগুলোর ওপর হেঁটে হঁটে ছোট আকারের দড়ি দিয়ে বাকি সেতু বোনার কাজ করেন। এই কাজ তারাই করতে পারেন, যাদের কোন উচ্চতাভীতি নেই। তারা মূলত ছোট দড়িগুলো দিয়ে মেঝের সঙ্গে হাতলকে জুড়ে দেন। অর্থাৎ বেড়ার মতো নির্মাণ করেন, যেন সবাই নির্ভয়ে সেতু পার হতে পারে।

    এরপর কয়েকজন সাহসী ব্যক্তি এই দড়িগুলোর ওপর হেঁটে হঁটে ছোট আকারের দড়ি দিয়ে বাকি সেতু বোনার কাজ করেন। এই কাজ তারাই করতে পারেন, যাদের কোন উচ্চতাভীতি নেই। তারা মূলত ছোট দড়িগুলো দিয়ে মেঝের সঙ্গে হাতলকে জুড়ে দেন। অর্থাৎ বেড়ার মতো নির্মাণ করেন, যেন সবাই নির্ভয়ে সেতু পার হতে পারে।

  • সেতুর জন্য বানানো মোটা ৬টি দড়ির মধ্যে ৪টি বসানো হয় সেতুর মেঝে হিসেবে। বাকি দুটো বসানো হয় কিছুটা উঁচুতে হাত রাখার জন্য। এবং এই ছয়টি দড়ি ঝোলানোর জন্য গিরিখাদের দুই প্রান্তে বিশালাকার পাথরের সঙ্গে শক্ত বাঁধা হয়। সঠিক মাপে দড়ি ঝোলাতেই সময় ব্যয় হয় সবচেয়ে বেশি।

    সেতুর জন্য বানানো মোটা ৬টি দড়ির মধ্যে ৪টি বসানো হয় সেতুর মেঝে হিসেবে। বাকি দুটো বসানো হয় কিছুটা উঁচুতে হাত রাখার জন্য। এবং এই ছয়টি দড়ি ঝোলানোর জন্য গিরিখাদের দুই প্রান্তে বিশালাকার পাথরের সঙ্গে শক্ত বাঁধা হয়। সঠিক মাপে দড়ি ঝোলাতেই সময় ব্যয় হয় সবচেয়ে বেশি।

  • পুরান সেতুটিকে কেটে নদীর পানিতেই ফেলে দেয়া হয়। কেননা এটি ঘাসের তৈরি হওয়ায় পানিতে পচে মিশে যাবে। প্রকৃতির কোন ক্ষতি করবেনা।

    পুরান সেতুটিকে কেটে নদীর পানিতেই ফেলে দেয়া হয়। কেননা এটি ঘাসের তৈরি হওয়ায় পানিতে পচে মিশে যাবে। প্রকৃতির কোন ক্ষতি করবেনা।

  • যখন সবাই সেতু বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকে তখন গ্রামের কেউ কেউ কাঠের চুলায় রান্নার আয়োজন করেন। গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে এই কাঠের চুলাগুলো সংগ্রহ করা হয়। রান্না করা হয় মুরগি, গিনিপিগ, ট্রাউট মাছের মতো আরও নানা খাবার। তবে প্রতিটি খাবারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন আকার ও রঙের আলু থাকতেই হয়।

    যখন সবাই সেতু বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকে তখন গ্রামের কেউ কেউ কাঠের চুলায় রান্নার আয়োজন করেন। গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে এই কাঠের চুলাগুলো সংগ্রহ করা হয়। রান্না করা হয় মুরগি, গিনিপিগ, ট্রাউট মাছের মতো আরও নানা খাবার। তবে প্রতিটি খাবারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন আকার ও রঙের আলু থাকতেই হয়।

  • প্রতিটি পরিবারকে দুই স্তরের দড়ি সরবরাহ করতে হয়। কোয়া ইচু নামের বিশেষ ধরণের শক্ত ঘাস দিয়ে তৈরি করা হয় এই সেতু। প্রতিটি দড়ি বোনা হয় হাত দিয়ে। তার আগে প্রতিটি ঘাস পাথর দিয়ে পিটিয়ে সমান করা হয়। তারপর পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় দীর্ঘক্ষণ। যেন সেতুটি নমনীয় থাকে।

    প্রতিটি পরিবারকে দুই স্তরের দড়ি সরবরাহ করতে হয়। কোয়া ইচু নামের বিশেষ ধরণের শক্ত ঘাস দিয়ে তৈরি করা হয় এই সেতু। প্রতিটি দড়ি বোনা হয় হাত দিয়ে। তার আগে প্রতিটি ঘাস পাথর দিয়ে পিটিয়ে সমান করা হয়। তারপর পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় দীর্ঘক্ষণ। যেন সেতুটি নমনীয় থাকে।

  • নতুন সেতু বসানোর আগে পুরুষরা, পুরান সেতুটি সরিয়ে নেন। তারা ছোট ছোট দড়িগুলোকে একসাথে করে বোনেন। এই সেতুর প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে ছয়টি বড় আকারের ত্রিপাল দড়ি। যেগুলোর প্রতিটি প্রায় ১ ফুট মোটা হয়ে থাকে। ১২০টি চিকন দড়ি পেঁচিয়ে এটি তৈরি করা হয়।

    নতুন সেতু বসানোর আগে পুরুষরা, পুরান সেতুটি সরিয়ে নেন। তারা ছোট ছোট দড়িগুলোকে একসাথে করে বোনেন। এই সেতুর প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে ছয়টি বড় আকারের ত্রিপাল দড়ি। যেগুলোর প্রতিটি প্রায় ১ ফুট মোটা হয়ে থাকে। ১২০টি চিকন দড়ি পেঁচিয়ে এটি তৈরি করা হয়।

  • প্রথা অনুযায়ী এই সেতু নির্মাণে যুক্ত থাকতে পারেন শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা। তবে নারীরা পাহাড়ের ওপর বসে ছোট ছোট দড়ি বোনার কাজ করেন।

    প্রথা অনুযায়ী এই সেতু নির্মাণে যুক্ত থাকতে পারেন শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা। তবে নারীরা পাহাড়ের ওপর বসে ছোট ছোট দড়ি বোনার কাজ করেন।

  • ইনকা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সংযোগ হিসেবে কাজ করতো এই সেতুগুলো। এই সেতু বানানোর প্রথাটি ইনকা সম্প্রদায়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে আসছে, যেন নদী পারাপারে নতুন স্বাদ পাওয়া যায়।

    ইনকা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সংযোগ হিসেবে কাজ করতো এই সেতুগুলো। এই সেতু বানানোর প্রথাটি ইনকা সম্প্রদায়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে আসছে, যেন নদী পারাপারে নতুন স্বাদ পাওয়া যায়।

  • কিউএসওয়াচাকা সেতুটির পুরোটা বোনা হয়েছে হাত দিয়ে। এবং এই সেতু টানা ছয়শ বছর ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৩ সালে এই সেতুটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করা হয়।

    কিউএসওয়াচাকা সেতুটির পুরোটা বোনা হয়েছে হাত দিয়ে। এবং এই সেতু টানা ছয়শ বছর ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৩ সালে এই সেতুটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করা হয়।

  • কিউএসওয়াচাকা নামের এই সেতুটি বছরে একবার পুন:নির্মান করা হয়। সেতু বানানো শেষে আয়োজন করা হয় খাবার দাবার আর সংগীতানুষ্ঠানের। মূলত ৪দিন ধরে চলে এই সেতু বানানোর আনুষ্ঠানিকতা। ৪র্থ দিনেই উৎসব করা হয়। এবং প্রতিবছর দোশরা জুন তাদের এই উৎসবের দিনটা পড়ে যায়।
  • সেতু নির্মাণের এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোন আধুনিক সরঞ্জাম বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়না। এখানে ব্যবহৃত হয় শুধুমাত্র ঘাস আর জনশক্তি।
  • এরপর কয়েকজন সাহসী ব্যক্তি এই দড়িগুলোর ওপর হেঁটে হঁটে ছোট আকারের দড়ি দিয়ে বাকি সেতু বোনার কাজ করেন। এই কাজ তারাই করতে পারেন, যাদের কোন উচ্চতাভীতি নেই। তারা মূলত ছোট দড়িগুলো দিয়ে মেঝের সঙ্গে হাতলকে জুড়ে দেন। অর্থাৎ বেড়ার মতো নির্মাণ করেন, যেন সবাই নির্ভয়ে সেতু পার হতে পারে।
  • সেতুর জন্য বানানো মোটা ৬টি দড়ির মধ্যে ৪টি বসানো হয় সেতুর মেঝে হিসেবে। বাকি দুটো বসানো হয় কিছুটা উঁচুতে হাত রাখার জন্য। এবং এই ছয়টি দড়ি ঝোলানোর জন্য গিরিখাদের দুই প্রান্তে বিশালাকার পাথরের সঙ্গে শক্ত বাঁধা হয়। সঠিক মাপে দড়ি ঝোলাতেই সময় ব্যয় হয় সবচেয়ে বেশি।
  • পুরান সেতুটিকে কেটে নদীর পানিতেই ফেলে দেয়া হয়। কেননা এটি ঘাসের তৈরি হওয়ায় পানিতে পচে মিশে যাবে। প্রকৃতির কোন ক্ষতি করবেনা।
  • যখন সবাই সেতু বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকে তখন গ্রামের কেউ কেউ কাঠের চুলায় রান্নার আয়োজন করেন। গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে এই কাঠের চুলাগুলো সংগ্রহ করা হয়। রান্না করা হয় মুরগি, গিনিপিগ, ট্রাউট মাছের মতো আরও নানা খাবার। তবে প্রতিটি খাবারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন আকার ও রঙের আলু থাকতেই হয়।
  • প্রতিটি পরিবারকে দুই স্তরের দড়ি সরবরাহ করতে হয়। কোয়া ইচু নামের বিশেষ ধরণের শক্ত ঘাস দিয়ে তৈরি করা হয় এই সেতু। প্রতিটি দড়ি বোনা হয় হাত দিয়ে। তার আগে প্রতিটি ঘাস পাথর দিয়ে পিটিয়ে সমান করা হয়। তারপর পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় দীর্ঘক্ষণ। যেন সেতুটি নমনীয় থাকে।
  • নতুন সেতু বসানোর আগে পুরুষরা, পুরান সেতুটি সরিয়ে নেন। তারা ছোট ছোট দড়িগুলোকে একসাথে করে বোনেন। এই সেতুর প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে ছয়টি বড় আকারের ত্রিপাল দড়ি। যেগুলোর প্রতিটি প্রায় ১ ফুট মোটা হয়ে থাকে। ১২০টি চিকন দড়ি পেঁচিয়ে এটি তৈরি করা হয়।
  • প্রথা অনুযায়ী এই সেতু নির্মাণে যুক্ত থাকতে পারেন শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা। তবে নারীরা পাহাড়ের ওপর বসে ছোট ছোট দড়ি বোনার কাজ করেন।
  • ইনকা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সংযোগ হিসেবে কাজ করতো এই সেতুগুলো। এই সেতু বানানোর প্রথাটি ইনকা সম্প্রদায়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে আসছে, যেন নদী পারাপারে নতুন স্বাদ পাওয়া যায়।
  • কিউএসওয়াচাকা সেতুটির পুরোটা বোনা হয়েছে হাত দিয়ে। এবং এই সেতু টানা ছয়শ বছর ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৩ সালে এই সেতুটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করা হয়।
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস: বিস্তার ঠেকাতে নতুন অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে?

করোনাভাইরাস: বিস্তার ঠেকাতে নতুন অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে
কোভিড-১৯ এর বিস্তার সামলাতে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা এনএইচএস-কে এই মুহূর্তে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকারের উপদেষ্টা বিজ্ঞানীরা বলছেন একটি করোনাভাইরাস অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে যা বলে দেবে একজন মানুষ সম্প্রতি যাদের সংস্পর্শে এসেছে, তাদের মধ্যে কেউ সম্প্রতি করোনাভাইরাসে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে কিনা।

তারা বলছেন এই অ্যাপ লকডাউন পরিস্থিতি কোন মাত্রায় বজায় রাখা দরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে “গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা” রাখতে পারে।

মানুষের গতিবিধির ওপর এই অ্যাপ খুব দ্রুত নজরদারি করতে পারবে। কে কোথায় যাচ্ছে, কার সংস্পর্শে আসছে তা খুঁজে দেখার জন্য যে কাজ করতে এক সপ্তাহের গোয়েন্দাগিরি লাগত এই অ্যাপ সেই কাজ মুহূর্তে করতে পারবে।

তবে ব্রিটেনের কোন কোন গবেষক বলছেন কাউকে এই অ্যাপ ডাউনলোড করতে বাধ্য করা যাবে না- অন্তত শুরুর দিকে তো নয়ই।

কীভাবে কাজ করবে এই অ্যাপ?

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগ ডেটা ইন্সটিটিউট নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অফ পপুলেশন হেলথ-এর একদল গবেষক এই অ্যাপটি উদ্ভাবন করেছেন।

তারা বলছেন একজন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে কোথায় কোথায় যাচ্ছে তা তার জিপিএস লোকেশন তথ্য থেকে এই অ্যাপ বের করবে। যেখানে জিপিএস সিগনাল ভাল নয় সেখানে এই অ্যাপ ব্লু টুথ ব্যবহার করে এবং দ্রুত স্ক্যান (কুইক স্ক্যান বারকোড দেখে) কোড দেখে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের লোকেশন নির্ণয় করবে।

যদি কেউ অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে, সে এই অ্যাপের মাধ্যমে বাসায় তার পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করতে পারবে। পরীক্ষার ফল যদি পজিটিভ হয়, তাহলে সাম্প্রতিক কয়েকদিনে ওই ব্যক্তি যাদের কাছাকাছি সংস্পর্শে এসেছে তাদের প্রত্যেককে এই অ্যাপ সিগনাল পাঠিয়ে জানিয়ে দেবে।

অন্যদের ১৪ দিনের জন্য স্বেচ্ছা আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেয়া হবে। কিন্তু তাদের জানানো হবে না কোন ব্যক্তির কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে, যার কারণে এই সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি যে ব্যক্তির পরীক্ষায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে তার কর্মস্থল এবং যেসব পরিবহন সে ব্যবহার করেছিল তাদের অফিস, রেলের কামরা, বা ব্যবহৃত বাস জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেয়া হবে।

করোনাভাইরাস: বিস্তার ঠেকাতে নতুন অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে
করোনাভাইরাস: বিস্তার ঠেকাতে নতুন অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে

এই গবেষণাপত্রের অন্যতম একজন প্রধান লেখক অধ্যাপক ক্রিস্টোফ ফ্রেজার বলছেন বর্তমানে আমরা যেহেতু জানি না, যে আক্রান্ত, সে কোথায় কোথায় গিয়ে থাকতে পারে, কার সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে, তার থেকে কার সংক্রমিত হবার আশংকা – ফলে খুবই অন্ধের মত চাপের মুখে পরিস্থিতি সামাল দেবার কাজ করতে হচ্ছে।

“কাজেই যদি এ বিষয়ে আর একটু বেশি তথ্য সংগ্রহ করা যায়, এবং অ্যাপের সংগ্রহ করা তথ্য কাজে লাগিয়ে যদি কোন কোন ক্ষেত্রে লকডাউন শিথিল করার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তাহলে সেটা ব্যাপক ও প্রত্যক্ষভাবে লাভজনক হবে।”

“এবং আমি মনে করি অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে,” বলছেন অধ্যাপক ফ্রেজার।

প্রস্তাব করা হয়েছে করোনাভাইরাস সংশ্লিষ্ট যেসব স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে সেটার মূল হাব হিসাবে যদি এই অ্যাপ ব্যবহার করা যায়, তাহলে এর মাধ্যমে খাবার এবং ওষুধ সরবরাহের জন্যও অনুরোধ নেয়া যাবে।

গবেষকরা বলছেন একইধরনের স্মার্টফোন সফটওয়্যার ইতোমধ্যে চীনেও ব্যবহার করা হচ্ছে। চীনেও এটা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে বলা হয়েছে চীনে যাদের এই অ্যাপ আছে তারাই শুধু গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারবে অথবা জনসমাগম হয় এমন জায়গায় যেতে পারবে।

অক্সফোর্ড গবেষণার সঙ্গে জড়িত একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইকেল পার্কার বিবিসিকে বলেছেন চীনে যেভাবে এইধরনের অ্যাপ ব্যবহার হচ্ছে সেটা ব্রিটেনে অথবা অনেক জায়গায় প্রযোজ্য হবে না।

“তবে হয়ত এমন হতে পারে যে আমার পছন্দের রেস্তোঁরা আমাকে বলতে পারে এই অ্যাপ অনুযায়ী আমার থেকে ঝুঁকি যদি কম থাকে তবেই আমাকে সে রেস্তোঁরায় ঢুকতে দেয়া হবে। সেটা খুব খারাপ হবে না। বরং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য এই অ্যাপের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।”

তিনি আরও বলছেন যারা বৃদ্ধাশ্রমে বয়স্ক মানুষদের সঙ্গে কাজ করেন তাদের চাকুরিদাতাদের জন্য অথবা যেখানে প্র্রচুর মানুষ যাতায়াত করেন, সেখানে ঢোকার জন্য এই অ্যাপের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সবাইকে হয়তো গোড়ার দিকে এই অ্যাপ ব্যবহার করতে বাধ্য করা যাবে না। তবে অধিকাংশ মানুষ স্বত:প্রণোদিত হয়ে এই অ্যাপ ব্যবহার না করলে হয়তো প্রয়োজন বিবেচনায় বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নিতেও হতে পারে।

করোনাভাইরাস: বিস্তার ঠেকাতে নতুন অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এই নতুন সামাজিক যোগাযোগ খোঁজার অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

অধ্যাপক পার্কার বলছেন এই অ্যাপ কার্যকর করতে গেলে সবাইকে যে এটা ব্যবহার করতে হবে তা নয়, তবে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ এটা ব্যবহার না করলে এর কার্যকারিতা থাকবে না।

গবেষকরা আরও বলেছেন মহামারি ঠেকানোর জন্য এই অ্যাপ আরও কঠোরভাবে নজরাদরির জন্য আপডেট করা যাবে। যেমন দ্বিতীয়, ও প্রয়োজনে তৃতীয় স্তরে যোগাযোগ ঘটেছে এমন ব্যক্তিদেরও ঘরে থাকার জন্য সতর্কবার্তা দেয়া যাবে।

প্রফেসর ফ্রেজার বলেছেন বর্তমানে আমাদের গতিবিধি বা লোকেশনের ওপর নজর রাখার জন্য আমরা অনেক অ্যাপ ব্যবহার করি হয়তো নিজেদের বাড়তি কিছুটা সুবিধার জন্য, যেমন লাইভ ট্রাফিক ট্র্যাক করার জন্য। অর্থাৎ “যান চলাচলের সরাসরি তথ্য আমাদের যাতায়াতকে কিছুটা সহজ করবে এই আশায়।”

“এখানে এমন একটা অ্যাপ ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে যেখানে আপনার পরিচয় প্রকাশ না করে মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।”

এই অ্যাপ ব্যবহার করার বিষয়টি ব্রিটিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে বিবিসির প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদদাতা রোরি কেথলান জোন্স জানাচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

করোনাভাইরাস: রোগ জীবাণু নির্মূলে সচল হয়েছে রোবট

 হাসপাতালের ওয়ার্ডে জীবাণু নাশ করছে ইউভি রোবট
হাসপাতালের ওয়ার্ডে জীবাণু নাশ করছে ইউভি রোবট

“আপনি ঘর থেকে বেরিয়ে যান, দরোজা বন্ধ রাখুন। এবং কিছুক্ষণের মধ্যে জীবাণুনাশকের কাজ শুরু হবে।“ ইংরেজিতে এই কথাগুলো বলছে একটা রোবট।

“এটা চীনা ভাষাতেও কথা বলতে পারে,” জানালেন ইউভিডি রোবটস কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন এলিস।

জানালার কাঁচের মধ্য দিয়ে দেখা গেল ঘরের মধ্যে রোবটটি ঘোরাফেরা করতে শুরু করেছে এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশ-বাতির মতো অতিবেগুনি রশ্মি জ্বেলে ঘরের সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস ধ্বংস করছে।

“আমাদের ব্যবসা এমনিতেই বেশ চড়া ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির পর এটা একেবারেই আকাশচুম্বী হয়েছে,” বলছেন ইউভি রোবটস কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পের ইউল নিয়েলসেন।

এরই মধ্যে তারা চীনে, বিশেষভাবে উহানে, প্রচুর সংখ্যায় এই রোবট পাঠিয়েছেন।

এশিয়া এবং ইউরোপেও তাদের বিক্রি বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

“সবচেয়ে বেশি অর্ডার এসেছে ইতালি থেকে”, বলছেন মি. নিয়েলসেন, “তাদের অবস্থা সত্যি শোচনীয়। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের যথাসম্ভব সাহায্য করতে।“

 উহানের এক হাসপাতালে জীবাণুনাশক রোবট।
উহানের এক হাসপাতালে জীবাণুনাশক রোবট।

স্বাভাবিকভাবেই ইউভিডি রোবটসের উৎপাদন বেড়ে তিনগুণ হয়েছে।

ডেনমার্কের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ওডেনসে এই কোম্পানির কারখানায় প্রতিদিন একটা করে এধরনের জীবাণুনাশক রোবট নির্মাণ করা হচ্ছে।

যেভাবে কাজ করে এই রোবট

এই জীবাণুনাশক রোবটের রয়েছে আটটা বাল্ব, যেগুলো থেকে তীব্র অতিবেগুনি অর্থাৎ আলট্রা-ভায়োলেট বা ইউভি-সি আলোকরশ্মি বের হয়।

এই আলোকরশ্মি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক জীবাণুর ডিএনএ এবং আরএনএ ধ্বংস করে যাতে এগুলো সংখ্যায় আর বাড়তে না পারে।

তবে এই অতিবেগুনি রশ্মি মানবদেহের জন্যও খুবই ক্ষতিকারক।

তাই এই রোবট কাজ করার সময় ঘরে কোন মানুষ উপস্থিত থাকার নিয়ম নেই।

পুরো ঘরের জীবাণু ধ্বংস করতে রোবটটির ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।

 ইউভি রোবটসের কারখানায় উৎপাদন বেড়েছে তিনিগুণ।
ইউভি রোবটসের কারখানায় উৎপাদন বেড়েছে তিনিগুণ।

এই রোবট তৈরিতে সাহায্য করেছে ইউনিভার্সিটি অফ সাদার্ন ডেনমার্ক।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক হান্স ইয়র্ন কলমোস বলছেন, “এমন অনেক খারাপ জীবাণু আছে যেগুলো আপনার দেহে সংক্রমিত হতে পরে।“

“কিন্তু আমাদের দেহে যদি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অতিবেগুনি রশ্মির ডোজ দেয়া যায়, তাহলে এধরনের ক্ষতিকারক জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।“

এই রোবটের নির্মাণ শুরু হয় ২০১৯ সালে। এর দাম ৬৭ হাজার ডলার।

তবে এগুলো সুনির্দিষ্টভাবে করোনাভাইরাস নির্মূল করতে পারে কিনা, তার জন্য আলাদা করে কোন পরীক্ষা চালানো হয়নি।

কিন্তু মি. নিয়েলসেন বিশ্বাস করেন এই রোবট করোনাভাইরাসকেও ধ্বংস করতে সক্ষম।

“সার্স এবং মার্স-এর সাথে করোনাভাইরাসের অনেক দিক থেকেই মিল রয়েছে। এবং আমরা জানি যে ইউভি-সি আলোকরশ্মি দিয়ে এগুলো ধ্বংস করা সম্ভব,” বলছেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক ড. লেনা সিরিচও মনে করেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ইউভি রোবট হতে পারে একটি মোক্ষম অস্ত্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসরায়েল

আরবদের হটিয়ে যেভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল

 ইহুদি, মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র জেরুজালেম
ইহুদি, মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র জেরুজালেম

ফিলিস্তিনের গাজা থেকে দুই মাইল উত্তরে কিবুটস এলাকা। এখানে ১৯৩০’র দশকে পোল্যান্ড থেকে আসা ইহুদীরা কৃষি খামার গড়ে তুলেছিল।

ইহুদিদের পাশেই ছিল ফিলিস্তিনী আরবদের বসবাস। সেখানে আরবদের কৃষি খামার ছিল। তারা কয়েক শতাব্দী ধরে সেখানে বসবাস করছিল।

সে সময় মুসলমান এবং ইহুদীদের মধ্যে সম্পর্ক মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল।

কিন্তু ১৯৩০’র দশকে ফিলিস্তিনীরা বুঝতে পারলো যে তারা ধীরে-ধীরে জমি হারাচ্ছে। ইহুদিরা দলে-দলে সেখানে আসে এবং জমি ক্রয় করতে থাকে।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাত লাখের মতো ফিলিস্তিনী বাস্তু-চ্যুত হয়েছে। তারা ভেবেছিল দ্রুত সমস্যার সমাধান হলে তারা বাড়ি ফিরে আসতে পারবে।

কিন্তু ইসরায়েল তাদের আর কখনোই বাড়িতে ফিরতে দেয়নি।

ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ বছর দশেক আগে বিবিসি’র সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনদের কেন এই দশা হলো সেজন্য তাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত।

মি: পেরেজ বলেন, “অধিকাংশ জমি ফিলিস্তিনদের হাতেই থাকতো। তাদের একটি আলাদা রাষ্ট্র হতো। কিন্তু তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৯৪৭ সালে তারা ভুল করেছে। আমরা কোন ভুল করিনি। তাদের ভুলের জন্য আমরা কেন ক্ষমা চাইবো?”

১৮৯৭ সাল থেকেই ইহুদিরা চেয়েছিলেন নিজেদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।

১৯১৭ সালে থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে ব্রিটেন।

তখন ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে।

ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন ইহুদি আন্দোলনের নেতা ব্যারন রটসচাইল্ডকে।

 ১৯৬৫ সালে জেরুজালেম শহর
১৯৬৫ সালে জেরুজালেম শহর

তৎকালীন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সে চিঠি ‘বেলফোর ডিক্লারেশন’ হিসেবে পরিচিত।

ইহুদীদের কাছে ব্রিটেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের জমিতে তাদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ করে দিবে।

যদিও রোমান সময় থেকে ইহুদিদের ছোট্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী সে জায়গায় বসবাস করতো।

ইউরোপে ইহুদীদের প্রতি যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সেটি তাদের একটি নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের ভাবনাকে আরো তরান্বিত করেছে।

১৯৩৩ সালের পর থেকে জার্মানির শাসক হিটলার ইহুদিদের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেন।

ইতোমধ্যে জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদি অভিবাসী ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে আসতে থাকে।

তখন ফিলিস্তিনী আরবরা বুঝতে পারে যে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।

ফিলিস্তিনী আরবরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্রোহ করে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্য এবং ইহুদি নাগরিকরা।

কিন্তু আরবদের সে বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করেছে ব্রিটিশ সৈন্যরা।

ফিলিস্তিনদের উপর ব্রিটিশ সৈন্যরা এতো কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল যে আরব সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছিল।

ইহুদীরা তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর ছিল। ব্রিটেনের সহায়তায় সে অনুযায়ী তারা কাজ এগিয়ে নিচ্ছিল।

১৯৩০’র দশকের শেষের দিকে ব্রিটেন চেয়েছিল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অবস্থান জোরালো করতে।

সেজন্য আরব এবং ইহুদী- দু’পক্ষকেই হাতে রাখতে চেয়েছে ব্রিটেন।

 ১৯৬৭ সালে তেল আবিব শহরে যুদ্ধ প্রস্তুতি
১৯৬৭ সালে তেল আবিব শহরে যুদ্ধ প্রস্তুতি

১৯৩৯ সালের মাঝামাঝি ব্রিটেনের সরকার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়েছিল পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য পঁচাত্তর হাজার ইহুদি অভিবাসী আসবে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে। অর্থাৎ সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছিল।

ব্রিটেনের এ ধরনের পরিকল্পনাকে ভালোভাবে নেয়নি ইহুদিরা। তারা একই সাথে ব্রিটেন এবং হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিকল্পনা করে।

তখন ৩২ হাজার ইহুদি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। সেখান থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ইহুদি সৈন্যরা ব্রিটেন এবং আরবদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের বাহিনীর দ্বারা লাখ-লাখ ইহুদি হত্যাকাণ্ডের পর নতুন আরেক বাস্তবতা তৈরি হয়।

১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর যেসব ইহুদি বেঁচে ছিলেন তাদের জন্য জন্য কী করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তখন ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে ইহুদীদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা আরো জোরালো হয়।

আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন।

মি: ট্রুম্যান চেয়েছিলেন হিটলারের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক লক্ষ ইহুদিকে অতি দ্রুত ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে জায়গা দেয়া হোক।

কিন্তু ব্রিটেন বুঝতে পারছিল যে এতো বিপুল সংখ্যক ইহুদিদের ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে নিয়ে গেলে সেখানে গৃহযুদ্ধ হবে।

 ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত এখনো চলছে
ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত এখনো চলছে

এ সময় ইহুদিদের সশস্ত্র দলগুলো ব্রিটিশ সৈন্যদের উপর ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো শুরু করে।

তখন ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে জাহাজে বোঝাই হয়ে আসা হাজার-হাজার ইহুদিদের বাধা দেয় ব্রিটিশ বাহিনী। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।

ইহুদি সশস্ত্র দলগুলো ব্রিটিশ বাহিনীর উপর তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতির তৈরি করা যাতে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের জন্য ব্রিটেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তখন সমাধানের জন্য ব্রিটেনের উপর চাপ বাড়তে থাকে।

এরপর বাধ্য হয়ে ব্রিটেন বিষয়টিকে জাতিসংঘে নিয়ে যায়।

১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দু’টি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। একটি ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটি আরবদের জন্য।

ইহুদিরা মোট ভূখণ্ডের ১০ শতাংশের মালিক হলেও তাদের দেয়া হয় মোট জমির অর্ধেক। কিন্তু আরবদের জনসংখ্যা এবং জমির মালিকানা ছিল আরবদের দ্বিগুণ।

স্বভাবতই আরবরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। তারা জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়।

কিন্তু ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ডে তখন ইহুদিরা বিজয় উল্লাস শুরু করে। অবশেষে ইহুদিরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেল। কিন্তু আরবরা অনুধাবন করেছিল যে কূটনীতি দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না।

জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তের পর আরব এবং ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। তখন ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড ছেড়ে যাবার জন্য ব্রিটিশ সৈন্যরা দিন গণনা করছিল।

তখন ইহুদিদের সশস্ত্র দলগুলো প্রকাশ্যে আসা শুরু করে। তাদের গোপন অস্ত্র কারখানাও ছিল।

কিন্তু ইহুদিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তাদের বিচক্ষণ নেতৃত্ব।

এর বিপরীতে আরবদের কোন নেতৃত্ব ছিলনা। ইহুদীরা বুঝতে পেরেছিল যে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর আরবরা তাদের ছেড়ে কথা বলবে না। সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই তৈরি ছিল ইহুদিরা।

 ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত এখনো চলছে
ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত এখনো চলছে

সবার দৃষ্টি ছিল জেরুজালেম শহরের দিকে। মুসলমান, ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র এ জায়গা।

জাতিসংঘ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সেখানে জেরুজালেম আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল।

কিন্তু আরব কিংবা ইহুদি- কোন পক্ষই সেটি মেনে নেয়নি। ফলে জেরুজালেম শহরের নিয়ন্ত্রণের জন্য দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

জেরুজালেমে বসবাসরত ইহুদীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল আরবরা। অন্য জায়গার সাথে জেরুজালেমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ইহুদীরা আরবদের উপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

অনেক বিশ্লেষক বলেন, তখন ইহুদীরা আরবদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেছিল।

যেহেতু আরবদের মধ্যে কোন সমন্বয় ছিল না সেজন্য ইহুদিরা একের পর এক কৌশলগত জায়গা দখল করে নেয়।

তখন ফিলিস্তিনের একজন নেতা আল-হুসেইনি সিরিয়া গিয়েছিলেন অস্ত্র সহায়তার জন্য।

কিন্তু সিরিয়া সরকার ফিলিস্তিনদের সে সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সেখান থেকে ফিরে এসে আল হুসেইনি আবারো যুদ্ধে নামেন। এর কয়েকদিন পরেই তিনি নিহত হন।

ইহুদিরা যখন তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ বহু ফিলিস্তিনী আরব তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ইহুদি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নৃশংসতা আরবদের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনী সশস্ত্র দলগুলো ইহুদিদের উপর কয়েকটি আক্রমণ চালায়।

কিন্তু ইহুদিদের ক্রমাগত এবং জোরালো হামলার মুখে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে ফিলিস্তিনীরা। তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ এবং অন্য আরব দেশগুলোর সরকার তাদের নিজ দেশের ভেতরে চাপে পড়ে যায়।

 ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর আরবদের সাথে দুবার যুদ্ধ হয়েছিল।
ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর আরবদের সাথে দুবার যুদ্ধ হয়েছিল।

সেসব দেশের জনগণ চেয়েছিল, যাতে ফিলিস্তিনদের সহায়তায় তারা এগিয়ে যায়।

১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যায় ব্রিটেন। একই দিন তৎকালীন ইহুদি নেতারা ঘোষণা করেন যে সেদিন রাতেই ইহুদি রাষ্ট্রের জন্ম হবে।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মের এক ঘন্টার মধ্যেই আরবরা আক্রমণ শুরু করে। একসাথে পাঁচটি আরব দেশ ইসরায়েলকে আক্রমণ করে।

যেসব দেশ একযোগে ইসরায়েলকে আক্রমণ করেছিল তারা হচ্ছে – মিশর, ইরাক, লেবানন, জর্ডান এবং সিরিয়া। তাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজারের মতো।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ হাজার।

কিন্তু আরব দেশগুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় ছিলনা। তাছাড়া আরব নেতৃত্ব একে অপরকে বিশ্বাস করতো না।

জেরুজালেম দখলের জন্য আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলছে তীব্র লড়াই।

ইহুদিরা ভাবছিল জেরুজালেম ছাড়া ইহুদি রাষ্ট্রের কোন অর্থ নেই। অন্যদিকে মুসলমানদের জন্যও জেরুজালেম পবিত্র জায়গা।

তীব্র লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী পিছু হটতে থাকে। তাদের অস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যায়।

সম্ভাব্য পরাজয় আঁচ করতে পেরে ইহুদিরা নিজেদের শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সময় নেয়।

আর কিছুদূর অগ্রসর হলেই মিশরীয় বাহিনী তেল আবিবের দিকে অগ্রসর হতে পারতো। তখন জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

যুদ্ধবিরতির সময় দু’পক্ষই শক্তি সঞ্চয় করে। কিন্তু ইসরায়েল বেশি সুবিধা পেয়েছিল। তখন চেকোস্লোভাকিয়ার কাছ থেকে আধুনিক অস্ত্রের চালান আসে ইসরায়েলের হাতে।

যুদ্ধ বিরতী শেষ হলে নতুন করে আরবদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। একর পর এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নেয় ইহুদিরা।

 ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাত ও তার স্ত্রী সুহা
ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাত ও তার স্ত্রী সুহা

তেল আবিব এবং জেরুজালেমের উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়।

জাতিসংঘের মাধ্যমে আরেকটি যুদ্ধ বিরতির মাধ্যমে সে সংঘাত থামে। ইসরায়েলী বাহিনী বুঝতে পরে তারা স্বাধীনতা লাভ করছে ঠিকই কিন্তু লড়াই এখনো থামেনি।

১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ছয় হাজার ইহুদি নিহত হয়েছিল।

ইহুদিরা মনে করে তারা যদি সে যুদ্ধে পরাজিত হতো তাহলে আরবরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতো।

ইসরায়েলিরা মনে করেন ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ সেভাবে দু’টি দেশের স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটি যদি ফিলিস্তিনীরা মেনে নিতো তাহলে ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল নামের দুটি দেশ এখন পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতো।

আরব দেশগুলোর মধ্যে পারষ্পরিক আস্থা না থাকার কারণেই ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়েছে এবং ইসরায়েল দেশটির জন্ম হয়ে সেটি স্থায়ী হতে পেরেছে। অনেক ঐতিহাসিক বিষয়টিকে এভাবেই দেখেন।

১৯৪৮ সালের পর থেকে সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে ইসরায়েল। তারা সুপার পাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

করোনাভাইরাস মহামারির উৎস কি চীনে চোরাচালান হওয়া প্যাঙ্গোলিন থেকে?

প্যাঙ্গোলিন
প্যাঙ্গোলিন

প্যাঙ্গোলিন নামে একটি প্রাণী যা চোরাই পথে চীনে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয় – তার দেহে এমন একটি ভাইরাস পাওয়া গেছে যা কোভিড নাইনটিনের সাথে ‘ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।’

প্যাঙ্গোলিন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চোরাই পথে পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী।

এটা খাদ্য হিসেবে যেমন ব্যবহৃত হয়, তেমনি ব্যবহৃত হয় ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরির জন্য। ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে প্যাঙ্গোলিনের গায়ের আঁশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং তাদের মাংসও চীনে একটি উপাদেয় খাবার বলে গণ্য করা হয়।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যাম বলেছেন, চীনে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের মধ্যে এমন দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে – যা মানুষের মধ্যে দেখা দেয়া মহামারির সাথে সম্পর্কিত।

নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব প্রাণী নিয়ে নাড়াচাড়া করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, এবং ভবিষ্যতে করোনাভাইরাসের মতো কোন মারাত্মক রোগ বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে হলে বুনো প্রাণীর বাজারে প্যাঙ্গোলিনের মত জন্তু বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।

তারা এটাও বলছেন যে , মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির ক্ষেত্রে প্যাঙ্গোলিনের ভুমিকা বুঝতে হলে আরো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা প্রয়োজন।

“যদিও সার্স-কোভ-টু-র প্রাদুর্ভাবের সরাসরি ‘হোস্ট’ হিসেবে প্যাঙ্গোলিনের ভুমিকা আরো নিশ্চিত হবার দরকার আছে, তবে ভবিষ্যতে যদি এরকম প্রাণী-থেকে-মানুষে মহামারি ছড়ানো ঠেকাতে হয় তাহলে বাজারে এসব প্রাণীর বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত” – বলেন ড. ল্যাম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাদুড়ের দেহেও করোনাভাইরাস আছে, এবং তার সাথে মানুষের দেহে সংক্রমিত ভাইরাসের আরো বেশি মিল আছে। কিন্তু একটি অংশ – যা মানুষের দেহের কোষ ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে ভাইরাসটিকে সহায়তা করে – তার সাথে এর মিল নেই।

করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাস

সহ-গবেষক সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডওয়ার্ড হোমস বলেন, এর অর্থ হলো বন্যপ্রাণীদের মধ্যে এমন ভাইরাস আছে যা মানুষকে সংক্রমিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।

তিনি বলছেন,”করোনাভাইরাসের সাথে বাদুড়ের নিশ্চয়ই সম্পর্ক আছে, হয়তো প্যাঙ্গোলিনও সম্পর্কিত, তবে অন্য কোন প্রাণীর জড়িত থাকারও জোর সম্ভাবনা আছে।”

ঠিক কীভাবে ভাইরাসটি একটি জন্তুর দেহ থেকে বেরিয়ে অন্য একটি প্রাণীর দেহে এবং তার পর সেখান থেকে মানুষের দেহে ঢুকলো – তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য হয়েই রয়েছে।

খুব সম্ভবত: হর্সশু প্রজাতির বাদুড় এবং প্যাঙ্গোলিন – দুধরণের প্রাণীই এতে জড়িত কিন্তু এর ঘটনাক্রম এখনো অজানা।

ডা. ল্যাম বলছেন, চোরাই পথে আসা মালয়ান প্যাঙ্গোলিনে এ ভাইরাস পাওয়া যাবার পর এই প্রশ্নটাও উঠছে যে – এই প্যাঙ্গোলিনের দেহেই বা ভাইরাস ঢুকলো কীভাবে? সেটা কি পাচারের সময় আশপাশে থাকা বাদুড় থেকে এসেছিল – নাকি দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ায় তাদের যে প্রাকৃতিক আবাসস্থল সেখানেই ঘটেছিল?

প্রাণী সংরক্ষণবিদরা বলছেন, এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার রোধের জন্য সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

চীন অবশ্য কোভিড নাইনটিন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে, এবং ভিয়েতনামেও এমন কিছু পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটির অধ্যাপক এন্ড্রু কানিংহ্যাম বলছেন, এই গবেষণাপত্র থেকে একলাফে কোন সিদ্ধান্তে পৌছে যাওয়া ঠিক হবে না। তার কথায়, কোভিড নাইনটিনের উৎস আসলে এখনো অজানা। হয়তো এটা কোন প্রাকৃতিক প্যাঙ্গোলিন ভাইরাসই ছিল, বা হয়তো প্যাঙ্গোলিন ধরা এবং হত্যা করার সময় অন্য কোন প্রাণী থেকে এসেছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

করোনাভাইরাস: আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেলে লাশ দাফনে ঝুঁকি আছে?

 করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেলে লাশ দাফনে নিয়েও মানুষের আতঙ্ক আছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেলে লাশ দাফনে নিয়েও মানুষের আতঙ্ক আছে।

বাংলাদেশের বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি করোনাভাইরাসের উপসর্গ সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার লাশ দাফন নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় কর্মকর্তারা সরকারি জমিতে তার দাফন সম্পন্ন করতে পারলেও এলাকাবাসীর আতঙ্ক কাটেনি।

শনিবার রাতে ঐ ব্যক্তিকে দাফন করার সময় এলাকাবাসী আপত্তি জানালে শুরু হয় বিতর্ক। তাদের দাবি, এই লাশ থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে।

অথচ ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা সেটা এখনও পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর)। তারপরও সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর নিয়মকানুন মেনেই দাফন সম্পন্ন করা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর মৃতদেহ খিলগাঁও কবরস্থানে দাফন করতে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে তার মরদেহ অন্য আরেকটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সেখানকার মানুষজনের আতঙ্কের কারণ একই। তারা জানিয়েছে যেহেতু এই কবরস্থানের ভেতর দিয়ে তারা হাঁটাচলা করেন, এখানে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া কাউকে কবর দেয়া হলে তাদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে, তার লাশের সৎকার করা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোটোকল মেনেই কাজ করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, আইইডিসিআর।

 কবরে লাশ নামানো হচ্ছে।
কবরে লাশ নামানো হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লাশ দাফনে সম্ভাব্য কোন ঝুঁকির কথাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় উল্লেখ নেই। এ ধরণের রোগীর ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধি মোতাবেক সৎকারে করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরাও কোন ঝুঁকি দেখছেন না।

বাংলাদেশের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলার সিভিল সার্জন অথবা সরাসরি আইইডিসিআর-এ অবহিত করতে হবে।

সংস্থাটি নিজেদের ব্যবস্থাপনায় লাশের গোসল থেকে শুরু করে সেটা প্যাকেট করা এবং পরিবহনের ব্যবস্থাও করে থাকে।

আইইডিসিআর -এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর জানান, রোগী যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন বা তার লক্ষণগুলো যদি করোনাভাইরাসের উপসর্গের সঙ্গে মিলে যায় তাহলে ধর্মীয় বিধি মেনে বিশেষ সতর্কতার সাথে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এক্ষেত্রে তিনি রোগীর মৃত্যু এবং তার লাশ দাফনের আগ পর্যন্ত পুরো সময়টিতে সর্বোচ্চ সতর্কতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

“আইইডিসিআর এর প্রশিক্ষিত লোকজনই লাশের গোসল করিয়ে দেবে। এরপর লাশ কাফনের কাপড়ে জড়িয়ে বিশেষভাবে প্যাকেট করবে, যেন ভেতরের কোন ভাইরাস বাইরে সংক্রমিত না হয়। মৃতদেহ বহনকারী সেই ব্যাগটি কাউকে খুলতে দেয়া হবে না।” বলেন, মি. আলমগীর।

এরপর লাশটি একটি সিল করা বাক্স বা কফিনে করে নিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে।

লাশটি পরিবহন করতে হবে বিশেষ সতর্কতার সাথে।

 লাশের সতকার যারা করবেন, তাদেরকে বিশেষ সতর্কতা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
লাশের সতকার যারা করবেন, তাদেরকে বিশেষ সতর্কতা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

এই পুরো প্রক্রিয়ার সাথে যারা যুক্ত থাকবেন তাদের প্রত্যেককে প্রতিরোধমূলক পোশাক পিপিই পরিধান করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাধারণত কবর দেয়ার পর লাশটি থেকে ভাইরাস সংক্রমণের কোন সুযোগ থাকেনা।

কবরের আশেপাশের মাটি বা পাশে কোন জলাশয় থাকলেও এই ভাইরাস সংক্রমণ হবে না বলে তিনি জানান।

আইইডিসিআর এর কর্মকর্তারা এরপরও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কবরের চারিদিকে ভালভাবে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দেন।

দাফনের আগ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি যে ঘরে ছিলেন, যেখানে তার গোসল করানো হয়েছে, যে পরিবহনে তাকে তোলা হয়েছে বা যেসব জায়গায় লাশ রাখা হয়েছে – সব জায়গা জীবাণুমুক্ত করার ওপর জোর দেন মি. আলমগীর।

তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করি দ্রুত কবর দিয়ে দিতে। লাশটি কিভাবে পরিবহন করা হচ্ছে, দাফন কাজ কিভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে সেটা নিয়ে মানুষ সচেতন হতে পারে। কিন্তু একজন ব্যক্তিকে কবর দিতে বাধা দেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।”

“একবার কবর হয়ে গেলে বৈজ্ঞানিকভাবে কোন ঝুঁকি থাকেনা। ঝুঁকি যা থাকে সেটা কবর দেয়ার আগে।”

লাশের সৎকার কাজের সময় ভিড় না করা এবং জানাজা নামাজের সময় অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com